কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
খাঁচায় বন্দী ফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ১৫
রুমের মধ্যে অনেক ক্ষণ হয় পায়চারি করছে নদী। ভিতরটা কেমন হাহাকার করছে। ভালো লাগছে না কিচ্ছু। কল করবে কিনা সেই সিদ্ধান্তই স্থির করতে পারছে না। একবার ঘরের এদিক যাচ্ছে। আরেকবার ওদিক। মনে মনে কষ্টও পাচ্ছে, কেমন বাচ্চাদের মতো রাগ দেখিয়ে চলে গেলো লোকটা। আবার আফসোস করছে, বলাও তো যেত হ্যা ভালোবাসি। কিন্তু ওমন ফট ফট করে প্রেমের কথা বলা নদীর দ্বারা সম্ভব না।
নদীর মনে হঠাৎ অন্য ভাবনা উদয় হলো
” ১ সেকেন্ড। উনি সব বুঝে ফেলে তাহলে এটা কেন বুঝলো না”
ধুর ভাল্লাগেনা। পায়েচারি করতে করতে ঠুকে গেলো দীঘির সাথে।
” চোখের কি মাথা খেয়েছিস?”
দীঘির কথায় হা করে তাকিয়ে রইলো নদী। দীঘি নদীর ঠিক উল্টো। ফটাফট যা মুখে আসে বলে দেয়। নদীর তাকিয়ে থাকা দেখে বলল
” ছোট মাছ খাবি বেশি করে, আজ থেকে সব মাংস আর দুধ ডিম বন্ধ তোর। আমি না হয় কানা মানলাম, তুইও কি কানা”
নদী ছোট করে বলল
” এই টুকু নিয়ে কত কথা বললি তুই?”
দীঘি খাটের ওপর বসে বলল
” তুই আবার কবে এত ভালো ব্যাডমিন্টন খেলা শিখলি”
নদী লাফ দিয়ে উঠলো দীঘির কথায়। তার অবস্থা তখন ধরা পরা চোরের মত। কপাল কুচকে বলল
” মানে?”
” হুউউউউউ দেখলাম তো পার্কে খুব খেলছিলি”
নদী মুখটা ছোট করে বলল
” আমি? কখন?”
দীঘি উঠে এসে নদীর গলা জড়িয়ে ধরে বলল
” আপুউউউউউ, আমার চোখ ফাকি দেওয়া সম্ভব নাহহহহ। আমি সবার ব্যাপারে খবর রাখি”
নদী কপট রাগ দেখালো
” আমার পিছন পিছন গেছিলি?”
” তা যাবো না? তুই এত ভোরে জীবনে বেরোস? আর যেমন ভাবে যাচ্ছিলি, আমি তো আরো সিরিয়াস কিছু…….”
” চুপ। এই বোন। লক্ষি আমার। মা কে বলিস না”
দীঘি মুখ বাকিয়ে ব্যাঙ্গ করে বলল
” মা কে বলিস না। আমি কি গাধা নাকি? যে বোন প্রেম করছে সেটা মা কে বলবো”
নদী ওড়নার আঙুলে পেচাতে পেচাতে বলল
” প্রেম?”
দীঘি বলল
” কিন্তু এসেছিস পর থেকে মন খারাপ? কি হয়েছে ঝেরে কাশ তো”
নদীর ছোট বোনকে এসব বলতে অস্বস্তি হচ্ছে। তবুও বলল
” আসলে রাগ করে চলে গেছে”
দীঘি একদম প্রাপ্ত বয়স্ক দের মতো ভাব করে বলল
” কিন্তু কেন? “
নদী মাথা আরো নিচু করে ফেলে। এ কথা কেমনে বলবে যে ভালোবাসি বলেনি। দীঘি উত্তরের অপেক্ষায়।
” উনি জিজ্ঞেস করেছিলো ভালোবাসি কিনা”
” তারপর”
” আমি বলেছি না”
” তুই সিঙ্গেলই মরবি। কানাচু*দা”
দীঘি রাগ দেখিয়ে বেড়িয়ে গেলো। যাআআআআ। আসল কথাটাই বলল না। দীঘি আবার ফিরে এলো
” দাদাভাই এসেছে”
নদী তুযার আসার খবরে একটু স্বস্তি পেলো। মাথায় ওড়না দিতে দিতে ড্রইং রুমে গেলো। তুযা সোফায় বসে আছে। অদিতি আঞ্জুমান এর সাথে রান্না ঘরে। নদী গিয়ে সালাম দিলো। তুযা বলল পাশে বসতে।
নদী, দীঘি দুজনেই খুব গল্প করলো তুযার সাথে। কিন্তু অদিতির ভিতরটা আতঙ্কে শুকিয়ে গেছে। সাইফ ও আসছে না। আঞ্জুমান বলল
” গরুর গোশতের জন্য আলুটা কেটে দে তো মা”
অদিতি আলু বের করে বোডের ওপর রেখে ছু’ড়ি দিয়ে পিস করতে যাচ্ছে। কিন্তু হচ্ছে না। হাত প্রচন্ড কাপছে। ছুড়ি ধরে রাখতে পারছে না। আঞ্জুমান বলল
” একি হাত কাটবে তো।
অদিতি ছু’ড়ি টা পাশে নামালো। ভয়ে তার সর্বাঙ্গে অস্বাভাবিক কম্পন হচ্ছে। অনেক ঝামেলার মুখোমুখি হয়ে সাইফ এর সাথে বিয়েটা হয়েছে আর এ বাড়িতে থাকতেও পারছে। এক ঝামেলা কাটতে না কাটতেই আরেকটা এসে হাজির। তুযার দিকে তাকাতেই তুযা চোখ টিপলো। অদিতি অপেক্ষা করছে সাইফের। যে ওর সব বিপদে ঢাল হয়ে দাড়ায়।
আঞ্জুমান বেগম কাজ কাম চাপিয়ে অদিতি কে বলল
” আয় পরিচয় করিয়ে দিই”
অদিতির শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা একটা স্রোত নেমে গেলো। এক পা দুপা করে আঞ্জুমান এর সামনে এগিয়ে গেলো। আঞ্জুমান তুযার পাশে বসে তুযার কাধে হাত রেখে বলল
” এই দেখ। সেদিন তো আলাপ না করেই চলে গেলি। ও হচ্ছে অদিতি। তোর ভাইয়ের বউ”
কথাটা কর্ণপাত হতেই চট করে অদিতির দিকে তাকালো তুযা। বউ? সাইফ ওকে বিয়ে করেছে? তুযা ভেবেছিলো হয়তো নিষিদ্ধ পল্লি থেকে ওকে সাইফ কিনে এনেছিলো অন্য উদ্দেশ্যে। আর সেই সাইফ ওকে…….।
” আর ও হচ্ছে তুযাউন। আমাদের বড় ছেলে। তোমার ভাসুর। সালাম করো”
অদিতি তুযার পায়ে হাত দেওয়ার জন্য ঝুকতেই তুযা দুহাতে অদিতির বাহু আকড়ে ধরলো
” আরে আরে থাক। অতটাও বড় নই আমি। পায়ে হাত দিতে হবে না”
কথা শেষ হলেও গা থেকে হাত সরলো না। অদিতি নিজেই সরে এলো দূরে। আঞ্জুমান হেসে বলল
” বউ মা, তুমি ওকে দাদাভাই বলে ডাকবে।”
” জ্বী মা”
অদিতি রান্না ঘরে গেলো আবার। আঞ্জুমান তুযার মাথায় হাত দিয়ে বলল
” কালকে ভাইজান বলল অসুস্থ হয়ে গেছিলি। কী হয়েছিলো? চোখ কেমন গর্তে ঢুকে গেছে।”
তুযা আঞ্জুমান এর কোলে মাথা দিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লো
। আঞ্জুমান মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল
” এবার বিয়েটা কর সোনা। বয়স তো যথেষ্ট হলো। আমার তো চিন্তা হয় বড় ভাবি কে নিয়ে। ওনার এখন বউ মা থাকবে, আপদে – বিপদে ঘরের সব দেখা শোনা করবে। “
কিন্তু সেসব তুযার কানে ঢুকছে না। ওর চিন্তা অদিতি কে কীভাবে বের করা যায় এখান থেকে। সাইফ এর সাথে কথা বলতে হবে। ইতিমধ্যেই বাড়িতে এলো হাবিব চৌধুরী। তুযা উঠে বসলো
” কাকাই কেমন আছো?”
হাবিব স্মিত হেসে বলল
” এইতো বেটা, আছি। তোর কি খবর”
হাবিব চোখ ইশারা করলো তুযাকে নিজের ঘরে যেতে।। হাবিব যাওয়ার পরপরই তুযাও গেলো।
” কাকাই। তোমরা কি জানো সাইফ এই মেয়েকে কোথা থেকে এনেছে?”
” জানি, আর এ ও জানি যে এই মেয়ে তোমার কাছ থেকেই পালিয়ে এসেছে”
তুযার চোখের নজর আরো গাঢ় হলো হাবিব চৌধুরীর ওপর। সতর্ক ভঙ্গিতে বলল
” তুমি কীভাবে জানলে?”
হাবিব কিছুটা বিরক্ত ভাব নিয়ে বলল
” আমাদের সন্তান তোমরা। তোমাদের গতি বিধি নারী-নক্ষত্র সব আমাদের জানা”
” বা’ল ডা জানোই যখন, এতদিন আমারে খবর দাও নাই ক্যান?”
হাবিব তুযার দিকে রাগী ভঙ্গিতে এগিয়ে গেলো
” তোমাকে বলিনি আমি? বলিনি এই মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিতে চাই”
তুযাও নির্লজ্জের মতো বলল
” বা’ল বলছো তুমি। একবারও কি বলছো এটা সেই মেয়ে? আর ওইদিন অদিতির খোজেই আমি এক জায়গা গেছিলাম”
হাবিব মাথায় হাত দিয়ে খাটের ওপর বসলো। তুযা গিয়ে আস্তে করে হাবিব এর পাশে বসে বলল
” এখনো সময় আছে কাকাই। ভেবে দেখো। তোমার মনে নেই জেবার বাবা কি বলেছিলো”
হাবিব চৌধুরীর চোয়াল শক্ত হলো। তুযা হাবিব চৌধুরীর কাছে আরে ঘেষে বসলো। কাধে হাত দিয়ে বলল
” সারফারাজ কায়নাতের মেয়ে যদি একবার সাইফের বউ হয়। তোমার কপাল তো খুলে যাবে।”
সারফারাজ কায়নাতের একমাত্র মেয়ে জেবা। সম্পর্কে নদীর খালাতো বোন। নদীর মায়ের চাচাতো বোনের মেয়ে। ওর বাবার অবৈধ ব্যাবসা আর কালো টাকা সাদা করার জন্য একজন মন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠতা ভীষণ দরকার। পাওয়ারফুল একজন লোক থাকলে তার কাজ আরও সহজ হবে। কিছুদিন আগে হাবিব চৌধুরী কে বলেছেন সারফারাজ কায়নাত। কিন্তু এর মধ্যে সাইফ অঘটন একটা ঘটিয়ে ফেলেছে। হাবিব তুযার প্রস্তাব রেখেছিলো বিয়ের জন্য, কিন্তু সারফারাজ বলেছেন শুধু সাইফের জন্যই এটা গ্রহণ যোগ্য। মিনিস্টার হাসান চৌধুরীর বেয়াই হতে পারলে তার কালো ব্যাবসা আরো জমকালো করে জোরা দিতে পারবে। হাবিব চৌধুরীরও ভাইয়ের ফ্যাক্টরি দেখা শোনা করে পোষাচ্ছে না। যা ও চলছিলো, এখন আবার সাইফ বসেছে অফিসে। তার ব্যাবসায় লাল বাত্তি।
তুযা উত্তরের আশায় কাকার দিকে তাকিয়ে। হাবিব চৌধুরী বলল
” তোমার ভাই তোমার চেয়ে কম নাকি। জিদ করে এই মেয়েই বিয়ে করলো। ছ্যাহহহহ। নষ্ট পল্লির মেয়ে”
তুযার মেজাজ বিগড়ে যায়
” আরে নষ্ট জায়গা থিকা আনলে কি হইছে? মাইয়া ভালা।”
হাবিব চৌধুরী বললেন
” হুমম চেহারা পাতি ভালো আরো”
তুযা উঠে গিয়ে বলল
” এই তুমি ভাতিজা বউ এর দিকে নজর দিও না তো। কামের কথায় আসো”
হাবিব এর খুব ব্যাক্তিত্বে লাগলো কথাটা। মৃদু কাশি দিয়ে বলল
” বাবা – কাকা দের সাথে একটু ভালো করে কথা বলতে শেখো। আমি কেন বউ মার দিকে নজর দিতে যাবো?”
তুযা দাত কেলিয়ে হাসলো
” হ্যা সেটাই। নজর খালি আমি দিবো। এবার বলো তাহলে কি করা যায়? “
হাবিব চৌধুরি চিন্তিত ভঙ্গিতে বলে
” কি করবো সেটাই তো ভাবছি”
তুযা মেজাজ দেখিয়ে বলল
” হোনো কাকা, তোমার বাপে আছিলো এক মগা। মগা বোঝো? এলাকা ভইরা জমি কিনছে, আর শা*ওয়া ভইরা খাইছে। কোনো নামি দামি লোকের সাথে হাত রাখে নাই। এহন সেই ভুল ডা আমার বাপেও করতেছে। আমার বাপের জন্য না হয় আমি আছি। তোমার অবস্থা ভেবে তো আমার টেনশন হয়”
হাবিব চৌধুরী তুযার কথায় আরো চিন্তিত হয়। তুযা বলল
” আগে আমি সাইফ এর সাথে কথা কমু, তারপর ফাইনার ডিসিশন তোমারে রাইতে জানামু। তুমি এক কাম করো। সার – ফার কি নাম হালার, ওর মেয়েরে বাড়িতে আনার ব্যাবস্থা করো”
সাইফের আসতে রাত হবে। তুযা আঞ্জুমান কে বলে বাইরে গেলো। হেটে আসবে একটু। মানিকও সাথে আছে। তুযা রাস্তার মেয়েদের ঘুরে ঘুরে দেখছে। মানিকের গলা ধরে হাটতে হাটতে বলল
” মানিক আমি দেখতে কেমন রে?”
মানিক মুখভর্তি আপেল চিবোতে চিবোতে বলল
” সেই সেই এক্কেরে নায়ক গো মতো।”
তুযা দাড়িয়ে হাত বুলিয়ে বলল
” ছেরিরা ছেরা গো দেখলে কেমন ভাব সাব ন্যায়। সোজা কোমড় রে বাকা কইরা হাটে। আর আমারে দেখলে ছেরিরা ওড়না ঠিক করে, দৌড় দেয়। আমি কি এতই খারাপ?”
মানিক চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলল
” ভাই শহরের মাইয়াগো কিন্তু ভালোই দেহন যায়।কন”
তুযা মানিকের কাধে কনুই ঠেকিয়ে দাড়িয়ে বলল
” বুঝছস মানিক, তোরে এমন দেইখা একটা বিয়া করাই কি কস”
তুযার গায়ে ধাক্কা দিলো এক মেয়ে মানুষ। হাতে মোবাইল তাতে ক্যামেরা অন করা। গানও চলছে। মেয়েটা আর কেউ না। চামেলি। আচল টা একটু টেনে বললো
” দেখিনি, রিলস বানাচ্ছিলাম তো। কোথায় লেগেছে দেখিইইই”
তুযার হাত থেকে ফোনটা পরে গেছে ধাক্কা লেগে। চামেলি ন্যাকামো করে বলল
” উফফফ আপনার মোবাইল টা তো পড়ে গেলো। দাড়ান আমি তুলে দিচ্ছি।”
চামেলি মাটি থেকে মোবাইল তোলার জন্য নিচু হতেই শাড়ির আচল পড়ে গেলো বুক থেকে। তুযার মুখ আপনা আপনি হা হয়ে গেলো। এটা আবার কেমন মেয়ে মানুষ।
মানিক দৌড় দিয়ে গিয়ে তুযার পিছনে লুকালো।
” ভাই এইডা কি জিনিস? এ রকম মাইয়া লোক বাপের জনমেও দেখি নাই। ওরে যাইতে কন”
চামেলি মোবাইল টা আচলে মুছে তুযার হাতে দিয়ে মিষ্টি হাসি দিলো। তুযাও হাসলো। এতদিনে মন মত একটা লোকের সাথে দেখা হইছে তার।
চামেলি কোমড় দুলিয়ে দুলিয়ে হেটে চলে গেলো। মানিকের মাথায় গাট্টা মেরে বলল
” চল “
বাসায় ঢুকে আঞ্জুমান কে ডাকলো তুযা
” মনি মা, আমার মিষ্টি ভাইয়ের বউ কে বলো আমাকে এক কাপ মিষ্টি করে চা বানিয়ে খাওয়াতে”
ভিতরের দিকে যাওয়ার সময় আবার ফিরে দাড়ালো। গলা উচিয়ে বলল
” বলে দিও রুমে দিয়ে যেতে”
অদিতি নদীর ঘরে। আঞ্জুমান নিজেই চা বসিয়ে অদিতি কে ডাকলো
” অদিতি, অদিতি। শুনে যা তো বাবু”
অদিতি নদীর সাথে গল্প করছিলো। নদীর ভীষণ মন খারাপ। সেই সকালে রাগ করে চলে গেলো তুমুল। এখনো একটাও ফোন করলো না। নিজে আগ বাড়িয়ে যে ফোন দেবে তাও সাহসে ঘিরছে না। অদিতি বেরিয়ে গেল আঞ্জুমানের ডাকে।
” মা ডাকছিলেন? “
” হ্যাঁ এই নাও, এই চা টা নিয়ে তোমার দাদা ভাইকে দাও। ওই যে, রুমে আছে। যাও।”
অদিতি শুকনো ঢোক গিলল । আমতা আমতা করে বলল
” ইয়ে মানে মা। আমি এদিকটা দেখছি আপনি দিয়ে আসেন।”
আঞ্জুমান কাজ করতে করতে বলল
” তোকে যেতে বলেছে “
অদিতির ভয় আরো গাঢ় হলো। তুযার ঘরে ও কখনো যেতে পারবে না। জেনে শুনে শেয়াল বাঘের খাঁচায় গিয়ে ঢুকবে নাকি। অদিতি চায়ের কাপ হাতে করে আনমনে কি যেন ভাবছে। আঞ্জুমান তাড়া দিল
” কি রে যা। চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো”
অদিতি তো আগের মতই দাঁড়িয়ে আছে মুখ চোখ খুব ভীত দেখাচ্ছে। আঞ্জুমান কপাল কুচকে বলল
” কোন সমস্যা?”
অতিথি দুদিকে মাথা নাড়লো অর্থাৎ না।
” তাহলে যা “
অদিতি হাঁটা শুরু করল। যত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে, আজ বড়সড়ো কোন অঘটন করতে চলেছে । মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল দরজায় নক করবে দরজা খুললে হাতে চায়ের কাপ ধরিয়ে দিয়ে দৌড় পালাবে। নদী মনে ভয়, সংশয় নিয়ে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল তুযার রুমের দিকে।
দরজা ধাক্কা দিয়ে বুঝলো খোলাই আছে। সামান্য গলা বাড়িয়প ভিতরে উঁকি দিল কিন্তু তুযাকে দেখা গেল না। অদিতি ভাবলো রুমে নেই, এই সুযোগ চা টা রেখে দৌড়ে পালাই। অদিতি ঘরে ঢুকতেই পিছন থেকে খট করে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ পেল। হচকচিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখলো তুযা তাকিয়ে আছে। শয়তানের মতো লোলুপ দৃষ্টিতে দেখছে তাকে। দরজার পেছনে লুকিয়ে ছিল তুযা। ভয়ে অদিতির হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে গেল। তুযা একটু একটু করে সামনে আগাচ্ছে। অদিতি এক পা এক পা করে পিছনে পিছচ্ছে আর হাতজোড় করে কেঁদে কেঁদে অনুরোধ করছে তুযার কাছে
” দোয়াই ভাইজান। এমন করবেন না। আমি এখন আপনার ছোট ভাইয়ের বউ। মাফ করুন আমাকে ছেড়ে দিন।আল্লার দোহাই লাগে দাদাভাই ছেড়ে দিন আমাকে। যেতে দিন আমাকে দাদাভাই।”
তুযা বিরক্তিতে বলল
” কি ভাইয়া ভাইয়া লাগাইছোস আমি তোর কোন জনমের ভাইরে? আমি তোর নাগর রে নাগর। রসের নাগর। তুই আমার মত নাগর ছাইড়া আমার ভাইরে কেমনে বিয়া করলি রে শালী? “
অদিতি দৌড়ে গিয়ে খপ করে তুযার পায়ে ধরে বসে পড়ল
” আল্লাহর দোহাই লাগে আপনারে ভাইজান। ছাইড়া দেন আমারে।”
” কি ভাই ভাই লাগাইছস। উঠ…….
” দাদাভাই! দাদাভাই দরজা খুলো তাড়াতাড়ি।”
দীঘির গলায় সতর্ক হলো তুযা। অদিতিকে টেনে তুলল। ফিসফিস করে বলল
” দরজার পিছনে লুকা বান্দি। আমি বের হমু তার কিছুক্ষণ পর তুই বাইর হবি”
” ও দাদাভাই”
তুযা বিরক্ত হয়ে দরজা খুলল
” আরে মরিস না ছেড়ি। ক কি হইছে”
দীঘি আল্লাদে গদগদ হয়ে বলল
” সাইফ ভাইয়া এসেছে। আমাদের বাইরে নিয়ে যাবে ঘুরতে। তারাতাড়ি চলো। ভাবিটাকেও পাচ্ছি না। এই ভাবিইইইই। তুমি তাকিয়ে আছো কেন, চলো।”
সাইফের আসার কথা শুনে অদিতির সাহস হলো। কান্না রা যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। অদিতি হাত দিয়ে নিজের মুখ চেপে ধরে কান্না আটকালো।
দীঘি তুযার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেলো বসার ঘরে। সাইফ কে দেখেও কথা বলল না তুযা। কিন্তু সাইফ এত ঘটনার কিছুই জানে না। সাইফ তুযার কাছে গিয়ে বলল
” কেমন আছো দাদাভাই?”
সাইফ বরাবর এর মতো জড়িয়ে ধরলো তুযা কে। তুযা কোনো রেসপন্স করলো না। সাইফ হেসে বলল
” বোসো আমি ফ্রেশ হয়ে আসি। নদী, দীঘি অনেক দিন হলো বাইরে খেতে যেতে চাচ্ছে নিয়ে যাবো আজ।”
সাইফ ঘরে গিয়ে পকেট থেকে মোবাইল, গাড়ির চাবি, ওয়ালেট বের করে ড্রেসিং টেবিলের সামনে রাখলো। কোর্ট খুলে সোফার ওপর রাখলো।
ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। ঘাড় আর কাধের অবস্থা খারাপ। একটু হেড ম্যাসাজ পেলে আরাম হতো। কিন্তু কোথায় অদিতি? সাইফ বিরক্ত হয়ে বলল
” এই বা’লের বউ টা সারাদিন মুরগির মতো এদিক ওদিক টো টো করে বেড়ায়। তার যে একটা পারসোনাল শিয়াল ও আছে, সে কথা তার মনেও থাকে না। আজ আসুক ঘরে”
সাইফ পোষাক পাল্টে ফ্রেশ হয়ে এলো। পরনে সাদা তোয়ালে। অফিসের ফোন এসেছে। কথা বলছে আর আরেক তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছছে।
হঠাৎ কোথ থেকে অদিতি যেন চিলের মতো উড়ে এসে সাইফের বুকে পড়লো। চিৎকার দিয়ে কেদে উঠলো সাইফ কে জড়িয়ে ধরে। সাইফ হকচকিয়ে উঠলো অদিতির এমন কান্ডে। অদিতি কেদেই চলেছে। সাইফ ফোন রেখে অদিতি কে থামানোর চেষ্টা করছে
” কি হয়েছে অদিতি? এই অদিতি? পাখি, লক্ষি বউ আমার। বলো আমাকে। বলো না সোনা। কি হয়েছে। কাদছো কেন? কে কি বলেছে”
অদিতি কান্না করতে করতে এখন শুধু ফোঁপাচ্ছে। ফোপাঁতে ফোপাঁতে কথা বলতে পারছে না। যেন খিচুনি উঠে গেছে তার। সাইফ অদিতির গাল দুহাতে আগলে নিয়ে ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে
” শোনো, শোনো। পাখি আমার। লক্ষিটি। শান্ত হও। শান্ত হও। আমি আছি তো পাখি। বলো কি হয়েছে”
” দা…..দাদাভাই..দাদাভাই। ওই প্রধান বাবুর ছেলে। ওই…… ওই।
অদিতি ফোপানোর চোটে কথাই বলতে পারছে না। সাইফ ওকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিয়ে বলল।
” আগে শান্ত হও। শান্ত হও আগে। হ্যা দাদাভাই প্রধান বাবুর ছেলে। প্রধান বাবু আমার বড় কাকা।”
” উনি…..উনিই। উনিই আমাকে আটকে রেখেছিলেন। ওখান থেকে আমি পালিয়েছিলাম। পরে বাবা আমায় ওই খারাপ জায়গায়….”
সাইফ নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। নিজের বুক থেকে অদিতির মুখ তুলে দু হাতে আগলে ধরে বলল
” তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে না তো? দাদাভাই এমন কেন করবে?”
অদিতি কাঁদতে কাঁদতে বলল
“না না। একদম না। আমার একদমই ভুল হচ্ছে না। ফুলহারা গ্রামের প্রধান ওনার বাবা। আমাদের গ্রাম প্রধান। ওয়াহাব চৌধুরী”
” ও….ও..উনি আমাকে নিয়ে যেতে এসেছে। আ…আপনি আমাকে প্লিজ বাঁচান। আমি ওই লোকটার সাথে যাবো না”
সাইফ কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো অদিতি। সাইফের র’ক্ত যেন মাথায় উঠে গেলো। রাগে শীরের শিরা উপশিরা দপদপ করছে। যাকে এত সম্মান করে, নিজের গুরুজন মানে। সে কিনা গোপনে এত খারাপ কাজ করে বেড়ায়? অদিতি জাপটে ধরে আছে সাইফ কে। যেন ছেড়ে দিলেই ওকে কেড়ে নিয়ে যাবে।
দরজায় ঠকঠক শব্দে টোকা দিলো তুযা। সাইফ তাকিয়ে দেখলো তুযা দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। মুখে কুটিল হাসি। হাতে তালি দিতে দিতে এগিয়ে আসলো সাইফের দিকে। অদিতি তুযা কে দেখা মাত্র সাইফের পিছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়লো। সাইফের বাহু জড়িয়ে ধরে চোখ বুজে ফোঁপাচ্ছে অদিতি।
তুযা সাইফের সামনে এসে তালি বন্ধ করলো।
” কি খেলটাই না দেখালি সাইফ। বাহ বাহ। ডিরেক্টর পাড়া থেকে মেয়ে তুলে এনে……”
মুখ ব্যাকালো তুযা। তারপর সিরিয়াস মুড নিয়ে সাইফের সামনে দাড়িয়ে বলল
” আমার বাগানের ফুল অন্য কেউ এনেছে। ভাই বলে ছেড়ে দিলাম শুধু। এনেছিস বেশ করেছিস। এবার আমার ফুল আমায় দিয়ে দে”
সাইফ ধিক্কার করে বলল
” ছিঃ দাদাভাই। তুমি এত নিচ? আমার তোমাকে ভাই ডাকতে ঘেন্না হচ্ছে বিশ্বাস করো। ওই মুখে তুমি ভাইয়ের নাম নিও না প্লিজ।”
” তোর নাটক বন্ধ কর আর মাল টাকে আমার কাছে দে।”
সাইফ ক্ষিপ্র গতিতে গিয়ে তুযার কলার চেপে ধরলো
” আমার সামনে আমার স্ত্রী কে নিয়ে কটুবাক্য বলার সাহস কি করে হলো তোমার।”
তুযা এক ঝটকায় সরিয়ে দিলো সাইফের হাত
“শুধু আমার ভাই বলে ছেড়ে দিয়েছি। তবে এর চেয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তুইও ছাড় পাবি না বলে দিলাম”
” কি করবে তুমি হ্যা? মারবে? মারো। মারো না “
তুযা নিজেকে কন্ট্রোল করলো অনেক কষ্টে। এখানে ঝামেলা হলে সমস্যা তুযারই হবে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে সাইফ কে বলল
” এই ফুল তুই কতদিন দেখে রাখবি? ভ্রমর এর ঘ্রাণে এসে ঠিকই হুল ফুটিয়ে যাবে”
সাইফ অদিতি কে বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বলল
” আমার ফুল আমি খাঁচায় বন্দী করে রাখবো।
অন্য কোনো ভ্রমর তার ঘ্রান ও পাবে না।কাছে আসা তো দূর”
অদিতি ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে সাইফের দিকে। সাইফের বুকের সাথে মিশে রইলো অদিতি। তুযা দরজায় ঘুষি মেরে বেড়িয়ে গেলো ঘর থেকে। সাইফ অদিতির ক্রন্দনরত মুখশ্রী দুহাতে মুছে দিয়ে বলল
” আমি আছি তো বউ। তুমি বিড়াল ছানার মতো আজীবন আমার বুকে গুটিয়ে থাকবে। যত ঝড় ঝাপটা আছে সব আমি দেখে নিবো। আমি আজই ওকে বাড়ি পাঠাবার ব্যাবস্থা করছি।”
অদিতির কপালে আলতো করে ভালোবাসার পরশ একে দিলো সাইফ।
” হাতে মুখে একটু পানি দিয়ে এসো। আমি চেঞ্জ করে নিচ্ছি। নিচে যাব তারপর।”
অদিতি ওয়াশরুমে গেলো ফ্রেশ হতে। সাইফ কালো ট্রাউজার আর ছাই রঙের একটা ফুল হাতা গেঞ্জি পড়ে নিলো। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকালো। বড্ড এলোমেলো হয়ে আছে চুল গুলো। মাথায় হাত দিয়ে খাটের ওপর বসলো।
অদিতি শাড়ি পাল্টে সুতির থ্রিপিস পড়ে নেয়। সাইফ গালে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল
” ও যে কয়দিন আছে আমরা বাড়িতে থাকবো না।”
অদিতি কাদো কাদো গলায় বলল
” কোথায় যাবো?”
সাইফ একটু ভেবে বলল
” সবাইকে বলবো শ্রীমঙ্গল যাচ্ছি। কিন্তু আমরা যাবো কক্সবাজার”
অদিতি হ্যা সূচক মাথা নাড়লো। সাইফ অদিতিকে জড়িয়ে ধরে নিয়ে গেলো নিচে। অদিতির মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে কিছু হয়েছে। ফর্সা টুকটুকে মুখশ্রী রক্তিম আভায় ছেয়ে গেছে।
আঞ্জুমান বললেন
” কি হয়েছে রে? ওর মুখ এমন লাগছে কেন?”
সাইফ অদিতির দিকে একবার তাকো। তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল
” ওর মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে আসলে।”
আঞ্জুমান এগিয়ে এলো অদিতির কাছে। অদিতির মাথায় হাত দিয়ে বলল
” আমাকে কি তোর মায়ের মতো লাগে না?”
সাইফ কথা ঘুরালো
” মা আমি বলছিলাম কি। ওকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসবো? তাহলে হয়তো….”
” একদম ঠিক বলেছিস। যা যা ঘুরে আয় দুজন। কিন্তু কোথায় যাবি”
তুযা চিলের মতে চোখ করে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। এগুলো যে সাইফের প্ল্যান তা বুঝতে সময় নিলো না তুযার চতুর মস্তিষ্ক।
সাইফ বলল
” যেহেতু শীতের মৌসুম চলেব, শ্রীমঙ্গল যাই”
দীঘি ফট করে বলল
” ভাইয়া। তুমি কি গরিব নাকি? ভাবি কে প্রথম বার ঘুরতে যাচ্ছো, দেশের বাইরে কোথাও যাও”
সাইফ বলল
” অদিতির পাসপোর্ট করা নেই। এগুলো করতে করতে কিছুদিন সময় লাগবে। আর আমরা কালকেই যেতে চাচ্ছি।”
নদী গালে হাত দিয়ে চেয়ারে বসে আছে মুখ ভাড় করে। রাত হয়ে গেছে এখনো তুমুল কল দেয় নি। এখন মনে মনে ভাবছে তখন দীঘির মতো ফট করে বলে দিলেই পারতো। ভালোবাসি। ধুররর।
মনে মনে নিজেই নিজের প্রতি বিরক্ত হচ্ছে। উনি সব বোঝে বলে, তাহলে এটা বুঝলো না? কচু বুঝে উনি। সায়রা মেয়ের মাথায় টোকা মারলো
” কি বিরবির করছিস?”
” ভাবছি কাল ভার্সিটি যাবো”
” যাস। এখন খা”
রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে উঠে গেলো সবাই। সাইফ আর অদিতি জামাকাপড় গোছাচ্ছে। তুযা নিজের ঘরে চলে গেছে। নদী রুমের মধ্যে এদিক থেকে ওদিক পায়চারি করছে।
” কল দিয়েছিস?”
দীঘির কথায় চমকে পিছনে তাকালো নদী। দীঘি চোখ গোলগোল করে বলল
” কল দিয়েছিস?”
নদী বিরক্ত হয়ে বলল
” না। সর তো”
“দে নাম্বার দে”
” হ্যা?”
দীঘি চটে গিয়ে বলল
” আরে বলদি ফোন নাম্বারটা দে। আমি কথা বলছি”
নদীর চোখ কপালে উঠার জো
” তুই কথা বলবি? না না। একদম না। তুই কি বলতে কি বলবি?”
” আমি কি তোর মতো ভোদাই নাকি? দে নাম্বার দে”
নদী দীঘিকে নাম্বার টা দিলো। দীঘি নিজের ফোন থেকে কল করলো। দুইবার রিং হতেই কল ধরলো তুমুল
” হ্যালো”
দীঘি নদীকে ইশারা করলো ফোন রিসিভ করেছে। নদীও হাত দিয়ে ইশারা করলো
” কথা বল কথা বল।”
” হ্যালো ভাইয়া”
” হ্যা বলো। কেমম আছো?”
দীঘি নদীর দিকে তাকিয়ে ঠোট বেকালো
” আপনি আমায় চিনলেন কি করে?”
তুমুল ওপাশ থেকে জবাব দিলো
” আমি কি তোমার বোনের মতো? যে চিনবো না?”
দীঘি হেসে বলল
” ইয়ে ভাইয়া। আপু তো……”
” একদম বলবে না তোমার বোনের কথা। যে আমাকে ভালোবাসে না, তার কথা শুনতে আমি ইনট্রেস্টেড নই। রাখছি বাই।”
ফোন কেটে দিলো তুমুল। ফোন পকেটে রেখে একা একাই হাসতে লাগলো তুমুল। দীঘি মুখ ভাড় করে ফোন টা রেখে দিলো। নদী এসে দীঘির পাশে বসে বলল
” এখন কি করবো রে?”
দীঘি নিজের মোবাইল টা নিয়ে উঠে গেলো
” আমি বলেছি না? তুই সিঙ্গেলই মরবি। এত হ্যান্ডসাম যিযু আমার, তুই আস্ত একটা বলদি হুহহহ”
দীঘি বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে। নদীও শুয়ে পড়লো সকালে ভার্সিটি যেতে হবে। কিন্তু তুমুলের চিন্তায় ঘুমই আসছে না তার।
হসপিটালের নাটক শেষ করে বাড়িতে এসেছে সুফিয়ান। ব্যালকনিতে দাড়িয়ে সিগারেটের ধোয়া ফুকছে আর ফোনে কথা বলছে
” কাল ভার্সিটিতে একটা এক্সাম আছে। কাল খুকি যাবে ভার্সিটিতে সম্ভবত। রেডি থাকিস। কালই যেম মুন্নি একদম বদনাম হয়ে যায়।
চলবে?
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৮