জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :৩৩
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ
🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
ব্যবসায়িক সূত্র ধরে মুক্তার বাবার সাথে বড় আব্বুর পরিচয়। ধীরে ধীরে শেখ পরিবারের সাথে মুক্তার পরিবারের ভালো রিলেশন তৈরি হয়।তবে আমাদের তেমন একটা যোগাযোগ তৈরি হয় নি তখনো।আমার আর মুক্তার ফ্রেন্ডশিপ তৈরি হয় ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর।মুক্তা সবসময় আমার সাথে নিজে থেকে কথা বলতো।তাই একসময় তন্নি,নাফিয়া আর সুমাইয়ার সাথে মুক্তাও আমার ভালো বান্ধবী হয়ে উঠে।
ইফানকে বিডি তে সকলে পাওয়ারফুল ইয়াং বিজনেসম্যান আর মন্ত্রী ইকবাল চৌধুরীর ছেলে হিসাবে চিনলেও সে প্রকৃতপক্ষে একজন কুখ্যাত মাফিয়া।বাংলাদেশে জন্ম হলেও তার জীবনের বেশি অর্ধেক সময় দেশের বাইরে কেটেছে।নাবিলা চৌধুরীর দ্বিতীয় সন্তান ইমরান হওয়ার পর নুলক চৌধুরী ইফান কে লন্ডন নিয়ে চলে যায়।তখন ইফানের বয়স চার কি পাঁচ।পঙ্কজ ছিলো ইফানের এক দেড় বছরের ছোট।তখনকার সময়ে লন্ডনের সবচেয়ে বড় মাফিয়া টেরোরিস্ট ছিল পলক কাইসার, মানে নুলক চৌধুরীর হাসবেন্ড।পলকের হাত ধরেই ইফান আর পঙ্কজের আন্ডারওয়ার্ল্ডে হাতেখড়ি হয়।ইফান যখন কুড়ি বছরের তাগড়া যুবক। তখনই সে নিজের আলাদা গ্যাং তৈরি করে ফেলে।তার দক্ষতা,সাহসিকতা আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার জন্য খুব তাড়াতাড়িই আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজের প্রভাব বিস্তার করে।কয়েক বছর যেতে না যেতেই টেরোরিস্ট গ্যাং ব্ল্যাক-ভেনম বিশ্বের সবচেয়ে পাওয়ারফুল গ্যাং হয়ে উঠে।ইফানের নিকৃষ্টতা এতটা ভয়ংকর যে তাকে ইফান চৌধুরী নয়, কুখ্যাত মাফিয়া মি. ভে-নম নামেই পরিচিত।
নাবিলা চৌধুরী একজন বিজনেস ওমেন। তাই সন্তানদের পর্যান্ত সময় দিতে পারেন নি।এই নিয়ে ইকবাল চৌধুরী সহ রোকেয়া বেগমের সাথে অনেক ঝামেলা তৈরি হয়।ইমরানের যখন পাঁচ বছর বয়স তখন ইফান কে বাড়িতে আনার জন্য ইকবাল চৌধুরী নাবিলা চৌধুরী কে চাপ দেন।নাবিলা চৌধুরী চেয়েছিল ছেলেকে দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষিত করতে।তারপর উপায় না পেয়ে ইফান কে দেশে আনার কথা বলে।তবে অনেক দেরি হয়ে যায়।তখন ইফানের মস্তিষ্ক জুড়ে বিরাজ করতে থাকে র*ক্তের নেশা।ইফান কে বিডি তে আনতে না পেরে সকলে হতাশ হলেও নাবিলা চৌধুরী অজ্ঞাত এক কারণে মনে মনে বেশ খুশি হন।তিনি ভেবে নেন ছেলে লন্ডন থেকেই উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে চৌধুরী বিজনেসে হাত লাগাবে।কিন্তু তিনি কল্পনাও করতে পারে নি, ইফান লন্ডনে সুশিক্ষা নয় কুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছিলো।
দু বছর আগে এতগুলো বছর পর হঠাৎই বিডি তে বেক করে ইফান চৌধুরী।সেদিন চব্বিশ ঘণ্টা সকল নিউজ চ্যানেলে একটাই নিউজ দিচ্ছিল,❝ব্রেকিং নিউজ,ফ্রান্সের সবচেয়ে পাওয়ারফুল ইয়াং বিজনেসম্যান, ইকবাল চৌধুরীর বড় ছেলে ইফান চৌধুরী বহু বছর পর দেশে ফিরেছেন।❞
ইফানের হঠাৎ বিডি বেক করায় চৌধুরী বাড়ির সকলেই অবাক হয়ে যায়।সকলে কত বার বুঝিয়েছে দেশে ফিরতে কিন্তু সে আসেনি। উপায়ান্তর না পেয়ে তারাই দেশের বাইরে গিয়ে ইফানের সাথে দেখা করে আসতো।
সেদিন ইফান আসায় ঢাকায় বসুন্ধরার একটি ফাইভ-স্টার হোটেলে পার্টির এরেইন্জ করে তার বন্ধু বান্ধবরা।সেখানে ইফানের ফ্রেন্ড হাসান, তার গার্লফ্রেন্ড হিসেবে পার্টি তে আসে মুক্তা।মুক্তা আর হাসান নামেই রিলেশনে ছিলো।কারণ ওরা যার কাছে সুযোগ পেতো তার সাথেই রাত কাটাতো।সেদিন ড্যাশিং লুকে ইফানকে দেখে Bar এ উপস্থিত মেয়েরা পাগল হয়ে যায় একবার সেই সুদর্শন পুরুষটার সাথে কথা বলতে।মুক্তা একপাশে দাঁড়িয়ে ইফানকে গিলে খাচ্ছিল।ইফানের শরীর ঘেষে কিছু মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো।কেউ ইফানকে কিস করছিলো তো কেউ ইফানের মুখে ওয়াইনের গ্লাস তুলে ধরছিলো।ইফান মেয়েদের সাথে এনজয় করছিলো। তখনই মুক্তা বিকিনি পড়ে হট লুকে ইফানকে সিডিউস করতে চায়। তবে ইফানের এটেনশন না পেয়ে বেহায়ার মতো বাকি মেয়েদের সাথেই ইফানের সাথে ডলাডলি শুরু করে।ইফান ব্রু কুঁচকে মুক্তার দিকে তাকায়।মুক্তা হেসে ঠোঁট কমড়ে ইফানকে তার সাথে ই*ন্টিমেট হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়।ইফান মুক্তাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার স্কেন করে নেয়।তারপর জিহ্ব দিয়ে গাল ঠেলে বাঁকা হেসে বলে,
–Do you think, তুমি আমার বেড পার্টনার হওয়ার যোগ্য?
ইফানের কথা শুনে বাকি মেয়েরা ফিক করে হেসে দেয়।এতে মুক্তা অপমান বোধ করে। কারণ এখানকার মেয়েরা ওর থেকে বেশি সুন্দরী, স্মার্ট আর বড়লোক। মুক্তার কালো হয়ে যাওয়া চেহারা দেখে ইফান বেশ মজা পেল।সে আগের ন্যায় জিহ্ব দিয়ে গাল ঠেলে বাঁকা হেসে বললো,
–একটা চান্স পেতে পার,,,,
ইফানের কথা শুনে নুইয়ে রাখা মাথা উপরে তুললো মুক্তা।সে খুশিতে গদগদ করতে থাকে।ইফান আবার ঠোঁট বাঁকালো,
–“But there’s one condition.
মূহুর্তেই মুক্তার হাসি মুখ নিভে গেলে।সে ইফানের দিকে তাকিয়ে দ্বিধা নিয়ে বললো,
–কি কন্ডিশন?
ইফান ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে মুক্তার খুব কাছে এসে দাড়ায়।অতঃপর মুক্তার কানে ফিসফিস করে হাস্কি স্বরে বললো,
–তোমার ভার্সিটির সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে, আই মিন জাহানারা সুইটহার্ট কে আমার বেডে এনে দিতে হবে।
ইফানের কথা শুনে মুক্তার চোখ কপালে উঠার উপক্রম হয়।যে ছেলে ছোট থেকে বিদেশে বড় হয়েছে, সেই ছেলে জাহানারার মতো গ্রামের সাধারণ মেয়েকে চিনলো কি করে?আর জানলোই কি করে সে জাহানারাকে চেনে?
সেদিন ইফানের মতো হট বয়কে কাছে পাওয়ার লোভে শর্তে রাজি হয়।এর পর থেকে মুক্তা বহুবার চেষ্টা করেছে আমাকে ইফানের কাছে নিয়ে যেতে।তবে আমার গোপ্ত বডি গার্ডদের জন্য বারবার ব্যর্থ হয়।অবশেষে প্ল্যান করে ওর বিয়েতে নিয়ে যায় আমাকে।আব্বুর কাছে বাইনা ধরে তার কাছে রাখে।সেদিন রাতে ওর গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শেষে কথা ছিলো আমাকে ইফানের হাতে তুলে দেওয়া।কিন্তু সে সেটা করেনি।বরং আমার বদলে সে ইফানের বেডে চলে যায়।ইফান আমার বদলে মুক্তাকে দেখে খেপে যায়। ফলে এক থাবায় মুক্তার গলা চেপে ধরে।মুক্তা সেদিন ইফানকে পাল্টা শর্ত দেয় তার পাওনা আগে মিটিয়ে দিতে।ইফান ক্রুর হেসে বলে,
–তোর কি মনে হয় ওকে আমি তুলে আনতে পারতাম না?ফাকিং বিচ গার্ল, ওকে তুলে আনতে আমার এক সেকেন্ডও টাইম লাগবে না।বাট,,,
ইফানের মুখের কথা কেড়ে নিলো মুক্তা,
–বাট তুমি সেটা করতে চাইছ না।কিন্তু কেন চাইছ না আই ডোন্ট নো।তবে এখন তোমার আমাকে প্রয়োজন। সো তুমি তোমার কথা রাখ।
গোডাউন কাঁপিয়ে চিৎকার করছে মুক্তা আর হাসান।চার দেয়ালে তাদের চিৎকারের আওয়াজ বারবার ঝংকার তুলছে।জ্বলন্ত অগ্নিয় শিখার উপর বসানো বিশাল আকারের কড়াই দুটোর মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পানি ফুটছে। তার উপরে উল্টো ভাবে ঝুলে আছে ব*স্রহীন মুক্তা আর হাসান।ফুটন্ত পানির উপরে কিছুক্ষণ পরপর দুটো গার্ড তেল ঢালছে।কারণ পানি এবং তেল একে অপরের সাথে মিশে না।ফুটন্ত পানি হঠাৎ গরম হয়ে থাকা তেলের সাথে সংস্পর্শে এলে তাপের কারণে পানি মুহূর্তে বাষ্পে রূপান্তরিত হয়।এই বাষ্প খুব দ্রুত প্রসারিত হয় এবং তেলকে চারপাশে ছিটকে দেয়।তখন তেল ছিটকে মুক্ত আর হাসানের মাথা-দেহের বিভিন্ন স্থানে পড়ে ছেৎ ছেৎ করে ঝলসে যাচ্ছে।
ওদের দেহর আস্তর প্রায় গলে পড়বে পড়বে।ধীরে ধীরে মুক্তার চিৎকার গোঙ্গানি কমে আসে।হাসানের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়েও হচ্ছে না।এই মুহূর্তে ওরা দুজন চাইছে তাড়াতাড়ি তাদের দেহ থেকে প্রাণ বেরিয়ে যেতে।কারণ এই তিলেতিলে যন্ত্রণা আর তারা নিতে পারছে না।
ওদের এমন করুন পরিণতি দেখে একেবারে মাহিন স্বাভাবিক না থাকলেও নিজেকে সামলে দৃষ্টি জমিনে নিবদ্ধ রেখেছে।ইনান বারবার ঢুক গিলছে।তারা ইফানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।ইফানের নৃ*শংসতা নতুন না তাদের কাছে। তাদের মাঝে চেয়ারে আয়েশ করে বসে আছে ইফান।সিগারেটে টান দিচ্ছে পায়ের উপর পা তুলে নাচাতে নাচাতে।তার ঠোঁটে তৃপ্তির পৈশাচিক হাসি লেগে আছে।সে খুব মনযোগ দিয়ে মুক্তা আর হাসানের করুন পরিণতি দেখছে।এরই মাঝে হাসানেরও গোঙ্গানি কমে আসে।সে সেভাবেই নিভে আসা গলা নিয়ে বললো,
–ইফান আমাকে মেরে ফেল।এই যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না। আর আমাদের শাস্তি দিস না।মেরে দে একেবারে।
ইফান সিগারেটে আরেকটা শেষ টান দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিলো।সেখানে আরও অনেক সিগারেটের শেষাংশ পড়ে আছে।সেই কখন থেকে ইফান একটার পর একটা সিগারেটে ঠোঁটে জ্বালিয়ে রেখেছে।
হাসানের গলা নিভে গেছে।এবার বুঝি দমটা বেড়িয়ে যাবে।মুক্তা আরও কিছুক্ষণ আগেই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এই বুঝি দেহ থেকে প্রাণ পাখিটা বেড়িয়ে গেল গেল।ইফান আড়মোড়া ভেঙে সোজা হয়ে বসলো।অতঃপর চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
–আমার বুলবুলিকে হার্ট করার সময় মনে পড়েনি কার জানে হাত মারছিস?
এটুকু বলতেই ইফান হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিলো।ওর চোখ দুটো লাল বর্ণ ধারন করেছে।ক্রোধিত নয়নে ওদের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে রাগে রিরি করতে করতে বললো,
–আমার লেডির দিকে যে তাকাই তার চোখ দুটোই উগরে ফেলি।সে যেই চুদির ভাই’ই হোক।আর সেই জায়গায় তো তোরা ওকে কাঁদিয়ে ছাড়লি!!
আরও কিছু বলতে যাবে তক্ষুনি ফোন বেজে উঠলো।ইনান ঝটপট ফোনটা ইফানের হাতে তুলে দিলো।ইম্পর্ট্যান্ট কাজের মাঝে ব্যঘাত ঘটায় বড্ড বিরক্ত হয়েছে সে।চরম বিরক্তি নিয়ে ফোন কানে ধরতেই ওপাশ থেকে কি বললো তা ইফান ছাড়া বাকিরা শুনতে পেলো না।তবে তার শক্ত চোয়াল আরও শক্ত হয়ে গেলো।ইফান ফোনটা কান থেকে নামাতেই ইনান নিয়ে নিলো।তারপর ইফান রাগে গজগজ করতে করতে বললো,
–শালা কুত্তার বিচির মতো এইটুকু কলিজা নিয়ে ঘুরিস।ইচ্ছে তো করছে দুনিয়াতেই তোদের কে সাতটা জাহান্নাম ভ্রমণ করাতে।হারামির দল সব, একটা দেখানোর আগেই পটল তুলছিস,,,,,
ইফান আর কিছু বলতে পারলো না।অধিক মাত্রায় রেগে থাকায় হাত পা কাপছে।তাই এটুকু বলেই পিছনে পেন্টে গুঁজে থাকা লোড করা রিভলবারটায় হাত চালালো।প্রথমে ওদের কপালের মাঝে শুট করে।তারপর দড়িতে।তৎক্ষনাৎ ফুটন্ত তেল,পানিতে ওরা পড়তেই কড়াইয়ের চারপাশে ছেৎ ছেৎ শব্দ করে তেল ছিটকে পড়ে।সঙ্গে সঙ্গে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মাহিন, ইনান গার্ডগুলো সহ এক পা পিছিয়ে গেলো।ইফান আবার আরাম করে চেয়ারে গা ছেড়ে বসে পড়লো। অতঃপর ঠোঁটের ফাঁকে সিগারেটের শলাকা ধরতেই ইনান এসে দিয়াশলাই এর সাহায্যে জ্বলিয়ে দিলো।
সারা গোডাউন জুড়ে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে।ইফান চোখ বন্ধ করে চেয়ারে মাথা হেলিয়ে রেখেছে। ঠোঁট থেকে সিগারেটের শলাকা সরিয়ে উপর দিকে মুখ ভর্তি ধোঁয়া কুন্ডলী ছাড়লো। অতঃপর বিরবির করে বললো,
❝তোমার তপ্ত হৃদয়ে দগ্ধ হতে করেছি কবুল তুমি নীল, নীলাঞ্জনা… আমার হৃদয়ে ফোটা শরৎ-এর কাশফুল❞
কিছুক্ষণ আগে, উত্তরার হাইওয়ে তে এসে ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়ে ইফানের ব্ল্যাক মার্সিডিজটি।রাগে কখন থেকে ইফান গজগজ করছে।বিডি যাতায়াত মন্ত্রীর পশ্চাতে বাঁশ ঢুকাবে বলতে বলতে হাজার টা গালি দিয়ে দিয়েছে সে।ফ্রন্ট সিটে বসে আছে ইনান ও মাহিন,আর বেক সিটে ইফান।জ্যাম ভাঙতেই ইনান ড্রাইভিং স্টার্ট করেছে।মাহিন ইফানের মাইন্ড ঘুরাতে বললো, –ভাই ঐ দিন দেশে ফিরেই খোঁজ নিয়ে ঐ শালা আধা বুইড়াকে খুঁজে বের করেছিলাম।যে ঐদিন ফ্যাক্টরিতে আমাদের মাল জ্বালিয়ে দিয়েছিলো।কিন্তু শালা মুখ খুলেনি।তাই বুড়িগঙ্গাতেই মেরে ফেলে এসেছিলাম।
ইফান ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে গম্ভীর কন্ঠে জবাব দিলো,
–আমার ঝাঁঝওয়ালি না হলে আর কে এক্সিডেন্ট করাতে চেয়েছিল খুঁজ নিয়েছিস?
–জি ভাই।তবে কে বা কারা এই কাজ করেছে জানতে পারি নি এখনো।কিন্তু,,,,,
–কিন্তু কি??
ঝটপট ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মাহিনের দিকে তাকিয়ে ওর মুখের কথা কেড়ে নিলো ইফান।মাহিন চিন্তিত স্বরে বললো,
–সেদিন তোমাদের এক্সিডেন্ট করানোর আগে সেই গাড়িটা ইমরানকেও অনেকক্ষণ ফলো করেছিলো উত্তরা থেকে মাউনা যাওয়ার পথে।
ঘড়ির কাটা রাত দশটার ঘরে।সন্ধ্যা থেকে নোহার জ্বালায় অতিষ্ঠ আমি।শেখ বাড়িতে আসার পর ভাইয়াকে দেখতে না পেয়ে বকবক করেই চলেছে।তখন ড্রয়িং রুমে বসে চা খাচ্ছিল মাহবুব শেখ আর মজিদ শেখ।নোহা জিতু ভাইকে দেখতে না পেয়ে তাদের সাথে বকবক শুরু করে দেয়।এমনিতেই ওর পোষাক দেখে বাড়ির কেউই উপরে চোখ তুলে তাকাতে পারছে না।আর সে বড় আব্বু কে গিয়ে জিগ্যেস করে বসেছে,
–আংকল জিতু বেইবির নুনু টা ইফান বেইবির মতো বড় কিভাবে হলো।কোন তেল ইউজ করে ও??
লজ্জার ছুটে সকলেই ঐ স্থান ত্যাগ করেছে তৎক্ষনাৎ। এই মেয়ে কি লেভেলের বলদ আর বেহায়া হলে এমন অদ্ভুত কথা জিগ্যেস করতে পারে ভাবা যায়?তারপরও থেমে থাকে নি সে।নিজের সাথে কাপড়চোপড় না আনায় একবারও জিগ্যেস করলো না আমাদের কে নতুন কাপড় দিতে পড়ার জন্য। সে সোজা ভাইয়ার রুমে গিয়ে ওর আন্ডারপ্যান্ট আর টি-শার্ট পড়ে নিয়েছে। এদিকে আমি জুই আর জিয়াদ সারা বাড়ি খুঁজে না পেয়ে পাগল পাগল অবস্থা।দিনকাল ভালো না।গ্রামে পথেঘাটে ভগাটে গা*ঞ্জাখুর ঘুরে বেড়ায়।এই মেয়ে যে মাথা মোটা একবার ধরলে সবশেষ।যদিও ওর আধও কোনো ইজ্জত আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ?
আমরা যখন খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত তখনি রুম থেকে ভাইয়ার চিৎকার চেচামেচি আসতে থাকে।আমরা অবাক হয়ে যায়।কারণ ভাইয়া মাত্রই অফিস থেকে সরাসরি এখানে চলে এসেছে।এদিকে আমরা রুমে গিয়ে দেখি নোহা ফ্লোরে গালে হাত দিয়ে বসে আছে।আমাকে দেখতেই কাঁদু কাঁদু কন্ঠে জিতু ভাইয়ের নামে নালিশ করে,
–প্রিটি গার্ল, হানি আমাকে হামি না দিয়ে মেরে দিয়েছে এ্যা এ্যা এ্যা,,,,,,,
আমি চোয়াল শক্ত করে ওর দিকে তাকিয়ে। কতবড় নির্লজ্জ হলে এখনো এমন কথা বলে ভাবা যায়? আমি আর জুই ওর সাথে জোর জবরদস্তি করে আমাদের রুমে নিয়ে আসি।সে কিছুতেই আসতে চাইছিল না।তার এক কথা আজ তার হানির সাথে বেটিং করবে।
নোহাকে রুমে এনে একটা ধমক দিতেই মেয়েটা চুপসে যায়।তারপর তখন ভাইয়া কেন এভাবে রিয়েক্ট করলো জানতে চাইলে বলে,সে যে ভাইয়ার জাঙ্গিয়া পড়ে কতটা প্রিটি লাগছিলো তাই দেখাতে টি-শার্ট উপরে তুলে নিয়েছিলো।আর তখনই ওর গালে ভাইয়ার চাপাঘাত পড়ে।
চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছাতেই ইফান চিৎকার চেচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলছে।তখন ইমরান কল করে বলে, ভাই ভাবি বাসা থেকে বেড়িয়ে গেছে বিকালে।আমি বাড়ি আসতেই পলি সেটা জানিয়েছে।
এখন ইফান এক এক করে সকলকে কথা শুনিয়ে দিচ্ছে। নাবিলা চৌধুরী আজ অফিসের কাজ করে একটু লেইট করে ফিরেছে। এসেই দেখে তার ছেলে সব দামি দামি জিনিস ভেঙে ড্রয়িং রুম তচনচ করে দিয়েছে।ফলে ছেলের প্রতি এক ফোটা রাগও হয় নি বরং আমার প্রতি রাগ আরও বেড়ে গেছে। ইফান রুমে চলে আসতেই লিভিং রুমে আরেক দফা ভূমিকম্প চালান তিনি।আর সবার সামনে আমার নামে হুমকি দিয়ে গেছে, আমাকে উনি দেখে নিবেন।
ঘড়ির কাটা রাত দুটো ছুঁই ছুঁই।বেডের মাঝখানে আমি আর আমার দুপাশে জুই আর নোহা। এই নোহাকে গেস্ট রুম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেয়েটা আমার সাথে আটার মতো লেগে আছে এমন ভাবে যে তার কাজই এটা আমাকে এক মূহুর্তের জন্য চোখের আড়াল না করা।এমনকি ওয়াশরুমে ঢুকেছিলাম__নিজের রুমে কখনো ডোর লক করে যাই না। আজও তাই।আর সেই সুযোগে টয়লেটেও উঁকি মারতো!!!
আমরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এক কথায় নোহার বকবক শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি।এদিকে হতাশ নোহা আমাদের ঘুমিয়ে পড়তে দেখে অবশেষে নিজেও ঘুমিয়ে পড়েছে।
হঠাৎ ফোনের কর্কশ আওয়াজ বেজে উঠায় তাড়াতাড়ি বেড সাইট থেকে হাতরে হাতরে ফোনটা চোখের সামনে ধরলাম। ফোনের স্কিনে জ্বলজ্বল করছে সেইভ করা নাম ❝চোদনবাজ❞।এই নিয়ে কতবার যে চোদনবাজ, ইফানের সেইভ করা নাম্বার থেকে কল এসেছে বলার বাইরে। আসার পর থেকে ইফানের দেওয়া একটা কলও রিসিভ করি নি।আমি ভালো করে বুঝতে পারলাম কল রিসিভ না করলে এভাবেই জ্বালাবে।আর ফোন বন্ধ করে দিলে হয়তো মাঝ রাতেই শেখ বাড়িতে এসে হানা দিবে।আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে ফোন রিসিভ করে কানে ধরলাম।তৎক্ষনাৎ ওপাশ থেকে ইফানের কন্ঠ স্বর কানে আসে,
–হ্যালো,বউ!!!
–না তর মা*গী,,,,
আমি রাগে চোয়াল শক্ত করে প্রতিত্তোর করলাম। ঘুমে চোখ দুটো বন্ধ হয়ে গেছে। তবুও মস্তিষ্ক সজাগ রেখে ওর কথা শুনতে লাগলাম।আমার ঝাঁঝালো উত্তর পেয়ে ইফান মুখ দিয়ে সসস আওয়াজ বের করে পুরুষালী মাদকীয় কন্ঠে বললো,
–বউ পুকুরের খুঁজে সাপ বারবার উঁকি মারছে।
–কিহহ???
ইফানের কথার আগামাথা বুঝতে না পরে সংক্ষিপ্ত উত্তর করলাম।ইফান একটা শুকনো ঢুক গিলে বললো,
–ইয়ে মানে ছোট ভাই তোমার খুঁজ করছে,,,
ইফানের কথার মানে বুঝতে পেরে চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো।আমি দাঁতে দাঁত পিষে যাচ্ছি। ফোনের ওপারে ইফান সেই শব্দ শুনতে পেয়ে ঠোঁট কামড়ে নিঃশব্দে হাসছে।অতঃপর একই হাস্কি টোনে বললো,
–বউ তোমার পা দুটো কে খুব মিস করছি,,,
মাঝ রাতে ইফানের হেয়ালি কথাবার্তা শুনে রাগে নিজের কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে করছে।আমি একই ভাবে চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে উত্তর করলাম,
–কেন লাত্থি খেতে মন চাইছে ?
— উফফ না সোনা,কাঁধ দুটো খুব ব্যথা করছে।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,
(গতকালই রাত দুটো পর্যন্ত জেগে গল্প লিখে ফেলেছিলাম।অনেক দিন পর একটু স্বস্তি নিয়ে গল্প লিখলাম। জানি না কেমন হয়েছে। তবে লেখার সময় অনেক ফ্রেশ মুডে ছিলাম🙃)
জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :৩৪
জায়ান ভাই দেশে আসার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে।মানুষ টা প্রথম প্রথম আমাকে এড়িয়ে চললেও এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। এই যে আমাকে কলেজে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো জিতু ভাইয়ের। কিন্তু ইদানীং তিনি একটা জটিল কেইস নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে আমাকে কলেজে নিয়ে যাওয়ার সময় করে উঠতে পারে নি।তারপর আব্বু নিয়ে যেতে নিলে জায়ান ভাই’য়া বলে, উনি নিয়ে যেতে পারবেন।সেদিন তো খুশিতে পাগল পাগল অবস্থা হয়েছিলো আমার।ঐদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে জায়ান ভাই আমাকে পুচকাসহ অনেক কিছু খাইয়েছে।সাথে অনেকগুলো শপিংও করে দিয়েছে।
কথাগুলো ভাবতেই চোখেমুখে খুশির ঝিলিক দিচ্ছে। আমি একলা একলা হাসছি দেখে তিন বাদর এক সাথে কেঁশে উঠলো,
–এহেম এহেম এহেম,,
ওদের গলা শুনতেই আমি হুঁশে ফিরি। বর্তমানে আমি কবিতা আপু, জিয়াদ আর জুই রান্নাঘরে আছি।আমি জায়ান ভাইয়ের পছন্দের খাবার পায়েস রান্না করছি।আর ওরা কিচেন কাউন্টারের উপর বসে আমাকে নিয়ে টিটকারি মারছে।জুই গাজরে কামড় দিতে দিতে বললো,
–কালে কালে আর কত কি যে দেখবো।যে মাইয়া আলসেমি করে হাগু করতে যায় না হচু করতে হবে বলে।আজ সেই মাইয়া লাং এর জন্য পায়েস বানাচ্ছে।
জুইয়ের কথা শুনে কবিতা আপু আর জিয়াদ উচ্চ স্বরে হেসে দিলো।আমি চোখ পাকিয়ে জুইয়ের দিকে তাকালাম।পড়নে হাঁটু সমান ফ্রক। মেয়েটার বয়স কত আর ১১ হবে।এই বয়সে যে এত পাকনামি কথা কোথা থেকে শিখলো বুঝতে পারি না।আমি হাতের পায়েস নাড়া দেওয়ার চামচ দেখিয়ে বললাম,
–আন্ডা সেরি আরেকটা পাকনা কথা বলে দেখ তোর খবর আছে।
কবিতা আপু আমাকে শান্ত করে। আমি আবার রান্নায় মনযোগ দিলাম।এদিকে পিছন থেকে জিয়াদও গাজর খেতে খেতে বললো,
–যাই কর জাহান আপু আজকে পায়েস দিতে গিয়ে আবার পেদে দিও না। তোমার ইজ্জত নাই থাকতে পারে।তোমার সঙ্গী হিসেবে আমাদের একটা প্রেস্টিজ আছে।
জিয়াদের কথা শুনে আবারও খেপে গেলাম।তেরে আসতে নিলেই কবিতা আপু ধরে আটকে নিলো।আমি সেভাবেই চামুচ দেখিয়ে জিয়াদকে বকতে লাগলাম,
–চিগার ঘরে চিগা।আরেকটা বাজে কথা বলে দেখ। পাছা লাল করে দিবো।
তারপর পায়েস নামাতে যাব তখনই হাতের এক আঙ্গুলে ছেঁকা লেগে মূহুর্তেই লাল হয়ে যায়।আমি চেচিয়ে উঠতেই কবিতা আপু তাড়াতাড়ি হাতে পানি ঢালতে শুরু করলো।
–ইসস রে কতটা পুড়ে গেলো।যে কাজ পারিস না ঐ কাজ করতে গেলি কেন?
কবিতা আপু ধমকাতে থাকলো। আমি তার কোনো কথা শুনলাম না।কারণ এখন রাত বারোটা বাজে।বাড়ির সবাই নিজেদের ঘরে চলে গেলেই আমরা রান্নাঘর দখল করেছি।এখন তাড়াতাড়ি কাজ শেষ না করলে হয়তো গিয়ে দেখবো জায়ান ভাইও ঘুমিয়ে পড়েছে।তখন আবার আমার সব পরিশ্রম বৃথা যাবে। আমি দ্রুত পায়েস টা একটা বাটিতে তুলে যাওয়া ধরলাম।তখনই পেছন থেকে কবিতা আপু আর জিয়াদ ডেকে উঠলো।জিয়াদ বললো,
–জাহান আপু সবটা বাটিতে করে নিয়ে যাচ্ছ কেন।আমাদের জন্যও একটু রেখে যাও।
কবিতা আপু বললো,
–আরে বোইন একবার টেস্ট করে তো দেখে নে খেতে কেমন হইসে।রান্নার সময় তো একবারও চেকে দেখলি না।
আমি ওদের তিন জনকে মুখ মুছরা দেখিয়ে যেতে যেতে বললাম,
–এটা শুধু জায়ান ভাইয়ের জন্যই স্পেশাল। উনি ছাড়া কেউ টেস্ট করতে পারবে না।
আমি সিড়ি দিয়ে জায়ান ভাইয়ের রুমের দিকে যাওয়া ধরলাম।এদিকে তারা আমার প্রস্থান দেখে গ্যাসের চুলার উপর বসানো পাতিলটার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। পাতিলে এখনো লেগে আছে অনেকটা পায়েস। তিন জন একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখাচোখি করলো।অতঃপর জিয়াদ বুক ফুলিয়ে এক আঙ্গুল দিয়ে পাতিলের গায়ে লেগে থাকা পায়েস তুলে নিলো।তারপর সকলের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে আঙ্গুল টা মুখে ঢুকাতেই তৎক্ষনাৎ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে পড়লো।কবিতা আপু আর জুই জিয়াদের দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।কিছুক্ষণ চলে গেলেও জিয়াদ না মুখ নাড়াচ্ছে আর না মুখ থেকে আঙ্গুলটা বের করছে।কবিতা আপু চোখ সরু করে জিগ্যেস করলো,
–কিরে মজা হয়েছে?
অপর প্রান্ত থেকে উত্তর আসলো না।বরং জিয়াদের হেঁচকি উঠা শুরু হয়েছে।জুই বিরক্ত হয়ে টান মেরে জিয়াদের আঙ্গুল টা বের করে নিলো।তৎক্ষনাৎ জিয়াদ ওয়াক ওয়াক করে বেসিনে বমি করে দিলো।কিছুক্ষণ পর চোখমুখ ধুয়ে পিছনে তাকাতেই দেখলো কবিতা আপু আর জুই ওর দিকে তাকিয়ে নখ কামড়াচ্ছে।জিয়াদ বাচ্চাদের মতো সরল চেহারা করে, চিকেন থেকে যেতে যেতে কবিতার সরে বলতে লাগলো,
❝ইহা আমি কি খেয়েছি বৎস
মনে তো হচ্ছে সমুদ্রই তার উৎস,
পায়েস রেঁধেছে জাহানাপু লেরা
নিসন্দেহে জায়ান ভাইয়ের হবেই আজ কলেরা,,,❞
আমি জায়ান ভাইয়ের রুমের সামনে দাড়িয়ে বুক ফুলিয়ে একটা শ্বাস নিলাম।অতঃপর দরজা হালকা একটু খুলে উঁকি মারলাম।জায়ান ভাই বিছানার মাথায় হেলান দিয়ে আছে। তার উরুর উপরে লেপটপ।সে খুব মনযোগ দিয়ে সেখানে কিছু একটা করছে।পাঁচ মিনিট পেরিয়ে গেলেও আমি উনার রুমে পা রাখবো কিংবা ডাক দিবো, সেই সাহসটা করে উঠতে পারলাম না।আমার কেঁদে দিতে ইচ্ছে করছে।আমি মন খারাপ করে পায়েসের বাটিতে চোখ রাখলাম ।তখনই গম্ভীর পুরুষালি কন্ঠ স্বর কানে আসে,
–ভেতরে আয়।আর যদি সারারাত ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে মন চায়, তাহলে দাঁড়িয়ে থাক।
আমি ঝটপট উনার দিকে তাকালাম। লোকটা এখনো লেপটপে মনযোগ দিয়ে কাজ করছে।আমি আস্তে আস্তে রুমে ঢুকে মিনমিন করে বললাম,
–আ আপনি তো একবারও তাকালেন না। তাহলে কিভাবে বুঝলেন আমি ওখানে দাঁড়িয়ে আছি?
উনি কাজে মনযোগ রেখেই গম্ভীর ভাবে উত্তর করলেন,
–তোর উপস্থিতি জানার জন্য আমার তাকিয়ে দেখতে হয় না।আমার হৃৎস্পন্দনই জানান দিয়ে দেয় তোর প্রতিটি পদক্ষেপ।
–কি কিভাবে?
আচমকা লেপটপ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আমার দিকে জহরি চোখে তাকালো।আমি ভয়ে ভয়ে একটা ঢুক গিললাম। উনি কাটকাট গলায় সুধালো,
–এত রাতে আমার রুমে কি চাই?
ইসস কি সাংঘাতিক লোক ভাবা যায়?আমি নিজে থেকে উনার কাছে আসলেই দোষ। এই যে গতকাল আমি উনার রুমের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন পিছন থেকে উনি ডেকে উঠেন,
–জারা,,,,,
আমি উনার কন্ঠ শুনেই কেঁপে উঠলাম।লাজুক চেহারা নিয়ে পিছনে ফিরতেই দেখি উনি ফর্মাল ড্রেসআপে দাঁড়িয়ে। ইসস কি যে হ্যান্ডসাম লাগছিলো।আমি তো সকল হুশ হারিয়ে বেহায়ার মতো উনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম ডেবডেব করে।আমার এমন কাজে উনি বিরক্তিতে চোখ সরু করে আমাকে ক্রস করে চলে যেতে যেতে বিরবির করলো,
–স্টুপিট,,,,
উনাকে চলে যেতে দেখেই হুশ ফিরে আমি তাড়াতাড়ি পিছন থেকে ডেকে উঠলাম,
–কি কিছু বলছিলেন আপনি,,,,
আমার কন্ঠ শুনে উনি একটু থামলেন। তারপর হালকা ঘার বাকিয়ে আমাকে দেখে যেতে যেতে বললেন,
–নাথিং।
__
–কি হলো কিছু জিগ্যেস করছি?
উনার কন্ঠ শুনে ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসলাম।অতঃপর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আস্তে আস্তে চোখ হাতের বাটিটার দিকে রাখলাম।উনি আমার দৃষ্টি অনুযায়ী হাতের দিকে তাকালেন।মূহুর্তেই উনার চোখে পড়ে যায় পুড়ে যাওয়া আঙ্গুল টায়।উনি তৎক্ষনাৎ বিছানা থেকে নেমে আমার হাতটা উনার চোখের সামনে ধরলেন।আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই জায়ান ভাই আমার আঙ্গুলে ফু দিতে দিতে উতলা হয়ে বলতে লাগলো,
–ইসসস কতটা পুড়ে গেছে। তর খুব কষ্ট হচ্ছে জারা।খুব কষ্ট হচ্ছে। দাঁড়া আমি ডক্টর কে কল করছি।
তিনি ফোন হাতে নিতেই আমি অবাক সরে বললাম,
–জায়ান ভাই আমি ঠিক আছি।ডাক্তার লাগবে না তো।
উনি চোখ কড়া করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
–বেশি বুঝিস হ্যা। খুব বড় হয়ে গেছিস।হাতটা পুড়লো কিভাবে?
–ঐ আরকি গরম পাতিলে ছেঁকা লেগেছে একটু।
আমার কথা শুনে জায়ান ভাই আরও রেগে গেলেন,
–কে বলেছিলো তোকে রান্না ঘরে যেতে?
উনি চেচিয়ে সকলকে ডাকতে নিলে আমি থামিয়ে বললাম,
–কেউ বলেনি তো।আমি আপনার জন্য পায়েস বানাতে গিয়ে,,,,,
বাক্য সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই থামিয়ে দিলো,
–আমি বলেছিলাম তোকে বানাতে।তাহলে কেন বানাতে গেলি,,,,
–আপনি পছন্দ করেন তাই ভেবেছিলাম,,,,
আবার মাঝ পথে থামিয়ে বললো,
–আর কখনো এমন করিস না জারাপাখি।তোর ফুলের শরীরে একটু টোকা লাগলেও আমার দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে।কেন এভাবে জ্বালাতন করে পোড়াস আমায়?
আমি চরম আশ্চর্য হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে আছি।উনি মনযোগ দিয়ে আমার হাতে আবার ফু দিচ্ছেন। আমি উনার মায়াবী চোখে ডুব দেওয়ার আগেই উনার কন্ঠ কানে আসে,
–আর কখনো আমার অবাধ্য হবি না। মনে থাকবে?
–হু,,,
আমার সংক্ষিপ্ত উত্তর শুনে উনি শান্ত চোখে আমার দিকে তাকালেন।আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলেছি।উনি আমার হাত থেকে আচমকা পায়েসের বাটিটা নিয়ে নিলেন।আমি আবার উনার দিকে তাকালাম।উনি আমার ডানায় ধরে বিছানায় বসিয়ে দিলো।তারপর পুড়া জায়গায় যত্ন করে মলম লাগিয়ে দেয়।অতঃপর বললো,
–খাইয়ে দে,,,
আমার চোখ কুঠর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। আমি সেই তখন থেকে একটার পর একটা ঝটকা খেয়ে যাচ্ছি।জায়ান ভাই আমার অবাক হওয়া দৃষ্টি দেখে ব্রু কুঁচকালেন।আমি চোখ নিচু করে মিনমিন করে বললাম,
–আ আমি?
–এখানে তুই ছাড়া আর কেউ আছে কি?
আমি লাজুক হাসলাম।অতঃপর চামুচে করে উনাকে পায়েস খাইয়ে দিতে থাকলাম।খাওয়া শেষ হলে আমি খুশি খুশি চেহারা নিয়ে বললাম,
–পায়েস কেমন লেগেছে?
উনি টিস্যু দিয়ে ঠোঁট মুছতে মুছতে বললেন,
–ভলো,,,
ব্যাস আমার খুশি আর ধরে রাখে কে।আমি লাজুক হেসে এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।তারপর আসেপাশে একবার চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিলাম কেউ আছে কিনা।কেউ নেই নিশ্চিত হতেই জায়ান ভাইয়ের খাওয়া চামুচ টা মুখে পুরে নিলাম।মুহুর্তেই সমস্ত মুখ বিষাদে ছেয়ে গেলো।তার মানে আমি চিনি ভেবে নুন দিয়ে রান্না করেছি।আর সেই এক বাটি কুখাদ্য জায়ান ভাই চুপচাপ খেয়ে নিয়েছে।ভেবেই চোখ ভিজে উঠেছে। গলায় কান্না আটকে আসছে।নিজের গালে নিজেই চর মারতে ইচ্ছে করছে।আমি আবার জায়ান ভাইয়ের রুমের দিকে যেতে লাগলাম।উনাকে জিজ্ঞেস করবো এত বাজে খাবার কেন খেলেন।একাবার আমায় কেন বললেন না এটা খেতে বাজে হয়েছে। এখন যদি উনার শরীর খারাপ হয় আমার জন্য তখন?আমি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কাঁদতে কাঁদতে উনার ঘরে ঢুকতেই দেখি উনি ফোনে কারো সাথে কথা বলছে।
–ডু ইউ থিংক আমি তাকে ভয় পায়?আসতে দাও ওকে।আমিও দেখি আমার কি করে,,,,
আরও কিছু হয় তো বলতে যাবে তখনই কারো ফুপিয়ে কান্নার আওয়াজে তৎক্ষনাৎ পিছনে তাকায়।উনি ফোন রেখে আমার গালে হাত দিয়ে উত্তেজিত হয়ে বলে,
–কি হয়েছে তোর, কাঁদছিস কেন?
উনার আশকারা পেয়ে আরও হেঁচকি তুলতে তুলতে বললাম,
–আপনি এত পচা খাবার কেন খেয়ে নিলেন।কেন বললেন না,এটা খেতে জঘন্য হয়েছে?
আমার কথাশুনে উনার উত্তেজিত হওয়া চেহারা শীতল হয়ে গেলো।উনি আমার চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বললেন,
–কে বললো বাজে হয়েছে।আমার কাছে তো পৃথিবীর বেস্ট রান্না ছিলো।তোর হাতের তৈরি করা পায়েসটুকু খাওয়ার পর যেন দশ বছরের খুদা নিবারণ হলো।
উনার আদুরে কথা শুনে কান্না থেমে গেলো।আমি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম আমার স্বপ্নের পুরুষটাকে।উনাকে নিয়ে মনের গহীন থেকে বারবার উঁকি দিচ্ছে গানের দুটো লাইন,
MAIN HOSH USKAA WO BEKHUDI HAIN MERI MAIN ISHQ USKAA WO AASHIQI HAIN MERI – WO LADKA NEHI ZINDAGI HAIN MERI_❤️🔥🌹
সকাল ছয়টা পঞ্চাশ বাজে।আমি আমার বান্ধবী তন্নি,সুমাইয়া, নাফিয়া আর আমাদের ছেলে বেস্ট ফ্রেন্ড আরিফ এক সাথে দাঁড়িয়ে আছি এক কোণায়। এখানে আমাদের আরও অনেক সহপাঠী দাঁড়িয়ে আছে।কদিন হলো আমরা ইন্টারের ইংরেজি প্রাইভেট শুরু করেছি।মূলত সাতটার সময় আমাদের প্রাইভেট শুরু হবে।স্যার উনার বাসাতেই প্রাইভেট পড়ান আমাদের। উনার বিল্ডিং ঘরের সাথে ছোট্ট একটা টিনের ঘর। আমারা সেখানেই বসে পড়ি।কিছুক্ষণের মধ্যেই গামছা দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বাসা থেকে বেড়িয়ে আসে আমাদের ইংরেজি স্যার খায়রুল ইসলাম।তিনি হাসতে হাসতে বললো,
–তোমরা চলে আসছ?এই নাও চাবি। দরজা খুলে ভিতরে গিয়ে বস।আমি এক্ষুনি আসছি।
উনি আরিফের হাতে চাবি দিয়ে অন্দরমহলে চলে যান।আরিফ তালা খুলছে তখনই আমি ওকে প্রশ্ন করলাম,
–কিরে ভাই স্যার প্রত্যেকদিন সকালে গোসল করে কেন?
আরিফ দরজা খোলা বাদ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে চোখ মেরে বললো,
–বুঝ না মামা, রাইতে ফ্যাক্টরিতে কাম করে যে।
আরিফের কথা শুনে অনেকে হু হা করে হাসিতে ফেটে পড়লো।আমি সহ আরও কয়েকজন কথার আগামাথা মন্ডু কিছুই বুঝতে পারলাম না।
তারপর এক ঘন্টা প্রাইভেট পড়ে সকলে আড্ডা দিতে দিতে আইসিটি প্রাইভেটের উদ্দেশ্য রওনা হোলাম।খায়রুল স্যারের বাসা থেকে ছয়টা বাসা পেড়লেই রতন স্যারের বাসা।তবে এই জায়গাটা গলি হওয়ায় প্যাঁচ মচড়া দিয়ে যেতে হয়।যাওয়ার পথে নজরে আসলো একটি হিন্দু বাসা থেকে গলির খালি চিপার বাউন্ডারি দিয়ে ঝুলে পড়া ডালে তিনটা বড় বড় জবা ফুল দেখা যাচ্ছে।ফুলগুলো এখনো কারো নজরে পড়ে নি।না হলে আমার বান্ধবীরা যা ছুঁচি দেখলেই সবগুলো হামলে পড়বে। আমি তন্নিকে আমার ব্যাগটা দিয়ে বললাম,
–দোস্ত আমার ব্যাগটা ধর।গিয়ে আমার জন্য জায়গা রাখিস।ঐ দেখ ফুল ফুটছে।দুই টা আমার একটা তর।তুই ওদের সাথে যেতে থাক। আমি নিয়েই চলে আসছি।
তন্নি আমার ব্যাগ নিয়ে ওদের সাথে এগিয়ে গেলো।আমি চোরের মতো আসেপাশে তাকিয়ে দেখলাম কেউ আছে নাকি।কারণ এই বাসার বুইড়া মহিলাটা একটা হিটলার। কদিন আগে আমার সাথে পড়ে মনিকা আর অনু ফুল ছিঁড়তে গিয়ে ওনার হাতে ধরা পড়ে।আর কি বকাঝকাটায় না করেছে ওদের।
আমি গলিটার চিপাটায় গিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়ালের উপর ঝুলে থাকা ডাল থেকে ফুল ছিঁড়তে হাত বাড়ালাম।যখই আমি ফুলের ডাটাটাকে ছুঁই ছুঁই ঠিক তক্ষুনি কেউ ঝড়ের বেগে এসে ফুলটাকে ছিড়ে আমাকে নিয়ে আরেকটু ভেতরে ঢুকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো।আচমকা ঘটনায় আমি হতবুদ্ধ হয়ে বাকহারা হয়ে পড়েছি।সম্পূর্ণ দেহ কালো তে মোড়ানো। লোকটা আমাকে শেওলা পড়া দেয়ালটার সাথে শক্ত করে চেপে ধরে আছে।আমি চোখ তুলে তাকাতেই লোকটার সাথে চোখাচোখি হয়।চোখগুলো কেমন লালছে বর্ণের হয়ে আছে।কেউ অধিক পরিমাণে রেগে থাকলে এমনটা হয়।চোখের মণি দুটো একেবারো কালো নয়, কিছুটা ঘোলাটে।
লোকটার মুখে কালো মাস্ক পড়া।লম্বা ঘন চুলগুলো কপালে চোখে এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে।আমি ভয়ে চিৎকার দিতে যাবো তখনই লোকটা নিজে দেয়ালের সাথে চেপে আমাকে তার সামনে রেখে নিজের সাথে আষ্টেপৃষ্টে নিলো।হাতের ফুলটা আমার কানে গুজে দিচ্ছে এমন সময়ই গলি দিয়ে দুটো লোক ছুটে গেলো।লোকটা তাদের প্রস্থান দেখে আমাকে ছেড়ে দিতে নিলেই আরও কয়েকজন এদিকে ছুটে আসার শব্দ শুনে আমার কোমর আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরে। অতঃপর লোকটা নিজের মুখ আমার ঘারের কাছে নিয়ে আসে।দূর থেকে দেখলে যে কেউ ধরে নিবে নিব্বা নিব্বি অনৈতিক কাজকর্ম করছে।
আমি ভয়ের চোটে মরি মরি অবস্থা। গলা দিয়ে কোনো সর বের হচ্ছে না।তখনই আরও তিনজন লোক এই গলি দিয়ে দৌড়ে আসলো।এদিক ওদিক তাকাতেই নজরে পড়লো আমাদের কে।লোকগুলো মাথা চুলকাতে চুলকাতে অন্যদিকে ছুটে চলে গেলো।লোকগুলো চলে যেতেই আমার কোমরে রাখা লোকটার হাতে জোর কমে আসলো।লোকটা যখন জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে তখনই আমি লোকটাকে ধাক্কা মেরে ছুটতে থাকলাম প্রাণপ্রণে।আমার হঠাৎ এমন কাজে লোকটার চোখ আরও লাল হয়ে উঠলো।মাস্কের আড়ালে ঠোঁট নাড়িয়ে নাড়িয়ে অশ্রাব্য ভাষায় কয়েকটা গা*লিও দিয়ে দিলো আামকে।
এদিকে আমি এমন ভাবে ছুটতে লাগলাম যেন পা থামলেই আমার সব শেষ হয়ে যাবে।লোকটা আমার প্রস্থান হওয়ার পথের দিকে পলকহীন তাকিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার কানে আসলো তখনকার লোকগুলো দৌড়ে আসার শব্দ।তৎক্ষনাৎ লোকটার ধ্যান ভঙ্গ হলো।লোকটা নিজের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত পায়ের দিকে তাকিয়ে বিরক্তিতে বিরবির করলো,
–ওহ্হ শীট,,
অতঃপর আর এক মূহুর্ত ব্যায় করলো না।লোকগুলো এখানে আসার আগেই এক লাফ মেরে বাউন্ডারি টপকে ঐপারে চলে যায়।
অন্ধকার রুমে হঠাৎই আমার মুখের উপর ফোনের ফ্ল্যাশ এসে আঁচড়ে পড়তেই নোনাজল সিক্ত চোখ দুটো পিটপিট করে খুললাম।সামনে ফোনের লাইট ধরে দাঁড়িয়ে আছে নোহা।এখানে নোহাকে দেখে ঝটপট চোখ দুটো মুছতে লাগলাম।যাতে নোহার নজরে না পড়ে।তবে আড়াল করতে পারলাম না।নোহা আমার সামনে হাঁটু ভেঙে বসে গাল ফুলিয়ে বললো,
–আর ইউ ক্রায়িং প্রিটি গার্ল?
তখন ইফানের উল্টো পাল্টা কথা শুনার পর আর ঘুম আসে নি।তারপর আস্তে আস্তে দরজা খোলে রুম থেকে বেরিয়ে সোজা জায়ান ভাইয়ের তালাবদ্ধ রুমে চলে এসেছি।তারপর লাইট জ্বালিয়ে পুরো রুমটাতে একবার চোখ বুলালাম। না এখনো আগের মতোই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে গুছানো আছে।কে বলবে এই ঘরে কয়েক বছর ধরে কেউ থাকে না।
এই ঘরের কোনো জিনিসে কেউ কখনো হাত দেয় না আমি ছাড়া।আমি উনার ওয়ার্ডরোব থেকে একটা ফ্যামেলি এলবাম বের করি।সেখানে আমাদের প্রতিটি মূহুর্তের স্মৃতি বাঁধানো।আমি এক এক করে প্রতিটি পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে জায়ান ভাই আর আমার কিছু ছবি দেখে থমকে যায়।সেখানে আমি নীল সাদার কম্বিনেশনে একটি শাড়ি পড়ে আছি।আর জায়ান ভাই সাদা শার্ট পড়ে আছে।আমি যখন উনার হাতের আঙ্গুল ধরে ঘুরপাক খাচ্ছি তখনই মূহুর্তটাকে ক্যামেরাই বন্দি করা হয়।আমি ছবিগুলোকে বুকের সাথে চেপে ধরে ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে যখন কল্পনার জগতে ডুবে গেছি,তখনই নোহা এসে হাজির।
–কি হলো প্রিটি গার্ল,তুমি কাঁদছ কেন?
আমি ওর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম,
–তুমি তো ঘুমাচ্ছিলে তাহলে এখানে কি করে আসলে?
–হ্যা তো ঘুমাচ্চিলাম।কিন্তু বারবার তোমার ফোন বাজতে থাকায় ঘুম ভেঙে গেলো।তারপর ফোন হাতে নিয়ে দেখি চোদ*নবাজ কল করেছে।আমি ফোনটা রিসিভ করতেই ফোনকলের লোকটার কন্ঠ শুনেই বুঝে গেছি,ওহ্হ হোলি এটা তো আমার ইফান বেইবি কল করেছে।
আমি নোহার দিকে চোখ সরু করে তাকিয়ে বললাম,
–ও কেন আবার কল করেছিলো?
–বেইবি তো তোমাকে খুব মিস করছে তাই।আর তুমি রুমে নেই শুনে আমাকে অনেক বকাঝকা করেছে হু।তাই তো আমি তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে এখানে আসলাম।
আমি নোহার কথাগুলো শুনার পর ওর দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম।তারপর উঠে দাঁড়ালাম ওয়ার্ডরোবে এলবাম টা আগের জায়গায় রাখার জন্য। তখনই পিছন থেকে নোহার গলা ভেসে আসে,,
–এই মেয়েটা কে প্রিটি গার্ল?
আমি তৎক্ষণাৎ পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখি নোহা ফোনের ফ্ল্যাশ ওর হাতের একটা ফটোতে ধরে দেখছে।আমি বড় বড় পা পেলে ওর কাছে এসে টান মেরে ছবিটা নিয়ে নিলাম।অতঃপর ঝটপট আগের স্থানে রেখে লক করে দিলাম।নোহা আবার প্রশ্ন করলো,
–কি হলো বল ঐ মেয়েটা কে?
আমি ওকে টেনে নিয়ে রুম থেকে বেরতে বেরতে শক্ত গলায় প্রতিত্তোর করলাম,
–সেটা তোমার না জানলেও চলবে,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,
(তোমরা অনেকে ধরতে পারছ না যে গল্পে দুটো সিন দেখানো হচ্ছে, একটা অতীত আরেকটা বর্তমান। আর জায়ান ভাইয়ের সিনটা সম্পূর্ণ অতীত। খুব তাড়াতাড়ি অতীতের চ্যাপ্টার ক্লোজ হবে।আর আমরা সম্পূর্ণ বর্তমানে ফিরে আসবো।অনেকের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে তাই ক্লিয়ার করে দিলাম বিষয়টা।হ্যাপি রিডিং ❤️)
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ৪৭
-
জাহানারা পর্ব ৫৩+৫৪
-
জাহানারা পর্ব ২
-
জাহানারা পর্ব ২৯+৩০
-
জাহানারা পর্ব ৬১+৬২
-
জাহানারা পর্ব ১৯+২০
-
জাহানারা পর্ব ৬৩+৬৪
-
জাহানারা পর্ব ১
-
জাহানারা পর্ব ৩৫+৩৬
-
জাহানারা পর্ব ৬