জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_২৫
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
একটা সকাল যেখানে কারোর তিক্ত কথা নেই।
এবং যে সকালে ভালোবাসার মানুষের উষ্মাতা জড়িয়ে রাখে। সে সকালের থেকে উত্তম কিছু হতে পারে?
আদ্রিতা মাথা তুলে আদ্রিসের দিকে চায়৷ পর্দা ভেদ করে মৃদু আলো ভেতরে প্রবেশ করছে।
আদ্রিসের মুখশ্রী ঘুমের অবস্থায়ও গম্ভীর।
তবে কোথাও না কোথাও সেই বাচ্চা রূপটা এই ঘুমন্ত মুখশ্রীতেই ফুটে ওঠে।
আদ্রিতা, আদ্রিসের দিকে নির্বাক কিছুক্ষণ তাকিয়ে রয়।
বেডের অপর দিকে কাবার্ডের দরজার সাথে অনেক বড় একটা মিরোর।
আদ্রিতা নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায় সেখানে।
মাথার ব্যান্ডেজ টা পরিবর্তন হয়েছে।
কখন করল আদ্রিস এসব।
আদ্রিতা ধিরে নিজেকে ছাড়িয়ে বিছনা থেকে নেমে যাবে এমন সময় হটাৎ করেই আদ্রিস ওর হাতটা পেছন থেকে ধরে ফেলে।
আদ্রিতা ফিরে চায়৷ আদ্রিসের চুল গুলো চোখের উপর এসে পড়েছে। সে আদ্রিতার দিকেই তাকিয়ে আছে। গম্ভীর মুখশ্রী তীক্ষ্ণ চাহনি।
“কোথায় যাচ্ছিস?”
“নিজের রুমে।”
“তোকে কাল এখানে আমি নিয়ে এসেছি। আমি সাওয়ার নেব আমাকে সাহায্য কর।”
“আ আমি?”
“ত কে?”
“আচ্ছা।”
আদ্রিস পা নামিয়ে বসে।
“সার্ট খোল আমার৷”.
আদ্রিতার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
” কি?”
“বয়রা নাকি? শুনতে পাস না? “
“পাই ।”
“সার্ট খোল।”..
আদ্রিতা কাঁপা হাতে আদ্রিসের সার্ট খুলে দেয়। উদাম শরীরে ব্যান্ডেজ টা পরিলক্ষিত।
আদ্রিতা আলতো হাতে আদ্রিসের ক্ষত স্থানে স্পর্শ করে,
” কি হয়েছিল কাল?”
আদ্রিস, সরাসরি আদ্রিতার চোখের দিকে তাকায়।
আদ্রিতা অবশ্য সে চোখে তাকানোর সাহস পায়না। চোখটা নামিয়ে নেয়। কিন্তু আদ্রিস আদ্রিতার চোয়াল ধরে নিজের দিকে তাকাতে বাধ্য করে,
“আমার দিকে তাকাতে কি সমস্যা? “
“আ আমি।”
“তোর তোতলানো দেখলে আমার ভীষণ বিরক্ত লাগে আদ্রিতা।
যখন আমি বাসর করন তখনো তোতলাবি?”
আদ্রিতা পিটপিট করে তাকায়।
আদ্রিস সেই ইনোসেন্ট চাহনি দেখে বেশি বকুনি দিতে পারেনা। ছেড়ে দেয় আদ্রিতাকে।
“যা গরম পানি রেডি কর।”
আদ্রিতা ওয়াসরুমে চলে যায়। গরম পানিতে টাব ভরে।
টাব ভরতে ভরতে আদ্রিতা ভাবে। এসব করতে তার কেন ভালো লাগে।
লোকটা পাশে থাকলে সত্যি অদ্ভুত প্রশান্তি লাগে।
আদ্রিতা এসব ভাবতে ভাবতে পেছন থেকে আদ্রিস ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে।
আদ্রিতার শরীর কেঁপে ওঠে।
সে ওয়াসরুমের আয়নায় আদ্রিসের উন্মুক্ত শরীর দেখে মাথা নামিয়ে নেয়।
“ইউ ক্যান সি মাই বডি। সব কিছু তোরই। শুধুমাত্র তোর।”
আদ্রিতা মাথা তুলে না। লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে মন চাইছে। আদ্রিস বাঁকা হেঁসে আদ্রিতাকে তুলে নেয় উপরে।
আদ্রিতা ভয় পেয়ে যায়।
“কি করছেন?”
আদ্রিস বাঁকা হেঁসে, আদ্রিতাকে দেয়ালের সাথে ঠেকায়।
“আপনার বুকের বাম দিকে ক্ষত।”
“ত কি হয়েছে?”
আদ্রিতা, তাকিয়ে আছে আদ্রিসের দিকে,
আদ্রিস নিরবে আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় দখল করে নেয়। আদ্রিতা, দু হাতে আদ্রিসের গলা জড়িয়ে ধরে।
আদ্রিসের নাকে আদ্রিতার মিষ্টি ঘ্রাণটা ভেসে আসছে। আদ্রিসের নিজেকে কন্ট্রোল করছে বার বার। তাকে অবশ্যই কিছু একটা বিরক্ত করছে। কিন্তু আদ্রিস নিজেকে সামলে নিচ্ছে। আদ্রিতা ভয় পেয়ে যাবে।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিস আদ্রিতাকে ছেড়ে দেয়। আদ্রিতা নিঃশ্বাস নেয় ঘনঘন। আদ্রিতার ঠোঁটে আদ্রিসের কর্মকান্ডের ছাপ লেগে আছে। আদ্রিস নামিয়ে দেয় আদ্রিতাকে।
“আমি যাচ্ছি আমাকে সাহায্য কর সাওয়ার নিতে।”
আদ্রিস টাবের ভেতরে গিয়ে বসে।
“কি হলো সাহায্য করবি না? আমার ব্যাথা লেগেছে আদ্রিতা। এত টুকুত বোঝ।”
আদ্রিতা ধিরে ধিরে সাবধানে আদ্রিসের শরীরে পানি দিতে শুরু করে।
আদ্রিস বাঁকা হাসে। আদ্রিতার ছোট ছোট হাতের প্রথম ছোঁয়া শরীরে অনুভব করতে তার কিছু হতে শুরু করে। আদ্রিস বুঝতে পারছে যে সমস্যা ঘটে গিয়েছে। এখন আর আদ্রিতা থাকলে সে নিশ্চিত বিপদে পড়বে।
“আদ্রিতা।”
হটাৎ আদ্রিসের ডাক শুনে আদ্রিতা থেমে যায়।
“জি?’
” বাহিরে গিয়ে অপেক্ষা কর।”
“আচ্ছা।”
আদ্রিতা বেরিয়ে যায়। সেও অনেকটা সময় যাবত অপেক্ষা করছিল বাহিরে যাবার জন্য।
সাওয়ার শেষ করে আদ্রিস টাওয়াল পেচিয়ে রুমে প্রবেশ করে।
আদ্রিতা বসে ছিল বিছনার কোণায়।
আদ্রিস হাতের টাওয়ালটা আদ্রিতাকে দেয়৷
“চল মুছে দে।”
আদ্রিতা অবাক হয়ে তাকায়। এত টুকু সে নিজেই পারত। আদ্রিতা উঠে দাঁড়িয়ে আদ্রিসকে মুছে সার্ট পরিয়ে দেয়। পুরোটা সময় আদ্রিতা এদিক ওদিক তাকাচ্ছিল। তার খুবই লজ্জা লাগছে। আদ্রিস এসব কিছুই আয়নার ভেতরে দেখে ভীষণ মজা নিচ্ছিল৷
নিজের কাজ শেষ করে আদ্রিতা সরে আসে।
“শেষ৷”
আদ্রিস ফোন ধরে কল করে রেভেন কে,
“হ্যালো বস৷”
“খাবার পাঠা উপরে।”
“কাকে বলব?”.
” তুই কিচেনে যাবি। সার্ভেন্ট দের বলবি। চাইলে প্রিয়া আর তুইও আসতে পারিস৷”
প্রিয়ার নামটা শুনে রেভেনের ভেতর একটা অদ্ভুত অনুভুতি নাড়া দিয়ে ওঠে। সে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যায়।
“জি বস৷”
রেভেন কল কেটে সামনে তাকায়৷
প্রিয়া বসে আছে তার সামনেই।
“কি হয়েছে? আপনি কাল থেকে এখানে ছিলেন?”
“হ্যাঁ।”
“এত খুশি লাগছে যে?”
“বস ডেকেছে চলুন আমরা যাই।”
“কোথায় যাব? “
“ওনার রুমে।”
“ও আচ্ছা।”
“চলুন৷”
“ওকে। “
প্রিয়া সার্ভেন্ট কে বলে। ৪ জনের খাবার নিয়ে আদ্রিসের রুমে যায়।
ততক্ষণে আদ্রিতাও ফ্রেশ হয়ে ড্রেস বদলে নিয়েছে। আদ্রিতা অসম্ভব সুন্দর একটা ড্রেস পরেছে। লাল সিল্কের ড্রেস।
আদ্রিতাকে পুতুলের মত সুন্দর দেখাচ্ছে।
আদ্রিস যখন কোন ড্রেসের সো রুমে গিয়েছে তার এই আদ্রিতার জন্য কিছু না কিছু পছন্দ হয়েই গেছে।
কিছুক্ষণ পর সার্ভেন্টের সাথে রেভেন এবং প্রিয়া আসে।
আদ্রিতা, আদ্রিস আর ওরা মিলে ব্রেকফাস্ট করে নেয়।
ওদের সময়টা ছিল অসম্ভব সুন্দর।
ঐশী রুম থেকে বের হয়ে আদ্রিসের রুমের দিকে এসে। ভেতর থেকে সবার হাসাহাসি শুনে থেমে যায়।
ঐশী দরজার পর্দা সরিয়ে উকি মারে। আদ্রিস আদ্রিতা পাশাপাশি বসে। খুব হাসছে সবাই। আর ওদের দু’জনকে দেখে একেবারে কাপাল মনে হচ্ছে।
আদ্রিস, পুরোটা সময় আদ্রিতার দিকে তাকিয়ে ছিল। যেন পলক পড়লেই আদ্রিতা হারিয়ে যাবে।
ঐশীর প্রচন্ড রাগ হতে লাগে। কিন্তু এরপর তার মনে পড়ে যায় মাধবী বেগমের বলা কথা গুলো।
ঐশী থেমে যায়। সে নিজেকে সংযত করে চলে যায়।
দুই দিন পরের কথা। এই দুই দিনে কিছুই হয়নি। আদ্রিস ভাবছিল তার মম ড্যাড কিভাবে এত চুপ আছে। কিন্তু মাধবী বেগম যেন আগের মত হয়ে গিয়েছে। আদ্রিতার সাথে আচরণ করছে আগে যেমন করত তেমন৷
আসরাফ খানও কিছু বলছে না।
এই দুই দিনে আদ্রিস বেশ সুস্থ। ব্যান্ডেজ খুলে দিয়েছে ডক্টর।
রেভেনও চলে গিয়েছে সকাল সকাল।
আদ্রিস লিভিং রুমে বসে আছে।
ঐশী রুম থেকে লাগেজ নিয়ে বের হয়৷
মাধবী বেগম তা দেখে এগিয়ে যায়।
“কিরে চলে যাচ্ছিস? “
“হ্যাঁ। কিছুদিন পর থেকে পরিক্ষা আমাকেত যেতে হবেই।”
“আচ্ছা। ঠিক আছে।”
ঐশী এগিয়ে যায়৷
“আদ্রিস ভাইয়া।”
আদ্রিস ফোন থেকে মুখ উঠিয়ে ঐশীর দিকে তাকায়।
“আমি চলে যাচ্ছি।”
“ওকে।”
“বাই বলবে না? “
“বাই।”
“মামনি, আদ্রিতা কোথায়। আমি ওকে সরি বলতে চাই৷”
“আদ্রিতা রুমে আছে।”
“একটু ডাকো।”
মাধবী বেগম সার্ভেন্ট কে পাঠায়। আদ্রিস সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছে।
আদ্রিতা লিভিং রুমে আসতে ঐশী গিয়ে আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে। আদ্রিতার থেকে, আদ্রিসের ঘ্রাণ আসছে। বিষয়টা লক্ষ্য করে ঐশী অবাক হয়ে গেল। কেউ কাউকে কতটা কাছে টেনে নিলে তার শরীরের ঘ্রাণ অপর মানুষটির শরীরে প্রবেশ করে।
“আদ্রিতা। আমি দুঃখিত। তোমার সাথে ওমন করা আমার উচিত হয়নি। “
ঐশী, আদ্রিসের সামনে গিয়ে বসে,
“আপনাকেও সরি ভাইয়া। ভুল হয়ে গেছে আমার। ছোট মনে করে মাফ করে দিন।”
“না না ঠিক আছে ঐশী৷”
ঐশী, আদ্রিতার হাত ধরে,
“তুমি অনেক সুইট আদ্রিতা। তোমার জায়গায় আমি হলে কখনো এটা মেনে নিতাম না। তুমি অনেক কিউট৷”
আদ্রিতা অবাক হচ্ছে। প্রিয়া উপর থেকে সব কাহিনি দেখছে তবে কিছু বলছে না। ঐশীর নাটক ভালোই লাগছে।
“আমার গাড়ি চলে এসেছে। তোমরা ভালো থেকো। পরিক্ষা দিতে যাবে না আদ্রিতা?”
“হ্যাঁ। “
“হলে দেখা হবে। বাই।’
” বাই৷”
ঐশী বেরিয়ে যায়।
মাধবী বেগমও কিছু বললেন না। আদ্রিসের যে সব কিছুতে রহস্য লাগছে এটা আদ্রিস কাউকে দেখতে দিলনা। সে নর্মাল রিয়াক্ট করল।
মাধবী বেগমও বুঝলেন তার ছেলে সব কিছু সাভাবিক ভাবে মেনে নিয়েছে।
এখন কেটে গেছে আরও ২ দিন।
আদ্রিস তার কাজে গিয়েছে আজ।
মাধবী বেগম, আদ্রিতাকে কিচেনে দেখে এগিয়ে আসেন,
“আদ্রিতা। তুমি ঘরে যাও এসবের জন্য সার্ভেন্ট আছে।”
“বড় মা আমি৷”
“ইট’স ওকে আদ্রিতা। তুমি যাও৷”
“ওকে।”
আদ্রিতা বেরিয়ে যায়।
মাধবী বেগম তাকিয়ে আছে সে দিকে।
অফিসের ডেস্কের উপর একটা লোকের মাথা পরপর ১০ /১২ বার আঘাত করার পর লোকটা রক্ত রক্ত হয়ে যায়।
আদ্রিস, রাগে কাঁপছে।
তার শরীর কাঁপছে। মুখশ্রী রক্তিম বর্ণের। কপালের সিরা গুলো ফুলে উঠেছে।
চলবে?
( রেসপন্স ত করো 🙂। আমি সত্যি ফেডআপ হয়ে যাচ্ছি।)
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৩