জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৩৭
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
একে একে সবাই মাধবী বেগমের সাথে, দেখা করে বেরিয়ে এলেও শুধুমাত্র আদ্রিস ভেতরে যায়নি।
সে তখন থেকেই কেবিনের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে। সে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়েছে।
তখন থেকে ছেলেটা দাঁড়িয়েই আছে।
প্রিয়া এত করে বোঝালো কোন ভাবে কাজ হচ্ছে না।
প্রিয়া বোঝাতে না পেরে রেভেনকে গিয়ে বলে। রেভেনও কোন কাজ করতে পারে না।
প্রিয়া শেষে বাবাকে গিয়ে বলে,
“ড্যাড, রাগ অভিমান পরে দেখাবেন। প্লিজ এখন ভাইয়াকে গিয়ে বলুন মমের সাথে দেখা করতে। মমও ভাইয়ার খোঁজ করছে।”
আসরাফ খান মেয়ের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। এরপর তিনি কোন উত্তর না দিয়েই আদ্রিসের দিকে এগিয়ে গেলেন,
হটাৎ কাঁধে কারোর স্পর্শ পেয়ে ফিরে চায় আদ্রিস,
“যাও মমকে দেখে আসো।”
আদ্রিস কিছুক্ষণ বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
আসরাফ খান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আদ্রিসকে জড়িয়ে ধরেন,
“আমি তোমার ড্যাড আদ্রিস। জীবনে তোমার জন্য ভুল সিদ্ধান্ত আমি নেইনি কখনো। তবে আজ এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে আমিই হয়ত ভুলটা করেছি।
তুমি যাও দেখা করো মম এর সাথে। সময় লাগলেও আমি সবটা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করব।”
আদ্রিস বাবার কথা শুনে খুশি হয়ে যায়।
সে মাধবী বেগমের কেবিনের প্রবেশ করে।
হসপিটালের রোগী বেডের উপর সাদা চাদর বিছানো। মাধবী বেগমের পরনে হালকা নীল রঙা একটা পোশাক।
হাতে সেলাইন দেওয়া তার সাথে হার্টবিট চেক করার জন্য কার্ডিয়াক মনিটরটা তার পাশেই কাজ করে চলেছে বিরতিহীন ভাবে।
মাধবী বেগমকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে। আদ্রিস এই মাধবী বেগমকে দেখে অভ্যস্ত নয়।
সে যেন তার ছোট বেলায় ফিরে গিয়েছে। তার পা দু’টো আঁটকে গিয়েছে মাটিতে।
সে পারছে না সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে মমের সাথে কথা বলতে।
রুমে কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে মাধবী বেগম চোখ খুলে তাকান।
বাম দিকে প্রাণ প্রিয় ছেলে আদ্রিসকে দেখে হেঁসে দেন তিনি,
“আদ্রিস, আমার জান আসবি না মমের কাছে?”
আদ্রিস আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা এগিয়ে গিয়ে মায়ের পাশে বসে।
চোখ দু’টো রক্তিম হয়ে আছে। যে কোন সময় পানি গড়িয়ে পড়বে। মাধবী বেগম নিজের কম্পিত হাতটা আদ্রিসের গালে রাখেন,
“কাঁদিস না বাবা। মম সব ভুলে গেছেত৷”
আদ্রিস তখন নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা। চোখ বেয়ে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে মাধবী বেগমের হাতে।
মাধবী বেগম, ছেলেকে টেনে জড়িয়ে ধরেন। আদ্রিস মায়ের বুকে মাথা রেখে কাঁদল কিছুক্ষণ।
মাধবী বেগম, আদ্রিসের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকলেন। কিছুক্ষণ পর সব শান্ত হলল। আদ্রিস মাথা তুলে। মায়ের হাতে চুমু খায়।
“কাঁদছিস কেন বাবা? তোর চোখে রাগ মানায়, কান্না মানায় না।”
“আই লাভ ইউ মম৷”
“আই লাভ ইউ টু আমার জান৷
বাবা আমি কথা দিচ্ছি, আদ্রিতাকে কেউ মেনে না নিলেও আমি ওকে ছেলের বউ হিসাবে মেনে নিয়েছি। তোর ড্যাডকে বোঝানোর দায়িত্ব আমার৷”
আদ্রিস মৃদু হাসে,
“তুই কখনো আমাকে ছেড়ে যাবার কথা বলিস না বাবা। আমারত শুধু একটু তুই আর প্রিয়াই আছিস। আমার আর কে আছে বল? তোর নানা নানীকে হারিয়েছি কত বছর আগে। তোরা তখন ছোট। মাহিলা এরপর আমাকে বলত দেখ আপু তোর কত কপাল আম্মা আব্বা আবার ফেরত এসেছে তোর কোলে। আমিও সেই খুশিতে থেকেছি সব সময়।
বাবা তোর যা খুশি আমি তাই করব। শুধু তুই আমাদের ফেলে চলে যাবি এ কথা কখনো বলিস না।”
আদ্রিস, মায়ের হাতে ফের চুমু খায়।
“বলবো না মম। কখনো বলবো না।”
মাধবী বেগম হাসেন, মনে মনে বলেন,
“তোকে হারাতে পারব না বাবা। এর জন্য যদি তোর ড্যাডের সাথে আমার যুদ্ধও করতে হয় তবে তাই করব। কিন্তু তোকে হারাতে পারব না আমি। “
দিন পেরিয়ে গোধূলি বেলা হানা দিয়েছে ধরণী জুড়ে।
দুপুরে লাঞ্চ করে সবাই যে যার রুমে ঘুমাতে গেছিলো। আদ্রিতা আর মিরাও এসে ঘুমিয়েছিলো।
হটাৎ আজানের ধ্বনি কানে আসতে আদ্রিতার ঘুম ভাঙে।
সে চোখ খুলে তাকায়।
বাহিরে সূর্যের আলো ধিরে ধিরে অন্ধকারে পরিণত হচ্ছে।
আদ্রিতা জানালা দিতে এসে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল বাহিরের দিকে।
আদ্রিস, লোকটা একটা সেকেন্ড ও আদ্রিতাকে ছাড়া থাকেনা। সব সময় চিপকে থাকে বলা যায়।
অথচ আজ সেই সকালে বেরিয়েছে এখনো ফেরেনি।
তার কি এখন মনে পড়ছে না আদ্রিতার কথা।
এই মানুষটাকে কয়েক ঘন্টা না দেখে অবস্থা খারাপ হচ্ছে তার। গোটা ৫ টা বছর দুরে কাটিয়েছে কিভাবে।
আদ্রিতা এসব ভাবছিলোই এমন সময় হটাৎ কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে ফিরে চায়৷
মিরা দাঁড়িয়ে পেছনে।
“আদ্রিসকে মনে পড়ছে?”
আদ্রিতা মাথা নাড়ায়৷ “না “
মিরা মৃদু হেসে আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে,
“আমাকে মিথ্যা বলবি? সেটা হবে কি?”
আদ্রিতা, মিরার ঘাড়ে মাথা রাখে।
“না, উনি এলো না কেন এখনো আপু?”
মিরা বুঝতে পারল, আদ্রিতার মনেও সেই জায়গা সেই অনুভুতি তৈরি হয়েছে যার জন্য আদ্রিস পাগল ছিলো এত দিন।
কথাটা ভেবেই মিরার ভালো লাগে। ছেলেটা এই মেয়েটার জন্য যে পাগল বললেও ভুল হবে উন্মাদ পাগল।
“চলে আসবে আদ্রিতা। হয়ত কোন কাজ আছে। তুইত জানিসই৷
আচ্ছা এখন মন খারাপ করতে হবেনা। চল চা বানিয়ে দেই। সেই ইয়াম্মি চা৷”
আদ্রিতা মিষ্টি হাসে। মিরার সাথে নিচে চলে আসে।
মিরা টিভিতে আদ্রিতার জন্য কার্টুন চালিয়ে নিজে চা বানাতে চলে গিয়েছে কিচেনে।
আদ্রিতা এখনো কার্টুনই পছন্দ করে।
সায়ের রুম থেকে বেরিয়ে আদ্রিতাকে বসে টিভি দেখতে দেখে এগিয়ে আসে,
“হেই আদ্রিতা। হোয়াট’স আপ?’
আদ্রিতা মিষ্টি হাসে। সায়ের আদ্রিতার মাথায় আদর করে।
” মিষ্টি একটা পরি।”
“কার্টুন দেখুন এরপর কি হবে? খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাহিনি চলছে।”
সায়ের টিভিতে কার্টুন চলছে দেখে হো হো করে হেসে দেয়। আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“কি হয়েছে ভাইয়া?”
সায়ের, আদ্রিতার পাশে বসে জিজ্ঞেস করে,
“তুমি এখনো কার্টুন দেখো পিচ্চি মেয়ে?”
“কেন কার্টুন ভালো না? “
আদ্রিতার ভোলা ভালা প্রশ্ন শুনে সায়েরের বড্ড আদর পেলো মেয়েটার উপর।
এত ইনোসেন্ট মেয়েটা।
সায়ের, আদ্রিতার পাশে বসে উত্তর দিলো,
“ঠিক আছে আমিও দেখি কি কার্টুন।”
সায়ের বলতে বলতে পেছনে কিচেন থেকে টুনটান শব্দ আসছে শুনে ফিরে চায়।
মিরা চা বানাচ্ছে।
সায়ের কিছুক্ষণ মিরাকে পর্যবেক্ষণ করে।
সায়ের এবং আদ্রিতা হলো ভাই বোন। আর সায়েরের একমাত্র বউ কিচেনে বসে চা বানাচ্ছে তাদের জন্য।
সায়ের কল্পনায় মিরাকে ঠিক তেমনই লাগছে।
সায়ের মৃদু হাসে।
কিছুক্ষণ পর মিরা চা নিয়ে আসে সবার জন্য।
“চা নিন৷”
মিরা অপর পাশে বসে।
সায়ের চা নিতে নিতে মিরাকে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে।
মিরার অবশ্য সে দিকে খেয়াল নেই। সে টিভিতে মনোযোগ দিয়েছে।
সায়ের কিছুক্ষণ তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসে।
তার মাথায় এখন যা ঘোরাঘুরি করছে তা পাবলিক হলে বিপদ।
রাতের ডিনার করতে বসে আদ্রিতা খাবার সামনে বসে আছে।
মিরা বেশ বুঝতে পারছে আদ্রিস না আসলে এই মেয়ের খাওয়া পড়ে যাবে এভাবেই।
মিরা পাশে বসে থাকা সায়ের কে কনুই দিয়ে আঘাত করে।
সায়ের ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
মিরা একটু এগিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“আদ্রিতার মন খারাপ। একটু দেখুন না আদ্রিস কোথায়”
“মাধবী আন্টি ঠিক আছে এখন। আদ্রিস হয়ত আজ রাতে ফিরবে না। ও বলল মায়ের সাথে থাকবে।”
কথাটা শুনে মিরার মনটাও খারাপ হয়ে গেলো।
সে আদ্রিতার হাতে হাত রেখে বলে,
“আদ্রিতা, আদ্রিস বলেছে চলে আসবে একটু পর তুই খেয়ে নে।”
আদ্রিতার চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে,
“সত্যি? “
“হ্যাঁ সত্যি!”
আদ্রিতা যেন খুশি হয়ে গেলো। সে খাবার খেতে লাগল। সায়ের ভ্রু কুঁচকে তাকায়। চোখের ইসারায় বলে,
“মিথ্যা কেন বললে?”
মিরা প্রতিত্তোরে বলে,
“আদ্রিতার হৃদয় নতুন অনুভুতির সাথে সাক্ষাৎ করছে। এমন সময় একটু আধটু মিথ্য বলতে হয়।”
সায়ের এরপর আর প্রশ্ন করেনা।
রাতের ডিনার করে যে যার রুমে চলে যায়।
মিরা আর আদ্রিতার রুমে যায় না। আদ্রিতাকে শুইয়ে লাইট বন্ধ করে দিয়ে অন্য রুমে চলে যায়।
মিরা চলে গেলে আদ্রিতা চোখ খুলে তাকায়।
তার পাশটা বড্ড ফাকা ফাঁকা লাগছে। বুকের ভেতর কষ্ট হচ্ছে।
আদ্রিতার চোখ বেয়ে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়ে বালিশে। কিছুক্ষণ পর আদ্রিতা উঠে বসে।
টেবিল সাইড লাইট টা অন করে।
বিছনা ছেড়ে উঠে জানালার পাশে গিয়ে বসে।
জানালা খুলে দিতে দক্ষিণা বাতাস ফুরফুর করে রুমে প্রবেশ করে।
আদ্রিস কেন আসেনি। এই নিয়ে বড্ড অভিমান আদ্রিতার মনে। অভিমানে পাহাড় সমান কালো মেঘ জমেছে মন আকাশে।
কই আগেত এমন হয়নি।
আগেত অভিমান ছিলোনা। না ছিলো অভিযোগ। তবে এখন কেন এত অভিমান।
ভাবতে ভাবতে হটাৎ কোমড় জড়িয়ে পেটে কারোর ঠান্ডা স্পর্শ পেয়ে কেঁপে ওঠে আদ্রিতা।
সে ফিরে চাওয়ার আগেই তার ঘাড়ে কারোর গরম নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ে।
আদ্রিতার নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসে।
আদ্রিস, শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সেভাবেই কিছুক্ষণ থাকে।
এরপর আদ্রিতাকে ফিরিয়ে আদ্রিতার গালে দু হাত রেখে নিজের দিকে ফেরায়।
রুমটা বেশ অন্ধকার। কারোর মুখই বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু আদ্রিসের পুরুষালি ঘ্রাণ আদ্রিতাকে বলে দিচ্ছে অপর দিকে কে আছে।
টেবিল লাইটের মৃদু আলোতে আবছা বোঝা যাচ্ছে সব কিছু।
আদ্রিস, টুপটাপ করে কিছু চুমু খায় আদ্রিতার কপালে গালে।
“মিস করেছিস আমাকে?”
আদ্রিতা আহ্লাদী কন্ঠে উত্তর দেয়,
“না। কেন মিস করব?”
আদ্রিস মৃদু হাসে।
“সত্যি মিস করিস নি?”
“না।’
” ঠিক আছে তাহলে চলে যাই।’
কথাটা বলে আদ্রিস যখন ফিরে যাবে তখনি আদ্রিতা ধরে বসে আদ্রিসের হাত।
আদ্রিস ফিরে চায়। আদ্রিতা এগিয়ে গিয়ে বলে,
“কই আগেত এমন করেন নি। আমি বললে বুঝি আপনি চলে গেছেন?”
আদ্রিস একটু নিচু হয়ে আদ্রিতার নাকে চুমু খায়,
“তুই কি চাস আমি জোর করে থাকি?”.
” আগেত এমনই করতেন৷”
আদ্রিস হেসে আদ্রিতাকে জড়িয়ে নেয় বুকে।
“ঠিক আছে তবে তাই হোক। তুই না চাইলেও তুই আমার। আর চাইলেত আমার রয়েই গেলি।”
আদ্রিতাও জড়িয়ে ধরে আদ্রিসকে।
এই প্রথম আদ্রিতার হাগ ব্যাক করাটা আদ্রিসের মনের মাঝে আলাদা রকম অনুভুতি সৃষ্টি করেছে। সে কোমল হাতে আদ্রিতার মুখশ্রী নিজের দিকে উঁচু করে ওর ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে। তবে এই চুমুতে কোন ফোর্স ছিলোনা। ছিলো আদ্রিসের দিক থেকে যত অনুভুতি সব কিছুর মিশ্রণ।
চলবে?
[ বানান ভুল পেলে মেনশন করিও। আর রেসপন্স করিও]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার গল্পের লিংক
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২