জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৪৯
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
“ক কিন্তু ডিনার?”
আদ্রিস বাকা হাসে। আদ্রিতার ঘাড়ে নাক ঘষতে ঘষতে বলে,
“তুইত আমার ডিনার৷”
আদ্রিতা আর কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেনা।
আদ্রিসের টায়ার্ডনেস কিভাবে গায়েব হলো। দেখেত মনে হচ্ছিলো সে এখন ঘুমাবে। তা না এখন দুজনেই জেগে থাকবে।
রাতের আকাশে পূর্ণ পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যায়৷
উজ্জ্বল হয়ে আলো ছড়াচ্ছে। রাশিয়ায় মৃদু শীতল এবং মেঘলা।
চাঁদ খানা মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলছে।
এই শীত শীত পরিবেশে ঠান্ডা পানি শরীরে পড়তে আদ্রিতা কেঁপে ওঠে।
সে বিরক্তি নিয়ে আদ্রিসের দিকে তাকায়।
আদ্রিস হ্যান্ড সওয়ার আদ্রিতার মাথায় দিয়ে বলে,
“ইউ হ্যাভ টু টেক আ সওয়ার বেবি।”
আদ্রিতা আর কিছু বলেনা। তার ভীষণ বিরক্ত লাগছে। আদ্রিস, নিজের বুকের সঙ্গে চেপে ধরে রেখেছে আদ্রিতাকে।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিতাকে নিয়ে আদ্রিস রুমে আসে।
আদ্রিতাকে বিছনায় বসিয়ে আদ্রিতার চুল মুছিয়ে দেয়।
আদ্রিস একবার সামনে তাকায়।
রুমে থাকা ইয়া বড় একটা কাবার্ডের ফ্রন্ট সাইডে সম্পূর্ণ টা আয়না লাগানো।
সেই বিরাট আয়নায় আদ্রিস এবং আদ্রিতাকে দেখা যায়।
আদ্রিতা দেখে কতটা যত্নে আদ্রিস তার চুল মুছিয়ে দিচ্ছে।
মোছা শোষ হলে আলতো হাতে চুল গুলো আঁচড়ে দেয় আদ্রিস।
এরপর হেয়ার ড্রায়ার দিকে চুল গুলো শুকিয়ে দেয়।
সমস্ত কাজ শেষ হতে আদ্রিস, আদ্রিতার গালে চুমু খায়।
“ইউ আর রেডি ওয়াইফি।”
আদ্রিতা খিলখিল করে হাসে। আদ্রিস এক সেকেন্ডের জন্য আদ্রিতার ওই খিলখিল হাসিতে হারিয়ে যায়।
আদ্রিসের জন্য সময় থেমে গিয়েছে। চারিদিকে সব শব্দ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র আদ্রিতার হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
আদ্রিস, আদ্রিতার গাল চেপে ধরে ঠোঁটে চুমু খায়। এটা আদ্রিসের সিগনেচার স্টাইল চুমু খাওয়া।
“ডিনার করাবি তুই আমাকে? “
“চলুন। কোলে তুলুন।”
আদ্রিস মৃদু হেসে আদ্রিতাকে কোলে তুলে নেয়।
আদ্রিতাকে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে চলে আসে।
আদ্রিতাকে টেবিলের উপরে বসিয়ে নিজের প্লেটে খাবার বাড়ে।
আদ্রিতা মৃদু হাসে।
প্লেট হাতে নিয়ে খাবার তুলে দেয় আদ্রিসের মুখে। আদ্রিস, আদ্রিতার সামনে চেয়ারে বসে।
এভাবে হয়ত কেউ খায়না। আদ্রিসের স্টাইলও ও মত Rare।
ওদিকে শিড়ির উপর থেকে এ দৃশ্য দেখছেন মিসেস মিহু।
মনটা জুড়িয়ে যায় এটা দেখলে।
আদ্রিতার তার মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও আদ্রিতার কিছুই ছিলোনা। আদ্রিস না থাকলে ওর কি হতো ভেবে পায়না মিসেস মিহু।
“মম লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়ের রোমান্স দেখা উচিত নয়৷”
হটাৎ পেছন থেকে সায়েরের কথা শুনে কেঁপে উঠলেন মিসেস মিহু। পিছে ফিরে সায়েরের হাতে দিলেন মার।
“বেয়াদব ছেলে একটু হলেইত ভয় পেয়ে গেছিলাম।”
সায়ের হেসে ফেলে শব্দ করে।
“তুমি ভয় পাও মিসেস আলভি?”
মিসেস মিহু আড় চোখে তাকায়।
তখনি কিছু শব্দ শুনে আদ্রিস উপরের দিকে তাকায়।
দু’জন দ্রুত লুকায়।
আদ্রিস বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রয় কোন হাল চাল আছে কিনা সেটা অনুভব করতে। কিন্তু কিছু না দেখতে পেয়ে আদ্রিস ফের খাওয়াতে মনোযোগ দেয়।
মিসেস মিহু হাফ ছাড়লেন,
“বেয়াদব তোর জন্য ধরা পড়ে যাচ্ছিলাম।”
সায়ের হাসে,
“লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়ের রোমান্স দেখবা তা কি হবে।”
“বেয়াদব ছেলে যা ঘুমাতে যা।”
কথাটা বলে মিসেস মিহু নিজের রুমে চলে গেলেন।
সায়েরও দাঁড়ায় না চলে যায় নিজের রুমে।
রাজকীয় এক ভিলা আছো মস্কোতে।
যেটা না আদ্রিসের না সায়েরের। এটা সম্পূর্ণ তাদের অপছন্দের কারোর ভিলা।
কথায় আছে শত্রু পক্ষকে ঠিক ততটা শক্তিশালী হতে হয় যতটা অপর পক্ষ শক্তিশালী।
টোটো এবং আদ্রিসের ক্ষেত্রেও তাই।
আদ্রিসের রাশিয়া পদার্পণ করার আগে টোটোই ছিলো আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিং।
মাফিয়া কিং।
কিন্তু আদ্রিসের আইকনিক স্টাইলের স্মার্গলিনের সাথে কেউ পারবে না।
টোটো নিজে এতবার চাইলো আদ্রিসকে ধরিয়ে দিতে কিন্তু পারেনি।
টোটো ভেবে পারেনা বাংলাদেশ থেকে কেউ এসে কিভাবে পজিশন নিয়ে নেয়৷
নিজের ভিলার লিভিং রুমে বসে আছে টোটো।
টোটো র অদ্ভুত শখ আছে। তা হলো দুবাইয়ে শেখ দের মত বাঘ পোশা।
তার দু’টো বাঘ আছে। একটা চিতা বাঘ এবং একটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
চিতা বাঘটা ফিমেল এবং বেঙ্গল টা মেল।
দু’টোকে বিড্রিং করে যে তৈরি হয়েছে তাট নাম দেওয়া হয়েছে মিনি টোটো।
যে কিনা টোটোর খুব প্রিয় একটা বাঘ।
টোটো সব সময় মিনি টোটোকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
লিভিং রুমে বসে টোটো ওয়াইন পান করছিলো। পাশেই মিনি টোটো বসে।
এমন সময় মার্বেল ফ্লোরে হিল জুতার শব্দ শুনে চোখ তুলে তাকায় সে ।
খুবই স্টাইল মেরে হেটে আসছে লাড়া।
লাড়া মেয়েটা মডেল থেকেছে তাই ক্যাট ওয়াক সে ভালোই জানে।
লাড়া হেঁটে এসে টোটোর সামনে বসে।
টোটো তখনো তাকিয়ে লাড়ার দিকে।
মিনি টোটো গরজে ওঠে। এতে লাড়া ভয় পেলোনা। উল্টো টোটোর থেকে ওয়াইনের গ্লাসটা নিয়ে নিজের চুমুক বসালো।
টোটো তখনো বুঝতে চাইছে লাড়ার মতিগতি।
এক সিপ ওয়াইন নিয়ে লাড়া গ্লাসটা কাঁচের টেবিলে রাখলো।
বাহির থেকে শীতল হাওয়া দিচ্ছে।
পাশেই বাগানের গ্লাস ডোর টা খোলা। সেখান দিয়েই বাতাস ভেতরে প্রবেশ করছে। আপাততঃ দু’জনই চুপ। বেশ কিছুক্ষণ নীরবতা ভেঙে টোটো বলে উঠলো,
“মিসেস এক্স সুবহান।
জিজ্ঞেস করতে পারি হটাৎ এখানে কেন? টেকনিক্যালি আপনার এক্স হাসবেন্ডের ভাইয়ের শত্রু আমি।”
লাড়া বাঁকা হাসে,
“ইয়াহ ইউ আর রাইট। তবে শুধু তার ভাইয়ের নয় তারও শত্রু আপনি।
শত্রুর শত্রু হয় চরম বন্ধু। কথাটা শুনেছি আমি।”
টোটো জিহ্বা দিয়ে ইনার চিক পোক করে,
“হোয়াট ডিড ইউ ওয়ান্ট মিস লাড়া?”
লাড়া পায়ের উপর পা তুলে বসে একটা সিগারেট জ্বালে। আরেকটা টোটোকে দেয়।
টোটো সিগারেট টা নিয়ে নেয়।
লাড়া এগিয়ে গিয়ে ঝুঁকে টোটর সিগারেট টা জ্বালিয়ে দিয়ে নিজের জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে।
টোটো ইন্টন্সলি তাকিয়ে আছে লাড়ার দিকে।
লাড়া নিজের সিটে বসে বলে,
“সায়ের থেকে রিভেঞ্জ চাই।’
টোটো হেঁসে ফেলে কথাটা শুনে।
” মিস লাড়া, আপনি ভুলে যাচ্ছেন আমার শত্রুতা আদ্রিসের সাথে। সায়েরের সাথে নয়৷ আমি কেন আপনাকে সাহায্য করব এ ক্ষেত্রে? “
লাড়া বাঁকা হাসে,
“আমি জানি কিন্তু আপনাকে যদি একটা কারণ দেই তবে?”
“আর সেটা কি জানতে পারি?”
লাড়া নিজের ফোন বের করে আদ্রিতার ছবি টোটোর সামনে রাখে।
টোটো এক সেকেন্ডের জন্য আদ্রিতার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে তাকিয়ে থাকে আদ্রিতার দিকে। লাড়া বুঝতে পারে প্লান কাজ করেছে।
টোটোকে বেশিক্ষণ দেখতে না লাড়া ফোনটা নিয়ে নেয়।
টোটো সে দিকে তাকায় যেন তার সামনে থেকে স্বীকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
“আরে আরে মিস্টার টোটো এত জলদি কিসের? আগেত সম্পূর্ণ কথাটা শুনুন।
এটা হলো সায়েরের ছোট বোন সানা সুবহান আলভি। আর আদ্রিসের প্রিয়তম স্ত্রী। মিসেস আদ্রিস খান।”
“হোয়াট, সায়েরের বোন আছে?”
“হ্যাঁ।
হারিয়ে গেছিলো ফিরে পেয়েছে এখন৷”
“এসব আমাকে কেন বলছো?”
“আচ্ছা মিস্টার টোটো শত্রুকে পরাজিত করে তার স্ত্রী কে নিজের বিছনায় টেনে আনাটা সব থেকে বড় জিত তাই না? “
টোটো নিজের জিহ্বা লিক করে।
“মেয়েটা সত্যি এতই সুন্দর? “
“এর থেকেও বেশি সুন্দর। আপনার কল্পনার থেকেও সুন্দর।”
টোটো নিজের মাথায় হাত দিয়ে সোজা হয়ে বসে।
“আআহ, কেন দেখলেন মিস লাড়া এটাকে আমাকে। এখনত আমার ভেতরে কিছু হচ্ছে।”
লাড়া বাঁকা হাসে। টোটোর কোলে এসে বসে নিজের জামার হাতাটা নামিয়ে বলে,
“মিস্টার টোটো যত দিন আদ্রিতাকে না পান ততদিন আমি আপনাকে স্যাটিসফাই করতে পারি৷”
টোটো, লাড়ার দিকে তাকায়। একটা শুঁকনো ঢোক গিলে,
“আর ইউ সিওর?”
“ইয়াপ, আমি জাস্ট ওদের বরবাদি দেখতে চাই। “
টোটো ফট করেই, লাড়াকে ফ্লিপ করে নিজের নিচে ফেলে।
“বেইবি, সব প্লান পরে হবে। আগেত আমার আগুন নেভানো প্রয়োজন।”
কথাটা বলে টোটো লাড়ার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
লাড়া পাশে তাকিয়ে বাঁকা হাসে। তার প্লান কাজ করেছে।
নিজের রুমে ঘুমিয়ে আছে মিরা।
হটাৎ ঘুমের মাঝেই বিছনায় কোন হালচাল অনুভব করে সে। তবে এতে মিরার ঘুমের কোন হেরফের হয়না৷
তবে এর পরবর্তী ঘটনা ছিলো তার থেকেও ভয়ানক।
মিরার পেটে ঠান্ডা হাতের স্পর্শ। মিরা কেপে ওঠে।
সে ফিরে তাকায় ঘুমঘুম চোখে।
সায়ের মিরার ঘাড়ে চুমু খায়।
মিরা নিজের হাত সায়েরের বুকে ঠেকায়।
কিছু বলতে যাবে সে সুযোগ দেয়না সায়ের।
তার আগেই মিরার ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে।
মিরা কিছু বলার সুযোগ পায়না।
কিছুক্ষণ পর সায়ের সরে আসে।
“আপনি কিভাবে এলেন? আমিত দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলাম৷’
” মিরা পৃথিবীর কোন দরজা তোমার কাছে আমাকে পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না৷”
মিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
সায়ের মিরার কপালে চুমু খায়।
“ভালোবাসি।”
“আমিও।”
দু’জন দু’জনের কপাল ঠেকায় দুজনের সাথে।
চলবে?
[ জানি ছোট হয়েছে। তবে দেরি হয়ে যাচ্ছিলো। আরও লিখতে গেলে সময় লাগত। সবাই রেসপন্স করিও। কাল থেকে রেগুলার হব]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৯
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৭