জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৩২
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
“মাধবী তুমি কি কিছু করবে নাকি আমাকে করতে বলছো?”
“আমি আর কত করব? সব রকমের চেষ্টাত আমি নিজেই করলাম। তুমি কি করলে?”
“আমি কি করলাম মানে? ২৬ বছরের এক বাছুর ছেলে তাকেই কন্ট্রোল করতে পারোনি কেমন মা তুমি?”
“আমার মাতৃত্বে প্রশ্ন তুলোনা আসরাফ। ওই মেয়েকে পতিতালয়ে পর্যন্ত বিক্রি করেছি আমি। আমি কি করব তোমার ছেলে ওকে সব জায়গা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।”
আসরাফ খান দ্বিতীয় কোন তর্ক করলেন না। তিনি নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন।
আসরাফ খানের ভ্রু কুঁচকে এসেছে। মাথায় হাত দিয়ে চুল গুলো শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে।
“আমাকে কিছু করতে হবে। অনেক দেরি না হওয়ার আগে আমাকে আগুন নেভাতে হবে। আগুন একবার ছড়িয়ে পড়লে আমার বিনাস নিশ্চিত।”
বেডরুমের দরজা খোলার শব্দ শুনে আদ্রিতার কোন হেরফের হলোনা। কারণ সে শুনতেই পায়নি কিছু। তার দৃষ্টিত আকাশমনণি গাছের দিকেই স্থির।
হটাৎ করেই নিজেকে হাওয়াতে ভাসমান অনুভব করে আদ্রিতা হাতের কাছে যেটা পায় সেটাকে খামচে ধরে।
আদ্রিস সোজা হাঁটছে।
“কি করছেন এসব?”
“কি করব?”
“নামান আমাকে।”
“তোকে কোলে নেওয়ার কোন শখ করেনা আমার। এমনিতেও তুই ভীষণ ভারী৷”
“আমি ভারী?”
“হ্যাঁ।”
“নামান আমাকে আমি হাঁটতে পারি৷”
“মটুকে মটু বললে দোষ?”
“আমি মটু না৷”
“ত কি মোটি?”
আদ্রিতা মুখ ফিরিয়ে নেয়। আদ্রিস হুট করেই দাঁড়িয়ে যায়৷
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আদ্রিতাকে মাটিতে নামায়৷
আদ্রিতা দেখে তার পায়ের সেকল দু’টো থেমে গিয়েছে।
আদ্রিস, আদ্রিতাকে ফ্লোরে নামিয়ে দেয়।
আদ্রিতা তাকিয়ে থাকে। আদ্রিস ঝুঁকে আদ্রিতার পায়ের থেকে সেকল খুলে দেয়। কিন্তু লোহার কড়া দু’টো লেগে আছে পায়ে।
আদ্রিস উঠে দাঁড়ায়। আদ্রিতার কিছু বুঝে ওঠার আগেই আদ্রিতার গলাটা চেপে ধরে দেয়ালে সাথে মিশিয়ে নেয়। হটাৎ কি থেকে কি হয়ে গেল। আদ্রিতা বুঝে ওঠার আগেই কাজটা সেরেছে আদ্রিস।
“তোকে বলেছি না আমার থেকে মুখ ফেরাবি না? তোকে বলেছিলাম আমি? মুখ ফেরাস কোন সাহসে হ্যা?”
আদ্রিতার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সে আদ্রিসের হাত ধরে, নিজের থেকে ছাড়াতে চায়৷
আদ্রিস, আদ্রিতার ছটফটানি দেখে আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় আকড়ে ধরে। আদ্রিতার ভাবনার থেকেও ভয়ঙ্কর চুমু সেটা।
আদ্রিস, চেপে ধরে রেখেছে আদ্রিতাকে।
আদ্রিতা নিঃশ্বাস নিতে পারছে না।
আদ্রিস, কিছুক্ষণ পর সরে আসে। আদ্রিতার চোখ দু’টো দিয়ে পানি ঝড়ছে।
“রিলাক্স।”
আদ্রিতা ঢুলে পড়ে আদ্রিসের বুকে।
“সামান্য একটা কিস নিতে পারছিস না?”
আদ্রিতা ফুঁপিয়ে ওঠে,
“আপনি অনেক খারাপ।”
“খারাপ মানুষটার বুকে লেপ্টে থাকতে অপরাধ বোধ হচ্ছে না? “
আদ্রিতা ভেংচি কাটে।
“আবার ভেংচি কাটলি?”
“না৷”
আদ্রিস, আদ্রিতাকে জড়িয়ে নেয় নিজের বুকে। আদ্রিতার লাল টমেটো, নাকে চুমু খায়।
“আদ্রিতা, মুখ ফেরাবি আর আমার থেকে?”
“না৷”
“গুড৷ মনে থাকবেত?”
“হুম৷”
“চল খেতে চল সবাই ওয়েট করছে।”
আদ্রিস পুনরায়, আদ্রিতাকে কোলে তুলে নেয়।
মিরা, প্রিয়া, আদ্রিসের কোলে আদ্রিতাকে দেখে শুধু তাকিয়েই আছে। তাদের চোখের সামনে এই দৃশ্য টা ভীষণ কিউট দেখাচ্ছে।
“ওও কি কিউট৷”
“আসলেই। কি কিউট৷”
রেভেন, পানি পান করতে করতে প্রিয়ার দিকে তাকায়৷
প্রিয়া মায়াবী নয়নে তাকিয়ে আছে আদ্রিস আদ্রিতার দিকে।
আদ্রিস, আদ্রিতাকে প্রিয়ার পাশে বসিয়ে দেয়৷ এরপর নিজে তার পাশে বসে।
মিরা, আদ্রিতার হাতে হাত রাখে,
“আদ্রিতা, খেয়ে নেও। সকল রাগ, অভিযোগ, অভিমান এক পাশে নিজের শরীরের খেয়াল এক পাশে।”
“হুম৷”
সবাই মিলে লাঞ্চ করে। আদ্রিস অনুভুতি প্রকাশে যতটা কাঁচা, খুব ক্রোধে ফেটে পড়ে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াতে ততটাই মাহির৷
আদ্রিসের ভালোবাসা ভয়ঙ্কর।
এর থেকে শত্রুতা শ্রেয়। এক বারে মেরে ফেলে কোন ঝামেলা নেই।
কিন্তু ভালোবাসলে তাকে নিজের নিকটে রাখার জন্য সব করতে পারে। বাধ্য করাটা সে ভালোই জানে।
আদ্রিস খেতে খেতে হাসছিল প্রিয়ার সাথে।
আদ্রিতার হাসি দেখে আদ্রিসের হৃদয় শান্ত হয়।
আদ্রিস, হাত টেবিলে ঠেকিয়ে মাথাটা হাতের উপর ঠেকিয়ে আদ্রিতার হাসি দেখছে দু চোখ ভরে।
“তারপর কি হলো জানিস আদ্রিতা?”.
” কি হলো?”
“বেড়াল বলল, আমিত ভাজা মাছ খাই নি৷”
আদ্রিতা পুনরায় শব্দ করে হাসি শুরু করল। মিরা, আদ্রিতার হাসির সাথে আরও একজনকে পর্যবেক্ষণ করেছে। সেটা হলো আদ্রিসের চোখে আদ্রিতার হাসি মাখা মুখের গুরুত্ব ঠিক কতটা।
আদ্রিসের কাছে সমস্ত শব্দই ফিকা। সব ভুলে সে কেবল আদ্রিতার হাসির শব্দ শুনতে ব্যাস্ত।
ছেলেটদ একটু না একটু বেশিই রাগী তবে সে ভালোবাসতে জানে।
প্রিয়া হাসতে হাসতে রেভেনের দিকে চায়। রেভেন তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। দুইজনের চোখা চোখি হতে দু’জনই ফিরে তাকায়৷
“আজকে বাগান সাইডে ছোট খাটো পার্টিট ব্যাবস্থা করোনা ভাইয়া। মজা হবে। এমনিতেও কাল আমরা চলে যাব।”
কথাটা শুনে রেভেনের মন খারাপ হয়ে যায়৷
আদ্রিস ফিরে তাকায় প্রিয়ার দিকে।
“ঠিক আছে আমি ব্যাবস্থা করছি।
মিরা আপু তোমার সাথে আমার কথা আছে একটু এসো।’
” হ্যাঁ চল।”
শীতের দুপুর গড়িয়ে যখন বিকালের প্রহর শুরু হয়৷ এটা ঠিক সেই সময়টা৷ মৃদু বাতাসে গাছের পাতা দুলছে। ফুলের ঘ্রাণ মো মো হয়ে গেছে পরিবেশ।
বাগানের চারিদিকে শীতের ফুল ফুটেছে রং বেরঙের।
নানা রঙে বাগান পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
বাগানের সাইডে একটা বেঞ্চ আছে।
আদ্রিস আর মিরা বাগানের সেই সাইডে চলে আসে।
দু’জন বেঞ্চে বসে৷
“আপু, কি বলতে চাইছিলে?”
“হ্যা এ এক ভয়ানক সত্য। কিন্তু আমি চাই তুই ধৈর্য ধর।”
“বলো।”
“বড়ো মা আর আমার আম্মু মিলে আদ্রিতাকে পতিতালয়ে বিক্রি করার কথা ভাবছিলো। আদ্রিতা নিজের ইচ্ছায় যায় নি কোথাও। ওকে ট্রাপে ফেলা হয়েছে।”
“কেমন ট্রাপ?”
“আমি ভালো বলতে পারিনা। তবে বড় মা হয়ত আদ্রিতাকে অনেক ইমোশনাল ব্লাকমেইল করেছিল সে দিন৷ আমি স্পষ্ট শুনেছি আদ্রিতাকে বড় মা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেনি। বরং আদ্রিতাকে বিক্রি করতে টাকা দিয়েছিল উল্টে।”
আদ্রিস, তাকিয়ে আছে মিরার দিকে। মিরা ফিরে বসে। আদ্রিসের হাত ধরে নেয়।
“ভাই রিলাক্স। তুই বেশি রাগবি না৷ বিষয়টাকে ঠান্ডা মাথায় হ্যান্ডেল করবি। ওরা তোর মা বাবা।”
আদ্রিস নিশ্চুপ তবে মা বাবা কথাটা শোনা মাত্র আদ্রিস বলে উঠল,
“আই নো আপু। দ্যাটস হোয়াই দেই আর স্টিল এলাইভ৷”
মিরার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। আদ্রিসের চাহনি শান্ত কিন্তু ভয়ানক।
“তুমি চিন্তা করোনা। আমাকে বুঝতে দেও বাকিটা৷”
“আর আরও একটা কথা৷”
“কি?”
“প্রিয়ার বিয়ে ঠিক করছে৷”
“কার সাথে?”
“সেই আবালের সাথে৷”
“মম ড্যাড, দেই আর গ্রিডি৷”
“আদ্রিস৷”
“হুম?”
“আমাকে ডিভোর্স পেতে সাহায্য করবি ভাই।’
” আপু!”
মিরার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
“আমি জানি তুই আমার ভাই। কিন্তু এটাও জানি এই মুহুর্তে তোর এটা দেখা প্রয়োজন।”
মিরা নিজের ওড়না ফেলে জামাটা কিছুটা নামিয়ে দেয়। মিরার কাধের দৃশ্যমান আংশে কালচে হয়ে আছে। আদ্রিসের চোখ ছলছল হয়ে ওঠে। এত গভীর ক্ষত৷
“আপু!”
মিরার চোখ বেশে পানি গড়িয়ে পড়ছে,
” ৫ টা বছর সয়ে আসছি আদ্রিস। আর পারছি না। আম্মু আব্বু শুধু মানিয়েই নিতে বলছে। এটাত একটু অংশ। আমার শরীরে এমন অসংখ ক্ষত আছে।
ও প্রতি রাতে মাতাল হয়ে এসে আমাকে মারত৷”
“কিন্তু তোদের লাভ ম্যারেজ ছিল।”
“জানি,
বিবাহ তখনই ফুলের মত সুন্দর যখন পার্টনার সঠিক। আমি ভুল করেছি আদ্রিস। নিজের জীবনের এত গুলো বছর শেষ করে ফেলেছি।”
আদ্রিস, মিরার হাত ধরে শক্ত করে।
“রাশিয়া যাবে?”
“নিয়ে যাবি?”
“হুম। আর ওকেও নরক যন্ত্রণা ভোগ করাব৷”
আদ্রিস, মিরাকে জড়িয়ে ধরে।
এ পৃথিবীতে ভালো মানুষের পথ যে বড্ড কঠিন। মিরা তার জ্যান্ত প্রমাণ।
“আপু, এত কিছু কিভাবে সহ্য করলে একা একা।”
“বিয়ের পর রে ভাই, পরিবার এভাবে একটা মেয়েকে একা করে দেয়। নিজের সাথে না ঘটলে জানতামই না। আমি সাপোর্ট পাচ্ছিলাম না আদ্রিস। বহু চেষ্টা করেছি। যত চেষ্টা করেছি থামাতে। ততই আঘাত পেয়েছি বেশি।”
আদ্রিস, মিরার চোখের পানি মুছিয়ে, হাতে চুমু খায়।
“আমি সব ঠিক করে দেব। একটু সময় দেও৷”
চলবে?
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩০
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৯
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৭