জেন্টাল মনস্টারপর্ব ২৮
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_২৮
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
“ব্যাং ব্যাং ব্যাং।”
আদ্রিতার মুখশ্রীতে রক্তের ছিটা এসে লেগেছে। সামনের লোকটা কাত হয়ে পড়ে গেল মাটিতে।
আদ্রিতা কিছুক্ষণের জন্য নিজের স্থানে স্থির হয়ে গিয়েছে।
চোখে মুখে তার তখনো রক্ত লেগে। গাল বেয়ে রক্তেট ফোটা গড়িয়ে পড়ছে বুকে।
আদ্রিতা মাথাটা হালকা তুলে তাকায়।
৪ জন গার্ড ভেতরে প্রবেশ করে তার পেছন দিয়ে কিং স্টাইলে এন্ট্রি করে আদ্রিস।
বাম হাতে তার রিভলবার।
তার নিশানা সুক্ষ্ম। না দেখেও নিজের টার্গেটে ঠিকঠাক নিশানা লাগাতে পারে আদ্রিস। এটা তার ব্যক্তিগত গুণ।
আদ্রিস সোজা তাকায় আদ্রিতার চোখের।
আদ্রিসের চোখে তখন ঠিক কি ফুটে উঠছে আদ্রিতা নিজেও জানেনা। তবে তার প্রচন্ড ভয় লাগছে।
ভয়ে সে মৃদু পিছিয়ে যায়।
আদ্রিসের গার্ড’স বাকি ৩ জনকে ধরে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে কপালে বন্দুক ঠেকিয়েছে।
আদ্রিস এক পা এক পা করে এগিয়ে এসে আদ্রিতার সামনে বসে।
আদ্রিতার সামনে যে লোকটার নিথর দেহ পড়ে আছে। সে লোকটার ভেতর তখনো জীবন ছিল। সে পুরোপুরি মরেনি।
আদ্রিতার গাল বুক শুকিয়ে আছে। আগে থেকে এই সময়টা তার কাছে ভয়ঙ্কর বেশি।
আদ্রিস হাঁটু গেড়ে বসে। তার দৃষ্টি তখনো আদ্রিতার দিকেই স্থির। আদ্রিস লোকটা যে হাতটা আদ্রিতার দিকে বাড়িয়েছিল ওই হাতটা হাতে উঠাতে উঠাতে আদ্রিতাকে বলে,
“বেবি, রানিং এরাউন্ড ইজ ডেঞ্জারাস। আমিত তোকে বলেছিলাম আমার পারমিশন ছাড়া বাহিরে না যেতে। তাহলে কেন বাহিরে এলি? খুব শখ করছিল?”
আদ্রিস হাতটা নিয়ে একটা মোচড় দেয়। কট করে শব্দ হলো। লোকটা বিকট চিৎকার দিয়ে উঠল। আদ্রিতা নিজের দু হাতে কান চেপে ধরে।
আদ্রিস কেমন পাগলদের মত শব্দ করে হাসতে লাগল,
“আদ্রিতা, তুই এত টুকুনে ভয় পেয়ে গেছিস? আহ, আই সি। রু মাচ উইক ইউ আর। “
আদ্রিস আরেকটা টান মারতে গোটা হাতটাই খুলে আসে আদ্রিসের কাছে। লোকটা সইতে পারেনা। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
ঘাম ছুটে গিয়েছে আদ্রিসের।
আদ্রিস কপালে হাত দেয়,
“ঘাম বেরিয়ে গেল। কোথায় এই কষ্ট টা তোর সাথে করব তা না এসবে কষ্ট করতে হচ্ছে।”
আদ্রিস হাতটা আদ্রিতার সামনে ধরে,
“দেখ সুন্দর না?”
আদ্রিতা এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারেনা।
তার পাশে একটা পুরাতন টেবিল। আদ্রিতা সেই টেবিলের ভেতর চলে যায়।
ভয়ে দু কানে হাত দিয়ে নিজেকে বলের মত গুটিয়ে রেখেছে,
“বন্ধ করুন। বন্ধ করুন।”
আদ্রিস ফের হাসে। সে নিজের পরনের কোর্ট খানা খুলে ফেলে। রেভেন পেছন থেকে এসে কোর্ট টা নিয়ে নেয়।
“আমাদের কাছে গান ছাড়া আর কি আছে রেভেন?”
“বস চাকু।”
“গ্রেট। যাও চাকু নিয়ে এসো। এবং ওই মহিলাকেও। যে এইসবের সরদার।”
“জি বস৷”.
রেভেন বেরিয়ে যায়। গাড়ি থেকে চাকু আনতে। আদ্রিতা ওভাবেই বসে থাকে টেবিলের নিচে।
আদ্রিস বাঁকা হাসে,
হাঁটু ভাজ করে টেবিলের সামনে বসে,
” তুই জানিস আমি তোকে ফুলের মত রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার থেকে পালিয়ে তুই জীবনের চরম ভুলটা করেছিস। এর মাসুল তোকে সারা জীবন চোকাতে হবে।”
এসব দৃশ্য দেখে বাকি তিনজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। আদ্রিসের কাছে বার বার ক্ষমা চাইছে।
এর মধ্যে সেই মহিলাকে নিয়ে আসে একজন গার্ড।
আদ্রিস ফিরে তাকায়।
“ও হিরোইনের এন্ট্রি হয়ে গিয়েছে।
চলুন তাহলে অনুমতি দিলে সিনেমা শুরু করি।”
মহিলা নিজের স্বামীর এমন অবস্থা দেখে ভয়ে মাটিতে বসে পড়ে আদ্রিসের পায়ের সামনে।
আদ্রিস মহিলাকে ঠাসিয়ে একটা চড় বসিয়ে দেয়৷
“আপনি মহিলা মানুষ তাই আপনার গায়ে হাত তুলতে চাইনি। কিন্তু যে মেয়েদের জীবন নষ্ট করে তাকে আসলে মহিলা বলাটা আমার জন্য কষ্টকর।”
“স্যার প্লিজ আর করব না। এবারের মত ছেড়ে দিন।”
এতক্ষণে রেভেনও চলে এসেছে। রেভেন আদ্রিসকে গ্লাবস দেয়। আদ্রিস সেগুলো পরে একবার আদ্রিতার দিকে তাকায়।
“আদ্রিতা তুই যদি এদিকে না তাকাস তবে তোর জন্য পানিশমেন্ট ডাবাল হবে। মাইন্ড ইট৷”
আদ্রিস এগিয়ে যায়৷
হাতের ধারালো চাকুটা দিয়ে প্রথম লোকটার হাতের আঙ্গুল গুলো কাটতে শুরু করে।
লোক গুলোর বিকট চিৎকার শুনে আদ্রিতা আরও ভয় পেয়ে যায়।
আদ্রিতা একবার পাশ ফিরে শুধু তাকায় বাম দিকে।
আদ্রিসের ভয়ানক এই রূপ দেখে সে সহ্য করতে পারেনা। হাঁটুতে মুখ গুঁজে বার বার চিৎকার করতে থাকে,
“আদ্রিস ভাইয়া থামুন। আমার ভুল হয়ে গেছে। আর কখনো কারব না।”
কিন্তু না আদ্রিসকে কে থামায়।
আদ্রিস পরবর্তী ছেলেটার চুল গুলো ধরে ছেলেটাকে হাত করায়।
ছেলেটার বুক বরাবর চাকু ঢুকিয়ে দেয়।
ছেলেটা চিৎকার করে ওঠে। আদ্রিসের মুখশ্রী এবং হাতে রক্ত রক্ত হয়ো গিয়েছে।
আদ্রিস ধারালো চাকুটা দিয়ে গরু কাটার মত ছেলেটার বুকটা দু ভাগে ভাগ করে ফেলে।
ছেলেটার ভেতরের সব কিছু দৃশ্যমান।
আদ্রিস আরও ডিপ কেটে ভেতর থেকে হৃদপিণ্ডের দলাটা বের করে আনে।
আদ্রিসের প্রচন্ড শান্তি লাগছে।
রেভেনের কাছে এসব নতুন নয়।
সে শুধু বার বার আদ্রিতাকে দেখছে। মেয়েটা ভয়ে বরফের মত জমে আছে।
আদ্রিস যখন তৃতীয় ছেলেটার কাছে যায় তখন আদ্রিতা দৌড়ে এসে আদ্রিসকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে।
ওই ছেলেটা আর আদ্রিসের ভেতরে এসে আদ্রিসকে ঠেলে পেছনে নিয়ে যায়। আদ্রিতার হাইট আদ্রিসের বুক পর্যন্ত।
আদ্রিস তাকিয়ে আছে আদ্রিতার দিকে,
“সরি আর হবেনা। এবারের মত মাফ করে দিন। আমি আর কোথাও যাব না। সত্যি বলছি আর কোথাও যাব না কখনো যাব না। “
আদ্রিস, তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ আদ্রিতার দিকে। আদ্রিতার ছোট্ট শরীর টা কাঁপছে ভয়ে।
“আমাকে যে পানিশমেন্ট দিতে হবে।”
“না আর না প্লিজ। আমি ভিক্ষা চাইছি বন্ধ করুন আর পারছি না নিতে।”
“তাহলে ওর শাস্তি তুই নিবি?”
আদ্রিতা অবাক হয়ে যায়। মাথাটা উঁচু করে আদ্রিসের দিকে তাকায়। আদ্রিসের চোখে প্রশ্ন। আদ্রিতা মাথা নুইয়ে নেয় ফের।
“হ্যাঁ নেব।”
“ওকে ডিল ডান।
রেভেন।”
রেভেন এগিয়ে আসে।
“বস এগুলো আমাকে দিন।”
রেভেন আদ্রিসের থেকে চাকু নিয়ে নেয়।
আদ্রিস, আড় চোখে তাকায়।
“হেহে।”
রেভেন, আদ্রিসর গ্লাব’স গুলো খুলে নিয়ে নেয়।
“ডান বস।”
আদ্রিস, আদ্রিতাকে পাজকোলে তুলে নেয়।
এরপর বেরিয়ে যায়।
রেভেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মাত্র কিছুক্ষণের ব্যবধানে তিনজন মানুষের অঙ্গ প্রতঙ্গ এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
রেভেন মহিলার দিকে তাকায়।
“এগুলো সব পুড়িয়ে দেবে।”
“,স সাব আমার স্বামীর শেষ কাজ।”
“শেষ কাজ পাবার মত কাজ সে করেনি। বেশি কথা বললে আপনাকেও মারার অর্ডার আছে।”
মহিলা চুপ হয়ে যায়।
“ওনাকে কিছুক্ষণ পর একজন অফিসার আসবে তার হাতে তুলে দিবে। আর।এগুলোকে পুড়িয়ে নিজের বাড়িতে চলে যেও আজ।”
“ওকে স্যার।”
গার্ড’স দের অর্ডার দিয়ে রেভেন বেরিয়ে আসে।
আদ্রিস গাড়িতে বসে আছে।
রেভেন ড্রাইভিং সিটে বসে। আদ্রিতার হাতে মুখে তখনো রক্ত লেগে। রেভেন গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে সামনে থেকে ওয়েট টিস্যু নিয়ে আদ্রিসকে দেয়।
“বস।”
আদ্রিস ওয়েট টিস্যুর প্যাকেট দিয়ে ইসারা করে গাড়ি চালাতে।
রেভেন গাড়ি চালানো শুরু করে। আদ্রিস টিস্যু বের করে আদ্রিতার চোয়াল শক্ত করে ধরে নিজের দিকে তাকাতে বাধ্য করে। আদ্রিতা ভয়ে তাকাচ্ছেনা আদ্রিসের দিকে,
“এখন ভয় কেন পাচ্ছিস? তোকেত সারা জীবন এই মুখই দেখতে হবে। ভয় পেয়ে কি লাভ তাহলে?”
আদ্রিতা কিছু বলেনা। চুপ থাকে। আদ্রিস টিস্যু দিয়ে আদ্রিতার মুাখ পরিষ্কার করতে শুরু করে।
আদ্রিতা সেভাবেই আদ্রিসের কোলে বসে আছে মাথাটা আদ্রিসের বুকে ঠেকিয়ে, নড়াচড়া করাছে না।
নড়াচড়া করতেও তার ভয় লাগছে।
আদ্রিস, আদ্রিতাকে পরিষ্কার করিয়ে গ্লাস নামিয়ে টিস্যু গুলো ফেলে দেয়।
এরপর সে বাহিরের দিকে তাকিয়ে রয়।
আদ্রিতা জানেনা এরপর কি হবে। সে শুধু এটা জানে এই আদ্রিসকে সে চিনেনা।
নিজের রুমে বসে ফোন হাতে নিয়ে এদিক ওদিক করছে প্রিয়া। কি করবে সে। রেভেনকে একবার কল দিবে। রেভেন যদি বলতে পারত আদ্রিস বা আদ্রিতা ঠিক আছেত।
প্রিয়ার চিন্তায় চিন্তায় মাথাটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
প্রিয়া খাট থেকে পা নামাতে দেখে তার রুমে মিরা প্রবেশ করছে।
মিরাকে দেখে প্রিয়া ভীষণ খুশি হয়ে যায়।
“মিরা আপু।”
প্রিয়া গিয়ে মিরাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়।
প্রিয়া, মিরার মাথায় হাত রাখে,
“কাঁদিস না। আদ্রিস গেছে না। দেখবি আদ্রিতাকে ঠিক নিয়ে আসবে।”
প্রিয়া মাথা তুলে তাকায়।
“তুমি কিভাবে জানো এসব?”
“আমি এসেছিলাম বাড়িতে কিছুদিন থাকব বলে। আম্মুকে শুনলাম বড় মার সাথে কথা বলছে।রান্না করছিল তাই লাউড দিয়ে কথা বলছিল। এগিয়ে যেতে শুনি ভয়ানক কান্ড।”
প্রিয়া ভ্রু কুঁচকে নেয়।
“তুমি এসো বসো।”
প্রিয়া দরজা লাগিয়ে মিরার কাছে গিয়ে বসে,
“মম বলেছে আদ্রিতা একা বেরিয়ে গিয়েছে।”
“মিথ্যা কথা। বড় মা।”
থেমে যায় মিরা। ওর চোখ ছলছল। প্রিয়া, মিরার হাতে হাত রাখে,
“আপু বলোনা কি হয়েছে?”
“বড় মা আদ্রিতাকে Human trafficking racket দের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।”
প্রিয়ার পৃথিবী থেমে গিয়েছে। সে কানে এসব কি শুনল? কেন শুনল?
প্রিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মিরার দিকে।
“মিরা আপু।”
মিরা কাঁদছে।
“আমি জানিনা মেয়েটা কি করেছে। কি ওর দোষ। “
প্রিয়া কান্না করতে করতে ফোনটা তুলে নেয় হাতে,
“আপু মম এসব কেরছে।”
“আমি যতটা শুনেছি।”
“দাড়াও একটু ভাইয়াকে ফোন দেই।”
“দিস না। তখন থেকে আমি ১০০ বার কল করেছি কল ধরছে না।”
“ভাইয়ার এসিস্ট্যান্টকে কল করছি।”
“ও নাম্বার আছে?”
“হ্যাঁ।”
প্রিয়া, রেভেনকে কল করে।
দুই রিং হতে রেভেন ফোন তুলে নেয়,
“হ্যালো।”
“হ্যালো রেভেন আমি প্রিয়া।”
“প্রিয়া, হ্যাঁ বলো।”
“আদ্রিতাকে পেয়েছে ভাইয়া?”
“হ্যাঁ টেনশন নিও না। বসের সাথেই আছে।”
প্রিয়া, মিরা নিঃশ্বাস নেয় শস্তির,
“ভাইয়া কই?”
“পেছনে।”
“ফোন?”
“ওনার সেই সেন্স নেই।”
“একটু দিবেন। বলুন মিরা আপু কথা বলবে।”
“ওকে।”
রেভেন ফিরে তাকায়।
“বস মিরা আপু।’
আদ্রিস ফোন নিয়ে নেয়।
” ভাই কেমন আছিস?”
“রাইট নাউ আম ওকে আপু।”
“শান্তি পেলাম। ওকে নিয়ে আসছিসত মেনশনে?”
“না।”
“তাহলে?”
“আমি আমার প্রাইভেট মেনশনে যাব।”
“সকালে একটা গাড়ি পাঠাবি আমি আর প্রিয়া চুপি চুপি যাব।”
“ওকে আপু।”
“বাই ওকে বকিস না ভাই। তোকে আমি বলব কিছু।”
“ওকে আপু। বাট প্রথম কথাটা শুনতে পারব না।”
“ভাই দেখ।’
” প্লিজ আপু। আমার মুড ঠিক নেই।”
“ওকে টেক কেয়ার।”
মিরা কল কেটে দেয়।
আদ্রিস, ফোন রেভেনকে তুলে দেয়।
চলবে?
[ একটু একটু রেসপন্স করো। সুন্দর করে কয়টা মন্তব্য করিও]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১০
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৯
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১