জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :৫১
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ
🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
সিআইডি অফিস…..
কম্পিউটারের কিবোর্ডে Enter বাটনে ক্লিক করতেই অডিওটা চলতে আরম্ভ করে,
❝সিআইডি আমাদের কিছুই করতে পারবে না।আমি এমন ভাবে পুরো খেলাটা খেলছি আমাদের ধরা তো দূরের কথা, সন্দেহের দিকটাও আসবে না।তবুও যদি বেশি বারাবাড়ি করে তাহলে ক্যাপ্টেন জায়ান শেখের মতো উপরে পাঠিয়ে দিবো।আর…কে ওখানে?কে…..❞
কম্পিউটারে চলমান অডিওটা শেষ হতেই অফিসার কবির অডিওটা অফ করে দিলো।এই নিয়ে কম হলেও শতাধিক বার রেকর্ড টা শুনা হয়েছে। কবিরের দুপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে বাকি অফিসার’রা।জিতু ভাইয়া নির্লিপ্ত ভাবে অডিও টা খুব মনযোগ দিয়ে আজ আবারও শুনলো।
বেশ কিছুমাস আগে আনুমানিক আমার বিয়ের এক দের মাস পরের ঘটনা, পুলিশ অফিসার রাকিব গোপন তথ্য অনুযায়ী অপরাধীদের একটা ডেরায় যায়।সেদিন তিনি অন্ধকারের মধ্যে কাউকে দেখতে না পেলেও বেশ কয়েকজনের কথাবার্তা শুনতে পায়।সে সেটা রেকর্ড করতে থাকে ঠিক তখনই উক্ত ব্যক্তিরা বুঝে যায় রাকিবের উপস্থিতি। সেদিন রাতে রাকিব কে দুর্বৃত্তরা ধাওয়া করে।এমনকি তাকে শুট করে।ভাগ্যক্রমে গুলিটা রাকিবের পা ছুয়ে যায়।সেদিন যদি ঠিক টাইমে জিতু ভাইয়া না আসতো তাহলে রাকিব হয়তো আর জীবিত থাকতো না।
রাকিব সেদিন রাতেই জিতু ভাইয়ার হাতে পেনড্রাইভটি তুলে দেয়।কিন্তু সিআইডি অফিসার রা এখনো মিলাতে পারছে না এটা কার ভয়েস হতে পারে।কারণ লোকগুলো ভীষণ চতুর।যতদূর আন্দাজ করা যাচ্ছে তারা ভয়েস চেইঞ্জ করে কৌশলে কথা বলেছিলো।যাতে কোনো প্রমাণ বা সাক্ষী না থাকে।
জিতু ভাইয়া ভাবতে ভাবতে হাতে একটা ফাইল তুলে নিলো।এই ফাইলটা আমি অনেকদিন আগে রাকিবকে দিয়েছিলাম ভাইয়ার হাতে দিতে।ফাইলে চৌধুরী বাড়ির সব তথ্য সহ সকলের এ টু জেট সব ইনফরমেশন আছে।
সিআইডিদের সন্দেহের তালিকায় ইফানের পর রয়েছে পঙ্কজ। কিন্তু পঙ্কজ তো তিন মাস ধরে দেশে নেই।তাহলেও দেশে কে সব চালনা করছে?জিতু ভাইয়ার মাথায় আরেকটা নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো মাহিন চৌধুরী।
কিভাবে এই অপরাধী চক্রকে খুঁজে বের করবে?সিআইডি অফিসাররা কোনো সূত্র খুঁজে পাচ্ছে না।জায়ান ভাইয়ের পর আরেকজন কিছু সত্যি জানতো।সে হচ্ছে জায়ান ভাইয়ের এসিস্ট্যান্ট শামিন।কিন্তু জায়ান ভাই যেদিন মারা যায় সেদিন থেকেই শামিন নিখোঁজ হয়।তারপর লোকটাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।সকলের ধারণা ঐ চক্রের সম্পর্কে জায়ান ভাইয়ের পর শামিন সবটা জানতো। তাই আগেই শামনিক কে কোথাও সরিয়ে দিয়েছে।
জিতু ভাইয়া ফাইলটা চোখের সামনে ধরে আকাশ কুসুম ভাবনায় নিমজ্জিত।বাকি অফিসাররা নিজেদের মতো কাজে ব্যস্ত।হঠাৎই সারা অফিস কাঁপিয়ে জিতু ভাইয়ার ফোনটা বেজে উঠে। সকলেই ভাইয়ার দিকে তাকালো। ভাইয়া বিরক্তি নিয়ে ফোনটা চোখের সামনে ধরলো।স্কিনে একটা বিদেশি নাম্বার ভাসছে।জিতু ভইয়ার চোখ মুখ শক্ত হয়ে এলো।গত তিন মাস ধরে বিদেশি বিভিন্ন নাম্বার থেকে কল আসে।জিতু ভাইয়া ইম্পর্ট্যান্ট কল ভেবে রিসিভ করে।কিন্তু ঐ পাশ থেকে কেউ কথা বলে না।এই যন্ত্রণায় বিদেশি নাম্বার থেকে ফোন আসলে ধরা বন্ধ দেয়।এতে ঘটে আরও বিপত্তি। কারণ অনেক ইম্পর্ট্যান্ট কল মিস হয়ে যায়।তাই বাধ্য হয়ে কল রিসিভ করতে হয়।
জিতু ভাইয়া ফোন কানে ধরলো।ঐপাশ থেকে আজও কোনো উত্তর আসলো না।রাগে ফোন কেটে দিলো।বাকি অফিসাররা এখনো এদিকে তাকিয়ে। জিতু ভাইয়া সবাই কে ধমক দিয়ে বললো,
–“আজ সারারাত যদি কাজ করতে মন চায় তাহলে আমার দিকে তাকিয়ে থাক।আর যদি যেতে মন চয় তাহলে কাজ কমপ্লিট করে শেষ কর।”
সকলে শুকনো কেশে কাজে মনযোগ দিলো।বুঝতে পারছে বসের মেজাজ তুঙ্গে। জিতু ভাইয়া চোখ মুখ শক্ত করে ফাইল ঘাটছে।না তার মেজাজ ঠিক না হলে কাজে মন বসবে না!!তাই ফোনটা হাতে নিলো।ফেইসবুকে ঢুকতেই চোখে পরলো নাইন প্লাস নোটিফিকেশন এসেছে।তিনি চোখ সরু করে নোটিফিকেশনে যেতেই দেখতে পেলো অচেনা বালিকা আইডি থেকে তার পোস্টে লাইক কমেন্ট করে ভরিয়ে ফেলেছে। তিনি ঠোঁট কামড়ে ধরে একটা কমেন্টে চাপ দিতেই দেখতে পেলো সেই আইডি থেকে একটা পোস্টে কমেন্ট করেছে,
–“এই মাস্ক পড়া মেয়েটা কে?” সাথে অ্যাংরি দু’টো রিয়েক্ট!!
সবাই লিভিং রুমে উপস্থিত হয়েছে। শুধু ইকবাল চৌধুরী আর ইমরান রাজনৈতিক কাজে এখনো বাড়িতে আসে নি।সামনেই নির্বাচন।তাই বাপ ছেলে পার্টির সাথে বেশ কয়েক জায়গায় মিটিং করছে।ইফান এতদিন ধরে নেই। তাই ইমরানের উপর সব ভার এসে পড়েছে। বেচারা এমন একটা পর্যায়ে আছে যে আদরের বউটাকেও একটু সময় দিতে পারছে না।নাবিলা চৌধুরী, নকুল চৌধুরী আর ইরহাম চৌধুরী সোফায় বসে বিজনেস নিয়ে আলোচনা করছে।নাবিলা চৌধুরী বললো,
–“আই থিংক এই প্রজেক্টটা আমাদের কোম্পানিকে আরও সম্মৃদ্ধ করবে।”
–“একদম ঠিক বলেছিস নাবু।আমারও বেশ পছন্দ হয়েছে।”
নুলক চৌধুরীর কথা শেষ হলে ইরহাম চৌধুরী বললো,”তাহলে এটাই ফাইনাল।তোমরা কি বল?”
–“আর কি বলা বলির আছে।এটা অবশ্যই ফাইনাল।”
–“আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ভাইয়ারও তো মত আছে!যতই তুই কোম্পানি চালনা কর ভাইয়াও তো কোম্পানির CEO।”
নুলক চৌধুরীর কথায় নাবিলা চৌধুরী হেসে বললো,”ওর আবার কিসের সিদ্ধান্ত।আমি ওকে উঠতে বললে ও উঠবে আর বসতে বললে বসবে।”
কথাটা শুনেই নুলক চৌধুরীর মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো।তবুও জোর করে হাসার চেষ্টা করলো।
মাহিন, ইফান আর মীরা একসাথে গল্প করছে।আমি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে সবার কার্যকলাপ দেখছি।রান্না সব কমপ্লিট। কাকিয়া সবাইকে ডাইনিং টেবিলে বসতে বললো।সকলেই এক এক করে বসলো।নাবিলা চৌধুরী নিজের নির্ধারিত চেয়ার ধরে টানলেন বসবে বলে।কিন্তু উনি বসার আগেই আমি বসে পড়লাম।নাবিলা চৌধুরী রাগে ফুঁসে উঠলো,
–“এটা আমার চেয়ার উঠে যা-ও।”
–“চেয়ারে কারো নাম লেখা নেই। তার মানে যে কেউ বসতে পারবে।”
নাবিলা চৌধুরী ছেলের দিকে তাকালো।ইফান বাসায় মহিলাদের সাথে কখনো কেচালে জড়ায় না।আজও তাই।নাবিলা চৌধুরী ছেলের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো কিন্তু ইফান একবারো তাকালো না।সে প্লেটে খাবার তুলে নিজের মতো করে খাচ্ছে। নাবিলা চৌধুরী রাগ নিয়ন্ত্রণ করে আমার পাশের চেয়ার টেনে বসে পড়লো।
সবাই খাচ্ছে।নাবিলা চৌধুরী খাওয়ার মাঝে বারবার আমার দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছে। আমার মাথায় শাড়ির আচল টেনে কাঁধ জড়িয়ে রাখা।বলতে গেলে সারা শরীর ঢাকা।ঠান্ডা পড়ছে তাই অসময়ে গোসল করায় শীত শীত লাগছে।নাবিলা চৌধুরী আমার সাথে চেপে বসলো।আমি খেতে খেতে আড় চোখে উনাকে দেখে উনার মতিগতি বুঝার চেষ্টা করলাম।নাবিলা চৌধুরী শুকনো কেশে ফিসফিস করে বলে উঠলো,
–“বেহায়া মেয়েছেলে লজ্জা লাগে না?”
আমি অবাক!আমি এখন কি করলাম!নাবিলা চৌধুরী খাবার চিবাতে চিবাতে আবারো ফিসফিস করে বললো,”ছেলেটা আসলো কি আসলো না ওমনি বেহা’য়াপ’না শুরু করে দিয়েছ!”
–“আজীব তো আমি আবার আপনার কোন পাকা ধানে মই দিলাম!”
আমিও ফিসফিস করে বললাম।নাবিলা চৌধুরী নাক ছিটকে বললো,”আবার বে’হা’য়ার মতো জিগ্যেস করে!বলছি যে জামাইয়ের সাথে দিনদুপুরে ন’ষ্টা’মি করেছ আবার সেটা মুরুব্বিদের বুঝাতে চাইছ।ল’জ্জা করে না!”
নাবিলা চৌধুরীর কথায় আমি আকাশ থেকে পড়লাম!নাবিলা চৌধুরী ইনিয়েবিনিয়ে আমার ভেজা চুলগুলোকে ইঙ্গিত করে কিছু একটা বুঝাতে চাইছে।আমিও উনার মতো নাক ছিটকে বললাম,
–“আপনার লজ্জা করে না ছেলের বউকে এসব বলতে?”
–“আহা হা নোং’রা’মি করবে তুমি, আমি উপদেশ দিলেই দোষ!”
–“বেশ করেছি আরও করবো।”
কথা শেষ করেই মাথার কাপড়টা ফেলে দিলাম।দৃশ্যমান হলো ভেজা চুলে টাউয়াল পেচিয়ে রাখা।তার সাথে দৃশ্যমান হলো গলার নেকলেস টা।নাবিলা চৌধুরী আশ্চর্য হয়ে আমার গলার দিকে তাকিয়ে। উনি খাচ্ছেন না দেখে সকলে তার দৃষ্টি অনুসারে তাকাতেই দেখলো আমার গলার নেকলেস। সকলেই আশ্চর্য হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে। তাদের চোখে কৌতুহলে ভরপুর।ইফানের উপস্থিতির কারণে কেউ কিছু জিগ্যেস করতেও পারছে না।সবার এমন দৃষ্টি দেকে আমার অস্বস্তি হচ্ছে। বুঝতে পারছি মাথার আচলটা ফেলে দেওয়া ঠিক হয় নি।
প্লেটে আমার হাত চলছে না দেখে ইফান মাথা তুলে তাকাতেই সকলে আমার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে খাওয়ায় মনযোগ দিলো।
কিন্তু মীরা নিজের কৌতুক ধরে রাখতে পারলো না।বেশ কিছুক্ষণ আমার নেকলেস টা মনযোগ দিয়ে দেখে বললো,”ভাবি তোমার গলার নেকলেসটা খুব সুন্দর তো।এটা….!!
–“হোপ নেকলেস।”
মীরার কথা বুঝতে পেরে আমি আগেই উত্তর দিয়ে দিলাম।মীরা অবাক হয়ে বলে উঠলো, “হোয়াট!!”
বাড়ির সকলে আবার আমার দিকে তাকালো।আমি ভেতরের অস্বস্তি টা প্রকাশ না করে মৃদু হাসলাম।মীরা আবার শুধালো,”এটা তুমি কোথায় পেলে?”
আমি আর চোখে ইফানের দিকে তাকালাম। তারপর টুশ করে ছাড়লাম এক কথা,”আমি আনি নি তো।তোমার ভাই চুরি করে এনেছে।”
মূহুর্তেই সকলে কাশতে আরম্ভ করলো।ইফানের হাত প্লেটেই থেমে গেলো।চোখ তুলে কটমট করে আমার দিকে তাকালো।আমি আড় চোখে ইফানের লাল চোখ দেখে একটা শুকনো ঢোক গিলে দৃষ্টি নত করে নিলাম।
ইফান আমার বোকা কথা শুনে ভাবতে লাগলো সেই ছয়মাস আগের কথা……..
তখন ইফান আর আমি শেখ বাড়িতে ছিলাম।ইফান আমাদের বাড়িতে আসার কদিন আগে ইনান আর মাহিনকে জানায় হোপ ডায়মন্ডের নেকলেসটা সে কিনতে চায়।যত টাকায় লাগুক না কেন তার লাগবেই।
ইফানের কথা অনুযায়ী নেকলেসটা কেনার জন্য সরকারের সাথে আলোচনা করে ব্ল্যাক ভে-নম গ্রুপের ক্যাপ্টেন।কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সরকার দেশের এই মূল্যবান সম্পদ বিক্রিয় করতে নারাজ।এটা নিয়ে ইফান বেজায় চটে যায়।সেদিন ইফান সেই জন্যই প্রচন্ড রেগে ছিলো।আর আমাকে নিয়ে চৌধুরী বাড়িতে ফিরে আসে।
তারপর ইফান যুক্তরাষ্ট্রে যায়।সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাথেও এটা নিয়ে আলোচনা করে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মাফিয়া ইফান চৌধুরী কে আর তার বিখ্যাত মাফিয়া গ্রুপ ব্ল্যাক ভে-নমকেও ভালো করে চেনে।ইকবাল চৌধুরীর সাথেও ভালো সম্পর্ক যেহেতু উভয়ই রাজনৈতিক মানুষ।অন্যদিকে ইফানের সাথে আরও আগে থেকেই পূর্ব পরিচিত।রাজনৈতিক বিভিন্ন কাজে ইরফানের থেকে সাহায্য নিয়ে থাকে।বলতে গেলে রাজনীতিতে টিকে থাকার অন্যতম অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়া বস ইফান চৌধুরী।
সেদিন ইফান অনেক রাগারাগি করে,কেন তার প্রস্তাব সরকার ফিরিয়ে দিয়েছি।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সেদিন ভয়ে ভয়ে ইফানের সব কথা শুনে। কিন্তু তিনিও কিছু করতে পারবেন না।দেশের সব ক্ষমতা তার হাতে থাকলেও সরকারের উপরে কিছু করতে গেলেই বিপাকে পড়বে।সামনে নির্বাচন জনগণ ক্ষ্যাপানো যাবে না।
ইফান সেদিন ওপেনলি চ্যালেন্জ করে বলে,এই নেকলেস টা আমি নিয়েই ছাড়বো।আটকাতে পারলে আটকাবেন।”
প্রেসিডেন্ট চুপ করে ইফানের কথা শুনে।তিনি বলেন,”আপনার যা ইচ্ছে করেন আমি বাঁধা প্রধান করবো না।শুধু সতর্ক থাকবেন।আমি পরে বাকিটা মেনেজ করে নিব।”
এরপর ব্ল্যাক ভে-নম কদিনের মধ্যে নেকলেসটা লুট করে আনে।আর পুরো টিমকে সামনাসামনি লিড দেয় মাহিন চৌধুরী।মিশনও সাকসেসফুল হয়। কিন্তু তারপর……
–“ব্রো ভাবি এসব কি বলছে!!”
মীরার কন্ঠ শুনে ইফান ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসে।এদিকে ইফান কিছু বলার আগেই আমি হেসে হেসে ছাড়লাম আরেক কথা,
–“আরে বোইন ও কি বলবে!চোর কি চুরি করে বলে আমি চুরি করেছি।আহারে আমার সাসুমাটার জন্য কষ্ট লাগছে গো।এখন তো সবাই বলবে চোরের ছেরা চোর।আহ্ লজ্জা কি লজ্জা!!
আমি নাটকীয় ভঙ্গিমায় দুঃখ প্রকাশ করলাম।উপস্থিত সবাই আমার কথা শুনে শুকনো কাশতে লাগলো।মাহিনের গলায় খাবার আটকে গেছে।এদিকে নাবিলা চৌধুরী চেচিয়ে উঠলো,
–“হা’রাম’জাদি ছোটলোকের বাচ্চা,তোর কত বড় সাহস আমার ছেলেকে চোর বলিস!!”
নাবিলা চৌধুরী উঠতে নিলেই ইফান হেসে তার মাকে বলে,”ওহ্ মম রিলাক্স রিলাক্স।”
ইফান আমার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলে,”আমার ঘরের বান্দি মন্দ বলে নি।শালি তো নিজেই চুরির মাল।আউচ্!!”
আমি রাগে গদগদ করছি।কিছু বলতে যাব তার আগেই আমার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।ঠোঁট দু’টো আপনা-আপনি আলাদা হয়ে যায়।ইফান বাঁকা হেসে খাবার চিবাচ্ছে।আবার জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলছে।এই হাসিটা সেই পুরাতন ইফান চৌধুরীর।দেখেই গা ঘিনঘিন করে।কিন্তু এত কিছু ভাবতে পারছি না।কারণ খাওয়ার টেবিলের নিচ দিয়ে সবার আড়ালে ইফানের এক পা আমার পায়ে আল্ত করে স্পর্শ করছে।ওর এমন নমনীয় স্পর্শে আমার শরীর কেঁপে উঠছে।
আমি ইফানের দিকে ইফান আমার দিকে তাকিয়ে।ইফানের চেহারায় হাসির ঝলক। আর আমি হতবিহ্বলের মতো চেয়ে।আমি নিজের উরুতে খামচে ধরে শুকনো ঢুক গিললাম। ইফানের পা আস্তে আস্তে আমার পা’য়ে আল্ত স্পর্শ করতে করতে উপরের দিকে উঠছে।আমি সবার সামনে কিছু বলতেও পারছি না।সবাই মনযোগ দিয়ে খাচ্ছে। মীরা দেখলো আমি খাচ্ছি না।তাই বললো,
–“ভাবি খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে খেয়ে নাও।”
–“খাখা..আআআ”
আচমকা আমি মৃদু আর্তনাদ করায় সবাই আমার দিকে তাকালো।আমি অপ্রস্তুত হয়ে মৃদু হাসলাম।ইফানের পা আমার স্পর্শকাতর অঙ্গে লাগার সাথে সাথেই আমি মৃদু আর্তনাদ করে উঠি।ইফান তার পায়ের ধারালো নখর দিয়ে একটা আচর কেটে পা সরিয়ে নিয়েছে।সে মাথা নিচু করে প্লেটের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে চাপা হাসিতে ফেটে পরছে আমার এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে।
রাগে আমার নাকের পাঠা আর বুক উঠানামা করছে।কাকিয়া বললো,
–“আরে বউমা শরীর ঠিক আছে।এমন করছ কেন?”
আমি রাগে দুঃখে সবার সামনে ইফানের উরুতে থাপ্পড় মারলাম কয়েকটা।ইফান হাসছে।নাবিলা চৌধুরী আমার উপর চেঁচাচ্ছে। আমি কানে নিলাম না।ইফানকে সবার সামনে দিলাম এক খাপছাড়া গালি,
–“শালা ন’ডিরপুত। তর সাউয়ায় আল্লার গজব পড়বে।”
কাকা শ্বশুর ইরহাম চৌধুরী তব্দা মেরেছে।চোখের পলকও পড়ছে না।বাকিরা কাশতে কাশতে চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার অবস্থা। মাহিন বিষম খেয়েছে।মনিরা বেগম পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ইফান আগের মতো প্লেটের দিকে চেয়ে চাপা হাসছে।এদিকে নাবিলা চৌধুরী ফুঁসে উঠেছে। তিনি আমার দিকে তেড়ে এসে বললো,
–“যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা।ছোটলোকের বাচ্চা তুই কাকে ন*ডির পুত বলছিস।এই মেয়ে তুই আমার স্বামী সন্তান কে গা’লাগা’লি করার সাহস কোথায় পেলি।”
–“আমি আপনার জাইমাইকে কখন বললাম!!”
আমি অবাক হয়ে বললাম।নাবিলা চৌধুরী চেচিয়ে উঠলো,”তাহলে নাডি কাকে বললি?আমাকে বললি!”
আমি আড় চোখে তাকিয়ে মুখ বেঁকিয়ে বলালম,”বেশ করেছি বলেছি।আপনি আর আপনার ছেলে একই চরিত্রের। পার্থক্য আর পের্থক্য হইলো আপনার পোলা যোয়ান বয়সে বউকে স্টক মারে।আর আপনি বেডি হয়া বুইরা বয়সে বেডাকে স্টক মারেন।”
–“ব্যাস অনেক হয়েছে।”
আচমকা ইফান ধমকে উঠলো।আমি আর নাবিলা চৌধুরী দুজনেই মুখ মুচরে আগের জায়গায় গিয়ে বসলাম।বসতে বসতে আবারও ইফানকে বকলাম,”চোরের ঘরের চোর…..”
আমি বসতে না বসতেই ইফান টান মেরে আমার চেয়ার নিজের কাছে নিয়ে আসলো।আমাকে চোয়াল শক্ত করে বললো,
–“শা’লি তোর ঘটে কি গু ভরা নাকি!সেই তখন থেকে বো’কাচু’দার মতো ঘ্যানঘ্যান করছিস।আমি চাইলে পুরো বাংলাদেশ কে কিনে নিতে পারি।আর তুই এক বা’লের জিনিস নিয়ে পড়ছস।”
–“তুই একটা চোর।”
আমি চোখমুখ শক্ত করে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ইফানের দিকে তাকিয়ে বললাম।ইফান চোখ মেরে ঠোঁট গোল করে চুম্মা দেখিয়ে বললো,”ঠিক আছে বউ।এবার আমার নেক্সট টার্গেট তোর বুড়া বাপের বেঁকে যাওয়া মাল।”
সকলে পুনরায় কেশে উঠলো।আমি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ড্রয়িং রুম ত্যাগ করি।
–“কিরে নাত বউ গলার হারটা তো খুব সুন্দর। ভাই দিলো নাকি?”
আমি বিরক্তি নিয়ে বললাম,”তোমার নাতিকে নিয়ে কথা বললে কিন্তু আমি ইতির রুমে চলে যাব।”
দাদি তছবি জপতে জপতে আমার সাথে গল্প করছে।ঘড়ির কাটা এখন রাত প্রায় বারোটার ঘরে।আমি খাবার খেয়ে দাদির রুমে চলে এসেছি।কিছুক্ষণ আগেও ইতি,মীরা আর পলিও ছিলো।ইমরান বাসায় আসায় পলি চলে যায়।আর ইতির ঘুম লেগে যাওয়ায় মীরা ওকে রুমে নিয়ে যায়।আজ মীরা ইতির সাথেই ঘুমাবে।
–“শুন বউ,বিয়ে হইসে অতীত ভুলে যা।স্বামী সংসারে মনযোগ দে।ইহকাল আর কয়দিনের বোইন।এখনই তো সময় জীবনডারে ভোগ করবার।এই দেখ এখন আমি স্বামী হারা কেমনে শেষ সময় পার করতাছি।যৌবন কালে স্বামীর কত ভালোবাসা পাইছি।তবুও এই বয়সে স্বামীর লাগি পরান কান্দে।ভালোবাসা এমনই রে বোইন।আমি তরে কই পিছনে কি আছিন আর ফিরে চাইস না।সামনে কি আছে ঐটা নিয়ে ভাব।সুখে সংসার কর।তবুও যদি তর মন শান্ত না হয় তাহলে পোলাপান লয়া লা।তর বিয়ের তো বছর হইয়েই গেলো।এবার বাচ্চা আন।দেখবি সংসারে তর মনও বসে গেছে। আর আমরাও বংশের নতুন সদস্য পায়াম।কতদিন ধরে আমাগো চৌধুরী বাড়িতে ছোট সদস্যের মুখ দেখি না।ছোট বউটারেও কইলাম পোলাপান নিতে।বউ কইলো চেষ্টা করতাসে আল্লাহ দিলে ওদের আপত্তি নাই। তুইও চেষ্টা কর।”
–“নষ্ট পুরুষের সন্তান পৃথিবীতে আনলে মানুষ নাল্লত দিবে গো।”
–“ছিছি বোইন এইটা তুই কি কইলি রে।আল্লাহ পাপ দিবো।এমন বলতে নাই।শুন…”
–“প্লিজ দাদি এসব নিয়ে আর কথা বাড়িও না।আমার ভালো লাগে না।আমি মানসিক শান্তির জন্য তোমাদের কাছে আসি।এখানেও যদিও এসব হয় তাহলে আমি আমার রুমেই চলে যাচ্ছি।”
আমার বুক ছিড়ে দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসলো।মনটা অশান্ত হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে যেদিকে দুচোখ যায় সেদিকে চলে যায়।
–“নাতবউ তুই আর চাপ লইস না। আমার পাশে বস।আল্লাহই সব ঠিক করে দিবে।”
দাদি আর আমি পাশাপাশি শুইয়ে গল্প করছি। হঠাৎই দরজায় শব্দ হলো।আমার বুকটা ধক করে উঠে।আমি উঠে বসে চুল ঠিক করতে করতে শুকনো ঢুক গিললাম।দাদি চোখ বুজে থেকে বললো,”বউ কে আইছে দেখ তো।”
আমার ঠোঁট গুলো শুকিয়ে আসলো।আমি জিহ্ব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলাম।আবার দরজায় নক হলো।দাদি আমাকে আবার দরজা খুলতে বললো।আমার হাত পা অসার হয়ে আসছে।ইচ্ছে করছে না দরজা খুলতে।কিন্তু দরজায় যে পরিমাণ শব্দ হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে দরজা না খুললে ভেঙে ভেতরে চলে আসবে। আমি শাড়ির আচল কাঁধে তুলে সময় নিয়ে দরজা খুললাম।কেউ দরজা ঠেলে ভেতরে আসলো না।আমি দরজা হালকা খুলে মাথা বের করতেই শিউরে উঠলাম।
ঘামে ভেজা খালি গা।হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট তাও আবার বিপদ সীমার নিচে নেমে আছে।দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বুকে দুহাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে ইফান।মাতালের মতো দৃষ্টি আমার দিকে।আমি কাঁধের আচলটা আরেকটু টেনে নিলাম।ইফান বড়সড় ঢোক গিলে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
–“তোমার অপেক্ষা করতে করতে জিম করে নিলাম।আবার দু প্যাক মালও গিলে নিলাম।তবুও আমার চান্দুর দেখা নেই।”
ইফান আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে ব্রু নাচালো।আমি ঢোক গিলতে লাগলাম।আমার রুমের ভেতরেই ইফানের জিম ঘর।সেখানেই তার ম’দ ড্রা’গ’স রাখে।ইফানের অবর্তমানে আমি সেগুলো পুড়িয়ে দিয়েছি।এখন ইফান জানলে কি করবে আল্লাহ মাবুদ জানে।কারণ কম হলেও বিশাল বড় অংকের টাকার জিনিস ছিলো।পুরো একটা ফ্রিজ ভর্তি দামি দামি হুইস্কির বোতল সব নষ্ট করে খালি বোতল আগের জায়গায় রেখে দিয়েছি।এটার শাস্তি তো ইফান নিশ্চয়ই দিবে।আর সেই জন্যই দাদির ঘরে বসেছিলাম।এখন ইফানকে এমন মাতাল দেখে ভয় করছে।আমি আমতা আমতা করে বললাম,
–“ম ম’দ কোথায় পেলে?”
–“আসার সময় নিয়ে এসেছিলাম।ঘরেরগুলো তো…..রুমে চলো।”
ইফানের এমন অদ্ভুত চাহনি আর কথা শুনে গলা শুকিয়ে গেলো।তবুও আমতা আমতা করে বলালম,
–“আআমি আজ দাদির সাথে ঘুমাবো।”
ইফান এক ব্রু উঁচিয়ে আগের ন্যায় দাঁড়িয়ে থেকে শান্ত কন্ঠে বললো,”কি বললা?”
–“আমি আজ দা…..”
আমার মুখের কথা মুখেই আঁটকে গেলো।কারণ ইফান শরীর টানা দিতে দিতে এক পা আমার দিকে এগিয়েছে।ইফান হাই তুলতে তুলতে বললো,”কি যেন বলছিলে?”
ইফান এক পা করে এগিয়ে আসছে।আমি এক পা করে পিছিয়ে যেতে লাগলাম।এক পর্যায়ে ইফানের মুখের সামনে দরজা আটকে দিতে চাইলে ইফান ধরে নিলো।আমি ছুটে বিছানার উপর উঠে পড়লাম।দাদি আমার এমন কান্ডে হতবাক হয়ে শুয়া থেকে উঠে বসলো।ইফান দরজা আটকে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।ঠোঁটে বাঁকা হাসি।আমি এদিক ওদিক তাকাতেই চোখে পড়লো বিছানা ঝাড়ু।সেটাই হাতে নিয়ে নিলাম।
দাদি হা হয়ে বললো,”বউ ঝাড়ু দিয়ে কি করবি?”
ইফান বিছানার সামনে এসে থামলো। থামতে বাধ্য হলো। কারণ আমি ঝাঁটা ওর দিকে ধরে।আমি দাদিকে বললাম,”ওকে চলে যেতে বল দাদি।”
দাদি ইফানের দিকে তাকাতেই ইফান ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,”ডার্লিং তুমি এখন রুম থেকে বেড়িয়ে যাও।আমার বউয়ের সাথে ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে।”
দাদি মুখে হাত ধরে চাপা হাসলো।অতঃপর বিছানা থেকে নামতে প্রস্তুতি নিলেই আমি ধাক্কা দিয়ে শুইয়ে বললাম,”একদম যাবে না।এই শয়তান কে বল যেতে।”
দাদি বোকার মতো ইফানের দিকে তাকাতেই ইফান চোখ মেরে ইশারা করলো ওপাশ ফিরে শুইয়ে পড়তে।দাদি পড়নের হিজাবের মাথা মুখে টেনে নিঃশব্দে ওপাশ ফিরে শুইয়ে পড়লো।আমি ইফানের দিকে ঝাড়ু মারতে নিলেই সরে যায়।আমি বলতে লাগলাম এখান থেকে বেড়িয়ে যেতে।কিন্তু যাওয়ার নামই নিচ্ছে না।
ইফান বিছানার ধারে কাছে আসতে নিলেই আমি ঝাড়ু দিয়ে আক্রমণ করছি।ইফান জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো,
–“সোনা বউ আমার ঝাঁট রেখে নিচে নেমে আস জান।এখন ভালোবাসা করার সময়।”
আমি নাকের পাটা ফুলিয়ে বললাম,”ইফাইন্নার বাচ্চা দাদির রুম থেকে এক্ষুনি বেড়িয়ে যা।নাহলে আমার হাতে ঝাঁটা পিটা খাবি।”
ইফান কোমরে হাত ধরে জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলতে লাগলো। কিছুক্ষণ শান্ত দৃষ্টিতে আমাকে দেখে মাথা নাড়িয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।আমি ঝাঁটা হাতে নিয়ে আস্তে আস্তে দরজা বন্ধ করে শান্তির নিশ্বাস ছাড়লাম।তারপর দাদিকে বলে লাইট অফ আর ডিম লাইট অন করে শুইয়ে পরলাম।
ঘড়ির কাটা প্রায় একটার ঘরে। আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।হঠাৎ করে দরজাটা খুলে গেলো।অতঃপর আগুন্তকঃ দরজা লাগিয়ে অন্ধকারে আমার কাছে বিছানার পাশে এসে থামলো।দাদি আরেকপ্রান্তে আমাকে পিঠ দিয়ে শুইয়ে ঘুমাচ্ছে। আগুন্তকঃ আমার উপর উঠে আসলো।ঘুমের মধ্যে হঠাৎই অনুভব করলাম আমার শাড়ি পা থেকে আস্তে আস্তে উপরে উঠে যাচ্ছে।কিছু একটা আমার উপর ঝুঁকে।আগুন্তকঃ আমার উপর নিজের ভর ছাড়তেই ঘুমের মধ্যে গোঙ্গানিয়ে মৃদু আর্তনাদ করে উঠলাম,
–“আম্মা গো…”
–“হিশশশ তর জামাই।”
মূহুর্তেই আমার ঠোঁট আঁকড়ে ধরলো।ঘুম পালিয়েছে।আমার মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে গেছে।আমার নাকে চেনা পুরুষটার শরীরের ঘ্রাণ আসছে।তার চেয়ে বেশি ইফানের মুখ থেকে সিগারেট আর ওয়াইনের তীব্র বিচ্ছিরি গন্ধ আসছে।আমার পেটের সব নাড়িভুড়ি যেন বেড়িয়ে আসার উপক্রম।আমি ওকে ছাড়াতে চাইছি পারছি না।
ইফান আমার ওষ্ঠ ভাঁজে গাঢ় চুমু দিচ্ছে।ইফানের চুমুর শব্দে হঠাৎই মনে পড়লো আমি তো দাদির রুমে। আর দাদি তো বিছানাতেই।লজ্জা কি লজ্জা!! আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।আমি মুখ দেখাবো কি করে!এভাবে দাদির সাথে থেকে আমরা আন্তরঙ্গ মূহুর্ত ছিহ্ ছিহ্!!
আমি উমউম করে কিছু বলতে চাইলাম।তার আগে ইফানই আমার ওষ্ঠ থেকে ন্যানোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,”চেচামেচি করো না বুলবুলি।দাদি রুমেই।আমার কিন্তু আবার লোকলাজ নাই।লজ্জায় কিন্তু তুমিই পড়বে।”
আর কিছু বলতে পারার মতো কথা খুঁজে পেলাম না।আমি লজ্জা শরমের কথা আর ভাবতে পারছি না।মদ সিগারেটের গন্ধে সত্যি সত্যি দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমি ইফানের মুখ দূরে ঠেলে বমি করার মতো মুখ খিচকে নিলাম।ইফান আমার ঠোঁটে পুনরায় ডুব দিতে নিলে আমি ওর ঠোঁটে হাত ধরে বাঁধা দিয়ে বলালম,
–“মুখ সরাও আমার বমি চলে আসছে।ওয়াক ওয়াক!!
–“উফফ, বাল ভুলেই গেছি!”
আমার কথা শুনে ইফান মুখ সরিয়ে নিলো।অতঃপর পেন্টের পকেট থেকে একমুঠো সেন্টার ফ্রেশের পেকেট বের করে আনলো।আমি অবাক হয়ে বলালম,
–“এগুলো!!”
–“তোমার খারাপ লাগবে বলে নিয়ে আসছিলাম।আগে বলবা না তোমার খারাপ লাগছে।”
আমি ইফানের থেকে চোখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বললাম,”পুরো তুমিটাই আমার খারাপ লাগছে।আমার উপর থেকে সর ব্যাথা পাচ্ছি।”
ইফান এক সাথে দুটো চুইঙ্গাম মুখে পুরে চিবতে চিবতে আমার কানের কাছে হিসহিসিয়ে বললো,”ব্যাথা দেওয়ার জন্যই তো ধরেছি।বেশি তিড়িংবিড়িং করো না।জানো না তুমি বেশি নাড়াচাড়া করলে আমার মাথা নষ্ট হয়ে যায়।নিজেকে রাইট সেন্সে ধরে রাখতে পারি না।”
আমি প্রতিত্তোরে কিছু বলার আগেই লোকটা আমার বুক থেকে শাড়ির আচল সরিয়ে নিলো।ঠোঁটে চুমু দিতে দিতে তার মুখের চুইঙ্গাম আমার মুখে দিতে নিলেই ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলাম।ইফান হয় তো হাসলো।
সে আমার ঠোঁট আঁকড়ে ধরে এলোমেলো হাতে ব্লাউজের বোতাম খুলতে গিয়ে বোতামগুলো ছিঁড়ে ফেললো।আমি ইফনের বুকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরাতেই ইফান আমার গা থেকে ব্লাউজ খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলো।অতঃপর চাদরের নিচে দুজনকে মুড়ে নিলো। আমার সারা মুখে শব্দ করে চুমু খেতে লাগলো।আমি ঠেলে সরাতে চাইলাম।এতে ইফান আমার দু’হাত বিছানার সাথে চেপে ধরে। আমার আঙ্গুলের ভাজে ভাজে তার আঙ্গুল রাখলো।
সময়ের সাথে সাথে ইফান আরও উন্মাদ হয়ে উঠছে।ফলস্বরূপ তার হাতের নিচে আমার বন্দী হাত দু’টোতে আরও বেশি বল প্রয়োগ করছে।
ঘড়ির কাটা টিকটিক করে রাত দুইটাই এসে থামলো।সারা রুমে আমাদের উন্মাদনার ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাস রুমের প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে বারি খেয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।ব্যথায় সারা শরীর জর্জরিত।একই চাদরের নিচে আমি আর ইফান।আমার অর্ধনগ্ন দেহের উপর জলহস্তির মতো একটা শরীর। ইফানের ভার আমি নিতে পারছি না।আমি হা করে ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছি। ইফান আমার বুকের মধ্যে ঠোঁট ছুঁইয়ে জিহ্বা দিয়ে লেহন করছে।ঠোঁট থেকে গলা বুক সবটা লালায় ভিজে বাজে অবস্থা।আমার ঠোঁটগুলো মনে হয় ফুলে গেছে।যেমন চুমু খেয়েছে তেমন কামড়েছেও।রক্তও বেড়িয়েছিলো।রাক্ষসটা চেটে খেয়ে নিয়েছে।খেয়ে আবার বলে,
–“নোনতা লাগে কেন বউ?”
কত বড় জাউরা হলে এমন ধরণের কথা বলে।আমার সারা মুখে ক্লান্তির ছাপ।কিছুক্ষণ আগেও ঘুমে চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আসছিলো।আর এখন শরীরে অসহ্য ব্যথার ঠেলায় কাঁদতে মন চাইছে।এতটাও ব্যথা দিতে পারতো না যদি আমাদের রুমে থাকতাম।কিন্তু দাদির রুম হওয়ায় মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছি।চেচামেচি ধস্তাধস্তিও করতে পারছি না।আর ইফান চৌধুরী তো সুযোগ লুফে নিতে উস্তাদ।
ইফানের বন্য স্পর্শগুলো আর সহ্য করতে পারছি না।এদিকে ইফানের মতো তার অসভ্য হাত দু’টো আমার দেহের স্পর্শ কাতর অঙ্গগুলোতে বিচরণ করছে।ইফানের বিশাল আকৃতির দেহের নিচে আমার মোমের মতো এইটুকু শরীর।দুজনেই ঘেমে একাকার। আমার কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘাম পড়ছে।এখন আর ঘনগন শ্বাস নিতে পারছি না।মুখ হা করে খুব ধীরে ধীরে শ্বাস নিচ্ছি। তনু বুকটা সেই সাথে ধীরে ধীরে উঠানামা করছে।ইফানের হাত আমার তল পেটে। হঠাৎই চাপ বসাতেই আমি মৃদু আর্তনাদ করে উঠলাম,
–“উহুহ্, লাগছে!”
ইফানের খালি দেহ তাই ওর কাঁধেই খামচে ধরলাম।আজ চেচামেচি করতে না পেরে ওর শরীরে আচ্ছা মতো খামচে দিয়েছি।আবারো খামচে ধরলাম।ইফান থেমে গেলো।নিজের উন্মাদনাকে রুখে ঠোঁটের আসেপাশে লেগে থাকা তরলটুকু জিহ্বা দিয়ে লেহন করে ঢোক গিললো।অতঃপর আমার ক্লান্ত চেহারায় নজর বুলালো।মূহুর্তেই ইফানের চোখ দুটো শীতল হয়ে আসলো।মৃদু আলোতে আমার বেহাল দশা দেখে সারা মুখে শব্দ করে চুমু খেলো।আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে সারা মুখে ফু দিতে লাগলো।আল্ত শীতল হাওয়ায় চোখ বন্ধ করে নিয়ে ঢুক গিললাম।ইফান এক হাতে আামর মাথায় এখনো হাত বুলিয়ে আমাকে একটু শান্ত করছে।আমি ভিষণ অস্থির হয়ে আছি।শরীরটা মাঝেমধ্যেই কেঁপে উঠছে।ইফান আমার কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে হিসহিসিয়ে বললো,
–“তুমি নিজের দোষেই খালি মা’রা খাও।কে বলেছিলো আমার ড্রা’গ’সগুলো সরিয়ে দিতে!এখন আমি নিজেকে শান্ত করবো তারও উপায় নেই।আমি না থাকায় খেয়েদেয়ে তো ভালোই মুটি হয়ে গেছে।স্বামীহীনা আরও সুন্দরও হয়ে গেছ।আজ নিজেকে নিজের কাছেই মাতাল লাগছে বউ।”
ইফান আমার নাকে নাক ঘষে ঠোঁটে টুপ করে শব্দ করে চুমু খেলো।কিছুক্ষণ আমাকে তার বুকের মধ্যে আগলে রাখলো।যেই আমি কান্তিতে চোখ দুটো বন্ধ করেছি ওমনি তার উন্মাদনা আবারও বেড়ে গেলো।এই রে রুমে যে দাদি আছে আমি তো ভুলেই গেছি।মনে পড়তেই ইফানকে আমার থেকে সরাতে সরাতে বললাম,
–“আমাদের রুমে চল।”
–“এখন পারবো না।বিজি আছি।”
আমি দাঁতে দাঁত পিষে বললাম,”এখানে দাদি আছে। আল্লাহ হেদায়েত কর।”
ইফান বিরক্ততে চ বর্গীয় আওয়াজ বের করে হিসহিসিয়ে বললো,”তাতে কি হইসে, যৌবন কালে শালিও আমাদের মতো হিংকি-পিংকি করতো।”
ইফানের উন্মাদনা আবারো বাড়তেই বললাম,”আস্তে খাট নড়াচড়া করছে শব্দ হচ্ছে তো।দাদি শুনে ফেলবে।”
ইফান আমার গালে চুমু খেতে যাচ্ছিল।কিন্তু এতক্ষণ পর আমার এমন বোকা কথা শুনে ঘারে মুখ ডুবিয়ে নিঃশব্দে হাসতে লাগলো।ওর হাসির তোরে আমার দেহও কম্পিত হচ্ছে।ইফান নিজেকে সামলে আমার গালে দাঁত বসিয়ে দিলো।আমি আবারও চাপা আর্তনাদ করে উঠলাম।ও হাস্কি স্বরে কানে ফিসফিস করে বললো,
–“বুড়ি ঘুমাচ্ছে শুনবে না।”
আমি ঘার বাকিয়ে দাদির দিকে তাকালাম। দাদি আমাকে পিঠ করে দেয়ালের সাথে চেপে শুয়ে আছে।আমি ইফানের দিকে তাকালাম।ইফান ঠোঁট কামড়ে হেসে আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।আমি দাঁতে দাঁত পিষলাম।কিছু একটা ভেবে একটা ঢুক গিলে মিনমিন স্বরে ডাকলাম,
–“দাদি…”
–‘হ বোইন ক..”
রাত দুইটা বেজে দশ।সিঙ্গেল কাউচটায় আয়েশ ভঙ্গিমায় বসে আছে নাবিলা চৌধুরী।পড়নে নীল রঙের নাইটডি। হাতে সাদা,লাল আর হলুদ রঙের তিনটি চন্দ্রমল্লিকা ফুল।তিনি খুব মনযোগ দিয়ে ফুলগুলো কে দেখতে দেখতে আল্ত করে তাতে হাত বুলচ্ছে।তার চোখেমুখে হাসির ঝিলিক দিচ্ছে।
কিছুক্ষণ আগে ইকবাল চৌধুরী বাড়িতে এসেছে। ইমরান আরও আগেই বউয়ের জন্য চলে এসেছিলো।কিন্তু ইকবাল চৌধুরী সব কাজ শেষ করে আসতে আরও দেরি হয়েছে।
এদিকে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে বসেছিলো নাবিলা চৌধুরী।ইকবাল চৌধুরী আসতেই নাবিলা চৌধুরী তার স্বামী কে জড়িয়ে ধরে।ইকবাল চৌধুরী বউয়ের কপালে চুমু খেয়ে ফুল গুলো দেয়।তিনি প্রতিদিন রাতে বাসায় আসার সময় নাবিলা চৌধুরীর জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসে।
ইকবাল চৌধুরী ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে গেছে। নাবিলা চৌধুরী অপেক্ষা করছে।এই বয়সেও তিনি অনেক আহ্লাদি মানুষ। বাইরে থেকে অনেক কঠিন হলেও ছেলে আর স্বামীর ক্ষত্রে তিনি ভিষণ নরম।এই জন্যই তো স্বামীকে সবসময় কড়া শাসনে রাখে।তিনি সবসময় একা সবার ভালোবাসা পেতে চায়।এদিকে উনার ছেলেরা বউদের বেশি প্রায়োরিটি দেয় বলে পলি আর আমি উনার দু-চোখর বিষ।শুধু আমি আর পলিই না, উনার থেকে কেউ যদি অন্য কাউকে বেশি গুরুত্ব দেয়,তাদেরকেই সহ্য করতে পারে না।
ইকবাল চৌধুরী শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে আসে।এসে দেখে তার বউ ফুলগুলো দেখে মুচকি হাসছে।তিনি এগিয়ে এসে বলে,
–“বাচ্চাদের মা এত খুশি কেন আজ!”
নাবিলা চৌধুরী ঝটপট তাকাই। তারপর তাড়াতাড়ি ওঠে ইকবাল চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরে। ইকবাল চৌধুরী নাবিলা চৌধুরীর হাত থেকে একটা লাল ফুল নিয়ে বউয়ের কানে গুঁজে দিলো।নাবিলা চৌধুরী খুশিতে ইকবাল চৌধুরীর গালে শব্দ করে চুমু খেয়ে বললো,
–“বাচ্চাদের বাবাকে পেয়ে খুশি।”
ইকবাল চৌধুরী হোহো করে হাসলো।তিনি হেয়ালি করে বললো,”এই বয়সেও তুমি বাচ্চাদের মতো আচরণ কর নাবু।আমার মনে পড়ে যায় এই তো সেই দিনই তুমি আঠারো বছরের খুকি ছিলে।”
নাবিলা চৌধুরী গাল ফুলিয়ে বলে উঠে,”এই বয়স কি হ্যাঁ।আমি কি বুড়ি হয়ে গেছি!!”
–“একদমই না। তুমি এখনো আমার খুকি বউই আছ।”
–“থাক আর ডং করতে হবে না।”
নাবিলা চৌধুরী আর একবার চৌধুরী কিছুক্ষণ গল্প করলো।অতঃপর রুমের লাইট অফ করে দুজন শুইয়ে পড়লো।
তাদের রুম থেকে হাসিঠাট্টার শব্দ শুনা যাচ্ছে। কখনো চুমুর শব্দ ভেসে আসছে।এদিকে তাদের দরজার বাইরে অশরীরির মতো দাঁড়িয়ে আছে কেউ একজন। চারিদিকে অন্ধকার।আগুন্তকের চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝড়ছে।উক্ত ব্যক্তি দেয়ালে হেলান দিয়ে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে অশ্রু ঝরালো যতক্ষণ পর্যন্ত মন্ত্রী সাহেবের রুমের প্রেম গুঞ্জন শুনা যাচ্ছিল।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
(চার হাজারেরও বেশি শব্দের পর্ব।ছোট বলে লজ্জা দিও না।হ্যাপি রিডিং 💗)
জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :৫২
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ
🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
আমি রিনরিন স্বরে দাদি বলে ডাকতেই তৎক্ষণাৎ দাদির থেকে প্রতিত্তোর আসলো।আমি তব্দা লেগে গেছি!ইফান হাসছে, তার দেহের কম্পনে অনুভব করতে পারছি।আমি বাক হারা!মানে দাদি সজাগ ছিলো!!আমি তো এইটুকু ভেবে নিশ্চিন্ত ছিলাম যেহেতু তিনি প্রতিদিন ঘুমানোর ওষুধ খায়,তাহলে নিশ্চয়ই আজও তাই খেয়ে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু এটা কি হলো!!আমি আচমকা হেঁচকি তুলে কেঁদে উঠলাম।ইফান নিজের হাসি আটকে আমাকে সামলাতে ব্যস্ত হয়ে উঠলো।আমি ইফানের বুকে কিল-ঘুষি দিচ্ছি।আমি নাক টেনে হেঁচকি তুলতে তুলতে ইফানকে ফিসফিস করে বললাম,
–” হা’রা’মির বাচ্চা, দাদি সব শুনে নিয়েছে।”
–“নারে বউ আমি কিছু শুনি নি।”
আবার দাদির কন্ঠ কানে আসতেই এ্যা এ্যা করে লজ্জায় কেঁদে দিলাম।ইফান নিজের হাসি থামিয়ে বললো,”কিছুই শুনে নি জান।শুনলেও লাভ নাই।তোমার জামাইয়ের আদরের ভাগ এই বুড়ি পাবে না।”
–“শা’লার ভাই,তুই চুপ কর। খা’ই’ষ্টা বেডা কোথাকার।তোর উপর আল্লাহর গজব পড়বে,বলে দিলাম।”
লাজ লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে আমার।এতক্ষণ যে আমি আর ইফান ঘনিষ্ঠ মূহুর্ত কাটিয়েছি আরও যা যা আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে সব দাদি….!!!আস্তাগফিরুল্লা, আস্তাগফিরুল্লা।আর কিছু ভাবতে পারছি না।ইচ্ছে করছে ম’রে যায়।আল্লাহ্ আমাকে তুলে নাও।আমি এই মুখ নিয়ে দাদির সামনে কিভাবে আসবো!মনে মনে আহাজারি করতে করতে আড় চোখে দাদির দিকে তাকালাম।তিনি এখনো আমাদের পিঠ দিয়ে শুয়ে আছে।আমি চোখ বন্ধ করে ঠোঁট কামড়ে পড়নের চাদারটা দিয়ে মুখ লুকাতে চাইলাম।
আমার এমন বেহাল অবস্থা দেখে ইফান আমার উপর থেকে সরে গেলো।অতঃপর কোমরে একটা টাউয়াল পেচিয়ে নিলো।আমি এখনো তব্দা মেরে পড়ে আছি মুখে চাদর টেনে।একটু আগে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা লাজের কান্নাও থেমে গেছে। দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা।শাড়ি আর ব্লাউজ শরীরে নেই।বান্দরটা না জানি কোথায় ডিল মেরে ফেলে রেখেছে।হঠাৎই ইফান আমাকে চাদরে মোড়ানো অবস্থায় কোলে তুলে নিলো।আমি তৎক্ষনাৎ চোখ মেলে ইফানের দিকে তাকালাম।অন্ধকারের মধ্যে মিহি আলোয় লোকটার লাল চোখদুটো ঝলমল করছে।আমি শুকনো ঢুক গিলে ফিসফিস করে বললাম,
–“ককি করছ তুমি?”
–“রুমে চল বাকি কথা আমাদের বেডরুমে হবে।”
বলতে বলতে ইফান তার নাক দিয়ে আমার নাকে ঘষলো।আমি বিরক্তি নিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলাম।ইফান হালকা হেসে তার বুকের সাথে আমাকে চেপে ধরে রুমে চলে আসে।
মাঝ রাতের এই ঘটনাটা ভাবতেই আমার সারা দেহে শিহরণ বয়ে গেলো।আমি কম্ফর্টার দিয়ে নিজেকে মুড়িয়ে বেডের মাঝখানে ঘাপটি মেরে বসে এসব ভাবছি।শীতকাল পড়েছে এখনো আহামরি শীত না পড়লেও রাত আর সকালে ভালোই ঠান্ডা পড়ে।আর এই শীতেও ইফাইন্না হা’লার পুতের জন্য আমাকে ফরজ গোসল করতে হয়েছে।শেষ রাতে আমাকে আধমরা বানিয়ে ফ্রেশ করে নিজেও ফ্রেশ হয়ে নিয়েছে।আমি ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে একটু ঘুমিয়েছিলাম।কিন্তু এক দেড় ঘন্টার বেশি ঘুমাতেও পারি নি।স্বপ্নেও গতরাতের দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে।তার সাথে আরেকটা ভ’য়ংকর স্বপ্ন দেখেছি।যেখানে একটা ছায়া আমার দিকে ধারালো ছুরি হাতে নিয়ে পিছন থেকে এগিয়ে আসছে।আর এই স্বপ্নটা দেখারও কারণ আছে।গতকাল মাঝরাতে ইফান যখন আমাকে রুমে নিয়ে আসছিলো তখন আমি অনুভব করি কেউ আড়াল থেকে দেখছে।ইফান যখন সিড়ি বেয়ে উপরে উঠছিল তখন মনে হয়েছে পেছনে কেউ আছে।আবার মনে হয়েছে দোতলার রেলিঙের কাছে কেউ দাঁড়িয়ে উপর থেকে আমাদেরকে দেখছে।এমনকি আমি একটা ছায়াও দেখতে পাই রুমের কাছে।সত্যি বলতে তখন আমার শরীরটা নেতিয়ে ছিলো।আমি ভয়ও পেয়েছিলাম কিছুটা।হয়তো শরীর খারাপ থাকার কারণে এমনটা হয়েছিলো।আমার শরীরে কাঁপনও ধরেছিলো।ইফান আমার এমতাবস্থা দেখে নিজের বুকের সাথে আরও চেপে ধরে।আমিও ঘাপটি মেরে ওর বুকের মধ্যে মুখ গুঁজে ছিলাম রুমে আসা অব্দি।
ইফান আমার এমন অবস্থা দেখে আর ঘনিষ্ঠ হয় নি।দু’জনই শাওয়ার নেই।অতপর ইফান আমাকে তার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে।
আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি ইফান রুমে নেই।আমিও সেই থেকে সাদা কম্ফর্টারটা জড়িয়ে বেডের মাঝখানে বসে।আমার মুখটা ছাড়া মাথা সহ সারা দেহ ঢাকা।হঠাৎই ফোনটা বেজে উঠে। আমি তাড়াতাড়ি ফোনটা হাতে নিতেই দেখি তন্নি কল করেছে।ফোন রিসিভ করতেই তন্নি বলে উঠলো,,,
–“কিরে জাহান আজ কি ভার্সিটি আসবি না?”
–“মন চাইতাছে না।”
–“আরে বোইন আজ মিস দিস না।আজতো আমাদের লেখা অ্যাসাইনমেন্টটা জমা দিতে হবে।চলে আয় বোইন প্লিজ প্লিজ।”
আমি ঠোঁট উল্টে একটু ভাবতে লাগলাম কি করা যায়।তখনই তন্নি আবার বললো,”জাহান চলে আয় না-রে।আমি নাহলে একলা অনাথের মতো ভার্সিটিতে বসে কি করবো!”
–“আচ্ছা আমি আসবো।”
কথা শেষ করতে না করতেই ইফানের কন্ঠ কানে আসলো,”ভার্সিটিতে যাবা।রেডি হয়ে নাও। আমি অফিস যাওয়ার সময় ড্রপ করে দিয়ে যাব।”
আমি ফোনটা বেডে রেখে ইফানের দিকে তাকালাম।ইফান হুডি পড়ে আছে।যা শরীরে আষ্টেপৃষ্টে লেগে আছে।ইফান রুমে এসে হুডিটা খুলে ফললো। উন্মুক্ত হলো পেশিবহুল দেহ।ফর্সা বুকে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে।আগের থেকে কিছুটা মোটা হওয়ায় আগের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়েছে।আমি দৃষ্টি সরিয়ে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে ঢোক গিললাম।মানতে হবে লোকটা সুদর্শন।আমি অন্যদিকে তাকিয়ে মুখ মুচড়ে বললাম,
–“আমি নার্সারিতে পড়ুয়া বাচ্চা নই যে আমাকে ড্রপ করে দিয়ে আসতে হবে।”
ইফান আমার কথা শুনতে শুনতে টি-টেবিল থেকে গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে পুরো গ্লাসের পানিটা শেষ করে দিলো।অতঃপর বেডে হাঁটু গেড়ে আমার সামনে বসলো।আমি তার দিকে চোখ তুলে তাকাতে না তাকাতেই আমার ঠোঁটে শব্দ করে চুমু খেলো।আমি তাড়াতাড়ি মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নাক ছিটকালাম।ইফান ঠোঁট কামড়ে হাসলো।তারপর খুব মনযোগ দিয়ে আমার ফেইসের দিকে তাকিয়ে রইলো।আমি ইতস্তত বোধ করলাম।ইফান তার হাতের উল্টো পৃষ্ঠ দিয়ে আমার ডান গালে যেখানে ওর কামড়ের দাগ আছে সেখানে আল্ত করে ছুঁইয়ে দেয়।তার হাতটা আমার মাথার পেছনে নিয়ে আমাকে তার দিকে টেনে গালের সেই দাগটার উপর শব্দ করে চুমু খেলো।আমি ওর হাত ছাড়িয়ে বিরক্তি নিয়ে বললাম,
–“উফফ অসহ্যকর!”
আমি বিছানা থেকে উঠে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম।তৎক্ষনাৎ কম্ফোর্টারটা শরীর থেকে সরে বেডে পড়তেই দৃশ্যমান হলো ইফানের নেভি কালার টিশার্টটা।যা আমার হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে আছে। ওভার সাইজ হওয়ায় এক কাঁধ থেকে পড়ে আছে।আমার ফর্সা দেহে বেশ মানিয়েছে।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে।আমি আগে এলোমেলো হাতে চুলগুলো একসাথে করে খোপা করতে চাইলাম।তার আগেই ইফান টান মেরে তার কোলে তুলে নিলো।আচমকা ঘটনাটা ঘটায় আমি দু’হাতে ইফানের গলা আর দুপা দিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরলাম।চোয়াল শক্ত করে চেচিয়ে উঠলাম,
–“সকাল সকাল হচ্ছে টা কি!!”
ইফান কথা ব্যয় না করে আমাকে নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর বসালো।মিররে আমার ব্যাক সাইট আর ইফানের ফ্রন্ট সাইট দেখা যাচ্ছে।ইফান আমার গলার লালচে দাগগুলো আর গালের কামড়ের দাগে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো।অতঃপর আমার কানে ঠোঁট রেখে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
–“মাই ডিয়ার ফা*কিং বুলবুলি,আজ তোমাকে প্রোপার্লি মিসেস ইফান চৌধুরী লাগছে ।”
ইফানের এহেন কথা শুনে আমি ঘাড় বাকিয়ে আয়নার দিকে তাকালাম। তক্ষুনি আমার চোখদুটো বড় বড় হয়ে গেছে। সারা গলা ঘাড়ে অসংখ্য ছোপ ছোপ লালছে দাগ।তার চেয়েও বেশি নজরে পড়েছে গালে কামড়ের দাগ।দাঁতগুলো গালে বসে আছে।কেউ দেখে বলবে কোনো প্রাণী কামড়েছে।ছি ছি ছি আমি এভাবে সবার সামনে কি করে যাব!!আমি ইফানের দিকে ফিরে চেহারায় বিরক্তি প্রকাশ করলাম।তারপর ইফানের বুকে ধাক্কা মেরে আমার থেকে একটু দূরে ঠেলে ড্রেসিং টেবিল থেকে নেমে পড়লাম।ইফান কিছু বলার আগেই বিরবির করলাম,
–“জানো*য়ার একটা।”
–“তোমারই।”
আমার আস্তে বলা কথাটাও ইফান শুনে প্রতিত্তোর করলো।আমি কানে তুললাম না।ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যেতে নিলেই পা দু’টো থেমে যায়।আমি ঠিক করে হাঁটতেও পারছি না।আমার হাটঁতে সমস্যা হচ্ছে দেখে ইফান সাহায্য করতে আসলো।আমি রাগ দেখিয়ে বকতে বকতে ওয়াশরুমে চলে গেলাম।
লিভিং রুমে সকলেই উপস্থিত আছে।ইকবাল চৌধুরী, ইরহাম চৌধুরী, ইমরান আর মাহিন চা খেতে খেতে রাজনীতি আর বিজনেস নিয়ে আলোচনা করছে।পলি আর কাকিয়া রান্নাঘরে।কাজের মেয়ে লতা তাদের কাজে সাহায্য করছে।ইতি আর মীরা হয়তো রুমে।নুলক চৌধুরী কারো সাথে ফোনে কথা বলে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে।নাবিলা চৌধুরীও লিভিং রুমে এসে হাজির হলো।দুই বোন পাশাপাশি সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসলো।তারপর ফিসফিস করে কিছু একটা আলোচনা করছে।
পলি দুজনকে চা দিচ্ছে তখনই আমি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসলাম। আমি ভার্সিটি যাওয়ার উদ্দেশ্যেই হালকা পিংক কালারের মধ্যে আরও কয়েকটা কালারের কম্বিনেশনের একটা শাড়ি পড়ে।দেহের অস্বস্তিকর দাগগুলোকে লুকানোর জন্য কলার ব্লাউজ পড়েছি।তাই গলা ঘার সবটা ঢাকা।তার সাথে বাসা থেকে বের হলে মুখে মাস্ক পড়ে বের হব। আমাকে দেখে পলি সিঁড়ির কাছে আসলো।
–“ভাবি আজও কি ভার্সিটি যাবে।তোমার জন্য চা,,”
পলি হঠাৎই থেমে গেলো।আমি পলির সামনে দাঁড়িয়ে।সে আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে। আমি শুকনো কাশলাম। পলি চা আনছি বলে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।আমি কাঁধে শাড়ির আচলটা কাঁধে আরেকটু টেনে নাবিলা চৌধুরীর পাশের সোফায় গিয়ে বসলাম। নাবিলা চৌধুরী কারো উপস্থিতি পেয়ে আড় চোখে তাকালো।আমিও একই ভাবে ওনার দিকে তাকালাম। নাবিলা চৌধুরীর চোখে পড়লো আমার গালের দাগটা।তিনি চোখমুখ বিকৃত করে আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বলল,
–“ছিহ্!”
আমি চোয়াল শক্ত করে ফেললাম।উনার গলার নিচে উঁকি মারতেই চোখে পড়লো হালকা লালচে দাগের। আমিও একই ভাবে চোখ মুখ বিকৃত করে আরেক পাশে মুখ ফিরিয়ে বললাম,
–“ছিহ্!”
নাবিলা চৌধুরী আবারও আমার দিকে তাকিয়ে মুখ মুচড়ে বললো,
–“ছিহ্!”
আমিও একইভাবে বললাম, “ছিহ্!”
দুজন দুই দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে রইলাম। পলি আমাকে চা এনে দিলো।আমি ওর থেকে চা নেওয়ার সময় পলি আমার গালের দাগটাকে ইশারা করলো।আমি মুখ ভার করে চোখের ইশারায় বুঝালাম কি আর করবো বোন,বল।তখনই নকুল চৌধুরী পলিকে জিজ্ঞেস করলো,
–“এই মেয়ে বড় মা কোথায়?”
–“আন্টি, সকালে দাদির রুমে গিয়ে দেখি ঘুমাচ্ছে।আমি আস্তে করে ডাক দিয়েছিলাম।তখন দাদি বললো সারারাত ঘুম হয়নি এখন ঘুমাবে।”
আমি ফোন টিপতে টিপতে চা খাচ্ছিলাম।পলির কথাটা কান অব্ধি আসতেই আমার কাশি শুরু হয়ে গেলো।সবাই আমার দিকে তাকালো। আমি কেশেই যাচ্ছি। হঠাৎই পিঠে কারো হাতের স্পর্শ পেলাম।আমি ঘাড় কাঁধ করে সেদিকে তাকাতেই ইফান বলে উঠলো,
–“Do you feel better now,বেইবি?”
–“হু,,”
আমি সংক্ষিপ্ত উত্তর করলাম।নাবিলা চৌধুরীর বিষয়টা ভালো লাগলো না।নকুল চৌধুরী আমাদের এক পলক দেখে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।
ব্রেকফাস্ট করা শেষ হতেই ইফান বললো ভার্সিটি যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে আসতে।আমি এখানে ওকে না করলেও শুনবে না। তাই আর কথা না বাড়িয়ে রুম থেকে কাঁধের ভ্যানিটি ব্যাগটা আনতে চলে গেলাম।ইফান কালো প্যান্ট-শার্ট,ব্লেজারে নিজেকে তৈরি করেই নিচে নেমেছিলো।সে পায়ের উপর পা তুলে সোফায় বসে ফোন টিপছে।মাঝে মাঝে বাপ-ভাইদের কথাতেও উত্তর করছে।হঠাৎই সদর দরজা দিয়ে ইনান তাড়াহুড়ো করে ইফানের কাছে আসলো।ইফানকে ফিসফিস করে কিছু একটা বললো।ইফানের চোখমুখ কুঁচকে এসেছে।ইফান চোয়াল শক্ত করে বললো,
–“এসে গেছে তাহলে!”
–“জি ভাই।”
আমি নিচে আসতেই দেখলাম ইফান আর ইনান কিছু একটা বিষয় নিয়ে কথা বলছে।তবে ইফানের চেহারায় বিরক্তির ছাপ।আমাকে দেখে ইনান চোখ নিচে নামিয়ে নিলো।ইফান কাছে এসে কোনো ইঙ্গিত না দিয়ে গালে চুমু খেলো।আমি চোখমুখ শক্ত করে আসেপাশে তাকিয়ে দেখলাম। নাহ্,কেউ আমাদের দিকে তাকিয়ে নেই। নিজেদের মতো কথা বলছে।তখনই ইফান আমার হাত থেকে কালো মাস্কটা নিয়ে আমার মুখে পড়িয়ে দিলো।আমি বিরক্তি নিয়ে ইফানের দিকে তাকালাম।তক্ষুনি ইফান আমার কপালেও চুমু খেলো।
–“অসভ্যতামির একটা লিমিট থাকে।”
–“আর সব লিমিটের উর্ধ্বে ইফান চৌধুরী।”
আমি মুখ ফিরিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে ইফান আমার বাহু ধরে আবার তার সামনে এনে দাঁড় করালো।আমি মুখ দিয়ে চ বর্গীয় উচ্চারণ করে দাঁত দাঁত পিষে বললাম,
–“আরে আমার লেইট হয়ে যাচ্ছে। তুমি কি যাবে নাকি আমি একাই চলে যাবে?”
ইফান আমার বাহু জড়িয়ে ধরে চৌধুরী বাড়ির সদর দরজা দিয়ে বেড়িয়ে আসলো।তারপর দু কাঁধে ধরে বললো,
–“সরি জান আজ যেতে পারছি না।কাজ আছে,,,,”
–“কি কাজ আছে তোমার?”
ইফান কথা সম্পূর্ণ করার আগেই আমি পাল্টা প্রশ্ন করে বসলাম।ইফান আমার কথা শুনে হাসছে।এটা তার চোখ দেখে অনুভব করলাম।আমি অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম হঠাৎ এভাবে ইফানকে প্রশ্ন করায়।ইফান এক আঙ্গুল দিয়ে আমার নাকে ঘষে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
–“বলতাম।বাট তোমাকে বললেই ম্রা খাব।”
আমি নাকে মাস্ক টেনে বিরবির করলাম,”শয়তান।”
আমি চলে যেতে নিলেই ইফান হাত ধরে আটকে বললো,”কোথায় যাচ্ছ?”
–“আমার লা’ঙ্গের কাছে।যত্তসব!!”
–“তোমার লাং ভাতার যা সব আছে তা তো আমিই।”
আমি ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বললাম,”লেইট হয়ে যাচ্ছে।”
ইফান আমাকে নিয়ে পার্কিং লটের দিকে যেতে যেতে ইনানকে বললো,”ইন্দুর তর ভাবিকে ভার্সিটি দিয়ে আয় যা।”
ইনান তাড়াতাড়ি গাড়ি উঠে যেতে যেতে বললো,”জি ভাই।”
গাড়িতে উঠতেই দেখি গার্ডরা আগে থেকে গেইটের কাছে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে।ইফান আমার গাড়ির ডোর ক্লোজ করতে নিলেই আটকে দিলাম।
–“গার্ডদের বল আমার পিছু না নিতে।”
–“কেন কি হয়েছে?”
–“আমার ভালো লাগে না এসব।”
–“ওরা তোমার সেফটির জন্য,,,”
ইফানের সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই আমি গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হলেই ইফান আটকালো।আমি শক্ত কন্ঠে বললাম,”তুমি ছিলে না ওরা আমার সাথে সাথে ঘুরাঘুরি করেছে মেনে নিয়েছি আমার কথা শুনে নি তাই।এখনো যদি আমার পিছনে পড়ে থাকে আমি আর মানব না।আমি নিজের মতো থাকতে চাই,কেন বুঝতে চাইছ না।”
আমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে উঠলাম।ইফান গালে হালকা থাপড়ে বললো,”রিলাক্স বুলবুলি।”
ইনানের উদ্দেশ্য বললো,”তর ভাবিকে সেইফলি দিয়ে আসিস।”
–“জি ভাই টেনশন করবেন না।”
অতঃপর আমি শান্ত হয়ে বসলাম।ইফান গাড়ির ডোর ক্লোজ করতেই গাড়িটা চৌধুরী ম্যানশন থেকে বেড়িয়ে গেলো।ইফান সেদিকে তাকিয়ে প্যান্টের পকেটে এক হাত গুঁজে আরেক হাত দিয়ে বুকের বাম পাশে হাত বুলালো।অতঃপর কিছু একটা বিরবির করে মৃদু হাসলো।
তক্ষুনি ফোন কর্কশ আওয়াজ তুলে বেজে ওঠলো।ইফান বিরক্তি নিয়ে প্যান্টের পকেট থেকে ফোনটা বের করতেই স্কিনে দেখলো একটা কোড নাম্বার।এই কোড নাম্বার গুলো ইফানের গ্যাংয়ের সদস্যদের নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।এটা মূলত সিকিউরিটি জন্য।ইফান নিশ্চিত হলো ব্ল্যাক ভেনমের কোনো সদস্য কল করেছে।ইফান রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে কিছু একটা বলতেই ইফান হুংকার ছাড়লো,,,
–“শুউরের বাচ্চারা যেকোনো ভাবে ওকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে বের কর।অন্য কারো হাতে পড়ার আগে তাকে আমার চাই।চাই মানে চাই। আর নাহলে তোদের লাশ ফেলে দিবো।”
সিআইডি অফিস……।।
জিতু ভাইয়ার কানে ব্লুটুথ লাগানো।তিনি কারো সাথে কথা বলতে বলতে অফিসের ভিতর প্রবেশ করলো।সারা অফিসে পিনপতন নীরবতা।জিতু ভাইয়া অফিসে ঢুকতেই আশ্চর্য হলো।অন্যদিন সবাই অফিসে এসেই হাসিঠাট্টা করতে থাকে__জিতু ভাইয়া আসার আগ অব্ধি। কিন্তু আজ সবাই এত শান্ত কেন!জিতু ভাইয়ার চোখদুটো সরু হয়ে আসলো।তিনি সকলের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।অফিসার আবির আর অরনা কবিরের ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে ফাইলে ডুবে আছে।কবির ঠোঁট কামড়ে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চালাচ্ছে।জিতু ভাইয়া চোখ ঘুরিয়ে অফিসার হিমনের ডেস্কের দিকে তাকালো।অফিসার হিমন আর কণা একসাথে দাঁড়িয়ে ফাইল দেখছে।আবার আড় চোখে অন্যদিকে তাকাচ্ছে।হঠাৎই অফিসার আবিরের চোখে পড়লো এসপি কে।
–“গুড মর্নিং স্যার।”
আবিরের কথা শুনে সকলে দরজায় দৃষ্টি রাখতেই দেখলো এসপি দাঁড়িয়ে। সকলেও গুডমর্নিং জানালো।জিতু ভাইয়া মাথা নাড়িয়ে ভেতরে আসলো।সকলের উদ্দেশ্য বললো,”কি ব্যাপার ওয়েদার এতো ঠান্ডা কেন?”
–“জি স্যার শীত পড়েছে।”
হিমনের কথা শুনে বাকি অফিসাররা কপাল চাঁপড়ালো।জিতু ভাই চোয়াল শক্ত করে বললো,”স্টুপিট, আমি তোমাদের কথা বলছি।সবাই এত চুপচাপ কেন?”
জিতু ভাইয়ার কথা শুনে সকলে শুকনো কেশে আড় চোখে আরেক দিকে ইশারা করলো।জিতু ভাইয়ার কপালে সুক্ষ্ম ভাজের সৃষ্টি হলো।তিনি ঘাড় কাঁধ করে তাকাতেই দেখলো টেবিলের সামনে চেয়ারে কেউ বসে আছে।দেহের নিচের অংশ টেবিলের আড়াল হয়ে আছে।যতটুকু দৃশ্যমান তাতেও মুখ বুঝার উপায় নেই। কারণ মুখের সামনে ম্যাগাজিন ধরে আছে।কাঁধের নেভি কালার আচল দেখে বুঝা যাচ্ছে শাড়ি পড়ে আছে।জিতু ভাইয়া নিশ্চিত হলো এটি মহিলা। কিন্তু এটা কে?
জিতু ভাইয়া ভাবুক চিত্তে বাকি অফিসারদের দিকে তাকালো।কেউ কিছু বলার আগেই অফিসার হিমন জিতু ভাইয়ার কাছে এসে সব খুলে বলতে লাগলো,,,,,,
–“স্যার সকালে আমরা অফিসে এসে নিজের কাজ করতে যাব তখনই এই ভদ্র মহিলা উপস্থিত হয়।তিনি একজন লোকের প্রতি অভিযোগ করেন প্রতারণার।ভদ্রমহিলাকে নাকি ছ্যাকা দিয়েছে এক ভদ্রলোক।এখন উনার দাবি উনাকে ন্যায় বিচার দিতে হবে।কিন্তু স্যার আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি উনি ন্যায় বিচার পাবেন না।”
–“হোয়াট দ্যা!কি বলছ হিমন, উনাকে ন্যায় বিচার পেতে দিবে না কেন?তুমি জানো না এটার জন্য তোমার চাকরি চলে যেতে পারে।এমনকি শাস্তিও হতে পারে।”
অফিসার কণা এগিয়ে এসে বললো,”স্যার এটা কিছুতেই আমরা করতে পারবো না।আপন মানুষকে কিভাবে শাস্তি দিব!”
জিতু ভাইয়া কোমরে দু’হাত ধরে আশ্চর্য হয়ে বললো,”তার মানে অপরাধী তোমার আপনজন।ও মাই গড, কণা!তুমি একজন সিআইডি অফিসার হয়ে এধরণের কথা কিভবে বলছ?কে সেই অপরাধী?”
–“আরমান শেখ জিতু।”
–“কিহ্!”
অফিসার হিমনের কথায় জিতু ভাইয়া আসমান থেকে যেন পড়লো।বাকি অফিসার’রা শুকনো কাশতে লাগলো।জিতু ভাইয়া শক্ত কন্ঠে মেজাজ দেখিয়ে বললো,”সকাল সকাল হেয়ালি হচ্ছে আমার সাথে হেয়ালি!”
তক্ষুনি একটা মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসে,”জিতু বেবি আমি এখানে।”
আবারও সকল অফিসাররা শুকনো কাশতে লাগলো।জিতু ভাইয়া পিছনে ফিরে তাকালো।মেয়েটার কন্ঠ চেনা চেনা ঠেকছে।জিতু ভাইয়ার চেহারায় দ্বিগুণ কাঠিন্যে চলে আসলো।তিনি বড় বড় পা ফেলে ডেস্কের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ালো,”সিআইডি অফিসে বসে বসে তামাশা হচ্ছে?”
মেয়েটি মুখের সামনে থেকে ম্যাগাজিনটা সরাতেই চেহারা দৃশ্যমান হলো।শর্টকার্ট কয়েকটা চুল কপালে পড়ে আছে।ফর্সা ফেইসে চমৎকার করে হালকা স্টেন্ডার্ড মেকআপ।ঠোঁটে রেড কালার লিপস্টিক।জিতু ভাইয়া এতদিন পর হঠাৎ করে নোহাকে দেখে বেশ অবাক হলো।তার চেয়েও বেশি অবাক হলো যে মেয়ে হাফ প্যান্ট আর ব্রা পড়ে থাকে সবসময়। আজ সে কিনা শাড়ি পড়েছে!
নোহা মিষ্টি হেসে চোখ পিটপিট করলো।জিতু ভাইয়া বিরবির করে বললো,”ও মাই গড! এই মেন্টালটা এতদিন পর আবার কোথা থেকে আসলো!”
–“বেইবি আমি লন্ডন থেকে আজ সকালে বিডিতে এসেছি।বাসায় না গিয়ে স্টেইটলি তোমার সাথে দেখা করতে চলে এসেছি।”
জিতু ভাইয়া দাঁত কটমট করে সিআইডি অফিসারদের দিকে তাকিয়ে বললো,”একে অফিসে ঢুকতে দিয়েছে কে?”
–“জি স্যার উনি এসে আপনার খোঁজ করছিলো।বললো আপনি নাকি উনার সাথে চিট করেছেন।তাই আপনার নামে আমাদের কাছে কমপ্লেইন করেছে।”
অফিসার কণার কথা শুনে জিতু ভাইয়া ধমকে উঠলো,”এটা সিআইডি অফিস পাগলদের হসপিটাল নয়।”
জিতু ভাইয়া কে রেগে যেতে দেখে নোহা উঠে জিতু ভাইয়ার কাছে আসতে লাগলো।বাকি অফিসাররা কাশতে কাশতে দৃষ্টি সরিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলেছে। জিতু ভাইয়া আরেক দফা আশ্চর্যের চূড়ায় নোহাকে দেখে।নোহার উপরে সুন্দর করে শাড়ি পড়া থাকলেও নিচে কোনো মতে হাফ প্যান্টে শাড়ির কুচি গুজে রাখা।হাফ প্যান্টাও আবার ঢিলেঢালা।কোমরে আটকানোর জন্য লেডিস বেল্ট লাগানো।পা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।না না হাফ প্যান্ট বললে ভুল হবে এ তো ছেলেদের জাঙ্গিয়া।জিতু ভাইয়া স্পিচলেস।কারণ জাঙ্গিয়াটা দেখে জিতু ভাইয়ার নিখোঁজ হওয়া কালো আন্ডারপ্যান্টের কথা মনে পড়ে গেছে।যেদিন নোহা শেখ বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলো সেদিনই আন্ডারপ্যান্টটি নিখোঁজ হয়।আর সেদিন আবার নোহাকেও নিজের রুমে দেখতে পায়।
এসব ভেবে জিতু ভাইয়ার হেঁচকি উঠে গেছে। তিনি হেঁচকি তুলতে তুলতে চেয়ারে ধুম করে বসে পড়লো।অফিসার অরনা এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলো।জিতু ভাইয়া এক চুমুকে সবটা শেষ করে ফেললো।নোহা জিতু ভাইয়ার কাছে আসতে নিলেই তিনি ধমকে উঠলো।নোহা নেকামি কন্ঠে বললো,”জিতু বেইবি তুমি ঠিক আছ?”
–“গেট আউট অফ হিয়ার?”
নোহা পাত্তা দিলো না।বরং কাঁধের কয়েকটা চুল উড়িয়ে বললো,”আমাকে কেমন লাগছে হুম হুম,টেল মি, টেল মি।”
জিতু ভাইয়া কিছু বলার আগেই নোহার কাছে এসে অফিসার হিমন বললো,”জি আপা দেখে মনে হচ্ছে সদ্য পাবনা হসপিটাল থেকে পালিয়ে আসা নতুন এক কিরিম আপা।”
পাবনা হসপিটাল কি জানা নেই নোহার।সে খুশি হয়ে বলে উঠলো,”থাংকু থাংকু।”
হিমন খুশি হয়ে বুকে হাত ধরে মাথা নুইয়ে বললো,”ওয়েলকাম।”
অফিসার হিমনকে চোখ রাঙালো জিতু ভাইয়া।নোহা আবার জিতু ভাইকে টাচ করতে গেলে আবারও ধমকে উঠলো।নোহা একটু ভয় পেলো।তবে আজ সে হারবে না।সে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে।সে আজ খুব ভালো বাংলা গান শিখে এসেছে।সেই গান গেয়ে জিতু ভাইয়াকে তার প্রেমে ফেলবে।
নোহা একটু ভাবসাব নিচ্ছে। সকলেই নোহার দিকে তেছড়া নজরে চেয়ে। নোহা ঠোঁট ভিজালো।অতঃপর বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে বেসুরো কন্ঠে গান ধরলো,,
❝আমি করতে যদি পারি তোমার মন চুরি
হবে আমার প্রেমের ডাবল সেঞ্চুরি
তুমি আমার এই জীবনের দুইশ তম টার্গেট
তোমায় নিয়ে খেলবো আমি
টেস্ট প্রেমের ক্রিকেট……….❞
নোহা গান শেষ করতে পারলো কি পারলো না।তার আগেই জিতু ভাইয়া পায়ের শুজ খুলতে লাগলো।নোহার চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। বাকি অফিসাররা হা করে একবার জিতু ভাইয়া আরেকবার নোহাকে দেখছে।নোহা গান বন্ধ করে ঢোক গিলে যেদিক দিয়ে এসেছিলো, সেদিক দিয়ে উরাধুরা দৌড়াতে দৌড়াতে বলতে লাগলো,
–“ওহ্ হোলি পালাআআআও…”
ইনানের গাড়ি ভার্সিটি প্রাঙ্গণে এসে থামলো।ইনান গাড়ি থামাতেই কোথা থেকে আলাল দুলাল ছুটে এসে গাড়ির ডোর খুলে দিলো।আমি ওদের দেখে বিরক্ত হলাম।ওরা আমাকে দেখে দাঁত কেলিয়ে বললো,
–“আসসালামু ওয়ালাইকুম ভাবি।”
–“ওয়ালাইকুম আসসালাম।”
আমি গাড়ি থেকে নামতেই চোখে পড়লো গেইটের সামনে তন্নি দাঁড়িয়ে ফোন টিপছে।তন্নি আচমকা এদিকে তাকাতেই আমাকে নজরে পড়লো।মেয়েটার মুখে হাসি ফুটে ওঠেছে।মনে হচ্ছে এই মাত্র বুঝি তার প্রাণটা এলো।তন্নি ছুটে এসে আমাকে ঝাপটে ধরে আহ্লাদি করে বললো,”জান্নু তুই আইছস!আল্লাহ আমি কখন থেকে দাঁড়িয়ে তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”
তন্নি বলতে বলতেই থেমে গেলো।তার নজর আটকালো আমাদের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইনানের দিকে।তন্নি চোরাই চোখে ইনানকে উপর নিচ দেখে নিলো।মনে মনে বললো না ছেলেটা বেশ স্মার্ট।তারপর আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,”ভাই তুই তোর জামাইয়ের চামচাটাকেও এখন থেকে নিয়ে আসবি।”
তন্নি কথাটা ফিসফিস করে বললেও ইনানের কান অব্ধি পৌঁছে গেছে।আমি আড় চোখে ইনানের দিকে তাকাতেই দেখলাম চোয়াল শক্ত করে বেশ রেগে তন্নির দিকে তাকিয়ে ইনান।তন্নি ইনানের ভাবমূর্তি দেখে আবারও আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,”ও মামা, এই কাইক্কা বেডারও তেজ আছে দেখছি।”
তন্নির কথা শুনে হাসি পেলো।মাস্কের আড়ালে একটু হাসলামও।ইনান তন্নির এই কথাটাও শুনে ফেলেছে।তবুও আমার বান্ধবী বলে কিছু বলার সাহস পেলো না।ইনান আমার কাছে এসে বললো,”ভাবি চলেন ক্লাস পর্যন্ত দিয়ে আসি।”
আমি ব্রু কুঁচকালাম,”ক্লাস অব্ধি দিয়ে আসবেন মানে কি?”
–“না মানে ভাই বলেছে আপনাকে ক্লাসে দিয়ে আবার ক্লাস শেষে বাড়ি নিয়ে যেতে।”
–“আপনি চলে যান। আমি নিজেই নিজের ক্লাস অব্ধি যেতে পারবো।আমি কোনো বাচ্চা নই যে দিয়ে আবার নিয়ে যেতে হবে।আমি যাতে ক্লাস শেষে আপনাকে না দেখি।”
–“কিন্তু ভাই,,,।”
আমি চোখমুখ শক্ত করে ইনানের দিকে তাকাতেই ইনান চোখ নামিয়ে নিলো।আমি বললাম,”এক কথা দ্বিতীয় বার বলতে পছন্দ করি না।”
ইনান আর কিছু বললো না।আমি তন্নিকে নিয়ে ভেতরে চলে যাচ্ছি। ইনান পিছনে দাঁড়িয়ে দেখে নিশ্চিত হচ্ছে। আমি তার চোখের আড়াল হতেই আলাল দুলাল কে আমার উপর নজর আর ঠিক সময়ে ইফানের কাছে খবর দেওয়ার জন্য বলে চলে যায়।তন্নি হাসতে হাসতে হেলেদুলে পড়ে যাচ্ছে।
–“বোইন তর কথায় ঐ বেডার মুখটা দেখার মতো ছিলো।”
–“ধুর এসব বাদ দে ভাই।”
তন্নি ইনানের কথা বাদ দিয়ে আরও কি কি হলো সব পেটের মধ্যে চেপে রাখা কথা উগড়ে দিচ্ছে।মেয়েটার কথা শুনে আমিও হাসছি।এভাবে কথা বলতে বলতে ক্লাসে পৌঁছালাম।যখন দুই বান্ধবী বসার জন্য সিট খুঁজছি তখনই আরেক পাশ থেকে পরিচিত কারো কন্ঠ ভেসে আসে,
–“জাহান তোদের জন্য এখানে জায়গা রেখেছি।”
আমি আর তন্নি পিছনে তাকাতেই দেখলাম সুমাইয়া আর নাফিয়া একটা বেঞ্চে বসে আমাদের জন্যও জায়গা রেখেছে। এটা সেই স্কুল লাইফ থেকেই হয়ে আসছে।আমাদের মধ্যে আগে যে আসে সেই অন্যের সাথে ঝগড়া করে হলেও বান্ধবীদের জন্য জায়গা রাখে।আমি সুমাইয়া আর নাফিয়ার দিকে তাকালাম। ওরা আমার সাথে কথা বলতে অপ্রস্তুত। তবুও ঠোঁটে হাসি ধরে।সুমাইয়া আবার ডাকলো,
–“তন্নি, জাহান এখানে ব,,,,,।”
সুমাইয়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই আমি ওদের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দূরে আরেকটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম।তন্নি অসহায় চোখে বাকি দুই বেস্ট ফ্রেন্ডের জ্বলজ্বল করা চোখ দুটো দেখলো।তবে তন্নি কিছু না বলে আমার সাথে এসে বসলো।নাফিয়া গুমরে গুমরে কাঁদছে। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।সুমাইয়া আমার থেকে ইগনোর সহ্য করতে পারলো না।বেঞ্চে মাথা গুঁজে হু হু করে কেঁদে উঠলো।মূহুর্তেই ক্লাস ভর্তি সকলেই সুমাইয়া নাফিয়াকে ঘিরে ধরলো।তন্নি সুমাইয়াদের দিকে একবার তাকিয়ে আমার দিকে আড় চোখে তাকালো।আমি অনুভূহীন বসে আছি।যেন আমার আশেপাশে কিছুই হচ্ছে না।আমি ব্যাগ থেকে একটা বই বের করে মনযোগ দিয়ে পড়তে লাগলাম।তন্নি দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো।
টিএসসি ক্যাফেটেরিয়া……।।
আজ বহুদিন পর ক্লাস শেষ লাইব্রেরিতে গিয়েছিলাম।আমার জীবনের ঐ কাল রাত্রির দিন যে উপন্যাসটা শুরু করেছিলাম। আজ সেটা পড়ে সম্পূর্ণ করলাম।আজ মনটা আনচান করছিলো।ক্লাসে একটুও মন বসে নি।অথচ লেকচারার সহ সকলেই ভেবেছে আমিই ক্লাসে সবচেয়ে মনযোগী শিক্ষার্থী।মনকে একটু শান্ত করার জন্য উপন্যাস পড়া।কিন্তু এখন মন আরও ভারী হয়ে গেছে। খুব করে চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই ঝড়ের রাতের কথা।
আমি ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে টেবিলে দু’হাতের কনুই রেখে দু’হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলাম।
তন্নি দুটো আইসক্রিম আর দু প্লেটে করে সাজানো শিঙাড়া, সমুচা আর সাথে সস নিয়ে আসলো।এসেই দেখে আমি অস্থির হয়ে আছি।তন্নি টেবিলে এগুলো রেখে আমার পাশে বসে বাহুতে হাত রেখে বললো,
–“জাহান তুই ঠিক আছিস।”
আমি উত্তর দিলাম না।বরং মাথা নাড়ালাম। তন্নি আমার না বলা কথাগুলো কিছুটা পড়তে পারছে।তাই আমার বাহুতে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নিঃশব্দে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।চারিদিকে শিক্ষার্থীরা নিজের মধ্যে গল্প গুজব করছে।আমাদের দুই বান্ধবীর মধ্যে নীরবতা।কিছুক্ষণের মধ্যে সেই নিরবতা ভেদ আমি আহত কন্ঠে বললাম,,,,
❝শুনেছিলাম আগুনের দিন শেষ হয় একদিন। কিন্তু আমার জীবনে তো দিনে দিনে সেই আগুনের তাপ আরও প্রখর হচ্ছে। আমি দগ্ধ হচ্ছি।আমার পোড়া অন্তর আরও পুড়ছে।আমাকে বিধাতা এতটাই অসহায় বানিয়েছে যে, আমার দেখা স্বপ্নগুলোও এখন আমাকে দেখে আর্তনাদ করে উঠছে।যদি হারাম না হতো,তাহলে একটা নোট লেখার কালি আমার কলমেও ছিলো।❞
চলবে,,,,,,,,,
⛔তোমরা অনেকে হ্যাপি ইন্ডিং চাইছ। আবার অনেকেই উতলা হয়ে উঠেছ সেড ইন্ডিং এর জন্য।
✅সকলের উদ্দেশ্য কিছু কথা:
আমি গল্পের ইন্ডিং নিয়ে কিছুই বলবো না।তবে একটা কথা আমাকে তাড়া দিবেন না এতে করে গল্পের সৌন্দর্য নষ্ট হয়।সবার তাড়া খেয়ে জায়ানকে লিখেছিলাম।তবুও আপনারা তাকে ভালোবেসেছেন।তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।তাহলে ভাবেন তাকে গভীর করে লেখলে কেমন হতো!যাই হোক আমাকে ইন্ডিং এর জন্য তাড়া দিবেন না।আমি আগেই বলেছি গল্পটা রহস্যে ঘেরা।আমি কিন্তু প্রতিটি পর্বে একটু একটু টুইস্ট দিয়ে দিয়েছি।সেই প্রথম পর্বগুলো থেকে।এবার ধীরে ধীরে সব জটলা ভাঙবো।আশা করি শেষপর্যন্ত আপনারা আমার পাশে ধৈর্য ধরে থাকবেন।🫶
একদিন লেইট হলেও কিন্তু বড় পর্ব দেই।বানান ভুল থকতে পারে কষ্ট করে বুঝে নিও।পুরো গল্প শেষ হলে আবার রিচেক দিয়ে ভুল ত্রুটি সংশোধন করবো।হ্যাপি রিডিং 💗
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ৪১+৪২
-
জাহানারা পর্ব ২
-
জাহানারা পর্ব ৫৭+৫৮
-
জাহানারা পর্ব ৪৫+৪৬
-
জাহানারা পর্ব ১৯+২০
-
জাহানারা পর্ব ৪৩+৪৪
-
জাহানারা পর্ব ৫৩+৫৪
-
জাহানারা পর্ব ৩৯+৪০
-
জাহানারা পর্ব ৪৭
-
জাহানারা পর্ব ৩