Golpo romantic golpo জাহানারা

জাহানারা পর্ব ৩৫+৩৬


জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :৩৫
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

           🔞 সতর্কবার্তা:

এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

ঘড়ির কাটা সকাল আটটার ঘরে।গতকাল অনেকটা রাত সজাগ থাকার জন্য আমার ঘুম একটু দেরিতেই ভাঙলো।আমার দুপাশে এখোনো নোহা আর জুই ঘুমাচ্ছে। আমি আর দেরি না করে ঝটপট ওঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।তারপর নিচে চলে আসলাম।আব্বু আর বড় আব্বু চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছে।আমাকে নিচে নামতে দেখে আব্বু বললেন,
–আমার আম্মুর ঘুম ভেঙেছে?

–জি আব্বু।

আমার কন্ঠ শুনে বড় আব্বু খবরের কাগজ রেখে আমাকে ডাকলেন,
–আম্মু তুমি আমার পাশে এসে একটু বস।কতদিন তোমার সাথে গল্প হয় না।

আমি বড় আব্বুর পাশে গিয়ে বসলাম।তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,
–হেরে মজিদ আম্মাটা কয়দিন আগেও এইটুকু ছিলো।আর এখন কত বুঝদার আর বড় হয়ে গেছে দেখেছিস!

আব্বু মলিন হাসলেন।তারপর আমার মাথায় হাত রেখে বললেন,
–সেটায় তো দেখছি।কদিন আগেও তো আমাদের হাতের আঙ্গুল না ধরে রাস্তা পার হতে পারতো না।আর এখন একা একা সংসার সামলাচ্ছে।

আব্বুর মুখে সংসার শব্দটা শুনেই আমার মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো।আসলেই কি আমি সংসার করছি,নাকি ম*রণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি প্রতিনিয়ত? আমি নিচের দিকে তাকিয়ে রইলাম।বড় আব্বু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভেজা কন্ঠে বললেন,
–কত সুন্দর সাজানো গোছানো সংসার ছিলো আমাদের।সারাদিন আমাদের সকলকে মাতিয়ে রাখতে__ তুমি, জুই, জিয়াদ আর কবি,,,,,,

বাকিটা আর বলতে পারলেন না বড় আব্বু। মাঝ পথেই থেমে পড়লেন।উনার গলায় কান্না আঁটকে গেছে।টপটপ করে উনার চোখ দিয়ে তপ্ত জল গড়িয়ে পড়লো।আব্বু নিজের ঝলঝল চোখ লুকিয়ে নিজের শ্রদ্ধেয় ভাইয়ের কাঁধে হাত রাখলেন।উনাদের এমন অবস্থা দেখে না চাইতেও আমার চোখে অশ্রু কণা এসে হানা দিলো।আমি বড় আব্বু কে জড়িয়ে ধরে ভেজা কন্ঠে বলতে লাগলাম,
–কেঁদো না বড় আব্বু আমরা আছি তো।আমি তো আছি তোমাদের কাছে।তোমার ছোট মা সব ঠিক করে দিবে।আমাদের সংসার আগের মতো সুন্দর করে সাজিয়ে দিবো আমি।তোমাদের জাহান কখনো তোমাদের ছেড়ে যাবে না, কথা দিলাম।

কথাগুলো বলেই আমি উনার চোখের জলটুকু মুছে দিলাম।তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
–তোদের জন্যই আজও বেঁচে আছি রে মা।

উনার কথার মাঝেই কারো হু হু কান্নার শব্দ শুনে সেদিকে তাকাতেই দেখি বড় আম্মু মুখে আচল ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।উনি আমার জন্য চা নিয়ে এসছিলেন।তখনই আমাদের কথা শুনে ফেলেন।এদিকে চেপে রাখা কান্নার তোরে উনার সারা শরীর কম্পিত হচ্ছে।আমি তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে উনাকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিতে লাগলাম।আমাকে কাছে পেয়ে উনার কান্নার বাঁধ আরও ভাঙলো


ঘুমের ঘোরে মুচরা মুচরি করছে নোহা।সেই কখন টয়লেট পেয়েছে কিন্তু অলসতা করে চেপে শুইয়ে ছিলো। এখন আর পারছে না।তাই অলসতা সাইডে রেখে উঠে দাড়াল।অতঃপর গা ছাড়া ভাব নিয়ে ওয়াশরুমের সামনে গিয়ে দাড়ালো।ওয়াশরুমের দরজায় ধাক্কা দিলেও খুললো না।ফলে ঘুম দূরে সরিয়ে চোখগুলো মেলে তাকিয়ে দেখলো__দরজা ভেতর থেকে লাগানো।এদিকে প্রাকৃতিক দুর্গন্ধ যুক্ত বায়ু তাকে জানান দিচ্ছে এক্ষুনি তাকে পেট পরিষ্কার করতে হবে।

–ভেতরে কে আছ?

ওয়াশরুমের ভেতর থেকে জুই গলা খাঁকারি দিয়ে তার উপস্থিতি জানান দিলো।নোহা দরজায় থাপড়াতে থাপড়াতে বললো,
–প্রিটি গার্লের সিস্টার, ওপেন দ্যা ডোর।

জুই টয়লেটে বসে আবার গলা খাঁকারি দিলো।সে বুঝাতে চাইলো সে এখন বিজি আছে।কিন্তু নোহা শুনলো না।তার টয়লেটের বেগ বেড়ে গেছে। তাই দরজায় দ্বিগুণ তালে থাপ্পড় মারতে মারতে চেঁচালো,
–এই প্রিটি গার্লের বোন,বোনের গার্ল প্রিটি তাড়াতাড়ি ডোর ওপেন কর।আমার অনেক জুড়ে হাগি পেয়েছে।

টয়লেটে বসে জুই এক মহা বিপদে পড়েছে। এই মূহুর্তে সে চাইলেও বের হতে পারবে না।নোহা উরাধুরা দরজায় থাপ্পড় মারতে লাগলো।এদিকে দরজার ছিটকিনি খুলে যাবে খুলে যাবে অবস্থা। জুই সমান তালে কেঁশে বুঝচ্ছে এখন সে বের হতে পারবে না।নোহা এদিকে চেঁচাতে লাগলো,
–তাড়াতাড়ি ডোর খুলে দাও।আমার অনেক জোরে হাগি পেয়েছে।খুল বলছি, খুল,,,,,,

অনেকক্ষণ ডাকার পরেও যখন জুই বের হলো না।তখন নোহার পাগলের মতো অবস্থা হয়েছে।এই মূহুর্তে টয়লেটে না গেলে কাপড়-চোপড়েই হয়ে যাবে।উপায়ান্তর না পেয়ে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো।আমার রুম থেকে বের হলেই জিতু ভাইয়ার রুম।ভাইয়ার রুমের দরজা খোলা থাকায় এক ছুটে রুমে ঢুকে পড়লো।

এদিকে জিতু ভাইয়া শাওয়ার নিচ্ছে। ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হবে।উনার শাওয়ার নেওয়া শেষ, এখন খালি কোমরে গামছা জড়াবে।এমতাবস্থায় ওয়াশরুমের দরজায় জোরে জোরে করাঘাতের শব্দ কানে আসে।সাথে একটা মেয়ের গলা ফাটানো চিৎকার,

–ঐ ঐ কুইকলি ওপেন দ্যা ডোর।আমার হাগি পড়ে গেলো।ডোর খোল, খোল বলছি,,,,,,

নোহার এমন কথা শুনে হতবিহ্বল হয়ে গেলো জিতু ভাইয়া।এদিকে নোহা আবার নিজের শরীরের সকল শক্তি দিয়ে দরজায় কিল ঘুষি দিতে লাগলো,
–ডোর খোলঅঅঅঅ,,,,

নোহার এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে কোনো মতে গামছা হাতে নিলো কোমরে পেঁচানোর জন্য। তখনই নোহার কাতর কন্ঠ ভেসে আসলো,

–এখানেই করে দিলাম, এই দিলাম,,,,,

জিতু ভাই আর কিছু ভাবতে পারলো না।এই মেয়ে যদি সত্যিই এখানে করে দেয়।তিনি কোমরের গামছায় গিট দেওয়ারও ফুসরতও পেলেন না।অতএব কোমরে গামছা কোনো মতে পেচিয়ে দরজা খোলে,তবে বের হওয়ার আগেই নোহা জিতু ভাইকে ঠেলা মেরে ভেতরে ঢুকে ঠুস করে দরজা লাগিয়ে দিলো।নোহার এমন কাজে উনার চোখমুখ কুচকে গেলো।তখনই নজর পড়লো দরজায় একটা গামছা ভেতর থেকে আটকে বাইরে ঝুলে আছে।জিতু ভাই নিজের নিম্নাংশে আস্তে আস্তে তাকাতেই চোখ কপালে উঠে পড়ার অবস্থা হলো।তিনি নিজের এমন অবস্থা দেখে একটা ঢুক গিললো।তখনই ওয়াশরুম থেকে অদ্ভুত শব্দ আসতে লাগলো,

❝ভুমভুম পঅঅঅ পঅঅঅ,,,,,, ❞

জিতু ভাই নাক ছিটকে ওয়ার্ডরোব থেকে একটা টাউজার বের করে পড়ে নিলেন।অতঃপর একটা সেন্ডো গেঞ্জি গায়ে জড়িয়ে নিলেন।দশ মিনিট পর ওয়াশরুমের দরজা খুললো।সেখান দিয়ে ক্লান্ত নোহা বেরিয়ে আসলো পেটে ধরে।নোহা বাইরে এসে পেটে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে শান্তির শ্বাস ছাড়লো। নোহাকে দেখে জিতু ভাই বিরক্তিতে রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হলেই নোহার চোখে পড়ে যায়।জিতু ভাইয়ের দেহে সেন্ডো গেঞ্জিটা আষ্টেপৃষ্টে লেগে আছে।ফলে পেশিবহুল দেহের ভাজ স্পষ্ট। মূহুর্তেই নোহার চোখে মুখে খুশির ঝলক দিয়ে উঠলো।আজ জিতু ভাই নোহাকে এত বড় হেল্প করায়,তার চোখে জিতু ভাই এখন থেকে বীরপুরুষ।নোহা তাকে জড়িয়ে ধরতে দু হাত সামনে ধরে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো,

–হানিইইইই,,,,,

নোহার কন্ঠ জিতু ভাইয়ের কানে যেতেই উনার চলন্ত পা থামলো। অতঃপর পিছনে তাকাতে না তাকাতেই নোহা পায়ে পা বেজে জিতু ভাইয়ের শরীর ছুঁইয়ে উনার পায়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো।জিতু ভাই আবার হতবিহ্বল হয়ে পড়লো।কয়েক মূহুর্তের মধ্যে যখন অনুভব করলো উনার নিম্নাংশ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, তখনই আস্তে আস্তে চোখ সেখানে ঘুরালো। তৎক্ষনাৎ আসমান থেকে পড়লো।নোহা পড়ে যাওয়ার সময় টাউজার ধরে __পড়ার হাত থেকে বাঁচতে চেয়েছিলো।কিন্তু তা তো হয় নি বরং সেটা নিয়েই জিতু ভাইয়ের পায়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে।জিতু ভাইয়া বাক হারা হয়ে গেছে নিজের এমন অবস্থা দেখে।

এদিকে নোহা এখনো টাউজার ধরেই মেঝেতে পড়ে আছে।সে ব্যথায় “ও, আ” করতে করতে যখন উপরের দিকে তাকালো,তখনই চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।মূহুর্তের মধ্যে ব্যথা ভুলে চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।সে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে অবাক সরে বললো,

❝ওয়াও কেয়া মেশিন হে!ইসে তো বহত মাজা আয়ে গা_


জিয়াদ এবার ইন্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করছে প্রথম বর্ষে।সারা রাতদিন পরিশ্রম করে ভার্সিটি তে জমা দেওয়ার জন্য একটা প্রেজেন্টেশন রেডি করেছে।আমি আর জুই ওর রুমে বসে তার কাজ দেখছি।তখুনি নিচ থেকে চেঁচামেচি কানে আসলো।আমরা নিচে নামতেই দেখি ইফান পায়ের উপর পা তুলে সোফায় বসে আছে।তার পাশে পিংক কালার একটা গাউন পড়ে গুটিসুটি করে বসে আছে ইতি।তার পিছনে এত এত শপিং নিয়ে দাড়িয়ে আছে ইনান আর আলাল, দুলাল।বাড়ির সবাই হা করে সদর দরজার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি তাদের দৃষ্টি অনুযায়ী তাকাতেই আমার মুখও হা হয়ে গেলো।বাইরে থেকে ইফানের কিছু ছেলেপুলে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে এসেছে।বাজারের যত শাকসবজি, মিষ্টির হাড়ি ছিলো সব তুলে নিয়ে এসেছে।সেগুলো রাখতেই পুরো লিভিং রুম ভরে গেছে।তারপর আরও দুটো ছেলে ভেতরে আসে।একজনের মাথায় খাঁচা ভর্তি দেশি মুরগী। আরেকজনের মাথায় কাঁচা ভর্তি হাঁস।তৎক্ষনাৎ আরও দুটো ছেলে পাঁচটি ছাগল নিয়ে আসলো।ইফান টি-টেবিল থেকে গ্লাসটা তুলে নিয়ে ঢকঢক করে সম্পূর্ণ পানিটা খেয়ে নিলো।আমার বাড়ির সকলেই আশ্চর্য ওর এমন বেয়াদবি দেখে।ইনান ঝটপট পকেট থেকে টিস্যু বের করে দিলো।ইফান হাত মুছে সবার উদ্দেশ্য মাথায় হাত রেখে লম্বা করে সালাম দিলো,

–আসসালাআআআআমু আলাইকুম মুরুব্বিরা।

ইফানের বেয়াদবি দেখে আব্বুর মুখ বেজার হয়ে গেলো।বড় আব্বু নতুন জামাইয়ের সাথে কোনো ঝামেলা চাইছেন না।তাই চুপচাপ এসব দেখছে। কারও উত্তর না পেয়ে ইফান ঠোঁট বাঁকালো।অতঃপর আবার কিছু বলবে তখনই আরেকটা ছেলে ছুটে এসে ইফানকে বললো,

–ভাই এত বড় ষাঁড় দুইটা দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকতাসে না।এখন কি করতাম?

ইফানের কথার মাঝে ব্যাঘাত ঘটায় তার চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো।সে ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে বিরক্তি নিয়ে বললো,
–তাহলে আমার সা*উয়ার ভিতর ঢুকিয়ে দে।

শ্বশুর বাড়িতে প্রথমবার এসেই শ্বশুর শাশুড়ি সহ সকল মুরুব্বিদের সামনে এমন অশ্লীল কথা বার্তা শুনে শেখ বাড়ির সকলেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো।আব্বু একজন শিক্ষক আর তার সামনে এমন গালিগালাজ করছে তারই মেয়ের জামাই।তিনি ভোতা মুখ করে দৃষ্টি সরিয়ে নিলেন।আম্মু আর বড় আম্মু প্রথমবার বাড়িতে মেয়ের জামাই আসার খুশিতে রান্নাঘরে ছুটলেন।এদিকে ইফানের কথা শুনে ছেলেটা ধরে নিলো ষাঁড় দুটোকে যে করেই হোক ভেতরে নিয়ে আসতে বলেছে ইফান।ছেলেটা ইফানকে বললো,

–জি ভাই, ভেতরে নিয়ে আসছি।

ছেলেটা চলে যেতে নিলেই আমি চেচিয়ে উঠলাম,
–আরেকটা জিনিসও যদি এই বাড়ির ভিতর আসে তাহলে তোদের একদিন কি আমার একদিন।

আমার কন্ঠ শুনে সিঁড়ির দিকে তাকালো ইফান।তৎক্ষনাৎ উঠে দাঁড়িয়ে আমার সামনে দু হাত মেলে ধরে__হেসে বললো,

–এই তো আমার বুলবুলি। আমার কলিজার বউ।কতদিন তোমাকে দেখি না সোনা।

নিজের বাপ চাচার সামনে এমন কথা শুনে লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে।রাগে শরীরে জ্বলন ধরে গেছে।আর এই শয়তান লোক এসব কি বলছে?সে কতদিন ধরে দেখা না মানে?কালও তো দেখলো। আবার ইফানের কন্ঠ কানে আসে,

–বউ এদিকে আস তোমাকে দু’টো চুমু খাই।

ইফানের নির্লজ্জ কথায় আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, –লজ্জা করে না তোর, একটুও করে না?বিনা নিমন্ত্রণে অন্যের বাড়িতে এসে হাজির হয়েছিস সকাল সকাল,আবার বেহায়ার মতো কথাবার্তা বলছিস।

ইফান বাড়ানো হাত গুটিয়ে নিয়ে শরীর টানা দিতে দিতে বললো,

–ইফান চৌধুরী যখন যে জায়গায় থাকে তখন সেই জায়গার মালিক। আর লজ্জা, সেটা আবার কোন ধরনের জিনিস, খায় না মাথায় দেয়?

ইফানের এমন উত্তর শুনে রাগে মস্তিষ্ক ফেটে পড়ার অবস্থা। আমি ওর দিকে তেড়ে আসতে নিলে আব্বুর কন্ঠ শুনে থেমে যাই।

–কি হচ্ছে কি জাহান?ভুলে যাচ্ছ, সোসাইটিতে আমাদের একটা মানসম্মান আছে।


নোহাকে জিতু ভাইয়া তৎক্ষনাৎ রুম থেকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে।তিনি একজন সাহসী সি আই ডি অফিসার।তার ভয়ে বড় বড় অপরাধীরও প্যান্ট ভিজে যায়।আর একটা মেয়ে কিনা তার ইজ্জতের ফালুদা উঠিয়ে দিলো।রাগে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে।এদিকে সেই কখন থেকে নিচ থেকে চেচামেচির আওয়াজে শুনতে পারছে। সে দ্রুত ফর্মাল ড্রেসআপে রেডি হয়ে নিলো।আজ আর এই বাড়িতে লাঞ্চ করবে না। এমনকি এই লু*চ্চা মেয়ে যতদিন এই বাড়িতে থাকবে ততদিন এই বাড়ি মুখো হবে না।

এদিকে নোহা দরজার বাইরে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে।জিতু ভাইয়া রুম থেকে বের হলেই চেপে ধরবে।

জিতু ভাইয়া নিজের রাগকে কনট্রোলে আনতে শেষ বার একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো।তারপর দরজা খুলতেই নোহা টুকি বলে ঝাপিয়ে পড়তে নিলো।তখনই তিনি দূরে সরে যান।অতঃপর চিৎকার করে উঠেন।নোহা মার খাওয়ার ভয়ে দৌড়াতে শুরু করে।জিতু ভাইয়া রাগের বশে নিজের সব হুশ জ্ঞান হারিয়ে পাল্টা ধাওয়া করে।


আমি সিঁড়িতেই এখনো দাঁড়িয়ে আছি। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ইফানের দিকে তাকিয়ে। ইফান আবার গিয়ে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসলো।তার দৃষ্টি আমার দিকেই। আমাকে রাগতে দেখে বেশ মজা পাচ্ছে। তাই ঠোঁট বাকিয়ে হাসছে।

এদিকে এতক্ষণ চুপচাপ বসে থাকা ইতি আমার দিকে কখন থেকে তাকিয়ে আছে এটেনশন পাওয়ার জন্য। ইফানের উপর রাগে ওর কথা ভুলে বসেছি।হঠাৎ তার দিকে চোখ পড়তেই দুজনের চোখাচোখি হলো।মূহুর্তেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো।আমি নিজের রাগ ধামাচাপা দিয়ে মলিন হাসতেই মেয়েটা আমার কাছে পৌঁছাতে ছুটে কয়েক সিঁড়ির পেরতেই আচমকা কারো সাথে ধাক্কা লাগে।আমি, ইফান একসাথে চিৎকার করে ডেকে উঠলাম,

–ইতিইইই,,

ইফান উত্তেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে।এদিকে ভয়ে ইতি চোখ বন্ধ করে রেখেছে। কয়েক মূহুর্ত পেরিয়ে গেলেও যখন ব্যথা অনুভব করলো না।তখন পিটপিট করে তাকাতেই জিতু ভাইয়ার সাথে চোখাচোখি হলো।

নোহাকে দৌড়ে ধরতে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নিলেই আচমকা ইতির সাথে ধাক্কা লাগে।আমি ভাইয়াকে ইতিকে ধরে ফেলতে দেখেই আটকে রাখা নিঃশ্বাস ফেললাম।ভাইয়া ইতিকে সোজা করে দাঁড় করাতেই নোহা ছুটে এসে ইতির সারা শরীরে চোখ বুলিয়ে উত্তেজিত হয়ে বলতে লাগলো,
–আর ইউ ওকে লিটিল গার্ল।তোমার লাগে নি তো?

ইতি মাথা নিচের দিকে রেখেই মিনমিন করে বললো,
–আমি ঠি ঠিক আছি।

ইফান আবার শান্ত হয়ে সোফায় বসলো।আমি ইতির ডানায় ধরে আমার কাছে নিয়ে এসে বললাম,
–এক্ষুনিই তো পড়ে ব্যথা পেতে।

–সে তো পেতোই।কেউ যদি ট্যাংকির মতো বটকা শরীর নিয়ে, পা*ঠার মতো দৌড়ায়, তাহলে তো আরও অনেক কিছুই হতে পারতো।

ইফানের ব্যাঙ্গাত্মক কথা শুনে সেদিকে তাকালো জিতু ভাইয়া।এতক্ষণ তিনি ইফানকে খেয়াল করে নি।ইফানকে দেখা মাত্রই উনার চোখমুখে আরও কাঠিন্যে চলে আসলো।ইফান জিতু ভাইকে রাগতে দেখে বেশ মজা পাচ্ছে।পরক্ষণেই দু’জনের চোখই শীতল হয়ে আসলো।তাদের স্নায়ু যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে আম্মুর ডাকে,

–আব্বা তুমি অফিসের জন্য রেডি হয়ে চলে আসছ।ব্রেকফাস্ট রেডি আছে খেয়ে নাও,,,,,

–বাইরে খেয়ে নিবো এখন আসছি।

জিতু ভাইয়া না খেয়েই চলে গেল।কিন্তু যাওয়ার আগ পর্যন্ত ইফানের চোখের দিকে তাকিয়ে ছিল।ইফানও তাই। এই বিষয় টা কারো নজরে পড়লো কি পড়লো না, জানা নেই। তবে আমার চোখ এড়াতে পারেনি।ইফানের আচরণ দেখে মনে হলো সে আগে থেকেই জিতু ভাইয়ার সাথে পূর্বপরিচিত।


ঘড়ির কাটা রাত দশটার ঘরে।ডাইনিং টেবিলে বসে আছে আব্বু, বড় আব্বু, জিতু ভাই,ইফান,ইনান,আলাল দুলাল, জিয়াদ,নোহা আর ইতি।জুই চুপিচুপি রান্নাঘরে খেয়ে আমাদের রুমে চলে গেছে। এখানে বাইরের পুরুষ থাকায় সকলের সাথে বসে নি।

ইফান অভদ্রের মতো বড় আব্বুর চেয়ার দখল করে বসে আছে।এই নিয়ে জিতু ভাইয়া কিছু বলতে নিলে আব্বু আর বড় আব্বু ইশারায় থামিয়ে দিয়েছে। আজ জিতু ভাইয়ার বাড়িতে ফেরার কথা ছিলো না।কিন্তু নয়টার দিকেই অজানা এক কারণে বাড়িতে ফিরে এসেছে।নোহা আর ইতি ইফানের দু পাশে বসেছে।ইফানের সোজাসুজি বসেছে জিতু ভাইয়া।তার এক পাশে বসেছে আব্বু আর বড় আব্বু।আরেক পাশে বসেছে জিয়াদ,আলাল, দুলাল আর ইনান।নোহা যে চেয়ারে বসেছে সেখানে আমাকে বসতে বলেছিলো ইফান।নোহাও জোর করেছিলো। করবেই বা না কেন? তার তো মতলব ছিলো ভাইয়ার সাথে বসা। তবে ভাইয়া সেই সুযোগ না দিয়ে অন্যদের বসিয়ে দিয়েছে।কিন্তু আমি বসি নি আম্মু আর বড় আম্মুর সাথে একসাথে খাব বলে।

বাড়িতে নতুন জামাই আসায় বড় আব্বু বিকালে হাটবাজার থেকে টাটকা টাটকা শাকসবজি মাছ মাংস নিয়ে এসেছে।ইফানের আনা জিনিসগুলোর মধ্যে কিছু মিষ্টি পাড়ার লোকদের বিতরণ করা হয়েছে।বাকিসব এতিম খানায় পাঠিয়ে দিয়েছে।এমন কি পনেরো লাখ টাকার দুটো ষাঁড় সহ এক লক্ষ টাকার ছাগলগুলোও।

ইফান যখন তিন ট্রাক ভর্তি এসব জিনিস নিয়ে শেখ বাড়িতে এসেছে।তখন পুরো কেরানীগঞ্জে হইচই শুরু হয়েছে।প্রতিবেশীরা তো আমার শ্বশুরবাড়ি, আামর জামাইয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ইফান আসার পর থেকেই আমাদের বাড়িতে উঁকি ঝুঁকি মারছে পাড়ার মহিলারা।তবে বাড়িতে আসার সাহসটাই পাচ্ছে না।পাবেই বা কিভাবে? আমার সাথে ইফানের যে কাহিনি ঘটেছিলো তা নিয়ে আমাদের যা অপমানই না করেছে এরা।তাই আর আগ বাড়িয়ে কথা বলতে পারছে না।আবার কিছু মানুষ প্রথম থেকেই আমাদের পাশে থেকেছিল।তারা নতুন জামাই দেখতে বাড়িতে এসেছিল।কিন্তু ইফানের লাগামহীন নি*র্লজ্জ কথার ছুটে তক্ষুনি পালিয়েছে।

ডাইনিং টেবিলে ইফান আর জিতু ভাই দুই প্রান্তে বসে একে অপরের দিকে তাকিয়ে গিলে খাচ্ছে। তক্ষুনি আম্মু আর বড় আম্মু সব খাবার পরিবেশন করে।আজ তাদের আদরের মেয়ের জামাই আসায় খুশির শেষ নেই। তারা তো আর ইফানের আসল রুপ জানে না।তাই ইফানকে বাবা বাবা ডেকে আহ্লাদে আটখানা।

আজ বাড়ির দুই গৃহিণী মিলে চল্লিশ পদ রান্না করেছে।যদিও তাদের সাহায্য করেছে আব্বুর চাচাতো ভাই বউরা।উনারা এখনো আমাদের বাড়িতেই।আজ রাতে আমাদের এখানেই উনাদের খাওয়ানো হবে।সাথে বাড়ির জন্যও দিয়ে দিবে বড় আম্মু ।উনারা ভুলেও রান্নাঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না ইফানের ঠোঁট কাটা কথার ভয়ে।উনারা সেখানে সব রেডি করে আম্মু আর বড় আম্মুর হাতে এগিয়ে দিচ্ছেন। আর উনারা টেবিলে পরিবেশন করছে।

এদিকে বড় আম্মু প্রথমেই নতুন জামাইয়ের প্লেটে খাবার তুলে দিলো।কিন্তু নি*র্লজ্জ লোকটা নিজের প্লেটের থেকে খবার মুখে না তুলে বাটি ভর্তি তরকারি তে আঙ্গুল চুবিয়ে সেটা টেস্ট করছে।তার এমন কাজে আব্বু আর বড় আব্বু মাথা নিচু করে রেখেছে। জিতু ভাই রাগে কটমট করে ইফানের দিকে তাকিয়ে। ইফানের নজরে সেটা পড়তেই বললো,
–নেও শালাবাবু।আমার আঙ্গুল থেকে একটু চেকে দেখ ইয়াম্মি।

ইফান সবগুলো আইটেমেই আঙ্গুল চুবিয়ে টেস্ট করলো।অতঃপর আম্মু আর বড় আম্মুর দিকে তাকিয়ে বললো,
–এই নাহলে ইফান চৌধুরীর শাশুড়ী আম্মারা।সেই সেই রান্না করেছেন।আগে জানলে তো ঘর জামাই হয়ে চলে আসতাম।

ইফানের প্রশংসায় আম্মু আর বড় আম্মুর খুশি আর ধরে রাখে কে।বড় আম্মু ইফানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,
–কেন আসবা না বাবা।এখন থেকে সময় পেলেই চলে আসবা আমাদের মেয়েটাকে নিয়ে।

ইফান জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলে হাসি মুখে আমার দিকে তাকালো।আমি রেগে আগুন হয়ে ওর দিকে তখন থেকে তাকিয়ে আছি।আমাকে এভাবে খেপে থাকতে দেখে সকলের সামনে ঠোঁট গোল করে চুম্মা দেখালো।আমি আর দাঁড়ালাম না।গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে গেলাম।


সকলে ডিনার সেরে নিজেদের রুমে চলে গেছে।ইনান,আলাল আর দুলালকে একটা রুম দেওয়া হয়েছে। ইতি আসার পর জুইয়ের সাথে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে।এদিকে দুজনেই এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী।তাই ওদের দুজনকে এক রুম দেওয়া হয়েছে।আমি আমার রুমেই আছি সাথে নোহাও।এই মেয়েটা এক নাম্বারে বেহায়া।কতবার বললাম গেস্ট রুমে যেতে, না ও আমার সাথেই জোকের মতো লেগে থাকবে।এরপর আমার সাথে শুইয়ে ভাইয়ার প্রশংসা করতে করতে রাত বারোটার পর ঘুমিয়েছে।তারপর আমিও স্বস্তিতে চোখ বুজলাম।

ইফান অনেক বলার পড়েও আমার রুমে নিজের জায়গা করতে পারে নি।অবশেষে উপায়ন্তর না পেয়ে জিতু ভাইয়ার রুম দখল করেছে।জিতু ভাই আর ইফান হাইটে একই হলেও দেহের গঠনের দিক দিয়ে একটু কম বেশ আছে।জিতু ভাই ইফানের মতো বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী লোকের থেকেও কিছুটা স্বাস্থ্যবান।যদিও বয়সের দিক থেকে ইফান সিনিয়র।

রাত একটা বাজে বাজে।একই বেডে শুইয়ে আছে জিতু ভাইয়া আর ইফান।জিতু ভাইয়ের বেড অনেক বড় সাইজের হলেও দুই বলিষ্ঠবান লোককে জায়গা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। বলতে গেলে বেশি অর্ধেক বিছানায় ইফান দখল করে আছে।আর একটু পর পর এপাশ ওপাশ করছে।ইফানের এইসবের চক্করে জিতু ভাইয়ার ঘুম চাঙ্গে উঠছে।ইফান কিছুক্ষণ পরপর ভাইয়াকে এটা ওটা বলে খেপানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু আজ সে কিছুতেই ইফানের সাথে লাগবে না।তাই থুম মেরে ইফানকে পিছন পাশ করে শুইয়ে আছে।ইফান বউয়ের সাথে না ঘুমাতে পারার আক্ষেপ নিয়ে আজ আর ঘুম আসবে না তার।তাই ভাইয়াকেও ঘুমাতে দিবে না।ইফান নিজের এক পা জিতু ভাইয়ার উপর তুলে বলতে লাগলো,
–কিরে শালাবাবু,এখনো হাঙ্গা করছিস না কেন?নাকি টুনটুনি খাড়ায় না।

ইফানের এসব কথা শুনে ভাইয়ার শক্ত চোয়াল আরও শক্ত হয়ে আসলো।তবুও নিজের রাগ কন্ট্রোল করে থ মেরে শুয়ে রইলো।ভাইয়ার থেকে কোনো রিয়াকশন না আসায় ইফান আবার বলতে লাগলো,
–কিরে বেঠা তর নুনু কি আগের মতোই আমার কেনি আঙ্গুলের সাইজেই রয়ে গেলো নাকি।না একটু আধটু বাড়সে?

ইফান এসব বলে নিঃশব্দে হাসছে।যা ওর শরীরের কম্পনে জিতু ভাইয়া অনুভব করতে পারছে।রাগে জিতু ভাইয়ার মাথা ফেটে পড়ার উপক্রম।সে এক ঝটকা মেরে ইফানের পা টা নিজের শরীর থেকে সরিয়ে আগের মতো থ মেরে শুয়ে রইলো।ইফান কিছুটা অবাক হলো ওর রিয়াকশন না পেয়ে। তারপর চুপচাপ সেও শুয়ে রইলো।

বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও ইফানের সারা শব্দ না পেয়ে, ভাইয়া ভেবে নিলো ইফান ঘুমিয়ে পড়েছে।এদিকে এক সাইড হয়ে শুয়ে থকতে থাকতে উনার শরীরে ব্যথা চলে এসেছে।তাই আস্তে করে ইফানের দিকে ফিরে শুইয়ে পড়লো।তৎক্ষনাৎ ইফান ভাইয়ার দিকে পিঠ দিয়ে আরেক পাশে ঘুরে পড়লো।তারপর এক পাছা কিছুটা উঁচিয়ে ভাইয়ার মুখের কাছে ভট্টর ভট্টর করে তিনটা পাদ দিয়ে দিলো।ইফানের এমন কাজে তৎক্ষনাৎ লাফ মেরে উঠে বসলো জিতু ভাইয়া।ইফানের পাদের বিচ্ছিরি গন্ধ মূহুর্তেই সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়লো।ভাইয়ার দিকে গন্ধ পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য ইফান এক হাত দিয়ে নিজের পশ্চাতে বাতাস করতে লাগলো।

এদিকে গন্ধের ঠেলায় ভাইয়া দুই হাত নাকে চেপে ধরে বিছানা থেকে নামতে নামতে ইফানকে কয়েকটা অশ্লীল গালি দিয়ে দিলো,
–শালা বাস্টার্ড। পাদের গন্ধ তো নয় যেন পচা ডিম ফাটায়ছে।

আরও গা*লি দিতে দিতে সোফায় গিয়ে শুইয়ে পড়লো ভাইয়া।এদিকে ইফান ঠোঁট কামড়ে হাসছে জিতু ভাইয়াকে খেপাতে পেরে।


ঘড়ির কাটা রাত দুটোর ঘরে এসে থামলো।আমি আর নোহা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।দরজায় বেশ কয়েকবার করাঘাত হওয়ার পরও আমার কানে এসে পৌঁছায় নি।তারপর আগের থেকে আরও জোরে শব্দ হতেই ঘুম থেকে ধরফরিয়ে উঠলাম।তখন কানে আবার করাঘাতের শব্দ আসে।আমি বিরক্তি নিয়ে বললাম,

–কে,দাঁড়াও আসছি,,,,

তারপর ঘুমে ডলে পড়তে পড়তে অন্ধকার রুম হাতরে লাইটের সুইচ অন করলাম। অতঃপর শাড়ির আচলটা টেনে বুকের অংশ ভালো করে ঢেকে দরজা খুললাম।সামনে মাথা তুলে তাকাতেই দেখি ইফান পকেটে দু’হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে।শরীরে কোনো শার্ট বা গেঞ্জি নেই। আমি চোয়াল শক্ত করে বললাম,

–এটা আপনার বাড়ি না।একটু তো ল*জ্জা রাখেন।এভাবে রাতবিরেতে খালি গায়ে ঘুরছেন কেন?

ইফান আমার বুকের দিকে তাকিয়ে উত্তর করলো,
–খেলার সময় এমনিতেই খুলতে হতো।তাই আগেই খুলে রেখে এসেছি।

ইফানের এমন ভটভট কথা শুনে বিরক্তি আরও বাড়লো।মাঝ রাতে ঘুম ভাঙিয়ে এসব কি নাটক শুরু করলো?তখনই ইফান আবার বললো,

–বউ কতদিন ধরে তোমায় আদর করি না।চল একটা চিপায় গিয়ে কাজ সেরে ফেলি।

ইফানের একের পর এক আজাইরা কথা শুনে রাগে শরীর জ্বলছে। আমি রাগের ছুটে কয়েকটা গা*লিগালাজ করবো তখনই ইফানের প্যান্টের দিকে নজর আটকালো।আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম,
–এই লোক কি আবার প্যান্টে মুতে দিলো নাকি?

নিজের মনের চিন্তাধারা সাইডে রেখে জিজ্ঞেস করে বসলাম,

–আ আপনার প্যান্ট ভিজলো কিভাবে?

আমার কথা শুনে ইফান নিজের পেন্টের দিকে তাকালো।অতঃপর আগের ন্যায় প্যান্টের পকেটে হাত রেখেই দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। তারপর ভাবলেশহীন ভবে উত্তর করলো,

–বউহীনা হেলমেট ছাড়া রাইডিং করতে গিয়ে গাড়ি উল্টে খাদে পড়ে,তখনই মেশিনের সব তেল বেরিয়ে বড়সড় ড্রিম এক্সিডেন্ট ঘটে।

–কিহ্??

আমি ওর কথার আগামাথা বুঝতে না পেরে অবাক স্বরে বললাম।ইফান আমার সারা দেহ একবার স্কেন করে একটা ঢুক গিললো।অতঃপর পকেটের ভেতর থেকে এক হাত বের করে __ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,

–যৌ*বনে টান মারসিন_

চলবে,,,,,,,,,,,,,,

(আগামী পর্বে ওদের টুরুটুরু লুমান্স থাকলে কেমন হয়।যাই হোক অনেক বড় করে পর্ব দিয়েছি। এখন তোমরা রিয়েক্ট কমেন্ট কর।আর নেক্সট পার্ট নেক্সট পার্ট না লিখে গঠন মূলক মন্তব্য কর।তাহলে আমার পরবর্তী পর্ব লিখতে সুবিধা হয়।হ্যাপি রিডিং 🥳❤️‍🔥)

জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :৩৬
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

        🔞 সতর্কবার্তা:

এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

আমি অবাক নয়নে ইফানের দিকে তাকিয়ে আছি।ওর এহেন কথা শুনার পর কিছু বলার আর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।ইফান আমার অবাক দৃষ্টি দেখে কপাল কুঁচকালো।অতঃপর হাই তুলতে তুলতে বললো,

–এভাবে ডেবডেব করে দেখলেই খালি হবে নাকি,একটু তো খেয়েও দেখতে পার।

–মাঝ রাতে নিশ্চয়ই আমার হাতে জুতাপিটা খেতে ভালো লাগবে না?

আমি চোয়াল শক্ত করে বাক্যটা বললাম।ইফান সেসব কানে তুললো না।বরং আমার কোমর জড়িয়ে ধরে রুমের ভিতরে চলে আসলো।আমি দাঁত কটমট করে ওর হাতটা সরিয়ে দিলাম।

–মরার আগে একটু তো সভ্য হ।

আমার কথা শুনে ইফান এক ব্রু উঁচালো।অতঃপর আমার কানের কাছে এসে হাস্কি স্বরে বললো,

–কে মারবে, তুমি?

–কেন, আমি ছাড়া আরও কেও আছে নাকি?

ইফান ঠোঁট বাকালো।তারপর কৌতুক স্বরে বললো,
–কেউ নেই বলছ?

ওর কথা শুনে আমিও চোখ উল্টে হাসলাম__থাকলেও পরিশ্রম করতে হবে না।বিকোজ তোমার মৃত্যু আমার হাতেই লেখা।

–উফফ তাহলে তো একবার মরার টেস্ট করেই দেখতে হচ্ছে ।।।


বাইরে গুটগুটে অন্ধকার।পুরো কলোনি নিস্তব্ধতায় ছেয়ে আছে।বেশ কয়েক মূহুর্ত পেরিয়ে গেল।আমি আর ইফান নিঃশব্দে একে অপরের দিকে সরু চোখে তাকিয়ে আছি।আমাদের ভ্রম কাটে একটা অদ্ভুত শব্দে।সেই অনুযায়ী তাকাতেই চোখে পড়লো নোহা হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিছানায় পড়ে ঘুমাচ্ছে। আর উদ্ভট আওয়াজ করে নাক ডাকছে।আমি মুখ ফুলিয়ে জোরে একটা শ্বাস ফেললাম।

এদিকে নোহার নাক ডাকায় বেশ বিরক্ত হলো ইফান।তার চেয়েও বড় কথা এই মেয়ে আমার বেডে শুইয়ে আছে তা দেখে ইফানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে । ইফান দাঁত কটমট করে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

–এই বালডা তোমার বেডে কি করছে ঝাঁঝওয়ালি?

–কি করছে মানে?চোখে কি দেখতে পারছেন না ঘুমাচ্ছে।।

আমি বিরক্তি নিয়ে উত্তর দিলাম।ইফান আবার বললো,
–ঘুমাবে ভালো কথা,তাহলে তোমার বিছানায় ঘুমাচ্ছে কেন?আমি কি জানি না শালির ঘুমের মধ্যে হাত মারার স্বভাব আছে।।

ইফান নিজের কথা শেষ করেই নোহার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।আমিও ঝটপট ওর কাছে গেলাম।এদিকে ঘুমের মধ্যে নোহার মুখ থেকে লালা পড়ছে।ইফান নোহার মুখের উপর ঝুঁকতেই নাক ছিটকালো।অতঃপর কয়েকটা গা*লি দিবে তক্ষুনিই ঘুমের ঘোরে নোহা উঠে বসে দু’হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,,

❝ওয়াও কেয়া মেশিন হে!ইসে তো বহত মাজা আয়ে গা,,,,❞

বলেই আবার আগের ন্যায় শুয়ে পড়লো। এদিকে আচমকা ওকে এমন করতে দেখে ছিটকে গিয়ে ইফানের বাহু চেপে ধরেছি।নোহা আবার নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।ইফান আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
–এই শালি কি ঘুমানোর আগে গা*ঞ্জাটান্জা খাইছিন?

–কই না তো,,,,,

আমার উত্তর শুনে ইফান আবার নোহার উপর ঝুঁকলো,
–এ হাদি,ওঠ বলছি।তোর কারণে কি বউ নিয়ে ঘুমাবো না নাকি?

নোহার থেকে কোনো উত্তর আসলো না।সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।ইফান জানে একে ডাকলেও লাভ হবে না।তাই সে আচমকা এক হাতে নোহার পেটের দিকে ধরে বিছানা থেকে নামিয়ে, রুমের বাইরে হাঁটা ধরলো।আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

–এটা কি করছেন হ্যা,এভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ওকে?

আমার প্রশ্নের উত্তর দিলো না লোকটা।এদিকে ইফানের এক হাতে মরা লা*শের মতো ঝুলে আছে নোহা।তার কোন হুঁশ জ্ঞান নাই দিন দুনিয়ার, এমন ভাবেই গভীর ঘুৃমে ডুবে আছে।


ইফান রুমের বাইরে নোহাকে ফ্লোরে রেখে আবার ফিরে আসলো।আমি খেপা চোখে তাকিয়ে ওর কান্ড দেখছি।ও আমার সামনে দাঁড়াতেই দু হাত ঝেরে ফেললো।ওর ভাব দেখে মনে হচ্ছে কত নোংরাই না তার হাতে লেগে ছিলো।রুম থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে দরজার সামনে পড়ে থাকা নোহাকে।আমি ওর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইফানের দিকে তাকালাম,
–এটা কি হলো হ্যা?

–আবর্জনা বিদায় করলাম।

আমি পাল্টা কিছু বলবো তার আগেই রুমের দরজা ভেতর থেকে লক করে দিলো ইফান।অতঃপর রুমের লাইট অফ করে, আমাকে পাজাকোলে নিয়ে বেডে শুইয়ে পড়লো।আমি কিছু বলার আগেই আমার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো।আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে তাচ্ছিল্য করে বললাম,

–আর কদিন জোর করে আমার উপর অধিকার ফলাবে?

–যতদিন বেঁচে আছি।

ইফানের থেকে ছোট্ট করে প্রতিত্তোর আসলো।পরপরই আমার ঠোঁট আঁকড়ে ধরলো।

বেশ কিছুক্ষণ পর ঠোঁট ছেড়ে গলায় শব্দ করে চুম্বন এঁকে দিতে লাগলো।আমি মৃদু সরে আবার বললাম,

–আমাকে এত সহজ ভাবে নিয়ে ভুল করছ,,

–কে বললো তোমাকে সহজ ভাবে নিই?

ইফান মুখ তুলে আমার দিকে তাকালো।অন্ধকারে দু জড়ো দৃষ্টির মিলন ঘটলো।আমি শান্ত কন্ঠে উত্তর দিলাম,
–খুব তাড়াতাড়ি ধ্বংস হয়ে যাবে।

ইফান আমার কানের কাছে ঠোঁট ছুঁইয়ে হিসহিসিয়ে বললো,
–তুমি করলে সেটাতেও রাজি আছি।

আমি কঠিন গলায় ফের বললাম,
–আমি কিন্তু তোমার প্রতি সদয় নই।

–আই নো,,

ইফান ঠোঁট বাকিয়ে নিঃশব্দে হেসে সংক্ষিপ্ত উত্তর করলো।আমি আর কিছু বলার প্রয়োজন মনে করলাম না।তাই চোখ বন্ধ করে নিলাম।এদিকে লোকটা সেই তখন থেকেই আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ওর মুখ আমার উপরে থাকায় তপ্ত শ্বাস আমার মুখের উপর পড়ছে।আমি চোখ মুখ কুঁচকে নিলাম।ইফান প্যান্টের পকেট থেকে ফোনটা বের করে ফ্ল্যাশ অন করলো।তারপর বেড সাইডে রেখে আবার আমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখায় মনযোগ দিলো।আমার মুখের আসেপাশের চুল গুলোকে কানে গুঁজে দিলো।তারপর আমার বুক থেকে শাড়ির আঁচল টা সরিয়ে আরেক পাশে রেখে দিলো।আমি কিছু বললাম না বরং চোখ মুখ আরও শক্ত করে নিলাম।ইফান হালকা হাসলো বোধহয়। অতঃপর আমার উপর উঠে নিজের সব ভর ছেড়ে দিয়ে ব্লাউজের দুটো বোতাম খুলে মুখ ডুবালো।এতে আমার হাত দু’টো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেছে।

ইফান আমার দু’গাল নিজের দু’হাতের মধ্যে পুরে নিলো।অতঃপর আমার সারা মুখে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।কপাল থেকে শুরু করে সারা মুখে এলোপাতাড়ি চুমু খেলো।সময়ের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হলো।আমার কোনো রেসপন্স না পেয়ে কপাল কুঁচকালো।অতঃপর আমার গলার সবটা জোরে লাহন করতে করতে আচমকা আমার কলারবোনে কামড়ে ধরলো।তৎক্ষনাৎ আমি চোখ খোলে, দু’হাত দিয়ে ওর পিঠ খামচে ধরি।ইফান আমার হাত ছাড়ালো না।বরং আগের মতো দু’গাল নিজের দু’হাতের মধ্যে রেখে দৃষ্টি মেলালো।এদিকে চোখে মুখে ফোনের ফ্ল্যাশ পড়ায় আবারও চোখমুখ খিচকে নিলাম।ইফান আবার ঠোঁট বাঁকালো।আমি দাঁতে দাঁত পিষে বললাম,
–ফ্ল্যাশ ওয়ান করেছ কেন?

–তোমায় দেখতে,,,,

ইফানের নির্লিপ্ত উত্তর শুনে আবার চোখ খোললাম।ইফান পলকহীন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে মাদকীয় পুরুষালী কন্ঠে ডাকলো,
–বুলবুলি,,,

আমি উত্তর করলাম না।আমার দিক থেকে সারা না পেয়ে ইফান নিজেই বলতে লাগলো,
–একরাত আমার জন্য সাজবে?লাল শাড়ি তে নাই বা সাজলে, নীল শাড়ি তে সেজো।

আমার নিস্প্রভ চাওনি দেখে আমার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি স্বরে বললো,
–নীল শাড়িতে তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগে।লাইক পরী।

–তোমার জন্য আমি আর সাজ কখনোই না।আর নীল শাড়িতে তো না ই।

আমার কথা শেষ হতে না হতেই আমার ঠোঁটে দাঁত বসিয়ে দিলো।আরেক হাতে ব্রেস্টে জোরে চাপ প্রয়োগ করলো।আমি ইফানকে ছাড়ানোর জন্য ওর বাহুতে খামচে ধরলাম।এদিকে আমি তার জন্য সাজবো না বলায় তার নমনীয় সত্তা উবে গিয়ে কাঠিন্যে পরিণত হয়েছে।ইফান আমার ঠোঁট ছেড়ে,আমার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরলো,
–হারা*মজাদি, আমার জন্য সাজবি না তো কি তর লাঙ্গের জন্য সাজবি?

আমি ওর হাত সরানোর চেষ্টা করতে করতে বললাম,
–সাজবো, তাতে তোর কি?

আমার কথায় ওর হাতের জোর আরও বাড়লো।আমিও ওর মতো শক্ত করে ওর বাহু খামচে ধরলাম।ইফানের চোখ লাল বর্ণ ধারন করেছে। কিন্তু এইটুকু কথায় এত রাগার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।ইফান রাগে রিরি করতে করতে বললো,
— জ্যান্ত পু*তে ফেলবো।ভুলে যাস না আমি কে?সবসময় ছাড় দিই বলে যা খুশি তাই করবি এটা তো হবে না বুলবুলি। তোর জীবনে এই ইফান চৌধুরী ছাড়া আর যে আসবে তাকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিবো।

ইফানের শেষ কথাটা কান অব্ধি পৌঁছাতেই ধস্তাধস্তি করা বন্ধ করে শীতল চোখে তার দিকে তাকালাম। কিছুক্ষণ ওর অগ্নি চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ বন্ধ করে নিলাম।আবারও হারিয়ে গেলাম ফেলা আসা এক অন্ধকার অতীততে,,,,,,,,


আমি এক দৌড়ে স্যারের বাসায় এসে থামলাম।তন্নিরা এখনো বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।তার মানে স্যারের আগের ব্যাচ পড়ানো এখনো শেষ হয়নি। আমাকে দৌড়ে আসতে দেখে সকলে তাকালো।তন্নি দৌড়ে এসে ফিসফিস করে বললো,
–কি রে আনছস?

আমি হাঁপানির তোরে কথা বলার অবস্থায় নেই।এদিকে সুমাইয়া, নাফিয়া,আরিফ সহ আরও কয়েকজন ফ্রেন্ড এসে জিজ্ঞেস করলো,
–কিরে কোথা থেকে এভাবে ছুটে আসলি?

–একটু পানি দে?

সুমাইয়া তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে পানি বের করে দিলো।এদিকে নাফিয়া বলে উঠলো,
–এই জাহান তর কানে জবাফুল কোথা থেকে আসলো?

তক্ষুনি স্যারের আগের ব্যাচের ছেলেমেয়েরা বেড়িয়ে আসলো।ধাক্কা ধাক্কি করে তন্নি ছাড়া বাকি সবাই ভেতরে চলে গেলো, আগের বেঞ্চে জায়গা দখল করার জন্য। তন্নি রেগে গদগদ করতে করতে বললো,
–ঢংডা কন তে আইছস?ফুল ব্যাগে করে আনলে কি হইছিন,এখন তো চুঁচিটি দেখে ফেলসে।তুই যা মন চায় তাই কর আগে আমারটা আমারে বুঝায়া দে।

আমি বোতল থেকে পানি নিয়ে মুখে ছিটিয়ে দিলাম।তারপর বললাম,
–তুই ফুল নিয়ে পড়ে আছস।আর এদিকে আজ আমাকে কিডন্যাপার ধরে নিয়ে চলে যেতো। কত কষ্টে পালিয়ে এসেছি জানিস?

আমার কথা শুনে তন্নির চোখ বড়বড় হয়ে গেছে। সে একটা ঢুক গিলে বললো,
–আয়হায় কি কস তুই? কয়ডা কিডন্যাপার তরে ধরছিন?পালায়ছস কেমনে?

তন্নিকে সব ঘটনা খুলে বলি।আমার কথা শুনে সেও অনেক ভয় পেয়ে গেছে। তারপর তন্নি বললো,
–বোইন এইতা কথা কেও রে আর বলিস না।তাহলে তর বদনাম হয়ে যাবে।

আমিও তন্নির কথা ঠিক মনে করলাম।তাই আর কাউকে কিছু বলি নি।প্রাইভেট শেষে আমার সব ফ্রেন্ডদের বলেছি সাবধানে থাকতে।আমরা বাড়ির উদ্দেশ্য আসার পথে দেখতে পেলাম আজ নদীর পাড়ে অনেক কাশফুল ফুটেছে।সেই সাদ সকল থেকে নিব্বা নিব্বিরা ভিড় জমিয়েছে। আরিফ সেদিকে তাকিয়ে বললো,
–দেখ দেখ হাঁটু সমান পোলাপানও লাং নিয়ে চলে এসেছে।আহাহা এমন করে ডলাডলি করতাসে মনে হইতাছে জামাই লয়া আইছে।করো বোইন ডলাডলি, যেদিন মধু খেয়ে চলে যাবে সেদিন বুঝবে।

আরিফের মুখ বাঁকানো কথা শুনে আমরা হো হো করে হেসে দিলাম।অতঃপর হাসিঠাট্টা করতে করতে নিজেদের বাড়ি উদ্দেশ্য চলে গেলাম।


বিকাল তিনটা বাজে।আজ সারাদিন বাসায় ছিলো না জায়ান ভাই। আম্মু বলেছে অফিসে আছে।একেবারে রাতে আসবে।আমি সকাল থেকে বাড়ির এখানে ওখানে টইটই করে ঘুরে বাড়াচ্ছি।এদিকে জুই,জিয়াদ আর কবিতা আপুও স্কুল-কলেজে আছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা ফিরে আসবে।এদিকে ওরা ছাড়া আমার সবকিছুই বোরিং লাগছে।তাই ড্রয়িং রুমেই অপেক্ষা করতে করতে সোফায় ঘুমিয়ে পড়েছি।

এক ঘন্টা পর জিয়াদ আর জুই বাইরের গরমের তোরে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলো।জুই আর জিয়াদ একই স্কুলে পড়ে।তাই ওরা এক সাথেই আসা যাওয়া করে।জুইয়ের ব্যাগ জিয়াদের কাছে।এদিকে জিয়াদ ক্লান্ত দেহে দুটো ব্যাগ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে। এরিমধ্য ওদের দুই দিকে ঠেলা মেরে দৌড়ে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ল কবিতা আপু।তার চেহারায় খুশির ঝলক।এসেই নিজের ব্যাগটা ছুড়ে ফেলে দিলো।আমাকে সোফায় ঘুমাতে দেখে এদিকে ছুটে এসে চেচিয়ে ঝাপটে ধরলো।আমি তখন ভয়ংকর স্বপ্ন দেখছি।তাই ধরফরিয়ে উঠে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলাম,
–আমাকে কিডন্যাপ করো না, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও।কেউ আমাকে বাঁচাও,,,,,,

আমায় এমন করতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো কবিতা আপু। এদিকে আম্মু আর বড় আম্মু আমার চিৎকার শুনে দৌড়ে এসেছে।আম্মু আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো,
–না আমার সোনা কিচ্ছু হবে না।এই তো আমি আছি,তোমার বড় আম্মু আছে দেখ।

এদিকে বড় আম্মু আচ্ছা মতো ঝাড়ছে কবিতা আপুকে।কবিতা আপু কাদু কাদু কন্ঠে বললো,
–আমি তো বুঝতে পারি নি আম্মু।

–কি বুঝতে পার নি হুম।এভাবে কি কেউ ঘুম থেকে জাগায়।এত বড় হয়েছ এখনো কিছুই বুঝ না?

–আর বকবেন না আপা।মেয়েটা বুঝতে পারে নি।যাও কবিতা রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আস।

কবিতা আপু, জিয়াদ আর জুই নিজেদের রুমে চলে গেলো।এদিকে আমি ভয়ে গুটিসুটি মেরে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বসে আছি।


আমি চোখমুখ ধুয়ে কবিতা আপুর রুমে দৌড়ে আসলাম।আমার পিছন পিছন জুই আর জিয়াদও আসলো।এদিকে কবিতা আপু রুমে এসে ফ্রেশ না হয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে ফোনে কি যেন দেখছে।আমাদের কন্ঠ শুনেই তাড়াতাড়ি লুকিয়ে ফেললো।আমি চোখ সরু করে বললাম,
–কি লুকিয়ে ফেললে হুম?

–কই কিছু না।

বলেই আমাকে চোখ টিপে ইশারা করলে পরে বলবে, জুই আর জিয়াদ চলে গেলে।এদিকে দুই চালাক ইশারা দেখে ফেলেছে।জুই বিছানায় উঠে কবিতা আপুকে টানাটানি শুরু করেছে,
–আমিও দেখেছি কিছু একটা লুকিয়েছ বল, বল বলছি কি লুকিয়েছ।

এদিকে জিয়াদও চেপে ধরেছে।জুই কবিতা আপুর পিঠে কাতুকুতু দিতে লাগলো।কবিতা আপু হেসে গড়াগড়ি খেতে খেতে আমাকে বলছে,
–জান্নুরে এদের সরা,,,

বলেই হাসতে লাগলো।আমি কি আর ওদের সাথে পারি?তাই টেনেটুনেও ওদেরকে সরাতে পারলাম না।এক পর্যায়ে ওদের সাথে না পেরে বললো,
–ছাড় আমাকে ছাড় বলছি।

ওরা ছাড়লো।কবিতা আপু নিজেকে একটু শান্ত করে বললো,
–পেয়ে গেছি,,,,,

আমরা ওর কথা কিছু বুঝলাম না।জুই কোমরে হাত রেখে বললো,
–তাড়াতাড়ি বল কি পেয়েছ?

পাঁচ মিনিট পেরিয়ে গেলেও কিছু বললো না।খালি মিটি মিটি হাসছে।আমি জুই আর জিয়াদ চোখাচোখি করলাম।জিয়াদ আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,
–ও জাহানপু বড় আপুকে জ্বিনে ধরলো না তো?

–আমিও তাই ভাবছি।

এদিকে জুই আবার কাতুকুতু দিতে গেলেই কবিতা আপু চেচিয়ে উঠলো,
–ইসস তোরা কি শুরু করেছিস?

আমি বললাম__কি শুরু করেছি মানে?তুমি আমাদের বলছ না কেন কি পেয়েছ?

–ইসস আমার লজ্জা লাগছে।

জিয়াদ বিরক্তি নিয়ে বললো,”লজ্জার মাথা খেয়ে এবার বলেই ফেল সোনা।”

কবিতা আপু গলা খাঁকারি দিয়ে আবার লাজুক হাসলো।তারপর মিনমিন করে বললো,
–আমার স্বপ্নের পুরুষকে পেয়ে গেছি।

–কিইই,,,,,,

অবাক হয়ে আমরা তিনজনই চেচিয়ে উঠলাম।কবিতা আপু আবারও লাজুক হাসলো।আমরা দৌড়ে ওকে ঘিরে বসে পড়েছি।আমি খুশিতে গদগদ করতে করতে বললাম,
–দুলাভাইয়ের নাম কি?

আরেক পাশ থেকে জিয়াদ বললো,
–বাড়ি কোথায়?

জুই বললো,”করে কি?”

আমাদের এমন প্রশ্নে মুখ ভার করে বললো,”ধুর যা, এসব কি প্রশ্ন করছিস?আমি তো আজই উনাকে দেখেছি রাস্তায়। আমি যখন কলেজ থেকে বাসায় ফিরছিলাম তখন রাস্তায় আমাদের গাড়িটা ট্রাফিক জ্যামে আটকে যায়।তখন গাড়ির গ্লাস খুলতেই আমাদের গাড়ির পাশে আরেকটা গাড়িতে লোকটাকে দেখি।লোকটার কি সুন্দর সিল্কি ঘন কালো চুল।এক হাত দিয়ে সেগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছিল।আর তার এক কানে ইয়ার রিং পড়া।লোকটার পড়নে একটা সাদা শার্ট ছিলো।আল্লাহ কি হ্যান্ডসাম যে লাগছিলো না কি বলবো।তার চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় লাগছিল যখন সিগারেটে টান দিয়ে আকাশের দিকে ধোঁয়া ছাড়লো।ইসসস রে জান্নু আমি তো পুরাই ফিদা হয়ে গেয়েছিলাম।”

আমরা হা করে কবিতা আপুর কথা শুনছি।আমি জিগ্যেস করলাম,
–পরে পরে কথা হয়েছে তোমার সাথে?

কবিতা আপু মন খারাপ করে বললো__না রে কথা হয় নি।কিছুক্ষণের মধ্যেই কালো পোষাকে একটা লোক এসে বললো,”বস খবর নিয়ে এসেছি এই এরিয়াতেই আছে।”লোকটার কথা শেষ হতেই গাড়িটা রকেটের গতিতে চলে গেলো।আর আমার মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো।

কবিতা আপুর কথায় জিয়াদ জোরে শ্বাস ফেলে দুঃখী দুঃখী কন্ঠে বললো,”আর তোমার কথা শুনিয়া হামরাও দুক্ষু পেলাম।”

সাথে সাথে ওর পিঠে ঠাস করে থাপ্পড় মারলো কবিতা আপু।আমি আর জুই হে হে করে হেসে দিলাম।কবিতা আপু বালিশের নিচ থেকে লুকিয়ে রাখা ফোনটা বের করে।ফোনের স্কিনে একটা লোকের পিছন সাইট দেখা যাচ্ছে। কবিতা আপু তখন লুকিয়ে এই ছবিটা তুলেছিলো। সে ফোনের স্কিনে হাত বুলিয়ে ছবিটা দেখছে।আমরাও সেদিকে উঁকি মেরে ছবিটাকে দেখলাম।এদিকে কবিতা আপু বিরবির করে বলছে,
–আমি আপনাকে যে করেই হোক খুঁজে বের করবো।আমি জানি আল্লাহ আপনাকে আমার জন্যই পাঠিয়েছে।

আমরা এক সাথে বলে উঠলাম,”কিন্তু অপরিচিত লোকটাকে কি ভাবে খুজে বের করবে?”

কবিতা আপু হতাশা নিয়ে ধপ করে বিছানায় শুইয়ে পড়লো।অতঃপর হতাশা নিয়েই বললো,”জানি না রে জান্নু।তবে এই প্রথম, প্রথম দেখায় কাউকে ভালোবেসেছি। আর আমি এই লোকটাকেই চাই। যে কোনো মূল্যে যেকোনো ভাবে।


ঘড়ির কাটা রাত দশটার ঘরে।আজ পাঁচ দিন পর ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে জিতু ভাই।আব্বু আর বড় আব্বু সন্ধ্যা বেলাতেই বাড়িতে চলে এসেছে।এখন আমরা অপেক্ষা করছি কখন জায়ান ভাই আসবে।উনি আসলেই আমরা এক সাথে ডিনার করবো।যদিও আমরা চার পেটুক সন্ধ্যা বেলায় পেটপুরে ভাত খেয়ে নিয়েছি চিংড়ি মাছের তরকারি আর খাশির মাংস দিয়ে। তবু্ও আবার খিদে পেয়ে গেছে।জুই তো সেই কখন থেকে খিদের ছুটে পেট ধরে বসে আছে।এদিকে আমাদের কখন বলা হয়েছে আবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে।কিন্তু আমি জায়ান ভাই ছাড়া কিছুতেই খাবো না।এদিকে আমি খাবো না বলে ওরাও আমার জন্য বসে আছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সদর দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো।কেউ কিছু বলার আগে আমি এক দৌড়ে দরজা খুলে দিলাম।জায়ান ভাই ফোনে কথা বলছে।একহাতে একটা শপিং ব্যাগ।উনার সাদা শার্ট ঘেমে শরীরের সাথে মিশে গেছে। আমি উনাকে দেখতে ব্যাস্ত তখনই ফোন কল শেষ করে সামনে তাকাতেই থমকে গেলেন।আমার পড়নে একটা লেডিস গেঞ্জি আর হাঁটু সমান প্লাজু।কোমর অব্দি পড়া চুলগুলো আমার সৌন্দর্য যেন আরও বাড়িয়ে তুলছে।উনার এমন চাউনি দেখে আমি লজ্জা পেলাম।তাই গুটিসুটি মেরে এক কোণায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম।কয়েক মূহুর্ত পরেও উনার গলা শুনতে না পেয়ে সামনে তাকালাম, “ওমা উনি কোথায়?” ঝটপট পিছনে তাকাতেই দেখি উনি সিড়ি বেয়ে উপরে উঠছেন।পিছন থেকে বড় আব্বু ডেকে বললো,
–আব্বা ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি চলে এসো।সবাই ওয়েট করছে ডিনার করতে।

উনি যেতে যেতে শীতল কন্ঠে উত্তর করলো__আমি খাবো না তোমরা খেয়ে নাও।

আমি মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছি।কবিতা আপুর দিকে তাকাতেই দেখি জুই আর জিয়াদ আমাকে দেখে বুড়ো আঙ্গুল উল্টো করে দেখালো।আমার ভীষণ কান্না পাচ্ছে। উনি কেন সবসময় আমার সাথে এত দূরত্ব বজায় রাখে।আমার চোখ টলমল করছে। কবিতা আপু চোখের ইশারায় শান্তনা দিলো সব ঠিক হয়ে যাবে।আমাকে এখনো দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ভাইয়া ডাক দিলো,
–জাহান খেতে আয়।

আমি মাথা নিচু করে ডাইনিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বড় আব্বু আমার হাতে ধরে চেয়ারে বসিয়ে দিলো।তারপর আদুরে কন্ঠে বললো,
–কি হয়েছে আামর সোনা মা’র?

–কিছু হয়নি তো বড় আব্বু?

আমি আহ্লাদি কন্ঠে উত্তর দিলাম।আম্মু আর বড় আম্মু সবার প্লেটে খাবার তুলে দিয়েছে।জিতু ভাইয়া উনার প্লেট থেকে একটা গলদা চিংড়ি আমার পাতে তুলে দিলো।অন্যদিন হলে আমি জুই কে জিয়াদ কে দেখিয়ে দেখিয়ে খেতাম।কিন্তু আজ আমি একবারও তাকিয়েও দেখালম না।এদিকে জুই কবিতা আপু আর জিয়াদ আমার প্লেটে ডেবডেব করে তাকিয়ে আছে।এটা দেখে আব্বু, বড় আব্বু আর জিতু ভাইয়া ওদের পাতেও দিলো।এবার খুশিতে খাওয়া শুরু করেছে।আমি এখনো প্লেটে আঁকিঝুকি করছি।আম্মু বললো,
–কি হয়েছে আম্মা?খেতে ভালো লাগছে না?

–জায়ান ভাই খাবে না?

আমার এই উত্তর আশা করেনি কেউ। জিতু ভাইয়া খাওয়া রেখে আমার দিকে একবার তাকালো।অতঃপর আবার খাওয়ায় মনযোগ দিলো।বড় আব্বু বললো,
–নিরব তো এখন খাবে না বললো।তুমি খেয়ে নাও আম্মু।

এদিকে পাশের চেয়ারে বসা জুই আমায় কানাকানি করে বললো,”তর ঢং দেখে বাঁচি না বাপু।”

আমি কড়া চোখে ওর দিকে তাকাতেই ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে খাওয়ায় মনযোগ দিলো।এদিকে আমার মনযোগ ক্ষুন্ন হয় জিতু ভাইয়ার কন্ঠ স্বর শুনে,
–জাহান তুই গিয়ে একবার জিগ্যেস করে আয় তো ভাইয়া খাবে কি না?

আমি অবাক চোখে জিতু ভাইয়ার দিকে তাকাতেই তিনি ইশারায় বললেন যেতে। আর আমাকে ধরে রাখে কে?আমি দৌড়ে যাওয়া ধরলাম।জিতু ভাইয়া ঠোঁট কামড়ে হাসলেন। পিছন থেক আম্মু আর আব্বু চেচিয়ে বলছে,
–জাহান ধীরে ধীরে যাও পড়ে যাবে।


আমি এক দৌড়ে জায়ান ভাইয়ের রুমের সামনে এসে দাঁড়ালাম।তারপর দরজা খোলে একবার উঁকি দিলাম।তখনই ওয়াশরুম থেকে সাওয়ারের শব্দ কানে আসলো।বুঝলাম উনি এখনো ওয়াশরুমে আছেন।আমি এবার বুক টানটান করে রুমে ঢুকে পড়লাম।কত সুন্দর করে গুছানো উনার রুম।সচারাচর উনার রুমে কেউ আসে না।আর তিনি এত মানুষ পছন্দও করেন না।নীরব নামের সাথে সত্যিই উনাকে মানিয়েছে।হঠাৎ করেই চোখ আটকালো বিছানায় থাকা শপিং ব্যাগটায়।একটু আগেই এটা নিয়ে এসেছেন।আমার কৌতূহল হলো ভিতরে কি আছে দেখার জন্য। তাই একবার ওয়াশরুমের দরজায় উঁকি মেরে দেখে নিলাম।অতঃপর ঝটপট করে শপিং ব্যাগের ভেতর তাকাতেই চমকে গেলাম।ভেতরে একটা নীলের মধ্যে সাদা শাড়ি দেখতে পেলাম।আমি শাড়িটি বের করে দেখতে লাগলাম।দেখে তো মনে হচ্ছে অনেক দামি হবে।তার চেয়েও বড় কথা, শাড়িটা অসম্ভব সুন্দর।হঠাৎই মনে প্রশ্ন আসলো,
–উনি শাড়ি কার জন্য আনলেন?আচ্ছা উনার কি গফ আছে।উনি কি অন্য কাউকে ভালোবাসে?

তক্ষুনি মাথা থেকে এসব ঝেরে ফেলে দিলাম।না জায়ান ভাই আমি ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসতে পারে না।আমি আর কিছু না ভেবে শাড়িটা কাঁধে রেখে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। ইশশশ কত প্রিটি লাগছে আমাকে।যদি এই শাড়িটা আামর হতো?ভাবতে ভাবতেই ভাজ খুলে শরীরে পেচিয়ে নিলাম।তারপর আচল নাড়িয়ে নাড়িয়ে আয়নাত দেখতে লাগলাম।আমার ঠোঁটের কোণে জড়ো হয়েছে এক ঝাঁক প্রাণবন্ত হাসির রেখা।আমি ঘুরতে যাবো তক্ষুনি নজর পড়লো ওয়াশরুমের দরজার দিকে।জায়ান ভাই বুকে হাত ভাজ করে, পা ক্রস করে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। উনার নিস্প্রভ দৃষ্টি আমাতেই নিবদ্ধ। পড়নে একটা কালো রঙের টাউজার প্যান্ট।জীম করা দেহে সদ্যস্নান করা পানি কণা চিকচিক করছে।গলায় একটা টাউয়াল ঝুলে আছে।

আচমকা উনাকে দেখে থতমত খেয়ে ওখানেই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে গেলাম।উনি টাওয়াল টা রেখে আমার সামনে এসে দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালেন।আমাকে উপর নিচ একবার দেখে,শীতল কন্ঠে বললো,
–কি চাই?

–আ আমি কিছু করি নি তো।

আমার এমন উত্তরে উনার কপালে কয়েকটা ভাজ পড়লো।আমি তাড়হুড়ো করে শাড়ি খোলতে গিয়ে পায়ে পা বেজে উনার ন*গ্ন বুকে গিয়ে পড়লাম।ফলে আমার ঠোঁট দু’টো উনার বুকে লেগে যায়।মূহুর্তেই আমার শরীর কেঁপে উঠলো।আমি বুঝতে পারছি না এই পরিস্থিতি কিভাবে সামলাবো।তাই সোজা হয়ে দাঁড়াতে উনাকে ধরলাম।জায়ান ভাই তৎক্ষনাৎ আমার হাত দু’টো ধরে নিলো।অতঃপর আমাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বললো,
–কাল রেডি থাকবি,,

–কে কেন?

–তোকে ডাক্তার দেখাবো।এভাবে বারবার পড়ে যাওয়া তো ভালো লক্ষ্মণ না। নিশ্চয়ই শরীরে ভিটামিনের অভাব আছে।

উনার এমন কথা শুনে অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে উনার দিকে চেয়ে রইলাম।আমি সেভাবেই বললাম,
–আ আমি তো সুস্থ আছি।

–সে তো দেখতেই পাচ্ছি।

জায়ান ভাই নিজের কথা শেষ করে গেঞ্জি পড়তে চলে গেল।আমি পিছন থেকে বললাম,
–আপনার তো বউ নেই। তাহলে এই শাড়িটা কার জন্য?

উনি আমার দিকে তাকালেন।আমি মাথা নিচু করে আবার বললাম,
–না মানে এমনি,,,,,

–তোর জন্য।

আমি বাক্য সম্পূর্ণ করার আগেই ওপাশ থেকে উনার উত্তর ভেসে আসলো।আমি তাকাতেই উনি আবার বললেন,
–পছন্দ হয়েছে তোর?

আমার খুশি আর ধরে রাখে কে।আমি দুনিয়া ভুলানো হাসি দিয়ে জোরে জোরে মাথা নাড়িয়ে বললাম,
–খুব খুব সুন্দর হয়েছে। আমার খুব পছ,,,,

–এবার রুম থেকে বেড়িয়ে যা।

আবারও আমাকে মাঝ পথে থামিয়ে দিলো।উনার কথা শুনে আমার হাসি মুখ চুপসে গেছে।আমাকে কেউ ধমক দিয়ে কথা বললে কান্না চলে আসে।সেখানে তো জায়ান ভাই। আমি কান্না গিলে বললাম,
–খেতে যাবেন না?

–বলে এসেছি তো খাবো না।

–আমিও খাইনি।

আচমকা উনি আমার দিকে ফিরলেন। আমি একটা ঢুক গিলে নাক টেনে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে লাগলাম।তক্ষুনি জায়ান ভাই আমার হাত টান মেরে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো।আচমকা উনার এমন কাজে ভয় পেয়ে গেলাম।উনি চোয়াল শক্ত করে বললেন,
–এত পুড়াস কেন আমায়?

আমি কিছু বুঝলাম না।উনিই আবার বললো,
–তোর নাম্বার কি এখনো আগের টাই আছে?

জায়ান ভাইয়ের এমন কথা শুনে লজ্জায় কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমি মাথা নিচু করে মিনমিন করে বললাম,
–জি না, এখন ইয়েগুলো একটু বড় হয়ে ৩৬ হয়েছে।

আমার উত্তর শুনে জায়ান ভাই বোকা বনে গেল।উনি অবাক সরে বললেন,
–আমি তর ইয়ের নাম্বার না ফোন নাম্বারের কথা বলছি।

উনার কথা শুনেই আমার বুক ধুকপুক করতে লাগলো।ছি ছি ছি এটা আমি কি বলে ফেললাম।মূলত সকালে আমাকে অনেক বার কল করেছে কিন্তু পায়নি।পাবেই বা কিভাবে? আমি তো এমবির নতুন অফারের জন্য ঐ সিম রেখে নতুন আরেকটা নিয়েছি।

আমার ল*জ্জা মিশ্রিত চেহারা দেখে জায়ান ভাই ঠোঁট চেপে মৃদু হাসলো।তারপর বললো,
–তুই নিচে যা আমি আসছি।

আমি আস্তে আস্তে চলে যেতে গিয়েও আবার পিছনে ফিরে গলার সর নিচু করে ডাকলাম,
–জায়ান ভাই,,,

–বল।

–আমাদের নদীর পাড়ে কাশফুল ফুটেছে,,,,,

বাকিটা বলার আগেই উনি বললেন,
–সকালে রেডি থকিস।

আমি আবারও অবাক হয়ে গেলাম।কিছু বলার আগেই উনি রাজি হয়ে গেলেন?আমি মাথা নাড়িয়ে খুশিতে নাচতে নাচতে রুম থেকে বেরিয়ে গোলম।এদিকে আমার যাওার দিকে চেয়ে মুচকি হাসলো লোকটা।


কাশ বনের কাছে এসে গাড়িটা থামলো।জায়ান ভাই গাড়ি থেকে নেমে আমার দিকের দরজাটা খুলে দিলো।তারপর উনার হাত ধরে নেমে আসলাম।আমি নামতেই উনি আমার শাড়ির কুঁচিগুলো ঠিক করে দিলো।আজ আমি উনার দেওয়া নীল শাড়িটা পড়েছি।কবিতা আপু পড়িয়ে দিয়েছে।আমার লম্বা ঘন চুলগুলো দক্ষিণা হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। জায়ান ভাই আজ যে কতবার আমার দিকে তাকিয়েছে বলার বাহিরে। উনার চোখে আজ অন্যকিছু দেখেছি। উনার মুগ্ধ চাউনি আমার নারী স্বত্তাকে নাড়িয়ে দিয়েছে বারংবার। আমার তলপেটের প্রজাপতি গুলো যেন আজ মন খুলে উড়ছে।

আমি আসেপাশে তাকিয়ে দেখলাম। একটা কাকপক্ষীরও উপস্থিতি চোখে পড়ছে না।অন্যদিন হলে ভোরেই মানুষের আনাগোনা দেখা যেতো।আমার ভাবনার মাঝে জায়ান ভাইয়ার কন্ঠ কানে আসলো,
–কি হলো আয়।

আমি উনার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম,
–জায়ান ভাই আজ এখানে কোনো মানুষ দেখতে পারছি না কেন?

উনি আমার হাতে ধরে কাশফুলের কাছে নিয়ে যেতে যেতে বললো,
–চব্বিশ ঘন্টার জন্য এই এরিয়াতে রেস্ট্রিকশন দিয়ে দিয়েছি।

–কেনো?

আমি অবাক হয়ে বলালম।উনি ঠোঁট বাঁকালেন।অতঃপর চোখের সানগ্লাস টা খুলে বললো,,,
–কারণ আমার সাথে তুই আছিস।আর তোকে নিয়ে কোনো রিস্কই আমি নিতে চাই না।


আমি কাশফুল হাতে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোজ নিচ্ছি। আর জায়ান ভাই উনার ফোন দিয়ে একটার পর একটা ছবি তুলছেন।আমি দৌড়ে উনার কাছে গিয়ে হাত ধরে বললাম,
–চলুন আমরা এক সাথে ছবি তুলি।

আমি এক প্রকার বাইনা ধরলাম।উনি দূর থেকে প্রটেকশন দেওয়া একটা গার্ড কে কল করে আনলো।লোকটা আমাদের একটার পর একটা ছবি তুলে দিচ্ছে।কিছুক্ষণ পরেই জায়ান ভাইয়ের ফোনে একটা কল আসে।তিনি কানে ব্লুটুথ লাগিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে কথা বলতে লাগলো।আবার একটু পরপর আমার দিকে তাকিয়ে দেখছে আমি কি করি।আমি ফুল ছিড়ে ফু দিয়ে আকাশের দিকে উড়িয়ে দিচ্ছি। আমার খিলখিল হাসির শব্দে প্রকৃতি যেন আরও উচ্ছ্বসিত হচ্ছে।

এদিকে এখান থেকে কিছুটা দূরে একটা নতুন কারখানা তৈরি হয়েছে।সেই বিল্ডিং এর ছাঁদ থেকে জায়ান ভাইয়ের উপর স্নাইপার রাইফেল তাক করলো কেউ। রেড বিন্দুর ফোকাসে জায়ান ভাই। লোকটা জায়ান ভাইয়ের বুকে টার্গেট করে ট্রিগার চাপতে যাবে তক্ষুনি আমি আচমকা সেখানে চলে আসলাম।অতঃপর কাশফুল উনার মুখের সামনে ধরে ফু দিলাম।আমি খিলখিল করে হেসে দৌড়াতে নিলেই হোটচ খেলাম।তবে পড়ে যাওয়ার আগেই জায়ান ভাই ধরে উনার বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।

অন্যদিকে স্নাইপার রাইফেলের ট্রিগার ধরে বসে থাকা ব্যক্তি অপলক ভাবে আমার খিলখিল করা হাসি মুখ দেখছিলো।কিন্তু জায়ান ভাইয়ের এতটা কাছে আমাকে দেখেই লোকটার মস্তিষ্কে আগুন ধরে গেলো।অনূভুতিহীন চোখ দুটো রাগে রক্ত বর্ণ ধারন করলো।তক্ষুনি লোকটার ফোকাস বিন্দু গিয়ে পড়ে আমাদের পেছনে কিছুটা দূরে নদীর উপর ভাসমান একটি স্টিমারে।সেখান থেকে একটা লোক স্নাইপার রাইফেল তাক করে রেখেছে আমাদের দিকে।লোকটা জায়ান ভাইয়ের বুকে ট্রিগার চাপবে তখনই ছাঁদে বসে থাকা লোকটি স্নাইপার রাইফেলের ট্রিগার চাপলো।তৎক্ষণাৎ স্টিমার থেকে লুটিয়ে পানিতে পড়লো লোকটা।ছাঁদে বসা লোকটা ঠোঁট বাঁকিয়ে ক্রুর হাসলো।

এদিকে জায়ান ভাইয়ের কালো পোশাকধারী দুটো গার্ড ছুটে আসলো।ভাইয়াকে কিছু একটা বলতেই তিনি আরও কয়েকটা গার্ডের সাথে আমাকে জোড় করে গাড়ি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলো।আমি জায়ান ভাইকে ছাড়া যেতে চাইনি কিন্তু উনি আমাকে ধমকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

আমি চলে যেতেই উনি ব্লেজারের আড়ালে__প্যান্টে গুঁজে রাখা রিভলবার বের করলো।আসেপাশে তাকাতেই আচমকা চোখ পড়লো দূরের সেই কারখানার বিল্ডিংটার ছাঁদে। মূহুর্তেই জায়ান ভাইয়ের সাথে চোখাচোখি হলো আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত টেরোরিস্ট গ্যাং ব্ল্যাক ভে-নম এর লিডার ইফান চৌধুরীর সাথে। ইফান ক্রুর হেসে দুই আঙ্গুল নিজের মাথায় বন্দুকের মতো তাক করে সরিয়ে নিলো।জায়ান ভাইও ক্রুর হাসলো।অতঃপর তিনি গার্ডদের নিয়ে এই এরিয়া থেকে বেড়িয়ে গেলেন।

অপর দিকে স্টিমার থেকে এখোনো একজোড়া চোখ টেলিস্কোপ দিয়ে ইফান আর জায়ান ভাইকে দেখে ঠোঁট বাকালো।


জায়ান ভাইয়ের প্রস্থানের দিকে এখনো তাকিয়ে আছে ইফান।তখনই পিছন থেকে ইফানের বাম হাত ইনান বলে উঠলো ,
–ভাই আপনি এটা কাকে গুলি করলেন একটু আগে?

ইনানের ডাকে ধ্যান ভাঙলো ইফানের। সে ব্রু নাচিয়ে বললো,
–শালার তো পিরিতের লোকের অভাব নেই।আগে বল ঐ সুন্দরীর খোঁজ নিয়েছিস?

–জি ভাই, শেখ বাড়ির দ্বিতীয় কর্তা মজিদ শেখের বড় মেয়ে জাহানারা শেখ জারা।অরুপে জায়ান শেখের কাজিন।এবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে।

ইনান আমার পুরো বায়ো ডাটা ইফানকে বললো।ইফান কাশবনের সেই দিকে তাকালো যেখানে কিছুক্ষণ আগে আমি খিলখিল করে হাসিতে মেতে ছিলাম।সেই স্থানে এক ধ্যানে তাকিয়ে বিরবির করলো,

❝বুলবুলি,বুলবুলি, বুলবুলি।তোমাকে তো আমার চাই।যে কোনো মূল্যে চাই, চাইই চাই__❞


ইফানের দু’হাত আমার সারা দেহে রাজত্ব করছে।ওর হাতের স্পর্শ যতটুকু বেসামাল,ওর ওষ্ঠগুলোও তেমন রুপ নিয়েছে।ইফান আমার চেস্ট থেকে শুরু করে গলা, নাভি জিহ্বা দিয়ে লাহন করছে।ফলে উক্ত অংশগুলো সেঁতসেঁতে হয়ে গেছে।এতে আমার কোনো হেলদোল নেই। আমি তো গভীর কল্পনায় বিভোর। এদিকে ইফান আমার থেকে রেসপন্স না পেয়ে বিরক্তিতে “চ” বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করলো।সে আমার কানের লতিতে দাঁত বসিয়ে দিলো।তাতেও আমার কোনো হুশ হলো না।ইফান বিরক্তি নিয়ে বললো,

–কি ব্যাপার ফিল আসছে না কেন?

আমার দিক থেকে আবারও উত্তর আসলো না।ইফানের রাগ যেন এবার শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়লো।অতঃপর হাতের সকল জোর দিয়ে আমার বুকে চাপ প্রয়োগ করলো।ব্যথায় আচমকা চোখ খুললাম।ঘুম ঘুম চোখে ওর দিকে তাকাতেই ইফান দাঁতে দাঁত পিষে বললো,

–সে*মের সেরি এমন তব্দা মেরে পড়ে আছিস কেন?

আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে আরেক পাশে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম।এতে যেন লোকটার সকল ধৈর্য ভাঙলো।তাই নিজের পুরুষত্ব দেখাতে মরিয়া হয়ে উঠলো।আমার গভীর ঘুমের মধ্যে কখন যে আমার সব কাপড় খুলে নিয়েছে বুঝতেই পারি নি।এদিকে ইফান আমার ঠোঁট আঁকড়ে ধরে বন্য পশুর রুপ নিলো।আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা সেই প্রথম দিনের ইফান।যে সেদিন আমার উপর বৈধ ভাবে নিজের পুরুষত্ব ফলায়নি।বরং তার নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম।আমি ওর বেশামাল রুপ সামলাতে না পেরে শরীরের সকল শক্তি দিয়ে ওর বুকে ধাক্কা মারলাম।মূহুর্তেই আমার ঠোঁট ছেড়ে কিছুটা চিটকে গেলো।আমি সেই সুযোগে ব্যথায় চেচিয়ে উঠলাম,

–কুত্তার বাচ্চা আরেকবার ঝাঁকি দিলি তোর বিচি দুইটা ভুনা করে খা,,,,,

বাকিটা বলার আগেই ইফান আমার মুখ শক্ত করে চেপে ধরলো।আমি গোঙ্গাতে লাগলাম।এদিকে ইফান রাগে রিরি করতে করতে বললো,

–খানকি মাগী এটা কি তর জামাইয়ের রুম পাইছস যে সাউন্ড প্রুফ, গরুর মতো চেঁচালেও কেউ শুনবে না??_

চলবে,,,,,,,,,

(সবে মাত্র লেখা শেষ করে পোস্ট করলাম।অনেক ভুল ত্রুটি থাকতে পারে।তাই কষ্ট করে বুঝে পড়ে নিও।আর একদিন গল্প না দেওয়ায় অনেক বড় করে লিখেছি। এই গল্পের সবচেয়ে বড় পর্ব আজ দিয়েছি।আর আগেও বলেছি একদিন পর পরই গল্প দেই আমার ব্যক্তিগত সমস্যা না থাকলে।)

🔞আরেকটা কথা ইফান কিন্তু একদমই ভালো মানুষ না।আগেও বলেছি এখনও বলছি গল্পে অনেক টুইস্ট আছে।

✳️তোমরা অনেকে ধরতে পারছ না যে গল্পে দুটো সিন দেখানো হচ্ছে, একটা অতীত আরেকটা বর্তমান। আর জায়ান ভাইয়ের সিনটা সম্পূর্ণ অতীত। খুব তাড়াতাড়ি অতীতের চ্যাপ্টার ক্লোজ হবে।আর আমরা সম্পূর্ণ বর্তমানে ফিরে আসবো।অনেকের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে তাই ক্লিয়ার করে দিলাম বিষয়টা।

হ্যাপি রিডিং 🥳❤️

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply