জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৩৬
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
“একটা রাস্তার মেয়ের জীবনে কিছু থাকবে না এটাই সাভাবিক আদ্রিস। মনুষ্যত্ব আমাকে শেখাতে এসোনা৷ এতই যখন দরদ তখন ঢাকা শহরে রাতে রেল স্টেশনে যাও গিয়ে দেখো কত অসহায় দরিদ্র পড়ে আছে, ঘুমাবার জায়গাটা পর্যন্ত নেই।
তাদের কে গিয়ে হেল্প করো।”
আদ্রিস অবাক। এতটা ঘৃণা কেউ শত্রুকেও করেনা। আদ্রিতাত তবুও মানুষ।
আদ্রিস বুঝতে পারছে তাকে ঠিক সব ত্যাগ করতে হবে আজ৷
“রাস্তা মানুষের সাহায্য করতে পারলে ঠিক আছে ড্যাড। অথচ যে মেয়েটাকে গত ১৬ বছর প্রতিটা দিন ভালোবেসে গেছি তাকে গ্রহণ করতে পারবেন না তাই?”
আসরাফ খান রেগে কিটিমিট করতে করতে বলেন,
“আমি মানতে পারব না। আদ্রিতা তোমার বউ হলে কালকেই ত্যাজ্য হয়ে যাবে আমার সমস্ত সম্পত্তি থেকে। তুমি আর আদ্রিস খান নও। তুমি শুধুমাত্র আদ্রিস হয়ে থাকবে।”..
আসরাফ খানের কথাটা শুনে মাধবী বেগমের কাল রাতের কিছু কথা মনে পড়ে যায়।
কাল রাতে এসব নিয়ে তাদের ভেতর কথোপকথন হয়েছিলো।
আসরাফ খান বলেছিলো,
” তোমার ছেলেকে ত্যাজ্য করব আমি৷”
“এ কাজ করবেন না। আপনি খুব ভালো করেই জানেনা আদ্রিসের ঘাড়৷ ও ত্যাজ্য হয়ে যাবে তবু আদ্রিতাকে ছাড়বে না।”
আসরাফ খান বাঁকা হাসলেন,
“এত সহজ মাধবী কোটি টাকার সম্পত্তি আমার। ও চাইলেও এই টাকার লোভ থেকে বঞ্চিত হতে পারবে না৷”
“আপনিত ছেলেটাকে ভুল শিক্ষা দিচ্ছেন আসরাফ। সম্পত্তির লোভে সে আদ্রিতাকে ছাড়লে আমারত ওর উপর থেকে বিশ্বাসই উঠে যাবে।’
” তুমি চুপ থাকো। বেশি বুঝো না আমার থেকে।’
মাধবী বেগম মাথা নুইয়ে নিলেন। কি তর্কইবা করবেন তিনি।
বর্তমান,
“ওকে ড্যাড, কোথায় সাইন করতে হবে বলুন। আমি চির জীবনের মত আপনার থেকে মুক্ত। আপনাদের ছেলে হিসাবে আমি আর রইলাম না৷”
মাধবী বেগমের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। তিনি এগিয়ে এসে আদ্রিসের বুকে আঘাত করতে লাগলেন পাগলের মত,
“কি বললি তুই? কি বললি কি হ্যাঁ? পেটে ধরেছি তোকে আমি। এই আমি তোকে পেটে ধরেছি। ১০ মাস ১০ দিন কষ্ট করেছি তোকে পেটে নিয়ে। একজন মা তার সন্তানের জন্য কি করতে পারে জানিস না তুই? আজ একটা রাস্তার মেয়ের জন্য তুই তোর মা বাবাকে ফিরিয়ে দিবি? আল্লাহ এ দিন দেখার আগে আমার মরণ হলোনা কেন?”
আদ্রিস মাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে। মাধবী বেগম অশান্ত হয়ে গেছেন। তীব্র যন্ত্রণায় কাঁপছেন খুব।
“মম রিলাক্স, সে আর রাস্তার মেয়ে থাকবে না। সে আদ্রিসের স্ত্রী হয়ে যাবে। চিন্তা করবেন না আদ্রিস এবং আদ্রিতা ভালো থাকবে। রাস্তার মেয়ের উপাধি তার কপালে থাকবে না। কারণ বিয়ের পর ও হবে মিসেস আদ্রিস।
আর বাকি রইল আদ্রিস খান নামটা। খান পরিচয় বাদেও আদ্রিস নিজেই নিজের দুনিয়ার রাজা। কথাটা মনে রাখিয়েন৷”
মাধবী বেগমের বুকে যন্ত্রণা শুরু হলো।তিনি স্পষ্ট ভবিষ্যৎ দেখতে পারছেন তার ছেলে যে আর তার রইলো না৷
মাধবী বেগম, আদ্রিসের বুকেই জ্ঞান হারায়।
হটাৎ মাকে জ্ঞান হারাতে দেখে আদ্রিস শক্ত করে ঝাপটে ধরে মাকে।
“মম, হেই মম হোয়াট হ্যাপেন্ড?”
প্রিয়া দৌড়ে আসে,
“মম, মম কি হয়েছে?”
পরিস্থিতি মুহুর্তে বদলে যায়।
আদ্রিস, রেভেনের দিকে তাকিয়ে গাড়ি ঠিক করতে বলে।
রেভেন দ্রুত বেরিয়ে যায়।
আদ্রিস, মাকে কোলে তুলে নিলো।
সে দ্রুত বেরিয়ে যায়।
আসরাফ খান পেছন পেছন, মাহিলা বেগম এবং তার আফজাল শেখকে নিয়ে বের হন।
সবাই চলে যেতে মিরা, ঐশী পেছনে রয়।
মিরা পরিস্থিতি বুঝে উঠতে পারেনা। কি থেকে কি হয়ে গেলো৷
ফাহিম এগিয়ে গিয়ে মিরার হাত ধরে বসে,
“মিরা চলো বাড়িতে চলো।’
মিরা নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়।
” থাপ্প না খেতে চাইলে বের হ শয়তান৷ সব কিছু ঠিক হতে দে। তোকে আমি ডিভোর্স দেব৷”..
ফাহিমের চোখ মুখ মুহুর্তে বদলে যায়৷
সে কিটমিট করতে করতে মিরার হাতের কনুই শক্ত করে চেপে ধরে,
“কি বললি তুই? ডিভোর্স দিবি? হারামজাদি ডিভোর্স দিবি আমাকে? তোত আমি।’
ফাহিম, মিরার গায়ে হাত তোলার আগেই শক্ত একটি হাত ফাহিমের হাত ধরে ফেলে।
মিরাত মার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলো। হটাৎ করেই ঘটনা থেমে যাওয়ায় মিরা চোখ খুলে তাকায়।
তার সামনে একটি লম্বা, সুঠাম দেহের সুদর্শন পুরুষ দাঁড়িয়ে। ফাহিমরে বাড়তে থাকা হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে।
মিরা অবাক হয়। এই লোকটা আবার কে।
ওদিকে উপর থেকে এ দৃশ্য ঐশী এবং মিশু দেখছিলো।
ঐশী এতটাই জালিম নিজের বোনকে মার খেতে দেখেও এগায় নি।
জারিফ পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো। সে ভয় পাচ্ছিলো।
ফাহিম, রাগান্বিত কন্ঠে প্রশ্ন করে ওঠে,
” কে বে তুই সালা?”
“যদি বলি তোর মরন তাহলে?”
ফাহিম ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
তখনি ফাহিমের মুখ বরাবর ঘুষি পড়ে। ঘুষিটা খেয়ে ফাহিম মাটিতে পড়ে।
সায়েরে ঠোঁটে বাঁকা হাসি।
সে জারিফের দিকে তাকিয়ে বলে,
“জারিফ রাইট?”
জারিফ মাথা নুইয়ে বলে,
“জি।’
” মারতে চাও ওকে?”
জারিফ খুশি হয়ে যায়।
“হ্যাঁ হ্যাঁ।”
“দেরি কিসের। ডু ইট।”
জারিফ, তাকায় ফাহিমরে দিকে। তারও রাগ ছিলো। পাশ থেকে ফুল দানি নিয়ে ফাহিমকে উদুম ক্যালানি দিলো সে।
মিরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সে বুঝতেই পারছে না কাহিনি কি হচ্ছে এখানে।
সে ঘোরের ভেতর আছে।
সায়ের, একটা সময় জারিফের হাত ধরে বলে,
“ওকে ওকে ইয়াং ম্যান। এত মারলে মরে যাবে।”.
জারিফ ফুসতে ফুসতে বলে,
” লুচ্চা, লাফাঙ্গা, হারামজাদা, শয়তান তোর জন্য আমার বোনের যত কান্না।”
“বের হবি নাকি আরও ক্যালানি খাবি?”
ফাহিম ভয়ে উঠে দৌড়ে বের হয়৷
সায়ের দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সে ফিরে চায় মিরার দিকে।
“জারিফ, মম ড্যাড যখন জিজ্ঞেস করবে আপু কোথায় তখন বলবে জামাইয়ের সাথে আছে৷”
কথাটা বলে সায়ের, মিরার হাত ধরে বাহিরের দিকে হাঁটা ধরে। মিরা হটাৎ থেমে যায়। সায়ের ফিরে তাকায়।
“কে আপনি?’
সায়ের বাঁকা হেসে উত্তর না দিয়ে মিরাকে টেনে বাহিরে নিয়ে আসে।
মিরা বাহিরে এসে গাড়িতে আদ্রিতাকে দেখে শান্ত হয়৷
সায়ের গাড়ির দরজা খুলে। আদ্রিতা চকলেট খাচ্ছিলো মিরাকে দেখে এক্সাইটেড হয়ে যায় সে।
” মিরা আপু।”
মিরা উঠে বসে গাড়িতে।
“আদ্রিতা তুই এনার সাথে কি করছিস? আদ্রিস জানে তুই এখানে?”
আদ্রিতা হেসে বলে,
“হেহে না। উনিত আমার ভাইয়া৷”
সায়ের মিষ্টি হাসে কথাটা শুনে।
ওদিকে মিরা কান কানফিউস’ড।
“কেমন ভাই কিসের ভাই? এক মিনিট আপনি আদ্রিসের কিছু হন?”.
সায়ের ড্রাইভার কে গাড়ি স্টার্ট করার আদেশ দিয়ে বলে,
” বিজনেস পার্টনার।”
মিরা এবার বুঝতে পারে। এটাত সায়ের, সায়ের সুভহান আলভি।
“আ আপনি, সায়ের সুভহান আলভি? “
“এনি ডাউট?”
“ইয়ে মানে, আপনি এখানে?”
“আমার লিটিল মনস্টার একা একা যুদ্ধ করে বরিক্ত হয়ে গেছিলো তাই ওকে, সঙ্গ দিতে এসেছি।”
মিরা, ফিরে চায় আদ্রিতার দিকে।
আদ্রিতার মত বোকার দিকে তাকিয়ে কি বা বোঝা যাবে। আদ্রিতা উল্টে মিরাকে চকলেট এগিয়ে দেয়।
মিরা মিষ্টি হেসে আদ্রিতার থেকে চকলেট নিয়ে নেয়।
সায়ের এক পাশে আর আদ্রিতা এক পাশে মাঝে বসে মিরা।
গাড়িটা চলছে আপন গতিতে। মিরার মাথায় প্রশ্ন গিজগিজ করছে। কিন্তু সে ইজি নয় যে একটা কিছু জিজ্ঞেস করবে।
আদ্রিতা পৃথিবীর ঘটনা থেকে অজান্ত এক বান্দা যার দুনিয়া আদ্রিস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। তাই চাইলেও তার থেকে কেন সাভাবিক উত্তর পাওয়া সম্ভব নয়।
হসপিটালে পৌঁছে আদ্রিস পাগলের মত ডক্টর কে ডাকতে শুরু করে।
ডক্টর বেরিয়ে মিসেস খানকে ভেতরে চেকাপের জন্য নেয়।
আদ্রিস ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ে।
রেভেন সবটা হ্যান্ডেল করে, আদ্রিসের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়,
“বস৷”
আদ্রিস মাথা তুলে তাকায়।
“,এভরিথিং ইজ অলরাইট। মিরা আপু শল,আদ্রিতা সায়ের বসের সাথে আছে।”
“গুড। ওরা থাকতে আদ্রিতাকে নিয়ে কোন চিন্তা নেই।’
আসরাফ খান দুর থেকে ওদের কথপোকথন বোঝার চেষ্টা করলেও বুঝতে পারলেন না।
তিনি এগিয়ে এসে আদ্রিসের পাশে দাঁড়ায়।
রেভেন চুপ হয়ে যায়।
” এখন এত পাগলামি দেখাচ্ছো যেন মম ছাড়া মরেই যাবে। অথচ মম ড্যাডের জন্য একটা মেয়েকে ছাড়তে পারছো না।”
আদ্রিস, দু হাত মাথার সাথে ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে ছিলো। বাবার কথায় সে বাবার দিকে তাকায়।
চোখ জোড়া ভয়ঙ্কর রক্তিম হয়ে আছে। মাথার সিরা গুলো ফুলে উঠেছে ক্রোধে।
তাকে দেখে এই মুহুর্তে যে কেউ ভয় পেয়ে যাবে। আসরাফ খান ছেলের এই মনস্টার রূপ আগে কখনো দেখেনি। তিনি দু কদম পিছিয়ে যায়।
“লিসেন ড্যাড,
ইফ আই এম হিজ লাভার। দ্যান আই এম হিজ মনস্টার অলসো।
আই ক্যান ডু বোথ ফর হার।”
কথাটা বলে আদ্রিস উঠে যায় সেখান থেকে।
আসরাফ খান বুকে হাত রাখলেন। কিছুক্ষণের জন্য তিনি ভয় পেয়ে গেছিলেন।
ঘন্টা খানেক পর ডক্টর বেরিয়ে আসে।
আদ্রিস এগিয়ে যায়।
“চিন্তার কিছু নেই। অতিরিক্ত স্ট্রেস এর ফলে ওনার মিনি হার্ট অ্যাটাক এসেছিলো। এখন ভালে আছেন কিন্তু সাবধান বেশি স্টেস নিলে হার্ট এটাক হয়ে যেতে পারে যখন তখন।”
আদ্রিস হাফ ছেড়ে বাঁচে।
গ্লাস ডোর দিয়ে মাকে দেখা যাচ্ছে।
সে দাঁড়িয়ে রইল সেখানে।
একে একে সবাই দেখা করতে গেলো শুধু আদ্রিস বাদে।
প্রিয়া কেবিন থেকে বেরিয়ে আদ্রিসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়,
“ভাইয়া?”
আদ্রিস কাদেনা। কাঁদলেও চোখ দিয়ে পানি পড়েনা। আজ প্রথম এই ভাইয়ের চোখে পানি দেখে প্রিয়া হতভাগ। সে আদ্রিসের হাতে হাত রাখে,
“ভাইয়া কাঁদছো? “
আদ্রিস, মাথা নাড়ায়৷
“আমি জানি তুমি মম কে ভালোবাসো, কষ্ট পেও না প্লিজ।”
“আই লাভ বোথ অফ দেম প্রিয়া। আমি চুজ করতে পারছি না কেন ভাবেই।”
প্রিয়া, ভাইকে জড়িয়ে ধরে।
“রিলাক্স ভাইয়া, কিছুক্ষণ আগে বলা নিজের কথাটা মনে রেখো। সবার সব কিছু আছে। কিন্তু আদ্রিতার তুমি বাদে কেউ নেই।”
রেভেন দুরে দাঁড়িয়ে এসব দেখে সায়ের কে সবটা খুলে বলে। সায়ের দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
“আদ্রিসের পাশে সবসময় থাকবে। তাকে কখনও একা ছেড়ে দেবে না। মনে রেখো, আহত বাঘ সবচেয়ে ভয়ংকর, আর তাকে আঘাত করাও সবচেয়ে সহজ। আমি চাই না, আমার এই আহত আর দুর্বল বাঘটাকে কেউ আবার আঘাত করুক।”
“ওকে বস৷”
সায়ের কল কেটে নিজের সামনে তাকায়। মিরা চিন্তিত মাধবী বেগমকে নিয়ে।
কিন্তু সে আদ্রিতাকে কিছু বলেনি। আদ্রিতা প্যানিক করবে না হলে। আদ্রিতার পজেটিভ এনার্জি মিরাকে একটু শান্ত করছে।
অপর দিকে, আদ্রিস এবং প্রিয়ার কথা আড়াল থেকে কেউ শুনতে পেলো।
“ঠিকই আছে। একটা দরজা বন্ধ হলে অন্য দরজা খুলে। শক্তিতে না পারলেও বুদ্ধি এবং ইমোশন নিয়ে আমার শেষ চাল হবে এটা। বাজিমাত করতেই হবে আমাকে।”
চলবে?
[ তোমাদের এই রেসপন্সের খেলা খেলা আমাকে সত্যি অবাক করে। আমি এত কষ্ট করে গল্প দেব আর রেসপন্স দেখে মনডা চায় সব বাদ দেই]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার গল্পের লিংক
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮