খাঁচায়বন্দীফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৪৯
কলেজের প্রথম দিনই সিনিয়রকে চড় মেরে বসেছে দীঘি। ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটেছিল যে, কেউ ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি। কখন হাত উঠল, আর কখন শব্দটা বাতাস চিরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
সকালের ওরিয়েন্টেশন শেষ হয়েছে মাত্র। নতুনদের মুখে চাপা উত্তেজনা, নতুন কলেজে প্রথম দিন তাদের। ঠিক তখনই একদল সিনিয়র এসে ভিড় করল গেটের পাশে। মাঝখানে দাঁড়িয়ে জিসান, তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ক্যাম্পাস রাজনীতির প্রভাবশালী মুখ, ছাত্রসংগঠন এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে। তার উপস্থিতি মানেই বাকিরা একটু সরে দাঁড়ায়।
দীঘি প্রথমে বিষয়টা গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু যখন তার পথ আটকে দাঁড়ানো হলো, তখন সে থামল।
“নতুন?”
এক সিনিয়র ঠোঁট বাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করল।
দীঘি সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল,
“হ্যাঁ।”
“তাহলে রীতি মেনে পরিচয় দিতে হয়। আগে জিসান ভাইকে সালাম দাও।”
দীঘির ভ্রু কুঁচকে গেল।
“কেন?”
চারপাশে হালকা হাসাহাসি।
জিসান ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। তার চোখে একরকম অভ্যস্ত আধিপত্য।
“এটা নিয়ম। এখানে থাকতে হলে সিনিয়রদের সম্মান করতে হয়।”
দীঘি শান্ত স্বরে বলল,
“সম্মান তো আদায় করে নিতে হয় আচরণ দিয়ে।”
জিসানের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল। সে এক পা কাছে এসে দাঁড়াল।
“তোমার সাহস বেশ। কিন্তু এই ক্যাম্পাসে কার কতটা জায়গা, সেটা আমি ঠিক করি।”
এই কথাটা বলেই সে হাত বাড়িয়ে দীঘির চিবুকটা আঙুল দিয়ে উঁচু করতে গেল, যেন তাকে নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত যাচাই করছে। কিন্ত দীঘির কাছে সেই স্পর্শটাই ছিল সীমা অতিক্রম।
দীঘির চোখ মুহূর্তে বদলে গেল।
তার ভেতরে জমে থাকা অপমান, রাগ, প্রতিবাদ সব একসাথে বিস্ফোরিত হলো।
ঠাস!
শব্দটা পরিষ্কার, দৃঢ়, দ্বিধাহীন। দীঘি দাঁত চেপে বলল,
“আপনার পদ থাকতে পারে। ক্ষমতা থাকতে পারে। কিন্তু আমাকে ছোঁয়ার অধিকার নেই।”
চারপাশ নিস্তব্ধ।
জিসানের গালে স্পষ্ট দাগ। পাশে দাঁড়ানো ছেলেরা ক্ষেপে উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু সে হাত তুলে থামিয়ে দিল।
তার চোখে এবার অন্যরকম দৃষ্টি। অপমানের সাথে মিশে আছে বিস্ময়। কি সাহস মেয়েটার ভাবা যায়। দীঘি আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। সোজা হেঁটে চলে গেল। কেউ ভাবতেও পারেনি
কলেজের প্রথম দিনেই এক নতুন মেয়ে প্রভাবশালী সিনিয়রকে চড় মেরে যাবে।
জিসান গালে হাত দিয়ে চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে পিছন থেকে ডাকলো
“দাঁড়া”
দীঘির পা থামলো। পিছনে না ফিরেই বলল
“এবার থামলে হাড় গোড় আস্ত থাকবে না বলে দিলাম”
জিসান হাতের মুষ্টি শক্ত করে এগিয়ে গেল দীঘির দিকে। উদ্দেশ্য, এবার সেও এক চড় লাগাবে মেয়েটাকে। কিন্তু তা আর হলো না। কাছাকাছি আসতেই দীঘি এক লাথি মারলো জিসানের হাঁটু বরাবর। জিসান হাঁটুর চোট সামলাতে না পেরে ধপাস করে পড়ে গেল মাটিতে। পুরো ক্যাম্পাস যেনো তখন আশ্চর্যের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করছে। জিসান এর চোখ দিয়ে আগুন বের হিয়ার উপক্রম। প্রথম দিন এসেই এই মেয়ের এত সাহস প্রদর্শন কারোর ই হযম হলো না। জিসান হাতে ভর দিয়ে রক্ত চক্ষু নিয়ে উঠতে গেলেই দীঘি নিজের হাতে থাকা পানি ভর্তি করা বোতল দিয়ে মাথায় মারলো এক বাড়ি।
উপস্থিত সকলে সমস্বরে আআআআ করে উঠলো। জিসানের কয়েকজন মেয়ে ক্লাসমেট এসে দীঘিতে ধরতে গেলে দীঘি পানির বোতল এর মুখ খুলে ছুড়ে মারলো তাদের দিকে। পুরো ক্যাম্পাস ভর্তি স্টুডেন্ট তখন একসাথে তালি দিয়ে উঠলো। উচ্ছ্বাস এর সাথে ওহঅঅঅঅ করতে লাগলো। কেউ কেউ শিষ বাজালো। মেয়েটার দম আছে বলতে হবে। এরা এসেছে পর থেকে জুনিয়র দের অত্যাচার করে চলেছে। এমন প্রতিবাদ আরো আগেই কারো করা প্রয়োজন ছিলো। সবাই শুধু হাত গুটিয়ে দেখে গেছে এতদিন। দুজন চামচা এসে জিসান কে টেনে তুলল। আরেক জন বলল
“এর ফল ভালো হবে না। তুই জানিস তুই কার সাথে অসভ্যতা করলি?”
দীঘি কয়েক পা এগিয়ে এসে বলল
“তোর বাপও জানে না যে সে কার সাথে অসভ্যতা করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।”
দীঘির রুপ তখন অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছে। ছেলেটার সামনে দু’টো তুরি মেরে বলল
“মিনিস্টার হাসান চৌধুরীর বাড়ির মেয়ে দীঘি চৌধুরীর সাথে অসভ্যতা করার ফল এমন ই হয়। এর চেয়ে আরো খারাপ হয়, নেহাৎ আজ প্রথম দিন। মুড টা ভালো ছিলো, তাই অল্পে ছাড়া পেয়ে গেলো।”
ক্যাম্পাসে এত গ্যাঞ্জাম দেখে প্রিন্সিপাল নিজে চলে এসেছে এখানে। একজন ছাতা ধরে রেখেছো মাথায়। সুট বুট পরা ভদ্রলোক সবার মাঝখানে গিয়ে বলল
“কি হচ্ছে এখানে?”
সহসা এগিয়ে গেলো ভিজে যাওয়া মেয়ে গুলো। কান্নার ভান করতে করতে বলল
“স্যার, দেখুন না। এই মেয়েটা আমাদের কি অবস্থা করেছে। জিসানের গায়ে হাতও তুলেছে”
প্রিন্সিপাল দীঘির দিকে তাকালো। মুখে কোনো ভয় ডর এর ছায়া মাত্র নেই। না আছে কোনো অনুশোচনা। টান টান দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে। প্রিন্সিপাল দীঘিকে উদ্দেশ্য করে বলল
“তুমি সিনিয়র দের মেরেছো? হোয়াট’স রং উইথ ইউ দীঘি?”
প্রিন্সিপাল এর মুখে দীঘির নাম শুনেই ওরা বুঝতে পারলো মেয়েটা প্রিন্সিপাল এর পূর্ব পরিচিত। দীঘি নির্লিপ্ত ভাবে জবাব দিলো
“আমার কোনো সমস্যা নেই আঙ্কেল। আমি ঠিকঠাক ই গেট দিয়ে ঢুকছিলাম। প্রথমে এই অসভ্য টা আমার সাথে অসভ্যতামো করেছে, আর তারপর আমাকে টাচ করেছে। তাই আমি ওকে মেরেছি।”
প্রিন্সিপাল জিসানের দিকে তাকিয়ে বলল
“তুমি ওর গায়ে হাত দিয়েছিলে জিসান?”
জিসান মাথা নিচু করে বলল
“হ্যা বাবা। তবে আমি সে……
জিসান এর কথা শেষ হওয়ার আগেই প্রিন্সিপাল হাত উঁচু করে থামতে বলল।
“সকলে যে যার ক্লাসে যাও। জিসান আর দীঘি আমার সাথে এসো”
অদিতি ছাঁদের কোণায় দাঁড়িয়ে এক মনে আকাশ দেখছে। দীঘি কলেজ থেকে ফিরে যেই রুমে ঢুকেছে খাবার পর্যন্ত খায়নি। সাইফ ও বাবার সাথে থানায় গেছে। সায়রা আর আঞ্জুমান গেছে জেবা দের বাসায়। অদিতির একা একা সময় কাটছে না বলে ছাদে এলো। আকাশ টা মেঘলা, দূরে কালো মেঘ জমেছে। ফুরফুরে বাতাসে ঘুম পেয়ে যাচ্ছে অদিতির। নিচে দেখা গেলো সাইফের গাড়ি এসে থামলো। অদিতি অলস ভঙ্গিতে নিচে যায়। দরজা খুলে দেয়, বাড়িতে আসে সাইফ আর হাসান চৌধুরী। হাসান চৌধুরী কে খুব রেগে আছে দেখা যাচ্ছে। অদিতি কে জিজ্ঞেস করলো
“দীঘি কোথায়? কোথায় দীঘি? এক্ষুনি ডাকো ওকে”
অদিতি সাইফের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলল
“বাবা ও তো…..
“ওরা পেয়েছে টা কি আমাকে হ্যা? আজ প্রথম দিন কলেজে গিয়েই প্রিন্সিপাল এর ছেলে কে পিটিয়েছে। ইশশশশশ! মির্জা আমার বাল্যবন্ধু, তার ছেলের গায়ে হাত তুলেছে ও। কতবড় বেইজ্জতি হতে হলো আমাকে”
সাইফ তাকে শান্ত করতে বলল
“বাবা তুমি বসো আ…..
“চুপ থাকো সাইফ। কোনো কথা বলবে না তুমি। আমার অনেক আগেই উচিত ছিলো এদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া। ওরা কি পেয়েছে আমাকে? ও নিজে অবৈধ ব্যাবসা করে জেলে গেছে। মিডিয়ার লোক জানাজানি হয়ে গেছে, যে মিনিস্টার হাসান চৌধুরীর ভাই মাদক মামলায় জেলে। ওর বড় মেয়ে কি কেলেঙ্কারি টাই না ঘটালো। পুরো সমাজ, এত এত অতিথি সকলের সামনে আমার মাথা নিচু করে দিলো। আবার ওর ছোট মেয়ে কলেজে গিয়ে মাস্তানি করছে”
অদিতি ভয়ে ভয়ে বলল
“কাকা জেলে আছে?”
সাইফ শুধু ওপর নিচ মাথা নাড়লো। এর মধ্যেই বাড়িতে এলো আঞ্জুমান আর সায়রা। সাইফ মা কে বুঝিয়ে বাবার সাথে ঘরে পাঠিয়ে দিলো। একটু রেস্ট করা প্রয়োজন। নয়তো শরীর খারাপ করবে এবার। সাইফও অদিতি কে নিয়ে ঘরে গেলো। সাইফ ফ্রেশ হয়ে এসে বলল
“ঘাড় টা একটু টিপে দেবে? প্রচুর পেইন হচ্ছে”
অদিতি খাটের স্ট্যান্ডে হেলান দিয়ে শুয়ে পড়লো। সাইফ অদিতির কোমড় জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ ডোবায়। অদিতি সাইফের ঘাড়, কাঁধ টিপে দিচ্ছে নিজের নরম হাতে। সাইফ নিচু স্বরে বলে
“ভাবছি দূরে কোথাও গিয়ে ক’দিন থেকে আসবো। এত অশান্তি আর রুহ নিতে পারছে না। একটু মাইন্ড ফ্রেশ করা দরকার।”
অদিতির হাতের গতি কমলো। মন খারাপ করে বলল
“একাই যাবেন?”
সাইফ অদিতির গলায় ঠোঁট ঘষে নিয়ে বলল
“হ্যা একাই, শুধু আমার বাচ্চা একটা বিড়াল আছে, ওটাকে নিয়ে যাব। ওটাকে ছাড়া আবার আমি থাকতে পারিনা”
অদিতির চোখে মুখে খেলে গেলো এক রাশ মুগ্ধতার হাসি। লাজুক হেসে সাইফ কে ম্যাসাজ করে দিতে দিতে বলল
“কফি করপ দিব?”
সাইফ শুধু বলল
“উহুমম”
“ঘুমাবেন?
“হুমম”
“বালিশ দেবো?”
“উহুমম”
অদিতি হাসে লোকটার পাগলামি দেখে। চুলের ভাজে ভাজে চালাচ্ছে তার নরম আঙুল। কাঁধে হাত দিয়ে মৃদু চাপ প্রয়োগ করছে বারবার। আরামে সাইফের চোখ লেগে আসে।
চালার ঘুন্টি ঘর টার মাচালে বসে সিগারেটের ধোঁয়া ফুকছে তুযা। রাত আনুমানিক ১০ টার ওপরে। বাইরে ঝুম বৃষ্টি, বজ্রপাত ও হচ্ছে। ওপরে খড়ের ছাউনি। গ্রামের রাত ১০ টা মানে অনেক রাত। এতরাতে এই জনমানবহীন হীন চালার পাড়ে, এই ঝড় বাদলের রাতে একা একা বসে আছে এই পুরুষটা। মানিক থাকলে কখনোই তা হতো না। ওকে পিটিয়েও বাড়িতে পাঠানো যেত না তুযা কে একা ফেলে। কোথাও একা ছাড়তো না তুযা কে। দূরে একটা হারিকেন এর আলো দেখা যায় এদিকেই আসছে।
বড় একটা কালো ছাতা মাথায় দিয়ে হারিকেন হাতে ছাউনির তলায় আসলো মাহিদ। ছাতা বন্ধ করে বাশের খামটায় হারিকেন ঝুলিয়ে তুযার কাছে আসলো। তুযা চেপে গিয়ে জায়গা করে দিলো মাহিদ কে বসতে। মাহিদ কিছুটা ভয়ার্ত হয়েই বলল
“কাল দিনে দেখা করলেও তো হতো। এত রাতে এই নির্জন জায়গায়…..
মাহিদের কথা শেষ হওয়ার আগেই তুযা হাসলো
“আরে মিয়া ভয় পাইয়ো না। তুমিও ব্যাডা লোক আমিও ব্যাডা লোক। কিছু করমু না”
মাহিদ নিশ্চুপ রইলো। তুযা সিগারেট এর শেষ অংশ ফেলে দিয়ে বলল
“ফুল রে ক্যান বিয়া করবার চাও? না মানে, প্রস্তাব তুমি পাঠাইছো নাকি বাড়ি থিকা?”
মাহিদ মাথা নিচু করে বলল
“ফুলমালা কে আমি ভালোবাসি অনেক দিন এর কথা ভাইজান। তবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আমি ওকে ছোট করতে চাইনি। ভেবেছিলাম বিয়ের যোগ্য হলে, সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো। তাই করেছি।”
তুযা তীক্ষ্ণ চোখে পরখ করলো মাহিদ কে
“যদি শোনো ফুল অন্য কাওরে ভালোবাসে, তখন কি করবা?”
মাহিদ এর মুখে অন্ধকার নেমে আসে
“তাহলে নিজের ভাগ্যের দোষ দিয়ে ও যাকে ভালোবাসে তার হাতে তুলে দিব”
তুযার চোখ গুলি কেমন হেসে উঠলো। একটা সিগারেট এগিয়ে দিলো মাহিদের দিকে।
“নেও”
মাহিদ একবার সিগারেট টার দিকে তাকিয়ে আবার তুযার দিকে তাকালো
“আমি ওসব খাই না ভাইজান”
তুযা নিজের ঠোটে একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল
“ অহন বাড়ি যাও ভাই। বাঁইচা থাকলে আবার কথা হইবো”
“কিন্তু ভাই, যে কথা বলতে ডেকেছিলেন। তা তো বললেন না”
তুযা মাচালে গা এলিয়ে দিলো
“অহন কইতে মনে চাইতেছে না। আমি মনরে বড় গুরুত্ব দিই মিয়া। যাও অহন”
মাহিদ হারিকেন টা হাতে নিয়ে ফের ছাতা মেলে বেড়িয়ে গেলো। বৃষ্টি একটু কমেছে। তুযা মাচালে চিৎ হয়ে শুয়ে, সিগারেট টা দুই আঙুলে চেপে ধরে
পুরুষালী ভারি কন্ঠে সুর তুলল
“ও তুই একটা নিশি জাগিয়া দেখ
কত যন্ত্রণা….
চোখের এক ফোঁটা জল ঝড়ায়া দেখ
কত বেদনা
এমন হাজারটা রাত জেগে থাকা,
কত চোখের জঅঅঅঅলল…
নূর-এ-সাহাবাদ পড়েছো? আগের পর্ব টায় ২k করে দাও প্লিইইজ 🥹
কেমন হয়েছে বলিও পাখিরা। আর বই মেলায় যাচ্ছো তো?
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৪ এর প্রথমাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৪ এর শেষাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৫