রহস্যময় এক অসুস্থতা—যার কোনো ব্যাখ্যা মেডিকেল সাইন্স খুঁজে পায়নি। রিপোর্ট বলছে শরীর ঠিক, কিন্তু মানুষগুলো প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে অদৃশ্য এক আঘাতে। ডাক্তার বলছে নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, বিজ্ঞান বলছে মানসিক—আর রাত গভীর হলে সে একা ফিসফিস করে বলে, “ওরা আমাকে ছাড়ছে না…”
প্রখ্যাত আলেম ও জ্বীনের বাস্তব সাক্ষাৎকার নিয়ে গত পর্বে আমরা লিখেছিলাম ৬টি গোপন তথ্য এবং জ্বীন কীভাবে ক্যান্সার তৈরি করে। সেই লেখা হাজার হাজার মানুষের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আজ ২য় পর্বে আপনারা এমন এক অজানা বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চলেছেন—যা পড়ে শুধু হতবাকই হবেন না, বরং নিশ্চুপ হয়ে ভাবতে বাধ্য হবেন।
একবার এক বড় হুজুর খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মানুষের উপকারী সেই জ্বীনকে ডেকে তিনি বলেন,
“আমি এখন অসুস্থ। তুমি কিছুদিন আমার থেকে দূরে থাকবে। আমি না বলা পর্যন্ত স্বপ্নে কিংবা মানুষের রূপ ধরে আমার সামনে এসে আমাকে ডিস্টার্ব করবে না।”
কিছুদিন পর হুজুর কিছুটা সুস্থ হন। আবার বিভিন্ন রোগী বড় বড় সমস্যা নিয়ে তার কাছে আসতে শুরু করে। তো একদিন এক দম্পতি—স্বামী ও স্ত্রী—হুজুরের কাছে আসেন। এসেই কান্নাকাটি শুরু করেন। তারা তাদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান।
তাদের প্রথম সন্তান জন্মের ১৮ দিনের মাথায় কোনো কারণ ছাড়াই রাতে ঘুমের মধ্যে মারা যায়।
পরদিন মৃতদেহ গোসল করানোর সময় দেখা যায়, শিশুটির পিঠে ৪টি থাপ্পড় মারার দাগ। আঙুলের ছাপ ছিল অস্বাভাবিকভাবে চিকন ও লম্বা।
এই ঘটনার কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রী স্বপ্নে দেখতে শুরু করে—একটি কালো কুকুর তাকে তাড়া করছে। এক রাতে স্বপ্নে দেখে, কুকুরটি তার পায়ে আছড়ে দিচ্ছে। চিৎকার করে ঘুম ভেঙে উঠে দেখে, রুমে কেউ নেই—সে একাই ছিল। হঠাৎ পায়ের উরুতে জ্বালাপোড়া অনুভব করে কাপড় সরিয়ে দেখে—গভীর আছড়ের দাগ, এমনকি কুকুরের পশম পর্যন্ত লেগে আছে। এরপর থেকে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়।
মহিলাটি প্রায়ই স্পষ্ট বুঝতে পারত—তার আশেপাশে কেউ হাঁটছে। দিনে দিনে পায়ের ব্যথা ও এই ছায়ামূর্তি সচেতন অবস্থায় দেখতে থাকায় বহু ডাক্তার ও হুজুর দেখানো হয়, কিন্তু কোনো উন্নতি হয় না। কয়েক মাসের মধ্যেই তার একটি পা অন্য পায়ের তুলনায় ছোট হয়ে যেতে থাকে।
একদিন রাত আনুমানিক ২–৩টার দিকে, স্বামী-স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ স্বামীর ঘুম ভেঙে যায়। ডিম লাইটের আলোতে সে দেখে—তার মৃত শিশুটি কাফনের কাপড় পরা অবস্থায় টেবিলের ওপর শুয়ে আছে এবং একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
ভয়ে সে চিৎকার দিলে স্ত্রী জেগে উঠে লাইট জ্বালায়। কিছুক্ষণ হাঁপানোর পর লোকটি পুরো ঘটনা বলে।
পরদিন তারা এক কবিরাজের কাছে যায়, তদবিরও নেয়—কিন্তু কোনো লাভ হয় না। মনে সারাক্ষণ ভয়।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর, একদিন লোকটি ওয়াশরুমে গেলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। পুরো ওয়াশরুম অন্ধকার। মুহূর্তেই তার শরীর ভারী হয়ে আসে—নড়াচড়া করতে পারছিল না। তখন সে অনুভব করে, একটি বাচ্চা তাকে চেপে ধরেছে। বাচ্চাটির শরীর ছিল বরফের মতো ঠান্ডা। হঠাৎ বাচ্চাটি তার হাতে জোরে কামড় দেয়। সে চিৎকার করতে চাইলেও কোনো শব্দ বের হয় না।
ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে আসে এবং সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখে—তার হাতে কামড়ের দাগ স্পষ্ট।
এই ঘটনার চার মাসের মধ্যেই তার একটি হাত অন্য হাতের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে চিকন হয়ে যায়।
সব কথা শুনে বড় হুজুর কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকেন। তিনি বুঝে যান—এটি কোনো ডাক্তারি চিকিৎসার বিষয় নয়। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী খারাপ জ্বীনের প্রকাশ্য প্রভাব।
তিনি তাদের বলেন,
“দুদিন পর আসুন, আমি উসিলা করব।”
সেই রাত থেকেই বড় হুজুর তাদের জন্য বেশি বেশি নফল নামাজ ও তদবিরের আমল করতে থাকেন। রাত তখন প্রায় ১টা।
হঠাৎ হুজুরের সঙ্গে থাকা ভালো জ্বীন রাগান্বিত অবস্থায় হাজির হয়। হুজুর বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, “এই প্রথম তুমি এত রেগে আছো কেন?”
জ্বীন বলে,
“আপনি একজন আমলদার আলেম, মানুষের উপকার করেন। কিন্তু আজ যাদের জন্য তদবির করছেন—সব বৃথা যাবে। কোনো কাজ হবে না।”
হুজুর বলেন,
“আগে রাগ কমাও, তারপর বল কেন কাজ হবে না।”
জ্বীন বলে,
“এই স্বামী-স্ত্রী দুজনই ভয়ংকর পাপিষ্ঠ। তারা কুফরি কালামে বিশ্বাস করে। তারা একজন জ্বীন-সাধকের মাধ্যমে কালো জাদু করে তাদের এক আত্মীয়কে হত্যা করেছে। আরেকবার তারা প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রীর সন্তান হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
কিছু হলেই তারা তান্ত্রিক ও কালো জাদু করা ঈমানহারা লোকদের কাছে যায়। এরা নিজেরাও শিরক করেছে। এদের ওপর যত ভালোই আমল করা হোক—কাজ হবে না। যারা শিরক করে, তারা দুষ্ট জ্বীনের মাধ্যমে ক্ষতি করতে পারে; কিন্তু উপকার করতে পারে না। এদের করা কালো জাদুর প্রভাব ছয় মাস পর ফিরে এসে এখন নিজেদের ওপর পড়ছে। বর্তমানে একটি শক্তিশালী জ্বীন এদের সন্তানকে মেরে, এরপর এদেরও মারতে চায়।”
জ্বীনের এই চ্যালেঞ্জ শুনে হুজুর আর কিছু বলেন না।
দুদিন পর দম্পতি এলে হুজুর তাদের তাড়িয়ে দিতে শুরু করেন। তারা পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করলে হুজুর বলেন, “তোমরা আজ এই অবস্থায় পড়েছ অন্যের ক্ষতি করতে গিয়ে। কুফরি কালাম শিরক। তোমাদের ঈমান নেই। আল্লাহ এটা ক্ষমা করেন না—আমি কিছু করলেও কাজে আসবে না।”
তবুও তারা পা ধরে থাকলে হুজুর বলেন,
“আজ যাও, আমি ভেবে দেখি কোনো রাস্তা পাই কি না।”
দুদিন পর আবার সেই ভালো জ্বীন এসে বলে,
“আপনি কিছুই করতে পারবেন না—এটা চ্যালেঞ্জ।”
হুজুর চিন্তায় পড়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন,
“তুমি যদি মানুষের মতো জ্ঞান রাখতা, তবে আমার গোলাম হয়ে থাকতে না। আমি বিশ্বাস করি—মানুষের সব দরজা বন্ধ হলেও সৃষ্টিকর্তার দরজা কখনো বন্ধ হয় না।”
জ্বীন প্রশ্ন করে,
“সেই দরজায় কীভাবে পৌঁছাবেন?”
হুজুর মুচকি হেসে বলেন,
“তারা কুফরি কালাম করেছে—এর বিচার পরকালে। কিন্তু যদি তারা খাঁটি তওবা করে, শিরক ছেড়ে দেয়—আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন, এমনকি শিরকও।”
তিনি বলেন,
“যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তওবা করে, সে এমন যেন সে কখনো গুনাহই করেনি।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১)
এ কথা শুনে জ্বীন বলে ওঠে,
“সুবহানাল্লাহ।”
আরেক হাদিস—
“আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় ততটাই খুশি হন, যতটা একজন মানুষ মরুভূমিতে হারানো উট ফিরে পেলে খুশি হয়।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৫৯)
সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ।
পরবর্তীতে বড় হুজুর সেই দম্পতিকে তওবা করান, আমল শেখান, পানি ও তেল পড়া দেন। পাশাপাশি বলেন—দীর্ঘদিন জ্বীনের আসরের কারণে শরীর ডাক্তারি চিকিৎসার পর্যায়ে চলে গেছে, তাই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে। আরভযখন তারা খাঁটি দিলে তওবা করে, আমল শুরু করে এবং চিকিৎসা নেয়—ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।
এই হলো কালো জাদু ও তান্ত্রিক কবিরাজের ভয়ংকর পরিণতি। অন্যের ক্ষতি করলে তা কিছুদিন পর নিজের বা সন্তানের ওপর ফিরে আসে।
জেনে-বুঝে শিরক করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।
কিন্তু যারা না জেনে এমন কাজে জড়িয়েছে—তাদের জন্য তওবাই শেষ সুযোগ।
অনুরোধ—কারও মন পাওয়ার জন্য বা ক্ষতি করার জন্য কখনো কুফরি কালামে যাবেন না।
আমরা খুব শীঘ্রই “জ্বীনের সাক্ষাৎকার – ৩য় পর্ব” প্রকাশ করব। যা আরও রহস্যময় আর জটিল! সে সাথে কিছু আমল বলে দিব।
আপনাদের প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন।
দ্বীন প্রচার ও শিরক বন্ধের স্বার্থে এই লেখা শেয়ার করুন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন—লিখুন আমিন।
- ঈশান মাহমুদ ✍
(প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর)
১ম পর্ব
HiddenTruths
SpiritualReality
BlackMagicAwareness
ReturnToTawbah
philosophy
Share On:
TAGS: জ্বীনের সাক্ষাৎকার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE