জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_২৯
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
আদ্রিতা মাথাটা, আদ্রিসের বুকে ঠেকিয়ে রেখেছে। সে ক্লান্ত। তার পা দু’টো ক্লান্ত। চোখে মুখে ক্লান্তি স্পষ্ট।
আদ্রিস সমানে সিগারেট টানছে। আদ্রিতার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিন্তু ভয়ে কিছু উচ্চারণ করার সাহস পাচ্ছে না সে।
রেভেন হুট করেই গাড়ির গ্লাস খুলে দেয়।
আদ্রিস,সোজা তাকায় সামনের গ্লাসের দিকে। রেভেন দাঁত বের করে হাসে,
“হেহে বস, ম্যামেরত এজমা আছে। তাই।”
আদ্রিস চোখ ঘোরায়। হাতের সিগারেট টা ফেলে দেয় বাহিরে। আদ্রিতা একটু নিঃশ্বাস নেয়।
কিছুক্ষণ আরও ড্রাইভিং হয়। এরপর আদ্রিসের গাড়িটা গিয়ে পৌঁছায় একটা আলিসান মেনশনের সামনে। বেশ বড় সড় মেনশন।
আদ্রিস গাড়িটা রাস্তায় থামাতে বলে। গাড়ি থেকে নেমে সে আদ্রিতাকে কোলে তুলে নেয়৷
আদ্রিতা নীরবে আদ্রিসের বুকের সাথে মিশে আসে।
রেভেন আদ্রিসকে কোট পরিয়ে দেয়।
“বস আরও কিছু দুর গেলে ভালো হতো।”.
” না আমি কিছু দুর হাঁটতে চাই। কাল সকালে মিরা আপু এবং প্রিয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে যাবে। তুমি বাহিরে থেকে কল করবে প্রিয়াকে। ওরা এলে ওদের নিয়ে আসবে।”
“ওকে বস।”..
” আজকের জন্য কেউ আমাকে ডিসটার্ব না করে রেভেন।”
“ওকে বস।”..
আদ্রিস হাঁটা শুরু করে।
রেভেন পেছন থেকে আদ্রিসকে দেখে। আদ্রিসের কোলে আদ্রিতা একটা বাচ্চার মত।
আদ্রিতার জন্য মায়া লাগছে রেভেনের। কিছু দিনের ভেতর আদ্রিতার ইনোসেন্স রেভেনকে আদ্রিতার প্রতি ইমোশনাল বানিয়ে দিয়েছে। মেয়েটা সত্যি অসাধারণ। তবে একেবারে বোকাসোকা।
সুদুর ওই মেঘ মুক্ত আকাশে এক টুকরো অর্ধেক চাঁদের দেখা মিলছে।
আশেপাশে তারা গুলো উজ্জ্বল। মেনশনের এই রাস্তাটা পেছনের বাগানের দিকে গিয়েছে। দু পাশে গাছ। ফুটন্ত ফুল গুলো বেশ সুবাস ছড়াচ্ছে।
আদ্রিস হাঁটছে আপন মনে। আদ্রিতা মাথাটা ঠেকিয়ে আছে আদ্রিসের বুকে।
বিনা শব্দে এ যেন এক অদ্ভুত অনুভুতির সৃষ্টি।
আদ্রিস হাঁটছে তার মনের ভেতর নানান কথা ঘোর পাক খাচ্ছে।
যখনই ভাবছে আজ একটু দেরি হলে কি হতো তখনই মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে।
আদ্রিস, আদ্রিতাকে নিজের দিকে ফেরায়।
আদ্রিতা, নড়াচড়া অনুভব করে আদ্রিসের সার্ট খামচে ধরে,
“তুই কি ভেবে পালিয়েছিলি? যদি সঠিক এক্সপ্লেনেশন দিতে পারিস আজকের মত তোকে মাফ করে দেব৷”..
আদ্রিতা মাথা নামিয়ে নেয়।
” শোন থাপ্পড় খাস না এই অসময়ে। এমনি আমার মাথা গরম হয়ে আছে।”
“আ আমি আমাকে ছেড়ে দিন আদ্রিস ভাইয়া৷”..
কথাটা আদ্রিসের হজম হলোনা। সে দাঁত কটমট করতে করতে আদ্রিতাকে নিয়ে সোজা মেনশনের ভেতরে চলে যায়৷
বেশ আধুনিক মেনশন টা। বাংলাদেশের ভেতর এমন মেনশন দেখা যায়না।
আদ্রিস এটাকে রাশিয়ান স্টাইলে ডেকোরেট করেছিলো।
আদ্রিস, বেডরুমে এসে আদ্রিতাকে সোজা ওয়াসরুমে নিয়ে বাথটাবে ফেলে।
আদ্রিতা ভয় পেয়ে যায়। পানি ছেড়ে আদ্রিতার শরীরে ঘষতে থাকে,
” ক কি করছেন?”
“আমি বলেছিলাম না, আমি ব্যতিত অন্য সকল পুরুষের টাচ তোর জন্য ব্যাড টাচ। সেই ব্যাড টাচ মুছে দিচ্ছি। নড়বি না একদম৷”
আদ্রিতার ফর্সা শরীরে ঘর্ষণের ফলে রক্তিন বর্ণ ধারণ করেছে।
আদ্রিসের সে দিকে কোন ধ্যান নেই।
আদ্রিতা কান্না মিশ্রীত কন্ঠে বলে ওঠে,
“যন্ত্রণা হচ্ছে এবারের মত ক্ষমা করে দিন।”
আদ্রিস, সোজা, আদ্রিতার চোখের দিকে তাকায়।
আদ্রিতার চোখে পানি সে সহ্য করতে পারেনা।
ওয়াসরুমের সাথেই ড্রেসিং রুম। সেখান থেকে নিজের একটা সার্ট নিয়ে আদ্রিতাকে দেয়,
“পরে বাহিরে আয়৷”
“এখন?”.
“তুই কি ভেজা অবস্থায় থাকতে চাস নাকি চায় আমি চেঞ্জ করিয়ে দেই? কোনটা?”
“ন না আমি করছি৷’
আদ্রিতা সার্ট টা নিয়ে নেয়।
আদ্রিস বাহিরে বসে আছে।
আদ্রিতা চেঞ্জ করে ভেতরে আসে। তার পা দু’টো কাঁপছে। প্রথমত শীত তার উপর ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে তার পায়ের তালু।
আদ্রিস, এগিয়ে গিয়ে আদ্রিতাকে কোলে তুলে নেয়।
আদ্রিতাকে বিছনায় শুইয়ে দেয়।
এরপর বাহিরে চলে যায়।
আদ্রিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মাথাটা এলিয়ে দিয়ে চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয়।
চোখ দু’টো অবশ্য আপনা আপনি বন্ধ হয়ে আসছে।
প্রায় ৫/৬ মিনিট পর আদ্রিতা দু পায়ে কিছু ঠান্ডা অনুভব করে। আদ্রিতা চোখ খুলে তাকায়। পায়ের কাছে আদ্রিসকে দেখে ভয় পেয়ে যায়।
সে হুড়মুড়িয়ে উঠে বসতে নিলে আদ্রিস চেপে ধরে পা দু’টো।
আদ্রিতা ভয় পেয়ে যায়।
” ডেয়ার টু মুভ৷”
আদ্রিতা চুপ হয়ে যায়। আদ্রিস নিজের কাজ করে সরে আসে। আদ্রিতা কম্ফোর্ট টা সরিয়ে দেখে তার পা দু’টোতে সেকল পরিয়ে দিয়েছে আদ্রিস।
সেকলের চেইনটা রুম জুড়ে ছড়িয়ে আছে।
আদ্রিস উঠে দাঁড়ায়,
“এই রুম জুড়েই বিস্তার এটার। এর বাহিরে যাওয়া যায় না আদ্রিতা৷’
আদ্রিতার চোখ বেয়ে পানি টুপ টাপ পড়ে।
আদ্রিস এগিয়ে গিয়ে আদ্রিতার ভেজা চোখে চুমু খায়। আদ্রিতা চোখ বন্ধ করে নেয়।
আদ্রিস, আদ্রিতাকে শুইয়ে দেয়। আদ্রিতার মাথায় হাত বুলাতে থাকে। আর আদর করতে লাগে
” জানিস আদ্রিতা, তোকে আমি বাঁধতে অন্তত চাইনি। কিন্তু তুই আমাকে বাধ্য করলি। তোকে আমি স্বাধীন পাখির মত উড়তে দিয়েছিলাম। কিন্তু তোর যে মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়াটা পছন্দ নয় এটা জানতাম না।
আমিত ভেবেছিলাম তোকে খুঁজে পেলে মেরে বাথরুমের টেঙ্কির ভেতর ফেলে দিয়ে বলব তুই নেই চলে গিয়েছিস। কিন্তু না পরে ভাবলাম একটা সুযোগ দেওয়াই যায়।
আমিত ভেবেছি পরবর্তী বার তুই একই কাজ করলে আমি তোকে মেরে টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেব। প্রিয়া আর মিরা আপুকে বলব তোকে খুঁজে পাইনি। আইডিয়াটা কেমন?”
আদ্রিতার শরীর রীতিমতো কাঁপছে। আদ্রিসের শান্ত, শীতল, গম্ভীর কন্ঠের থ্রেট গুলো শুনে আদ্রিতার কিছুক্ষণের আগের মুহুর্ত মনে পড়ে যাচ্ছে। আদ্রিসত টুকরো করতে পারে। ওই লোকটার হাতটা কিভাবে ছিঁড়ে ফেলল।
আদ্রিস, ঠিক অনুভব করছে তার বুকের মাঝে ছোট্ট পাখিটার শরীর ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। সেই অনুভুতি আদ্রিসকে শান্তি দিচ্ছে।
“ঘুমো আদ্রিতা, এরপর পরবর্তী রাত গুলো লম্বা হতে চলেছে। আমি কোন দয়া দেখাব না এরপর।”
আদ্রিতা শক্ত করে চোখ বন্ধ করে নেয়।
কি কপাল, যাকে ভয় পাচ্ছে তার বুকেই ঠাই হয়েছে।
বেশ কিছুক্ষণ পর আদ্রিতা ঘুমিয়ে গিয়েছে। মেয়েটা সারা দিন খায়নি। ক্লান্ত সে।
আদ্রিস, আদ্রিতাকে বুক থেকে নামিয়ে বালিশে শুইয়ে দেয়।
আদ্রিতার কপাল থেকে চুল গুলো সরিয়ে কপালে চুমু খায়।
এরপর ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে। পরম যত্নে শুষে নেয়।
আদ্রিতাকে কাছে পেয়েও যেন তৃষ্ণা মেটেনা আদ্রিসের।
ইচ্ছে হয় সব সময় বুকের ভেতর রেখে দেই।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিস মাথা উঠায়,
“আদ্রিতা ইউ ডিডন’ট এস্কেপ মি। ইউ জাস্ট মেড দিস হান্ট ইন্টারেস্টিং। অ্যান্ড হোয়েন আই ফাইন্ড ইউ, রিমেম্বার, মারসি ওয়াজ অ্যান অপশন ইউ থ্রু অ্যাওয়ে।”
আদ্রিস, আদ্রিতাকে ফের বুকে জড়িয়ে নেয়।
চোখ দু’টো বন্ধ করে নেয়।
পুরোটা দিন ছিল গোটা একটা বছরের সমান।
বিপদের সময় টুকু আসলে বড্ড কঠিন হয়। কাটতে চায়না সহজে।
প্রিয়া, এবং মিরা খাবার টেবিলে বসে আছে। ওদের সাথে পুরো খান মেনশন আছে।
মিরার মা বাবাও এসেছে।
ঐশী খাবার খেতে খেতে বলে,
“আদ্রিস ভাই আসবে না? “
মিরা বিরক্ত হয়। সেই সাথে প্রিয়াও। দু’জন এক সাথেই বলে ওঠে,
“সারাটা দিন একটা মানুষের পেছনে লাগা ছাড়া আর কোন কাজ নেই?”
উপস্থিত সবাই প্রিয়া এবং মিরার দিকে তাকিয়ে থাকে।
প্রিয়া পানির গ্লাস হাতে নিয়ে বলে,
“কি তাকিয়ে আছেন কেন আপনারা? আপনাদের জন্যই ঐশী মেয়েটা গায়ে পড়া সভাবের হয়েছে। “
মাধবী বেগম বিরক্ত হয়ে বলে,
“প্রিয়া ইট’স ওকে। এভাবে কেন বলছো?”
“মম বলা উচিত তাই।”
“আসলেই বড় মা। ঐশী বেশি বাড়াবাড়ি করে।”
মিরার কথা শুনে ঐশী ভেংচি কাটে,
“লিসেন আপি তুই না তোর সংসারে ফোকাস কর।”
মিরা খাবার থামিয়ে ঐশীর দিকে তাকায়,
“হ্যাঁ ফোকাস আমি সেখানেই করব। তুইও তোর নিজেকে দেখ। এমনটা না হয় সর্ব হারা হোস।”…
ঐশী চোখ ঘোরায় বিরক্তিতে।
ঐশী জানে মিরার সংসারে সমস্যা চলছে। তবুও এ কথা বলার অর্থ হলো মিরাকে নিচু দেখানো।
চলবে?
( রেসপন্স না করলে গল্পই দেবনা। ব্যাস এক কথা)
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৯
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৩