Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৩


জেন্টাল_মনস্টার

লামিয়ারহমানমেঘলা

পর্ব_৪৩

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
রেভেন দ্রুত নিজের স্থান ত্যাগ করে।
আদ্রিতা হা হয়ে সেদিকে তাকিয়ে আছে। আদ্রিস এতটা নির্লজ্জ কিভাবে হতে পারে।
আদ্রিতা যখন পাশে তাকিয়ে ছিলো তখন আদ্রিস, ওর চোয়াল ধরে ফের নিজের দিকে ফেরায়।

“কোথায় তোর ধ্যান জ্ঞান? আমি এখানে! “

“ছ ছাড়ুন, আপনি কি বেহায়া৷”

আদ্রিতা নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করে। কিন্তু তা সম্ভব হয়না। আদ্রিসের শক্ত মুঠো থেকে আদ্রিতা চাইলেও মুক্তি পাবেনা। অবশ্য আদ্রিতা নিজেও সেটা জানে।
আদ্রিস পুনরায় আদ্রিতার উপর হামলে পড়ে।
আদ্রিতা উপায় না পেয়ে আদ্রিসের তালে তাল মেলায়।
পাগল শান্ত না হলে পুরোটা দিন তার বরবাদ হয়ে যাবে।


রুমে বসে আছে মিরা।
বড্ড চিন্তা হচ্ছে তার সব কিছু নিয়ে।
সায়েরের ইগনোরটা সে নিতে পারছে না।
নিজের পাসপোর্ট আর বাকি সব কাগজের দিকে দেখে মিরার আরও বেশি অদ্ভুত লাগছে।
কি করবে বুঝতে পারছে না সে।
এসব ভাবতে ভাবতে হটাৎ মিরার ফোন বেজে ওঠে শব্দ করে।
মিরার ধ্যান ফিরে। সে ফোন হাতে নিয়ে কলার আইডি দেখে৷
মাধবী বেগম কল করেছে৷
মিরা ফোন তুলে নেয়,

“হ্যালো বড় মা৷”

“মিরা কোথায় তুই মা?”

মাধবী বেগমের কন্ঠ বিচলিত। মিরা ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“বড় মা কি হয়েছে?”

“তুই কোথায় মিরা? তোর বাপ পাগল হয়ে গেছে। তোর বাপ তোর খালুর উপর কেস করেছে। পুলিশ এসে তোর খালুকে ধরে নিয়ে গেছে তোকে বন্দি করে রাখার অভিযোগে।”

মিরা হটাৎ এমন কথার কি জবাব দিবে বুঝতে পারছে না নিজেই।

“ব বড় মা বুঝলাম না৷ খালুকে কোথায় নিয়ে গেছে? আমাকে জানাও দ্রুত আমি যাচ্ছি সেখানে।”

“কোন দরকার নাই তোর মা বাবা বহুত করেছে আমার জন্য । আমাকে আদ্রিসের ঠিকানা দে আমিই আসছি সবাইকে নিয়ে৷ “

মিরা উপায় না পেয়ে ঠিকানা দিয়ে দেয়।
ফোন কেটে মিরা দ্রুতই বেরিয়ে যায় আদ্রিসকে খুঁজতে।

লিভিং রুমে বসে রেভেন ফোনে গেমস খেলছে।
প্রিয়াও ফোন টিপছে।
সায়েরের খোঁজ নেই।
আদ্রিস নিচেই আসছিলো। মিরা তা দেখে আদ্রিসকে ডাকে,

“আদ্রিস৷”

আদ্রিস মিরার ডাকে ফোন পকেটে রেখে মিরার দিকে তাকায়,

“আপু বলো।”

মিরা সব খুলে বলে এক নিশ্বাসের। মিরার কথা শুনে উপস্থিত সবাই অবাক।
ওদের ঝটকা শেষ হতে না হতেই বাহিরে গাড়ির প্রবেশের শব্দ শোনা যায়৷
আদ্রিস বেরিয়ে যায় দেখতে।

পর পর ২ টা গাড়ি থেমেছে।
একটা থেকে মালিহা বেগম, আফজাল শেখ আর ঐশী বের হয়৷
অন্য টা থেকে মাধবী বেগম। আসরাফ খান এবং পুলিশ৷
সায়ের বাগান সাইডেই ছিলো ফোনে কথা বলছিলো। গাড়ি প্রবেশের শব্দ শুনে সে এগিয়ে যায়৷

আফজাল শেখ কোন কথা না বলেই হামলা করে আদ্রিসের উপর,

“এই বেয়াদব ছেলে এই। আমার মেয়ে কই হ্যাঁ? তুই এত বড় নির্লজ্জ বেহায়া কিভাবে হোস হ্যাঁ? “

আদ্রিস, ভ্রু কুঁচকে তাকায়৷

“বেহায়া কাকে বলছেন আপনি?”

“তোকে বলছি। নিজের থেকে বয়সে বড় কোন মেয়েকে নিয়ে কিভাবে তুই নিজের বাড়িতে রাখতে পারিস?”

আদ্রিস তাচ্ছিল্য হাসে,

“ও হ্যালো মি.শেখ খালু বলে সহ্য করছি। বেশি বাড়াবাড়ি করলে না আনার বন্দুকের একটা গুলি জথেস্ট আপনার লাস ফেলতে।’

আফজাল শেখ ভিকটিম কার্ড প্লে করলো,

” দেখেছেন অফিসার কত বড় গুন্ডা আপনাদের সামনেই মেরে ফেলার ভয় দিচ্ছে৷”

পুলিশ অফিসার এগিয়ে আসে,

“মিস্টার আদ্রিস এটাকি সত্যি আপনারা মিরাকে আটকে রেখেছেন? “

আদ্রিস ঠান্ডা মাথায় উত্তর দেয়,

“সেটা মিরা আপুকে জিজ্ঞেস করলেই হবে। ভেতরে আসুন৷”


আদ্রিসের মেনশনের লিভিং রুমে সবাই বসে আছে।
আদ্রিতা এতক্ষণ জানত না বাড়িতে কেউ এসেছে৷ সে মাত্র জেনেই নিচে এসেছে৷
সবার জন্য চা বানিয়ে নিয়ে এসেছে৷
আদ্রিতার পরনে একটা বেবি ব্লু রঙের জামা। মেয়েটাকে দেখতে কতটা সুন্দরী আর প্রাণবন্দ লাগছে। মাধবী বেগম তাকিয়ে সেটা দেখলেন।
কত গুলো বছর মেয়েটাকে অত্যাচার করেই কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি৷
মুরব্বিরা ঠিকই বলে,
মেয়ে মানুষের চেহারা বোঝা যায় পুরুষের যত্নে।
আদ্রিস ঠিক কতটা যত্ন করে আদ্রিতাকে সেটা আদ্রিতাকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।
মাধবী বেগমের ধ্যান ফিরলো পুলিশ অফিসারের প্রশ্নে,

“ত বলুন শেখ মিরা। আপনাকে এরা কেউ ফোর্স করেছে এখানে থাকতে?”

মিরা মা বাবার দিকে তাকায়। মা বাবা ইসারা করছে মিরা যেন হ্যাঁ বলে।
মিরা চোখ বন্ধ করে বলতে শুরু করে,

“মোটেই না। উল্টে আমার মা বাবা আমাকে এমন একটা সম্পর্কে জড়িয়ে রেখেছিলো এত দিন যেখানে আমি অত্যাচারীত হয়েছি দিনের পর দিন। রাতের পর রাত৷ আমি মেন্টালি ভেঙে পড়েছিলাম।
তারপর আদ্রিস আসে দেশে। এরপর আমি এখানে জাস্ট কিছু ভালে মুহুর্তে কাটাতে আসি। আমাকে কেউ জোর করেনি। “

মিরা নিজের বাবার দিকে ফিরে চায়৷

“বাবা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না আপনি এত নিচে নেমে গিয়েছেন!”

পুলিশ অফিসা সব কথা শোনার পর মিরাকে থামিয়ে বলে উঠলেন,

“মিস্টার আফজাল তাহলে এ বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই।
আপনি দেখেন এখন কি করবেন। আপনাদের পারিবারিক বিষয়, পারিবারিক ভাবে মেটান৷”

কথাটা বলে অফিসার বেরিয়ে যায়।
আদ্রিতা সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছে নীরবে।
আদ্রিস গিয়ে আদ্রিতার পাশে বসে আদ্রিতার কোমড়ে হাত রাখে।
আদ্রিতা কেঁপে উঠে।
সে আদ্রিসের দিকে ফিরে চায়৷ আদ্রিসের কোন হেরফের নেই। সে সোজা তাকিয়ে আছে।
আদ্রিতা নিজের কোমড় থেকে আদ্রিসের হাত সরাতে নিলে সেই হাত হলো আরও শক্ত। আদ্রিতা চুপ হয়ে যায়। আর নড়াচড়া করলে সমস্যা। থাপ্পড় মেরে বসবে সবার সামনে।

অফিসার চলে যেতে মিরা তার বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়,

“বাবা। কি চাও আমার থেকে? ‘

” ফাহিমের কাছে ফিরে যা৷”

কথাটা শোনা মাত্র সায়েরের হাত মুঠো হয়ে আসে। চোয়াল শক্ত করে সে তাকিয়ে আছে আফজাল শেখের দিকে।
আদ্রিতা বাঁকা হাসছে। সে শুধু এসব দেখবে। আফজাল শেখকে যদি দু চার ঘুষিও মারে সায়ের তাহলে ছক্কার মড এনজয় করবে।

মিরা অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,

“বাবা, তুমিত সবই জানো। এরপরেও?”

আফজাল শেখ হিসহিয়ে উঠলেন,

“বেয়াদব মেয়ে বাপের সম্মানের কোন খবর আছে কি হ্যা? আসে পাশে মানুষ থুথু দিচ্ছে আমার উপর।
আমি এই মুখ কাকে দেখাব হ্যাঁ?
তুই ফাহিমের সংসারে ফিরে যা৷”

মিরার শরীর অবস হয়ে আসছে। মিরা অসহায় কন্ঠে প্রশ্ন করে,

“বাবা আপনিকি সত্যি আমার বাবা?”

“আমি তোমার বাবা বলেই এসব ভাবছি মিরা৷”

মিরার শরীর হার মেনেছে। সে এই দুঃখের বোঝা নিতে পারছে না।
বুকের উপর বোঝা মনে হচ্ছে।
মিরার পা দু’টো তেও যেন কোন ভর পাচ্ছে না।
সে যখন নিচে বসে পড়তে যাবে তখনি পেছন থেকে সায়ের এসে মিরাকে ধরে বসে,

“আদ্রিস এটা তোর কি হয়?”

সায়ের কে এতক্ষণ আসরাফ খান খেয়াল করেনি। এখন দেখে তার চোখ দু’টো বড় বড় হয়ে যায়।
আসরাফ খান নিজের জায়গায় তগদা মেরে গেছেন।

“এটা আমার খালু হয়৷”

“মরে গেলে কি হবে?”

সায়েরের প্রশ্ন শুনে মিরা সহ সবাই অবাক। কিন্তু আদ্রিসের কোন হেরফের নেই। সে সাভাবিক কন্ঠে জবাব দেয়,

“বেশি কিছু না দুনিয়া থেকে কলঙ্কিত বাপের সংখ্যা কমবে।”

“কি বলিস তাহলে কমিয়ে দেই?”

আদ্রিস বাঁকা হাসে।
সায়ের শক্ত করে মিরাকে ধরে রেখেছে।
মিরা, সায়েরের হাত ছুটাতে ছুটাতে বলে,

“কি বলছেন এসব? আদ্রিস পাগল হয়ে গেছিস? আমার বাবা তোর সামনে ভুলে যাচ্ছিস?”

মিরার কথায় আদ্রিস কোন উত্তর দেয় না।
সায়ের পকেট থেকে গান বের করতে করতে আফজাল শেখ উঠে দাঁড়ায়।

“ছি মিরা ছি। এরকম একটা বয়ফ্রেন্ড জুটায় তুই ফাহিমকে ছাড়ছিস৷ তোর জীবনে ভালো হবেনা৷”

কথাটা বলে আফজাল শেখ বেরিয়ে গেলো।
মালিহা বেগম এবং ঐশী তখনো ভেতরেই ছিলো৷ ঐশী চান্স খুজছিলো আদ্রিসের কাছে যাবার। কিন্তু পেলো না।
মাহিলা বেগমও বেরিয়ে গেলো।
ঐশী আর দাঁড়াতে পারলো না৷

সায়ের তাকিয়ে রইলো সে দিকে৷
মিরা অবাক পানে তাকিয়ে। ব্রকেন লাগছে ভেতর থেকে।
সায়ের শক্ত করে মিরাকে জড়িয়ে ধরে রাখে।
আদ্রিস ইসারা করে মিরাকে ভেতরে নিয়ে যেতে।
সায়ের তাই করে।
রেভেন এবং প্রিয়া ছিলো সাইলেন্ট দর্শক।
এসব ঘটনা ঘটে গেলে মাধবী বেগন উঠে যায় আদ্রিতার সামনে।

“মাসআল্লাহ, আল্লাহ তোকে ভালো রাখুক আদ্রিতা৷”

আদ্রিতা হাসে।
তখন আদ্রিসও ওকে ছেড়ে দেয়।
আদ্রিতা জড়িয়ে ধরে মাধবী বেগমকে। মাধবী বেগম, আদ্রিতার কপালে চুমু খায়৷

“ভুল করেছি আদ্রিতা৷ ক্ষমা করে দিস।
তুইত আমাকেই বড় মা বলে ডাকতি৷ সেই মা বলছে আদ্রিতা৷ ক্ষমা করে দিস৷”

“এভাবে বলোনা। আমি কিছু মনে রাখিনি।”

পেছন থেকে আসরাফ খান বলে উঠেন,

“মাধবী সময় হয়েছে চলো৷”

মাধবী বেগম ফিরে চায়।

“কেন রাতটা থেকেই যাই।”

আসরাফ খান মুখ ফিরিয়ে নিলেন,

“না থাকা যাবেনা চলো।”

মাধবী বেগম অবাক হলেন খানিকটা।
তবে কিছু বলবে তার আগেই সায়ের উপস্থিত হয় সেখানে।

“কেন মিস্টার খান থেকে জান। এমনিতেও কাল আমাদের ফ্লাইট আমরা চলে যাচ্ছি রাশিয়া৷ আজকের রাতটা সবাই এক সাথে কাটানোই যায়৷”

সায়েরের কথা শুনো আসরাফ খানের কপালে ঘাম জমে। কোন এক অজানা আশঙ্কা তাকে চেপে ধরেছে। বছরের পর বছর চাপা থাকা পাপের বোঝা যেন উন্মোচন হতে চলল।
আসরাফ খান নিজেকে শান্ত করলেন। যথা সম্ভব নীরব থেকে বললেন,

“ঠিক আছে তাই হবে৷”

সায়ের এগিয়ে গিয়ে ওদের সামনে দাঁড়ায়।

“আদ্রিস এই অবস্থায় একটা ঘোষণা দিতে চাই৷”

“কি ঘোষণা?”

“যেহেতু ওনারা তোমার মা বাবা ওনাদের হক আছে তোমার উপর। তাই আদ্রিতার সাথে রেজিষ্ট্রেশন করে নে আজ।
এরপর রাশিয়া গিয়ে আমি তোর ধুমধাম করে বিয়ে দেব।
আমার একমাত্র বোনকে তোর হাতে তুলে দিব৷”

কথাটা শোনা মাত্র আদ্রিতা থ হয়ে যায়। কিন্তু আদ্রিস মনের ভেতর লাড্ডু ফুটলো তার।
মাধবী বেগম সম্মতি জানায়।

“হ্যাঁ সেটা ঠিক হবে। কিন্তু একমাত্র বোন মানে?”

সায়ের হাসে খানিক। আদ্রিতার পাশে দাঁড়িয়ে আদ্রিতার কাঁধে হাত রাখে,

“এত দিন এতিম বলে যে মেয়েটাকে তাচ্ছিল্য করতেন আজ তার আসল পরিচয় জানুন মিসেস খান।
আদ্রিতা সুবহান আলভি। সায়ের সুভহান আলভির একমাত্র বোন৷
সুবহান বংশের একমাত্র কন্যা সন্তান।
আমার প্রিন্সেস।”

সায়ের, আদ্রিতার কপালে চুমু খায়।
আদ্রিতা মিষ্টি হাসে।
মাধবী বেগম কথাটা শুনে অবাকের চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে।
আসরাফ খান কথাটা শুনে আগের থেকে বেশি ঘামড়ে গেলেন। পকেট থেকে রোমাল বের করে ঘাম মুছে নেয় তিনি কপালের।
সায়ের, আসরাফ খানের দিকে লক্ষ করছিলো পুরোটা সময়।
আসরাফ খানকে ঘামতে দেখে বাঁকা হাসে সায়ের।

চলবে?

[ বিয়েটা বোধ-হয় হয়েই গেলো এবার। রেসপন্স করবা কিনা বলো? ঠিকঠাক রেসপন্স না করলে ওদের বিয়ে দেব না। আর শুনো প্রিয়তমারা আমি এখনো সুস্থ না। লেখা ছিলো তাই পোস্ট দিলাম। দোয়া করিও।।বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখো]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply