Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩০


জেন্টাল_মনস্টার

লামিয়ারহমানমেঘলা

পর্ব_৩০

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]

আদ্রিতার পায়ের সেকল গুলোর দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
বাম হাতে ফোন কথা বলছে সায়েরের সাথে। ফোনের ওপাশ থেকে সায়ের এক ভাবেই কিছু বলে চলেছে।
আদ্রিস দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

“তুই কি আমার কথা বুঝতে পেরেছিস আদ্রিস?”

“হ্যাঁ ভাইয়া। বুঝতে পেরেছি৷”

“সব সময় চেষ্টা করবি নিজের এবং আদ্রিতার সম্পূর্ণ খেয়াল রাখা। আর মাত্র কিছু দিন আছিস। আমি চাই আদ্রিতার পড়ালেখা স্টপ করে দিবি তুই। আগামী কিছু দিন আছিস তুই বাংলাদেশ। ওকে রাশিয়াতে এনেই কলেজে ভর্তি করা যাবে।
আদ্রিতার মন খারাপ করলেও প্লিজ, এই রিক্স নিস না৷”

“ওকে ভাই।”

“টেক কেয়ার আদ্রিস, তোকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে আমি আমার প্রাণভোমরা হাতে নিয়ে ঘুরছি।”

আদ্রিস হেঁসে ফেলে,

“রিলাক্স আই এম ওকে। আমার আবার কি হবে? “

“রুলস নাম্বার ১০২. শত্রু পক্ষকে কখনো দুর্বল ভাববি না। হোক সে তোর শরীরে ছেদ করা একটা মসা তবুও তুই নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে মোকাবেলা করবি।”

আদ্রিস এবার মাথা ঝুকিয়ে শব্দ করে হেঁসে দেয়,

“ওকে জাঁহাপনা আপকে হুকুম মেরে লিয়ে মেরে জিন্দেগী হে৷”

“হা হা মুঝেভি হিন্দি আতাহে।”

“হ্যাঁ সেটা ভালোই বোঝা যাচ্ছে।”

“আচ্ছা আমি রাখছি। আল্লাহ হাফেজ।”

“আল্লাহ হাফেজ।”

সায়ের কল কেটে দেয়।
রাশিয়ায় নিজের অফিস কেবিনে বসে আছে সে।
বেশ সুদর্শন পুরুষ সে। গতানুগতিক একটু শুভ্ররং গায়ের। পরনে ব্রাউন রঙা কোর্ট প্যান্ট। বয়স কমবেশি হলে ৩৫ কি ৩৬ হবে। একজন সুঠাম দেহের পুরুষ। আত্মমর্যাদা সম্পূর্ণ এবং বিপুল ঐশ্বর্যের মালিক সে। বলা চলে আদ্রিসের বিজনেস পার্টনার। কিন্তু আদ্রিসকে বিজনেস শেখানো মানুষ টা সায়ের। সায়ের আদ্রিসকে নিজের ভাইয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আদ্রিসের জন্যও সেটাই।
সায়েরের অতীত ছিল বাংলাদেশে কিন্তু কোন একটা দুর্ঘটনার কারণে তাকে নিজের ছোট বোনকে এবং বাবাকে হারাতে হয়। এরপর সে মাকে নিয়ে রাশিয়া চলে যায়। সেখানে গড়ে নিজের নাম, ঐশ্বর্য যাবতীয় সব কিছু।
রাশিয়া শহ নানা দেশে একজন তরুণ সি ইও হিসাবে বেশ নাম ডাক আছে সায়েরের। পুরো নাম” সায়ের সুভহান আলভি।” বাবা ছিলেন, “হসান সুভহান আলভি। এবং মা, “রাদিয়া সুলতানা মিহু। “

ফোনটা কেটে সায়ের দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
ঘড়ির কাটায় সন্ধ্যা ৬ টা বাজে।
লাঞ্চ করা হয়নি এখনো।
সায়ের নিজের ব্যাগটা নিয়ে অফিস কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়৷
তার দু’জন দেহরক্ষী সর্বদা তার সাথে থাকে।
সায়ের তাদের সাথেই বেরিয়ে যাচ্ছিল।
তাদের অফিস ফ্লোর থেকে এখনো ৪৫ তলা নিচে নামতে হবে গ্রাউন্ড ফ্লোরে যেতে।
সায়ের লিফট এ ওঠার জন্য সে দিকে যাচ্ছিল। এমন সময় রিসিপশনে একটি মেয়ের সাথে রিসিপসনিস্ট এর কথা কাটাকাটি কানে আসে তার। থেমে যায় সায়েরের পা।
সায়ের ফিরে চায় সে দিকে।
বেশ সুন্দরী, মর্ডান একটি মেয়ে। পরনে কালো টপস এবং ব্যাগি জিন্স।
মেয়েটা দেখতে রাশিয়ান মেয়েদের মতই কিছুটা। কিন্তু কথা বলছে ইংরেজিতে, মাঝে মধ্যে খাস বাংলাশ গালাগালি করছে বলে বোঝা যাচ্ছে সে বাঙালী।
সায়েরের চাহনীতে বিরক্তি,
সে হেটে এগিয়ে যায় রিসিপশনের দিকে,

“হোয়াইট’স গোইন অন হেয়ার। দিস ইজ মাই অফিস নট এ ফিস মার্কেট৷”

সায়েরের চিৎকার চুনে রিসিপশনিস্ট মেয়েটা এগিয়ে আসে,

“আই এম সরি বস। বাট দিস গার্ল ইজ মেকিং টু মাচ আর্গুমেন্ট।”

মেয়েটার পুরো কথা শেষ হতে না হতেই পেছনে থাকা মেয়েটা, সামনের মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে সায়েরের মুখোমুখি দাঁড়ায়। মেয়েটা সর্ট কিন্তু হিলের কারণে সায়েরের থুঁতনি পর্যন্ত হাইট হয়েছে৷

“তুমি কল’স কেন রিসিভ করছো না? সমস্যা কি তোমার?”..

” আমার মেজাজ খারাপ করার জন্য তোমার মুখটা দেখাই যথেষ্ট ইস্কা। প্লিজ আমার পিছু ছেড়ে দেও। উই আর ইন সেপারেশন। তোমাকে তোমার সব প্রাপ্য আমি বুঝিয়ে দিয়েছি৷”

“লিসেন সায়ের, ক্যান উই টক? জাস্ট ৩০ টা মিনিট সময় দেও। আমি কথা দিচ্ছি আমি আর কেনো বিরক্ত করব না তোমাকে। তোমার অফিসেও বলে দিয়েছো আমি আসলে তোমার কোবিনে না যাবার অনুমতি দিতে।”

“ইয়াহ, আমি এটাই বলেছি। ইস্কা, ফর গড সেক আমাকে মুক্তি দেও। যখন আমি তোমাকে রাতের পর রাত বুঝিয়েছি লেট’স গিভ এ চান্স টু আওয়ার রিলেশনশিপ তখনতো তোমার মনে হয়নি এসব? এখন এসব আদিক্ষেতা না দেখালেই খুশি হই।
শোনো ইস্কা, মানুষের ভালোবাসায় ধোঁকা যেমন মানুষকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। তেমনি কঠিনও বানিয়ে দেয়। আর আমি সায়ের সুভহান আলভি, ফেলে দেওয়া থুথু মুখে নেই না৷”

কথাটা বলে সায়ের হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল। ইস্কার মুখের সামনে লিফট এর দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ইস্কা তাকিয়ে রইল কিছু বলতে পারল না।

[ আদ্রিসের সাথে সায়েরের পরিচয় এবং সায়েরের অতীত সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানব ]


আদ্রিস, ফ্রেশ হয়ে এসে আদ্রিতার পাশে শুয়ে পড়ে।
আদ্রিতাকে বুকে টেনে নেয়। আদ্রিতাকে টেনে আনার সময় তার পায়ের সেকলটা শব্দ করে ওঠে৷
আদ্রিসের ভেতর থেকে বেরিয়ে আছে দীর্ঘশ্বাস। আদ্রিতার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে আদ্রিস,

“তোকে আমি আজ মেরেই ফেলতাম। শুধু নিজেকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি আমি জানি। আমি যেমন ধৈর্যশীল তেমন আমার ধৈর্যের একটা বাঁধ আছে। একবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে তোকে আমার হাত থেকে তোর বাপও বাঁচাতে পারবে না।
বি অবিডিয়েন্ট আদ্রিতা। আই ডোন্ট লাইক নটি গার্ল’স৷”


সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে রুম থেকে বাহিরে এসে পুরো মেনশন জুড়ে গার্ড’স দেখে প্রথম হতভাগ হয়ে তাকিয়ে রয় রেভেন।
তার ঠিক ১০ মিনিট সময় লেগেছে এটা বুঝতে সে আসলে কোথায়। কাল যখন এসেছিল তখনত কেউই তেমন ছিলনা।
সকাল হতে না হতেই এত গুলো গার্ড’স ডিউটিতে লেগে গেছে।
বাহ কি দারুণ। কিন্তু এভাবে আঁটকে রাখলে আদ্রিতা পালাতে চাইবে না আবার।
রেভেন এসব ভাবছিলই এমন সময় পেছন থেকে আদ্রিস এসে রেভেনের কাধে হাত রাখে,

“কিরে গুড মর্নিং।”

রেভেন ফিরে তাকায়।

“গুড মর্নিং বস৷”

“প্রিয়াকে কল করেছিলি?”

“হ্যাঁ, ওরা নাকি রেডি। আমি এক্ষুনি বের হবো।”

“ওকে। কেয়ারফুলি ড্রাইভ করবি।’

” ওকে বস । একটা কথা বলব। কিছু মনে না করেন।”

আদ্রিস পানি খেতে খেতে উত্তর দেয়,

“আস্ক।”

“এভাবে আঁটকে রাখতে চাইলে ম্যাম আবার পালাতে চাইবে নাত?”

আদ্রিস, পানির গ্লাস মুখে রেখেই আড় চোখে তাকায় রেভেনের দিকে।
রেভেন দাঁত বের করে ২৪ পাটি,

“হেহে, আই এম জাস্ট ট্রাইং টু সে,
মানে, এভাবে বেঁধে রাখলে যে কেউই পালাতে চাইবে তাইনা?”..

আদ্রিস, গ্লাসটা টেবিলে রেখে সোজা রেভেনের দিকে তাকায়৷
রেভেন শুকানো ঢোক গিলে,

” ব বস দেরি হয়ে যাচ্ছে আমি আসছি। “

রেভেন বেরিয়ে যায় দ্রুত।
আর কিছু সময় থাকলেই মৃত্যু নিশ্চিত ছিল।


মিরা এবং প্রিয়া রেডি হয়ে বসে আছে।
প্রিয়ার মনটা খারাপ কাল থেকেই। প্রিয়া প্রথম ভেবেছিল এটা আদ্রিতার জন্য। কিন্তু এখনত আদ্রিতা সেফ। তারা যাচ্ছে দেখা করতে তবে কিসের এত দুশ্চিন্তা।
প্রিয়া, মিরার পাশে এসে বসে,

“আপু।”

“হুম?”

“তোমার মন খারাপ?”

“নাত কেন?”

“না তোমাকে দেখে বেশি একটা ভালো ঠেকছে না।”

“কাল রাতে ঘুম কম হয়েছে। তা ছাড়া তেমন কিছুই না। “

“মিরা আপু।”

“বল?”

“ভাইয়ার সাথে সব ঠিক আছেত?’

চুপ হয়ে যায় মিরা। কোন উত্তর দেবার আগেই প্রিয়ার ফোন বেজে ওঠে। রেভেনের কলার আউডি দেখে প্রিয়া কল রিসিভ করে,

” হ্যালো রেভেন আপনি কেথায়?”

“আমি নিচে চলে এসো।”

“ওকে।”

প্রিয়া কল কেটে মিরার দিকে তাকায়,

“চলো যাই।”

“চল।”


ব্রেকফাস্ট প্লেটে সাজিয়ে, আদ্রিতার জন্য রুমে নিয়ে এসেছে আদ্রিস।
আদ্রিতার ঘুম ভাঙার পর সে বিছনার উপরেই বসে আছে।
তার দম বন্ধ বন্ধ ঠেকছে।
হুট করেই এভাবে বন্দি বানানোর কি ছিল।
আদ্রিতার ভালো লাগছে না। মনের ভেতর এত অশান্তি নিয়ে ভালো করে কিছু ভাবতেও পারছে না।
হুট করে দরজা খুলে আদ্রিস ভেতরে প্রবেশ করে।
আদ্রিতা পাশ থেকে ওড়ানাটা নিয়ে শরীরে জড়িয়ে নেয়।
আদ্রিস খাবার প্লেট খানা আদ্রিতার সামনে রাখে,

“খেয়ে নে।”

“ইচ্ছে করছে না।”

“থাপ্পড় মারব না। এমনি এমনি ইচ্ছে করবে।”

“আমার খেতে ইচ্ছে করছে না। জোর কেন করেন? পরে খেয়ে নেব৷”

কথাটা বলতে দেরি নাই, আদ্রিসের বাম হাতের থাপ্পড় পড়ে আদ্রিতার গালে।
আদ্রিতা থাপ্পড়ের ফোর্সে মাথাটা ঘুরিয়ে নেয়।
গাল তার পুড়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। মাথাটাও ঝিমঝিম করছে।
আদ্রিস প্লেট টা বেড সাইড টেবিলে রেখে, আদ্রিতার চুলের মুঠি ধরে নিজের দিকে ফেরায়।

“আমার সাথে নাটক করছিস? আমার সাথে? এখন তোর এত সাহস হয়ে গিয়েছে আমার সাথে নটক করবি?”

আদ্রিতা ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আদ্রিসের হাতে হাত রেখে কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলে,

“ছাড়ুন লাগছে।”

“তুই আমার সামনে না খেয়ে নাটক করবি আর আমি তোকে ছেড়ে দেব হ্যাঁ? “

আদ্রিস নিজের মুঠো আরও শক্ত করে। আদ্রিতা না পেরে আদ্রিসের বুকে হাত রেখে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আদ্রিসকে সরাতে। কিন্তু আফসোস এত চেষ্টা করেও এক চুল পর্যন্ত নড়াতে পারেনা।
আদ্রিস, আদ্রিতার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে,

“শোন, আদ্রিতা আমার ধৈর্যের পরিক্ষা নিস না। তোর উপর এইবার আমি কোন দয়া দেখাব না। আমার যদি তোর গায়ে হাত তুলতে হয় না। তুই পারবি না সেটা সইতে। সময় থাকতে ভালো হয়ে যা।”

আদ্রিসের কথা বলার মাঝেই রুমে প্রিয়া আর মিরা প্রবেশ করে।
আদ্রিসকে এভাবে আদ্রিতাকে চেপে ধরতে দেখে দু’জনই ছুটে আসে।
মিরা আদ্রিসের হাত থেকে আদ্রিতার চুল ছাড়ায়,

“আদ্রিস পাগল হয়ে গেছিস? কি করছিস এইসব?”

“ছাড়ো আপু। ওর ঢং মেটাতে দেও আমাকে।”

“আদ্রিস কাম ডাউন। আর ইউ ক্রেজি? এভাবে মারলে সমাধান হবে?”

আদ্রিস রাগে ফুসছে। আদ্রিতা, প্রিয়াকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।
প্রিয়া মিরাকে ইসারা করে।
মিরা, আদ্রিসকে টেনে বাহিরে নিয়ে আসে।

“ছাড়ো আমাকে আপু। আজকে ওকে আমি মেরেই ফেলব।”

“আদ্রিস স্টপ। কি হচ্ছে এসব?”

আদ্রিস বসে পড়ে সোফায়। রাগে ওর কপালের রগ পর্যন্ত ফুলে উঠেছে।
মিরা আদ্রিসের পাশে বসে। আদ্রিসকে টেনে আনতে গিয়ে তারও ঘাম ছুটে গিয়েছে।

“আদ্রিস, তুইত জানিস আদ্রিতার বয়স কত? তোর থেকে ভালোত কেউই জানেনা? একটা মেয়ের ভেতর সঠিক ভুল বিচার করতে নূন্যতম ১৮ বছর হতে লাগে। ওকে একটু সময় দে। আর এসব কি? তুই ওকে ওভাবে সেকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিস কেন?”

“বাধব না কি করব? জানো কালকেও আমাকে বলেছে আমাকে যেতে দিন। ওকে কোথায় যেতে দেব আমি? ওর কে আছে আমি ছাড়া?”

“এটাইত, ওর কে আছে তুই ছাড়া? কে আছে আদ্রিস?”

থেমে যায় আদ্রিস। এ কথার জাবাব দিতে পারেনা সে। রাগটাও কিছুটা কমে তার। মিরা, আদ্রিসের হাতে হাত রাখে,

“আদ্রিস ভাই আমার। বেঁধে রাখলে যে কেউ পালাতে চাইবে। কেন বুঝতে চাইছিস না? “

“আপু না বেঁধে রাখা অবস্থায় যে পাখি পালাতে চায়। তাকে বেঁধে রাখাই উত্তম। আমি কোন বন টিয়া পালতে চাইনা। যে খাবার খেয়ে উড়ে চলে যাবে।”

“আদ্রিস……”

“মিরা আপু আজ লাঞ্চ কি করতে চাও প্লিজ রেভেনকে বলে দিও।”

চলবে?

[রেসপন্স করিও। অনেক বড় লিখেছি পর্ব আজকে ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply