জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৪৩
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
আদ্রিতার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো। আদ্রিস তা দেখে নিজেকে সংযত করে।
আদ্রিতা শক্ত করে আদ্রিসের সার্ট খামচে নিঃশ্বাস নিতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিতা সাভাবিক হয়।
আদ্রিতা, আদ্রিসের তাকায়। আদ্রিস তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
আদ্রিতার মুখশ্রী রক্তিম হয়ে উঠেছে।
আদ্রিস, ওর কপাল থেকে চুল সরিয়ে দেয়।
আদ্রিতা বিরক্ত হয়ে আদ্রিসের বুকে আঘাত করে,
“বদ লোক ছাড়ুন আমাকে। খেয়েই ফেলুন একবারে৷”
আদ্রিস নিচের ঠোঁট লিক করে।
“ইচ্ছে ত করছে দিবি খেতে?”
আদ্রিতার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
“ছাড়ুন আমাকে। বেহায়া৷”
আদ্রিস, ফের আদ্রিতার বুকে নাক ডোবায়,
“উম, বেহায়া নই রে। পাগল প্রেমিক।”
আদ্রিতা হেঁসে ফেলে। কারণ ওর সুরসুরি লাগছিলো,
“হা হা ছাড়ুন সুরসুরি লাগছে।”
আদ্রিস মাথা উঠায়৷
আদ্রিতা তা দেখে থেমে যায়।
দু’জন দু’জনের দিকে তাকিয়ে। এমন সময় আদ্রিস উঠে বসে।
আদ্রিতাকে হাত ধরে উঠায়৷
“কোথায় সুুরসুরি দেখা৷”
“ছাড়ুন কোথাও না।”
“না আমি দেখব৷”
“আহা না৷”
আদ্রিস, আদ্রিতাকে ফের বিছনায় ফেলে কাতুকুতু দেওয়া শুরু করে।
আদ্রিতা শব্দ করে হাসছে। সেই হাসির শব্দ বাহিরে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
প্রিয়া ওদিক দিয়েই হাটছিলো আদ্রিতার হাসি শুনে সে থেমে যায়।
দরজা খোলা। প্রিয়া উকি দিলো।
আদ্রিস, আদ্রিতার এত কিউট মুহুর্ত দেখে সে খুশি হলো ভেতর থেকে।
এরপর ওদের ডিসটার্ব না করেই সে চলে গেলো।
বাগানের এক কোনে বসে আছে মিরা৷ তার মাথায় অনেক প্রকার কথা চলছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে মিরা ভীষণ চিন্তিত৷
এভাবে থাকা যাবেনা এসবই ভাবছিলো সে। হটাৎ পাশ থেকে কেউ তাকে হাত বাড়িয়ে একটা ফুল দিলো।
মিরা ফিরে চায়৷ সায়ের বসে তার পাশে৷
“কি ভবছেন মিস মিরা? “
মিরা ফের আকাশের দিকে তাকায়৷
“কিছু না ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় আছি৷”
সায়ের হাতের ফুলটা মিরার কানের কাছে গুঁজে দেয়।
মিরা অবাক হয়ে তাকায়৷
সায়ের মিষ্টি হেসে মিরার চুলে হাত বুলায়।
“তুমি আদ্রিসের সাথে কত দিন থাকতে পারবে? এভাবে একটা বেকার মেয়ে হয়ে কিভাবে ছোট ভাইয়ের সাথে রাশিয়া যাবে?
আদ্রিস তোমার আপন ভাই না৷ হ্যাঁ আপনের মতই কিন্তু সারাটা জীবন ওর ঘাড়ে বসে থাকাটা কেমন লাগবে? এসবই ভাবছো তাই না? “
মিরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সায়েরের দিকে।
সায়ের, মিরার হাত ধরে শক্ত করে,
“এসব নিয়ে ভেবো না মিরা। তুমি সারাটা জীবন আদ্রিসের সাথে থাকলেও আদ্রিস কিছু বলবে না। তোমার উপর আমার বিশ্বাস আছে তুমি কিঋু একটা হবে। আর যদি তাও সমস্যা হয় তবে, আমার গার্লফ্রেন্ড হবে? রাশিয়া গিয়ে বিয়ে করব দুজন।”
কথাটা শুনে মিরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। কি বলে এই লোক। কিসের ভেতর কি বলল?
মিরাকে অবাক করে দিয়ে সায়ের মিরার সামনে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে।
মিরার হাত ধরে আবার বলে,
“প্লিজ মিরা। আই লাভ ইউ।”
মিরা এমন সিচুয়েশনে কি বলবে তা বুঝতে পারেনা। কি বলা উচিত। এটা ঠিক ফাহিম ওকে চিট করেছে। কিন্তু মিরা ফাহিমকে ভালোবাসত। কলেজ থেকে ওদের প্রেম ছিলো।
মিরাকে কানফিউস’ড দেখে সায়ের বলে,
“তুমি সময় নিতে পারো মিরা৷”
মিরা উঠে দাঁড়ায়,
“কিছু মনে করবেন না। সময় নিয়েও আমার উত্তর বদলাবে না৷ সায়ের আমি এসবের জন্য প্রস্তুত নই। আমাকে প্লিজ ভুল ভাববেন না। আমি ফাহিমকে ভালোবেসেছিলাম। আর ও ধোঁকাবাজ হলেও আমার সময় লাগবে।”
কথাটা বলে মিরা ভেতরে চলে যায়৷
সায়েরের চোখে থাকা আলো টুকু যেন নিভে গভীর অন্ধকারে পরিণত হলো।
সায়ের হাত মুঠো করে নেয়।
চোয়াল শক্ত হয়ে আসে ওর।
নিজেকে সংযত করে উঠে দাঁড়ায়।
মিরার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
“মিরা তুমি যে বাঁধা পড়েছো। সরি টু সে বাট ফেরার পথ যে বন্ধ। সময় নেও। সময় নিয়ে খাঁচায় এসো। খাঁচার দরজা তোমার জন্য খোলা ২৪ ঘন্টা৷”
রাতটা ওভাবে কেটে যায়।
পরের দিন সকালে।
ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে আছে সবাই। আদ্রিতা আর মিরা কাজ কিচেনে রান্না করছিলো। রান্না শেষ করে দু’জন বেরিয়ে আসে।
মিরাকে দেখে বোঝা যাচ্ছে মিরা সারা রাত ঘুমোয় নি। তবে সায়ের যেন পুরাই বদলে গিয়েছে রাত থেকে। সে আর যেতে কি মিরা সমানে থাকলেও কথা বলছে না৷
মিরা এমন আচরণ দেখে বেশ অবাক হচ্ছে।
কিন্তু কিছুই বলছে না৷
আদ্রিতা খাবার বেড়ে দেয় আদ্রিসকে। সায়েরের কাছে ছিলো মিরা।
মিরা খাবার দিতে নিলে সায়ের আদ্রিতাকে বলে,
“আদ্রিতা খাবার দিবে না প্রিন্সেস?”
আদ্রিতা মিষ্টি হাসে সায়েরের প্লেটে খাবার তুলে দেয়।
মিরা পিছিয়ে যায়।সে বুঝতে পারে সায়ের ইচ্ছে করেই বলেছে যাতে মিরার থেকে খাবার না নেওয়া লাগে।
মিরা সরে আসে সায়েরের পাশ থেকে।
ব্রেকফাস্ট টেবিলে সবটা সাভাবিক হয়।
তবে আদ্রিস কিছুটা বুঝতে পারে যে সায়ের এবং মিরার ভেতর কিছুত চলছে।
ব্রেকফাস্ট শেষে আদ্রিস সবাইকে তাদের পাসপোর্ট আর ভিসা ধরিয়ে দেয়।
“আমরা পর্শুদিন দেশ ছাড়ব৷”
মিরা পাসপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে।
আদ্রিস তা দেখে মিরার দিকে এগিয়ে যায়।
“মির আপু কি হয়েছে? “
মিরা মাথা তুলে তাকায়। সবাই তার দিকেই তাকিয়ে। মিরা মিষ্টি হেসে জাবাব দেয়।
“কিছু না। আমি খুব খুশি। আদ্রিস, একটু বাগানে চল৷”
আদ্রিস, মিরাকে নিয়ে বাগানে চলে যায়৷
মিরা এবং আদ্রিস বাগানে থাকা দোলনটায় বসে৷
“আদ্রিস, ভাই আমার।
দেখ, আমার মনে হয়না আমার রাশিয়া যাওয়া ঠিক হবে৷”
“কেন?”
“আদ্রিস, কিভাবে বুঝাব বল। আমার কোন কোয়ালিশন নাই রাশিয়া গিয়ে আমি কি বসে থাকব বল?”
আদ্রিস কথাটা শুনে হেঁসে ফেলে। মিরা তাকিয়ে আছে আদ্রিসের দিকে।
“কি হলো? হাসছিস কেন?”
“আপু তুমি কি পাগল? কে বলেছে তোমাকে কোয়ালিশন থাকতে হবে? আমিত আছি।”
“কিন্তু আদ্রিস৷”
আদ্রিস মিরাকে সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে না দিয়ে মিরার হাতে হাত রাখে,
“আপু, রিলাক্স, তুমি কি চিন্তায় আছো সেটা আমি বুঝি। কিন্তু তুমি কি পারবে আবার ওই পৃথিবীতে ফেরত যেতে যেখানে তোমার কোন ভ্যালু নেই?”
মিরা থমকে যায়।
আদ্রিস মিরার হাতে চুমু খায়।
“আপু আমাকে বিশ্বাস করো। আমি সব ঠিক করে দেব৷”
মিরার চোখের কোণায় পানি চিকচিক। আদ্রিস তা দেখে মিরাকে জড়িয়ে ধরে। মিরাও আদ্রিসকে জড়িয়ে ধরে,
“জারিফও হয়ত আজ আমার জন্য এতটা করত না৷”
আদ্রিস, মিরা পিঠে হাত বুলায়৷
“আপু, আমি তোমার ভাই কখনো এটা ভাববে না আমি তোমার খালাত ভাই৷”
মাধবী বেগম বসে আছেন নিজের রুমে। তার চোখ দু’টো ফাঁকা। এত বড় মেনশনটাও ফাঁকা। তার দু’টো বাচ্চা। কেউই এখানে নেই।
মা বাবার সিদ্ধান্তের সামনে ছেলে মেয়ে ঝুঁকে গেলে জীবনটা তাদের সেভাবেই কাটে।
আর যে ছেলে মেয়ে ঝুঁকে না তাদের জীবন থেকে মা বাবাই আলাদা হয়ে যায়৷
কথা গুলো ভাবতে ভাবতে মাধবী বেগমের চোখ ভরে ওঠে।
হটাৎ করেই দরজা খোলার শব্দে তার ধ্যান ফিরে।
আসরাফ খান রাগে ফুঁসছেন।
মাধবী বেগম অবাক হয়ে তাকালেন,
“কি হয়েছে?”
“তোমার বোন জামাই আমার নামে কেস করেছে। আমি নাকি তার মেয়ে মিরাকে আঁটকে রেখেছি৷”
মাধবী বেগম অবাক হলেন,
“কিহ?”
“হ্যাঁ মহিলাকে কল করো। বলো এসব ফলাতু গেম আমার সাথে না খেলতে। এমনিতেও আমার মাথায় কম চাপ না তার উপর এসব কান্ড শুনে আমার অনেক রাগ হচ্ছে।
আফজালকে সাবধান হতে বলিও।”
আসরাফ খান রেগে মেগে ওয়াসরুমে চলে গেলো।
মাধবী বেগম তাকিয়ে রইলেন।
তিনি দ্রুত বোন মহিলাকে কল করে।
দুই রিং হতে মাহিলা বেগম কল তুলে নেয়।
“হ্যাঁ আপা বল৷”
“আফজাল এসব কি করেছে? ও নাকি আসরাফের উপর কেস করেছে মিরাকে লুকিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু মিরাত আদ্রিসের সাথে আছে।”
“আসলে আপা আদ্রিসের নামে বাংলা পুলিশ কেন কেস নিচ্ছে তাই হয়ত রাগ হয়ে এই কাজটা করেছে।”
“মাহিলা তোরা কি পাগল? তোরা মিরাকে নিয়ে নিবি আদ্রিসের মেনশনে যা। তোরা কেন এসব কেস করতেছিস? এতে আমাদের সম্মান থাকবে?”
মাহিলা বেগম শক্ত কন্ঠে উত্তর দিলেন,
“আপা সব সময় চুপই থাকি। আদ্রিসের পাগলামি আর নেওয়া যাচ্ছে না। ঘাড় টানলে মাথা আসবে তাইত এই কাজ।”
কথাটা বলে মালিহা বেগম কল কেটে দেয়।
মাধবী বেগম অবাক হয়ে গেলেন৷ এটাকি তার বোন।
এসব কেন করছে সে?
তবে কি শুধুমাত্র ঐশীর সাথে আদ্রিসের বিয়ে দেওয়ার জন্যই মালিহা এত ভালো আচরণ করত তাদের সাথে। সার্থ শেষ সম্পর্কও শেষ।
মাধবী বেগম কিছু বুঝে ওঠার আগেই কলিং বেল এর শব্দ।
মাধবী বেগম বেরিয়ে দেখলেন পুলিশ দাঁড়িয়ে।
“জি কাকে চাই?”
“আসরাফ খান। আমাদের কাছে খবর আছে তিনি আপনার বোনের মেয়েকে আটকে রেখেছে।”
“কিহ?”
মাধবী বেগমকে আর কিছু বলতে না দিয়ে পুলিশ ভেতরে পৌঁছে যায়।
পুলিশ গিয়ে আসরাফ খানকে বেরিয়ে নিয়ে আসে।
মাধবী বেগম যুক্তি তর্ক করতে করতে ওরা আসরাফ খানকে নিয়ে চলে যায়।
অথচ এটা কেন হচ্ছে কেউই জানেনা৷ আসরাফ কান একজন প্রতিষ্ঠিত বিজনেসম্যান।
এসবের পেছনে আফজাল শেখ নেই আছে বড় কেউ। নাহলে তাকে এভাবে তুলে নিয়ে যেতে পারেনা৷
মাধবী বেগম ভেঙে পড়েছেন।
তিনি দ্রুত আদ্রিসকে কল করে।
কিন্তু আদ্রিস কল তুলছে না।
মাধবী বেগম তাই ঠিক করলেন তিনি আদ্রিসের মেনশনে যাবেন।
আদ্রিতা একটা লাল টুকটুকে ড্রেস পরেছে। ড্রেস টা তার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। তাই সে সবাইকে দেখাচ্ছে।
সবাই প্রশংসা করছে। সায়ের বোনের কপালে চুমু খায়।
এত দিন পর পিচ্চি বোনটাকে পেয়েছে। আদর না করলে হয়। তবে সেই সকাল থেকে একটা বারও সায়ের মিরার দিকে চোখ তুলে পর্যন্ত তাকায় নি৷
মিরা বড্ড হতাশ। সে অনেক বার চেষ্টা করেছে কথা বলতে কিন্তু পারেনি।
আদ্রিতা হটাৎ করেই কোন একটা কাজে সেখান থেকে চলে যায় উঠে।
সেই মুহুর্তে ওখানে শুধুমাত্র মিরা আর সায়ের ছিলো৷
মিরা হাতের নখ দিয়ে খেলতে খেলতে ভাবছে সে কথা বলবে কিনা৷
-,
আদ্রিতা সোজা হাটছিলো এমন সময় এক হেঁচকা টানে আদ্রিতা বাম দিকে চলে যায়। আদ্রিতা কিছু বলার আগেই আদ্রিস ওর মুখ চেপে ধরে।
আদ্রিতা, আদ্রিসকে দেখে শান্ত হয়৷
“কিরে লাল পরে পাগল বানাবি ভেবেছিস?”
আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
আদ্রিসের মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। সে ওয়ার্নিং ছাড়াই আদ্রিতার ঠোঁটের উপর হামলা চালায়। আদ্রিতা কিছু বলতে পারেনা ওর হাত দু’টো দেয়ালের সাথে চেপে ধরে আদ্রিস।
ভীষণ হিংস্র হয়ে ওঠে আদ্রিস, আদ্রিতাকে কাছে পেয়ে।
সে রাস্তা দিয়ে দুর্ভাগ্যবশত হাটছিলো রেভেন।
আদ্রিতার উমউম শব্দ শুনে রেভেন কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। রেভেন সেদিকে গিয়ে সামনের দৃশ্য দেখে ফ্রিজ হয়ে গেছে।
পেছনে কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে আদ্রিস ফিরে চায়। রেভেনকে দেখে আদ্রিতা নিজেকে ছাড়াতে চাইলে পারেনা। আদ্রিস ধরে রেখেছে ওকে।
“কিরে সিনেমা দেখছিস নাকি?”
“ই ইয়ে মানে স সরি বস। আ আমি। “
“যাবি নাকি তোর সামনে শুরু হবো আমার হয়নি এখনো।”
রেভেনের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। ওদিকে আদ্রিতা দোয়া করছে কোন ভাবে মাটি ফাক হয়ে যাক আর সে নেমে যায় মাটির নিচে৷
রেভেন তড়িঘড়ি করে স্থান ত্যাগ করে।।আদ্রিস ফিরে তাকায় আদ্রিতার দিকে।
বিনা বাক্যে আবারো আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় আবদ্ধ করে নেয়।
চলবে?
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৩
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩২
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১০
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২০
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫