জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৪৬
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
সায়েরের মেনশন আজ পরিপূর্ণ।
আদ্রিতা নামক আলো এসেছে বাড়িতে।
বাড়িটা আজ পরিপূর্ণ।
লিভিং রুমের টিভিটা অন করা ছিলো।
সেখানে নিউজ পড়ছে। ইংরেজি টেলিকাস্ট হচ্ছে।
মিরা লক্ষ করলো সেখানে সায়ের এবং আদ্রিসের এয়ারপোর্টের কিছু ফুটেজ দেখাচ্ছে।
তবে আজকের না আগের।
বলা হচ্ছে রাশিয়াতে ফিরেছে ফেমাস বিজনেসম্যান সায়ের সুভহান আলভি এবং আদ্রিস খান।
রিপোর্টারা আদ্রিস এবং সায়েরের ড্রেস নিয়েও চর্চা করছে।
মিরা বেশ অবাক হলো।
এরাত এদের আন্ডারওয়্যার নিয়ে পারলেও বিশ্লেষণ করে।
মিরাকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিসেস মিহু এগিয়ে গেলেন,
“অবাক হচ্ছো?’
মিসেস মিহুর কন্ঠ শুনে মিরা মৃদু কেঁপে উঠলো,
” জ জি৷”
“অবাক হচ্ছো?”
” জি না, মানে!”
“বাংলাদেশি সিটিজেন হয়ে রাশিয়ার ভেতর বিলিয়নার হওয়াটাত ৪ টা খানি কথা নয়। আমার দু’টো ছেলেই পার্ফেক্ট তাই না?”
মিরা মিষ্টি হাসে,
“জি, আদ্রিসত ছোট থেকেই ক্লেভার। আমি খুশি ওর জন্য।”
মিসেস মিহু মিরাকে সাইড হাগ করলেন,
“তুমিও একজন প্রতিষ্ঠিত হবে। তোমার চেহারা দেখলে বোঝা যায়৷”
মিরা অবাক হলো খানিকটা৷
মিসেস মিহু তা দেখে হাসলেন,
“অবাক হইও না। আমি যা বলেছি একদিন হবে সেটা ইনশাআল্লাহ।”
“ইনশাআল্লাহ।”
আদ্রিসের আলাদা বেডরুম ছিলো সায়েরের মেনশনে।
তবে মিসেস মিহু আদ্রিতার জন্য সেপারেট বেডরুম বানিয়েছেন৷
তবে আদ্রিস তার বউকে নিজের রুমেই নিয়ে গেছে।
আদ্রিতা রুমে গিয়ে বিছনায় শুয়ে পড়ে।
আদ্রিস পরনের সার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বলে,
“সাওয়ার নিয়ে আয়।”
আদ্রিতা আদ খোলা চোখে বলে,
“পারছি না পরে৷”
আদ্রিস সার্ট খুলে আদ্রিতার দিকে তাকায়।
মেয়েটা ক্লান্ত। লোকাল প্লেনে আসলে কি করত সেটাই ভেবে পায়না সে।
আদ্রিস হাতের ঘড়ি ড্রেসিং টেবিলের সামনে রেখে আদ্রিতাকে বিছনা থেকে পাজকোলে তুলে নেয়।
আদ্রিতা হকচকিয়ে ওঠে,
“ক কি হলো?”
“সাওয়ার ফাস্ট৷”
“কেন.?????? এমন কেন?’
” ক্লিন হতে হবে তাই৷’
কথাটা বলে আদ্রিস ওয়াসরুমে চলে আসে।
আদ্রিতা মাঘা নুইয়ে নেয়।
“আপনি বিরক্তিকর।”
“কিছু করার নেই জান। এই বিরক্তিকর কেই তোকে সহ্য করতে হবে।”
আদ্রিস আদ্রিতাকে সাওয়ার টাবে বসিয়ে দেয়৷
আদ্রিতার ঘুম গেছে উড়ে।
আদ্রিতার শরীরে পানি পড়তে ওর কেঁপে ওঠে।
আদ্রিস সেদিকে তাকিয়ে রয়।
ভেজা শরীরে আদ্রিতাকে এতটা আকর্ষণীয় লাগছে।
আদ্রিতার ড্রেস টা ভিজে গিয়ে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। শরীরের প্রতিটা ভাজ দৃশ্যমান।
এটা অন্য রকম সৌন্দর্য।
আদ্রিস নিজের নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে।
আদ্রিতার অবশ্য সে দিকে খেয়াল নেই।
সে নিজের মত সাওয়ার নিচ্ছিলো।
হটাৎ কাঁধে আদ্রিসের থুতনি টের পায় আদ্রিতা।
সে সোজা তাকায় দেয়ালে লেগে থাকা আয়নাতে দুজনের প্রতিফলন স্পষ্ট।
আদ্রিতার হাত থেকে সাওয়ার জেল পড়ে যায় পানিতে৷
আদ্রিস বাঁকা হাসে।
আদ্রিতার গালে চুমু খেয়ে বলে,
“কিছুই করব না ভয় পাস না।”
আদ্রিস উঠে যায় পানি থেকে।
আদ্রিতা তাকিয়ে রয়।
এরপর নিজে সাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে।
লাঞ্চ টাইম হয়ে গিয়েছে।
রাশিয়াতে পা রাখার পর থেকে প্রিয়ার মনটা ফুরফুরা৷
সে মায়ের সাথে কথা বলেছে।
আদ্রিসও মায়ের সাথে কথা বলেছে।
মিসেস মিহুও, মাধবী বেগমের সাথে কথা বলেছে।
রেভেন তার ভিলায় যাবে বলেছিলো কিন্তু আজ মিসেস মিহু রেভেন কেও যেতে দেয়নি।
লাঞ্চ টেবিলে এলাহী আয়োজন।
মিসেস মিহু নিজের হাতে বানিয়েছে সব।
সায়ের বসে আছে টেবিলে।
রেভেন সায়েরের পাশে বসে ফোন টিপছে।
এমন সময় আদ্রিস নামে নিচে।
সায়ের, আদ্রিসের দিকে মাথা তুলে চায়,
“কিরে তুই ক্লান্ত হস নি?”
সায়েরের প্রশ্ন শুনে রেভেন ফোন থেকে সরে সায়েরের দিকে তাকায় অবাক হয়ে।
আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“কেন?”
“না মানে সে* করার পর ক্লান্ত হওয়া উচিত। তুই এত শক্তিশালী নাকি?”
আদ্রিস রেগে যায়। সেই সাথে রেভেনও হেসে ফেলে।
আদ্রিস রাগান্বিত কন্ঠে জাবাব দেয়,
“দিনে ১০০ বারও করতে পারি কোন সমস্যা হবে না। তুমি তোমার মেসিনে নজর দাও।”
“ওই বেয়াদব আমি তোর বড়।”
“হ্যাঁ ত? ১০০ টা বাচ্চা জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা আছে আমার৷”
রেভেন দু’জনের মাঝে বসে ফেসে গিয়েছে। একবার এদিকে তাকায় একবার ওদিকে।
“১০০ টা বাচ্চা আমিও জন্ম দিতে পারি দেখবি?”
“ভুলে যেও না ভাই আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে বাচ্চা টা আগে আমিই জন্ম দিতে পারবো সমস্যা হবেনা৷”
“কালকে আমিও বিয়ে করতেছি ওয়েট কর৷”
আদ্রিস চোখ ঘোরায়।
“ওই সালা চোখ ঘোরাস না। বাসর রাতে আমার রুমে কান পাতিস মিরার চিৎকার তোরে শুনাব যাহ।”
“এই মিরা আমার বড় বোন। সামলিয়ে কথা বলো ভাই।”
“হ ত বললি কেন?’
” তুমি কেন বললে আমার মেসিনে সমস্যা? “
রেভেন দু’জনের ঝগড়ার মাঝে পড়েছে।
এমন সময় উপর থেকে মিরা, প্রিয়া এবং আদ্রিতা নেমে আসে।
সবাই চুপ হয়ে যায়।
তবে আদ্রিস এবং সায়েরের চোখে চোখে চ্যালেঞ্জ দেওয়া দেওই হচ্ছে।
লাঞ্চে এত মজার মজার খাবার ছিলো যে সবাই একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছে।
দুপুরে খাওয়ার পর সবার প্রয়োজন ভাত ঘুম।
যে যার রুমে চলে যায় ঘুমোতে।
মিসেস মিহুও রুমে চলে গিয়েছেন।
আদ্রিতা বিছনায় শুয়েই ঘুমিয়ে গিয়েছে।
আদ্রিস, আদ্রিতার পাশে বসে নিজের ল্যাপটপে কিছু কাজ দেখছিলো।
অনেক গুলো দিন সে দেশের বাহিরে। সেই সাথে রেভেন কেও নিয়ে গিয়েছে।
তার এসিস্ট্যান্ট রাও সবাই বিরক্ত।
আদ্রিস এই মুহুর্তে কিছু কাজ সেরে ফেলতে চায়।
আদ্রিস কাজ করছিলোই এমন সময় রেভেন কল করে আদ্রিসকে।
আদ্রিস কল তুলে নেয়৷
“হ্যাঁ বল।”
“বস, টোটো আছে না?”
“হ্যাঁ।”
“টোটো কিছুত প্লান করতেছে।
টোটো আদ্রিতার সম্পূর্কে সকল ইনফর্ম কালেক্ট করতে চাইছে৷”
“ওকে ঈদ মোবারক দিয়ে গেছিলামত নাকি?”
“হ্যাঁ।”
“চিন্তা করিস না। কাল অফিসে গিয়ে এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় করব৷ এখন আদ্রিতা ঘুমিয়ে ওকে ডিসটার্ব করতে চাইছি না৷”
“ওকে বস৷”
“ওকে তুইও রেস্ট নে।”
“ওকে।”
রেভেন কল কেটে দেয়।
আদ্রিস ফোন রেখে আদ্রিতার দিকে তাকায়।
আদ্রিতার দিকে ঝুকে আদ্রিতার গালে চুমু খায় আদ্রিস।
“আই লাভ ইউ আদ্রিতা৷’
কথাটা বলে নিজেই থেমে গেলো আদ্রিস।
অদ্ভুত হলেও সত্যি এটাই আদ্রিস এই প্রথম আদ্রিতাকে “আই লাভ ইউ” বলল।
আদ্রিস ল্যাপটপ বন্ধ করে আদ্রিতার পাশে শুয়ে পড়ে।
আদ্রিতার পেট বরাবর হাত রেখে আদ্রিতাকে টেনে নেয়।
আদ্রিতার পিঠ, আদ্রিসের বুকের সাথে মিশে।
আদ্রিসের হাত তখন আদ্রিতার বুক পর্যন্ত উঠে যায়।
আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে রাখে নীরবে।
আদ্রিতার চুলের ঘ্রাণ নিতে নিতে আদ্রিস চোখ বন্ধ করে নেয়।
রাশিয়ার বুকে নেমে এসেছে শান্ত সন্ধ্যা।
দিনের কোলাহল ধীরে ধীরে থেমে গিয়ে চারপাশে এক ধরনের নীরবতা ছড়িয়ে পড়েছে। আকাশটা হালকা বেগুনি আর কমলা রঙে মিশে আছে, যেন কেউ আলতো করে রঙ তুলিতে আঁচড় কেটেছে।
ঠান্ডা হাওয়া ধীরে ধীরে বইছে, গায়ে লাগলেই এক অদ্ভুত শীতল অনুভূতি জাগে। দূরের গাছগুলো নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে, পাতাগুলোও যেন ক্লান্ত হয়ে থেমে আছে। কোথাও কোথাও আলো জ্বলতে শুরু করেছে,রাস্তার লাইট, বাড়ির জানালা, সব মিলিয়ে এক মায়াবী দৃশ্য।
এই সন্ধ্যায় একটা অন্যরকম শান্তি আছে, যেন ব্যস্ত দিনের শেষে প্রকৃতি নিজেই একটু বিশ্রাম নিচ্ছে।
সন্ধ্যার সময় সবার ঘুমই ভেঙে যায়।
সবাই নিচে লিভিং রুমে গোল হয়ে বসে আছে।
রেভেন ফোনে কথা বলছিলো কথা শেষ করে রেভেন সবাইকে জয়েন দেয়।
রেভেন প্রিয়ার পাশে বসে।
প্রিয়া ফিরে চায়৷
“কোন সমস্যা হয়েছে?”
“না৷”
“চিন্তিত দেখাচ্ছে আপনাকে।”
রেভেন মৃদু হাসে,
“রিলাক্স কিছুই হয়নি আমার৷”
“ওকে।”
মেনশনের বাহিরে গার্ড’স দের সাথে রীতিমতো মারামারি শুরু করেছে লাড়া।
সে ভেতরে আসবে।
গার্ড তাকে ভেতরে যেতে দিবে না।
“হোয়াট দ্যা হেল।
ডু ইউ নো হু আই এম? সায়ের কে ফোন করো এক্ষুনি।”
গার্ড লাড়ার সাথে না পেরে সায়ের কে কল করে।
সায়ের ফোন তুলে,
“হ্যালো।”
“স্যার লাড়া ম্যাম এসেছে। ভেতরে যেতে চাইছে কি করব?”
সায়ের, মিরার দিকে তাকায়।
মিরা হাসছিলো কোন একটা কথা নিয়ে।
সায়ের প্রথম না বলবে কিন্তু পরক্ষণেই তার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি আসে একটা৷
“ওকে পাঠিয়ে দাও৷”
গার্ড, সায়েরের উত্তর শুনে লাড়াকে ভেতরে পাঠিয়ে দেয়।।লাড়া বকবক করতে করতে ভেতরে চলে যায়।
চলবে?
[ টায়ার্ড আমি। ঘুরতে গেছিলাম। এসে ক্লান্ত চোখে লিখেছি। কাল কিস অফ বিট্রেল আসবে ]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৫ [ ঈদ স্পেশাল ]
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২০
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৭