খাঁচায় বন্দী ফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৫৫
সন্ধ্যার আগ মুহূর্ত। আকাশে তখন দিনের শেষ আলোটা ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। সূর্যের লালচে রঙ যেন দিগন্তের কিনারায় গলে গিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। রাস্তার ধুলো আর হালকা বাতাসে সেই আলোটা আরও কেমন মলিন, বিষণ্ন হয়ে উঠেছে।
দূরপাল্লার বাসটা কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে চলেছে ঢাকার দিকে। জানালার কাঁচ অর্ধেক খোলা। বাইরে থেকে আসা বাতাসে পর্দাটা হালকা দুলছে, আর মাঝে মাঝে ধুলো মিশে আসা সেই বাতাস তুযার মুখে এসে লাগছে।
তুযা জানালার পাশে বসে আছে। তার মুখটা ক্লান্ত, তবু অদ্ভুত এক দৃঢ়তা সেখানে স্পষ্ট। কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে তার কবিতা।
ছোট্ট গোলাপি ঠোঁট, নিঃশ্বাস নিতে নিতে বুকটা ধীরে ধীরে ওঠানামা করছে। মুখে শিশুর মতো শান্ত ঘুমের ছাপ। তার মাথাটা তুযার কোলের ওপর হেলান দিয়ে আছে। বাসের ঝাঁকুনিতে যেন মেয়ের ঘুম না ভেঙে যায়, আর কোথাও যেন আঘাত না লাগে সেই জন্য তুযা তার এক হাত দিয়ে জানালার লোহার ফ্রেম শক্ত করে ধরে রেখেছে।
বাসের প্রতিটা ঝাঁকুনিতে তার নিজের হাতটা ধাক্কা খাচ্ছে, কিন্তু সে হাত ছাড়ছে না। যেন তার হাতটাই একটা দেয়াল যাতে কবিতার শরীরে সামান্য ব্যথাও না লাগে।
মাঝে মাঝে তুযা নিচের দিকে তাকিয়ে মেয়ের মুখটা দেখে। মেয়েটা কী শান্ত হয়ে ঘুমোচ্ছে!
ঘুমের মধ্যে কবিতার চোখের পাপড়ি একটু কেঁপে উঠছে। হয়তো কোনো স্বপ্ন দেখছে। ছোট্ট নাকটা তার বুকের কাছে লেগে আছে। এলোমেলো চুলগুলো কপালের ওপর পড়ে আছে।
তুযা ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে মেয়ের চুলগুলো সরিয়ে দিল।
তারপর অনেকক্ষণ ধরে শুধু তাকিয়ে রইল কবিতার দিকে। এই ছোট্ট মুখটার দিকে তাকালে তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে নরম হয়ে যায়। পৃথিবীতে যত ঝড়, যত ভয়, যত অনিশ্চয়তা সব যেন এই ছোট্ট মুখটার সামনে এসে থেমে যায়।
এজন্যই সূদূর বিদেশে সাথে নিয়েই যাচ্ছে মেয়েটাকে। আুযার বুকের ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে আছে। এরপরেই তাদের বিদেশে পাড়ি দিতে হবে সবকিছু ছেড়ে।
সব সম্পর্ক, সব স্মৃতি, সব পরিচিত জায়গা।
বাসের কাঁচের বাইরে তাকালে দূরের গাছপালা দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে। অচেনা রাস্তা, অচেনা পথ। ঠিক যেমন অচেনা হয়ে যাচ্ছে তুযার ভবিষ্যৎও।
হঠাৎ করেই তার মনে পড়ে গেল মায়ের কথা।
কালটা যেন আবার চোখের সামনে ভেসে উঠল।
মা বারবার বলছিল,
“ফিরবি না ই যখন, কবিতা কে অন্তত রেখে যা। ওর মুখ চেয়ে না হয় দু’জন বেঁচে থাকবো”
কবিতাকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন।
“তুই ভালো থাকবি দূরে গেলে ভালো কথা। মেয়েটাকে নিস না বাবা। ও কে সম্বল করে আমরা দুই বুড়ো বুড়ি না হয় বেঁচে থাকবো”
তুযা মুচকি হেসে বলেছিলো
“তা হয় না মা। আমি ওকে নিয়ে এসেছিলাম প্রতিজ্ঞা করে, নিজের মেয়ে করে বড় করবো ওকে। ও অনেক বড় হবে দেখিও তুমি”
লতিফার বুকের ভেতর তখন যেন কেউ আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তুযা ধীরে ধীরে মায়ের হাত থেকে কবিতাকে নিয়ে বলেছিল,
“আমি আমার মেয়েকে কোথাও রেখে যেতে পারব না। আমার জীবন যদি নতুন করে শুরু হয়, তাহলে সেটা কবিতাকে নিয়েই হবে।”
লতিফা কেঁদে ফেলেছিলেন।
“তুই বুঝছিস না, বিদেশের জীবন সহজ না।”
তুযা তখন মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলেছিল—
“সহজ না বলেই তো আমি ওকে ছাড়তে পারব না মা। পৃথিবীটা যদি কঠিন হয়, তাহলে আমার মেয়ের পাশে আমাকেই তো থাকতে হবে।”
সেই কথা বলার পর আর কেউ কিছু বলতে পারেনি। বাসের ভেতর আবার এক ঝাঁকুনি লাগল। তুযা বাস্তবে ফিরে এল।
তার হাতটা এখনও জানালার ফ্রেম ধরে আছে। একটু ব্যথা করছে, তবু সে হাত সরাল না।
নিচের দিকে তাকিয়ে দেখল কবিতা এখনও ঘুমিয়ে।
মেয়েটার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসির মতো কিছু একটা ফুটে আছে।
তুযার বুকটা হঠাৎ করেই কেমন করে উঠল।
সে খুব আস্তে করে ফিসফিস করে বলল—
“কবিতা…”
মেয়েটা অবশ্য কিছুই শুনল না। ঘুমের ভেতরেই রয়ে গেল। তুযা আবার তার মুখের দিকে তাকাল।
এই ছোট্ট মানুষটার জন্যই সে সবকিছু ছেড়ে যেতে পারছে। নিজের শহর, নিজের মানুষ, নিজের শেকড়। তার মনে হলো পৃথিবীতে যদি কোনো জিনিস সত্যিই নিজের হয়, তাহলে সেটা এই মেয়েটাই।
বাসটা তখন ঢাকার দিকে দ্রুত ছুটে চলেছে।
সামনের পথ দীর্ঘ। কিন্তু তুযার কোলের ওপর ঘুমিয়ে থাকা কবিতার উষ্ণতা তাকে একটা অদ্ভুত সাহস দিচ্ছে।
সন্ধ্যার পরের নিস্তব্ধ সময়। আকাশে তখন ধীরে ধীরে রাত নেমে এসেছে। দূরে কোথাও কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে, মাঝে মাঝে বাতাসে গাছের পাতার শব্দ। গ্রামের সেই একতলা ছোট্ট বিল্ডিংয়ের ঘরটায় মৃদু আলো জ্বলছে। একটা হলদেটে বাল্ব, যার আলো খুব উজ্জ্বল না, আবার একেবারে অন্ধকারও না। আলোটা যেন ঘরের ভেতর নরম একটা আবেশ তৈরি করেছে।
ঘরের জানালাটা অর্ধেক খোলা। বাইরে থেকে হালকা বাতাস ঢুকে পর্দাটা আস্তে আস্তে দুলিয়ে দিচ্ছে। সেই বাতাসে ফুলের গন্ধও যেন ভেসে আসছে হয়তো উঠোনের গন্ধরাজ গাছ থেকে।
বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ফুলমালা।
আজ তার পরনে নীল শাড়ি। খুব বেশি সাজগোজ না, তবু তাকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। মাথার ঘোমটাটা একটু নিচে নেমে আছে, যেন মুখটা আড়াল করে রেখেছে। কানের পাশ দিয়ে কয়েকটা চুল বেরিয়ে এসে গালে লেগে আছে।
তার বুকটা কেমন ধুকপুক করছে। আজকের রাতটা অন্যরকম। তার চোখ নিচু। হাত দুটো একসাথে জড়ানো। যেন কী করবে বুঝতে পারছে না।
ঠিক তখনই দরজাটা আস্তে করে বন্ধ হওয়ার শব্দ হলো। ফুলমালা একটু চমকে তাকাল। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে মাহিদ । পরনে সাদা পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি। তার চোখে এক অদ্ভুত কোমলতা। সেই চোখে আজ দুষ্টুমির ঝিলিক নেই, আছে
অন্যরকম একটা মায়া। কিছুক্ষণ দুজনেই চুপচাপ। ঘরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। মাহিদ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।
তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছে ফুলমালার দিকে।
নীল শাড়িটা মৃদু আলোয় আরও গভীর নীল হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে যেন রাতের আকাশের একটা টুকরো এসে জড়িয়ে আছে তার শরীরে।
মাহিদ একটু থেমে নরম গলায় বলল,
“এত চুপ করে দাঁড়িয়ে আছ কেন?”
ফুলমালা মাথা আরও নিচু করে ফেলল।
মৃদু কণ্ঠে বলল,
“এমনি”
মাহিদের ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠল। আরও একটু কাছে এল ফুলমালার।
“আমারে দেখলে এত লজ্জা লাগে নাকি?”
ফুলমালা কিছু বলল না। শুধু তার আঙুলগুলো আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। মাহিদ হাত বাড়িয়ে খুব আস্তে করে ফুলমালার মাথার ঘোমটাটা একটু সরিয়ে দিল। ঘোমটার আড়াল থেকে তার মুখটা স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সেই লাজুক চোখ, গোলাপি গাল, কাঁপতে থাকা ঠোঁট। মাহিদের বুকের ভেতরটা কেমন নরম হয়ে গেল।
সে ধীরে ধীরে বলল,
“ফুল…”
ফুলমালা চোখ তুলে তাকাল।
“জি?”
মাহিদ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব আস্তে করে বলল,
“তুমি জানো? তোমারে আমার কত সুন্দর লাগে?”
ফুলমালার গাল আরও লাল হয়ে উঠল। সে চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আপনি এমন কথা বলেন ক্যান…”
মাহিদ হালকা হেসে তার হাতটা ধরল।
ফুলমালা একটু কেঁপে উঠল। কিন্তু হাত সরাল না।
মাহিদের হাতটা উষ্ণ। সেই উষ্ণতা যেন ধীরে ধীরে তার বুকের ভেতর ছড়িয়ে পড়ছে। মাহিদ তাকে একটু কাছে টেনে নিল। ফুলমালা এখন একেবারে তার সামনে দাঁড়িয়ে।
দুজনের মাঝে আর তেমন দূরত্ব নেই। বাতাসে তাদের নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছে। মাহিদ খুব আস্তে করে তার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। ফুলমালার চোখ বন্ধ হয়ে গেল। মনে হলো বুকের ভেতরটা ঢেউ খেলছে। মাহিদ তার মুখটা দুহাতে আলতো করে ধরে বলল,
“ডর লাগতেছে?”
ফুলমালা ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল।
“অল্প”
এই কথাটা শুনে মাহিদের চোখে অদ্ভুত কোমলতা ফুটে উঠল। সে ফুলমালাকে বুকে টেনে নিল।
ফুলমালা কিছুক্ষণ দ্বিধা করল… তারপর ধীরে ধীরে মাথাটা মাহিদের বুকের ওপর রেখে দিল।
ঘরের মৃদু আলোয় সেই মুহূর্তটা যেন স্থির হয়ে রইল। দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। বাইরে রাত আরও গভীর হচ্ছে।
আর সেই নীরব রাতের ভেতর, ধীরে ধীরে তারা একে অপরের আরও কাছাকাছি চলে এলো
লজ্জা, মায়া আর বিশ্বাসের উষ্ণতায় একে অপরকে নিজের করে নিল।
ঘরের মৃদু আলো তখনও জ্বলছে,
আর সেই আলোয় ফুলমালা আর মাহিদের নতুন জীবনের এই রাতটা নরম এক ভালোবাসার আবরণে ঢেকে রইল।
তুযা আর কবিতার চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছাতে রাত হলো। সাইফের মন মেজাজ ভারি। শুধু সাইফ না, সকলেরই মন খারাপ। তুযার হুট করে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত টা মেনে নিতে পারছে না কেউ। যদিও প্ল্যান টা বহু দিন ধরে করা তুযার। কিন্তু কবিতাকে নিয়ে যাওয়ার প্ল্যান টা হঠাৎ ই। সব কিছু খুব দ্রুত ম্যানেজ করে ফেলেছে। টাকা অবশ্য একটু বেশিই ঢালতে হয়েছে। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে কবিতা কে দীঘির ঘরে ঘুমাতে পাঠালো।
সোফায় গা এলিয়ে চোখ বুজে আছে তুযা। সাইফ কাধে হাত রাখতেই চোখ তুলে তাকালো। নিজের কাঁধে থাকা সাইফের হাতটা নিজের হাত দিয়ে ধরে বলল
“কিছু বলবি?”
সাইফ তুযার হাত ধরে টেনে বলল
“আমি না, আজ তুমি বলবে। চলো ছাদে চলো”
তুযা উঠলো। গেলো সাইফের পিছে পিছে। ছাদের তালাটা খুলে দুই ভাই গিয়ে ছাদের কার্নিশ ঘোষে বসলো।
তুযা বলল
“আমি জানি কি শুনতে চাস….
তুযা বলতে শুরু করলো
সন্ধ্যার শেষ আলোটা তখন নদীর জলে ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছিল। আকাশে লালচে রঙের ছোপ, বাতাসে কেমন অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। তুযা অনেকক্ষণ ধরে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত। তার মনে হচ্ছিল হয়তো আজও হাবিব চৌধুরীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
পা দুটো যেন আর চলতে চাইছিল না। আশাহত হয়ে সে নদীর ধারের সরু পথ ধরে ফিরে যাচ্ছিল। মাথার ভেতর বারবার ভেসে উঠছিল সেই মুখটা তার জোৎস্না । তার শেষ চাহনি। সেই অসহায় চোখ জোড়া।
ঠিক তখনই দূরে একটা ছায়ামূর্তি দেখা গেল।
লোকটা নদীর ঘাটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। একটা বিড়ি ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়ছিল নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে।
তুযা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারল না। বুকের ভেতর ধক করে উঠল। হাবিব চৌধুরী। নিজের ছোট কাকা। যে লোকটা তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে কেড়ে নিয়েছে।
এক মুহূর্তে তুযার চোখের সামনে সব লাল হয়ে উঠল। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। পায়ের শব্দ প্রায় নেই বললেই চলে।
হাবিব তখনও বুঝতে পারেনি কে তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।
“কাকা…”
হঠাৎ কানে আসা শব্দে হাবিব চমকে ঘুরে দাঁড়াল।
“তুই?”
তার কণ্ঠে বিস্ময় ছিল, কিন্তু তুযার চোখে ছিল এক অদ্ভুত নীরব আগুন। গুলি লাগার নাটক পরে পালিয়েছে পুলিশ হেফাজত থেকে।
তুযা কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল। যেন এতদিনের জমে থাকা প্রতিটা প্রশ্ন তার চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে।
“ওকে কেন মেরেছিলেন?”
নদীর বাতাসে তার কণ্ঠটা কেমন ভারী শোনাল।
হাবিব প্রথমে হেসে উঠল। ঠোঁটের কোণে অবজ্ঞার হাসি।
“একটা মেয়ের জন্য তুই আমার কাছে হিসাব চাইতে এসেছিস?”
এই কথাটাই যেন শেষ আগুনটা জ্বালিয়ে দিল তুযার ভেতরে। তার হাত মুঠো হয়ে উঠল।
পরের মুহূর্তে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটল।
তুযা ঝাঁপিয়ে পড়ল। দুহাতে হাবিবের কলার চেপে ধরে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল মাটিতে।
হাবিব প্রথমে সামলে উঠতে চেষ্টা করল, কিন্তু তুযার রাগ তখন ঝড়ের মতো।
সে আর কিছু শুনছিল না, দেখছিল না। শুধু মনে হচ্ছিল এই মানুষটাই তার জীবনের আলোটা নিভিয়ে দিয়েছে।
ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তারা দুজনেই নদীর একদম ধারে এসে পড়ল।
পানি অন্ধকার হয়ে আছে নিচে।
হাবিব এবার ভয় পেয়ে গেল।
“পাগল হয়েছিস নাকি তুই?”
তুযার চোখে তখন অদ্ভুত স্থিরতা।
সে ধীরে ধীরে বলল,
“আজ ওর জন্য বিচার হবে।”
এরপর সে সমস্ত শক্তি দিয়ে হাবিবকে ঠেলে দিল।
একটা ভারী শব্দ। নদীর কালো পানিতে ছপ করে পড়ে গেল হাবিব চৌধুরী।
কয়েক সেকেন্ড পানিতে ছটফট করার শব্দ শোনা গেল। তারপর সবকিছু আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
তুযা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল নদীর পাড়ে।
বাতাসে শুধু পানির গন্ধ। আর দূরে কোথাও শালিক ডাকছে।
তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা তৈরি হলো।
প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেছে।
তবু মনে হচ্ছিল যাকে হারিয়েছে, সে আর কখনো ফিরে আসবে না।
তুযা ফোস করে নিশ্বাস ছাড়লো। সাইফ নিরুদ্বেগ ভাবে বসে আছে। হঠাৎ বলল
“আরো অনেক কিছু জানার আছে দাদাভাই”
চলবে? তোমরা জানো বিদ্যুৎ এর সমস্যার কারণে লিখতে পারছি না। অনেক কষ্টে লিখলাম আজ। কেমন হইছে বলিও।🤍🫶
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল ৩৮ এর শেষাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩০
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৭
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৬