Golpo romantic golpo জাহানারা

জাহানারা পর্ব ৪১+৪২


জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :৪১
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

       🔞 সতর্কবার্তা:

এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

চারপাশে বিস্তৃত জলরাশি। দূর থেকে ইঞ্জিনের শব্দের সাথে জাহাজ-লঞ্চের হর্ণের শব্দ ভেসে আসছে।আমাকে কিডন্যাপ করে একটা লঞ্চে নিয়ে আসা হয়েছিলো।লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জ জেলা দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর উপর ভাসমান অবস্থায় ছিলো।আগুন্তকঃ আমাকে কোলে করে নিয়ে আরেকটি ক্রুজশীপে উঠতেই ক্রুজশীপটি চলতে শুরু করলো।

ক্রুজশীপটি অন্ধকারে মিলিয়ে যেতেই আরও পাঁচটি লঞ্চ ভাসামান লঞ্চটির পাশে এসে থামলো।সেখান থেকে জায়ান ভাই আর জিতু ভাইয়া লাফ দিয়ে অপর লঞ্চটিতে উঠলো।তাদের পিছন পিছন সিআইডি টিমের সকলে সহ নৌবাহিনীর সৈন্যরাও উঠে পড়লো।তারা লাউঞ্জ এরিয়ায় এসে দেখলো সব ফাঁকা।বাইরে অনেক গুলিবিদ্ধ ম*রদেহ পড়ে আছে।জায়ান ভাই এখানেও আমাকে না পেয়ে আরও অস্থির হয়ে পড়লো।সকলেই পুরো লঞ্চটিকে তন্নতন্ন করে খুঁজলো।তবুও কোনো সূত্র পেলো না।জায়ান ভাইয়ের চোখ আবার ভিজে এসেছে আমাকে না পেয়ে। তিনি বুকের বাম পাশে হাত ধরে, হা করে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো।হঠাৎ উনার চোখে পড়লো ফ্লোরে পড়ে থাকা বেলি ফুলের গাজরাটার দিকে।তিনি তাড়াতাড়ি সেটাকে কুড়িয়ে নিয়ে বুকের সাথে চেপে ধরলো। তিনি এবার নিশ্চিত হলো এখানে আমি ছিলাম।তিনি নিজেকে দোষারোপ করতে লাগলো কেন এখানে আরেকটু আগে এসে পৌছালো না?তাহলেই তো তিনি আমাকে পেয়ে যেতো।

জিতু ভাইয়া জায়ান ভাইকে আসসাস দিতে লাগলো।কিন্তু জায়ান ভাইয়ের মন মানতে চাইছে না।তিনি চোখ বন্ধ করে, ঠোঁটে ঠোঁট চেপে গোঙরে গোঙরে কেঁদে যাচ্ছে।উনি গাজরাটা বুকের সাথে চেপে ধরে মনে মনে আমাকে বলতে লাগলো,
–তুই কোথায় জারা?আমি তোকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না পাখি।আমি তোকে ছাড়া আর নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।তোর কিছু হলে আমি বাঁচবো না জান।দয়া করে আমার জন্য হলেও নিজেকে অক্ষত রাখ পাখি।আমি তোকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি জারা।আমি তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি,,,,,,,,,

শেষ কথাগুলো অস্পষ্টভাবে মুখ দিয়ে বের করে হেলে পড়লো।জিতু ভাইয়া চিৎকার করে ডেকে উঠলো,
–ভাইয়াআআআ,,,

জায়ান ভাই নিস্তেজ হয়ে পড়তেই, জিতু ভাইয়া, অফিসার কবির আর হিমন ধরে ফেললো।জিতু ভাইয়া জায়ান ভাইকে ডাকতে লাগলো,
–ভাইয়া,ভাইয়া শুনতে পারছ।প্লিজ চোখ খুল,তোমার শরীর ঠিক আছে?

জায়ান ভাইয়ের থেকে উত্তর আসলো না।সিআইডি অফিসারদের সাথে ফরেনসিক ডক্টর সুমিও এসেছে।তিনি জায়ান ভাইয়ের পালস্ চেক করে বললো,
–আরমান স্যার, ইমিডিয়েট উনাকে প্রাইমারি ট্রিটমেন্ট দিতে হবে।না হলে উনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

জিতু ভাইয়া আর অফিসার হিমন জায়ান ভাইকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো।এদিকে বাকি সদস্যরা আমার খোঁজে চালিয়ে যেতে লাগলো।


রাত দুইটা বাজে।আমি নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চৌদ্দ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে।শেখ বাড়িতে সুখের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে।আব্বু প্রায় স্টোক করতে বসেছিলো।আব্বুর চাচাতো ভাইরা উনাকে ঠিক সময় হাসপাতালে না নিলে অঘটন ঘটে যেতো।এদিকে আম্মু খনে খনে জ্ঞান হারিয়ে বসছে।চাচি কাকিরা বড় আম্মু আর আম্মুর মাথায় পানি ঢালছে।কবিতা আপু জুইকে বুকে নিয়ে ফ্লোরে পড়ে আছে।কয়েকজন মাথার কাছে পাখা দিয়ে বাতাস দিচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে ওদের শরীরে বিন্দু মাত্র শক্তি নেই। প্রতিবেশী চাচি কাকিমারা এখনও আমাদের বাড়িতেই আছেন।উনারা সবাইকে খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে তবে কাউকেই খাওয়াতে পারে নি।শুধু কবিতা আপু,জিয়াদ আর জুইকে দু মুঠো ভাত গিলাতে পেরেছে।আব্বু হাসপাতালে এখনো ভর্তি আছে।কিছুক্ষণ আগে বড় আব্বু খোঁজ নিয়েছেন আব্বুকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।

তখন জিতু ভাইয়া জায়ান ভাইকে বাড়িতে রেখে আবার আমাকে খুঁজতে চলে যায়।আর জায়ান ভাইয়ের জ্ঞান ফিরার সাথে সাথে আমার জন্য পাগলামি শুরু করে দেয়।এই দুর্বল শরীর নিয়েই আমাকে খুঁজতে বেরোতে চায়।এদিকে বড় আব্বু জায়ান ভাইয়ের কাছে বসে আছে, জায়ান ভাইয়ের রুমে।জায়ান ভাইকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।উনার হাতে ক্যানুলা লাগানো,সেলাইন চলছে।সারাদিনে এক ফোটা পানিও না খাওয়ায় শরীর অনেক দুর্বল।


রাত যত বাড়ছে,পরিবেশটা ততই স্তব্ধ হয়ে আসছে।কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির সকলেই ক্লান্ত হয়ে শরীর ছেড়ে দিয়েছে। প্রতিবেশী অনেকেই নিজেদের বাড়ি চলে গেছে। সবকিছুই যখন শান্ত, তখনই বাড়ির পিছন দিকে দুটো গাড়ি এসে থামলো।পিছনের গাড়ি থেকে তিনজন কালো পোশাকধারী লোক বেড়িয়ে এসে,প্রথম গাড়ির ডোর ওপেন করে দিলো।সেখান থেকে একটা কালো হুডি পড়া লোক বেড়িয়ে আসলো।তার মাথায় হুডির ক্যাপটা টেনে রেখেছে। মুখে কালো মাস্ক পড়া।লোকটা গাড়ি থেকে আমাকে বের করে কাঁধে তুলে নিলো।আমি এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। লোকটা আমাকে নিয়ে বাড়ির পেছন দিকে দিয়ে ঢুকে।তারপর কালো পোশাকধারী লোকগুলো আমর রুমের বেলকনি বরাবর মই রাখলো।সেখান দিয়ে লোকটা আমাকে নিয়ে রুমে চলে আসলো।

লোকটা আমাকে খুব সন্তোপনে বিছানায় শুইয়ে দিলো।তারপর আমার ওপর ঝুকে আমাকে মনযোগ দিয়ে দেখতে লাগলো।আজ সারাদিন আমি ঘুমের ঘোরে আছি।কারণ আমাকে ঘুমের কড়া ডোজ দেওয়া হয়েছে।একদিনেই মুখটা কেমন যেন শুকিয়ে ফেকাসে হয়ে গেছে।লোকটা নিজের হাত দিয়ে আমার সারা মুখে হাত বুলিয়ে ঠোঁটের কাছে এসে থামলো।আমার গোলাপি ঠোঁটগুলো শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে।লোকটা ঢুক গিললো।তারপর বেশ কিছুক্ষণ আমার ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করলো।আর ঢুক গিলতে লাগলো।লোকটা আমার মুখের উপর আরো ঝুকে পড়ে।লোকটার কান থেকে মাস্কের একটা ফিতা খুলতেই তার ঢেকে রাখা চেহারাটা দৃশ্যমান হলো।লোকটা আমার ওষ্ঠভাজে ডুব দিতে দিতে হাস্কি স্বর হিসহিসিয়ে বললো,

❝মাই ডিয়ার ফা*কিং বুলবুলি,,,,,,❞

বাক্যটুকু শেষ করতে না করতেই আমার ঠোঁটে হামলে পড়লো।লোকটার ঠোঁট গুলো দিয়ে বেসামাল ভাবে আমার ঠোঁটে রাজত্ব চালাতে চালাতে আমার কলেজ ড্রেসটা বুক অব্ধি তুলে নিলো।তারপর পাজামা টেনে নাভির নিচে নামিয়ে দিয়ে সেখানে হাত বুলাতে থাকলো তো কখনো চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো।হঠাৎই লোকটা কেমন যেন উন্মাদ হয়ে উঠেছে।লোকটা আমার ঠোঁটের আসেপাশ লালা দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে।হঠাৎই লোকটা নিজের হাত আমার পায়জামার ভিতর ঢুকিয়ে দিলো।মূহুর্তেই আমার সারা দেহ কম্পিত হলো।লোকটা এখনো আমার ঠোঁট নিজের দখলে রেখেছে। তার হাতের বন্য স্পর্শে আমার শরীর বারবার কেঁপে উঠছে।আমি অচেতন অবস্থাতেই জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছি।এতে যেন লোকটা আরও বেসামাল হয়ে উঠেছে।ইতো মধ্যে লোকটা নিজের দেহের ভার আমার লতানো ছোট্ট দেহে ছেড়ে দিয়েছে।আমি অস্থির হয়ে উঠতেই লোকটা যেন হুশে ফিরলো।তাড়াতাড়ি আমার ওষ্ঠ ছেড়ে, পাজামার ভেতরের হাতটাও বের করে নিলো।অতঃপর আমার ঠোঁটের আসেপাশে ভেজা অংশটা নিজের এক আঙ্গুলের সাহায্য মুছে দিলো।লোকটা আমার সারা মুখে হাত বুলিয়ে কপালে আর কানের লতিতে শব্দ করে চুমু এঁকে দিল।লোকটা আমার উপর থেকে উঠতে গিয়েও উঠলো না।বরং আমার জামাটা বুকের উপর থেকে সরিয়ে দিলো।কিন্তু ভেতরে ইনার দেখে বড্ড বিরক্ত হলো।সে আমার পিটের নিচে হাত ঢুকিয়ে ইনারের হুক খুলে বুক থেকে ইনারটা সরিয়ে দিলো।লোকটার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি উদয় হয়েছে।লোকটা আমার বুকের নিচের তিলটায় ঠোঁট ছুঁইয়ে দীর্ঘ শ্বাস টেনে নিলো।তারপর আমার চেস্টের নিপলে ঠোঁট ছুঁইয়ে সেখানে কামড়ে দিলো।আমি উম উম উচ্চারণ করে কেঁদে দেওয়ার জন্য ঠোঁট উল্টালাম।লোকটা আমার মুখের দিকে তাকালো।তারপর কানের কাছে ঠোঁট এনে হাস্কি স্বরে বললো,

–বুলবুলি তুমি এত নরম সরম কেন?ইচ্ছে তো করছে আজই ঢুকে যেতে।

লোকটা থামলো।অতঃপর ঘারে মুখ ডুবিয়ে শ্বাস টেনে একই ভাবে হিসহিসালো,
–ওয়ান ডে বুলবুলি, আই উইল ফা*ক ইউ।এগেইন এন্ড এগেইন,,,,,,,,,

নিজের শেষ বাক্যটা বলেই উঠে দাঁড়াল। অতঃপর আমার জামা আগের মতো ঠিকঠাক করে, নিজের মুখের মাস্কটা পড়ে দ্রুত পায়ে একই পথ দিয়ে বেড়িয়ে গেলো।


চারিদিকে ফজরের আজান ভেসে আসছে।চাচিরা আম্মু আর বড় আম্মু কে বলছে,এভাবে কান্নাকাটি না করে জায়নামাজে পড়ে কাঁদতে।তাহলে আল্লাহ আমাদের উপর মুখ তুলে তাকাবেন।আম্মু আর বড় আম্মুকে সকলে ধরে দাঁড় করাচ্ছে। এরই মাঝে জায়ান ভাইয়ের কন্ঠ কানে আসলো।

❝জারা, আমার জারা কোথায়? জারা, পাখি আমার তুই কোথায় আছিস?❞

বড় আব্বু আর জিয়াদ জায়ান ভাইয়ের পিছনে ছুটে আসছে।উনার জ্ঞান ফিরার কথা ছিলো আরও দেরিতে।কিন্তু হঠাৎ করেই আমার নাম উচ্চারণ করে শুয়া থেকে উঠে বসলো।তারপর আর কোনো দিকে না তাকিয়ে হাতের ক্যানুলা ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে, কোনো মতে গায়ে একটা শার্ট জড়িয়ে নিচের দিকে ছুটে আসছে।বড় আব্বু আর জিয়াদও তাকে আঁটকে রাখতে পারছে না।বড় আম্মু নিজের গোছানো ছেলেকে এমন অগোছালো আর পাগলামি করতে দেখে আরও কান্নায় ভেঙে পড়লো।জায়ান ভাই জারা, জারা করতে করতে বাড়ি থেকে বের হতে নিলে সকলে ধরে আটকানোর চেষ্টা করতে লাগলো।কিন্তু জায়ান ভাইয়ের শক্তির কাছে সকলের শক্তি যেন তুচ্ছ মনে হচ্ছে। জায়ান ভাই চিৎকার করে বলতে লাগলো,

–তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও।আমার জারা ভালো নেই। আমি আর বাঁচবো না।কাকে নিয়েই বাঁচবো আমি।আমার পাখি তো হারিয়ে গেছে। জারা জানপাখি তুই কোথায়, আমার কাছে ফিরে আয় পাখি। জারাআআআআআ,,,,,,

–জা জায়ান ভাই।

আমার কন্ঠ শুনে উপস্থিত সকলে থমকে গেলো।জায়ান ভাই আস্তে আস্তে সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো আমাকে।আমার শরীরে এখনো কলেজের ড্রেস।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে।ঘুমের তরে চোখগুলো বারবার বন্ধ করে নিচ্ছি। এখনো ঘুমের রেশ কাটেনি। সকলের চেচামেচি শুনে নিচে এসেছি।আমাকে এখানে দেখে সকলেই যেন বাকশক্তি হারিয়ে ফেলছে। জায়ান ভাই অবাক হয়ে অস্পষ্ট ভাবে আমাকে ডাকলো,

–জারা।।।

–আ আমি এখানে তো,,,,,,

আমার বাক্য শেষ হতে না হতেই জায়ান ভাই ছুটে এসে আমাকে ঝাপটে ধরলো।তারপর উন্মাদের মতো আমার সারা মুখে চুমু খেতে লাগলো।কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো,
–তুই ঠিক আছিস জান।তোর কিছু হয় নি তো।কেউ কিছু করে নি তো তোর সাথে। আমাকে বল পাখি, তোকে কেউ কিছু করেনি তো।একবার বল জান তুই ঠিক আছিস।কোথায় চলে গিয়েছিলি পাখি।আমি তো তুই হীনা আজই মরে যেতাম,,,,,,,,,,

আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে জায়ান ভাই নিজেই বলতে লাগলো।এদিকে আমাকে সুস্থ দেখে সকলে হাউমাউ করে কাঁদতে উঠলো।জায়ান ভাই আমাকে নিজের বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখার নিদারুণ চেষ্টা করতে লাগলো।তিনি আমাকে নিয়ে সিঁড়ির কাছেই বসে পড়লো।এদিকে সকলেই আমাকে সেভাবেই ঘিরে এটা ওটা বলে আনন্দে কাঁদতে লাগলো।

আমাকে বাড়িতেই পাওয়া গেছে খবরটা জিতু ভাইয়ার কাছে পাঠাতেই তিনি সকলকে জানিয়ে দিলো।আমাকে না পেয়ে জিতু ভাইয়ারও পাগলের মতো অবস্থা হয়েছে।জায়ান ভাই আর জিতু ভাইয়া জানতে চায় আমি বাড়ি কিভাবে আসলাম।এদিকে সকলকে এই অবস্থায় দেখে আমি ভিষণ ভয় পেয়ে আছি।আর আমার কিছুই মনে নেই কি হয়েছে।শুধু এটুকুই মনে আছে, আমি কলেজের গেইটের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম, আর কিছু মনে নেই।আমাকে বেশি প্রেসার দেয় নি কেউ। কারণ আমি অক্ষত অবস্থাতেই বাড়ি ফিরেছি এতেই সকলে খুশি। শুধু জায়ান ভাই আর জিতু ভাইয়ায় এই বিষয়টা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যেতে থাকে।


সকাল ছয়টা বাজে।আমাদের বাড়িতে একে একে সকলে আসছে আমাকে পাওয়ার খবর শুনে। কবিতা আপু আমাকে রুমে নিয়ে আসলো।তখন লোকটা আমার পেটে চাপ দেওয়ায় এখন তল পেটে অনেক ব্যথা করছে।আমি ভাবলাম হয়তো পিরিয়ড হবে তাই পাত্তা দিলাম না।কবিতা আপু কাভার্ড থেকে আমার জামাকাপড় বের করে আমার হাতে দিয়ে বললো,

–সোনা বোন গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নে।ইশশ একদিনে কতটা শুকিয়ে গেছস।

আমি ওয়াশরুমের দিকে যেতে নিলেই কবিতা আপু পিছন থেকে ডেকে উঠলো,
–এই জাহান দাঁড়া একটু।

আমি দাঁড়াতেই আপু ছুটে এসে আমার ডান হাত ধরে সামনে আনলো।

–তোর বুড়ো আঙ্গুলে এটা কি হয়েছে?

আমি নিজের হাতে তাকাতেই দেখলাম, সত্যিই তো নীল রঙের মতো কি একটা লেগে আছে।আমি নিজের জামায় আঙ্গুল ঘষতে ঘষতে বললাম,

–ইয়াক ছি আঙ্গুলে রং কোথা থেকে লাগলো?

–হয়েছে হয়েছে এবার শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হ।তোর চিন্তাই তো আমরা আরেকটু হলে মরেই যেতাম।আর তুই কিনা সারাদিন বাড়িতে থেকে নিজের রুমে ঘুমাচ্ছিলি।


পেরিয়ে গেছে আরও দুটো মাস।সেদিনের ঘটনাটা এখনো সবার কাছে ধোঁয়াশা।সবাই আলোচনা করে আমাকে জ্বীনে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কারণ তারা নাকি সুন্দরী মেয়েদেরকে এভাবে হঠাৎ করে নিয়ে যায় আবার অক্ষত অবস্থায় বাড়িতে ফেলে যায়।আমার আম্মু আর বড় আম্মুও এটাই বিশ্বাস করেছে।যেহেতু আমি কোনো কিছু বলতে পারি নি__সেদিন আমার সাথে কি হয়েছিলো।সবার কথা শুনে আম্মু তো আমাকে কবিরাজও দেখিয়েছিলো।সে কথা আবার বাড়ির কোনো পুরুষ জানে না।কারণ এসব কথা আব্বু’রা বিশ্বাস করে না।

সেদিন জায়ান ভাই আমাকে একা রুমে নিয়ে যায়।অতঃপর আমার হাতে একটা রিভলবার আর ছোট্ট সরু ধারালো ছুরি তুলে দিয়ে বলে, নিজের আত্নরক্ষা এখন থেকে নিজেই করার জন্য। কারণ বিপদের সময় কেউ থাকবে না। বাঁচতে হলে লড়াই করে বাঁচতে হবে।জিতু ভাই আমাকে রিভলবার চালানো শিখায়।আমিও সেদিনের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি।যদিও আমাকে কখনো চোখের আড়াল করে না কেউ।

কিন্তু আজ তন্নির সাথে সুমাইয়ার বাসায় গিয়েছিলাম ওর জন্মদিন উপলক্ষে।জায়ান ভাই বিজনেসের কাজে ঢাকা গিয়েছে গতকাল।তাই আমি এই সুযোগে গার্ড ছাড়ায় বসা থেকে বেড়িয়ে গেছি।আমার সাথে বন্ধুবান্ধব ছিলো বলে বাসার কেউও গুরুত্ব দেয়নি।এদিকে সুমাইয়াদের বাসা আমাদের বাসার কাছে হওয়ায় আমি আর তন্নি ভাবলাম এইটুকু রাস্তা আমরা চলে যেতে পারবো।যা ভাবা তাই কাজ।আমার বাড়ি থেকে লোক আসার আগেই আমরা দুই পন্ডিত সুমাইয়ার বাসা থেকে বেড়িয়ে এসেছি।রাস্তায় অনেক মানুষ আছে তাই ভয় লাগছে না।কিন্তু সমস্যা হয় যখন বাজার পেড়িয়ে আমাদের বাড়ির অনেকটা কাছে চলে আসি।সেখানে কিছুটা জায়গা ফাঁকা।এই রাস্তায় আসতেই আমরা দুই বান্ধবী ভয়ে জড়সড় হয়ে গেছি।তখনই দু’টো ছেলে আমাদের ঘিরে ফেলে।এদের আমরা আগেও দেখেছি।আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামটায় থাকে।এরা হলো এক নাম্বারে গাঞ্জাখুর।ছেলে দুটো আমাদের মুখে ধরে টেনে হিচরে লোকালয় থেকে আরও কিছুটা দূরে নিয়ে গেলো।এখানে কেউ চেচিয়ে মরলেও কেউ শুনতে পাবে না।ছেলে দু’টো আমাদের সাথে জোর জবরদস্তি করতে আরম্ভ করে।একটা ছেলে তো তন্নির সম্মানহানি করার জন্য হামলে পড়ে।আমি তখনই এক সাহসী কাজ করে বসি।আমার সামনের ছেলেটাকে লাথি মারি।এতে ছেলেটা আমাকে চর মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।অন্যদিকে নিজের সম্মান রক্ষা করার জন্য তন্নি চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো।আমি তারাহুরো করে ইনারের ভেতর থেকে ছুরি বের করে আমার সামনের ছেলেটার গলায় বসিয়ে দিলাম।ছেলেটা সাথে সাথে গোঙ্গাতে লাগলো।আমি গিয়ে তন্নির উপর ঝাপিয়ে পড়া ছেলেটাকেও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আ*ঘাত করি।কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেলে দুটো মরা যায়।এদিকে আমি আর তন্নি সেখান থেকে পালিয়ে আসি।


তন্নি নিজেদের বাসায় চলে যায় আর আমি আমার বাসায়।এদিকে আমি কাউকে কিছু না বলে চুপিচুপি নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম।রাস্তায় আমি আর তন্নি প্ল্যান করেছি, এই ঘটনা কাউকে বলবো না।আমি ওয়াশরুমে গিয়ে ছুরিটা ভালো করে ধুয়ে নিই।ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। আমি আজ জীবনের প্রথম কোনো অন্যায় কাজ করলাম।যদিও জায়ান ভাই আর জিতু ভাই আমাকে ট্রেনিং দেওয়ার সময় বলে দিয়েছে, নিজের আত্মরক্ষার জন্য অপরাধী কে আঘাত করতে পিছু পা না হতে।আমিও আজ পিছু পা হই নি।নিজের সম্মান রক্ষা করতে অপরাধী কে শাস্তি দিয়েছি।আমি নিজের শরীরের সকল বস্র খুলে শাওয়ার নিতে লাগলাম।

এদিকে ল্যাপটপের মনিটরে আমাকে দেখা যাচ্ছে। যেখানে আমি শাওয়ার নিচ্ছি।ল্যাপটপের সামনে কাউচে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বসে আছে ইফান চৌধুরী।তার শরীরে কাপড় বলতে একটা শর্ট প্যান্ট তাও আবার বিপদ সীমার নিচে নেমে আছে।ইফান ড্রিংক করছে আর আমার শাওয়ার নেওয়া দেখছে।তার চোখদুটো যেন আমাকে গিলে খাচ্ছে। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি।ইফানের গলা বারবার শুকিয়ে আসছে।সে ঢকঢক করে একের পর এক গ্লাস ড্রিংক করেই চলেছে।তবুও যেন তার তৃষ্ণা মিটছে না।এদিকে মনিটরে আমকে এই অবস্থায় দেখে ইফান পুরোই মাতাল হয়ে গেছে। ইফান কাউচে মাথা হেলে চোখ বন্ধ করে নিয়ে__নিজের মেইন পয়েন্ট চেপে ধরলো।ইফানের ফর্সা হাতে রগগুলো হঠাৎই ফুলে উঠেছে।তার দেহের অত্যাধিক মাত্রার উত্তজনায় সেগুলো নড়াচড়া শুরু করেছে ।অতঃপর বিরবির করতে লাগলো,
–বুলবুলি, বুলবুলি, বুলবুলি। উফফফ কি জিনিস তুমি,,,,

ইফান ঘার কাথ করে তার পাশে কাউচে পড়ে থাকা একটা পেপারের দিকে তাকিয়ে আবারও বাঁকা হাসলো।তারপর ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে ইনানকে চেচিয়ে ডাকতে লাগলো,

–ইন্দুইরার বাচ্চা, তাড়াতাড়ি আইস কিউব নিয়ে আয়।শালি আজও প্যান্ট ভেজানোর বন্দোবস্ত করেছে।

___বর্তমান ______

আমি ভাবনার জগতে ডুবে গেছি।তাই বাস্তব দুনিয়ার সকল জ্ঞান হারিয়ে বসে আছি।শাওয়ারের নিচে এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ঠান্ডায় শরীর জমে গেছে। সেসবে আমার খেয়াল নেই। তবে হঠাৎ নিজের শরীরে উষ্ণতার পরশ পেতেই মস্তিষ্ক পুনরায় সজাগ হয়ে উঠলো।আমি চোখ খুলার আগেই অতি পরিচিত মাদকীয় পুরুষালী কন্ঠ কানে আসে,

–আমার ঝাঁঝওয়ালির ঝাঁঝ আবার বেরে গেলো নাকি?

ইফানের কথার উত্তর দিলাম না।বরং আমি ওর থেকে সরে যেতে নিলে ইফান আমাকে তার সাথে আরও চেপে ধরে।আমি আমার কোমর থেকে ওর হাত ছাড়াতে লাগলাম।ইফান আমাকে ঘুরিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো।এখন ইফান আর আমি মুখোমুখি।ইফানও শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকায় ভিজে গেছে। ইফানের উপরের অংশ খালি,তবে কোমরে টাউয়াল জড়ানো।তার পেশিবহুল দেহ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।ইফান আমার উপর ঝুঁকে থাকায়__ওর থুতনি গড়িয়ে শাওয়ারের পানি আমার মুখে পড়ছে।আমি ওর বুকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে সরাতে বললাম,,

–সবসময় এসব নোং*রামি ভালো লাগে না ইফান।

আমার কথা শুনে ইফান চোখ সরু করে, ব্রু উঁচিয়ে বললো,,
–কোনটা নোং*রামি?

–সামনে থেকে সর।

আমি ইফানের থেকে চোখ সরিয়ে বললাম।আমার উত্তর ইফানের পছন্দ হয় নি বিধায় তার চোয়াল শক্ত হয়ে এসেছে।ইফান আমার গালে দুই আঙ্গুল চেপে ধরে তার দিকে আামর মুখ ঘুরালো।তারপর দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
–আন্সার মি????

–আমাকে যেতে দাও,,,,

ইফান আমার ঠোঁটের কোণে এক আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে বললো,,,
–ডো ইউ নো বেইবি?নেকেড লুকে তোমাকে কতটা প্রিটি লাগে?

ইফানের বাক্যটা আমার কান অব্ধি পৌঁছাতেই আমি চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকালাম। ইফানের ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসি খেলছে।আমি নিজের ন*গ্ন দেহে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে হাঁপসাপ করতে লাগলাম।যদিও এটা নতুন বিষয় না।তবুও ইফানের চাউনিটা ভিষণ রকম অস্বস্তিকর।আমি জমিনে পা আরও শক্ত করে চেপে ধরলাম।ইফান বাঁকা হেসে আমার কোমরে টান মেরে ওর সাথে মিশিয়ে নিলো।মূহুর্তেই আমার নিম্নাংশে দন্ডায়মান কিছু লেগে যাওয়ার অনুভব করলাম।আমি ঠোঁট ভিজিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থেকেই ইফানকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলতে যাব__তার আগেই ইফান বলে উঠলো,

–সুইটহার্ট, তোমার জন্য একটা গিফট আছে।

আমি ইফানের দিকে আর চোখে তাকাতেই ইফান পিছনে টাউয়ালে গুঁজে রাখা ইয়ের পেকেট আমার চোখের সামনে ধরলো।মূহুর্তই আমার চোখ কপালে।ইফান ঠোঁট কামড়ে হেসে বললো,

–পছন্দ হয়েছে জান?

আমি ইফানের বুকে কিল মেরে দাঁত কিরমির করতে করতে বললাম,
–অসভ্য, বদমাশ, জানোয়ার। নিজের শ্বশুর বাড়িতে কনডম কিনে নিয়ে আসতে লজ্জা করলো না?

ইফান আবারও আমার কোমর ধরে টান মেরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।তারপর সরল চেহারা করে বললো,

–ওমা বউ কিনে আনতে যাব কেন?

ইফানের কথা শুনে রাগ আরও বাড়তে লাগলো।আমি চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে বললাম,
–তাহলে কি পেকেটটা উড়ে উড়ে চলে এসেছে?

আমার কথা শুনে ইফান একটা ঢুক গিললো।অতঃপর মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,
–ইয়ে মানে বউ, শ্বশুর আব্বা’র থেকে চেয়ে নিয়ে এসেছি।

ইফানের বাক্যটা আামর কানে আসতেই আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।কেমন যেন মাথাটা ঘুরিয়ে উঠলো।আমি হেলে পড়তে নিলেই ইফান আরও শক্ত করে ধরলো।আমি অসহায় চোখে ইফানের দিকে তাকিয়ে। ইফান আমার এমন চাউনি দেখে খুব কষ্ট করে শুকনো ঢুক গিলতে লাগলো।অতঃপর ভাবতে লাগলো কিছুক্ষণ আগের কথা__

চলবে,,,,,,,,,,

একদিন পরপর পর্ব দেওয়া ভীষণ কষ্টের একটা কাজ। মিনিমাম তিনদিন সময় নেওয়া দরকার। কিন্তু তোমরা তাড়া দাও বলে এত তাড়াহুড়ো করে পর্ব লিখি।এতে আমি ঠিক করে গুছিয়ে লিখতে পারছি না।বেশি বড় হয়ে যাবে বলে অনেক কিছু স্কিপ করে শর্টকাট ভাবে লিখতে হচ্ছে।তবুও বড় হয়ে যাচ্ছে। আর যতটুকু লিখা দরকার সেটাও একটা পর্বে লিখে উঠতে পারছি না। এখন তোমারই বল পর্বগুলো কি খাপছাড়া মনে হচ্ছে। তোমাদের থেকে হ্যা উত্তর আসলে আমি তিন চারদিন পরপর পর্ব দিবো ভালো করে গুছিয়ে লিখে।এবার মতামত দাও🥲

জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :৪২
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

     🔞 সতর্কবার্তা:

এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

ইফানের বাক্যটা আামর কানে আসতেই আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।কেমন যেন মাথাটা ঘুরিয়ে উঠলো।আমি হেলে পড়তে নিলেই ইফান আরও শক্ত করে ধরলো।আমি অসহায় চোখে ইফানের দিকে তাকিয়ে। ইফান আমার এমন চাউনি দেখে খুব কষ্ট করে শুকনো ঢুক গিলতে লাগলো।অতঃপর ভাবতে লাগলো কিছুক্ষণ আগের কথা__
_

ওয়াশরুম থেকে শাওয়ারের শব্দ শুনে সেদিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো ইফান।তারপর শরীর টানা দিতে দিতে বিছানা থেকে নামলো।সে কিছুক্ষণ আগে আমাকে আর নোহাকে বাড়ির পিছন দিয়ে আসতে দেখেছে।এমনকি ক্ষেতে কি কি হয়েছে তার সব খবর ইফানের কানে আগেই চলে এসেছে।আমি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যেতেই ইফান ওর বডি গার্ডদের বলে দেয় লুকিয়ে আমার পিছু নিতে।গার্ডরা তাই করেছে।

ইফান লুঙ্গির উপর, গায়ে একটা সেন্ডো গেঞ্জি পড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।উদ্দেশ্য তার নোহাকে দেখতে যাওয়া।কিন্তু সিঁড়ির কাছে আসতেই দখলো আব্বুকে।আব্বু স্কুল ছুটির পর বাসায় না এসে কোম্পানিতে চলে গিয়েছিলো।তাই আজ বাসায় আসতে লেইট হয়েছে।আব্বু সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখলো ইফান দাঁড়িয়ে। ইফান আব্বুকে দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো।তারপর কপালে হাত ঠেকিয়ে সালাম দিলো,

❝স্লাম আলাইকুম শ্বশুর আব্বা।❞

ইফানের সালাম দেওয়ার ধরণ দেখে আব্বু চোখ ছোট করে ফেললো।তিনি ইফানের দিকে তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে বিরবির করলো,

–অসভ্য ছেলে।
গুরুজনের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তার কোনো আদবকায়দা ছেলেটার মধ্যে নেই। বেয়াদব ছেলে একটা।আমার ছাত্র হলে মেরে পিটের ছাল তুলে দিতাম।

আব্বু আর দাঁড়ালো না।তিনি বিরবির করে নিজের রুমে চলে যেতে লাগলো।এদিকে বিষয়টা ইফানের মোটেও ভালো লাগেনি।তাই সেও বিরবির করে গালি দিলো,
–শা*লা বুইড়া,,,,

বিরবির করতে করতে ইফানের নজর পড়লো আব্বুর হাতের শপিং ব্যাগটায়।হঠাৎই কিছু একটা ভেবে ঠোঁট কামড়ে হাসলো।তারপর লুঙ্গির এক কোণা ধরে বড় বড় পা ফেলে আব্বুর রুমের উদ্দেশ্য যাওয়া ধরলো।

আব্বু রুমে ঢুকে হাতের শপিং ব্যাগটা বিছানায় রেখে, হাতের ঘড়িটা খুলে টেবিলে রাখলো।অতঃপর প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল আর স্কুলের অফিস রুমের চাবির গোছাটা বের করতে নিলেই ইয়ের দুটো পেকেট ফ্লোরে পড়ে যায়।আব্বু সেটা তুলতে নিলেই পেছন থেকে কেউ শীশ বাজায়।মূহুর্তেই আব্বুর হাত থেমে গেলো।তিনি আস্তে আস্তে সেদিকে তাকাতেই চোখে পড়লো ইফান কে।যে কিনা দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে, মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আব্বুকে দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসছে।ইফানকে এখানে দেখে আব্বুর চোখ কপালে।তিনি বোকার মতো ইফানের দিকে চেয়ে রইলেন।মনে মনে লজ্জায় উনার মাথা কাটা যাচ্ছে। আসলে তো ইফান যা ভাবছে তা সত্যি না। কারণ আজ উনার পুরাতন এক ছাত্রের সাথে দেখা।সেই ছাত্র ছিলো অনেক দুষ্ট আর পড়া চোর।আব্বু কে স্যর নয় বন্ধু ভাবতো বেশি।আজ আব্বুর সাথে অনেকক্ষণ কথা হয়। আর যখন বিদায় নিয়ে চলে যাবে তখন আব্বুকে জড়িয়ে ধরে।সেই সময়ই ফাইজলামি করে আব্বুর পকেটে এই পেকেটগুলো রেখে দেয়।আব্বু তখন বুঝতে পারে নি।এখন এই কথা তো আর ইফান জানে না।আব্বু লজ্জায় হাঁপসাপ করতে লাগলো।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উনি শুকনো কাশলেন,

–এহেম এহেম,,,,,,,

আব্বু কিছু বলতে যেতো তার আগেই ইফান ইয়ের পেকেট গুলো তুলে আব্বুর পিট চাপরে বললো,
–এই নাহলে আমার শ্বশুর!!সাব্বাশ বেটা সাব্বাশ।

–দেখ তুমি যা ভাবছ,,,,,,,,,

আব্বুর মুখের কথা কেড়ে নিলো ইফান,
–কোনো ব্যাপার না,বুইড়া হইছেন তো কি হইছে?বউ সামনে থাকলে মরা সাপও জ্যান্ত হয়ে যায়।

ইফানের অসভ্যতামি দেখে আব্বু আর কোনো কথা বলতে পারছে না।ইফান বাঁকা হাসলো।অতঃপর নিজের লুঙ্গিতে একটা আর আব্বুর শার্টের পকেটে একটা পেকেট গুঁজে দিয়ে বললো,
–একটা দিয়ে আপনি আপনার মাল সামলান আর একটা দিয়ে আমি আমারটা সামলাবো।এবার আসি শ্বশুর আব্বা।

ইফান যাওয়ার আগে আব্বুকে চোখ মারলো।অতঃপর কপালে হাত রেখে লম্বা সালাম দিলো,
— আসসালাআআআমু আলাইকুম।

ইফান আর কিছু না বলে ঠোঁট কামড়ে হাসতে হাসতে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।এদিকে আব্বু অসভ্য লোকটার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।ইফান চোখের আড়াল হতেই আব্বু দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে অস্পষ্ট স্বরে বললো,
–এত বাজে একটা ছেলের সাথে আমার মেয়েটা কিভাবে ঘর করছে?আমার মেয়েটা ভালো আছে তো?


–লজ্জা করলো না নিজের বাপের বয়সী শ্বশুরের সাথে এত বড় অসভ্যতামি করতে?

আমার গলা শুনে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসলো ইফান।আমি কটমট করে ওর দিকে তাকিয়ে। ইফান আমার ঠোঁটের কোণে এক আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে উত্তর দিলো,

–আমি আমার বাপের সাথে সভ্যতামি করি এটাই বা তোমায় কে বললো?

–তুই খুবই জঘন্য মানুষ।

–হুম জানি,,

ইফানের গা ছাড়া উত্তর।তার গভীর দৃষ্টি আমার গোলাপি ওষ্ঠে।আমি ঝারা মেরে ওর হাতটা আমার থেকে সরিয়ে নিলাম।তারপর ওর চোখের সাথে দৃষ্টি রেখে বললাম,
–আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছ তুমি।এখনো সময় আছে নিজেকে বদলাও__নয়তো আমার থেকে অনেক দূরে চলে যাও।আর না তো তোমার জন্য খুব খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে।

ইফান আমার প্রতিটি কথা মনযোগ দিয়ে শুনলো।সে আমার ক্রুদ্ধ চোখের অতলে চেয়ে থেকেই প্রতিত্তোর করলো,
–তোমার থেকে দূরে থাকার প্রশ্নই আসছে না।আর না তো আমি বদলাবো।আর বাকিটা তোমার হাতে।

ইফান নিজের কথা শেষ করে আমার ঠোঁটে শব্দ করে একটা চুমু এঁকে দিলো।তারপর আমার ভেজা চুলগুলোকে কানে গুঁজে দিলো।ইফান নিজের ঠোঁট আমার কানের কাছে এনে হিসহিসিয়ে বললো,
–আমার সবটা জুড়ে তোমার বিচরণ।এ জীবনে তোমাকে ভুলা কিংবা তোমার থেকে দূরে থাকা অসম্ভব।মৃত্যু ছাড়া তোমাকে আমার থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না।আর,,,

–আর কি?

ইফানের মুখের কথা কেড়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম।ইফান হেসে আমাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।তারপর আমার ঘারে মুখ ডুবিয়ে জোরে শ্বাস টেনে বললো,
–আর আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন তোমাকে এভাবেই পুড়তে হবে।আমার থেকে এই জীবন কেন, পর জীবনেও মুক্তি নেই।আমি তোমাকে কখনোই ছাড়বো না।

–জোর করে কিছু আটকে রাখা যায় না।আর আমাকে তো পারবেই না।এমন না হোক, আমাকে পুড়াতে গিয়ে তুমিটাই ধ্বংস হয়ে না যায়।

–ধ্বংসের কারণটা যদি তুমি হও তাহলে না হয় হলাম।আমি বিলীন হলে তুমি কি খুশি হবে?

–আমি আপনার প্রতি সর্বদাই অনুভূতিহীন।

ইফান আমার দিকে পলকহীন তাকিয়ে। আমি ওর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছি।ইফান আমার থুতনি ধরে ওর দিকে ফিরালো।অতঃপর তাচ্ছিল্য করে হেসে, হাস্কি স্বরে বললো,
–আমার প্রতি তোমার ফিলিংস থাকতে হবে না।সেটা আমি নিজেই তৈরি করে নিব।বাট,,,,,

আমি ইফানের চোখে চোখ রাখলাম।ইফানের ধূসর চোখ জোরা লাল বর্ণ ধারন করেছে।সমান তালে চোয়ালও শক্ত হয়ে এসেছে।ইফান আচমকা আমার দুগাল চেপে ধরলো।অতঃপর দাঁতে দাঁত পিষে হিসহিসিয়ে বললো,
–তোর মধ্যে যদি আমার জন্য ফিলিংস না থাকে,তাহলে অন্য কারও জন্য রাখার স্পর্ধাও দেখাবি না।তাহলে কিন্তু,,,,,

–মেরে ফেলবে?

আমার কথা শুনে মাথা দুপাশে নাড়িয়ে হাসলো ইফান।তারপর আমার কপালে শব্দ করে চুমু খেয়ে ওয়াল হ্যাঙ্গার থেকে টাওয়ালটা নিয়ে আমার শরীরে পেচিয়ে দিতে দিতে বললো,
–মারার প্রসঙ্গ আসছে কোথা থেকে?আমি তো তোমাকে আরও বেশি যন্ত্রণা দিব। যাতে তোমার ভিতরটা পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।তারপর সেখানের সব আবর্জনা সরিয়ে আমি আমার জায়গা ঠিকই করে নিবো।তোমাকে কিছু করতে হবে না বেইব।

–পারবে না তুমি। আমার মনে কখনোই জায়গা করে নিতে পারবে না।

ইফান ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো।দু’জনেই নিঃশব্দে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলাম।কিছুক্ষণের মধ্যেই জিয়াদের ডাক কানে আসে।আমি ইফানকে ঠেলে ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আসলাম। ইফান পিছনে তাকিয়ে থেকে আমার প্রস্থান দেখলো।


আমি রেডি হয়ে জিয়াদের ঘরে গিয়ে দেখি ছেলেটা ক্লান্ত হয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে আছে।আমি ওর পাশে বিছানায় গিয়ে বসলাম।আল্ত করে জিয়াদের পিটে হাত রাখতেই আমার দিকে তাকালো।

–ওহ্ তুমি। একটু আগে তোমাকে ডেকে এসেছিলাম।

–হ্যা,ঐ জন্যই দেখা করতে এলাম।

–তোমার কথা মতো সব চিহ্ন মুছে দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ঐখানে লা*শ সহ সবকিছুই উধাও। আমরা তন্নতন্ন করে খুঁজেছি।কিন্তু কোনো কিছুই পাইনি।

–কিহ্!!

জিয়াদের কথায় অবাক হলাম।জিয়াদ মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো।আমি মনে মনে কিছু একটা ভাবলাম। অতঃপর জিয়াদকে বললাম,
–ইফান,,,,,

–বাদ দাও এই টপিক। আমি ক্লান্ত এখন একটু রেস্ট নেওয়া প্রয়োজন।

জিয়াদের কথায় দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লাম।ছেলেটা আবার চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ছে। আমি ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বুললাম,
–ভাই তোর কি হয়েছে?কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে বল।আমি,,,,

আমাকে বাক্য সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে জিয়াদ মৃদু স্বরে বললো,
–আমার কিছু হয় নি।আমি ঠিক আছি।এখন একটু ঘুমাতে দাও।

এই কথার পিছে আর কিছু বলতে পারলাম না।আবারও হতাশ হয়ে ওর রুম থেকে বেড়িয়ে আসলাম।ছেলেটার হঠাৎ এত পরিবর্তন দিনদিন আমাকে ভাবিয়ে যাচ্ছে।আমার বিয়ের আগেও কতবার ওর সাথে কথা বলতে চেয়েছি।কিন্তু ছেলেটা কিছু বলে না।অথচ সবসময় মন মরা হয়ে থাকে।আর অল্পতেই মাথা গরম করে সবার উপর রাগ দেখিয়ে চিৎকার চেচামেচি করে।


আমি জিয়াদের সাথে কথা বলতে রুম থেকে বেরোতেই, ইফানও বেড়িয়ে যায়।তখন বাড়িতে ইনানরাও চলে এসেছে।ইফান ওদের নিয়ে আবার বেড়িয়ে যায়।নদীর ধারে যে কারখানাটা কয়েক বছর আগে তৈরি হয়েছে ইফান সেখানেই বসে আছে।তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইনান আর আলাল,দুলাল। আর সামনে শুধু জাঙ্গিয়া পড়া অবস্থায় কানে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে সাদ্দাম সহ নোহাকে ধরে নিয়ে যাওয়া বাকি দুটো ছেলে।ওদের শরীরের অবস্থা অসূচনীয়। ওদের কে এমন ভাবে পেটানো হয়েছে যে শরীর থেকে র*ক্ত ঝরেছ। সাদ্দাম ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে ইফানকে বলতে লাগলো,

–স্যার সত্যি আমি কিছু করি নাই। আমি তো খালি পাহারা দিতাছিলাম।যা করবার এরা করসে।

সাদ্দাম পাশের ছেলের দুটোকে দেখালো।ইফান হাতের লোড করা রিভলভারটা দিয়ে নিজের কপাল চুলকাতে লাগলো।এদের কথা শুনে বেশ বিরক্ত ইফান।সে ইনানকে বললো, –কিরে ইন্দুর বাস্টার্ড গুলো এখনো কথা বলার অবস্থাতে কিভাবে আছে?

–জি ভাই, আমাদের গার্ডরা আচ্ছা করে পিটিয়েছে।তবুও,,,,,

–হিশশশশ, Don’t give me fu*cking excuses.

ইফান নিজের কথা বলেই সাদ্দামের দিকে রিভলবার তাক করলো।এদিকে ভয়ের চোটে সাদ্দামের হাঁটু কাপছে।এমনিতেই মার খেয়ে শরীর আধমরা হয়ে আছে।আর গান দেখে ওর কলিজা লাফিয়ে উঠেছে। বাকি ছেলে দু’টোর অবস্থা আরও করুন।ওরা গার্ডদের হাতে মার খেয়ে দম যায় যায় অবস্থা। খুব কষ্টে দাঁড়িয়ে আছে।বসলেই পিছন থেকে গরম লোহার ছ্যাকা দেওয়া হচ্ছে। ইফান প্রথমে সাদ্দামকে শুট করতে ট্রিগার চাপতে যাবে__তখনই নাকে আসলো একটা তীব্র দূর্গন্ধ। ইফান ঝটপট রি*ভলবার দিয়ে নাকের কাছে বাতাস করলো।সে নাাক ছিটকে আলাল দুলালের দিকে তাকিয়ে বললো,

–কিরে আলু, কিসের জানি গন্ধ লাগতাছে?

ইফানের কথা শুনে ইনান সহ আলাল দুলালও নাকে ধরলো।ওদের কাছেও আগেই গন্ধ লাগছিল।দুলালের তো বমি আসবে আসবে অবস্থা হয়েছিলো।কিন্তু সামনে বস বসে থাকায় নাকেও ধরতে পারে নি।আলাল গন্ধ শুকতে শুকতে সাদ্দামের পিছনে গেলো।অতঃপর সাদ্দামের পশ্চাৎএ শুকতেই বমি করে দেওয়ার পালা হলো।সে অন্যদিকে দৌড়ে গিয়ে “ইয়াক ইয়াক” করতে করতে বললো,

–ভাইইই, হাইগ্গা দিছে।

আলালের কথা শুনে ইফানের ছিটকানো নাক আরও ছিটকালো।ইনান ঝটপট ইফানকে মাস্ক দিলো।ইফান সেটা পড়ে স্থান ত্যাগ করতে করতে গার্ডদের ইশারা করলো এদের ব্যবস্থা করতে।


রাত একটা বাজলো বলে।নতুন জামাইয়ের জন্য আম্মু’রা কত কি রান্না করলো।অথচ ইফানের হদিস নাই। আমি সবাই কে নিজেদের রুমে পাঠিয়ে দিয়ে এখন ড্রয়িং রুমে বসে শয়*তানটার জন্য অপেক্ষা করছি।ভাবতে ভাবতেই কলিং বেল বেজে উঠলো।আমি সদর দরজা খুলতেই ইফানকে দেখতে পেলাম।তার পিছনে বাকি তিনজন চামচাও দাড়িয়ে। আমাকে দেখেই দাঁত বের করে হেসে দিয়ে এক সাথে সালাম দিলো,

— আসসালামু আলাইকুম ভাবি।

আমি ওদের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইফানের দিকে তাকালাম। ইফান ঠোঁট বাকিয়ে হেসে দু’হাত সামনে বাড়িয়ে বললো,
–মাই ডিয়ার ফা*কিং বুলবুলি,আমার জন্য ওয়েট করছিলে?

আমি ইফানকে একবার দেখে পিছনের বাকি তিনটার দিকে তাকালাম। ইফান আমার দৃষ্টি অনুযায়ী সেদিকে তাকিয়ে ওদের ইশারা করলো ভেতরে চলে যেতে।ওরা তিন জন আমার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসতে হাসতে নিজেদের রুমে চলে গেছে।

–এটা তোমার বাড়ি না।তাই যখন তখন এই বাড়িতে আসা যাওয়া করা যাবে না।

আমি আর কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে আসলাম।আমার পিছনে ইফানও রুমে আসলো।আমি চুলের খোপা খুলে শুয়ে পড়লাম।ইফান রুমে দরজা লাগিয়ে এক এক করে ব্লেজার, হাত ঘড়ি খুলতে লাগলো।আমি চোখ বন্ধ করে থেকেই বললাম,
–আম্মু বড় আম্মু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছে।আপনার দেখা না পেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।আমি এখন খাবার বেরে দিতে পারবো না।

–প্রয়োজন নেই, তোমাকে খেলেই পেট ভরে যাবে।

ইফানের কথা কানে আসতেই আমি চোখ মেলে ওর দিকে তাকালাম। ইফান আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসতে হাসতে শার্টের বোতামে হাত চালাচ্ছে।আমি দাঁত কিরমির করে বিরবির করলাম,
–অ*সভ্য।

আমি ইফানের থেকে মুখ ফিরিয়ে আবার চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম। ইফান আবার লুঙ্গি পড়ে নিলো।অতঃপর রুমের লাইট অফ করে আমার পাশে এসে শুয়ে পড়লো।ইফান আমাকে জড়িয়ে ধরতেই আমি আরেকটু দূরে সরে গেলাম।ইফান আবার আমার কাছে এসে জড়িয়ে ধরে পিটের চুল সরিয়ে__সেখানে চুমু খেতে লাগলো।আমি ইফানকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে উঠে বসলাম।তারপর রাগে গজগজ করতে করতে বললাম,

–আজ যদি আমার সাথে জো*রজবরদস্তি করেছ, তাহলে ভালো হবে না।

ইফানও উঠে বসলো।আমার কথায় বিরক্তি নিয়ে বললো,
–তো বিয়ে করেছি কিসের জন্য।

–ফাইজলামি করবে না একদম। আমার অনেক ঘুম পেয়েছে। আমি আজ কিছুতেই সজাগ থাকবো না।

–তোমাকে সজাগ থাকতে হবে না বউ।আমিই,,,,,

আমি ইফানের মুখে আমার শাড়ির আঁচল গুজে দিয়ে বললাম,
–চুপ, একদম চুপ।আরেকটা কথা বললে খবর আছে।

ইফান আমার কথা শুনলো কি না কি জানি।সে আমার বুকের দিকে তাকিয়ে থেকে পরপর ঢুক গিললো।আমি নিজের দিকে তাকিয়ে শাড়ির আচল দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে নিলাম।ইফান মুখ থেকে কাপড়টা সরিয়ে বললো,
–আজ একটু সেটিসফাইড করে নাও বউ।বেশিক্ষণ জ্বালাবো না।

আমি আবার শুতে শুতে বললাম,
–আমি আজ কিছুতেই করবো না।আর আমার উপরে গিয়ে কিছু করলে, ভালো হবে না বিষয়টা।

ইফান অনেকক্ষণ এটা সেটা বললো।কিন্তু আমাকে রাজি করাতে পরলো না।অবশেষে ইফান বেশ কিছুক্ষণ ভেবে বললো,
–চল একটা গেইম খেলি,,,

চলবে,,,,,,,,,,,

(তাড়াহুড়ো করে লিখেছি তাই রিচেক করার সময় পাইনি।ভুল ত্রুটি থাকলে কষ্ট করে বুঝে পড়ে নিবেন।হ্যাপি রিডিং 🥳🫶)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply