Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৫


জেন্টাল_মনস্টার

লামিয়ারহমানমেঘলা

পর্ব_৩৫

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]

রাত প্রায় একটা পর্যন্ত সবাই বাগান এড়িয়াতে বসে সময়টাকে উপভোগ করেছিল।
সন্ধ্যার নরম আলো থেকে শুরু করে গভীর রাতের শীতলতা, হাসি, গল্প আর ছোট ছোট মুহূর্তে ভরে উঠেছিল চারপাশ।
এরপর ক্লান্তি ধীরে ধীরে সবার শরীরে ভর করে।
একজন একজন করে যে যার রুমে চলে যায়।
বাড়িটা নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে।

গভীর রাত।
বাইরে শীতল হাওয়া বইছে, পাতাগুলো মৃদু শব্দে কাঁপছে।
রুমের ভেতর আদ্রিতার মাথাটা, রাখা আদ্রিসের বাম হাতের উপর।
দুনিয়ার সব চিন্তা ভুলে শিশুর মতো শান্ত ঘুমে ডুবে আছে সে।
মুখে অদ্ভুত এক নির্ভার প্রশান্তি।
কিন্তু ঘুম আসেনি আদ্রিসের চোখে।
সে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সিলিংয়ের দিকে।
চোখ খোলা, মন জেগে ভারী, অস্থির।
সে জানে, আগামীকাল একটা যুদ্ধ অপেক্ষা করছে।
এই যুদ্ধ বাইরের কারও সাথে নয়, তার নিজের ঘরের সাথে।
নিজের মন, ড্যাডের সাথে।
আদ্রিস আজও বুঝতে পারে না, আদ্রিতার মতো এতটা নিষ্পাপ একটা আত্মার মাঝে কী এমন কমতি আছে।
কেন তার মম – ড্যাড মেয়েটিকে এতটা ঘৃণা করে
কোন অপরাধে, কোন অজানা কারণে।
ঘরের ভেতর শান্ত ঘুমের উষ্ণতা,
আর তার বুকের ভেতর আসন্ন ঝড়ের শব্দ
দুটো রাত পাশাপাশি শুয়ে আছে।
আদ্রিস, আদ্রিতার চুলে নাক ডোবায়,

“নো ম্যাটার হোয়াট ডেস্টিনি রোট ফর আস আদ্রিতা। তুই আমার ছিলি, আমার আছিস, আমারি থাকবি।”


রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফুটেছে ধরণী জুড়ে।
প্রায় ৮ ঘন্টা নিরলস জার্নি করে সায়ের পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ।
এয়ারপোর্টে এসে ইমিগ্রেশনেও বেশি সময় লাগেনি তার৷
সায়ের কাউকে জানিয়ে আসেনি কিন্তু এয়ারপোর্ট থেকে দু একজন সাংবাদিক তার ছবি ঠিকই উঠিয়ে নিয়েছে।

সায়ের গাড়িতে উঠে আদ্রিসকে কল করে।

সকাল সকাল ফোনের শব্দ পেয়ে আদ্রিস বিরক্ত হয়।
আদ্রিতার ঘাড় থেকে মাথাটা উঠিয়ে বিরক্তি নিয়ে ফোন পিক করে,

“হ্যালো।”

“লোকেশন সেন্ড করিস নিত!”

আদ্রিস উঠে বসে বিছনায়,

“চলে এসেছো?”

“হ্যাঁ।”

“ওকে ২ ঘন্টা লাগবে। আমি ম্যাসেজ করে দিচ্ছি। আমি বেরিয়ে যাব সবাইকে নিয়ে ততক্ষণে খান মেনশনে, তুমি প্লিজ আদ্রিতার সাথে থেকো। আমার কাউকে বিশ্বাস নেই।’

” ওকে মাই ব্রাদার, আমি এসে গেছি এখন চিন্তা করবি না।”

“ওকে। রাখছি।”

আদ্রিস কল কেটে সায়ের কে লোকেশন সেন্ড করে দেয়।
এরপর পাশে শুয়ে থাকা আদ্রিতার দিকে চায়।
ঘুমন্ত চোখ জোড়ায় চুমু খায়।
এরপর আদ্রিতার কপালে ওষ্ঠ ছোঁয়ায়,

“স্লিপ ওয়েল মাই লাইফ। কিছু দিন পর তোকে আমি নিয়ে এই দেশ ছাড়ব। সব কষ্ট দুর হয়ে যাবে।”


সকাল সকাল সবার মুড অফ।
আদ্রিস এই সকাল ৮ টায় সবাইকে ডেকে তুলে ব্রেকফাস্ট করতে বসিয়েছে। এখানে শুধু আদ্রিতা নেই।
মিরা বিরক্ত হয়ে বলে,

“এত সকাল সকাল কেন? কাল রাতে এমনিতেই দেরিতে ঘুমিয়েছি।”

“খান মেনশনে ফিরব আমরা৷”

কথাটা শুনে মিরার উদাস হয়ে বলে,

“এখনি?”

“চিন্তা করোনা। আমি যাচ্ছিই সব ঠিক করতে।”

“ভাই, আদ্রিতাকে জানাবা না? “

“ঘুমিয়ে আছে থাক। পরে বলব।”

“ওকে।”

সবাই ব্রেকফাস্ট করে রওনা দেয় খান মেনশনের উদ্দেশ্যে,

সকাল ১০ টা,
ঘুম থেকে উঠে পাশে আদ্রিসকে না দেখে উঠে বসে আদ্রিতা৷
কিছুক্ষণ নীরবে বসে রয় বিছনার উপর।
চারিদিকে পিনপিন নীরবতা। বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে ওঠে।
আদ্রিস বিছনা থেকে নেমে ওয়াসরুমে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।
আশেপাশে কাউকে না দেখে আদ্রিতা সবাইকে ডাকতে শুরু করে,

“প্রিয়া আপু, মিরা আপু, তোমরা কোথায়?”

আদ্রিতা নিচে এসে দেখে সোফায় একজন সুদর্শন পুরুষ বসে। মুখশ্রী গম্ভীর। কপালে রাগের ভাজ। ভ্রু জুগল কুঁচকে আছে।
সে নিউজ পেপার দেখছে মনোযোগ দিয়ে।
তার পরনে ব্রান্ডেড পোশাক। বাম হাতে একটা রোলেক্স। দেখেই বোঝা যাচ্ছে লোকটা রিচ।
আদ্রিতা এগিয়ে যায়।

“আসসালামু আলাইকুম৷”

মিষ্টি একটা কন্ঠ,শুনতেই সায়েরের গম্ভীরতা উধাও হয়ে গেলো।
সায়ের নিউজ পেপার টা রেখে সোজা তাকায়৷
একটা গোলাপি পরি তার সামনে দাঁড়িয়ে।
সায়ের আদ্রিতাকে ছবিতে দেখেছে। কিন্তু বাস্তবে এই প্রথম দেখল।
সায়ের উঠে দাঁড়ায়,

“হেই আদ্রিতা রাইট?”

আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“হ্যাঁ আদ্রিতা। আপনি কে?’

সায়ের মৃদু হাসে,

” আমি সায়ের। তোমার বড় ভাই৷”

আদ্রিতা মিষ্টি হাসে। কিন্তু পরক্ষণেই হাসিটা মিলিয়ে যায়। সায়ের ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“কিন্তু, আমিত আপনাকে চিনি না।”

সায়ের শব্দ করে হেঁসে ফেলে। আজ সে বুঝল আদ্রিস কেন এত পাগল। এই মেয়ের নিষ্পাপত্ব পৃথিবীর সকল পাপকে ধুয়ে ফেলতে সক্ষম।
মেয়েটা এতটা মায়াবী, এতটা ইনোসেন্ট।
সায়ের ফোন থেকে ছবি বের করে তার এবং আদ্রিসের।

“আমি আদ্রিসের বিজনেস পার্টনার।’

আদ্রিতা গোল গোল চোখ দিয়ে সব পর্যবেক্ষণ করছে,

সায়ের একে একে নিজের পরিচয় দিচ্ছে এবং রাশিয়া চেনাচ্ছে আদ্রিতাকে।


মেনশনের বিরাট গেট পেরিয়ে আদ্রিসের গাড়িটা প্রবেশ করে সদর দরজার সামনে।
আদ্রিসের গাড়ি থেকে সবাই বেরিয়ে যায়।
আদ্রিস সবাইকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
আজ আসরাফ খানও উপস্থিত মেনশনে।
সবাই লিভিং রুমেই বসে ছিলো।
মিরা ভেতরে প্রবেশ করে ফাহিমকে দেখে আদ্রিসের হাত ধরে বসে।
আদ্রিস চোখের ইসারায় বোঝায় সব ঠিক আছে তাকে বিশ্বাস করতে।

ফাহিম, মিরাকে দেখে উঠে দাঁড়ায়,

” আরে আরে মিরা, এতক্ষণে সময় হলো ফেরার? জানো আমি কাল থেকে বসে আছি তোমায় নিয়ে যাব বলে।”

আদ্রিস সোজা খালু আফজাল শেখের সামনে গিয়ে বসে পায়ের উপর পা তুলে।
আফজাল শেখ ভ্রু কুঁচকে বলেন,

“ইয়াং ম্যান, ম্যানার নামের কিছু একটা আছে এটাকি ভুলে গেলেন?”

আদ্রিস বাঁকা হাসে,

“না কিছুই ভুলিনি। আপনার সাথে কিছু কথা ছিলো।”

“বলো।”

“আপনার থার্ড ক্লাস মেয়ে, নামটা যেন কি রেভেন?”

“বস ঐশী৷”

“ও ইয়াহ ঐশী। ওই থার্ড ক্লাস মেয়েটা আমার কলিজাকে অসুস্থ বানিয়ে ফেলেছিলো। মনে আছে নিশ্চিত কিছু দিন আগে আদ্রিস হসপিটালে ছিলো। জানেন কি কার জন্য ছিলো?”

আসরাফ খান রেগে যায়। বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়,

“এই পাগল হয়েছিস? কি সব বকছিস হ্যাঁ? “

আসরাফ খান রেগে গেলেও আদ্রিস তার শীতল কন্ঠেই প্রতিত্তোর দেয়,

“রেভেন ভিডিও অন কর।”

রেভেন সে দিনের সিসিটিভি ফুটেজ বের করে রেখেছিলো। সেটা অন করে টিভিতে। এসব ওদের পূর্বপরিকল্পিত প্লান ছিলো। তাই কিভাবে কি করবে এটা আগে থেকেই সেট ছিলো।
মিশু এবং ঐশী মিলে যে কাজটা করেছে এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

“বলুন এবার ঐশী এবং মিশুকে কি করব?
ওহ নওশাদ আঙ্কেল আপনারত নাম মাত্র মেয়ে ছিলো আদ্রিতা। এবার বলুন এই মিশুটাকে কি শাস্তি দেব৷”

ঐশী এবং মিশু দু’জন, দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে কি করবে তারা৷
আদ্রিস পকেট থেকে তার Colt Python এর রিভলবারটা বের করে। এটা তার চরিত্র এবং রুচিকে নির্দেশ করে।

“রক্তা রক্তি করতে আমি আশিনি। আমি হিসাব কসতে এসেছি। একে একে সব হিসাব হবে। বলুন কি করব?”

আফজাল শেখ রাগান্বিত দৃষ্টিতে স্ত্রী এবং মেয়ের দিকে তাকান।
ঐশী মাথা নামিয়ে রেখেছে।

“আদ্রিস আমি জানতাম না ও এখানে এসে এসব করে। আমি ওর হয়ে ক্ষমা চাইছি।”

আদ্রিস কথাটা শুনে নিজেকে ঢিলা ছেড়ে দেয় সোফায়,

“করব না ক্ষমা।”

আফজাল শেখ চোখ তুলে তাকান।

“আদ্রিস আমি তোমার থেকে বয়সে বড়৷”

“এই জন্যই রিভলবার থেকে এখনো গুলি বার হয়নি। সম্মান করছি আমি৷ রেভেন নিয়ে আয়।”

“জি বস। আমি নিয়ে আসছি।”

রেভেন গিয়ে দুই প্লেট শুকনা মরিচ ঐশী এবং মিশুর সামনে রাখে,

“এগুলো খাওয়া শুরু করো।”

“আ আদ্রিস ভাইয়া৷”

“আই সেইড শুরু করো।”

আদ্রিসের চিৎকার শুনে কেঁপে ওঠে সবাই।
মাধবী বেগম ঘামছেন। সামান্য সে দিনের করা কান্ডে আদ্রিস এতটা খেপেছে। তাহলে এত দিনে হয়ত এটাও জেনে গেছে আদ্রিতাকে বিক্রি করে দিয়েছিলো মাধবী বেগম নিজে।
আদ্রিস এরপর কি করবে তাহলে?..

ঐশী এবং মিশু ভয়ে ভয়ে ঝাল খেতে শুরু করে। দু চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে ওদের। অসম্ভব ঝালে কান, গাল লাল হয়ে গেছে। অর্ধেক প্লেট ঝাল শেষ করে দু’জনই ওয়াসরুমে চলে যায় দৌড়ে।

“হাফ প্লেট শেষ করল। ইট’স ওকে। লেট’স মুভ অন।
ড্যাড।”

আদ্রিস যখন ড্যাড বলল তখন মাধবী বেগম আদ্রিসের সামনে এগিয়ে আসে।

“আমি দোষী। আদ্রিতাকে আমি সহ্য করতে পারিনা। তোর ড্যাডের কোন দোষ নেই৷”

আদ্রিস স্থীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মমের দিকে।
দু চোখে তার স্বপ্ন ভাঙা আর্তনাদ।

“মম, হোয়াই ইউ হেট হার? আপনি জানেন ও আমার জন্য কি? আমার কলিজা। আমার অন্তর। আমার হৃৎস্পন্দন। ওকে না ভালোবাসুন নিজের ছেলেকেত ভালোবাসেন। আমার জন্য হলেও ওকে মেনে নিতেন। এত কিসের দাম্ভিকতা আপনার?”

আসরাফ খান রেগে কটকট করতে করতে বলে ওঠেন,

“থার্ড ক্লাস একটা রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ে কখনো খান বংশের বউ হতে পারেনা৷ তুমি ওকে চাইলে তোমায় আমি ত্যাজ্য করব।”

আদ্রিস কথা গুলো শুনে শব্দ করে হেঁসে ফেলে। আদ্রিসের হাসির শব্দ লিভিং রুম জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। উপস্থিত সবাই স্থীর হয়ে তাকিয়ে আছে আদ্রিসের দিকে।

“ডু ইট ড্যাড। ইউ আর এ ব্লাডি লায়ার।
আমাকে দেওয়া ওয়াদা আপনি ভুলে গেছিলেন সেটা মেনে নিয়েছিলাম। আজ মানতে পারছি না আপনাকে।
আমার আপনার সম্পত্তিতে কোন লোভ নেই।
আমাকে আল্লাহ অনেক দিয়েছে। শুনে রাখুন ড্যাড এক ওই মেয়ের জন্য আমি মরতেও পারি, মারতেও পারি।
আমার কোন ভয় নেই।”

“হ্যাঁ এই পৃথিবীতে ওই এতিমের আছে কে? তুমিই একা দয়ার সাগর। আর কেই বা ওকে পছন্দ করে।”

আদ্রিস নিজের হাত শক্ত মুঠোবন্দি করে নেয়।
মিরা গিয়ে আদ্রিসকে জড়িয়ে ধরে,

“ভাই শান্ত হ। বিষয়টা বিগড়ে যাবে। সামনে যে দাঁড়িয়ে সে তোর ড্যাড ভুলে জাস না৷”

“ভুলিনি আপু। আমার আফসোস হয়। আমি যদি ভুলে যেতে পারতাম এরা আমার মম- ড্যাড তবে হয়ত আমার আদ্রিতার জীবনে কষ্ট কম হতো। ওর জীবনটা হাসি ঠাট্টায় মেতে থাকত। ওর চোখে কখনো পানি আসত না। ওর জীবন ফুলের বাগিচার মত সুন্দর হতো।
আমি যদি ভুলে যেতে পারতাম তবে, সব ধ্বংস হয়ে যেত। ওর প্রতি হওয়া প্রতিটা অন্যায়ের কঠোর হাতে শাস্তি দিতাম। কেউ ঠেকাতে পারত না আমাকে।

মাধবী বেগম কান্না করছেন নীরবে। আদ্রিসের প্রতিটা কথা তাকে আঘাত করছে। কোথাও না কোথাও তিনি নিজের ভুকটাকেও বুঝতে পারছেন। তিনি আদ্রিসের দিকে এগিয়ে গেলেন,

“আদ্রিস বাপ আমার। আমরা তোর মা বাবা আদ্রিস৷”

“হ্যাঁ মম, আপনি আমার মম। উনি আমার ড্যাড।
আমার একটা ছোট বোন আছে, অর্থ- সম্পদের অভাব নেই, মাথার ওপর বিশাল একটা বাড়ি আছে, ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ আমার জীবন। এক কথায় সোনার চামুচ মুখে নিয়ে জন্মানো ছেলে আমি ।
কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন, আদ্রিতার কী আছে?
এই আদ্রিস খান ছাড়া ওর জীবনে আর কে আছে?
কেউ না। একদম কেউ না।
ওর পৃথিবী বলতে শুধু আমিই।
একটা আত্মা, যেটা আগেই ভেঙে চুরমার হয়ে আছে,
সেই শেষ সম্বলটুকুও আপনারা কেড়ে নিতে চান।
বলুন তো মম
এটাকেই কি মানুষ হওয়া বলে?
এটাকেই কি মনুষ্যত্ব বলে?”

চলবে?

[ রেসপন্স করিও। ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছিলাম লিখতে লিখতে। ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply