খাঁচায় বন্দী ফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৫৪
সকাল সকাল চৌধুরী বাড়িতে এসেছে এক মেহমান। হাসান চৌধুরীর বাল্যবন্ধু। তাকে ঘিরে রান্না রান্নার ব্যাস্ততা। আস্ত একটা মানুষ যে কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ, সে ব্যাপারে কারোর ভ্রূক্ষেপ নেই। সবাই ভাবছে পুলিশ এর হাত থেকে বাচতে হয়তো কোথাও গা ঢাকা দিয়েছে হাবিব। সায়রার কথা বলে না, মন মেজাজ ভার করে থাকে সবসময়। কয়েক দিনে বেচারির কি হাল হয়েছে চেহারার। চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। চেহারার উজ্জ্বলতাও নেই এক ফোটা।
অদিতি রান্না করছে। দীঘি কলেজের জন্য তৈরি হয়ে টেবিলে বসে আছে নাস্তার জন্য। সায়রা মেয়েকে প্লেটে করে পরোটা আর ডিম পোঁচ দিলো। দীঘি চুপচাপ খাচ্ছে। সাইফ এসে দীঘির পাশে বসে বলল
“কলেজে নাকি কার সাথে ঝামেলা করেছিস?”
দীঘি খাবার চিবোতে চিবোতে বলল
“সেসব আমি দেখে নিব ভাইয়া। তোমায় ভাবতে হবে না”
সাইফ চোখ সরু করে বলল
“একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছিস না?”
“বাড়াবাড়ি? আমি?”
সাইফ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঘাড় ঘোড়ালো একবার। ফের দীঘির দিকে তাকিয়ে বলল
“ছেলেটার সম্পর্কে জানিস তুই? কতটা ডেঞ্জারাস ও? দ্যাখ এমনিতেই বাড়ির অবস্থা চোখো দেখা যাচ্ছে না। তোর বাবা কে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। একটু তো সিরিয়াস হ। বড় হয়েছিস এখন, কলেজে পাড়ছিস। ছোট নেই কিন্তু তুই”
দীঘি আরামসে খেয়ে উঠে গেলো। যেন কানেই যায়নি কি বলল। সাইফ উঠে যেতে লাগলে অদিতি বলল
“একি উঠছেন কেনো? নাস্তা দিচ্ছি তো”
“খাব না”
সাইফ আর কোনো কথা না বলেই চলে গেলো।
অফিসে কাজের চাপ আছে। রুমে গিয়ে রেডি হয়ে নিল। ঘড়ি পরতে পরতে বের হচ্ছে তখনই অদিতি ঢুকলো ঘরে। অদিতি বুঝতে পারছে সাইফ কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত। কোমর জড়িয়ে ধরে আলতো করে বুকে মাথা রেখে বলল
“কি হয়েছে আপনার? এত চিন্তা কেন করছেন?”
সাইফ অদিতির পিঠে হাত রেখে বলল
“তোমাদের নিয়ে চিন্তা হয়। সেদিন আল্লাহর অশেষ রহমতে ফিরে এসেছো। আবার যদি কিঋু হয়ে যায় তোমার?”
অদিতি সাইফ কে আশ্বস্ত করে বলল
“বাবা বাড়িতে কত গার্ড রেখেছে দেখেছেন? কেউ ঢুকতে পারবে না আর। আর আমি তো বাড়ির বাইরে যাই ও না”
সাইফ অদিতির কপালে ছোট্ট করে চুমু খেয়ে চলে গেলো।
বৃষ্টির পরের সকাল টা সুন্দর ও সতেজ। এরই মধ্যে তুযা শুরু করেছে এক পাগলামি। প্রধানদের কবরস্থানে খুড়ছে এক নতুন কবর। ওয়াহাব চৌধুরী ওর সাথে কথায় পারবে না ভেবে কিচ্ছু বলল না। লতিফা কেও বলে দিয়েছে ও যা খুচি করুক কিচ্ছু যেন না বলে। বড় করে কবর খুঁড়ে সেখানে নিয়ে পুতে দিলো জোৎস্নার সেই সুতির শাড়ি খানা। রং টা তুযার বড় ভালো লাগতো, তাই জন্যে নিয়ে নিয়েছিলো নিজের আলমারি তে রাখবে বলে। বিয়ের পর মাঝেসাঝে বের করে সেটা পরবে জোৎস্না। সেই সুবাদে শাড়িখানা জায়গায় পেয়েছিলো তার আলমারি তে। কিন্তু আজ তা নিছক স্বপ্ন, যা কখনো পুরনো হবার না। এক খানা সাদা কাপড়ে মুড়ে সেই শাড়ি কবর দিলো। মাটি দিয়ে ঢেকে দিলো তারপর। ফলক বানানোর লোক ও খবর দিয়েছে। কাল থেকে কাজ শুরু করবে।
জোৎস্না এখানেই থাকবে। খুব মনে পড়লে কবরের পাশে বসে অনুভব করবে জোৎস্না কে। লতিফা ছেলের পাগলামি দেখে চোখ মুছে। সে সময় লতিফা ও কম গাল মন্দ করেনি জোৎস্না কে। তারা সকলেই ভাবতো প্রধান দের সাথে আত্নীয় করবে টাকার লোভে, এজন্য জোৎস্না তুযা কে তাবিজ করেছে। রুপ দেখিয়ে ভুলিয়েছে, বশ করেছে এমন কটুক্তি কম করেনি।
সেখান থেকে ফিরে তুযা ব্যাগ গোছাতে লাগলো। কাল সকালে তার ফ্লাইট। আজ রাতটা ঢাকাতে থাকতে চাইছে। ওয়াহাব চৌধুরী সেই যে ঘরে খিল তুলেছে, এখনো খুলছে না। পাজি হোক, যতই জ্বালাক তুযা তার একমাত্র ছেলে। এই ছেলে বাড়ি ছেড়ে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমাবেন তা মানতে পারছে না কিছুতেই। লতিফা তুযা কে ধরে যেই কান্না শুরু করেছে, থামার নাম নেই।
তুযা লতিফার গাল দু-হাতে আগলে নিয়ে বলল
“মা তুমি চাও না আমি ভালো থাকি?”
লতিফা কাঁদতে কাঁদতে বলল
“আমি চাই তুই আমার চোখের সামনে থাক। দূরে ভালো আছস না খারাপ আছস আমি জানমু কেমনে হ্যা? তুই জাইস না বাজান। আমি তোরে ছাড়া কেমনে থাকুম?”
তুযা লতিফা কে জড়িয়ে ধরে বলল
“মা, আমি ভালো থাকতেই যাচ্ছি। এ দেশ ছেড়ে দূরে গেলেই আমি ভালো থাকমু”
কিন্তু যাওয়ার আগে আরেকটা জরুরী কাজ আছে তুযার। পকেট থেকে একটা খাম বের করে আকবর এর কাছে দিলো
“আকবর….. “
আকবর কথা বলে না। তুযা কাঁধে হাত রাখতেই হু হু করে কেঁদে ফেললো আকবর। এত জ্বালিয়েছে এই লোকটাকে তুযা, তবুও তার বিদায়ে কেমন কাঁদছে। তুযা স্বভাব মতই হাসলো খিলখিলিয়ে।
“ওমন মাইয়া লোকের মত কান্দো ক্যান?”
আকবর হাতের উল্টো পিঠে চোখ মুছলো। তুযা খামটা আকবরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল
“এটা ফুলের বাড়িতে পৌঁছে দিও। মানিল থাকলে ওর কাছেই দিতাম। ওয় তো নাই, যাক আরেকটা কান্দনের মানুষ কমছে।”
বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে তুযা রওনা হলো ঢাকায় চৌধুরী বাড়ির দিকে। আকবর ও দেরি না করে চলে গেলো ফুলমালা দের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
বাড়ির ঠিক পাশেই পুকুরটা। যেন গ্রামের বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা শান্ত এক আয়না। চারপাশে কলাগাছ, শিউলি আর পুরোনো কাঁঠালগাছের ছায়া পড়ে আছে পানির উপর। বিকেলের রোদটা একটু নরম হয়ে এসে পানির গায়ে সোনালি দাগ এঁকে দিয়েছে। মাঝে মাঝে হালকা বাতাসে ঢেউ দুলে উঠছে, তাতে সেই আলোও নড়ছে। পুকুরঘাটের ইটগুলোতে শ্যাওলা ধরেছে, পুরোনো অথচ আপন একটা সৌন্দর্য। সেই ঘাটে দাঁড়িয়ে আছে ফুলমালা।
গ্রামের বধূদের মতোই পরনে হালকা রঙের শাড়ি, মাথায় লম্বা ঘোমটা টেনে রেখেছে। হাত দুটো আঁচলের কাছে গুটিয়ে ধরে আছে সে। মনে হচ্ছে বুকের ভেতরটা কেমন ধকধক করছে। নতুন বউয়ের মতো লজ্জা যেন তাকে পুরোটা জড়িয়ে রেখেছে।
ওদিকে মাহিদ ইতিমধ্যেই পুকুরে নামার জন্য তৈরি। পরনে লুঙ্গি আর সাদা গেঞ্জি। গেঞ্জিটার হাতা একটু গুটিয়ে রেখেছে। মুখে সেই চেনা দুষ্টু হাসি। মাহিদ পুকুরের পানিতে পা ডুবিয়ে বলল,
“কি হলো ফুল? দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি? নামবে না?”
ফুলমালা মাথা নিচু করে আরও ঘোমটা টেনে নিল। নরম গলায় বলল,
“আপনি আগে গোসল করেন… আমি পরে নামবো।”
মাহিদ ভ্রু তুলে তাকাল।
“পরে মানে? আমি তো ভাবছিলাম একসাথেই গোসল করবো।”
এই কথা শুনে ফুলমালার গাল আরও লাল হয়ে উঠল। সে একটু অস্থির হয়ে চারদিকে তাকাল, যেন কেউ দেখে ফেলবে কিনা।
“এমন কথা বলে কেউ? কেউ দেখে ফেললে কি বলবে!”
মাহিদ হেসে ফেলল।
পুকুরের পানিতে একটু ছিটা মেরে বলল,
“কে দেখবে? এই পুকুর তো শুধু আমাদেরই।”
তারপর হঠাৎই একটু পানি তুলে ফুলমালার দিকে ছিটিয়ে দিল। ঠান্ডা পানি গায়ে পড়তেই ফুলমালা চমকে উঠল।
“আহ! আপনি এটা কি করলেন!”
মাহিদের হাসি যেন থামেই না।
“পুকুরে নামানোর জন্য একটু সাহায্য করলাম।”
ফুলমালা এবার সত্যিই লজ্জায় কুঁকড়ে গেল।
ঘোমটার আড়াল থেকে চোখ তুলে একবার তাকাল মাহিদের দিকে, তারপর আবার নিচু করল। মাহিদ এবার একটু কাছে এগিয়ে এল।
কণ্ঠটা আগের চেয়ে নরম।
“এই যে… এত লজ্জা পাচ্ছেন কেন? আমি কি অপরিচিত কেউ?”
ফুলমালা আস্তে করে বলল
“অপরিচিতই তো”
এই কথাটা শুনে মাহিদের দুষ্টু মুখটা মুহূর্তে একটু থেমে গেল। তারপর মৃদু হেসে বলল,
“তাহলে লজ্জা নিয়েই নামুন। পুকুরের পানি কিন্তু বেশ ঠান্ডা… ভালো লাগবে।”
ফুলমালা ধীরে ধীরে পা নামাল পানিতে।
পানি ছুঁতেই তার শরীর কেঁপে উঠল।
পুকুরের জল তখন হালকা ঢেউ তুলে দুজনের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সন্ধ্যার হাওয়া বইছে ধীরে ধীরে। আর সেই শান্ত পুকুরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দুজন। লজ্জায় তাকাতে পারছে না ফুলমালা, আর দুষ্টু হাসিতে ভরা মাহিদ এর মুখ।
গোসল শেষ হতে হতে আকাশের রং একটু বদলে গেল। বিকেলের সোনালি আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে উঠছে, চারপাশে ঝিরঝির বাতাস। ফুলমালা আগে ঘাটে উঠল। ভেজা শাড়িটা শরীরে লেপ্টে আছে বলে সে তাড়াতাড়ি ঘোমটা টেনে নিল। মাথা নিচু করে দ্রুত পা চালিয়ে বাড়ির ভেতরের দিকে চলে গেল।
মাহিদ তখনো পুকুরের পানিতে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছিল সেই দিকেই যেদিকে ফুলমালা চলে গেল। কিছুক্ষণ পর সেও ধীরে ধীরে ঘাট থেকে উঠে এল। শরীর মুছতে মুছতে উঠোনে এসে দাঁড়াল।
বাড়ির ভেতরের ছোট ঘরটার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ভেজা কাপড় বদলানোর জন্য ফুলমালা সেখানে ঢুকেছে। মাহিদ গিয়ে দাড়াতেই দরজা বন্ধ করে দিলো ফুল। দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে একটা ক্ষীণ আলো দেখা যাচ্ছে।
মাহিদ প্রথমে দাঁড়িয়ে ছিল দূরে। কিন্তু কৌতূহল যেন পা দুটোকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আনল।
অজান্তেই তার চোখ গিয়ে পড়ল সেই দরজার ফাঁকে।
ভেতরে ফুলমালা ভেজা শাড়িটা খুলে শুকনো কাপড় নিতে ব্যস্ত। ভেজা চুলগুলো কাঁধ বেয়ে পিঠে নেমে আছে, মাঝে মাঝে সে আঁচল দিয়ে চুল মুছছে। তার চলাফেরায় একটা সরলতা আছে। কারণ সে জানেই না কেউ তাকিয়ে আছে।
মুহূর্তেই মাহিদের বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।
তার গলা হঠাৎ শুকিয়ে এলো। বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ধুকপুকানি শুরু হলো। যেন নিজেরই হৃদস্পন্দন সে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে।
এমন করে কখনো দেখেনি ফুলমালাকে।
এই মেয়েটাই তার ঘরের মানুষ, এই ভাবনাটা হঠাৎ করে মনে এমন এক অচেনা অনুভূতি এনে দিল, যেটা সে ঠিক ভাষায় ধরতে পারল না।
মাহিদ দ্রুত চোখ সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু পারল না। তার মনে হচ্ছিল লাজুক সেই মেয়েটা, যে একটু আগে পুকুরে নামতেও লজ্জা পাচ্ছিল, সে এখন একেবারে উন্মুক্ত শরীরে নিজের মতো করে আছে। হঠাৎ নিজেরই উপর একটু লজ্জা লাগল মাহিদের। সে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ফেলল, তারপর চোখ নামিয়ে নিল।
মনে মনে বলল,
“কি যে করছি আমি…”
তারপর দ্রুত সরে গিয়ে উঠোনের একপাশে দাঁড়িয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পরে দরজা খুলে ফুলমালা বের হলো। এখন তার পরনে শুকনো শাড়ি, মাথায় আবার লম্বা করে টানা ঘোমটা।
মাহিদ তাকাতেই ফুলমালা একটু চমকে উঠল। তারপর লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলল। মাহিদ কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল। তার ভেতরের অদ্ভুত অনুভূতিটা তখনও পুরোপুরি থামেনি বরং আরো গভীর হয়ে আছে।
শুকনো ঢোক গিলে ধীরে ধীরে বলল,
“ফুল… ঠান্ডা লাগেনি তো?”
ফুলমালা নরম গলায় বলল,
“না… আপনার লাগছে?”
মাহিদ একটু থেমে হালকা হাসল।
তার কণ্ঠে এবার আগের দুষ্টুমি নেই, বরং অদ্ভুত ঘোর লাগা কন্ঠে বলল
“তুমি তো আমার স্ত্রী ফুল। আমার অধিকার আছে না তোমাকে দেখার?”
কথাটা শুনে ফুলমালার গাল আবার লাল হয়ে উঠল। উঠোনের কাঁঠালগাছের পাতায় তখন সন্ধ্যার হাওয়া দুলছে। ফুল উত্তর না দিয়ে ভেজা শাড়িটা দরিতে মেলে দিয়ে দ্রুত ঘরে চলে গেলো। মাহিদের একার সংসার। বাবা থাকেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী কে নিয়ে অন্য গ্রামে। ফুলমালা ভিতরে যাওয়ার পরেও মাহিদের সেই ঘোর কাটলো না। চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছে স্বীয় স্ত্রীর ভেজা নগ্ন শরীর। শান বাধানো গাছের গোড়ায় বসতেই তাদের বাড়িতে এলো আকবর। আকবর কে চিনে মাহিদ। ফুলমালার বিয়েতে পরিচয় হয়েছে। প্রধান বাবু দের কর্মচারী।
মাহিদ উঠে দাড়িয়ে আকবর এর সাথে হাত মেলালো।
“কেমন আছেন? আসেন ভিতরে আসেন?”
“না এখন সময় নেই। ফিরতে হবে। আপনার স্ত্রীর একটা চিঠি আছে। ও বাড়ি থেকে পাঠানো হয়েছে”
কেমন হয়েছে বলিও পাখিরা 🥹🫶
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭
-
নূর এ সাহাবাদ গল্পের লিংক
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪২ এর শেষাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩২
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৫
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৫