Golpo romantic golpo জল তরঙ্গের প্রেম

জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ৪


জল তরঙ্গের প্রেম

পর্ব সংখ্যা;০৪

লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি

বি:দ্র; সবাই নোট পড়বেন!

বেলা সাড়ে বারোটা!

অস্বস্তিতে গাঁট হয়ে পাত্র পক্ষের সামনে বসে আছে তরী।

তার পিঠ পিছনে শাড়ির অনেকটাই ভেজা। যার দরুণ পিঠ চুলকাচ্ছে। তরীর এমন অস্বস্তি ভরা শ্যাম সুন্দর ঘর্মাক্ত মুখশ্রীর; সৌন্দর্য টুকু গোগ্রাসে গিলে নিচ্ছে তরঙ্গের দৃষ্টি। কোলে অক্ষিযুগল নিবদ্ধ রেখে ও তরীর ঠাহর করছে। যে তরঙ্গ তার দিকেই তাকিয়ে। তরঙ্গ তার পাশের সোফাটাতে বসা। মিটিমিটি হেসে টেবিল থেকে মিষ্টির প্লেট হাতে তুলে নিলো তরঙ্গ।

সামনের সোফায় সুফিয়ান আর তার বাবা – মা বসা। কাজি সাহেব এখনো আসেন নি। সেন্টর টেবিল ভর্তি বিভিন্ন রকমের ফল, মিষ্টিতে। এতো সব সাজানো থাকলে ও কেউ কিছুই মুখে তোলেনি। সুফিয়ানের মা জহুরি চোখে তরী কে দেখছে। তরী কে তিনি নতুন দেখছেন না। তরীর মধ্যে দেখার মতো ও কিছু নেই। মোহনা বেগম তাকিয়ে আছেন তরীর মাথায় ঘোমটা টানা আঁচলটার দিকে। খয়েরি শাড়ি টা কেমন দেখাচ্ছে। কৌতূহল না দমিয়ে, তরী কে প্রশ্ন করলেন তিনি।

–” তোর শাড়ি টা ভেজা নাকি তরী?”

মামীর প্রশ্নে অপ্রস্তুত হয়ে উঠলো তরী। সবার দৃষ্টি ঘুরে তরীর উপর এসে থামলো। এতে তরঙ্গ একটু ও বিচলিত হলো না। সে আগের মতো বসেই মিষ্টি খাচ্ছে। খাওয়া শেষে মিষ্টির প্লেট টা টেবিলে রেখে আড়মোড়া ভেঙে বসলো। তরী কে চুপ থাকতে দেখে বুসরা বললেন;-

–” শাড়ি কিভাবে ভিজলো তরী? তোমাকে তো আমি শুকনো শাড়ি দিয়েছিলাম।”

সবার কৌতূহলী দৃষ্টি আর ওনাদের প্রশ্নে, তরী ঢোক গিললো। অক্ষিপটে ভেসে উঠলো তক্ষণকার ঘটনা টা।


–” শাড়ি টা চেন্জ করে আয়। আমি চাইছি না বড়মার বিয়ের শাড়ি টা নষ্ট হোক।”

তরঙ্গের কথায় আঁতকে উঠলো তরী। ছিটকে তরঙ্গের কাছ থেকে সরে গেলো সে। মায়ের শেষ চিহ্নটুকু যদি তরঙ্গ নষ্ট করে দেয়। তবে সে কি নিয়ে বাঁচবে? এই শাড়িতে মায়ের গায়ের গন্ধ মিশে আছে। তবে তা তরীর ভুল ধারণা। এতো দিনে তার মায়ের গায়ের গন্ধ বিলীন হয়ে; ন্যাপথলিনের গন্ধ স্থায়ী হয়েছে। তরীর ভাবনার মাঝে, তরঙ্গ তাড়া দিলো। পা ঘুরিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে থামলো সে। দুজনের মধ্যে এক হাতের দূরত্ব। তরীর ভয় আর অস্বস্তির সংমিশ্রণে রাগ চড়ে বসলো মাথায়।

ত্যাড়া কন্ঠে সুধালো সে,

–” শাড়ি পাল্টাবো না আমি। কি করতে পারবেন? এখন নিশ্চয়ই আমার গায়ে হাত তুলবেন না? সেই কেবল বাকি আপনার দ্বারা।”

তরঙ্গ অস্পষ্ট হাসলো। অস্ফুট স্বরে বললো সে;-

–” বিয়ে ছাড়া তোমাকে আমি ছুঁবো না তরী জান। এতোটা অধঃপতন আমার হয়নি। তোমাকে ভালোবাসি, এমন বলবো না যে আমি মহাপুরুষ। প্রেমিকার দেহের প্রতি টান নেই। তবে এখন সেই অঘটন ঘটাবো না।”

তরঙ্গের সাহিত্য আর প্রেম মাখা কথা গুলো ও তরীর মন ছুঁতে পারলো না।

–” আল্লাহ্, আপনাকে একটু সুবুদ্ধি দিলে ও পারতেন। তাহলে অন্তত নির্লজ্জের ন্যায় বড়দের সাথে বেয়াদপি করতেন না তরঙ্গ। আমাদের বাড়ির ছেলে এমন। ভাবতে আমার লজ্জা হচ্ছে।”

–” এসব ভেবে তোকে লজ্জা পেতে কে বলেছে জান? তুই কেবল আমার কথা ভেবে লজ্জা পাবি।”

তরীর বিরক্তি বাড়লো। এই অসময়ে দাঁড়িয়ে তরঙ্গের বাজে কথা শুনতে তার একটু ও ভালো লাগছে না। অতর্কিতে তরী তরঙ্গের ডান হাত মুঠোয় নিয়ে নিলো। অপর হাতে শাড়ি সামলে; টেনে দরজার সামনে এনে থামলো। পায়ের পাতায় ভর দিয়ে উপর ছিটকিনি খুলে তরঙ্গ কে বাহিরে দিকে ধাক্কা দিলো সে। মূহুর্তে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো তরঙ্গ। তরী ফের দরজা বন্ধ করে দেবার আগে। তরঙ্গ পকেটে হাত পুরে; পানি ভর্তি পলিথিন টা ছুঁড়ে মারলো তরীর পানে।

তরী বেচারি সরে যাওয়ার সময় টুকু ও পেলো না। মাথার চিকন ক্লিপে গেঁথে পলিথিন ছিঁড়ে তরীর শরীরের বাম পাশের কিছু টা অংশ ভিজে গেলো। হতভম্ব তরী রাগে অপমানে; নিজেকে সামলাতে না পেরে। ঠোঁট ভেঙে কেঁদে দিলো। তরঙ্গ সেভাবেই দাঁড়িয়ে বক্র হাসলো।

–” আমি ছাড়া অন্য কারো জন্য বউ সাজলে। তোর সেই সো কল্ড বর কে খুন করে ফেলবো। কথাটা মাথায় রাখিস।”

কথা শেষে দাঁড়ালো না তরঙ্গ। সপাটে দরজার কপাটে ধাক্কা বসালো তরী। রাগে তার শরীর জ্বলে যাচ্ছে। কোনো মতে নিজেকে সামলে ফ্যান চালিয়ে দিলো। ফ্যানের বাতাসে শাড়ি টা যদি শুকায়।


–” তরী? কথা বলছিস না কেন?”

মোহনা বেগমের ডাকে বর্তমানে ফিরলো তরী। নিজেকে সামলে নিচু স্বরে বললো সে;-

–” ওই তখন ওয়াশরুমে গিয়ে ছিলাম। তখন শাওয়ারের পানি পড়েছিলো।”

ওনাদের কথার মাঝে তরঙ্গ বলে উঠলো।

–” তবে শাড়ি পাল্টে আসতি।”

–” তাই তো।”

তার কথায় মোহনা বেগম তাল মেলালেন। তরঙ্গের সূক্ষ্ম খোঁচায় তরী আড়চোখে তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুড়ে দিলো। সেই দৃষ্টির ধার বুঝে তরঙ্গের ঠোঁটে ফুটে উঠলো গা-জ্বালানো এক চিলতে হাসি। তাদের শব্দহীন সেই লড়াইয়ে চোখ ছিল অস্ত্র, তরীর দীর্ঘ শ্বাস ছিল সাক্ষী। অথচ চারপাশের কেউই এই নিস্তব্ধ দ্বন্দ্বের আঁচ করতে পারলো না।


–” ভাই আপনি নাকি তরকারি জান কে বিয়ে করতে এসেছেন?”

তরঙ্গের কথায় কান থেকে ফোন নামিয়ে পেছনে ঘুরে তাকালো সুফিয়ান। তার থেকে অদূরে বুকে হাত বেঁধে টান টান সিনায় তরঙ্গ দাঁড়িয়ে। ফোনে অফিস থেকে কল আসায়; ড্রয়িং রুম ছেড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ছিলো সুফিয়ান। ড্রয়িং রুমে সবাই কথা বলছে। তাই এদিকটাতে আসা তার। তরঙ্গ কে দেখে মুচকি হাসলো সুফিয়ান। ফোন হাতের মুঠোয় নিয়ে হাসি হাসি কন্ঠে জবাব দিলো সে;-

–” না ভাই। আপনার বড় বোন তরী কে বিবাহ করিতে এলাম।”

সুফিয়ানের উত্তরে বেশ বিরক্ত হলো তরঙ্গ। তা তার মুখভঙ্গি দেখেই বোঝা গেলো।

–” আরে দূর, তরী আর তরকারি এক ই। আর ও আমার বড় বোন ও না। এইবার আসল কথায় আসি।”

তরঙ্গের মুখের সিরিয়াস ভাব দেখে সুফিয়ান আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করে উঠলো।

–” বলুন?”

–” ওর একটা ফারা আছে! জানেন?”

–” কি ফারা?”

–” বাসর রাতে ওর জামাই মরে যাবে। তাও সাধারণ ভাবে না। রক্ত বমি করতে করতে তার হার্ট ব্লক হয়ে যাবে। আপনি যদি এভাবে মরতে চান। তবে ও কে বিয়ে করুন ভাই। আমাকে ও বাঁচান।”

–” আপনাকে বাঁচবো মানে?”

মাথা চুলকে বাঁকা হাসলো তরঙ্গ। পর পর লাজুক হেসে সুধালো সে;-

–” আপনি না বিয়ে করলে। তো ওকে আমাকেই বিয়ে করতে হবে। সারাজীবন অবিবাহিত তো আর রাখতে পারি না। আফটার অল, আমি সচেতন নাগরিক।”

সুফিয়ানের মুখাবয় গম্ভীর হয়ে উঠলো। মুঠো শক্ত করে গমগমে স্বরে বললো;-

–” আপনি কি আমার সাথে মজা করছেন ভাই?”

সুফিয়ানের প্রশ্নে, মুহূর্তে বিস্ময়ের ছায়া নেমে এলো তরঙ্গের চোখে মুখে। বিস্ফারিত দৃষ্টিতে, সে তাকিয়ে রইলো সুফিয়ানের মুখের দিকে। যেন এমন প্রশ্ন সে জীবনে শোনেনি। অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে সুফিয়ানের বুকে হাত চেপে ধরলো তরঙ্গ।

–” তরঙ্গ দেওয়ান এই জীবনে কোনো দিন থ্যা বলেনি। যদি আজ ও বলে থাকে। তবে আপনি মরে যাবেন।”

–” থ্যা মানে?”

–” মি থ্যা,”

তরঙ্গের চালাকি ধরতে পারলো না সুফিয়ান। সে ভাবলো সত্যিই বলছে তরঙ্গ।

–” আমি এখন কি করবো ভাই?”

–” বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যান। বলবেন, আপনি তরীর থেকে বেটার ওয়াইফ ডির্জাব করবেন। ফারার কথা কিন্তু বলবেন না। কেমন?”

–” আচ্ছা ভাই। বড়ই উপকার করলেন আমার।”

তরঙ্গ মিটিমিটি হেসে, সুফিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরলো। পিঠে শক্ত চাপড় দিয়ে সুধালো সে।

–” কি যে বলেন না! মানুষের উপকার করাই তরঙ্গের ধর্ম, কর্ম।”

চলবে

( প্রিয় পাঠক মহল,
কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু? আর পর্ব ছোটো হওয়ার জন্য আমি দুঃখিত। বর্তমানে বড় সমস্যায় আছি প্রিয়রা। একটু প্রার্থনায় রাখবেন। ব্যস্ততা/সমস্যা শেষ হলে, ইনশাল্লাহ নিয়মিত হবো।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply