ডাকপ্রিয়র_চিঠি
লেখিকাঃরিক্তাইসলাম মায়া
২৪
৩ দিন পূর্বে
মারিদের দামী গাড়িটা দগ্ধ আগুনে পুড়ে স্টিলগুলো কালো হয়ে গেছে। টায়ার গলে ছাই। গাড়ির আয়নার কাচগুলো সব ভাঙা। কেউ পিটিয়ে ভেঙেছে হয়তো? মারিদ তো কিছুক্ষণ আগেই নূরজাহানের সঙ্গে কথা বলেছিল, কই তখন তো গাড়ি ঠিক ছিল! হঠাৎ শেষ রাতে কে বা এসে মারিদের গাড়িতে আগুন লাগাল? মারিদ সন্দেহ করল মানিক সওদাগরকে। নূরজাহানকে বিয়ে করতে চাওয়ায় তার রেষারেষিতে হয়তো মারিদের গাড়িটা পুড়িয়েছে মারিদকে থামাতে। ভেবেছে মারিদের গাড়িটা পুড়িয়ে দিলে মারিদ ভয় পেয়ে থানচি জেলা ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু মানিক সওদাগর হয়তো জানে না মারিদ আলতাফ সহজে হার মানার ছেলে নয়। সে এমন রোড সাইড রোমিও টাইপ মানিক সওদাগরকে নখের তুড়িতে গায়েব করে ফেলতে পারে। মারিদ শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষায়।
হাসান, মাজিদ, মান্না, আশনূর, নূরজাহান, শেফালী, আলেহা, পাহারাদার—সকলে দৌড়াদৌড়ি করে জগ, মগ, বালতি দিয়ে মারিদের গাড়ির আগুন নেভাতে সক্ষম হলো। কিন্তু তাতে বিশেষ কোনো লাভ হলো না। গাড়িটার ভেতর-বাহির পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। গাড়ির ভেতরেও যে কেউ পেট্রোল ঢেলে গাড়িতে আগুন জ্বালিয়েছে, সেটা বাড়ন্ত আগুনের তেজ দেখেই বুঝা গেছে। নয়তো মাত্র কয়েক মিনিটে কীভাবে পুরো গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে? তাও গাড়ির ভেতরের অংশে?
আগুন নেভাতে সক্ষম হতেই ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি তুলে মসজিদের মিনার থেকে ভেসে এল আজানের শব্দ। দৌড়াদৌড়ির মাঝেও মেয়েরা মাথায় ওড়না টানল। নূরজাহান সবার শেষে পুকুর ঘাট থেকে উঠে এল হাতে আরও এক বালতি পানি তুলে। উত্তেজিত পরিস্থিতিতে সকলেই মারিদের গাড়ি ঘিরে দাঁড়িয়ে আহাজারি করছে। কিংবা ঘটনা কীভাবে ঘটেছে? কে আগুন ধরাল? ঘটনার সময় কে কোথায় ছিল সেইসব বিশ্লেষণ করছে। নূরজাহান মারিদের পাশাপাশি দাঁড়াল। কারও মনোযোগ আপাতত নূরজাহানের ওপর নেই। দীর্ঘক্ষণ যাবত পুকুর থেকে পানি তোলায় নূরজাহানের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। মসজিদে ফজরের আজানও হচ্ছে। নূরজাহান মারিদের দিকে বালতিটা বাড়িয়ে দিয়ে মোলায়েম গলায় ডাকল…
‘ মারিদ সাহেব বালতিটা ধরুন।
চারপাশে সবার কথা গঞ্জন হওয়ায় মারিদ প্রথমে নূরজাহানের কথা শুনতে পায়নি। নূরজাহান ফের মারিদকে ডাকতে মারিদ চমকে পাশে তাকাতেই আবছা আলোয় নূরজাহানের ঘামন্ত মুখটা দৃষ্টিতে পড়ল। পুকুর থেকে দৌড়াদৌড়ি করে পানি তোলায় নূরজাহান ঘেমে গেছে। নূরজাহানের কপালের কানিশ, নাকের ডগা বিন্দু বিন্দু ঘামে চকচক করে উঠল মুক্তো দানার ন্যায়। মারিদের গাড়ি পুড়েছে অথচ মারিদের ঘোর লেগেছে নূরজাহানের নাকের ডগায়। নূরজাহান মারিদের দৃষ্টিতে অস্বস্তি বোধ করে ফের বলল…
‘বালতিটা ধরুন।
মারিদ হাত বাড়িয়ে নূরজাহানের থেকে বালতিটা নিতে গিয়ে হয়তো আংশিক ছোঁয়া লেগেছে দুজনের হাতে। নূরজাহান চট করে হাত গুটিয়ে নিয়ে মাথায় কাপড় টেনে ঘোমটা দিয়ে বলল…
‘আপনার গাড়িটা মানিক…
‘আমি জানি।
নূরজাহান চমকে তাকাল মারিদের দিকে। মারিদ জানে তার গাড়ি কে আগুনে জ্বালিয়েছে? নূরজাহান ভারী আশ্চর্যের ন্যায় বলল…
‘ আপনি কীভাবে জানেন? দেখেছেন কাউকে আগুন লাগাতে?
মারিদ দৃঢ় কন্ঠে উত্তর দিয়ে বলল…
‘ আপনার রোড সাইড রোমিওর সাথে কাল দেখা হয়েছিল। বেশ ধমকি-ধামকি আর হেডাম দেখিয়েছে। বলেছে আমাকে কাঁচা খেয়ে ফেলবে। আমি মনে হয় তার পেটে হজম হচ্ছি না তাই বদহজমে আমার গাড়িতে আগুন লাগিয়েছে।
কাল বিকালে মানিক সওদাগরও তার ছেলেপেলেদের সঙ্গে হাসান, মাজিদ আর মারিদের হাতাহাতি হয়েছে—সেটা নূরজাহান হাসান আর মাজিদের রক্তাক্ত অবস্থা দেখেই বুঝেছিল। মানিক রাতে আবার সিকদার বাড়িতে হামলা করতে পারে সেই ভেবেই হাসান রাতে পাহারায় বসেছিল। বাড়িতে এত পাহারাদার থাকতেও সবার মাঝে কীভাবে মানিক সওদাগর মারিদের গাড়ি আগুনে পোড়াল, তাই ভাবার বিষয়। এই বাড়ির কারও সহায়তা ছাড়া মানিক সওদাগর সিকদার বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবে না। কে হতে পারে যে রাত-বিরেতে মানিক সওদাগরকে সাহায্য করছে নূরজাহানের পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে? নূরজাহান ছোট করে উত্তরে বলল…
‘ মানিক সওদাগর ভালো মানুষ না। অসৎ চরিত্রের লোক। স্বার্থের জন্য উন্মাদ-পাগলও হয়ে যেতে পারে। আপনি আর আপনার বন্ধুরা একটু সতর্ক হয়ে থাকবেন।
‘আপনি কী আমার জন্য চিন্তিত নূরজাহান?
‘ আপনি আমাদের বাড়ির মেহমান। আমাদের গ্রামের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ। আপনার ক্ষতি হোক সেটা অবশ্যই চাইব না। আপনাদের সুস্থতা কাম্য করি।
কথাটা বলে নূরজাহান ফের মাথায় ঘোমটা টেনে চলে যেতে নিলে মারিদ পিছন ডাকল..
‘ নূরজাহান?
কতশত চেনা মারিদের সেই ডাক। নূরজাহানের বুকটা হঠাৎ মুচড়ে উঠল। এই মনে হলো নূরজাহানের ব্যবসায়ীক সাহেব ডাকল নূরজাহানের নাম ধরে। নূরজাহান তৎক্ষনাৎ ঘাড় ঘুরিয়ে মারিদের দিকে জিজ্ঞেসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে মোলায়েম স্বরে জবাব দিল…
‘ জি? কিছু বলবেন?
মারিদ হঠাৎ একটা অভাবনীয় প্রশ্ন করে ফেলল নূরজাহানকে। নূরজাহানের দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে নলল…
‘ আমাকে দেখে আপনার পরিচিত মনে হয় নূরজাহান? কিংবা কখনো কথা বলেছেন এমন?
এই নিয়ে দুবার নূরজাহানের মনে হয়েছে মারিদের সঙ্গে নূরজাহানের ব্যবসায়ীক সাহেবের কথার ধরণ মিলে যাচ্ছে। এই যে এখন প্রশ্ন করার ধরনটাও নূরজাহানের কাছে পরিচিত মনে হচ্ছে। কিন্তু নূরজাহান সেটা প্রকাশ করলো না। নূরজাহানের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপনীয় বিষয় হচ্ছে দুটো প্রথম নূরজাহানের মা আয়েশার দেওয়া শেষ আমানতটা, দ্বিতীয়টা হলো হঠাৎ ধূমকেতু নেয় আসা ব্যবসায়ীক সাহেব। নূরজাহানের জীবনে প্রেম এসেছিল আবার হারিয়েও গেছে সেটা নূরজাহানের তানিয়া ব্যতীত কেউ জানে না। নূরজাহান কাউকে জানতে দিবে। ব্যবসায়ীক সাহেব নূরজাহানের মনের এক কোণে যত্নে গোপনীয় রেখে যাবে আজীবন। নূরজাহান দৃষ্টি নত করে আর কথা বাড়াল না। মনে অস্থিরতায় নূরজাহান ফের ডাগর ডাগর চোখ তুলে মারিদের দিকে তাকাতেই দুজনের চোখাচোখি হলো। নূরজাহান দ্রুত চোখ নামিয়ে বলল…
‘ না। আমার আপনাকে পরিচিত মনে হয় না।
নূরজাহান দ্রুত সরে যেতে গিয়ে শাহানার তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সঙ্গে মুখোমুখি হলো। নূরজাহান মাথা নত করল। ভিড়ের মাঝে সরে দাঁড়াল আলেহার পাশে। শাহানা তখনো নূরজাহান আর মারিদকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখল। শাহানা যে নূরজাহান আর মারিদের কথা বলার বিষয়টা ভালো চোখে নেয়নি, সেটা শাহানার নূরজাহানের প্রতি ঘৃণিত দৃষ্টিই বলে দিচ্ছে।
ভোরের দিকে গ্রামে রটে গেছে ঢাকা থেকে আগত ডাক্তারদের গাড়ি আগুনে পুড়ে দিয়েছে কেউ। মোল্লা চেয়ারম্যানের বড় ছেলে মানিক সওদাগর যে সিকদার বাড়ির মেহমানদের গাড়ি পুড়িয়েছে সেটা গ্রামের সকলেই কানাকানি করছে কিন্তু প্রকাশ্যে বলছে অন্যটা। গ্রামের ছোট-বড় সকলেই যাতায়াত পথে একবার করে সিকদার বাড়ির আঙিনা মাড়িয়ে যাচ্ছে মারিদের পোড়া গাড়িটা দেখতে। মারিদের গাড়ি পুড়ে গেছে এটা নিয়ে হাসানের হাহুতাশের শেষ নেই। হাসান, মাজিদ কিংবা পুরো সিকদার বাড়ি সকলেই বেশ অনুতপ্ত মারিদের গাড়ি আগুনে পুড়ে যাওয়ার বিষয়টা নিয়ে। হাসান রীতিমতো চিন্তায় আছে মারিদের হাসপাতালের প্রজেক্টটা নিয়ে। মানিক কিংবা তার পরিবার হাসপাতালের কাজ বন্ধ করার জন্য মারিদের ওপর হামলা করে বসে কি না সেই ভয়েও আছে?
সকাল নয়টার দিকে সবাই হাসপাতালের কাজে বের হবে। আজ হাসপাতালের প্রজেক্টের কাজের জন্য পিলার গাড়া হবে। সেই আয়োজনে সকলে বের হচ্ছে যাত্রা করে। হাসানের চিন্তার শেষ নেই। মারিদের গাড়িটা পুড়ে যাওয়ায় মাজিদ রশিদের অটোরিকশা ডাকল। বাড়ির উঠানে রশিদের অটো থামিয়ে। রশিদ দাঁড়িয়ে মারিদের পোড়া গাড়ি দেখছে। গ্রামে গরম খবর চলছে সওদাগর বাড়ির লোক ঢাকা থেকে আসা ডাক্তারগো গাড়ি পুড়াইছে সেটা নিয়ে। রশিদ দামী গাড়িটা দেখে মনে মনে বেশ আপসোস করছে। এতো দামী গাড়ি কেউ পোড়ায়? হাসান, মাজিদ ঘর থেকে লাঠি হাতে বেরিয়েছে। হাসপাতালে কাজে গেলে সেখানে অবশ্যই সওদাগর পরিবারের মুখোমুখি হতে হবে তখন এসব লাঠিসোঁটা প্রয়োজন পরবে সওদাগর পরিবারের মোকাবিলা করতে। কথায় কথায় অনেক আলোচনা হলো হাসান, মারিদ, মাজিদ, রাদিল আর হাসিবের মাঝে। সকলে উঠানে দাঁড়িয়ে। হাসান বারান্দার দরজায় দাঁড়িয়ে মারিদকে বলল…
‘চেয়ারম্যান বাড়ির মানুস আপনাগো দামী গাড়িডা পুড়াই দিসে। এহোন হেগো ডেঙায়া হাসপাতালে কাম শুরু করলে যদি আপনাগো উপরে আবার হামলা কইরা বহে তাইলে?
এই গ্রামের চেয়ারম্যান পরিবারের লোকজন মারিদের ওপর হামলা করতে পারে সেই আশঙ্কা মারিদেরও আছে। তবে সে কোনো কিছুর ভয়ে পিছিয়ে থাকার ছেলে নয়। থানচি জেলায় প্রবেশ করার সময় মারিদের মনে হয়েছিল অপরিচিতাকে খুঁজে পাওয়ার রাস্তাটা সহজ হবে না। অন্তত কঠিন একটা পথ হবে। তবে যত কঠিন রাস্তাই হোক না কেন? মারিদ থেমে থাকবে না। মারিদ নিজের ম্যানেজারকে ফোন করে বলেছে একজন ড্রাইভারসহ তার জন্য নতুন গাড়ি পাঠাতে থানচিতে। লোকেশনও দেওয়া হয়েছে। হয়তো আজ সন্ধ্যার মধ্যে নতুন গাড়ি চলে আসবে। মারিদ হাসানের প্রশ্নের জবাবে বলল…
‘ আপনি চিন্তা করবেন না আঙ্কেল। আমরা সরকারি লোক। আমাদের সেই ক্ষমতা আছে আপনাদের গ্রামের ক্ষমতাবান চেয়ারম্যান পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার। আমাদের গাড়ি একটা পুড়েছে সেজন্য আরেকটা গাড়ি চলে আসবে তারপরও কোনো কিছুর জন্য হাসপাতালের প্রজেক্টের কাজ বন্ধ হবে না ইনশাআল্লাহ। তারপরও যদি আপনার আমাদের নিয়ে ভয় থাকে তাহলে বলল নির্ভয়ে থাকুন আঙ্কেল। আমাদের কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না। আমরা আজকের মধ্যে হাসপাতালের নকশা অনুয়ায়ী পিলার বসাব। কাল পরশু দুইদিন আমি নিজে দাঁড়িয়ে কাজ দেখে পরশু সন্ধ্যায় ঢাকা ফিরে যাব।
মারিদরা চলে যাবে শুনে হাসান কিছু বলার আগে মাজিদ বলল…
‘আপনারা চলে গেলে হাসপাতালের কাজটা কে দেখবে? যদি মানিকের লোকজন হাসপাতালের কাজ বন্ধ করে দেয়?
‘ আমরা চলে গেলে হাসপাতালে যাবতীয় কাজ আঙ্কেলের দায়িত্বে থাকবে।
মাজিদ ফের চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল….
‘ চেয়ারম্যান পরিবারের মানুষ আব্বাকে হাসপাতালে কাজ করতে দিবে না মারিদ সাহেব। বাঁধা দিবে।
মাজিদের কথাটা যুক্তিসঙ্গত। মানিক কিংবা তার পরিবার হাসানকে একা পেয়ে বিরুদ্ধিতা করবে। মারিদ, হাসান, মাজিদকে আশ্বস্ত করে বলল…
‘ আমাদের অনুপস্থিতিতে যাতে কেউ হাসপাতালের কাজে বাধা দিতে না পারে আমি সেই ব্যবস্থা করেই যাব মাজিদ সাহেব। আমাদের কিছু লোক আসবে একটু পর। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাক্ষরিত নোটিশনামা নিয়ে আসবে এখানে। সেই নোটিশনামাটি নিয়ে আমরা থানচি জেলার বর্তমান মন্ত্রীর কাছে জমা দেব। জেলা মন্ত্রী সেই নোটিশনামায় স্বাক্ষর করে থানার কমিশনারের কাছে হস্তান্তরিত করবে। এবং তারা লিখিত অঙ্গীকার দেবে আয়েশা সিদ্দিক হাসপাতালের সকল রক্ষণাবেক্ষণ তাঁদের হাতে জিম্মাদার থাকবে। যদি তাদের দায়িত্বে থাকার পরও কেউ আয়েশা সিদ্দিক হাসপাতালের কাজে বাধা প্রদান করে তাহলে এর জন্য সরাসরি জেলা মন্ত্রী, পুলিশ সুপারসহ, পুলিশ কমিশনারকে জবাবদিহি করতে হবে। তাঁরা সঠিক জবাবদিহি করতে না পারলে পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনার চাকরিচ্যুতসহ ১কোটি টাকা করে জরিমানা সাপেক্ষে থাকবে। আর জেলা মন্ত্রী আয়েশা সিদ্দিক হাসপাতাল পুনর্নির্মাণে সকল দায়ভার খরচসহ জেলা মন্ত্রী বহন করিবেন। যদি এই অঙ্গীকার কারও একজনের দ্বারাও ভঙ্গ হয় তাহলে তাঁর জন্যও জেল-জরিমানা নির্ধারিত থাকবে। বলতে পারেন সওদাগর পরিবারকে দিয়েই আমরা আমাদের কাজ করাব।
জেলা মন্ত্রী, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনার তিনজনই চেয়ারম্যান বংশের লোক কিংবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হোন। সেজন্য মারিদ এই তিনজন পদের মানুষকে জিম্মি করে আটকাতে এই নোটিশনামা বানিয়েছে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর, হাইকোর্টের আদেশ সবকিছু মিলিয়ে চুক্তি অস্বীকার করার কারও কোনো সুযোগ নেই। আবার এই নোটিশনামা মানলে চেয়ারম্যান বংশের লোকজনই জিম্মি হয়ে মারিদের বানানো হাসপাতালের কাজ সম্পূর্ণ করে দেবে। এই নোটিশনামার ধারণা রাদিল ও হাসিবের ছিল কিন্তু হাসান ও মাজিদের না থাকায় তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে গেল এই কাজে। মারিদের সত্যি এতো ক্ষমতা থাকতে পারে সেটা হাসানের ধারণা ছিল না। সে মারিদকে সাধারণ সরকারি কর্মচারী মনে করেছিল। মারিদের কাজের প্রশংসায় হাসান ও মাজিদ দুজন পঞ্চমুখ। এবার হাসপাতালের কাজে মানিক সওদাগর কেন স্বয়ং জেলা মন্ত্রীও বাধা দিতে পারবে না। হাসান অন্তত খুশিতে উৎফুল্লতা দেখিয়ে তৎক্ষণাৎ এগিয়ে এসে মারিদের হাত দুটো টেনে হাতের উল্টো পিঠে চুমু খেয়ে বলল…
‘ আপনে আমাগো গেরামে লাইগা যা করতাছেন হের লাইগা চির কৃতজ্ঞ থাকমু আপনের কাছে বাজান।
মারিদ হাসানের হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে বলল…
‘আপনি আমাকে ছোট করবেন না আঙ্কেল। আমি আপনাদের জন্য কিছু করছি না। আমি যা করছি আমার নিজের জন্য করছি। এটা আমার দায়িত্ব।
হাসান সন্তুষ্ট হলো। মারিদ ছেলেটাকে হাসানের বেশ ভালো লাগে। লাখে নয় কোটিতে একটা। খুব ভালো এবং আন্তরিকতা ছেলে মারিদ। যে মা এই ছেলেকে জন্ম দিয়েছে সে মা নিশ্চয়ই খুব ভাগ্যবান এমন সোনার টুকরো ছেলে জন্ম দিয়ে। হঠাৎ কিছু মনে পড়ার মতো করে হাসান বলল…
‘ বাজান আপনেরে একখানা কথা কও? যদি কিচ্ছু মনে না করেন তাইলে আপনেরে একহান কথা জিগায়তাম।
‘জি আঙ্কেল বলুন।
‘হাসপাতালটা কি আপনের মায়ের নামে বানাইতাছেন? আপনের মায়ের নাম কি আয়েশা সিদ্দিক? হের লাইগা হাসপাতালের নাম আয়েশা সিদ্দিক রাখছেন?
অপরিচিতার মায়ের নাম আয়েশা সিদ্দিক। একবার কথায় কথায় অপরিচিতার সঙ্গে মারিদের ফোনালাপে অপরিচিতা বলেছিল সে নিজের মা আয়েশা সিদ্দিকের নামে কোনো একটা মানবিক সংস্থা করতে চায়। হোক সেটা স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানা কিংবা হাসপাতাল। দীর্ঘ ছয় মাসের ফোনালাপে মারিদ অপরিচিতার মায়ের নামটা জানতে পেরেছিল একবার। তাও সেদিন অপরিচিতার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। মারিদ সেদিন অপরিচিতার মাকে নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন করেছিল কিন্তু অপরিচিতা একটাও উত্তর দেয়নি। শুধু বলেছিল অপরিচিতার মা মৃত সেজন্য সে তার মায়ের নামে কোনো একটা মানবিক সংস্থা করতে চায়। সেই কথাটা মারিদের মনে ছিল। থানচি জেলাতে মারিদ শুধু অপরিচিতার খোঁজে এসেছে। হাসান সাহেবের বাড়িতে আশ্রয় শুধু অপরিচিতা জন্য নিয়েছে। এই এতো লড়াই করে মারিদ হাসপাতাল বানাচ্ছে সেটাও শুধু অপরিচিতার জন্য। এতো কিছু যখন অপরিচিতার জন্য তাহলে অপরিচিতার মায়ের নামে হাসপাতালে নামকরণ কেন করতে পারবে না সে? এটা মনে রেখেই মারিদ অপরিচিতার ফোনে বলা আয়েশা সিদ্দিক নামে হাসপাতালের নামটা রেখেছে। কিন্তু থানচিতে এসে মারিদ বুঝতে পারে অপরিচিতা সেদিন মারিদকে দুটো মিথ্যা কথা বলেছিল। প্রথমত অপরিচিতার মা মৃত সেটা। আর দ্বিতীয়টা ছিল অপরিচিতার মায়ের নাম আয়েশা সিদ্দিক। মারিদ এখানে এসে বুঝতে পারে অপরিচিতার মায়ের নাম আয়েশা সিদ্দিক নয় শাহানা বেগম। নূরজাহানের সৎ মা শাহানা সেটা মারিদ অবগত নয়। আর না এটা জানে হাসান দুটো বিয়ে করেছেন। নূরজাহান হাসানের দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান। এসবের কিছুই মারিদ অবগত নয় বলে মারিদ এখনো নূরজাহানকে তার অপরিচিতা হিসাবে চিহ্নিত করতে পারছে না। মারিদ ছোট উত্তরে হাসানকে মিথ্যা বলে বলল…
‘জি আঙ্কেল।
মারিদের মিথ্যাতে রাদিল কপাল কুঁচকায়। হাসান মাজিদ আর কেউ প্রশ্ন করল না এই নিয়ে। মারিদ নিজের মায়ের নামে হাসপাতালের নামকরণ করতে পারে এতে কারও কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু হাসান মনে মনে বেশ উৎফুল্লতা অনুভব করল আয়েশা সিদ্দিক নামটাতেই। উনার জীবনের শখের নারীর নাম আয়েশা সিদ্দিক, এই নামে হাসপাতাল হচ্ছে এটাই বড়।
ফেব্রুয়ারি মাস শেষের পথে। সকাল গড়িয়ে বিকাল হলো। আয়েশা সিদ্দিক হাসপাতালের স্থাপিত কাজ শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫-তে। সারি সারিবদ্ধভাবে ইট, সিমেন্ট, বালু, রড ট্রাকে বোঝাই করা গাড়ির চৌরাস্তা মোড়ে হাসপাতালের জমির ওপর দাঁড়িয়ে। ট্রাকের মাল নামাতে পারছে না মানিক সওদাগরের লোকজনের কারণে। লোকজন নিয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে হাসপাতালের জমির ওপর বিছানা বিছিয়ে তাস খেলছে মানিক। কনস্ট্রাকশনের কাজে আসা লোকগুলো জমির একপাশে দাঁড়িয়ে। কেউ মানিক সওদাগরের বিরোধিতা করতে যাচ্ছে না। মারিদের একজন ইঞ্জিনিয়ার ঢাকা থেকে এসেছিল। সে জানত না মানিক সওদাগর সম্পর্কে। কাজে বাধা দেওয়ায় সে মানিক সওদাগরের বিরোধিতা করতে চাওয়ায় তাকে ছেলেপেলে দিয়ে পিটিয়ে জমির ওপর অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখেছে। কারও সাহস হচ্ছে না আহত ছেলেটিকে ধরে হাসপাতালে নেবে। মারিদ সকালেই রাদিল ও হাসিব নিয়ে জেলা মন্ত্রীর নিকট গিয়েছে ঢাকা থেকে আগত উকিলদের নিয়ে। সেখান হতে সকল কাজ মিটিয়ে পুনরায় হাসপাতালের কাজে ফিরে আসতে সময় প্রায় চারটের ঘরে। হাসান মাজিদকে মারিদ বাড়িতে থাকতে আদেশ করেছিল। কাজ শেষে মারিদ ফোন করলে হাসান মাজিদকে কনস্ট্রাকশন সাইটে যেতে বলেছে নয়তো হাসান মাজিদকে হাসপাতালের প্রজেক্টের আশপাশে দেখলে মানিক সওদাগর এমনি ঝামেলা পাকাবে তখন বিষয়টা হাতাহাতিতে চলে যাবে। মারিদ বুদ্ধিমান। সেজন্য সে বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে চাই। মারিদের কথা মেনে হাসান, মাজিদও বাড়িতে থেকে যায়। মারিদকে বিষয়টা নিজেদের মতো করে হ্যান্ডেল করতে দেয়।
হঠাৎ হসপিটালের কনস্ট্রাকশন সাইটে জেলা মন্ত্রীর সাদা গাড়িটি দেখে মোল্লা চেয়ারম্যান চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। জেলা মন্ত্রী হারুন সওদাগর মোল্লা সওদাগরের বড় ভাই। পাশাপাশি পুলিশ সুপার ফয়েজ তালুকদার ফুপাতো ভাই, পুলিশ কমিশনার সালাউদ্দিন মোল্লা সওদাগরের ছোট শালা। সকলের গাড়ি একত্রে কনস্ট্রাকশন সাইডে দেখে মানিক লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। সবাই নিজেদের লোক। এবার শ্যাউয়ার হাসপাতাল এমনিই বন্ধ হয়ে যাবে। মাঝের গাড়ি থেকে জেলা মন্ত্রী হারুনের পাশাপাশি মারিদও বেরুল গাড়ির অপর দরজা খোলে। একই গাড়ির সামনের সিট হতে রাদিল। হাসিব পুলিশ সুপার ফয়েজ তালুকদার গাড়ি থেকে বেরিয়েছে। মোল্লা সওদাগর মারিদের হারুনের পাশাপাশি দেখে তীক্ষ্ণতা বজায় রেখে এগোল। হারুন সওদাগর কনস্ট্রাকশন জমির আশপাশ দেখে মারিদকে বলল…
‘ মারিদ সাহেব এটা আপনাদের আয়েশা সিদ্দিক হসপিটালের প্রজেক্ট?
‘জি মন্ত্রী সাহেব।
‘ সমস্যা নেই মারিদ সাহেব। আপনি চিন্তা করবেন না। আপনাদের কাজে কেউ বাধা দেবে না। হাসপাতাল বানানো তো ভালো কাজ। এমনিতেও এই গ্রামে কোনো হাসপাতাল নেই। আপনাদের ভালো কাজে কেউ বাধা দেবে না। আমরা বিষয়টা দেখব। কী বলো ফয়েজ?
বড় চাচা হারুনের কথায় মানিক, মোল্লা সওদাগর তিলমিলিয়ে উঠল রাগে। মানিক রেগেমেগে কিছু বলতে নিবে তক্ষুণি পুলিশ সুপার ফয়েজ বলল…
‘জি ভাইজান আশা করছি আমরা থাকতে কোনো সমস্যা হবে না এখানে। আমি রোজ একবার করে এসে চেক করে যাব সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না। তাছাড়া সারাক্ষণ আমাদের পুলিশ ফোর্স থাকবে হসপিটালের প্রজেক্টের কাজের নিরাপত্তার জন্য।
একটা ইটও বাঁকা হতে দিব না এই হাসপাতালে ভরসা রাখুন ভাইজান।
পুলিশ কমিশনার সালাউদ্দিন মোল্লা সওদাগরের শালা হয়। সেও ফয়েজের মতো করে সম্মতি দিয়ে বলল…
‘জি ভাইজান, আমরা আছি আপনি চিন্তা করবেন না এসব নিয়ে। আমি সকাল বিকাল রাত্রের ডিউটির জন্য একটি পুলিশ ফোর্স ঠিক করে দেব। কেউ বাধা দেবে না।
মানিক রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তিলমিলিয়ে উঠে তেড়ে এসে বলল…
‘ক্যান? ক্যান বাধা দিমু না? এই গেরামে ভালা মন্দ আমরা বুঝমু, এইখানে ভিনদেশীগো কি কাম? এই গেরামে কোনো হাসপাতাল-টাসপাতাল বানানো হইব না। আমি কিচ্ছু হইবার দিমু না। সবকিছু ভাঙ্গাচুইরা শালার ডাক্তারের পাছা দিয়া ঢুকায়া দিমু বাড়াবাড়ি করলে।
হারুন সওদাগর ধমকে উঠে বলল…
‘মানিক মুখ সামলে কথা বল। এটা সরকারি প্রজেক্ট তোর বাড়ি না যে যা খুশি তাই হুকুম দিবি। সরকারি কামে কারও হস্তক্ষেপ চলব না। মোল্লা তোর পোলারে লইয়া আইজই আমার অফিস আয়। কথা আছে।
মোল্লা সওদাগর পরিস্থিতি বুঝতে কপাল কুঁচকে দাঁড়িয়ে। সবাই যেহেতু একত্রে দাঁড়িয়ে হাসপাতালে কামে সাহায্য করছে তারমানে এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে নয়তো সকাল অবধিও হারুন বলেছে এই গেরামে উনার অনুমতি ছাড়া কোনো হাসপাতাল বানানো হবে না। অথচ বিকাল হতে হতে সে নিজে এসে হাসপাতালে কাজে জিম্মদার হচ্ছে যেন কেউ বাঁধা দিতে না পারে। এতো কিছু তো কোনো কারণ ছাড়া হবে না নিশ্চয়ই। মাথা গরম মানিক রাগে তিলমিলিয়ে উঠে…
‘তোমাগো শ্যাউয়া কথা হোনার টাইম নাই। আমি কারও অফিসে মারা দিতে যামু না। আমি যা কইছি তাই হইব। কাউরে এই গেরামে হাসপাতাল বানাইবার লাইগা দিমু না দরকার হইলে সবকিছু আগুনে জ্বালায় দিমু চাচা।
এর মাঝে মানিক তেড়ে এসে মারিদের শার্টের কলার চেপে মুখোমুখি হয়ে শাসিয়ে বলল…
‘বাল চোদাও বাল? তোমার এই হাসপাতালের বালটা আমি তোমার পিছন দিয়া ভইরা দিমু ডাক্তার।
তখন বানাইও তোমার এই শ্যাউয়া।
রাদিল ও হাসিব বাদে সকলেই জায়গায় দাঁড়িয়ে। রাদিল হাসিব দৌড়ে আসতে চাইলে মারিদ হাতের ইশারায় রাদিল ও হাসিবকে থামিয়ে মাঝের মধ্যমা আঙুল মানিককে দেখিয়ে মানিকের কানের কাছে মুখটা নিয়ে বলল…
‘তুই আমার বা*ল করবি। তোর থেকে বড় হারামি আমি। আমার পিছনে লাগতে আসলে তোর পিছনে আগুন ধরায় দিব। তখন পুরা পাছা নিয়ে বিয়ে করতে পারবি না।
মারিদ মানিকের লেভেলে নেমে সমান সমানে কথাটা বলল। আজ এখানে হাসান সাহেব কিংবা তাঁর পরিবারের লোক নেই। তাই মারিদের ভালো মানুষি দেখানোরও কারণ নেই। মানিক মারিদের উসকানিতে তিলমিলিয়ে ওঠে। শার্ট টেনে আঘাত করতে চাইলে ফয়েজ, সালাউদ্দিন এসে মানিককে টেনে পিছনে নিয়ে যেতেই মানিক জোরাজুড়ি করে মারিদকে আঙুল তুলে শাসিয়ে বলল…
‘তোরে আমি খাইছিরে ডাক্তার। তোরে আমি খাইছি। তুই শেষ। তোরে আমি দেইখা নিমু। ছাড় পাবি না।
সবাই মানিককে টেনে পিছনে নিয়ে যেতে মারিদ নিজের গায়ের শার্ট টেনে ঝেড়ে বলল…
‘আমাকে দেখে লাভ নাই ভাই। আমি মেয়েতে ইন্টারেস্ট। বেডা মানুষ রুচিতে বাঁধে। তুই কইলে আমি তোর জন্য আমার একটা ছবি পাঠাতে পারি। ঘুমানোর সময় শান্তিমতো দেখিস।
মারিদ হেয়ালি করল। মানিকের রাগ তিলমিলিয়ে উঠছে। এতদিনে মনে হচ্ছে মানিকের বরাবর কাউকে পেয়েছে টক্কর দিতে। মানিককে টেনে ধরে রেখেছে ফয়েজ ও সালাউদ্দিন। মানিক মাথা নেড়ে জিব কামড়ে মারিদকে শাসিয়ে বলল…
‘খেলা হবে ডাক্তার। তোর লগে দেখা হইব পাটক্ষেতে। কালো মানিকের দোষ পরেছে তোর রাশিতে। জান লইয়া পালাতে পারবি না ডাক্তার। তোরে মানা করছিলাম আমারে না উসকাইতে। দিলি তো চুলকায়া। এই চুলকানি আমি তোরে লইয়া চুলকামু পাটক্ষেতে।
সিরিয়াস মোমেন্টেও রাদিল নাক মুখ কুঁচকাল। মারিদের সঙ্গে মানিক পাটক্ষেতে কী খেলা খেলবে? আজ এখানে রাদিলের জায়গায় রিফাত থাকলে বলত—
‘ ভাই মানিক লোকটার চরিত্রের দোষ আছে। পাটক্ষেতে মেয়ে না নিয়ে মারিদকে নিয়ে কী করবে শালা? মারিদ কি মানিককে খুশি করতে পারবে? শুধু শুধু দুই পুরুষ মিলে পাটক্ষেতের বদনাম করব আজাইরা। কামের কাম কিচ্ছু হইব না।
আজ রাদিল রিফাতের অভাব অনুভব করল। থানচিতে আসার পর থেকে জীবনে ফান হয় না রাদিলদের, জীবন কেমন সিরিয়াস মোডে ঘুরছে। আজ রিফাত থাকলে কিছু ফান মুহূর্তও চলত। রিফাতের জায়গাটা হঠাৎ হাসিব দখল করল। হাতাহাতির মাঝে রাদিলের পাশাপাশি হাসিব দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলল…
‘রাদিল স্যার? মানিক লোকটার কি ঘরে বউ নাই? মারিদ স্যারকে পাটক্ষেতে ডাকে কেন?
রাদিল হাসিবকে সেইভাবে উত্তর দিয়ে বলল…
‘তোর মারিদ স্যার দেখতে অনেক সুদর্শন তো তাই।
রাদিলের ভাব ভঙ্গি গম্ভীর। হাসিব মনে করেছে রাদিল সিরিয়াস মুড়েই কথাটা বলেছে। হাসিব ফের বলল…
‘ছেলে সুদর্শন হলে মেয়েরা প্রেমে পড়ে শুনেছি। এখন কী ছেলেরাও ছেলেদের প্রেমে পড়ে স্যার?
রাদিল কপাল কুঁচকে হাসিবের দিকে তাকিয়ে বলল…
‘মানিক প্রেমে পড়ল কই? সে তো অফার দিয়েছে তোর স্যারকে পাটক্ষেতে যাওয়ার। তুই তোর স্যারকে একটা শিডিউল তৈরি করে দিস তো হাসিব মানিকের সঙ্গে পাটক্ষেতে যাওয়ার।
রাদিলের কথায় নাক-মুখ সিটকে হাসিব তওবা করে বলল…
‘আস্তাগফিরুল্লাহ! নাউজুবিল্লাহ। এইসব কি কন স্যার? শেষমেশ মারিদ স্যার অপরিচিতা ম্যাডামরে ছেড়ে মানিক লোকটার ওপর ইন্টারেস্ট নিব?
‘নিলে নিবে তোর সমস্যা কী?
হাসিব নাক-মুখ কুঁচকে দাঁড়াল। জেলা মন্ত্রী হারুন সবাইকে আদেশ করে কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু করাল। জমির ওপর পিলার গর্ত করা ছিল। সেই গর্তে ইট সিমেন্টের ঢালাই ছাড়া হলো, কাজ পুরো হরদমে শুরু হলো। মানিক তার ছেলেপেলে নিয়ে সেই কবে চলে গেছে মারিদকে শাসিয়ে। আহত ইঞ্জিনিয়ার লোকটাকেও মারিদ লোক দিয়ে থানচি সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। হারুন, মোল্লা সওদাগরকে বলেছে রাতে মানিককে নিয়ে তার সাথে দেখা করতে। এতটুকু বলে হারুন সওদাগর চলে যায়। তার পরপর ফয়েজ, সালাউদ্দিন তিনজনের গাড়ি কনস্ট্রাকশন সাইট থেকে বেরিয়ে যায়। মোল্লা সওদাগর সালাউদ্দিনের গাড়ি করে চলে গেছে।
সবকিছু যখন ঠিকঠাক তখন মারিদ হাসানকে ফোন করে জানায় কনস্ট্রাকশন সাইডে আসতে।
চলবে….
Share On:
TAGS: ডাকপ্রিয়র চিঠি, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৩
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৩
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২১
-
রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা গল্পের লিংক
-
দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ গল্পের লিংক