কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
খাঁচায়বন্দীফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৩৪
প্রচন্ড রাগে হাত মুষ্ঠি করে নিয়েছে সাইফ। শরীরের রক্ত টগবগ করছে। কোন মাহিদ ভাই এটা। ওপাশ থেকে আবারও শোনা যায় সেই কণ্ঠস্বর
“কিরে বুড়ি কথা বলছিস না কেন? প্রিয়তা তোর নাম্বারটা দিল”
সাইফ বহু কষ্টে নিজের রাগ সংবরণ করে উত্তর দিল
“কে আপনি?”
সাইফের পুরুষালী কণ্ঠস্বর পেয়ে ও পাশের মানুষটি হয়তো অবাক হলো কিঞ্চিত। সে পাল্টা প্রশ্ন করে বসলো
“তুমি কে?”
সাইফ দাঁতে দাঁত খিচে বলল
“আগে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। পাল্টা প্রশ্ন করতে হয় না। জানেন না নাকি?”
“সে তো বুঝলাম। কিন্তু আমি তো অদিতি কে কল করেছি। তুমি কে বাছা?”
সাইফের রাগ কোথায় এবার আর সংযত করা সম্ভব না। জিদের সাথে চিবিয়ে চিবিয়ে জবাব দিলো
“আমি অদিতির স্বামী”
অপর প্রান্তের মানুষটির কথা শোনা যায় না আর। নিশ্চুপ হয়ে গেছে বোধহয়। ভারিক্কিং গলায় আবারো বলল
“কি বললে আরেকবার বলো”
“কথা শুনতে পান না নাকি? আমি অদিতির স্বামী। অদিতি আমার স্ত্রী। আপনি কে তাই বলুন”
ভিজে উঠল অপর প্রান্তের মানুষটির চোখের পাতা । বেশ শান্ত গলায় জবাব দিল
“আমি অদিতির চাচাতো ভাই”
সাইফের রাগ এবার মাত্রা ছাড়ালো
“ওহহহহ আই সি। সেই বজ্জাত টার বংশধর রাইট? যে নিজের মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছিল শুধুমাত্র টাকার জন্য”
অপমানের মুখটা থমথমে হয়ে গেল মাহিদের। কেবল ছোট করে বলল
“অদিতি আসলে বলবেন, ওর মাহিদ ভাই কল করেছিলো”
সাইফ আবারো গরম হয়ে বলল
“হোয়াট ডু ইউ মিন বাই ওর মাহিদ ভাই? নেক্সট টাইম আমার ওয়াইফ কে কল করার আগে দশবার ভাববেন। মাইন্ড ইট”
কল কেটে নাম্বারটা ব্লকলিস্টে দিয়ে দিল সাইফ। ইচ্ছা করছে ফোনটাকে ছুড়ে ফেলে দিতে। এই মেয়েটাকে সাইফকে শান্তি দিবে না নাকি। হঠাৎ অদিতির কথা উদয় হল মনে। এই মুহূর্তে একটু পাশে থাকলেও তো পারতো।
এই মেয়েটা বাড়ির সবার খেয়াল রাখে, শুধু নিজের স্বামীর টা বাদে। অদিতির খেয়ালটুকু তে মোটেই সন্তুষ্ট হয় না সাইফ। সে চায় তার ওয়াইফ সব সময় তার কাছাকাছি থাকুক, তার যত্ন করুক, তার খেয়াল রাখুক, তার সাথে সময় কাটাক। কিন্তু অদিতি ভালো স্ত্রী হওয়ার আগে বাড়ির ভালো বউ হওয়ার যুদ্ধে নেমেছে।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিজেই গেল অদিতির খোঁজে। অদিতি তখন তুমুল আর নদীর চিন্তায় মগ্ন হয়েছ সোফায় মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে ফ্লোরে। ভেজা চুল গুলো টাইলসের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। খুব উদাস দেখাচ্ছে মেয়েটাকে।
সাইফ সিড়ি থেকেই প্রিয়তমার উদাস মুখমন্ডল। কেমন এলোমেলো দেখাচ্ছে মেয়েটাকে।
সাইফ নিচে এসে আচমকা অদিতির ঘারে মাথা ঠেকিয়ে শুয়ে পড়লো। অদিতিও খানিকটা চমকে উঠল হঠাৎ। পিছনে তাকিয়ে স্বামীর মুখশ্রী দেখেই আবার তা মিলিয়ে গেল। সাইফের বরাবরের পছন্দ অদিতির ঘাড়ের অংশে কামড় দেওয়া। কিন্তু সেদিনের ঘটনা মনে পড়ার পর আবার নিজেকে সংযত করল। আলতো করে চুমু খেলো অদিতির কাঁধে।
অদিতিও স্বামীর বুকে হেলে পড়লো। সাইফ অদিতি কে নিজের সাথে আসছে পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বলল
“কি হয়েছে বাবুই? কেমন একটা লাগছে তোমায়। বলো আমাকে। বলওওওও”
অদিতি সাইফের বুকে মাথা ঠেকিয়ে উদাস ভঙ্গিতে বলল
“আচ্ছা আপনি তো আমাকে ভালোবাসেন তাই না?”
সাইফ অদিতির ঘাড়ে থুতনি ঠেকিয়ে বলল
“কেন তুমি বোঝনা বুঝি?”
অদিতি সাইফের দিকে তাকিয়ে বলল
“আমিও তো বাসি”
সাইফ অদিতির কপালে আলতো করে চুমু খেলো। অদিতি শান্ত গলায় বলল
“আপনি তো আমাকে পরিবারের সকলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করে এনেছিলেন”
“হুমমম। তো কি করব? ভালবাসি, বিয়ে করব না?”
অদিতি সাইফের দিকে তাকিয়ে, নিজের নরম তুলতুলে হাতটা সাইফের গালে স্পর্শ করে বলল
“নদী আপু তো তাই করেছে তুমুল ভাইয়াকে ভালবেসে বিয়ে করেছে তাহলে ওর বেলায় কেন অবিচার হচ্ছে”
সাইফের হাস্যজন মুখমন্ডল কিছুটা মলিন হলো। হাফ ছেড়ে বলল
“তোমার ছোট মাথায় অত কিছু ঢুকবে না বউ। তুমি আপাতত আমাকে আদর করো”
অদিতি করুন স্বরে বলল
“এগুলো যে আমি আর সহ্য করতে পারছি না। একটা মানুষ আরেকজন মানুষকে কতটা ভালবাসলে তার দুর্ঘটনার খবর শুনে সুইসাইড করতে পারে? বুঝতে পারছেন আপনি?”
সাইফ কথা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও মনে মনে বুঝতে পারছে অদিতি ঠিকই বলছে।
“আচ্ছা নদী সুস্থ হয়ে আসুক তারপর দেখা যাবে”
ইতিমধ্যে বাড়িতে প্রবেশ করল হাবিব চৌধুরী,হাসান চৌধুরী, সাথে আঞ্জুমান ও। অদিতি আর সাইফ দুজনেই উঠে দাঁড়ালো। হাসান আর হাবিব এসে সোফাই বসলো। ওরা কিছু একটা নিয়ে ফুসফুস করছে।
সাইফ জিজ্ঞেস করল
“কি হয়েছে বাবা? কোনো সমস্যা? নদী ঠিক আছে তো?”
হাবিব চৌধুরী রুক্ষ গলায় জবাব দিল
“ঠিক না থাকার কি আছে? সামনে ওর বিয়ে। ঠিক তো থাকতেই হবে”
অদিতি এটা ভেবে খুশি হয়ে গেল যে তুমুলের সাথে বিয়েটা বুঝি মেনে নেবে হাবিব। কিন্তু সাইফ বুঝতে পারছে ওরা অন্য কোন প্ল্যান করছে। কৌতূহলি হয়ে প্রশ্ন করল
“বিয়ে মানে? কিসের বিয়ে? এই অবস্থাতে কারো বিয়ে হয় নাকি?”
হাসান চৌধুরী বললো
“আমরা বাড়ির মুরব্বি। আমরা যা ডিসিশন নিয়ে অবশ্যই জেনে বুঝে নিয়েছি। ছেলে ভালো, ছেলের পরিবার ও ভালো। বিদেশে নিজেদের ব্যবসা আছে। বিয়ের পর নদী কে ও বিদেশে নিয়ে যাবে”
অদিতি হাস্যজনকটা মুহূর্তে মলিন হয়ে গেল। ওরা অন্য কারো সাথে নদীর বিয়ের কথা বলছে তার মানে। কিন্তু নদীর স্বামী তো তুমুল। অদিতি বললো
“কিন্তু কাকাই, নদী আপুর সাথে তো তুমুলের বিয়ে আগে থেকেই হয়ে আছে। এটা তো আইনত অবৈধ হবে তাই না?”
হাবিব চৌধুরী এমনিতেই অদিতিকে সহ্য করতে পারে না। তার মধ্যে মুখে মুখে পাকামি করায় রুক্ষ কণ্ঠে বললো
“আইন কানুন কি আমার তোমার কাছ থেকে শিখতে হবে? অসভ্য মেয়ে। বড়দের মাঝখানে কথা বলো। আর তোমাকে কতবার বলেছি আমার বাবার মেয়ের ব্যাপারে কোন কথা বলবে না।”
স্ত্রীর অসম্মান কোনকালেই পছন্দ না সাইফের। আগের বার অদিতি কিছু বলতে না দিলেও এবার আর সাইফকে থামানো গেল না
“আমার স্ত্রীর সাথে ঠিক করে কথা বলবে কাকাই। আর তাছাড়া ও তো ঠিকই বলেছে তুমুল এর আইনত বিবাহিত স্ত্রী নদী। এখন তুমি অন্য কোথাও বিয়ে দিবে বললেই হলো নাকি? আগে তো ডিভোর্স করাতে হবে। তাও আবার দুজনের সম্মতিতে”
হাবিব ফিচেল হাসলো
“কোন বিয়ের কথা বলছো তুমি সাইফ? যেটা ওর মনেই নেই?”
“নদীর মনে নাই থাকতে পারে কাকাই। কিতুমুলের কিন্তু স্পষ্ট মনে আছে। ভুলে যেও না”
হাসান চৌধুরী সাইফ কে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিল
“তুমি চুপ করো সাইফ। নদীর বাবা হাবিব। ও যা ভালো মনে করে তাই করবে।”
অগত্য অদিতি আর সাইফ চলে আসলো নিজেদের রুমে। সাইফ কিঞ্চিত রেগে অদিতি কে বলল
“এজন্যই তোমাকে বারবার বলি ওদের মধ্যে কথা বলতে যেও না”
অদিতি মন ভার করে বিছানায় গিয়ে বসলো। তখন সাইফের হঠাৎ করে মনে পড়লো মাহিদের কথা।
“মাহিদ কে?”
সাইফের মুখে মাহিদের নাম শুনে অদিতি খানিকটা ভড়কে গেল।
“আমার চাচাতো ভাই হয়। আপনি কি করে জানলেন?”
অদিতির ফোনটা অদিতির সামনে ছুড়ে দিয়ে সাইফ বলল
“নাও কল করেছিল তোমার প্রানের ভাই। নাম্বারও নাকি ম্যানেজ করে নিয়েছে”
অদিতি উৎফুল্লের সাথে বলল
“কি? মাহিদ ভাই কল করেছিল?”
অদিতির মাহিদের প্রতি এমন আগ্রহ দেখে সাইফ যেন আরো ছুটে গেল
“তখন থেকে মাহিদ মাহিদ মাহিদ এক নাম জপে যাচ্ছো। সেই নরপশুর বংশধর। যারা তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছিলো। তুমি তাদের নাম আবার মুখে নিচ্ছো।”
অদিতি সাইফ এর কাছে এগিয়ে এসে সাইফের বুকে হাত রেখে মোলায়েম কণ্ঠে বললো
“মাহিদ ভাই অনেক ভালো বিশ্বাস করুন। উনার সাপোর্টে আমি পড়াশোনাটা করতে পেরেছি”
সাইফ রেগে অদিতি কে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল
“হ্যা এখন মাহিদ ভাই তোমার কাছে ভালো হয়ে গেলো? আর আমি খারাপ তাই তো?”
“আশ্চর্য আমি আপনাকে খারাপ কেন বলতে যাবো?”
“তো তুমি কি মিন করলে? খারাপ ই তো আমি।”
অদিতি বুঝলো তর্ক করলে আরো ক্ষেপে যাবে সাইফ। নিজেই চুপ হয়ে গেলো। মাথা নিচু করে বলল
“সরি। আর জীবনেও মাহিদ ভাইয়ের নাম মুখে নিবো না”
“মুখে নিতে পারো। তবে সেদিন এর পর থেকে মুখটা আর থাকবে না”
অদিতি সাইফ কে শান্ত করার উপায় খুঁজছে। সাইফের কাছাকাছি ঘেষে দাড়িয়ে বলল
“এমনিতে বাচ্চা বিড়াল বলে খুব আদর করে দেন। এখন কি….. “
অদিতির কথা শেষ হওয়ার আগেই সাইফ রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায় অদিতির দিকে। অদিতি মাথা নুইয়ে ফেলে আলগোছে। এভাবে বোধহয় রাগ ভাঙানো যাবে না লোকটার।
কিন্তু অদিতি কে অবাক করে দিয়ে সাইফ কোলে তুলে নিলো অদিতিকে। চোখ মুখ এখনো কঠোর। অদিতির অবাক ভয়ে পরিণত হলো সেদিনের কথা মনে করে। আবার তেমন শাস্তি দিবে নাকি?
ওর ভাবনার মধ্যেই সাইফ বিছানায় ছুড়ে ফেললো। অদিতি আজ সরে যায় না। আরো জড়িয়ে নেয় সাইফ কে। সাইফ কিছুটা অবাক হয়। বুঝতে পারে না অদিতি কি করতে চাইছে। অদিতির নরম ওষ্ঠদ্বয় স্পর্শ করে সাইফের খোচা খোচা দাড়িওয়ালা গালে। সাইফের মস্তিষ্ক থেকে রাগ যেন বেড়িয়ে যাচ্ছে কর্পূরের ন্যায়।
স্বীয় স্ত্রীর আদর ভুলিয়ে দিচ্ছে সকল অভিযোগ। অনেকটা শান্ত হলো সাইফ। আলগোছে মুখ ডোবালো অদিতির ঘাড়ে।
কিন্তু তাদের এই ভালোবাসা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। নিচে শোনা যাচ্ছে কোলাহল। খুব জোরে চিৎকার করছে কেউ। অদিতি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে তুমুলের গলা।
চলবে?
গত পর্বে আপনাদের রেসপন্স সত্যিই মুগ্ধ করেছে আমায়। সত্যিই,আমি শুধু কিছু সংখ্যক ফলোয়ার পাইনি। পেয়েছি এক আন্তরিক পাঠক মহল। অনেক ভালোবাসা আপনাদের 🥹🫶
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৮
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৫