Golpo romantic golpo জাহানারা

জাহানারা পর্ব ৫


জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :০৫
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অ’কথ্য ভাষা এবং স”হিং’সতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সং’বে’দনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

সেদিনের সেই প্র’লয়ংকরী ঝড় ঠিক কখন শান্ত হয়েছিল, তা আমার জানা নেই। যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন দু’টি আঁখি পল্লব মেলে তাকালাম, বেলা তখন অনেক গড়িয়েছে। সমস্ত শরীর জুড়ে এক অ’সহ্য য’ন্ত্রণার রেশ, যেন প্রতিটি অণু-পরমাণু বিদ্রোহ করছে। শূন্য মস্তিষ্কে কিছুটা চাপ দিতেই গতরাতের সেই দুঃসহ স্মৃতিগুলো একে একে ভিড়ে জমায় মনের আঙিনায়; আর মুহূর্তেই চোখের কোণ দু’টো নোনা জলে সিক্ত হয়ে ওঠে।

নিজেকে কিছুটা সংবরণ করে সন্তর্পণে চারপাশে তাকালাম। দেখলাম, জনমানবহীন একটি হাসপাতালের কেবিনে আমি শুয়ে আছি। হাতের শিরায় বিঁধে আছে ক্যানুলা, যেখান থেকে ফোঁটা ফোঁটা সেলাইন আমায় প্রাণশক্তি জোগাচ্ছে। উঠে বসার বৃথা চেষ্টা করতেই এক নার্স ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমায় বিশ্রামের অনুরোধ জানিয়ে উঠতে বারণ করলেন। ক্ষীণ স্বরে যখন জানতে চাইলাম এখানে কীভাবে এলাম, তিনি মৃদু স্বরে উত্তর দিলেন— “রাত দুটোর সময় মন্ত্রীর ছেলে ইফান চৌধুরী এখানে নিয়ে আসে। তখন আমি সেন্স লেস। তারপর হসপিটালের সকল ফরমালিটি করে দিয়ে চলে যান।”

আমি নার্সের কথা শুনে বিস্মিত হলাম। একজন ছেলে মাঝ রাতে আমাকে এই বি’দ্ধস্ত অবস্থায় নিয়ে এলো আর কোনো রকম ঝামেলা হলো না!

–“আমাকে এত সহজে হসপিটালে ভর্তি করে নিলেন আপনারা। জানেন না এটা পু’লিশ কেইস।”

নার্সটি আমার হাতের ক্যানুলা খুলতে খুলতে প্রতিত্তোর করল,
–“হ্যাঁ, হসপিটাল কতৃপক্ষ আপত্তি জানায় আপনার অবস্থা দেখে। আমরা ভেবেছিলাম ধ’র্ষন মা’মলা। পরে ইফান স্যার বললেন তেমন কিছু না। আপনার স্বামী নাকি নে’শা করে বাসায় এসে এই অবস্থা করেছে। তারপর প্রতিবেশীরা খবর পেয়ে উনাকে জানায় আর তিনি এখানে নিয়ে আসেন।”

নার্সের কথা শুনে আমি স্তব্ধ। একটা মানুষ আর কত নি’কৃষ্ট হতে পারে! আমি আর হসপিটালে ঝা’মেলা করলাম না। কাউকে কিছু বলিও নি। একেবারে ছুটি নিয়ে পু’লিশ স্টেশনে যায়। প্রথমে পুলিশ আমার করা এফআইআর নেয় নি। আমি তখন ভার্সিটিতে খবরটা দিলে সাথে সাথে সবাই রাস্তায় বের হয়। তাদের সাথে যুক্ত হয় সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক। সবাই মিলে পুলিশ স্টেশন ঘিরে ফেললে বিষয়টা উপর মহলে ছড়াছড়ি হয়ে যায়। বাতাসের বেগে পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে মন্ত্রী ইকবাল চৌধুরীর ছেলে ইফান চৌধুরী ঢাকা ভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে ধ’র্ষণ করেছে।

অতঃপর উপর মহল থেকে নোটিশ আসার সাথে সাথে ইফানকে পুলিশ এরেস্ট করে।উনার বাবা অনেক চেষ্টা করে ব্যপারটা ধামাচাপা দেওয়ার তবে উনি ব্যার্থ। নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে সন্ধ্যা বেলায় পুলিশ স্টেশনে আমাদের বিয়ে দেওয়া হয়।যদিও আমি প্রথমে রাজি হইনি। তিনি মানে আমার শ্বশুর মশাই আমার হাতে পায়ে ধরতেও রাজি হয়ে যায়।তারপর ভেবে দেখলাম এই অ’সভ্য জা’নোয়ার কে আমি জাহানারা ছেড়ে দিবো? অসম্ভব! আমি যদি তাকে বিয়ে না করি তাহলে ক্ষ’মতার জোরে খুব তাড়াতাড়িই বের হয়ে যাবে। কিন্তু আমি জাহানারা এত সহজে আমার সম্মান হ’রণ’কারীকে ছেড়ে দিবো না।তাই বিয়েতে রাজি হই। আর সেই সূত্রে এই চৌধুরী বাড়িতে আসা।


–“তোর কি মনে হয় আমাকে ফাঁ’সিয়ে বিয়ে করে বেশি দিন এই বাড়িতে টিকতে পারবি?”

ইফান গলা থেকে আমার হাতটা ছাড়িয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে বাক্যটা আওড়ালো। আমার বাহুতে শক্ত করে চেপে ধরায় চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললাম।ইফান আরও বল খাটিয়ে চেপে ধরে। চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
–“আমার রুমের আসেপাশে একদম আসবি না বলে দিলাম। আমার আবার একবার ইউজ করা জিনিসে সেকেন্ড টাইম আকর্ষণ থাকে না। এখন এখান থেকে বের হয়ে যাবি, আর কখনো আমার সামনে তর মুখটা দেখাবি না। নাহলে এই বাড়িতে তর টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যাবে বলে দিলাম। মাইন্ড ইট।”

–“আমিও একই চিন্তা করছি, আধোও কি আপনার ঘরে টিকবো কিনা! আমার যে কি কপাল শা’লা আমারে রে’প করলো তো করলো তাও বুইড়া, মেশিনও ঠিক মতো চলে না। এমন প্রতিবন্ধী মাল নিয়ে কিভাবে আমার মতো জোয়ান মেয়ে ঘর করবে আল্লাহ মাবুদ জানে।”

–“হোয়াট আমি বুইড়া? আমার মেশিন ঠিকমতো চলে না?”

দাঁতে দাঁত চেপে চরম আক্রোশে বাক্যটা আওড়ে, রক্তিম নেত্রে আমার দিকে তাকিয়ে রইল ইফান। তার সেই তপ্ত দৃষ্টি দেখে স্পষ্ট অনুভব করলাম— আমার নিক্ষিপ্ত বাক্যবাণটি একদম সঠিক লক্ষ্যেই আ’ঘাত হেনেছে।” আমিও একটা গা জ্বালানো হাসি দিয়ে বললাম,
–“আপনার ছোট ভাই যে অর্ধেক প্র’তিবন্ধী সে খবর আপনার আছে। নাহলে উপন্যাসে পড়ি বা’সর রাতের পর নাকি বউরা এক সপ্তাহ জ্বরে ভোগে। আর আপনি আমাকে রে’প করেও একদিন বিছানায় রাখতে পারলেন না, ছ্যাহ্। আপনার ছোট ভায়ের জন্য আপনার ল’জ্জা হওয়া দরকার।”

তীব্র রোষে ইফানের ললাটের নীল শিরাগুলো সর্পিল ছন্দে জেগে উঠে তৎক্ষনাৎ । পরক্ষণেই এক অতর্কিত থাবায় সে আমার চোয়ালটা শক্ত করে ধরে দাঁতে দাঁত কটমট করে বলে,
–“কি বললি, আমার পুরুষত্বে সমস্যা?” চল আজকে তোকে বুঝিয়ে দোই ছোট ভাইয়ের পাওয়ার।”

কোনো প্রকার পূর্বাভাস ছাড়াই ইফান অকস্মাৎ আমায় কাঁধে তুলে নিয়ে সেই নরম বিছানাটার বুকে নিক্ষেপ করলো। এই বিশেষ মূর্তে ইফান এমন উদ্ধত আচরণ করতে পারে, তা আমার কল্পনারও অতীত ছিল। সে অতর্কিতে আমার ওপর ঝুঁকে পড়লো; সদ্যস্নাত তার শরীর থেকে স্ফটিকের মতো পানি ফোটা চিকচিক করছে। কোমরে কেবল ওই শুভ্র সাদা টাওয়ালটা ছাড়া আর কোনো আবরণ নেই।

সে আমার ওপর আনত হতেই তার সিক্ত, দীর্ঘ ও ঘন কালো চুল বেয়ে টপটপ করে জলবিন্দুরা ঝরে পড়ছে আমার আননে। আমি নিবিড়ভাবে ইফানের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম— ছেলেটি সত্যিই অপরূপ সুদর্শন। চিবুকে তার অগোছালো খুচা খুচা দাড়ি, আর তার ওপরেই শোভা পাচ্ছে এক জোড়া সঘন কালো ভ্রু যুগল। ধূসর বাদামি তার নেত্রপল্লব আমাকে তীক্ষ্ণ ভাবে পরুক করছে। ক্ষণে ক্ষণে তার কপালে দু-তিনটি সূক্ষ্ম ভাঁজ জেগে ওঠে। আগে কখনো তাকে এমন অতলান্ত চোখে পরখ করে দেখা হয়নি আমার। আর এমন এক চরিত্রের পুরুষের পানে কোনো সচ্চরিত্রা মেয়ে কি আদেও ফিরে তাকাবে?

–“উফফ ডার্লিং আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম তুমি তো হাই লেভেলের ঝাঁ’ঝওয়ালি। ঠিক আছে তোমার ঝাঁঝ কমানোর জন্য ছোট ভাইকে যতটুকু পরিশ্রম করতে হয় করবে।”

আমার কানের কাছে ইফানের ঠোঁট বাকিয়ে হিসহিসিয়ে বলা বাক্যটা আমার ভাবনায় চির ধরালো। আমি তৎক্ষনাৎ চোয়াল শক্ত করে চেঁচিয়ে উঠলাম,
–“শয়তান, পচা আলুর বস্তা সর আমার উপর থেকে।”

অবিরত অনুযোগ বর্ষণ করতে করতে আমি ইফানের প্রশস্ত বক্ষস্থলে সজোরে করাঘাত করলাম; কিন্তু তাকে তিলমাত্র বিচলিত করার সাধ্য আমার হলো না। সে শান্ত চোখে মুখ তুলে আমার দৃষ্টিতে দৃষ্টি রাখলো। তার অধরে তখনো সেই বঙ্কিম হাসির রেখা প্রদীপ্ত, যা প্রত্যক্ষ করতেই ঘৃণায় আমার অন্তরাত্মা রি রি করে উঠলো। সে আমার এলোমেলো চুলগুলো কানে গুঁজে দিতে দিতে বললো,
–“সো সেড অর বেড, এই পচা আলুর বস্তাটার ভরই গতরাতে বহন করেছো। তবে একটাই আপসোস কি জানো?”

আমি চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছি তার দিকে। ইফান হো হো করে হেসে আবার কানের কাছে ঠোঁট এনে হাস্কি স্বরে ফিসফিস করে বললো,
–“একটা এলইডি লাইটের অভাবে তোমাকে খাওয়ার সময় দেখতেই পেলাম না বিরিয়ানি খাচ্ছি নাকি চেপা ভর্তা। তাই আজ লাইট জ্বালিয়ে রেখেই তোমাকে খাবো। যদিও জানি তুমি পুরাই কাঁচা লঙ্কা।”

–“শা’লা লু’চ্চার বা….”

অতি আ’ক্রোশে বাক্যটা বলতে চেয়েও সম্পূর্ণ করতে পারলাম না। তার আগেই আমার ঠোঁট জোড়া ইফান নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছে। রাগে ঘৃ’ণায় আমার সারা শরীর জ্ব’লছে। যদিও এখন সে আমার জন্য হালাল। তাতে কি? ধ’র্ষক তো ধ’র্ষকই হয়। আমি ওর বুকে কিল, ঘু’ষি,খা’মচি দিতে থাকলাম। তাতে যেন তার শাক্তি আরো বেড়ে যাচ্ছে। মুখে নোনতা স্বাদ সাথে চিনচিন ব্যাথা অনুভব করছি। ফলে মুখ দিয়ে মৃদু গো’ঙ্গানির আওয়াজ বেড়িয়ে আসছে। এমতাবস্থায় আমার বসন-আঁচল উন্মোচনে যখন ইফান ম’গ্ন, ঠিক সেই মুহূর্তেই দরজায় ভেসে এলো কারো সজোর করাঘাতের আওয়াজ।

চলবে,,,,,,,,,,,

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply