খাঁচায় বন্দী ফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৩০
ব্যালকনির ঝিরিঝিরি শীতল হাওয়ায় সাইফের সিল্কি চুল গুলো নড়েচড়ে উঠছে বার বার। গায়ে ব্ল্যাক কালার ওভার সাইজ হুডি। এক হাত হুডির পকেটে গুজে অপর হাতে শক্ত করে ধরে আছে অদিতির মোবাইল। চোখ মুখ কঠিন, চোয়াল শক্ত করে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফোনের স্ক্রিনে। কলের অপেক্ষা করছে ম্যাসেজ করা মানুষটার।
কারণ ব্যাক্তিটি জানিয়েছে ৫ মিনিট পরে কল করবে। ৫ মিনিট গিয়ে ২০ মিনিটে ঠেকেছে। কিন্তু এখনো কল আসেনি। সাইফও চাচ্ছে না কল টা সে আগে করতে। সাউফ চাচ্ছে ম্যাসেজ করা ব্যাক্তিটিই আগে কল করুক। কার এতবড় সাহস তার বউকে ম্যাসেজ দেয় রাত বিরেতে। সে রাতে আর কল আসলো না।
সাইফও অদিতিকে কিছু বলেনি। কারণ সাইফ জানেঅদিতি ফোনের বিষয়ে এত ভালো বোঝে না। কিছু বোঝে না বললেই চলে। আগে কখনো স্মার্ট ফোন ব্যবহার তো দূর দেখেও নি। গ্রামের মেয়ে তো তাই। আর বুঝলেও বা কি, এসবে অদিতি রুচি আসবে না। যে কোন ছেলে বন্ধুকে নাম্বার দিয়ে আসবে। কিন্তু যে মেসেজটা করছে সে নিশ্চয়ই জেনে বুঝেই করছে। তাকে একটা শিক্ষা তো দিতেই হয়।
পরদিন সকালে সাইফের ঘুম ভাঙ্গে অদিতির আগেই। কাল প্রায় রাত ৩ টা পর্যন্ত জেগেছিল। মাথাটা বড্ড ধরে আছে। অদিতি ঘুমোচ্ছে ভেবে আর ডাকলো না। নিজে চলে গেল কিচেনে কফি বানানোর জন্য। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সাইফের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। অনেকটা ঝুঁকে একটা কাপড় দিয়ে ডাইনিং টেবিল টা পরিষ্কার করছে চামেলী। রোজকার মতো আজও কোমর পিঠ এবং বুকের ভাঁজ উন্মুক্ত রেখে শাড়ি পড়েছে। ঝুঁকে টেবিল মোছার দরুন আরো বিশ্রী লাগছে তার গলার নিচের অংশ। সাইফকে সিড়ি দিয়ে নামতে দেখে একটা কামুকি হাসি দিল। যেটা ওর বরাবরের অভ্যাস।
সাইফ গটাগট পায়ে সিড়ি থেকে নেমে এসে চামেলীর সামনে দাঁড়িয়ে বলল
“আপনি এখানে কি করছেন?”
চামেলী কাজ থামিয়ে সাইফের দিকে ঘুরে কোমরে হাত দিয়ে বলল
“ ও মা, দেহেন না কাম করতাছি। আমি হইলাম কামের লোক। কাম ছাড়া কি অন্য কোন বাড়িতে খোশ গল্প করার সময় আছে এই চামেলীর।”
সাইফের বরাবরই পছন্দ নয় চামেলীকে। পুরোপুরি না জানলেও তার ভাব ভঙ্গিতে চরিত্র সম্পর্কে অনেকটা আন্দাজ করতে পারে সাইফ। এই মহিলা মোটেও সুবিধার না। তার পোশাক আশাকে তার চরিত্রের অর্ধেক পরিচয় দিয়ে দেয়। তারপরও সুফিয়ানের মুখ থেকে অনেক শুনেছে এই মহিলার ব্যাপারে। সাইফ কপাল কুঁচকে কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বলল
“আপনাকে কে কাজ দিয়েছে এই বাড়িতে?”
চামেলী টেবিল মুছতে মুছতেই বলল
“আমনের মায়। কিডা আবার?”
সাইফ মনে মনে ভাবছে, মা এই মহিলাটাকে কাজ করার জন্য আনলো। দেশে কি আর লোক ছিল না? লোকের কি অভাব পড়েছিল? সাইফকে বললেই তো সাইফ কাজের লোক জোগাড় করে দিত। চামেলি নিজের হাতে চুল পেঁচাতে পেঁচাতে কোমর দুলিয়ে দুলিয়ে সাইফের দিকে এগিয়ে আসলো
“তা বাবু, এত ভোরে ভোরে ঘুম ভেঙেছে? নাকি ঘুমান নিয়ে এখন?”
“ঘুমাবো না কেন?”
চামেলি খিল খিল করে হেসে বলল
“নাহ। নতুন নতুন বিয়ে করছেন। নাও ঘুমাইতে পারেন। কওয়া যায়?”
সাইফ কপট রাখতে গিয়ে বলল
“মা কাজ দিয়েছে কাজ করুন চুপ করে। কাজের বাইরে কোন বাড়তি কথা বলবেন না। বাড়তি কথা আমার একদম পছন্দ না”
সাইফ কিচেন এর দিকে এগিয়ে গেলে চামেলী পেছন থেকে মুখ ভেংচি দিল।
“এ আবার কেমন ব্যাটা মানুষ? মুখে একটু রস কস কিচ্ছু নাই। হুহহ”
সাইফ কে কিচেনে টুকটাক শব্দ করতে দেখে চামেলী এগিয়ে গেল সেদিকে।
“কিছু লাগলে আমারে কইতে পারেন। আমি বানায় দিমু?”
“আপনাকে কি বলেছি আমি বানিয়ে দিতে? চুপচাপ নিজের কাজ করুন”
চামেলী আরেক দফা ভেংচি কেটে চলে গেল ড্রয়িং রুমের দিকে। সাইফ কফি নিয়ে রুমে গিয়ে দেখল অদিতি উঠে পড়েছে।
“আরেকটু ঘুমাতে পারেন ম্যাডাম। এখন থেকে আর সকাল সকাল উঠতে হবে না। মা কাজের লোক রেখেছেন নতুন”
অদিতি বলল
“হ্যাঁ কালই মা আমাকে বলেছে ।”
সাইফ চোখ ছোট ছোট করে বলল
“তুমি জানতে? তাহলে আমাকে কেন বললে না?”
“বলার কি আছে? একটা কাজের লোক রাখবে বাড়িতে, এতে এত কিছু বলার কি আছে?”
সাইফ কথা বাড়ল না। শুধু বলল
“মহিলাটাকে খুব একটা ভালো লাগেনা। মনে হয় ক্যারেক্টারে প্রবলেম আছে। ওর সাথে একদম বেশি কথা বলবে না”
অদিতি ঘাড়কাত করে সম্মতি জানালো। সাইফ বলল
“রেডি হয়ে নিচে এসো নাস্তা করে আবার কলেজে ও তো যেতে হবে”
—
নয়টার আগে কলেজে এসে গেছে রোহান আর মুশফিক। যদিও রোহান মুশফিক এর আগেই এসেছে তবে মুশফিক মাত্র এলো। রোহান হাসি হাসি মুখে মুশফিকের দিকে এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করলো। মুশফিক রোহানের খুশি খুশি ভাব দেখেই বুঝতে পারছে আজ কিছু হয়েছে
“কিরে এত খুশি দেখাচ্ছে তোকে?”
রোহান চিল একটা ভাব নিয়ে বলল
“আমার তো লট্রি লেগে গেছে বে লট্রি”
“তাই? তা ক’কোটি টাকার লট্রি জিতলি ভাই?”
রোহান মুশফিকের কাধে চাপড় দিয়ে বলল
“অদিতি তো আমার ওপর ফিদা ভাই”
মুশফিক ফিক করে হেসে ফেললো
“ হেহহ। ঢপ মারছিস?”
“আরে না ব্যাডা। সত্যিই। কাল ওকে ম্যাসেজ দিলাম। পরে ও নিজেই কল দিতে বলল আমায়।”
মুশফিক সন্দিহান চোখে তাকে আছে রোহানের দিকে। রোহান পকেট থেকে ফোন বের করে বলল
“বিশ্বাস না করলে এই দেখ। এই যে দেখ স্পষ্ট মেসেজ লেখা আছে”
মুশফিক দেখলো সত্যিই। ধানের কাঁধে চাপড় দিয়ে বলল
“আরে বাহ ভাই। তোর তো সত্যি সত্যি লটারি লেগে গেছে।”
ইতিমধ্যেই সাইফ আট অদিতি চলে এসেছে কলেজের গেটে। মুশফিক কনুই দিয়ে গুতা দিয়ে দেখালো রোহানকে।
রোহান ইষৎ কপাল কুচকালো। কারণ আজও সেই ছেলেটা এসেছে অদিতির সাথে। মুশফিকের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলল
“ চহহ ভাই। আজ অদিতিকে জিজ্ঞেস করতেই হবে কে ওটা।”
অদিতি গেট পার হয়ে কলেজে ঢুকতেই সাইফে চলে গেল। রোহান আর মুশফিক এগিয়ে এলো অদিতির দিকে।
“হাই অদিতি”
অদিতি হাঁটা থামালো না। হেঁটে যেতে যেতেই বলল
“হ্যালো”
রোহান আর মুশফিক ও অদিতির পিছে পিছে হাঁটছে। অদিতিকে ডেকে কিছু বলতে যাবে অমনি সামনে পড়ে আদিত্য স্যার। রোহান মুখ বন্ধ করে ফেলে। আদিত্য অদিতির দিকে তাকিয়ে বলে
“অদিতি। রাইট?”
অদিতি সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে বলে
“ইয়েস স্যার”
আদিত্য চশমা ঠিক করে বলে
“তারপর। কেমন লাগছে আমাদের কলেজ?”
“ জি স্যার, অনেক ভালো”
“গুড। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করিও কিন্তু”
“ইয়েস স্যার। থ্যাঙ্ক ইউ”
আদিতি পাশ কাটিয়ে চলে গেল। কিন্তু আদিত্য তাকিয়ে রইল অদিতির চলে যাওয়ার দিকে। রোহান আর মুশফিক ও চলে গেল অদিতির পিছু পিছু। আজ আফিয়া এখনো আসেনি। অদিতি গিয়ে সামনের বেঞ্চটা ফাঁকা পেল ওখানেই বসলো। অদিতির পাশেই বসলো রোহান। অদিতি কিঞ্চিৎ কপাল কুচকে বলল
“একি? আপনি এখানে বসেছেন কেন? আপনি পেছনে বসেন এখানে আফিয়া বসবে”
রোহান একটু লজ্জাবোধ করল অদিতির ব্যবহারে
“আফিয়া মনে হয় আজ আর আসবে না। এতক্ষণ তো এসে যেত আসার হলে”
অদিতি মুখ ভার করে বলল
“তবুও। থাক আপনি বসুন। আমি পেছনে যাচ্ছি।”
রোহান একটু অপমান বোধ করল। অদিতি উঠে যেতে নিলে অমনি দরজা দিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকলো আফিয়া। অদিতির দিকে দুহাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসলো
“এসে গেছি বেইব”
অতিথির মুখে একটু হাসি ফুটলো। রোহান অদিতি কে বলল
“তোমরা দুজন এখানেই বসো। আমি পেছনে যাচ্ছি”
আফিয়া আর অদিতি বসলো সেখানেই। আফিয়া দৌড়ে আসার দরুন হাঁপাচ্ছে। অদিতির কাধে কনুই ঠেকিয়ে বলল
“ তা ননদিনী, কি অবস্থা আপনার?”
অদিতি কপাল কুচকায়
“ ননদিনী মানে?”
আফিয়া একটু ধাক্কা ধাক্কা দিয়ে বলল
“ননদিনী মানল বুঝিস না তুই?”
“বুঝি। কিন্তু আমাকে বলছিস কেন?”
আফিয়া লাজুক হাসলো।
“হতেও তো পারি কোনোদিন”
এবার থেকে বই বের করতে করতে বলল
“কোন চান্স নেই। কারন আমার কোন ভাই নেই”
আফিয়া একদম থ হয়ে গেল।
“মানে কি?”
অদিতি কিছু বলার আগেই প্রফেসর ক্লাসে ঢুকলো। পরপর দুইটা ক্লাস হওয়ার পরেই অদিতির ফোনে কল আসে। সাইফ কল করেছে।
অদিতি ফোন রিসিভ করে বলল
“হ্যাঁ বলুন”
ওপাশ থেকে শোনা যায় সাইফের হাস্কি কণ্ঠস্বর
“ বেইবিইইই।”
অদিতি আফিয়ার দিকে তাকিয়ে আর একটু জানালার পাশে ভেসে গেল। মুখে হাত দিয়ে ফোনের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল
“কি হচ্ছেটা কি? ক্লাসে আছি তো”
“কয়টা ক্লাস হলো?”
“দুইটা”
“চলে এসো। আজ আর ক্লাস করতে হবে না”
অদিতি অবাক হয়ে বলল
“এমা কেন?”
“কারণ আজকে আমি আমার বউকে নিয়ে ঘুরতে যাব”
অদিতির ঠোঁটে হাসি ফোটে। ঢাকায় এসেছে পর একদিন ঘুরতে যাইনি সাইফের সাথে। মিষ্টি হেসে বলল
“কখন আসবো?”
“এখনই। বাইরে ওয়েট করছি আমি”
অদিতি ওঠে ফোনটা ব্যাগে ভরে নিয়ে যেতে যেতে আফিয়াকে বলল।
“আমি আসছি। বাই”
আফিয়া পিছন থেকে টেনে ধরে
“এই কোথায় যাচ্ছিস?”
অদিতি পিছনে ফিরে না। যেতে যেতে বলে
“যেতে হবে আমায়”
রোহানও উঠে অদিতির পিছু পিছু গেল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখল কালকে সেই ছেলেটার সাথে অদিতি গাড়িতে উঠে গেল। রোহান মুখ গোমরা করে ক্লাসে চলে আসে।
আজ তিনজনের কারোরই ক্লাসে মন বসছে না। ওটা অদিতির ভাই ও না। তাহলে কে। তিনজনে খুব গসিপ করে অদিতি কে নিয়ে। রোহান মুখ গোমরা করে আফিয়াকে বলে
“যখন ও বলল ওটার ভাই না। তুই জিজ্ঞেস করবি না তাহলে কে”
“আর তার মধ্যে স্যার এসে পড়েছিল। তাই আর জিজ্ঞেস করার সুযোগ পাইনি”
“আজকে আবার কল দিতে হবে। অদিতিকে বলতে হবে সবটা। জিজ্ঞেস করতে হবে ওটাকে।”
অদিতি আর সাইফ আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরেছে। সন্ধ্যার পর পর বাসায় ফিরলো দুজন। অদিতি রোজকার মতো ফ্রেশ হয়ে সন্ধ্যার নাস্তা বানাতে ব্যস্ত। সাইফ আজও অপেক্ষায় আছে কখন ফোন আসবে
ইতিমধ্যেই ফোনে রিং বেজে উঠলো। সাইফ দেখলো কালকের সেই নাম্বার। ফোন রিসিভ করে কানে নিতেই
“হাই অদিতি”
সাহেব কথা বলে না শুধু ফোন কানে চেপে রাখে। রোহান আবার বলল
“আচ্ছা একটা কথা বলি কিছু মনে করবে না তো? আসলে বলছিলাম যে, তোমাকে রোজ যে ছেলেটা দিয়ে যায়, ওটা তোমার কে হয়? তোমার বয়ফ্রেন্ড নাকি?”
সাইফ গম্ভীর ভারিক্কি গলায় জবাব দিল
“বিবাহিত মেয়েদের কখনো বয়ফ্রেন্ড থাকে না। তাকে হাসবেন্ড”
পুরুষকণ্ঠ শুনে রোহানের কপাল কুঁচকে আসে
“আপনি কে?”
সাইফ পাল্টা প্রশ্ন করেন
“তুই কে?”
সাইফের মুখে তুই সম্মোধন শুনে রোহান একটু ঘাবড়ায়
“ ইয়ে…আমি অদিতিকে ফোন করেছি। আপনি কে”
“অদিতির হাসবেন্ড”
রোহান যেন আকাশ থেকে পড়লো। অদিতি বিবাহিত? রোহানের ভাবনার মধ্যে সাইফ বলে
“এবার নিজের পরিচয়টা সুন্দর করে দাও”
রোহান নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করেও আমতা আমতা করতে থাকে
“ আসলে আমি অদিতির ক্লাস ফ্রেন্ড। আমার নাম রোহান।”
“নম্বর পেলে কোত্থেকে?’
“অদিতিই দিয়েছে। আর কলও করতে বলেছিল রাতে। সেজন্যই….”
সাইফের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে
“নম্বরটা যে অদিতি দিয়েছে তার প্রমাণ কি?”
“অদিতির নম্বর অদিতি না দিলে আমি কোত্থেকে পেলাম আজব? আর তাছাড়া…. “
কথা শেষ হওয়ার আগে মুখের উপর কল কেটে দিল সাইফ। রোহান বুকে হাত দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
তাই ফোনটা বেডে ছুড়ে দিয়ে দ্রুত করে নিচে চলে গেল। তার মেজাজ আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। অদিতি কোনো ছেলেকে নাম্বার দিয়ে এসেছে কল করার জন্য? সুন্দর মুখশ্রীটা রাগে রক্তবর্ণ হয়ে গেছে যেন। শরীরের শিরা উপশিরা গুলো দপদপ করছে রাগে। অদিতি কিচেনে নাস্তা বানাতে ব্যস্ত। সাইফ আচমকা গিয়ে গলা চেপে ধরলা অদিতির। আচমকা এমন কাণ্ডে অদিতির সাথে ভড়কে গেল চামেলী ও।
নিজের শক্ত পুরুষালী হাতে চেপে ধরেছে অদিতির কণ্ঠনালী। অদিতির শ্বাস আটকে আসছে যেন। সাইফ দাঁতে দাঁত পিষে বলল
“ছেলে বন্ধুকে নাম্বার দিয়ে আসা? পাখনা গজিয়েছে খুব? এমন পাখনা আমি ছাটতে জানি।”
অদিতি চোখ উল্টাতেই সাইফ ছেড়ে দিল । আরেকটু হলেই নিশ্বাস বেরিয়ে যেত যেন। অদিতি কাঁদো কাঁদো গলায় বলল
“কি করেছি আমি? মারছেন কেন?
সাইফ রাগে ফেটে পড়ছে যেন
“রোহান কে”
অদিতি চোখ মুছে বলল
“ কোন রোহান?”
“তুই ফোন নম্বর কাকে দিয়েছিস?”
“আমি শুধু আফিয়া কে নম্বর দিয়েছি”
সাইফ অদিতির হাত শক্ত করে ধরে টানতে টানতে নিয়ে এলো রুমে। ফোন থেকে আফিয়ার নাম্বার বের করে কল করো তাতে। স্পিকারে দিয়ে অদিতির হাতে ধরিয়ে দিল
“জিজ্ঞেস কর ও কাউকে নাম্বার দিয়েছে কিনা”
দুই তিনবার রিং হওয়ার পরে আফিয়া কল ধরল
“হাই বেবি”
অদিতি কাঁপাকাঁপা গলায় বলল
“তুই কি কাউকে আমার নম্বর দিয়েছিলি?”
আফিয়া মাথা চুলকে মিন মিন গলায় বলল
“আসলে বেবি, রোহানকে তোর নাম্বারটা দিয়েছিলাম আমি। ওকে কল করেছিল তোকে?”
আর কিছু বলার আগেই সাইফ অদিতির হাত থেকে ফোনটা নিয়ে কল কেটে দিল। অদিতির চোখ থেকে পানি পড়ছে গড়িয়ে। আফিয়া কেন এমনটা করলো তার সাথে? সাইফ এগিয়ে এসে অদিতিকে শক্ত করে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরলো। সাইফের আদর পেয়ে যেন অদিতির কান্নারা আরো বাঁধ ভেঙে পড়ল। সাইফের চওড়া বুকে মুখ গুঁজে অঝোরে কাঁদতে লাগলো অদিতি।
সাইফের রাগ এখনো কমেনি। অতীতের উপরে সব রাগ গিয়ে পড়ল আফিয়ার উপর। কাল সাইফ কলেজে যাবে অদিতির সাথে
চলবে?
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৮
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল গল্পের লিংক