খাঁচায়বন্দীফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব-৫২
সকালটা যেন আজ অন্যরকম। ভোরের আলো উঠতেই পুরো গ্রামটা ধীরে ধীরে জেগে উঠেছে। দূরের বাঁশবাগান থেকে কোকিলের ডাক ভেসে আসছে, পুকুরের ধারে ধোঁয়া উঠছে চুলোর আগুনে, আর উঠানের মাঝখানে আজ জমেছে এক উৎসবের আয়োজন।
আজ ফুলমালার গায়ে হলুদ।
পুরনো দিনের সেই গ্রাম্য আয়োজন। কাঁচা মাটির বড় উঠানটা ভোরেই ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেছে পাশের বাড়ির মেয়েরা। উঠানের মাঝখানে গোল করে লেপা হয়েছে হলুদ মাটি, তার উপর ছড়ানো ধান আর দুর্বা । চারদিকে কলাগাছ গেঁড়ে দেওয়া হয়েছে, পাতায় পাতায় শিশির জমে ঝলমল করছে।
একপাশে পিঁড়ি পেতে তার উপর লাল কাপড় বিছানো হয়েছে। তার উপর রাখা হলুদের বাটি, সরিষার তেল, দই আর আতরের ছোট বোতল। পাশে একটা পিতলের থালায় গাঁদা ফুলের মালা।
পাশের বাড়ির মহিলারা একে একে এসে উঠান ভরিয়ে তুলেছে। কারও শাড়ি টকটকে লাল, কারও হলুদ, কারও আবার নীলের উপর সোনালি পাড়। মাথায় আঁচল টেনে সবাই বসেছে গোল হয়ে।
হঠাৎ এক মহিলা গলা ছেড়ে গেয়ে উঠল—
“হলুদ বরণ কন্যারে
হলুদ মাখাই আজ…”
তার সাথে সাথেই আরেকজন ঢোলের তালে তাল দিল। উঠান ভরে উঠল হাসি আর গানের শব্দে।
লতিফা তখন ব্যস্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হাতে একটা বড় পিতলের বাটি। তার মধ্যে গাঢ় হলুদ বাটা।
তিনি একটু রাগী গলায় বললেন
“এই যে রুবিনা, এত হইচই করিস না। কনেরে আগে বসাই তো।”
পাশের বাড়ির এক বয়স্ক মহিলা হেসে বলল
“আপনি প্রধান বাড়ির বউ। আপনার ভাগনির বিয়া। আজ তো আপনিই সবার আগে হলুদ দিবেন।”
লতিফার মুখে একটু গর্বের হাসি ফুটে উঠল।
ঠিক তখনই ঘরের ভেতর থেকে কয়েকজন মেয়ে ফুলমালাকে নিয়ে বের হল। সবাই একটু চুপ হয়ে গেল। ফুলমালা মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে এসে পিঁড়ির উপর বসল।
আজ তার গায়ে হালকা হলুদ শাড়ি। চুল লম্বা করে বেণি করা, বেণির শেষে গাঁদা ফুল গুঁজে দেওয়া। কপালে ছোট্ট লাল টিপ।
মুখে কোনো সাজ নেই, তবুও তাকে আজ অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। কিন্তু খুব কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায় তার চোখদুটো কেমন নিস্তেজ।
যেন ভিতরে কোথাও একটা নদী শুকিয়ে গেছে।
পাশে বসা এক মহিলা ফিসফিস করে বলল
“কি রে ফুলমালা, এত চুপচাপ ক্যান? আজ তো তোর আনন্দের দিন।”
ফুলমালা হালকা করে হাসল। তার সেই হাসিটা খুব ক্ষণস্থায়ী। মনে মনে সে অন্য কোথাও হারিয়ে আছে।
তার মাথার ভেতর বারবার ভেসে উঠছে একটা মুখ। তুযা সত্যিই এলো না। তাহলে কি তুযা পেয়ে গেছে জোৎস্না কে?
এই প্রশ্নগুলো মাঝে মাঝে বুকের ভেতর ছুরি হয়ে বিঁধে যায়। কিন্তু কাল তার বিয়ে। তার কান্না কারো চোখে পড়া চলবে না। লতিফা এগিয়ে এলেন।
তিনি ফুলমালার চিবুক তুলে বললেন
“এই মাইয়া, এত গম্ভীর ক্যান? বিয়া বাড়ির কনে এভাবে বসে থাকে?”
সবাই হেসে উঠল। ফুলমালা মাথা নিচু করে বলল
“কিছু না খালাম্মা।”
লতিফা আঙুলে হলুদ নিয়ে প্রথমে ফুলমালার কপালে লাগালেন।
তারপর গালে।
“আল্লাহ তোকে সুখে রাখুক মা।”
চারপাশে আবার গানের সুর উঠল।
একজন একজন করে সবাই হলুদ মাখাতে লাগল। কারো হাতে হলুদ, কারো হাতে সরিষার তেল। কেউ গালে মেখে দিচ্ছে, কেউ হাতে।
মাঝে মাঝে দুষ্টুমি করে কেউ পুরো মুখে মেখে দিচ্ছে। সবাই হাসছে, আনন্দ করছে।
কিন্তু ফুলমালার ভেতরে যেন অন্য এক পৃথিবী।
তার মনে পড়ে সেই দুপুরটা।
সেইবার ঢাকাতে সাইফ দের বাড়ির ছাদে তারা খুব কাছাকাছি সময় কাটিয়েছিলে।
ফুলমালা কে অন্যমনষ্ক দেখে পাশের বাড়ির এক তরুণী মজা করে বলল
“এই ফুল, মগখ খান এত লাজুক লাগে ক্যান?”
আরেকজন বলল
“হয়তো বরের কথা ভাবতেছে।”
সবাই আবার হেসে উঠল।
ফুলমালা ঠোঁট কামড়ে হাসার ভান করল।
তার বুকের ভেতরটা তখন ধুকপুক করছে।
সে জানে, যার কথা ভাবছে সে কখনোই আসবে না। সে এক ঝড়ের মতো মানুষ।
যে হঠাৎ এসেছিল, আর হঠাৎই হারিয়ে গেছে।
উঠানে আবার গান শুরু হলো।
ঢোলের তালে তালে মহিলারা গাইছে—
“কনের গায়ে হলুদ লাগাও
সুখের ঘরে যাক…”
সূর্যের আলো ধীরে ধীরে উঠানের মাঝখানে এসে পড়েছে। গাঁদা ফুলের রং আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সবাই আনন্দে মেতে আছে। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝখানে বসে আছে ফুলমালা।
হাসছে। সবার সাথে কথা বলছে।
হলুদ মাখছে। কিন্তু তার হৃদয়ের গভীরে একটা নাম বারবার ধ্বনিত হচ্ছে
জ্ঞান ফিরার পর দীঘি নিজেদের কোনো গাড়িতে আবিষ্কার করলো। পাশেই অদিতি অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে। হাত দুইটা পিছনে বাধা। পা ও বাধা দড়ি দিয়ে। মুখটাও বেধে রেখেছে রুমাল দিয়ে। শুধু চোখ জোড়া খোলা। বড় কোনো কভার ভ্যান মনে হচ্ছে ভিতর থেকে দেখে। চারিদিকে বদ্ধ ঘুটঘুটে অন্ধকার। কিন্তু বিভিন্ন গাড়ির হর্ণ আর যানজট এর শব্দ পাচ্ছে দীঘি। তারমানে তারা লোকালয়েই আছে।
হাঁটু দিয়ে অদিতির পিঠ বরাবর ধাক্কা দিয়ে চৈতন্য করার চেষ্টা করছে দীঘি। কিন্তু অদিতি উঠছে না। দীঘি শরীরে আর শক্তিও পাচ্ছে না। হাতের ক্ষতটা দগদগ করছে। দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাধা। আস্তে আস্তে এগিয়ে অদিতির কাছে গেলো। বেশ কয়েকবার ধাক্কানোর পর অদিতির জ্ঞান ফিরলো। ঘুটঘুটে অন্ধকারের ভিতর ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাল অদিতি। মাথাটা ভারী লাগছে, যেন মাথার ভেতর কেউ বারবার হাতুড়ি মারছে। গলায় শ্বাস আটকে আসছে। চারপাশে ডিজেল, ধুলো আর গরম লোহার গন্ধ। হাত দুটো পিছনে শক্ত করে বাঁধা। পাগুলোও দড়িতে আটকানো। মুখে রুমাল।
কিছুক্ষণ পর সামনে অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা কণ্ঠ এলো
“ভাবি… জেগেছো?”
অদিতির বুক ধক করে উঠল।
“দীঘি আপু?”
“হুঁ… আমি।”
বাইরে হর্ন বাজছে। মনে হচ্ছে বড় কোনো রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। দীঘি খুব নিচু গলায় বলল
“চুপ থাকো। আমরা একটা কভার ভ্যানে আছি।”
অদিতি চোখ সঙ্কুচিত করে চারপাশে তাকাল। ভ্যানের ধাতব দেয়াল মাঝে মাঝে কাঁপছে।
দীঘি আবার বলল
“তোমার হাতটা একটু সামনে আনতে পারবা?”
অদিতি কষ্ট করে হাত নড়াল। দীঘি ধীরে ধীরে শরীরটা টেনে কাছে এল। তার কব্জি থেকে রক্ত শুকিয়ে লেগে আছে।
অদিতি আতঙ্কে ফিসফিস করল
“তোমার হাত?”
দীঘি ছোট্ট করে হাসল।
“ওটাই তো ভাগ্য খুলছে ভাবি।”
“মানে?”
“ছুরি মারার সময় দড়ির একপাশ কেটে গেছে।”
দীঘি ধীরে ধীরে কব্জি ঘুরাতে লাগল। কয়েক সেকেন্ড পর দড়ি খুলে গেল। সে দ্রুত হাত সামনে এনে অদিতির দড়ি খুলতে লাগল।
কয়েক মিনিট পর অদিতিও মুক্ত। দুজনেই নিঃশব্দে বসে রইল। অদিতি আকড়ে ধরলো দীঘির বাহু। আর বুঝি বেঁচে ফেরা হবে না। দীঘির চোখ মুখ এখনো টান টান। ভয়, আতঙ্কের ছিটে ফোটা নেই। আছে শুধু রাগ আর জিদ।
হঠাৎ ভ্যান ধীরে ধীরে থামল। বাইরে কারো গলা শোনা যায়। দীঘি অদিতির ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলল। বাহির থেকে পুরুষ কন্ঠে বলছে
“এইখানেই নামাও।”
আরেকজন বলল
“গুদামের ভেতর নাও।”
দীঘির চোখ চকচক করে উঠল। সে ভ্যানের মেঝে হাতড়ে একটা লোহার মোটা রড পেল। অদিতি ফিসফিস করল
“কি করছো?”
দীঘি ঠান্ডা গলায় বলল
“বাঁচতে চাইলে লড়তে হবে।”
ঠিক তখন দরজার লক খুলল। দরজা অল্প ফাঁক হতেই এক মুখোশধারী লোক উঁকি দিল।
“দুইটা এখনও বেহুশ”
কথা শেষ হওয়ার আগেই দীঘি রড দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করল। লোকটা সোজা মাটিতে পড়ে গেল।
“নামো!”
দীঘি অদিতির হাত ধরে টেনে নামাল। তারা দেখল জায়গাটা একটা বিশাল পরিত্যক্ত গুদাম এলাকা। চারদিকে ভাঙা দেয়াল, মরচে ধরা লোহার কন্টেইনার, আর আধা অন্ধকার।
কিন্তু অন্য দুজন লোক সঙ্গে সঙ্গে বুঝে ফেলল। চিৎকার করে বলল
“এই! পালাচ্ছে!”
একজন বন্দুক তুলল। দীঘি চিৎকার করল
“দৌড়াও!”
দুজনেই দৌড়ে ঢুকে পড়ল গুদামের ভিতরে।
ভেতরটা অন্ধকার। ছাদের অনেক জায়গা ভাঙা, সেখান দিয়ে চাঁদের আলো পড়ছে।
পেছনে লোকগুলোর দৌড়ের শব্দ।
“এইদিকে গেছে!”
হঠাৎ এক লোক সামনে এসে দাঁড়াল। অদিতির হাত ধরে ফেলল।
“ধরেছি, এবার কি করবে মামনি?”
লোকটা দীঘির অপর হাত ধরবে এর আগেই দীঘি রড দিয়ে তার হাঁটুতে সজোরে মারল। লোকটা চিৎকার করে পড়ে গেল। আরেকজন পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল দীঘির উপর। দুজন মাটিতে গড়িয়ে পড়ল। ধস্তাধস্তি শুরু হলো পুরোদমে।
লোকটা গলা চেপে ধরেছে দীঘির।
দীঘি অদিতিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভাঙা গলায় বলল
“বোকাচো”দার মতো দাড়িয়ে আছো কেন? মারো এই হারামি টাকে”
অদিতি আতঙ্কে চারপাশে তাকিয়ে একটা ইট তুলে নিল। দৌড়ে এসে ইটটা ধপ করে মারল লোকটার মাথায়। মাথায় আঘাত পেয়ে লোকটা ঢলে পড়ল। দুজনেই হাঁপাচ্ছে।
ঠিক তখনই ধাম ধাম বন্দুকের গুলি লাগল পাশের লোহার কন্টেইনারে। চিঁইইইং শব্দে ধাতু কেঁপে উঠল। আরো তিনজন ঢুকে পড়েছে গুদামে।
“এদিকে!”
দীঘি অদিতির হাত ধরে আবার দৌড় দিল।
গুদামের ভেতর একটা সরু লোহার সিঁড়ি দেখা গেল। ওরা উঠে গেল ওপরের মাচায়। পেছনে লোকগুলোও উঠছে। মাচাটা পুরনো কাঠের। হঠাৎ একজন দীঘির পা ধরে ফেলল।
“এত সহজে পালাতে পারবি না!”
দীঘি ঘুরে রড দিয়ে তার হাতের ওপর আঘাত করল। লোকটা হাত ছাড়ল।
ঠিক তখনই মাচার কাঠ ভেঙে গেল। দুইজন লোক নিচে পড়ে গেল। এই সুযোগে দীঘি অদিতিকে টেনে নিয়ে মাচার অন্যপাশে নামল।
সেখানে একটা আধা ভাঙা দেয়াল।
দীঘি উঁকি দিয়ে ব
“ওপারেই রাস্তা ভাবি। দেওয়াল টপকাতে হবে!”
পেছনে আবার পায়ের শব্দ। দীঘি তো চোখের পলকেই দেয়ালে উঠে গেল। অদিতি পড়লো বিপাকে। ও এমনিতেই দেওয়াল টেওয়াল চড়তে পারে না। তার ওপর আবার শাড়ি পড়ে আছে। দীঘি হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল
“ভাবি হাতটা দাও, দ্রুত। ওরা এসে যাবে ভাবি”
অদিতি কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলল
“আ….আমি পারছি না আপু”
দীঘি অদিতির হাত ধরে কোনো রকমে অদিতিকে টেনে তুলল। ঠিক তখনই এক লোক তাদের জামা ধরে ফেলল।
“কোথায় যাবি এবার? এতগুলো টাকা নিয়েছি তোদের ধরতে। আমাদের থেকে পাখি পালাতে পারে না বুঝলি?”
দীঘি শেষ শক্তি দিয়ে লাথি মারল তার মুখে।
লোকটা ছিটকে পড়ল। দুজনেই দেয়াল টপকে লাফ দিল। ধপাস করে পড়লো অপরপ্রান্তে। দীঘি গলা করে বলল
“এতদিন চড়ুই, ময়না, বুলবুলি ধরেছিস তাই পালাতে পারেনি। তাই বলে চিল, শকুন ধরেও আটকে রাখতে পারবি? মগার দল”
সামনেই বড় রাস্তা। দীঘি দেখলো একটা সিএনজি আসছে। দীঘি মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত তুলল। কিন্তু অদিতি থামিয়ে দেয়
“কি করছো আপু? এই এত রাতে সিএনজি আসছে কোথ থেকে? আবার যদি বিপদে পড়ি?”
দীঘি অদিতিকে ইশারা করে দেখিয়ে বলল
“ওই যে দেখো সামনে পাম্প। ওখান থেকে সিএনজি ওয়ালারা ভোর রাতে গ্যাস নিয়ে ফেরে। যা হবে দেখা যাবে চলো তো”
সিএনজি ব্রেক কষল। ড্রাইভার চমকে উঠল
“কি হইছে? এত রাইতে জোয়ান দুই ডা মাইয়া মানুষ?”
দীঘি দরজা খুলে অদিতিকে ঢুকিয়ে দিল।
“চালান!”
পেছনে গুদামের গেট দিয়ে বের হয়ে আসছে মুখোশধারীরা।
“ধর! ধর, ধর ওদের পালাতে দিস না!
সিএনজি স্টার্ট নিল। দ্রুত ছুটে গেল রাস্তা ধরে। ভেতরে অদিতি হাঁপাচ্ছে। দীঘির হাত থেকে রক্ত পড়ছে।
কিছুক্ষণ পর অদিতি কাঁপা গলায় বলল
“আমরা বেঁচে গেলাম?”
দীঘি জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।
তার চোখে অদ্ভুত একটা ভয় কাজ করছে এখন।
“ভাবি… আমাদের যাদের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল…”
অদিতি তাকাল।
“ওরা কারা দীঘি আপু?”
দীঘির বুক কেঁপে উঠল। খুব ধীরে বলল—
“বাবার…..”
কেমন হইছে বলিও পাখিরা 😌🤍
আর এই সেই চিঠি, যেটা তোমাদের জন্য লিখেছি। বই এর সাথে পেয়ে যাবা এটাও 🫶🥹
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৮
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৪ এর শেষাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭