Golpo কষ্টের গল্প খাঁচায় বন্দী ফুল

খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৬ এর প্রথমাংশ


খাঁচায়বন্দীফুল

jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস

৪৬ এর প্রথমাংশ

সেদিন রিশা রাগ করে চলে যাওয়ার পর থেকে সায়রা কথা বলে না দীঘির সাথে। দীঘির ভিতরেও কোনো অনুশোচনা বোধ নেই যে আগ বাড়িয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইবে। সে তো একদম ঠিকই করেছে। সোফায় বসে চুইংগাম চিবোচ্ছে আর মোবাইলে গেম খেলছে। ফুলমালা মুখ ভাড় করে এসে পাশে বসলো। দীঘি একবার তার দিকে তাকিয়ে নাক সিটকালো।
“দিন রাত চব্বিশ ঘন্টা ওমন বালের মতো শাড়ি পরে থাকিস ক্যান রে? সমস্যা হয় না?”

ফুলমালা প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেল। দীঘির কাঁধে আলতো মাথা ঠেকিয়ে কপাল কুচকে বলল “আইচ্ছা,আপা তোমার ভাই এমন কেন?”

“কইতে পারি?”

আপনার মুখটাকে একদম পানসে করে বলল
“হেই কোন জনমে একখান প্রেম করছিল। হেরে লইয়া পইড়া আছে, যতসব ঢং।”
ফুলমালা কিছুক্ষণ চুপ থেকে দীঘির কাধ ধরে দীঘিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল
“আইচ্ছা আপা, এমন করলে কেমন হয়? যদি কোন ভাবে হেই মাইয়ারে একবার তুযা ভাইয়ের সাথে দেখা করান যায়। তারপর হ্যারা কথা কইয়া সব মিটাই নিবেনে”

দীঘি মোবাইল রেখে চোখ পাকিয়ে তাকালো ফুল মালার দিকে
“ তোকে অন্তত একটু বুদ্ধিমান ভেবেছিলাম। তুই তো আমাদের বাড়ির দুটোর চাইতে বড় ভোদাই। সর। কত বছর দেখা হয় না, তাই ভুলতে পারে না। আর তোর কি মনে হয়? একবার যদি এখন হের লগে দেখা হয়। তোর দিকে ফিরে তাকাইবো ভোম্বল কোনহান কর? অমন বোকাচোদা গিরি ভুলেও করিস না বলে দিলাম”

“তো কি করুম আমি?”

“তোর করা না করায় কিছু আসবে যাবে না রে ফুল। কোনদিন যদি দাদা ভাইয়ের মন গলে সে একাই তোর কাছে আসবে। পাছে হাজার চেষ্টা করেও তোর লাভ নেই কোনো। দাদাভাই কে ভোলানো সম্ভব না ফুল।”

ওদের কথার মধ্যে বাড়িতে ঢুকলো রিশা। সেদিন রেগে মেগে চলে যাওয়ার পর নিজেকে বড্ড আহাম্মক মনে হয়েছে। ওভাবে চলে না এসে ওদের ওপর বদলা নিলেও পারতো। রাগ টা মিটেনি মূলত। সেটা মেটাতেই বুঝি এলো। কিন্তু আজ যে তুযা নেই তা জানে না। দীঘি আর ফুলমালা কে না দেখার ভান করে সোজা গেলো তুযার ঘরে।

ফুল মালা কিছু বলবে এমন সময় দীঘি চুপা করালো।
“করুক ওর যা মনে চায়। দাদাভাই তো আর নেই এখানে। কিচ্ছু বলিস না। আস্ত একটা বানর ওইটা”

দীঘি রুমে চলে গেলো। রিশা তুযা কে খুজে না পেয়ে চলে আসছিলো তখন সাইফের সাথে দেখা। জামার গলাটা একটু টেনে নিচে নামিয়ে, চুল গুলো পেছনে দিলো। সাইফ ঘড়ি ঠিক করতে করতে আপাদমস্তক দেখলো রিশা কে। রিশা সাইফের চাহনি দেখে মুচকি হেসে বলল
“কিছু বলবেন?”

“এত রস পাও কই? তোমার রসের ভান্ডারের দ্বায়িত্ব নিতে চাই”

রিশা আঙুলে চুল পেচাতে পেচাতে বলল
“কিন্তু আপনার তো বউ আছে”

“তো তোমাকে কি আমি বউ করবো নাকি? তুমি রাজি থাকলে…….

অদিতি আসতেই চুপ করলো সাইফ। রিশা কে চোখ ইশারা দিলো পরে কথা বলবে। অদিতি ব্যাগ নিয়ে বের হয়েছে, কলেজ যাবে। সাইফ অদিতির হাত ধরে নিয়ে গেলো বাইরে। রিশা হেসে চলে গেলো সায়রার ঘরে। ফুলমালা ঘটনাটা দেখলো। দৌড়ে গেলো দীঘির কাছে।
“ওওওও আফাআআআ। হুনছো? তোমার ভাই এ কামডা করলো কী?”

“চেচাস না। বল”

“সাইফ ভাইয়ে রিশা ফিশা রে কয়, তোমার রসের ভান্ডারের দ্বায়িত্ব নিমু। চিন্তা করছো কত্ত খারাপ। ব্যাডার যেই সুন্দর বউ। হিয়া থুইয়া…… “

“এই তুই চুপ কর তো। কিছু বুঝিস তুই? ভাইয়া যখন বলছে, অবশ্যই অন্যকোনো উদ্দেশ্য আছে। এমনি এমনি ওই বান্দরনি কে এসব কেনো বলতে যাবে?”

“কি জানি বাপু, বুঝিনা”

সাইফ ড্রাইভিং করতে করতে লুকিং মিররের দিকে তাকালো। অদিতি কেমন সন্দিহান চোখে তাকিয়ে আছে। সাইফ আয়নার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচালো। অদিতি মুখ বেকিয়ে অন্য দিকে তাকালো
“কি হয়েছে বলোতো আমার বউটার। এমন মুখটা পেঁচার মতো করে আছে কেনো? আমার বাচ্চা বিড়াল টাই ঠিকা আছে। পেচিমুখী আমার ভালো লাগে না”

অদিতি মুখ গোমড়া করে বলল
“আপনি রিশার সাথে কী বলছিলেন?”

সাইফ ভেবেছিলো অদিতি খেয়াল করেনি। বাপরে বউটা দিন দিন চালাক হয়ে যাচ্ছে।
“আমাকে রস দিতে চাচ্ছিলো। আমি বলেছি….

সাইফের কথা শেষ হওয়ার আগেই অদিতি বলল
“রস মানে? কিসের রস?”

“ওসব বাজে মেয়ে ছেলের কথা। আমার লক্ষি বউ এর এসব জেনে কাজ নেই”

“না আমি শুনবোই। বলুন আমায়”

“শুনতেই যখন হবে, ক্লাস শেষ করে বাড়িতে এসো। প্র্যাক্টিক্যাল এ বুঝিয়ে দিবো। মুখে বললে বুঝবে না”

অদিতি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো শুধু। কলেজেট গেটে অদিতিকে নামিয়ে দিয়ে সাইফ গেলো অফিসে।

**

চালার পাড়ের ঘন দুব্যা ঘাসের ওপর কলা পাতা বিছিয়ে নানান খাবার এর আয়োজন করেছে তুযার সাথে থাকা ছেলেপেলে রা। খিচুড়ি বড় ডেকচি এনে উপুড় করে দিলো কলা পাতায়। খাসি জবাই হয়েছে। ঝোল ছাড়া সুধু ভুনা করা হয়েছে আস্ত খাসি। ছেলেপুলে মোট ১২-১৪ জন হবে তুযা সহ। ওরা অবশ্য বলেছিলো তুযার জন্য আলাদা রাখতে। কিন্তু তুযা আবার সব সময় ফরমালিটির বিপক্ষে। সেও সকলের সাথে এক পাতেই খাবে। মানিক গেলো মাটির কলস ভরে কল থেকে পানি আনতে।

সাথে দই ও কিনে আনা হয়েছে দোকান থেকে। দুইটা দই এর ভাড় কাগজ মুড়ে রেখেছে এক পাশে। ঘন ঘাসের ওপর সবাই গোল হয়ে বসেছে। হাসনাত নিয়ে এলো বেগুন ভাজা। তুযার বড় প্রিয়। সকলেই হাত গুটিয়ে বসে আছে তুযা আগে শুরু করবে সেই জন্যে। তুযা এক পিস মাংসের সাথে এক লোকমা মুখে দিয়ে বলল
“উহুমমমম, শফিক।”

“জ্বি ভাইজান”

“এক্কেরে খাসা রানছোস রেহহহ। কিরে তোরা খাওয়া শুরু কর। বইয়া আছোস ক্যান?”

সকলেই খাওয়া শুরু করলো। তুযা আবার কম খোরাকের মানুষ। বেশি খেতে পারে না। অল্পতেই শেষ করে দাড়িয়ে পড়লো। মাটির কলস থেকে কাসার গ্লাসটায় পানি নিয়ে হাত ধুয়ে নিলো। মানিক খাওয়া ছেড়েই উঠলো তুযা কে দই দিতে। তুযা মানিল কে ধমক দেয়
“আরে খাওয়া শ্যাষ কর আগে। ওখানেই দই এর ভাড় উপুড় করবি। আগে খা।”

তুযা সিগারেট ধরালো। চারিদিকে আমের মুকুলের ঘ্রাণ মো মো করছে। তুযা বলল
“ঘ্রান ডা ভালোই লাগে”

“কিয়ের ভাই?”

তুযা বাতাসে ধোঁয়া ফুকে বলল
“আম গাছে ফুল আইছে দেহোস না। বসন্ত ঋতু চলে। এইসময় আমের ফুলের ঘ্রাণ ছুটে ম্যালা”

হাসনাত মুখ ভর্তি খাবার নিয়েই হাসলো
“ভাই, এত ফুল থুইয়া আপনের শ্যাষ ম্যাষ আমের ফুলের ঘ্রাণ নাকে লাগলো”

তুযা হাসে।
“আমার পছন্দ পলাশ ফুল।”

“এ্যাহহহ ভাইইইই। কি কন, না কন। ওই ফুলে গেরান আছে?”

তুযা সিগারেট এর নিচের অংশ ছুড়ে ফেলে বলল
“ওই যে যারা রোজ ভেঙেও আবার হেসে নিজেরে সামলাই লয়, তাদের জন্যই বসন্তে দুই-চার ডে পলাশ বেশি ফোটে। তাই পছন্দ করি”

সবাই হা করে তাকিয়ে রইলো তুযার দিকে। এমন কথা কখনো বলে নি ও। হাসনাত বলল
“ভাই, আমনের মুখে এমন কথা জীবনে শুনি নাই”

শফিক বলল
“হ ভাই। আমনে এমন কঠিন কঠিন কথা কইয়েন না। আমাগো সেই হাসি খুশি ভাইজান ই থাইকেন। আপনারে উদাসীন দেখতে মন সায় দেয় না ভাই”

তুযা হো হো করে হেসে উঠলো
“কিরে শসা পাইলি কই? শসা আনছিলাম নাকি?”

মানিক দাঁত বের করে হেসে বলল
“ভাই, রাশেদ গো ক্ষেতের। আমনের শত্রুর গাছ থিকা ছিড়া লইয়া আইছি”

তুযা রাগ করলো না। উল্টা হাসলো।
“আমার জীবনে একটা বড় স্বপ্ন আছে বুঝলি? একদিন সব শত্রু দের ঘরে আটাকায়, ল্যাংটা কইরা নাচামু”

সবাই শব্দ করে হেসে ফেললো। খাওয়া শেষে তুযা আর দই খেলো না। সবাই হাত মুখ ধুয়ে এসে আবার বসলো। তুযা গাছে হেলান দিয়ে বসে বলল
“এ রে মানিক? সন্ধ্যা হইয়া আহে প্রায়। নামাজ শুরু হয় কয়টায় রে?”

সবাই চমকে তাকালো তুযার দিকে।
“ভাই, হিয়া দিয়া আমগো কি কাম। আপনি যাইবেন নাকি?”

তুযা ওপর নিচ মাথা নাড়ে। সবাই হতবাক তুযার কথায়। মানিক মন খারাপ করে বলল
“ভাই, আমনে এমন আচরণ করতাছেন ক্যান? আমার কিন্তু ভয় করতাছে।”

ওদের কথা বার্তার মধ্যেই আযান পরলো মসজিদে। তুযা উঠে দাড়িয়ে বলল
“কারো মনে চাইলে আয়। কারণ নামাজে তো আর জোর কইরা নিওন যায় না।”

মানিক বলল
“আর কেউ না গেলেও আমি যামু ভাই। কারন আমনের ভাবগতিক আমার ভালো ঠেকতেছে না। আমি আমনের লগেই থাকুম”

তুযা মানিকের মাথায় গাট্টা মারলো।
“চল”

ফুলহারা গ্রামের মসজিদ টা উন্নত করেছে ওয়াহাব চৌধুরী। জুম্মার দিন সে আসলেও তুযা আসে না বহু বছর। মসজিদের কল থেকে অযু করে গামছা দিয়ে মুছতে মুছতে ভেতরে গেলো তুযা। মানিক কোথ থেকো যেনো একটা টুপিও যোগাড় করে দিলো। তুযা টুপি মাথায় দিয়ে মসজিদের ভিতরে ঢুকলো।

মানিক বাইরেই অপেক্ষা করলো। ও নামাজ পড়তে পারে না। তুযা সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত করলো। কিছু সময় বাদে বেরিয়ে এলো। মসজিদ এর গেটের সামনে দাড়িয়ে মনে মনে বলল
“ইয়া মাবুদ, বহু বছর আগে তোমার কাছে এসেছিলাম তারে পাওনের লাইগা। তারে আমি পাই নাই। একই জায়গায় আমি আবারো আইজ সিজদাহ্ দিলাম, ওরে ভোলার লাইগা। আগের মুনাজাত কবুল হয় নাই। আমার কোনো আফসোস নাই। আমি পাপী, ভীষণ পাপী বান্দা তুমার। আমার এই দু’আ টা কবুল করো মাবুদ।”

মানিক তুযার দৃষ্টি অনুসরণ করে বারবার মসজিদের দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু সেখানে এমন কিছু নজরে আসছে না যার জন্য তুযা তাকিয়ে থাকতে পারে। মানিক তুযার পিছন পিছন বের হয়ে আসলো।
“ভাই একটা কথা কমু?”

“ক”

“আমনে ক্যান ভালো বাসছিলেন হেরে কন তো”

“মানিক। খোদা এমন কিছু চমৎকার মানুষ তৈয়র করে রে, তাগোর আশেপাশে গেলে প্রেমে না পইড়া থাকন যায় না। ওরে ভুলতে পারলে আমি হাচাই ভালো হইয়া যামু রে। হ।”

হাসলো তুযা। মানিক কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারছে। তুযা কেনো জোৎস্না কে ভুলতে চায়।

চলবে?

আপনাদের জন্য দুইটা নিউজ আছে।
প্রথমত, আমি আমার ফলোয়ার দের মধ্যে থেকে দুই জনকে খাঁচায় বন্দী ফুল বইটি উপহার দেবো। তাদের অ্যাক্টিভিটিস এর ওপর নির্ধারণ করা হবে যে কে পাবে। এবং অবশ্যই ফলোয়ার হতে হবে, মানে আমার এই পেইজ ফলো দিয়ে রাখতে হবে। পয়েন্টও বিবেচনা হতে পারে সেক্ষেত্রে নিয়মিত রিয়্যাক্ট, কমেন্ট, শেয়ার করে নিজেদের পয়েন্ট বাড়াতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, আগামী কাল থেকে নতুন গল্প আসছে। আশা করা যাচ্ছে আমার লেখনি যেমন আপনাদের পছন্দ, তেমনই মনকাড়া হবে আপনাদের সেই গল্পটা। জমিদার বাড়ি রিলেটেড। জমিদার পুত্র শাহ্ বাইজিদ এবং তার প্রণয়িনী মেহেরুন্নেসার অপূর্ব প্রেম কাহিনি। আশা রাখছি এই গল্পের মতোই আমাকে সমর্থন করবেন সেটাতে।

আর এটাও চলবে নিয়মিত। ভাববেন না এটা বন্ধ রাখবো বা দেরিতে দিবো। আজ ওবদি কখনো এমন করিনি, আর করবোও না ভরসা রাখবেন।

আপনাদের মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকবো আমি। অবশ্যই আপনাদের মতামত জানাবেন এবং প্রিয় বইটা উপহার পেতে অবশ্যই কনটেস্টে অংশগ্রহণ করবেন। ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক দের 🤍

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply