জল তরঙ্গের প্রেম
পর্ব সংখ্যা;০২
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
–” কালো হয়ে আবার আমার সুন্দর পোলার দিকে হাত বাড়াইছস? তোর হাত কাইট্টা দিতে পারলে ভালো লাগতো।”
চাচির ঝাঁঝালো কথায় তরীর চোখ কোটর জমে গাল বেয়ে জল নামলো। প্রতিউত্তর না করে হনহন করে রুমের দিকে চলে গেলো তরী। উপরের তলার শেষ রুম টা তার আর তিন্নির। বাড়ির উপরন্ত ফার্নিচারের অনুরূপ তাদের দশা। ফেলতে না পেরে এক কোণে তুলে রাখা। সৎ মায়ের সংসারে এর থেকে ভালো আপ্যায়ন পাওয়া যায় না। তরী তা জানে। এসবের জন্য এখন আর কাঁদে ও না সে। সেই কবে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে।
পঁচিশ বছরের যুবতীর এসব নিয়ে মন খারাপ করা টাও দোষের। সমাজ তা নিয়ে ও দোষ ধরবে। খেয়ে পরে কাজ না থাকলে যা হয়। তিন্নি অবশ্য এখনো ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদে। তরী থামাতে গেলে কান্নার বেগ বাড়ে। ভাঙা গলায় আওড়ায় তিন্নি;-
–” সবার আম্মু আছে। আমাদের কেন আম্মু নেই আপু? তুমি চলে গেলে আমার কি হবে? তুমি আর তরঙ্গ ভাইয়া ছাড়া তো কেউ আমাকে ভালোবাসে না।”
তরী তখন নরম সুরে বলে,
–” আমাদের জন্য আল্লাহ্ আছে টুনটুনি। তবে আবার মানুষ লাগবে কেন?”
তিন্নি তরীর ছোটো বোন। এইবারে পন্ঞম শ্রেণীতে উঠেছে। তাকে স্কুলে দিয়েই বাড়ি ফিরছিলো তরী। মাঝ পথে তরঙ্গ রিকশা থামিয়ে দিয়ে। ভাড়া মিটিয়ে ধমকে তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে এনে ছিলো। প্রথমে তরী গাঁট হয়ে বসে থাকলে ও তরঙ্গের গলার আওয়াজ বাড়ছিল দেখে দ্রুত নেমে পড়েছিলো সে। তার পরের ঘটনা কারোই অজানা নয়।
রুমে ঢুকে জানলা, দরজা গুলো খুলে দিলো তরী। সকালের এক গুচ্ছ রোদ এসে মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে গেলো। আজ তিন্নির স্কুলে পেরেন্ট মিটিং ছিলো। তাই তখন তাড়া হুড়ো করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জানলা আর বারান্দার দরজা টা খুলতে পারেনি।
ক্লান্ত তরী হেডবোর্ডের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দুই মিনিট বসলো। সকাল এগারো টা বাজে। নিচে গিয়ে রান্নার কাজ শেষে বাসন গুলো মাজতে হবে তাকে। বাড়িতে দুটো কাজের লোক থাকা শর্তে ও; রান্নার দিক তরী কে সামলাতে হয়। তার বাবা কাজের লোকের রান্না খেতে পারে না। সেই রেশ ধরে একুশ বছর থেকে তরীর কাঁধে রান্নার দায়িত্ব বর্তেছে।
দরজা ঢেলে রুমে ঢুকলো মধ্যে বয়সী তরীর সৎ মা, বুসরা। তরী ছোটো চোখে তা দেখে ও ওভাবেই বসে রইলো। রুমের মাঝ বরাবর এসে বিরক্তি মুখে সে বলে উঠলো;-
–” রান্না বান্না কি সব শেষ?”
–” না।”
তরীর মুখ থেকে না শুনে বেশ বিরক্ত হলেন বুসরা। তাড়া দিয়ে ফের সুধালেন তিনি;-
–” তোমার বাবা কাজি সাহেব কে সঙ্গে নিয়ে দুপুরে আসবেন। তার আগে রান্না টা শেষ করে। একটু কালো মুখটিতে কিছু মেখে আমাকে উদ্ধার করো। ছেলে টা যদি তোমাকে একটু দয়া করে বিয়ে করে। তবে বাঁচি আমরা।”
উত্তরের আসায়, তাচ্ছিল্য পূর্ণ দৃষ্টিতে তরীর পানে তাকালেন বুসরা। তবে তরীর মধ্যে কোনো হেলদোল দেখা দিলো না। অলস দেহে বিছানা ছেড়ে সিঁড়ির দিকে চলে গেলো সে। তা দেখে বুসরা বেজায় বিরক্ত হলো। ভেবেছিল তরী মুখে মুখে তর্ক করবে। তার বিনিময়ে তরীর সাথে এক চোট ঝগড়া করে যাবেন।
কিন্তু আশায় সেগুড়ে বালি। তরী বিনা বাক্যে ব্যয়ে প্রস্থান করলো।
ঘর্মাক্ত মুখে, খুন্তি দিয়ে মাংস নাড়ছে তরী।
পাশের চুলাতে পোলাওর পানি গরমে বসিয়েছে সে। ব্যস্ত পায়ে তরঙ্গ বাড়ি ঢুকলো। পরণের র্টি-শার্ট ঘামে চুপচুপে হয়ে আছে। চুল গুলো এলো মেলো হয়ে কপালে খেলা করছে। ড্রয়িং রুম সম্পূর্ণ ফাঁকা। সেদিকে একবার দেখে কিচেনে প্রবেশ করলো তরঙ্গ।
–” আজ নাকি তোর বিয়ে তরী?”
তরঙ্গের শক্ত কন্ঠে ও পেছনে তাকালো না তরী। আগের মতোই নিজের কাজে ব্যস্ত সে। তরঙ্গ মুঠো শক্ত করে নিজের রাগ সংবরণ করলো। এগিয়ে এসে তরীর কব্জি টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করালো তাকে। সাথে সাথে তরঙ্গ ঢোক গিললো। বিন্দু বিন্দু ঘামে পরিপূর্ণ তরীর কপাল, থুতনি আর সিটালো নাকের আগা। চুলোর আঁচে ঘেমে যাওয়ার দরুন। তরীর শ্যামলা বর্ণের মুখ কিছুটা লাল হয়ে উঠেছে। তরঙ্গ কথা গুলিয়ে ফেললো তার শ্যামবতী কে দেখে।
তাকে মুগন্ধ চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে। তরীর ফের ঘুরে রান্না দেখতে ব্যস্ত হলো। তরঙ্গ আবার নিজের দিকে ঘোরালো তাকে। এইবারে তরী বেশ বিরক্ত হলো। ইচ্ছে করে গরম খুন্তির শেক বসিয়ে দিলো তরঙ্গের হাতের উপর পৃষ্ঠে।
–” কাজ করতে দিচ্ছেন না কেন? আপনার এসব ব্যবহারে আমি বিরক্ত তরঙ্গ। পাগলের মতো আচরণ করছেন কেন?”
হাতের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে তরীর চোখে চোখ রাখলো তরঙ্গ।
–” তুই এই বিয়ে করবি না। এমন কি ওই লোকের সামনে ও যাবি না তরী জান।”
–” কেনো?”
–” কারণ আমি বলেছি।”
–” পাগলে কি-না বলে! ছাগলে কি-না খায়। আবেগের তাড়নায় মানুষ কতো কি-ই বলে।”
তরঙ্গ বাঁকা হাসলো। আগের থেকে ও দ্বিগুণ গম্ভীর করলো মুখশ্রী। এক পা এগিয়ে নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব কমালো। আলতো ফু দিলো তরীর চোখের ঘন পাপড়িতে। কেঁপে উঠলো তরী। তরঙ্গের ঝাঁঝালো গলায় বললো;-
–” পাগলের কাজের ঠিক নেই, কিন্তু! পাগলের সাথে যেহেতু তুলনা করেছিস। তবে এইবার, এই তরঙ্গ দেওয়ানের পাগলামি দেখবি তুই।”
–” কি করবেন আপনি?”
–” পাগলামি! সমুদ্রের বুকে ছোট্ট তরী রুপে নেমে তরঙ্গের সাথে লাগা উচিত হয়নি তরকারি রানী।”
–” একদম নাম উল্টো করে ডাকবেন না তরঙ্গ! আমি আপনার বড়!”
তরঙ্গ হাসলো। পর পর এক পা, দুই পা করে অনেক টা পিছিয়ে গেলো সে। কিচেনের দরজায় গিয়ে এক গাল হেসে মৃদ্যু চেঁচিয়ে উঠলো তরঙ্গ;-
–” তরকারি রানী! তরঙ্গের তরকারি রানী। তরঙ্গ দেওয়ানের তরকারি রানী! বলেছি, এখন কি করবি বল? চুমু খাবি? ধরে দেখা আমাকে??”
কথা শেষ করে, এক গাল হেসে তরঙ্গ দৌড়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে গেলো। সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে। দীর্ঘ শ্বাস চাপলো তরী। অতঃপর রান্নায় মনোনিবেশ করলো সে।
ছেলেটার পাগলামো দিন দিন সীমা ছাড়াচ্ছে। এমনকি কয়েকদিন ধরে হঠাৎ হঠাৎ, নির্লজ্জের ন্যায় আবোল তাবোল বকছে। যেমন সকালে ও বলেছিলো। যা এখন আর সহ্য করা যাচ্ছে না। আচানক কেউ শুনলে তার বদনাম হবে।
বিয়েতে সুখ থাকুক আর না থাকুক। তরঙ্গ কে দমানোর জন্য হলে ও আজ তরীর বিয়ে হওয়া টা জরুরী।
চলবে?
( প্রিয় পাঠক মহল,
গল্প টা কি আমি লেখা বন্ধ করে দিবো? আপনাদের কি অশ্লীল লাগছে লেখা?
নোট; গল্পের নাম #কৃষ্ণপক্ষেরপ্রেমাঙ্গীনি থেকে #জলতরঙ্গেরপ্রেম দিয়েছি। এই নাম টা মনে হচ্ছে একটু বেশিই সুন্দর! আপনাদের কি মনে হয়? ইনশাল্লাহ, সন্ধ্যায় গল্প পাবেন।)
Share On:
TAGS: জল তরঙ্গের প্রেম, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ৩৪
-
She is my Obsession পর্ব ৩১
-
She is my Obsession পর্ব ২২
-
She is my Obsession পর্ব ২৮
-
She is my Obsession পর্ব ১৪
-
She is my Obsession পর্ব ২১
-
She is my Obsession পর্ব ২৭
-
She is my Obsession পর্ব ১০
-
She is my Obsession পর্ব ১১
-
She is my Obsession পর্ব ২৬