ডাকপ্রিয়র_চিঠি
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
১১
‘ছেলেটার খোঁজ পেয়েছিস, তনি?
মাহির কথায় হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলে তনিমা কলেজ ব্যাগটা কাঁধে তুলতে তুলতে বলল…
‘না।
‘এবার অন্তত আশা ছেড়ে দে। আর কত, বইন?
‘জানি না। তবে আশা ছাড়ব না।
মাহির কথায় তনিমার মন জুড়ে বিচরণ করল চিঠি আদানপ্রদান করা মুহূর্তগুলো। কত আবেগ, কত ভালোবাসা জড়িয়ে আছে সেই চিঠিগুলোতে। চাইলেই কি চিঠিওয়ালার আশা ছেড়ে দেওয়া যায়? তনিমা অন্তত সেটা পারবে না। আর না হাল ছাড়বে লোকটাকে খুঁজে পেতে। মাহি তাড়াহুড়ো করে ক্লাস থেকে বেরুলো, তনিমার পেছনে ছুটে পাশাপাশি হেঁটে বলল..
‘আমার মনে হয় কী, তনি, লোকটা তোর সাথে মজা করেছে। তোর চিঠিগুলোর উত্তর হয়তো সে ফান করে দিত। এজন্য দেখিস না এখন আর তোর চিঠির উত্তর আসে না। লোকটাও কেমন উধাও হয়ে গেছে।
মাহির কথাগুলো যুক্তিসঙ্গত হলেও তনিমা এই ব্যাপারে চুপ রইল। সামান্য একটা ভুল থেকে কতকিছুই ঘটে গেল ওর জীবনে। তনিমা নিজেও জানে না ওর চিঠিগুলো এতদিন কার কাছে যেত আর কে-ই বা ওর ভালোবাসাময় চিঠিগুলোর উত্তর দিত এত যত্ন নিয়ে নিখুঁতভাবে। চিঠি উত্তরদাতা নিঃসন্দেহে চমৎকার ব্যক্তিত্বের মানুষ হবে। তনিমাকে পাঠানো প্রতিটা চিঠিই লোকটার চমৎকার ব্যক্তিত্বের সাক্ষী দেয়। এটা ঠিক, তনিমা পছন্দ করে সোহাগকে চিঠি লিখেছিল কিন্তু সেই চিঠির উত্তর আসে অন্য কারও থেকে। তনিমার সামনে যখন চিঠির সত্যিটা আসে, তখন তনিমা বুঝতে পারে সোহাগের প্রতি ওর ভালো লাগা থাকলেও তনিমা সত্যিকার অর্থে প্রেমে পড়েছে চিঠিওয়ালার। চিঠিওয়ালার চিঠি যখন হুট করেই আসা বন্ধ হয়ে গেল, তখন তনিমার ছটফট দিনদিন বাড়তে লাগল। প্রথমে তনিমা চিঠিওয়ালাকে সোহাগ ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিত যে, সোহাগ তো তনিমার চোখের সামনেই আছে তাহলে সোহাগের চিঠি না আসলেই বা কি? তনিমা চাইলেই রোজ দেখতে পায় সোহাগকে। কিন্তু যেদিন তনিমা সত্যিটা জানতে পারল, যে তনিমার চিঠি সোহাগ নয় বরং অন্য কারও কাছে যেত আর সেই মানুষটাকে তনিমা চেনে না, তারপর থেকে তনিমার চিঠিওয়ালাকে নিয়ে দিনদিন অস্থিরতা বাড়তে থাকল। দিশেহারা তনিমা চিঠিওয়ালাকে দীর্ঘ একটা বছর ধরে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে উঠল, তারপরও চিঠিওয়ালাকে খোঁজা বন্ধ করল না। ক্যান্টিনে সেই রাসেল নামক ছোট ছেলেটির খোঁজও করেছিল তনিমা, যে ছেলেটাকে দিয়ে তনিমা সোহাগকে চিঠিটা পাঠিয়েছিল। কিন্তু রাসেলের খোঁজ করতে গিয়ে শুনল ক্যান্টিনে ছোট রাসেল ছেলেটি তনিমার চিঠি দেওয়া একমাস পরেই মারা গিয়েছিল রাস্তায় গাড়ির নিচে পিষে। তারপর তনিমা সোহাগের কাছে গিয়ে জানতে চায়নি সেদিন তনিমার চিঠি সোহাগের কাছে না গেলে ছোট রাসেল কার কাছে দিয়েছিল। কারণ তনিমা রাসেলকে চিঠিটা দিয়ে বলেছিল সোহাগকে দিতে। কিন্তু রাসেল তনিমার চিঠিটা সোহাগকে না দিয়ে কাকে দিয়েছিল সেদিন সেটা রাসেলই বলতে পারত। সেটা সোহাগের জানার কথা না। কারণ সেদিন সোহাগ তনিমা কিংবা রাসেল কাউকেই দেখেনি চিঠি আদানপ্রদান করার সময়। তনিমা নিজেও দেখেনি রাসেল কাকে চিঠিটা দিয়েছিল সেদিন। কারণ তনিমা রাসেলকে চিঠি দিয়ে সেও ক্লাসে চলে গিয়েছিল। সেজন্য তনিমা মনে হয়েছে এসবে বিষয়ে সোহাগ কিছু জানবে না। তাছাড়া সোহাগকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করাটাও ঠিক হবে না। থাক না তনিমার চিঠিওয়ালা তনিমার মাঝেই। কী দরকার অন্য কাউকে শোনানোর? তনিমা নিজেই খুঁজে নিবে ওর চিঠিওয়ালাকে। তাছাড়া তনিমা চিঠিওয়ালাকে খুঁজতে গিয়ে রোজ একটু একটু করে ভালোবেসেছে ওর চিঠিওয়ালাকে। চিঠির ওপাশেই যেই থাক তনিমা না দেখেই লোকটাকে ভালোবেসেছে, এবার তনিমা চিঠিওয়ালাকে ভালোবাসে না পাক, অন্তত এটা দেখতে চায় আসলে চিঠির ওপারে কে ছিল? মানুষটা কে? মনস্তাত্ত্বিক ভাবনায় তনিমাকে চুপ থাকতে দেখে মাহি বুঝল, তনিমাকে চিঠিওয়ালার বিরুদ্ধে বুঝিয়ে লাভ নেই। তনিমা চিঠিওয়ালার পিছু ছাড়ার নয়। একটা অচেনা, অজানা চিঠিওয়ালার জন্য তনিমার দিনদিন নিজেকে দিশেহারা পাগল বানানোর বিষয়টা বুঝতে পারে না মাহি। একজন মেডিকেলের স্টুডেন্ট হয়ে অন্তত তনিমার এসব বিষয়ে খামখেয়ালী সাজে না, এতে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। অন্যমনস্ক তনিমাকে দেখে মাহি খানিকটা বিরক্ত গলায় ফের বলল…
‘আর কত, তনি? তিন মাসের প্রেমের জন্য একটা বছর ধরে অপরিচিত চিঠিওয়ালাকে খুঁজছিস। নাম-ঠিকানা কিচ্ছু জানিস না। কোন আবালকে চিঠি দিতি তাও বলতে পারিস না? তোর এত ধৈর্য আসে কোথা থেকে বলতে পারিস? তোর ক্লান্ত লাগে না? বিরক্ত বোধ করিস না এসবে? এতদিনে লোকটা তো তোকে ভুলে অন্য কোথাও বিয়েও করে ফেলতে পারে। ভেবেছিস কখনো?
চিঠিওয়ালার বিয়ের কথাটাতে তনিমার মাঝে রাগের আভাস ফুটে উঠল। তনিমা কেমন জেদি সুরে মাহিকে শুধিয়ে বলল,
‘করলে করুক বিয়ে, তারপরও আমি চিঠিওয়ালাকে একবার সামনে থেকে দেখতে চাই। জানতে চাই, আমার চিঠিওয়ালা কে ছিল? কার কাছে যেত আমার চিঠিগুলো? কে সে?
তনিমার কথায় মাহি তীক্ষ্ণ গলায় ফের প্রশ্ন করে বলল…
‘তাহলে সোহাগ ভাই কী? তুই তো সোহাগ ভাইকে ভালোবাসতিস, তাই না?
‘ভালোবাসতাম না পছন্দ করতাম, আর এটা এখন অতীত। আমার বর্তমান অন্য কেউ।
‘তোর সবগুলো চিঠি তো সোহাগ ভাইয়ের জন্য ছিল, তনি, তাহলে সেখানে অন্য কেউ…
মাহিকে কথাগুলো শেষ করতে না দিয়ে তনিমা বিরক্তিতে বলল,
‘সোহাগ ভাইয়ের জন্য চিঠিগুলো লেখা হলেও আমার চিঠি কিন্তু সোহাগ ভাইয়ের অবধি কখনো পৌঁছায়নি, মাহি। তাছাড়া সোহাগ ভাই এখন রিলেশনে আছে। আমার তাকেই লাগবে যে আমার চিঠিগুলোর উত্তর দিত, অন্য কাউকে নয়।
তনিমার কথায় ভীষণ হতাশা ছেয়ে গেল মাহির মুখ জুড়ে। সে আফসোস করে বলল…
‘তিন মাসের প্রেম, এক বছরের খোঁজাখুঁজি! বইন, তোর ধৈর্যে সালাম! আর আমার ধৈর্যের মাইরে বাপ!
তনিমার উদাসীনতার মাঝে দুজনই কলেজ থেকে বেরিয়ে রিকশায় চড়ে বসল। যান্ত্রিক শহরে যানজট থাকে বেশ। খুব স্বাভাবিকভাবে তনিমা আর মাহি রাস্তায় জ্যামে বসে রইল। দুপুরে রোদ মাথার ওপর। শীতের মাঝে এই উষ্ণ রোদটা খারাপ লাগছে না। তবে বেশিক্ষণ যানজটে বসে থাকাটাও অসহ্যের মতো। তনিমা বেশিক্ষণ রাস্তায় বসে থাকতে চাইল না। ভাবল পায়ে হেঁটে চলে যাবে, জ্যামের রাস্তাটুকু তারপর পুনরায় রিকশা নিয়ে বাড়ি চলে যাবে। ভাবনা অনুযায়ী রিকশার ভাড়া মিটিয়ে মাহিকে নিয়ে রিকশা থেকে নেমে রাস্তার ফুটপাত ধরে সামনে এগোল তনিমা। গায়ে একটা কাশ্মীরি শাল জড়িয়ে। কালো শালটার উপর কলেজ ব্যাগটা কাঁধে টেনে ছোট ছোট পা ফেলে হাঁটতে লাগল সামনে। পাশাপাশি দুই বান্ধবীরই টুকটাক কথা হচ্ছিল, এর মাঝে হঠাৎ চোখে পড়ল রাস্তার জ্যাম পড়ার কারণটা। রাস্তার মাঝখানে কয়েকজন ছেলেকে পিটাচ্ছে বেশ পনেরো-বিশজনের মতো বডিগার্ড টাইপের লোক। এই হতাহতের স্থানে বিশ-পঁচিশ জনের মতো পুলিশও উপস্থিত। এত পুলিশের সামনে কয়েকজন ছেলেকে এতগুলো লোক পিটাচ্ছে অথচ তারা কেউ কিছু বলছে না, বরং পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে বডিগার্ডগুলোকে সুযোগ করে দিচ্ছে লোকগুলোকে পিটাতে। এই বিষয়টা বেশ অদ্ভুত দেখাল তনিমার নিকট। তনিমা ভাবল সিরিয়াস কিছু, কিন্তু গণ্ডগোলের স্থানে মারিদকে পুলিশের জিপে কোমর ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তনিমা ঘৃণায় মুখ কুঁচকাল। এই মারিদ আলতাফ যেহেতু এখানে উপস্থিত আছে তারমানে এমন একহাজার অদ্ভুত বিষয় ঘটলেও কম হবে। মারিদ আলতাফ টাকা দাপটে এমন অসম্ভব অনেক কিছুই সম্ভব করতে পারে। সেখানে রাস্তায় লোক পেটানো তো সামান্য ব্যাপার। তাছাড়া তনিমার জীবনে সবচেয়ে অপছন্দের লোকই হচ্ছে এই মারিদ আলতাফ। এই লোক টাকা আর ক্ষমতার দাপটে এই এলাকায় চড়িয়ে বেড়ায়। কারও সাহস হয় না সৈয়দ বংশের বিরোধিতা করার। আর যারাই করবে তাদের অবস্থাটা গোপনে খোঁজ নিয়ে জানা যাবে কতটা বিধ্বস্ত হয়েছিল সৈয়দ বংশের বিরুদ্ধে গিয়ে। তনিমার পরিবারও সৈয়দ বংশের লোকদের পছন্দ করে না। এই মারিদ আলতাফ তনিমার ভাই রাফিনকে পিটানোর পর তনিমার পরিবারের কেউ আর সাহস করে মারিদ আলতাফের বিরোধিতা করেনি। জানে বিরোধিতা করেও লাভ হবে না। এই শহরে, টাকা যার বেশি ক্ষমতা তারই পক্ষে। তাছাড়া মারিদ আলতাফের আপন চাচা জেলা কমিশনার। কমিশনারের ভাতিজার বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযোগ নিবে না থানা পুলিশ। নেয়ও না। সেজন্য এই মারিদ আলতাফকে প্রায় দেখা যায় রাস্তায় যখন-তখন যাকে-তাকে গুন্ডামি করে পিটাতে। এই বডিগার্ডগুলোও নিশ্চয়ই এই লোকটারই হবে? তনিমা রাস্তার ওপাশ থেকে ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে তাকাল মারিদের দিকে। চোখে পড়ল মারিদের বামহাতের কব্জি বেয়ে ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে রক্ত ঝরাটাকে। তাজা রক্ত। কিছুক্ষণ আগেই মারিদের ওপর হামলা হওয়ায় সে কিছুটা আহত হয়েছে। তবে মারিদের থেকে মারিদের ড্রাইভার রাশেদ আহত হয়েছে বেশ। কিন্তু তনিমা তার কিছু না জেনেই মারিদকে নিয়ে ঘৃণা জন্ম নিল মনে মনে। মারিদের দিকে ঘৃণা রাশিভারি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হঠাৎ কী মনে করে মারিদও দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকাল রাস্তার ওপাশে। মূহুর্তে চোখাচোখি হলো তনিমার রাগান্বিত তেজি দৃষ্টিতে। মারিদ কপাল কুঁচকাল তনিমাকে দেখে। কয়েক সেকেন্ড মারিদের দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে হঠাৎ তনিমা মাহির একটা হাত চেপে চলে যেতে যেতে বলল…
‘চল মাহি! এই পরিবেশটা বিষাক্ত হয়ে গেছে মারিদ আলতাফের উপস্থিতিতে।
‘ আরে কি বলছিস তনি? হাতটা ছাড়! মালটাকে আরেকটু দেখি। কি জোস দেখতে মারিদ আলতাফ তাই না? ছাড় হাত।
‘ না চল।
‘ তনিহহ।
মাহিকে একটা প্রকার টেনে নিজের সাথে নিয়ে গেল তনিমা। মারিদ তনিমার চলে যাওয়ার দিকে কপাল কুঁচকে তখনো তাকিয়ে রইল। মেয়েটিকে সে চেনে না। তারপরও মেয়েটি তাঁকে কেন ঐভাবে দেখল জানা নেই। তাছাড়া দুজনের মধ্যে দূরত্ব বেশ হওয়ায় মেয়েটি মারিদকে নিয়ে কী বলেছে সেটা সে শোনেনি। অপরিচিত তনিমার ওপর মারিদ মনোযোগ হারাল। তনিমাকে ইগনোর করে পুনরায় তাকাল আহত ছেলেগুলোর দিকে। এই নিয়ে বেশ কয়েকবার তার ওপর হামলা হয়েছে। কে বা কারা মারিদকে মারতে চায় সেটা মারিদ জানে। মূলত মারিদ জেনে-বুঝে চুপ থেকে কিছু মানুষকে বারবার সুযোগ দিচ্ছে তার ওপর আক্রমণ করার। মারিদ পাখি শিকার তখনই করবে যখন পাখির মনে হবে সে জিতে গেছে। উল্লাসে মেতে থাকা পাখিকে গলা চেপে খাঁচা বন্দি করার মজাই আলাদা। মারিদ দেখতে নম্র ভদ্র হলেও সে এসব রক্তারক্তির খেলার সাথে বহু বছর থেকেই পরিচিত। যবে থেকে সে ব্যবসায় জড়িয়েছে তখন থেকেই। এই ব্যবসায়িক জগতে কেউ কারও বন্ধু হয়না বরং প্রতিদ্বন্দ্বী হয়। সেটা সে বহুকাল আগেই বুঝতে পেরেছিল।
মারিদ বামহাতে রক্তাক্ত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সময়টা দেখে নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাসিবের উদ্দেশ্যে বলল…
‘ওদের ছেড়ে দিতে বল। বাকিটা পুলিশ সামনে নিবে।
‘জি স্যার।
মারিদ হাসিবকে আদেশ করেই অন্য গাড়িতে গিয়ে উঠে বসল। ড্রাইভার রাশেদকে ততক্ষণে হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। মারিদের গাড়িটাও হামলাকারীদের কারণে খানিকটা ভাঙচুর হয়েছে বলে সেটাকেও গ্যারেজে পাঠানো হয়েছে। নতুন গাড়ি, নতুন ড্রাইভারকে আসতে বলেছিল হাসিব। মারিদ নতুন গাড়িতে উঠে বসতে কিছুক্ষণের মধ্যে হাসিব হামলাকারী ছেলেগুলোকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে সেও ড্রাইভারের পাশে বসতে গাড়িটি চলতে শুরু করল। এরমাঝে হাসিব খানিকটা চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল…
‘স্যার, গাড়ি কি হসপিটালের দিকে ঘুরাব? আপনার হাতটা অনেকটা কেটেছে। ব্যান্ডেজ করা প্রয়োজন।
হাসিবের কথায় মারিদ নিজের রক্তাক্ত হাতটার দিকে তাকিয়ে বলল…
‘প্রয়োজন নেই। আপাতত আমি ব্যান্ডেজ করে নিব। তোকে যেটা বলা হয়েছিল সেটা করেছিস? খোঁজ পেয়েছিস ছেলেটার?
হাসিব তৎক্ষনাৎ সম্মতি দিয়ে বলল…
‘জি স্যার। আপনার তথ্য অনুযায়ী আমাদের লোক মেডিকেল কলেজের সবগুলো ক্যান্টিনে খোঁজ করে একটা লোকের সন্ধান পায়। লোকটা বলেছে, সে নাকি আপনার তথ্য দেওয়া রাসেলের আপন চাচা হয়। ওনার ভাতিজা রাসেল নাকি আরও বছরখানেক আগেই গাড়িচাপায় মারা যায়। এর বাহিরে আমাদের লোক গিয়েছিল রাসেলের বাড়িতে খোঁজ করতে। ঘটনাটা আসলেই সত্য। রাসেল ছেলেটা মৃত, স্যার।
হাসিবের কথায় মারিদ কপাল কুঁচকায়। ব্যাপারটা কেমন সন্দেহজনক ঠেকলো তার নিকট। অপরিচিতার অবধি পৌঁছানোর রাস্তাগুলো কেমন অদ্ভুতভাবে মারিদের জন্য আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না? নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মারিদকে আটকাতে চাইছে অপরিচিতার অবধি পৌঁছাতে না দিয়ে? মারিদ অপরিচিতার যত সন্ধান করতে যাচ্ছে ততই যেন জল আরও ঘোলাটে হচ্ছে। তবে এবার মারিদও দৃঢ় প্রতীজ্ঞ, যতকিছুই হোক না কেন মারিদ অপরিচিতার খোঁজ পেয়েই ছাড়বে। এবার অপরিচিতা জীবিত হোক কিংবা মৃত, মারিদের অপরিচিতার খোঁজ চাই মানে চাই। দীর্ঘ একটা বছর পর মারিদ কী মনে করে পুনরায় উতলা হয়ে অপরিচিতার খোঁজে নামল তা জানে না হাসিব। তবে এবারে মারিদের অপরিচিতাকে ঘিরে খোঁজার অনুসন্ধান আরও দৃঢ় দেখাল। হাসিবের কথায় মারিদ নিজের বিচক্ষণতা কাজে লাগিয়ে বলল…
‘এক কাজ কর হাসিব, তোকে দেওয়া নাম্বারটার কল লিস্ট বের করতো। সিমটা চালু হওয়ার দিন থেকে বন্ধ হওয়া পর্যন্ত এই নাম্বারে যত কল, মেসেজ এসেছে সবগুলোর আলাদা আলাদা ডকুমেন্টস করে সন্ধ্যার ভিতরে আমার কেবিনে পাঠা আর্জেন্ট।
‘জি স্যার কাজ হয়ে যাবে।
হাসিব সম্মতি দিতেই নীরবতা ছেয়ে গেল গাড়ি জুড়ে। মারিদকে আর কথা বলতে শোনা যায়নি। তবে হাসিবকে দেখা গেছে ফোনে কাছে মেসেজ করতে মারিদের দেওয়া নাম্বারটা কল লিস্ট আর্জেন্ট চেয়ে।
~~
অপরিচিতার নাম্বারের বিগত তিন বছরের সকল কল রেকর্ডের ডকুমেন্টস মারিদের ডেস্কের টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। মারিদ দু’হাত টেবিলের ওপর রেখে ঝুঁকে আছে সেই কাগজের ওপর। মারিদের দৃষ্টিতে বরাবরই তীক্ষ্ণতা বিরাজ করছে। কুঁচকানো কপালে বিচক্ষণতায় কোনো কিছুর হিসাব মেলাচ্ছে বারবার।
হিসাবটা এমন, অপরিচিতা পাহাড়ি তাতিয়ানের নাম্বার থেকে মারিদকে কল দিত। সেই কল লিস্টে মারিদ ও অপরিচিতার ফোনালাপের ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড সবকিছুই দেখাচ্ছে। এমনকি মারিদের কাছে অপরিচিতার সাথে কথা বলার যাবতীয় কল রেকর্ডগুলোও আছে। মূলত মারিদ কল রেকর্ডগুলো সিম অফিস থেকে সংগ্রহ করার উদ্দেশ্য ছিল এটা জানতে, সত্যি কি অপরিচিতা মারিদের হ্যালুসিনেশন ছিল নাকি বাস্তবতা ছিল। কল রেকর্ড আর কল লিস্টে মারিদ অন্তত এতটা শিওর হয়েছে যে অপরিচিতা মারিদের কোনো হ্যালুসিনেশন নয় বরং বাস্তবতা ছিল। সত্যি অপরিচিতা মারিদকে কল করত, আর তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নিয়ে ফোনে কথা বলত। এখন মারিদের প্রশ্ন, যদি অপরিচিতা সত্যি হয়ে থাকে তাহলে অপরিচিতা জনিত বাকি ঘটনাগুলোও সত্যি হওয়ার কথা। কিন্তু মারিদের একটা হিসাব কিছুতেই মিলছে না। অপরিচিতার সাথে যদিও তাতিয়ানের সম্পর্ক না থাকে তাহলে অপরিচিতা তাতিয়ানের নাম্বার পেল কই? কে দিয়েছে? তাছাড়া অপরিচিতা নিজের নাম্বার রেখে তাতিয়ানের নাম্বার থেকেই কেন বা মারিদকে কল দিত? মারিদের এতসব প্রশ্নের মাঝে আরও কিছু জটিল প্রশ্নের মুখোমুখি হলো মারিদ। মারিদের সঙ্গে কথা বলার সময় অপরিচিতার নাম্বার থেকে মারিদকে ব্যতীত অন্য কাউকে কখনো কল কিংবা মেসেজ করতে দেখা যায়নি। এমনকি অপরিচিতার কোনো পারিবারিক নাম্বারেও কল আসা-যাওয়া হয়নি। যেন অপরিচিতা এই নাম্বারটা শুধু মারিদের সঙ্গে কথা বলার জন্যই আলাদাভাবে রেখেছিল। সত্যি কি তাই? এতটা সতর্কতা অবলম্বন করে মারিদের সঙ্গে কথা বলত অপরিচিতা? কিন্তু কেন? অপরিচিতা কি তাহলে পূর্ব থেকে বুঝেছিল মারিদ অপরিচিতার খোঁজে সিমের সন্ধান করে অপরিচিতার অবধি পৌঁছাতে পারে এমন? সেজন্য সে মারিদের নাম্বার ব্যতীত অন্য কারও সাথে এই নাম্বার থেকে যোগাযোগ করেনি কখনো। যদি যোগাযোগ করত তাহলে মারিদ নিশ্চয়ই সেই নাম্বারটা কল লিস্টে পেত। কিন্তু মারিদের নাম্বারটা ব্যতীত কোথাও কোনো তথ্য নেই মানে সবকিছুই অপরিচিতার প্রি-প্লানিং ছিল মারিদের জন্য। কিন্তু কেন? অপরিচিতা যদি মারিদকে ফাঁদেই ফেলতে চাইত তাহলে মারিদের থেকে কখনো টাকা-পয়সা কেন চাইল না? যদি চাইত তাহলে অবশ্যই মারিদ দিত। বরং মারিদ বেশ কয়েকবার অপরিচিতাকে ভিন্নভাবে গিফট পাঠানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু অপরিচিতা কখনো নেয়নি। এমনকি মারিদের দেওয়া সামান্য ফোনে ফ্লেক্সিলোডও নিতে চায়নি কখনো। অপরিচিতা একজন প্রহর আত্মসম্মানী মেয়ে ছিল নিঃসন্দেহে। তার আত্মসম্মান আর মারিদের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা দেখেই তো মারিদ অপরিচিতার ভয়ংকর মায়ায় জড়িয়ে ছিল। মারিদ একজন বিচক্ষণ মানুষ। কে মিথ্যা বলছে, কে ছলনা করছে সে-সব সে চট করে বুঝে ফেলতে পারে। কিন্তু অপরিচিতার সাথে মারিদের এত মাস কথা বলার পরও মারিদের কখনো মনে হয়নি অপরিচিতা মেয়েটি মিথ্যাবাদী কিংবা ছলনাময়ী ছিল। বরং অপরিচিতাকে মারিদের খুব কাছের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী মনে হতো। কিন্তু আজ মারিদ অপরিচিতার তল্লাশির খোঁজ করতে গিয়ে মুখোমুখি হচ্ছে নতুন কিছুর তথ্যের। মনে হচ্ছে অপরিচিতা মারিদের জন্য ফাঁদ হয়ে এসেছিল। মিথ্যাবাদী আর ছলনাময়ী অপরিচিতা। কাগজে থাকা তথ্যে তো তাই বলছে। অপরিচিতার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস মারিদের ক্রমেই নড়বড়ে হতে লাগল। বিশ্বাসের ঘরে অবিশ্বাস খেলা করল। অপরিচিতার প্রতি ভালোবাসা ক্রমশই ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে। মারিদ শক্ত চোয়ালে ফের চোখ বুলাল অপরিচিতার কল লিস্টে। হিসাব মেলাতে চেয়ে বুঝল,
তাতিয়ানের নাম্বারটি কেনা হয়েছিল ১৭/১/২০১২ দিকে, তারপর সিমটি টানা ব্যবহার করা হয়েছে এগারো মাস। ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ ২০১২ দিকে সিলেট থেকে ঢাকার রাস্তায় সিমটি বন্ধ করা হয়েছিল। তারমানে পাহাড়ি তাতিয়ানের কথা অনুযায়ী তাতিয়ান সিলেটের বাইরে যেতে গিয়ে তার হাতের ফোনটা হারায়। তাহলে মারিদ ধরে নিল সেদিন তাতিয়ানের ফোন হারানোতেই সিমটাও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সেই সিম পুনরায় চালু হয়েছে তাতিয়ানের ফোন হারানোর তিন মাস পর। কিন্তু সিম চালু করার পরও কোথাও কোনো কল বা মেসেজ করা হয়নি সেটি দিয়ে। শুধু টানা দুইদিন সিমটি চালু রাখার পর সিমটা পুনরায় বন্ধ করা হয়, তারপর আবার দুই মাস পর চালু করা হয়। তখনও কোথাও কোনো কল কিংবা মেসেজ করতে দেখা যায়নি। এইভাবেই তাতিয়ানের ফোন হারানোর প্রায় দেড় বছর ২৫/ ১২/২০১২ থেকে ৫/৬/২০১৪ ইং পর্যন্ত দুই মাস, তিন মাস পরপর তাতিয়ানের সিমটা দুই দিন কিংবা পাঁচ দিন চালু থেকে পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হতো। তারপর মারিদকে এক বছর ছয় মাস দশ দিন পর ২০১৪ সালের জুলাইয়ের পাঁচ তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ২১ তারিখ পর্যন্ত কল দেওয়া হয় টানা ছয় মাস। আর এই ছয় মাস সিমটা টানা ওপেন ছিল। কিন্তু এই ছয় মাসে মারিদ ছাড়া এই নাম্বারে দ্বিতীয় কোনো কল আসা-যাওয়ার করা হয়নি। লিস্টে শুধু মারিদের নাম্বারই আছে। এর ফাঁকে ফাঁকে অবশ্য কয়েকটা সিম অফিসের কল আছে। তবে মারিদ পরপর কল লিস্টগুলোর দিকে সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মারিদের মনে হচ্ছে এই নাম্বারের মানুষটার পেছনে বিশাল বড়ো কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে। মারিদকে কী মনে করে অপরিচিতা কল করত সে জানে না।
তবে এই নাম্বারের মানুষটাকে যতটা সহজ মনে করেছিল ততটা সহজ নয়। মারিদ জানে না আদৌও অপরিচিতা বেঁচে আছে কিনা? অপরিচিতার করা মারিদকে লাস্ট কলটা সত্য ছিল নাকি মিথ্যা? যদি মিথ্যা হয় তাহলে মারিদ নিজেই মেরে ফেলবে এই অপরিচিতাকে তার সাথে ছলনা করার দায়ে। আর যদি সত্যি হয়? মারিদ অপরিচিতার মৃত্যুর ভাবনায় তার বুকে চিনচিন ব্যথা অনুভব করল। মারিদ ঠোঁট গোল করে বড় বড় নিশ্বাস ফেলে নিজেকে সামলে নিতে চাইল। মারিদের অপরিচিতা বেঁচে নেই এই ভাবনাটা মারিদকে গত একটা বছর ধরে ভয়ংকরভাবে ঘায়েল করছে। কিন্তু তারপরও মারিদের মন বিশ্বাস করতে চাইনা মারিদের অপরিচিতা বেঁচে নেই সেটা। মারিদের মনে হয় তার নিশ্বাস চলছে মানে অপরিচিতার নিশ্বাসও চলছে। মারিদকে একা করে মারিদের অপরিচিতা কখনোই মরতে পারে না। দরকার হলে মারিদ নিজের হাতে অপরিচিতাকে মারবে তার সাথে ছলনা করার দায়ে, তারপরও অপরিচিতা মারিদকে একা করে যাবে না। কিছুতেই না।
মারিদ গুমোট শ্বাস ফেলে টেবিলে ছড়িয়ে রাখা কাগজগুলোর থেকে কিছু পৃষ্ঠা হাতে নিল। অপরিচিতার নাম্বারে আদান-প্রদানকৃত সকল মেসেজ লিস্টে আছে সেটাতে। মারিদ কাগজটিতে চোখ বুলাতে বুলাতে সোজা হয়ে দাঁড়াল। পরপর কাগজের পৃষ্ঠাগুলো উল্টে-পাল্টে দেখতে লাগল কোথাও কোনো নাম্বারের সন্ধান আছে কিনা। অতঃপর মেসেজ লিস্টে তেমন কিছুই চোখে পড়ল না মারিদের, শুধু সিম জনিত কিছু অফারের মেসেজ ছাড়া। মারিদ বেশ কয়েকবার পরপর পৃষ্ঠাগুলো উল্টে-পাল্টে দেখতে দেখতে উঠে বসল টেবিলের ওপর। হাতে কাগজগুলোতে যখন সন্দেহজনক কিছুই দেখল না তখন মারিদ জোড়ালো বুদ্ধি খাটাতে চাইল। মূলত মারিদের মাথা কাজ করছে না আর কিভাবে অপরিচিতার খোঁজ করা যায়। সিমটা তাতিয়ানের। কল লিস্টেও মারিদের নাম্বার ছাড়া অন্য কারও নাম্বার নেই যেটার মাধ্যমে মারিদ অপরিচিতার অবধি পৌঁছাতে পারবে। এমনকি মেসেজ অপশনেও মারিদের পাঠানো কয়েকটা মেসেজ ছাড়া বাকি সবগুলো মেসেজই সিম অফিসের। বলতে গেলে পুরো কল লিস্ট ঘেটেও মারিদ এমন কোনো মেসেজ কিংবা নাম্বার পেল না যেটার মাধ্যমে মারিদ অপরিচিতার অবধি পৌঁছাতে পারবে? অপরিচিতার অবধি পৌঁছানোর সকল রাস্তাই যেন বন্ধ। তাছাড়া ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ আজকের তারিখেও অপরিচিতা নাম্বার বন্ধ।
মারিদ হাতের কাগজগুলোতে ফের চোখ বুলাতে বুলাতে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হাসিবের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে বলল…
‘আচ্ছা হাসিব, একটা মানুষ নিজেকে লুকাতে কতটা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে যে পিছনে কোনো ভুল করবে না?
মারিদের কথার যথাযথ অর্থ না বুঝে হাসিব উত্তর দিয়ে বলল…
‘আমি জানি না, স্যার।
হাসিবের কথায় মারিদ কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে তাকাল হাসিবের দিকে। তীক্ষ্ণ গলায় ফের প্রশ্ন করে বলল…
‘আচ্ছা ধর, তুই যদি কারও কাছ থেকে লুকাতে চাস তাহলে কতটা নিখুঁত পরিকল্পনা করবি?
মারিদের পরপর প্রশ্নে হাসিব আবারও একই উত্তর দিয়ে বলল…
‘স্যার এসব বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা নেই। আমি কিছু বলতে পারব না।
হাসিবের কথায় মারিদ ফের হাতের কাগজগুলোতেই দৃষ্টি ঘোরাল। পাশ থেকে কল লিস্টের কাগজগুলোও তুলে নিল। দু’হাতে দুটো ডকুমেন্টস তুলে তাতে মেলাতে লাগল। মারিদের এক হাতে কল লিস্ট, তো অন্য হাতে মেসেজ লিস্ট। মারিদ মেসেজ লিস্টের কাগজটায় চোখ আটকালো। অপরিচিতার সাথে মারিদের সবসময় ফোনে কথা হতো, ইন্টারনেটে নয়। তারমানে অপরিচিতা নিশ্চয়ই ফ্লেক্সিলোড করত? মারিদ মেসেজ লিস্টে খোঁজ করে দেখতে পেল অপরিচিতা সবসময় একই নাম্বার থেকে ফ্লেক্সিলোড করত। মারিদ সেই নাম্বারটির দিকে তাকিয়ে আলতো হাসল। নাম্বারটির চারপাশে লাল কালিতে দাগ টেনে দিতে দিতে হাসিবের উদ্দেশ্যে রহস্যময় গলায় ফের বলল…
‘বুঝলি হাসিব, সব মাস্টারমাইন্ডের একটা মাস্টার থাকে! ব্যক্তি কখনো নিখুঁত হয় না। নিখুঁত হয় তার পরিকল্পনা। বলতে হবে অপরিচিতার পরিকল্পনা নিখুঁত ছিল কিন্তু নির্ভুল নয়। তার করা ভুল আমাদের রাস্তা তৈরি করবে তার অবধি পৌঁছানোর।
মারিদের রহস্যময় কথার কিছু না বুঝেই হাসিব মাথা নাড়িয়ে তৎক্ষণাৎ সম্মতি দিয়ে বলল…
‘জি স্যার।
মারিদ হাতের কাগজটা হাসিবের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বিচক্ষণতার সঙ্গে বলল…
‘এই মার্ক করা নাম্বারটার সকল তথ্য বের কর হাসিব। সিমটা কার নামে রেজিস্টার? কে এই নাম্বারটা চালায়? তার বর্তমান লোকেশন কোথায়? সবকিছু চাই আমার বুঝেছিস?
‘জি স্যার।
হাসিব মারিদের দেওয়া কাগজটা হাত বাড়িয়ে নিতেই মারিদ পুনরায় অপরিচিতার কল লিস্টের কাগজগুলোও একই ভাবে হাসিবের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে জোরালো বুদ্ধি খাটিয়ে বলল…
‘ সাথে এই নাম্বারটারও লাস্ট ছয় মাসের যাবতীয় কলের লোকেশন বের করবি। এই নাম্বারটি কোথায় কোথায় থেকে আমাকে কল করতো সবকিছুর আলাদা আলাদা লোকেশন আমার চাই বুঝেছিস?
‘জি স্যার বুঝেছি।
‘কাজ হতে কতক্ষণ লাগবে?
‘ আজ রাতের মধ্যে ম্যানেজ হয়ে যাবে স্যার। আপনাকে ইনফরমেশনগুলো ইমেইলে পাঠিয়ে দিব নাকি আমি নিয়ে আসব, স্যার?
‘ইমেল করিস।
‘জি স্যার।
হাসিব হাতের কাগজগুলো নিয়ে মারিদের কেবিন ছাড়তে মারিদ সেদিকে তাকাল। রাস্তা যত কঠিন হোক না কেন, অপরিচিতার অবধি পৌঁছাতে তাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। মারিদ হাসিবের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় আওড়াল…
‘আমি জানি না আপনি বেঁচে আছেন কিনা, অপরিচিতা? যদি বেঁচে থাকেন তাহলে আমার হাতের দ্বিতীয় গুলিটা খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েন। আমার সাথে ছলনা করার শোধ আমি আপনাকে দিয়েই তুলব। সময় বেশি নেই যখন আপনি আর আমি মুখোমুখি থাকব।
চলিত…
[ বানান ভুল ম্যানশন করবেন কমেন্টে]
Share On:
TAGS: ডাকপ্রিয়র চিঠি, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৮(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৭