জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৪৭
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
সবাই লিভিং রুমে বসে ছিলো।
আদ্রিতার চোখে তখনো ঘুম৷
সে মিরার কাঁধে মাথা রেখে ফোন টিপছে।
মূলত সে আদ্রিসের ফোনে গেম খেলছে।
এমন সময় হুড়মুড় করে ভেতরে প্রবেশ করে লাড়া।
পরনে আধুনিক পোশাক।
লম্বা মেয়েটাকে আধুনিক রাশিয়ান স্টাইলে সাজালে তাকে দেখতে একদম এলিগ্যান্ট আর স্মার্ট লাগে।
সে পরে আছে হালকা রঙের একটি ফিটেড কোট,
ধরো বেইজ বা সাদা, ভেতরে সফট টার্টলনেক টপ। নিচে স্লিম ফিট প্যান্ট বা হাঁটু ছোঁয়া স্কার্ট, যা তার লম্বা গড়নটাকে আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। পায়ে হাই হিল বুট, যা হাঁটার সময় একটা আত্মবিশ্বাসী ভাব এনে দেয়।
চুলগুলো হালকা ঢেউ খেলানো, খোলা রাখা,ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে একটু উড়ছে। ঠোঁটে হালকা লাল বা নিউড লিপস্টিক, আর চোখে সিম্পল কিন্তু শার্প মেকআপ।
তার পুরো লুকটাই এমন, চুপচাপ কিন্তু খুব স্টাইলিশ। হাঁটার ভঙ্গিতে বোঝা যায়, সে আত্মবিশ্বাসী, নিজের মতো চলতে অভ্যস্ত এক আধুনিক মেয়ে।
আদ্রিতা এবং মিরা হুট করে হওয়া শব্দে নিজেদের সামনে তাকায়।
আদ্রিস লাড়াকে দেখে চোখ ঘোরায়।
সায়েরের মুখে কোন এক্সপ্রেশন নাই।
মিসেস মিহু তখন সেখানে উপস্থিত নেই।
লাড়া ভেতরে এসে সোজা সায়েরের উপর হামলা করে।
“সায়ের হোয়াট ইজ দিস? তুমি বলেছিলে তুমি আমার সাথে দেখা করবে। তুমি রাশিয়া ফিরে আমাকে কল করো নি কেন?”
মিরা হতভম্ব। সে সোজা হয়ে বসে।
আদ্রিতাও ফোনটা রেখে দিলো। সেও অবাক।
আদ্রিস একবার, সায়েরের দিকে চায়। সায়েরের এক্সপ্রেশন তাকে সবই বলে দিচ্ছে। তাই সে কথা বললো না।
প্রিয়া, রেভেনের কনুইতে গুতা দেয়,
“কি হচ্ছে এখানে?এই মেয়েটা কে?”
রেভেন ফিসফিসিয়ে বলে,
“এটা সায়ের ভাইয়ের বউ৷”
প্রিয়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
“আরে রিলাক্স, এক্স ওয়াইফ৷”
“ও এটাই লাড়া?”
“হ্যাঁ।”
“সুন্দরী আছে তাই না? “
“রাশিয়ান মেয়েরা সুন্দরী হয়৷”
প্রিয়া আড় চোখে তাকায়। রেভেন বুঝতে পারে সে ভুল বলে ফেলেছে,
“ইয়ে মানে তোমার থেকে না রিলাক্স।”
লাড়া, সায়েরকে চুপ থেকে বিরক্ত হয়ে বলে,
“সায়ের আমি তোমাকে কিছু বলছি। তোমার অফিসে গিয়ে জানলাম তুমি বাংলাদেশ গেছো। এরপর নিউজে রিউমারস, তুমি কি বিয়ে করছো?”
সায়ের উঠে দাঁড়ায় বসা থেকে।
“হ্যাঁ করছি৷”
“হোয়াট?”
“হ্যাঁ। বিয়ে করছি। তোমাকে ইনভিজিলেশন কার্ড পাঠাতামই।”
লাড়ার মাথা খারাপ হয়ে যায়। সে পাশ ফিরে দেখে দু’টো মেয়ে বসে।
ওদের মাঝেই কেউ হবে হয়ত৷
লাড়া মিরাকে দেখেনি। দেখা পসিবলও না।
লাড়া গিয়ে হুট করেই আদ্রিতার কনুই চেপে ধরে ওকে বসা থেকে উঠিয়ে দাঁড় করায়।
আদ্রিতা ঘটনা চক্রে কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাড়া ওকে ঝাঁকুনি দিয়ে দাঁত কিটমিট করে বলতে শুরু করে,
“বেয়াদব মেয়ে তুই জানিস না ও বিবাহিত।”
লাড়া আর কিছু বলবে তার আগেই ঝড়ের বেগে আদ্রিস এসে লাড়াকে টান মারে আর অন্য দিকে সায়ের আদ্রিতাকে।
ঘটনাচক্রে আদ্রিতা সায়েরের বুকের উপর গিয়ে পড়ে।
আদ্রিস লাড়ারে ঘুরিয়ে একটা থাপ্পড় মেরে দেয়।
থাপ্পরের শব্দ চারিদিকে প্রতিধ্বনি হয়ে বেজে ওঠে।
প্রিয়া, রেভেন বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়।
আর মিরা তখনো বাকরুদ্ধ।
“ডু ইউ নো হু সি ইজ? মাই ফাকিং ওয়াইফ।
মিসেস আদ্রিস খান।
হাউ ডেয়ার ইউ টু টাচ হার৷ ইউ বিচ।”
লাড়া রাগান্বিত দৃষ্টিতে, আদ্রিসের দিকে তাকিয়ে রয়৷
সায়ের এগিয়ে যায়৷
“লাড়া তুমি কি টাকা পাও নি? টাকা পেলে কেন এসব করছো এখানে এসে তোমার সমস্যা কি?”
লাড়া ফিরে চায়৷
“আমি তোমাকে চাই সায়ের। আমি আমাদের মধ্যে সব ঠিক করতে চাই। একটা সুযোগ দাও আমাকে।”
লাড়া এগিয়ে যায় সায়েরের দিকে।
লাড়া সায়েরের বুকের হাত রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“ট্রাস্ট মি সায়ের আই উইল বি এ গুড ওয়াইফ। জাস্ট একটা লাস্ট সুযোগ দাও।”
সায়েরের কিছু বলার আগেই কেউ পেছন থেকে লাড়াকে, সায়ের থেকে আলাদা করে।
লাড়া ফিরে চায় মিসেস মিহু দাঁড়িয়ে তার পেছনে
“তোমার সাথে সায়েরে বিয়েটা আমি মেনে নিতাম না। সায়ের বলেছিলো লাড়াকে সুযোগ দেওয়া যায় না মম। তাই দিয়েছিলাম।
তোমার মত থার্ড ক্লাস মেয়ে যে কিনা আমার ছেলের স্ত্রী থাকা স্বত্তেও আরও ২০ টা রিলেশন করে তার সাথে বারে গিয়ে ড্যান্স করে সে কখনো সুবহান পরিবারের বউ হতে পারেনা৷
আজ তুমি আমার একমাত্র মেয়ে সানার গায়ে হাত দিয়েছো। ভাগ্য ভালো তোমার আদ্রিস থাপ্পড় মেরেছে নাহলে আমি কি করতাম তা আমি নিজেও জানিনা।
আমি রাদিয়া সুলতানা মিহু। দ্যা চেয়ারম্যান অফ সুবহান গ্রুপস। তোমাকে লাস্ট টাইম ওয়ার্নিং করছি আমার ছেলে মেয়ে, বউ, জামাই পরিবার থেকে দুরে না থাকলে তোমাকে নিজের হাতে খুন করব।
তুমি ভালো করেই জানো আমি মিহু তোমায় খুন করলে তোমার লাসটা পর্যন্ত পাওয়া যাবে না৷”
মিসেস মিহুর ভয়ানক কথা গুলো শুনে মিরা, প্রিয়া, আদ্রিতা অবাক।
লাড়া, মিসেস মিহুর কথা শুনে সেখানে আর দাঁড়ায় না। তবে লাড়া এত সহজে সব কিছু ছেড়ে দেবে না এটা সায়ের জানে।
লাড়া চলে গেলে সব কিছু নীরব হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ যাবত কেউ কোন কথা বলেনি।
হুট করে মিসেস মিহু বললেন,
“সায়ের, আমাদের সিনেমাহল সেটাপ হয়ে গিয়েছে। তুই যা সবাইকে নিয়ে কিছু মুভি দেখ গিয়ে।”
“ওকে মম৷”
সায়ের সবাইকে নিয়ে ওদের মেনশনের যে প্রাইভেট সিনেমা হল সেটাপ আছে ওদিকে যায়৷
তবে মিরা তখনো দাঁড়িয়ে।
মিসেস মিহু, মিরার দিকে এগিয়ে গেলেন। মিরার হাতে হাত রাখলেন,
“রিলাক্স মিরা, আর কেউ না থাকুক আমি আছি। সায়ের কে কিভাবে টাইট করবে সেটা তুমিই ভালো জানো। কেন ও রিয়াক্ট করলো না। বাট একটা কথা মাথা রেখো তুমি যত দিন পর্যন্ত আমার ছেলের সাথে লয়াল থাকবে তোমার পাশে ছায়ার মত আমি দাঁড়িয়ে থাকব। আর তোমার ভুল সিদ্ধান্ত তোমাকে লাড়ার স্থানেও দাঁড় করাতে পারে। সো বি কেয়ারফুল ডার্লিং৷”
মিরার চুল ঠিক করতে করতে কথা গুলো বলা শেষ করলো মিসেস মিহু।
এরপর, মিসেস মিহু স্থান ত্যাগ করলেন।
মিরা বুঝল মিসেস মিহুর কথা গুলো। এটাও বুঝলো তার হবু শ্বাশুড়ি সাধারণ কোন মহিলা নয়।
খুবই ভয়ানক। কিভাবে বলল আমি তোমাকে মারলে তোমার লাসটাও খুঁজে পাবেনা কেউ।
মিরা মাথা ঝাড়া দিলো।
“না না আর ভাববো না। ভাবতে পারছি না কিছু।”
মিরা এগিয়ে যায় ওদের পিছু পিছু।
কেউ কতটা সৌখিন হলে নিজেদের বাড়িতে প্রাইভেট সিনেমা হল সেটাপ থাকে।
মিরা দেখছে যত তত অবাক হচ্ছে।
নেটফ্লিক্স চালায় আদ্রিস।
ওরা কিছু মুভি দেখে।
এরপর ডিনার সেরে যার রুমে চলে যায়৷
রুমে এসে মিরা ফ্রেশ হয়ে নেয়।
ওয়াসরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হতে দেখে তার রুমের লাইট বন্ধ।
মিরা অবাক হয়।
সে ভাবে হয়ত বিদ্যুৎ নেই। কিন্তু রাশিয়াতে লোডশেডিং বিষয়টা হজম হচ্ছে না তার৷
মিরা হাত হাতড়ে সামনের দিকে এগাতে গিয়ে কারোর সাথে ধাক্কা খায়৷
মিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বলিষ্ঠ দেহের পুরুষ তাকে জড়িয়ে ধরে ওর ওষ্ঠদ্বয় আকড়ে ধরে।
মিরা নিজেকে ছাড়াতে হাত পা ছোটাছুটি শুরু করে। কারন সে সায়েরের সাথে রেগে আছে।
সায়ের সেটা বুঝে। তবে মিরাকে ছাড়েনা৷
মিরাকে কোন ভাবে বিছনায় ফেলে।
বিছনায় পড়তে মিরা চারদিক দিয়ে সায়েরের কাছে বন্দি হয়ে যায়।
সায়ের মিরার কোমড় জড়িয়ে ধরে মিরার ওষ্ঠদ্বয় শুষে নিতে শুরু করে।
মিরা নিজেকে না ছাড়াতে পেরে শেষমেশ সপে দেয় সায়েরের কাছে।
কিছুক্ষণ পর মিরা ব্রিথ আউট হয়ে গেলে সায়ের ছেড়ে দেয় মিরাকে।
মিরা ঘনঘন নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে।
সায়ের একটু উঠে মিরার থকে।
“সরুন হাতি একটা। চেপে মেরেই ফেলুন আমাকে।’
সায়ের বেডসাইড লাইট অন করে উঠে বসে।
মিরাও উঠে বসে।
” আপনি বেরিয়ে জান। আমার রাগ কমেনি৷’
“তাহলেত আমাকে আবারো শুরু হতে হবে।”
“এহ স সরুন আপনি বেয়াদব লোক।”
“বেয়াদব বলিও না আমি শুরু হলে কাঁদতে হবে ছাড়ব না।”
মিরা পিছিয়ে যায়৷
সায়ের হাসে।
এরপর যেটা করে এটার জন্য মিরা প্রস্তুত ছিলোনা৷
সায়ের নিচু হয়ে মিরার পায়ে চুমু খায়৷
মিরা কেঁপে উঠে।
“রিলাক্স মিরা আমি চেয়েছিলাম তোমাকে একটু জ্বালাতে। বাট লাড়া এসব করবে ভাবিনি। “
“আমি জানিনা আপনার মাথায় কি চলছে শুধু একটা কথাই জানি মিস্টার সায়ের সুভহান আলভি আমি সব ছেড়েছি আপনার জন্য।”
সায়ের চুপ হয়ে যায়৷ সে কি বলবে এটা নিজেও বুঝতে পারছে না।
সে মিরাকে জড়িয়ে ধরে,
“আই লাভ ইউ মিরা। কথা দিচ্ছি তোমায় নিরাস করব না৷”
আদ্রিতা বেশ দ্রুতই ঘুমিয়ে গিয়েছে।
আদ্রিস ঘুমন্ত আদ্রিতাকে ভালো করে কম্বল টেনে দেয়৷
আদ্রিতার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ।
এরপর আদ্রিতার কপালে চুমু খায়।
“দ্রুত বাড় হ আদ্রিতা। আমার কিছু বাচ্চা লাগবে।”
আদ্রিস কথাটা বলে বাঁকা হাসে,
“অনেক গুলো বাচ্চা লাগবে জান।”
চলবে?
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৮
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৭
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৬