ডাকপ্রিয়র_চিঠি
লেখিকাঃরিক্তাইসলাম মায়া
১৫
রাতে বেলা আকাশে মস্ত বড়ো চাঁদ উঠেছে। চারিপাশে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিশীথরাতে ঝিঝিপোকা আর পাহাড়ি নেকরে শিয়ালের ডাকে চারপাশ মুখরিত। হাসান মেম্বার বাড়ির নাম ‘সিকদার নিবাস’। হাসান সিকদারের বাবার নাম ফজল সিকদার। তিনি এই থানচি জেলার বংশগত সম্পদশালী লোক ছিলেন। উনার তিন ছেলে আর তিন মেয়ে ছিল। এক মেয়ে ও এক ছেলে ১৯৮১ সালেই বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তখনকার সময় উন্নত মানের চিকিৎসা না থাকায় এসব ডায়েরিয়া, ম্যালেরিয়া, বসন্ত রোগে আক্রান্তে মানুষ ৮০ শতাংশ মারা যেত। হিসেব করে ২০ শতাংশ মানুষ বাঁচার চান্স থাকতো কম। মানুষ কবিরাজ ওঝা দিয়ে রোগ সারাতো। তখনকার যক্ষ্মা রোগ ছিল আজকের দিনের ক্যান্সারের মতোই মরণ ব্যাধি রোগ। ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নেই’ – এসবও মানুষ খুব মানতো। তাই বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে ফজল সিকদারের এক ছেলে এক মেয়ে মারা যাওয়ার পর তাঁর চার ছেলে মেয়ে জীবিত রইল। এর মাঝে হাসান সিকদার সকল ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট। বড় ভাই ফরিদ সিকদার সবার বড়ো, তারপর দুটো বোন , প্রথম বোন হাফেজা দ্বিতীয় বোন আলেহা। ফজল সিকদারের বিশাল জমিজমা থাকায় এসব নিয়ে চার ভাইবোনের মাঝে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় মা তারানূর সবাইকে যার যার জমি-জমা ভাগাভাগি করে দিয়ে তিনি ছোট ছেলে হাসানের সঙ্গেই থাকেন এখন। বড় ছেলের সঙ্গে তারানূর বেগমের বনিবনা নেই বলে বছর ঘুরে গেলেও বড় ছেলের বাড়িতে পা রাখেন না তিনি বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া। মেয়েগুলোও একই স্বার্থপর। তবে হাসান সিকদারের সঙ্গে সবার যোগাযোগ আছে, যতটুকু থাকলে সামাজিকতা রক্ষা হবে ততটুকু সম্পর্ক আছে ভাই বোনদের সাথে হাসান সিকদারের।
রাস্তা থেকে বিশ কদম পশ্চিমের সিকদার বাড়ি। ডানপাশে জমি-ক্ষেত, বামপাশে ভাই ফরিদ সিকদারের বাড়ি। সিকদার বাড়ির পিছনে ছয় একরের বিশাল পুকুর আছে। এই পুকুরের চারপাশে ঘিরে প্রতিবেশীদের বাসস্থান। নূরজাহানের ঘরটা দক্ষিণে জমির পাশে। অবশ্য সিকদার বাড়ির চারিপাশ বাউন্ডারি দেওয়া, তারপরও নূরজাহানের ঘরের জানালা থেকে বিস্তর জমি-ক্ষেত দেখা যায়।থানচি গ্রাম পর্বতময় এলাকা হওয়ার জন্য প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের কমতি নেই। সেজন্য আজ জ্যোৎস্না রাতে অপরূপ সৌন্দর্যের কমতি নেই প্রকৃতি জুড়ে। নূরজাহান সেই রাতে ওর ঘরে দক্ষিণ জানালা সঙ্গে লাগানো দক্ষিণ দরজার পাকা সিঁড়িতে বসে। তিনটে সিঁড়ির মাঝের সিঁড়িতে বসে। ঘন দ্বিগুণ চুল বেণী করে পিঠ বেয়ে নিচের সিঁড়ি পেরিয়ে মাটিতে পড়েছে তার কিছু অংশ। রাত একটার ঊর্ধ্বে। নূরজাহান উপরে সিঁড়িরে একটা ডায়েরি রেখে তাতে ঝুঁকে কিছু লিখছে। বাঁধ ভাঙা অশ্রুজল টপ টপ করে পড়ছে সেই ডায়েরির পাতায়। তারপরও নূরজাহান কলম থামাচ্ছে না। এই একমাত্র ডায়েরি যাকে নূরজাহান চাইলে নিজের মনের সব কথা শুনাতে পারে। নয়তো এই ভবনে নূরজাহানের কথা শোনার মতো মানুষ নেই বললেই চলে। কেউ নূরজাহানকে শুনতে চায় না, সবাই শুনাতে পছন্দ করে।
‘ কে আপনি? এতো রাতে এখানে কি করছেন?
হঠাৎ পুরুষালি পুরু কন্ঠে নূরজাহান চমকে উঠে পাশ ফিরে তাকাতে সুঠাম দেহি লম্বাটে মারিদকে ওর বাবার কালো চাদরটা গায়ে মুড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। নূরজাহানের পাশ ফিরে তাকাতেই তৎক্ষনাৎ দুজনের চোখাচোখি হলো। ভয়ার্ত নূরজাহান হন্তদন্ত করে সবকিছু ফেলে তৎক্ষনাৎ নিজের ঘরে ছুটল। মারিদ যদিও আজ সকালে দেখেছিল, তারপরও নূরজাহানের এভাবে দৌড়ে চলে যাওয়ার কারণটা বুঝল না মারিদ। মারিদের শুধু এতটুকুই মনে হলো নূরজাহান পুরুষের ছায়াতল থেকে পালাতে মারিদকে দেখে ঐভাবে পালাল।
শীতের রাতে ঘন কুয়াশায় ঢাকা চারপাশ। মারিদ দরজার সামনে সিঁড়িতে ডায়েরি, কলম আর একটা ধারালো ছুরি পড়ে থাকতে দেখে সে এগোল। মেয়েটি যে এখানে বসে লিখছিল সে বেশ বুঝতে পারল। কারও ব্যক্তিগত জিনিসে হাত দিতে নেই জেনেও মারিদ নূরজাহানের ডায়েরিটি হাতে তুলল। তার এই মুহূর্তে জানা জরুরি হাসান মেম্বারের কোন মেয়ে মারিদের অপরিচিতা হয়। নূরজাহান মেয়েটি পালিয়ে না গেলে হয়তো মারিদ এই বিষয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলতো। মারিদ চাঁদের আলোয় ডায়েরিতে চোখ ফেলতেই সেখানে লেখা পেল….
‘ নদী দিগন্ত,,,,
~সময় কিন্তু চলন্ত…
‘পাপে কয়,,,,
~ সত্যের ক্ষয়..
অতি সরলতায় ঠকানো হয়।
মিছা কথা তো সবে কয়
সব সত্যের কি আর জয় হয়?
মারিদ ঠোঁট কামড়ে কয়েক বারবার পড়াটি পড়ে মনে মনে রপ্ত করে তার দুই লাইন নিচে তাকিয়ে দ্বিতীয় লেখাটি পড়ল….
~ কিছু মানুষ আমাদের জীবনে অপ্রত্যাশিত ভাবে আসে, সবকিছু এলোমেলো করে আবার অপ্রত্যাশিত ভাবে চলে ও যায়। রেখে যায় শুধু স্মৃতিটুকু।
কথাটি পড়ে মারিদের মনে হলো এই কথাটি তার জীবনের সঙ্গে মিলে গেছে। হঠাৎ ধূমকেতুর মতো অপরিচিতা তার জীবনে অপ্রত্যাশিত ভাবে এসে তাকে এলোমেলো করে দিয়ে আবার অপ্রত্যাশিত ভাবে চলেও গেল। মারিদ বেশ কৌতুহল বোধ করল ডায়েরিটা পড়তে। সে পৃষ্ঠা উল্টাতে ডায়েরির পাতায় হাত রাখতেই ভেজা পেল। মারিদ ডায়েরির পাতার পানিটুকু হাতে স্পর্শ করে মনে মনে বলল ‘মেয়েটি কি কাঁদছিল?’ অতঃপর পরের পৃষ্ঠা উল্টাতে দেখতে পেল..
~ কারও কেউ একজন থাকে কিন্তু আমি শুধু মানুষ হারাই। হারিয়ে যায় সর্বস্ব। আমি কি জন্মেছি শুধু হারানোর জন্যই?
মারিদ কৌতূহল নিয়ে পৃষ্ঠা উল্টাতে যাবে তখনই দরজা খট করে খুলে বেরিয়ে এলো কেউ। মারিদ শব্দ শুনে উপরে তাকাতে একটা মিষ্টি সুরেলা কণ্ঠ বলল….
‘ ঐটা আমাকে দিন।
মারিদ মেয়েটির দিকে তাকাল। শ্যামবর্ণের একটা সুন্দর মুখ। সকালের দেখা নূরজাহানের মতো নিখাদ সুন্দর না হলেও মেয়েটি সুন্দর। খারাপ বলা যাবে না। মারিদ আন্দাজ করল এই মেয়েটি নিশ্চয়ই হাসান মেম্বারের বড় মেয়ে আশনূর হবে। মারিদ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে বলল…
‘ আপনি আশনূর?
‘ জি। আপনি আমার নাম জানলেন কীভাবে?
‘ আপনার বাবা বলেছিল সকালে।
‘ আচ্ছা।
মেয়েটির লাজুক মুখশ্রী। লতানো ভঙ্গি। মারিদের কথায় মুচকি হাসলো। মারিদের মনে হলো হাসিটাও সুন্দর, কিন্তু এই মেয়ে তাঁর অপরিচিতা কিনা সেটাও জানা জরুরি। আশনূর ফের বলল…
‘ ডায়েরিটা দিন।
‘ এটা আপনার?
‘ জি।
‘ আপনি ডায়েরি লেখতে পছন্দ করেন?
‘ মাঝেমাঝে লেখা হয়।
‘ কখনো কাউকে চিঠি লিখেছেন?
কথায় কথায় মারিদ চিঠির প্রসঙ্গটা টানল। কারণ ডায়েরি লেখার সাথে তাকে দেওয়া চিঠি লেখা গুলো মিল নেই। সেজন্য মূলত মারিদ এই প্রশ্নটা করল। তাছাড়া মারিদ দুই বোনের সঙ্গেই একটুআধটু কথা বলেছে, কিন্তু দু’জনের কন্ঠই তার কাছে এক মনে হচ্ছে। ফোনে সে কার সাথে কথা বলতো সেই কন্ঠটা বাস্তবে এসে চিনতে পারছে না। তাছাড়া অপরিচিতা বলেছিল সে কালো, আশনূর কালো না হলেও শ্যামবর্ণের। সেক্ষেত্রে নূরজাহান থেকে আশনূরই মারিদের অপরিচিতা হওয়া চান্স বেশি। আশনূর মারিদের কথার উত্তর দিতে গিয়ে ঘরের ভেতর শব্দ হতে আশনূরের মনে হলো কেউ এদিকটায় আসছে। এতো রাতে মারিদের সঙ্গে আশনূর কথা বলছে দেখে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। আশনূর দ্রুত হাতে মারিদের থেকে ডায়েরিটা ছিনিয়ে নিয়ে বলল…
‘ দুঃখিত। কিছু মনে করবেন না। আপনি ঘরে যান। আমাদের কাল দেখা হবে। আল্লাহ হাফেজ। শুভ রাত্রি।
আশনূর চলে গেল। মারিদ ঠায় দাঁড়িয়ে আশনূরের বন্ধ দরজার দিকে তাকাল। অপরিচিত এলাকায়, অপরিচিত জায়গায় মারিদের ঘুম আসছিল না বলে সে ঘর হতে বেরিয়ে ছিল। বাড়ির দক্ষিণ পাশটা গাছগাছালিতে সুন্দর বলে সে হাসান সিকদারের চাদর গায়ে দিয়ে এদিকটায় বেরিয়ে ছিল। কিন্তু এখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে কাউকে সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখে সে এগিয়ে এসে প্রশ্নটা করেছিল। তবে চাঁদের আলোয় নূরজাহানকে মারিদ দেখেছে। এই মেয়েটার সৌন্দর্য চোখ জুড়ায়। একবার তাকালে পুনরায় তাকাতে ইচ্ছা করে মেয়েটির মুখশ্রীর মায়ায়। ফর্সা সুন্দর সবাই হয় কিন্তু মায়াবী চেহারার মানুষ কম হয়। নূরজাহানের সুন্দর শরীরের সঙ্গে এক অদ্ভুত মায়াবী চেহারা তাঁকে অপরুপ করে তুলেছে। এই চেহারার প্রেমে গোটা পুরুষ জাতি পরতে বাধ্য। তবে কি মারিদের আসক্তি হচ্ছে নূরজাহানের সৌন্দর্যে?
~~
হাতের ডায়েরিটা নূরজাহানের মুখের উপর ছুড়ে মারতে নূরজাহান মৃদু আর্তনাদ করে উঠতে আশনূর রাগে চাপা স্বরে বলল…
‘ ন’টির জাত ন’টিই হয়। নষ্টমি করতে কেন বারবার ঘরের বাইরে যাস অলক্ষ্মী বাচ্চা। তোর জন্য কোথাও শান্তি নাই। দিনও নাই, রাতেও নাই। তোর জন্য কি বিষ ফাঁস কিচ্ছু নাই আল্লাহর দুনিয়াতে? মরিস না কেন তুই? কৈ মাছের জান নিয়ে আইছিস? আমাদের না মাইরা মরবি না তুই ঠিক কইরা রাখছস ন’টি বেডি?
‘ বুবু।
নূরজাহানের কন্ঠে আর্তনাদ। আশনূরের ছোড়া ডায়েরিতে ঠোঁট কেটে অঝোরে রক্ত বেরুচ্ছে। আশনূর সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে ফের রাগে কটমট করে বলল…
‘ চুপ। একদম চুপ। বদমাইশ মেয়ে। তোর জন্য আমাদের জীবনডা শেষ। তারপরও তোর রংঢং কমে না। তোর এতো রাতে বাইরে যাওয়া লাগে কেন হ্যাঁ? বাইরে কি তোর? এখন আমি সঠিক সময়ে ঘুম থেকে না উঠলে তুই এই ভিনদেশী ছেলেটার জীবনটাও খাইতি অলক্ষ্মী বাচ্চা। তোরে আমি শেষ বারের মতো হুশিয়ার করছি নূরজাহান, তুই যদি আবার রাতের বেলা বাইরে যাস, তাহলে আমি তোরে খুন করব। রোজকার ঝামেলা থেকে তোরে একবারের মাইরা জেলে গেলেও শান্তি।
নূরজাহান কথা বলল না। দু’হাতে মুখ চেপে ফোঁপায় যেন ঘরের বাইরে শব্দ না যায়। আশনূর রাগে কটমট করে ঘরে লাইট নিভিয়ে পালঙ্কে শুতে শুতে নূরজাহানকে অশ্রাব্য গালি দিল আরও কয়েকটা। নূরজাহানের কানে এসেছে সেগুলো। সে নিঃশব্দে নিরবে কাঁদতে লাগল, ঠোঁটের রক্তে ওড়নায় চেপে রাখল। স্বযত্নে ডায়েরি বুকে জড়াল। এসব অপমান প্রায় হয়, বলতে গেলে রোজকার। এসব আর নূরজাহানকে নতুন করে আঘাত দেয় না। সে শুধু নীরবে চোখের জল ফেলে। আর একটা নিস্তব্ধ কালো রাত নূরজাহানের অভিশপ্ত জীবনের সাক্ষী হলো।
~~
রাতে ঠেশাঠেশি করে তিনজন এক ঘরের বিছানায় শোওয়ায় রাতে মারিদের ঘুম হয়নি। মারিদ কারও সঙ্গে বিছানা ভাগাভাগি করে ঘুমাতে পারে না। তার অভ্যাসে নেই। নিজের বিলাসবহুল বিছানা ছেড়ে পরের বাড়িতে শক্ত বিছানায় গাদাগাদি করে ঘুমানো যায়?
হাসান মেম্বারের বাড়িতে চারটে টিনের ঘর, একটা পূর্ব দিকে মেহমান ঘর। চারটি ঘরের আলাদা নাম দেওয়া। উঠোনের পশ্চিম পাশে যে তিনটে ঘর পরপর আছে, সেগুলোর নাম পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। আর মারিদরা যে মেহমান ঘরে আছে সেটি ফুলের নাম দেওয়া, কাঠগোলাপ। এই কাঠগোলাপের এক কক্ষে তিনজনকে থাকতে দিয়েছে হাসান সিকদার। তিনি অবশ্য তিনজনকে তিনটি কক্ষে থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু হাসিব আর রিফাত ভয়ে আলাদা ঘরে থাকেনি, কারণ সকালে নাস্তার টেবিলে হাসান মেম্বারের পরিবারের সবাইকে দা-ছুরি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখে ওরা ভয় পেয়েছে। রিফাত, হাসিবের ধারণা, ওরা আলাদা করে থাকলে যদি রাতে হাসান সিকদার তাঁর পারিবার দলবল নিয়ে হামলা করে বসে, সেজন্য মূলত তিনজন রাতে একত্রে শুয়েছে। কিন্তু এতে মারিদের চিন্তা ভিন্ন। সে হাসান মেম্বারের পরিবারকে ভয় পাচ্ছে না, বরং আগ্রহ বাড়ছে জানার। মনে হচ্ছে সাদামাটা সিকদার বাড়িটি সাধারণ নয়, রহস্যে ঘেরা প্রাচীর।
মারিদ সারারাত বারান্দায় বসে কাটিয়েছে। নিস্তব্ধ আঁধারে নিশীথ লাগার মতো এই বাড়ি। মারিদ রাতে নূরজাহানের ঘরের সামনে থেকে ফিরে আসার সময় লক্ষ করল এই বাড়ির আঙিনায় কেউ আছে। ঘন কুয়াশার মাঝেও মারিদ চাঁদের আলোয় এই বাড়ির আঙিনায় অপরিচিত মানুষের উপস্থিতি টের পেয়েছিল। বাড়ির বাইরে সাত-আটজন পহরি পাহারা দেওয়ার পরও কেউ কিভাবে এই বাড়িতে ঢুকল, সেটা মারিদের ধারণাতে আসল না। নাকি এই বাড়ির কেউ সাহায্য করেছে লোকটাকপ ঢুকতে? মারিদ হৈচৈ না করে নিশ্চুপে মানুষটাকে ধরতে গিয়েও হারিয়ে ফেলল। আগমনকারী মানুষটা যে দূরদর্শী এবং মারিদ যে তার উপস্থিতি টের পেয়েছে, সেটা বুঝতে পেরেই লোকটা পালিয়েছে।
মারিদ, হাসিব, রিফাত তাঁদের সঙ্গে করে কাপড় নিয়ে এসেছিলেন পরতে। তাঁদের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল থানচিতে থাকার। হাসান মেম্বারের বাড়ি খুঁজতে গিয়ে ওদের থানচিতে থাকতে হবে ভেবে এই ব্যবস্থা। অবশ্য মারিদ লোক লাগিয়ে সবার জন্য হোটেল রুম বুকিংও করে রেখেছিল কিন্তু ভাগ্য ভালো হওয়ায় ওরা সরাসরি হাসান মেম্বারের বাড়িতে ঠাঁই পেল। হাসান মেম্বার ভোরে ফজরের নামাজে উঠতে মারিদকে দেখতে পেল বারান্দায় বসা। তিনি বেশ অবাক স্বরে মারিদের দিকে এগিয়ে এসে বললেন…
‘ বাজান তুমি এহোনো জাইগা আছো, রাইতে ঘুমাও নাই?
‘ না আঙ্কেল। হুট করে জায়গা বদল হওয়ায় ঘুম আসেনি।
‘ দেহো দেখি কাণ্ড। তুমি আমারে ডাকলা না ক্যান বাজান। তুমি সজাগ আছো জানলে আমিও চইলা আইতাম। সারা রাত দুইজনে মিল্লা গপ্পো মারতাম। এই শীতে তোমার তো অসুখ-বিসুখ বাঁধবে এহোন।
‘ সমস্যা নেই আঙ্কেল, আমি ঠিক আছি। আপনাকে বিরক্ত করতে চাইনি বলে রাতে ডাকিনি। তাই এখানে বসে ছিলাম।
‘ তোমার বন্ধুরা কই বাজান?
‘ ওরা ঘুমাচ্ছে।
‘ আচ্ছা ঘুমাক। তুমি আমার লগে হাঁটতে বেরুবা বাজান? আমাগো গেরাম কিন্তু মেলা সুন্দর। এহোন শীতকাল। কুয়াশার লগে মেঘ দেখা যাইব পাহাড়ের বুকে। তুমি যাইবা বাজান?
‘ যাব আঙ্কেল।
‘ তাইলে তুমি একটুখানি থাহো আমি নামাজটা শেষ কইরা আইতাছি। হেরপর দুজন একলগে যামু।
‘ আচ্ছা।
~~
আশনূর শান্ত, শিষ্ট আর ভদ্র মেয়ে নামে পরিচিত। এলাকায় আশনূরের ভালো ব্যবহারের প্রশংসা আছে। বাবা-মায়েরও বাধ্য মেয়ে। দাদীর ভাবি-ভাইদের ভালো বোন। নম্র ব্যবহারের মানুষের সঙ্গে কথা করে, কিন্তু নূরজাহানের সঙ্গেই চওড়া ব্যবহার। তার অবশ্য কারণ আছে, নয়তো অযথা ভালো উপাধি পাওয়া মেয়েটি নিজের ছোট বোনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে যাবে না? আশনূর ওর মা শাহানা বেগমের মর্জি মেজাজ পেয়েছে—সকলেই বলে। এটা অবশ্য আশনূরও মানে।
সিকদার বাড়িতে মেহমান থাকায় আশনূর মায়ের হাতে হাতে কাজ করল। আশনূরের তিন ভাইয়ের, বড় ভাই মাজিদকে বিয়ে করানো হয়েছিল আরও সাত বছর আগেই। মাজিদের একটা পাঁচ বছরের আর একটা এক বছরের ছেলে সন্তান আছে। মাজিদের বউ নদী। সে বাচ্চাদের সামলাতে গিয়ে সকালে রান্নাঘরে আসতে পারে না নয়টার আগে। সেজন্য আশনূর ভার্সিটি যাওয়ার পূর্বে মাকে যতটুকু পারে সাহায্য করে যায়। অবশ্য শাহানা বেগমের সঙ্গে একজন কাজের মহিলা শেফালী থাকে সবসময়। সবাইকে তোড়জোড় করে মারিদ, তারানূর আর আশনূরকে নিয়ে হাসান সিকদার সকালের নাস্তা সারলেন। রিফাত হাসিব তখনো ঘুমে তাই ওদের ডাকতে মারিদই না করল। তবে মারিদের কাছে বেশ আশ্চর্য লাগল, হাসান সিকদারের বড় মেয়ে আশনূর ওদের সঙ্গে টেবিলে বসে খেল, অথচ ছোট মেয়ে নূরজাহানের দেখা পেল না। কাল থেকে এসেছে,পর থেকে মারিদ নূরজাহানের দেখা পায়নি রাতের ঐ একটু দেখা ছাড়া। মেয়েটি কি সবসময় এমন ঘরকোণো হয়ে থাকে? নাকি মারিদকে দেখে আসছে না কোনটা?
খাওয়া দাওয়া শেষ করে হাসান মেম্বার আশনূরকে ভার্সিটির জন্য তাড়া দিয়ে তিনি কালকের লম্বা দাউটি নিয়ে বেরুলো। দাউয়ের মাথায় বৃদ্ধা আঙুলে স্পর্শ করে ধার কম মনে হতেই তিনি বারান্দার চৌকাঠে বসে দাউ ধার করল, ততক্ষণ না পযন্ত পাথরে ঘষা লেগে আগুনের ফুল্লকা ছিটে পড়ল। দা ধার হতেই হাসান সিকদার বারান্দায় বসে পান চিবোতে থাকা তারানূর বেগমকে বললেন…
‘ আম্মা নূরজাহানরে ডাক দেও।
‘ ’ তোর মাইয়া তুই ডাক দে। আমার ঠেকা পড়ে নাই যে ডাকমু।
’ আম্মা তুমি হোগল সময়ই আমার মাইয়াটার লগে এমন করো।
’ তোর মাইয়া আমাগো লাইগা সোনা লেদায় রাখে না যে মাথায় চড়াইয়া রাখমু।
তারানূর বেগমের চটাস চটাস কথায় হাসান সিকদার বিরক্ত হলেন। উনার কলিজা টুকরো মেয়েরে কেউ কিছু কইলে উনার সহ্য হয়না। উনারই ভুল হইছে নূরজাহানের সম্পর্কে তারানূর বেগমকে প্রশ্ন কইরা। তিনি নিজে কোমল স্বরে ডাকলেন….
‘ আম্মাজান। আম্মাজান? আপনি আছেন? তাড়াতাড়ি বের হোন। আমাগো যাওন লাগব। আপনার দশটা থেইক্কা পরীক্ষা। আম্মাজান। ও আম্মাজান।
‘ নূরজাহান আইতাছে আব্বা।
আশনূর ভার্সিটির জন্য রেডি হয়ে বেরুলো। গায়ে সাদা ড্রেস এর উপর সাদা অ্যাপ্রোন পড়ে কাঁধে ব্যাগ চেপে। নূরজাহান কালো বোরখায় নিজেকে আবৃত করে গায়ের উপর কালো চাদর জড়িয়ে বেরিয়ে বলল…
‘ চলুন আব্বা।
চোখ, মুখ, হাত, পা সবকিছু কালো কাপড়ের আস্তিনে ঢাকা। চোখ দু’টোও দেখার উপায় নেই। অথচ পাশাপাশি বড় বোন আশনূর ভার্সিটি ড্রেসে দাঁড়িয়ে। মারিদ বারান্দায় তারানূর বেগমের পাশাপাশি চেয়ারে বসে সেটা লক্ষ করল। ছোট বোন পর্দার আড়ালে আর বড় বোন প্রকাশ্যে থাকার কারণটা বুঝল না। হাসান সিকদার এগিয়ে এসে নূরজাহানের কাঁধ হতে কলেজ ব্যাগটি নিজের কাঁধে নিতে নিতে বললেন…
‘ সবকিছু নিছেন আম্মাজান?
‘ জি আব্বা।
হাসান সিকদার মেয়েদের নিয়ে বেরিয়ে যেতে গিয়েও পিছন ফিরে মারিদের দিকে তাকিয়ে বলল…
‘ যদিও রিস্ক হইব বাজান, তয় আপনি চাইলে আমাগো লগে যাইতে পারেন। আসার সময়ে আপনারে কয়ডা ভালা ভালা জমি দেখাইতে পারতাম হাসপাতালের লাগি।
মারিদ যেন এই অপেক্ষায় বসে ছিল। সে তৎক্ষণাৎ তারানূর বেগমের পাশ থেকে উঠে বারান্দার চৌকাঠ পেরিয়ে উঠোনে নেমে বলল…
‘ চলুন আঙ্কেল
~~
হাসান মেম্বারের নিজেদের গাড়ি নেই। সেজন্য মেয়েদের যাতায়াতের জন্য অটোরিকশা ঠিক করে রেখেছেন। সেই অটোরিকশার সামনে মারিদ হাসান সিকদার ড্রাইভারের সাথে বসল। পিছনে নূরজাহান আশনূর বসা। গাড়ি চলছে। হাসান সিকদার এটা সেটা বলছেন। মারিদ গম্ভীর মুখে শুনছে। থেকে থেকে বারকয়েক গাড়ির মিররে তাকিয়ে আশনূর নূরজাহানকে লক্ষ্য করেছে। নূরজাহানের চোখ বোরখায় ঢাকা থাকায় মারিদের বার কয়েক আশনূরের সঙ্গে চোখাচোখি হয়। এতে মারিদ প্রতিক্রিয়া দেখায় নি তবে আশনূরকে প্রতিবারই মুচকি হাসতে দেখা গেল। এর মাঝে হঠাৎ ধপাস শব্দে অটোরিকশাটি উল্টে ছিটকে পড়ল জমি ক্ষেতে। মারিদ রাস্তার পাশমূখী বসায় সে ছিটকে পড়ল রাস্তায় কিন্তু বাকি সবাই অটোরিকশা নিয়ে জমি ক্ষেতে পড়ল। আর্তনাদ, আহাজারিতে সকলে চিৎকার করল। মারিদ হাতে পায়ে ব্যথা পেয়েও দ্রুত ক্ষেতে নেমে অটোরিকশা টেনে ধরে ড্রাইভার আশনূরকে বের করল। আশনূর কাঁদাপানিতে ল্যাপ্টে চিৎকার করে ড্রাইভার রশিদকে নিয়ে অটোরিকশা নিচ হতে হাসান সিকদারকে টেনে বের করল, আহাজারি চিৎকার করে আশনূর ডাকল…
‘ আব্বা! অ আব্বা! আব্বা। আল্লাহ গো। আব্বা আপনার কিচ্ছু হবে না। রশিদ চাচা দ্রুত আব্বারে ধরে রাস্তায় উঠান। আল্লাহ! আল্লাহ!
সকলের থেকে গাড়ির চাপে নূরজাহান পড়েছিল কিন্তু আশনূর নূরজাহানকে টেনে বের করছে না। নূরজাহান কাঁদামাটিতে ল্যাপ্টে গাড়ির নিচে চাপা পরে চিৎকার করছে ‘আব্বা, আব্বা’ বলে। গায়ের জোর খাটিয়ে সে গাড়ির নিচ হতে বের হতেও পারছে না। মারিদ শক্তি খাটিয়ে অটোরিকশা নূরজাহানের উপর থেকে সরিয়ে দিতেই নূরজাহান দ্রুত উঠতে গিয়ে ধপাস করে পরে গেল মাটিতে। বোঝা যাচ্ছে কোমর থেকে পা পযন্ত ব্যথা পেয়েছে গাড়ি চাপায় পড়ে। শরীরের ব্যথা কামড়ে গায়ের শক্তি খাটিয়ে নূরজাহান উঠে দাঁড়াল। পা খুঁড়িয়ে উঠতে গিয়ে গাড়ির প্যাঁচে লেগে মুখের নেকাবে টান পড়তে নূরজাহান মূহুর্তে মুখের নিকাব খোলে ছুড়ে ফেলল ‘আব্বা, আব্বা’ চিৎকার করে রাস্তায় উঠল। আশেপাশে কারও লক্ষ নেই নূরজাহানের। সে হাসান সিকদারের সামনে বসে কান্নার বিলাপ করে বলল…
‘ আব্বা আপনার কিছু হবে না। আমরা এক্ষুনি আপনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব। আব্বা আপনার বেশি কষ্ট হচ্ছে? আব্বা? ও আব্বা।
‘ সর কালনাগিন।
দাঁত চেপে নূরজাহানকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় আশনূর। চাপা স্বরে আরও কিছু বলতে গেলে সেখানে মারিদকে দেখে চুপ করে যায়। মারিদ রক্তাক্ত হাসান সিকদারের কপাল চেপে রক্ত পড়া বন্ধ করতে বলল…
‘ আশেপাশে কোথাও হাসপাতাল আছে? উনাকে হাসপাতালে নিতে হবে দ্রুত।
আশনূর কাঁদতে কাঁদতে বলল….
‘ আমাদের গ্রামে হাসপাতাল নেই। হাসপাতালের জন্য থানচি সদরে যেতে হবে।
‘ আচ্ছা, ঠিক আছে উনাকে আপাতত বাড়িতে নিয়ে চলুন। আমার বন্ধু রিফাত ডাক্তার, ওহ আঙ্কেলের চিকিৎসা…
‘ ঐ ঐ জানোয়ারের বাচ্চা দাঁড়া…
হঠাৎ গর্জনের চিৎকারে থতমত খেয়ে বসল মারিদ, আশনূর, রশিদ তিনজনই। ততক্ষণে নূরজাহান হাসান সিকদারের দাউটি রাস্তা থেকে উঠিয়ে দৌড়াল কারও পিছনে। মারিদ হতভম্ব ভঙ্গিতে তাকাল। এক দিগুণ কেশী মেয়ে হাতে লম্বা দাউ নিয়ে কারও পিছনে দৌড়াচ্ছে। গায়ের বোরখাটি কাঁদামাটিতে ল্যাপ্টে। মাথার নেকাব তখন গাড়িতে লেগে খোলে যাওয়ায়, হাত খোঁপা চুলগুলো নূরজাহানের দৌড়ের সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় পিঠ গড়িয়ে রাস্তায়। মারিদ কি করবে বুঝতে না পেরে নূরজাহানের পিছনে দৌড়াল। ওদের থেকে কিছুদূর দূরে একটা জিপ গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে এক লোক। মুখ ঢাকা কালো কাপড়ে। এই জিপ গাড়িটি দিয়েই তখন ওদের ইচ্ছাকৃত ভাবে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা মেরেছিল। ওরা কতটুকু আঘাত পেয়েছে সেটা নিশ্চিত করতে দাঁড়িয়েছিল কালো পোষাকের লোকটা। এরমাঝে নূরজাহান হঠাৎ গাড়ি ও লোকটাকে দেখে হাসান সিকদারের দাউ নিয়ে দৌড়াল। আঘাতকারী লোকটা নূরজাহানের চিৎকার শুনে সে তৎক্ষনাৎ পালাতে চাইল। নূরজাহান লোকটাকে গাড়িতে উঠতে দেখে হাতে দাউটি ছুঁড়ে মারতেই লোকটার পায়ে গেঁথে যায়। লোকটা হুমড়ি খেয়ে রাস্তায় চিৎকার করে পড়তে জিপের ড্রাইভার লোকটা দৌড়ে এসে দাউ টেনে বের করে আহত লোকটাকে গাড়িতে বসিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। নূরজাহান দৌড়ে এসে দাঁড়াল লোকটার ছিটকে পড়া জায়গায়। নূরজাহান রাস্তা থেকে দাউ উঠিয়ে জিপ গাড়িটি চলে যাওয়ার দিকে থুথু ফেলে পুনরায় বাবার দিকে দৌড়াল। অথচ মারিদ যে নূরজাহানের পিছনে দৌড়াচ্ছিল তার দৌড় তখনই থেমে যায় নূরজাহানের হাতের নিশানা দেখে। মারিদ হতভম্ব, হতবাক হয়ে রইল। একটা মেয়ে মানুষের হাতের নিশানা এতো তীক্ষ্ণ হওয়ার কথা না, যদি না সে এসব বিষয়ে পারদর্শী হয়। তাহলে কি অপরূপ নূরজাহান ছুরি চালাতেও পারদর্শী?
[ #ডাকপ্রিয়র_চিঠি উপন্যাসের ১ থেকে ১৩ পর্বের রি-এডিটিং হবে। উপন্যাসের ১৩, ১৪ নং পর্বে বলেছিলাম হাসান মেম্বারের এক মেয়ে। সেটা এডিটিং করে দুই মেয়ে করা হয়েছে। বাকি সব ঠিক আছে। গল্পের কোনো থিম চেঞ্জ হয়নি। আর অবশ্যই গল্পের ভালো মন্দ রিভিউ দিবেন। ]
চলবে….
[ বানান ভুল ম্যানশন করবেন কমেন্টে]
আমার আইডির লিংক..
Share On:
TAGS: ডাকপ্রিয়র চিঠি, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২
-
রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৮(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৭