Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৯


কীভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট_০৯

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌]

রাত ২ টায় আদ্রের ঘুম ভেঙ্গে যায় চোখ বন্ধ করলেই সেই বাদামি চোখ জোড়া তাকে এলোমেলো করে তুলছে বারবার।
চোখ মেলে বুকের সাথে লেপ্টে থাকা আহির ওড়নাটার স্মেইল নিলো।ওড়নাটা বুকে রেখে ঘুমালে মনে হয় যেন তার ছোট ফুলটা তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে রেখেছে।ওড়না টায় ঠোঁট চুঁইয়ে খাট থেকে নেমে ওয়াশরুমে গিয়ে ওযু করে আসে। জায়নামাজ বিছিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজে দাড়িয়ে যায়। নামাজ শেষে মুনাজাত ধরে এ পর্যায় আদ্রের গলা ভেঙ্গে আসে ভাঙ্গা সরে বলে উঠলো

—ইয়া আল্লাহ আমি তাহাজ্জুদের মুনাজাতে আমার ছোট ফুলকে ভিক্ষা চাচ্ছি ওরে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও তোমার বান্দাকে ফিরিয়ে দিও না মাবুদ সে যে বড্ড অসহায় তার ছোট ফুলকে ছাড়া

আদ্রের চোখ ভেয়ে দু পোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো।আদ্র আরো সময় নিয়ে আল্লাহর দরবারে তার বার্বিডলকে চাইল। তার পর উঠে খাটে শুয়ে আবারও ওড়নাটা বুকে জড়িয়ে নিলো। এভাবে জড়িয়ে না ধরে ঘুমালে তার ঘুমই আসে না ঘুমের ঘোরেও সে ওড়না টার স্মেইল নেয়।আদ্রের একটা কথা মনে পড়ে গেলো।

অতীত

আহিকে সে যখন প্রথম নেওয়াজ বাড়িতে দেখেছে তার পর তার মাকে বলেছিলো এই কিউট বার্বিডলটাকে তার রুমে সাজিয়ে রাখবে এই বলে সে আহিকে কোলে নিয়ে ওর রুমে এনে খাটে বসায়। ছোট আহি অচেনা মানুষ অচেনা জায়গা দেখে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। আদ্র গিয়ে ছিলো ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে আহির কান্না শুনে ভেবে ছিলো খাট থেকে পরে গেছে কীভাবে বের হয়ে আসছে ওয়াশরুম থেকে সে জানে।
আহি তো কেঁদেই চলছে ছোট আহির কান্নায় আদ্রের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠে।দুহাতে আহিকে কোলে তুলে কান্না থামানোর জন্য আদুরে কন্ঠে বলতে লাগলো

—কী হয়েছে বার্বিডল কান্না করছিস কেন?ভয় পেয়েছিস?আমি আছি তো সোনা কিছু হবে না কান্না থামা প্লিজ আমার কষ্ট হচ্ছে তোর কান্না দেখে।আমার জান আমার সোনা প্লিজ কান্না করে না তোর কান্না আমাকে শেষ করে দিচ্ছে পাখি।

আদ্রের কন্ঠ এতোটাই আদুরে ছিলো ছোট্ট আহি কান্না থামিয়ে ফ্যালফ্যাল চোখে আদ্রের মুখের দিকে চেয়ে থাকে।আহিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আদ্র মুচকি হেঁসে বলল

— এভাবে কী দেখছিস বার্বিডল?আমি তো তোরই তুই যখন বড় হবি তখন সব কিছু জানতে পারবি এই আমি টা তোকে দেখেই কতটা পাগল হয়ে গেছি তো মায়ায় পড়ে মাএ কয়েক মিনিটেই এক পিচ্চি মেয়ে আমাকে এলোমেলো করে দিয়েছে। তুই বড় হলে এসব শুনে নিশ্চয়ই হাসবি আমার মতো এক দামড়া ছেলে তোর মতো পিচ্চির প্রেমে পড়েছে।কিন্তু কিছু করার নেই তোকে এতোটা মায়াবী আর কিউট কে হতে বলেছে?

ছোট্ট আহি কী বুঝলো কে জানে সে হেঁসে উঠলো ওর হাসি দেখে আদ্রের হাসি দীর্ঘ হয় সে এবার আবদারের সুরে বলে উঠলো

—আমি কিন্তু বউ পাগলা হবো।তোকে খুব জ্বালাবো তুই বিরক্ত হলেও কিছু করার নেই। পাগল বানিয়েছিস তুই এই পাগলা টাকে সামলাবিও তুই। আমি হবো তোর বউ পাগলা জামাই আর তুই হবি আমার আহ্লাদী পুতুল বউ।

আদ্রের কথায় ছোট্ট আহি কী বুঝলো কে জানে এবার খিলখিল করে হেঁসে উঠলো। আদ্র সারা রুম হেঁটে হেঁটে ওকে গল্প শুনালো কত-শত কথা বলল এক পর্যায় আহি ঘুমিয়ে যায়।আদ্র ওকে বিচানায় শুইয়ে দিতে চাইলে পারে না কারণ আহি শক্ত করে ওর গলা জড়িয়ে রেখেছে।উপায় না পেয়ে শেষে আদ্র আহিকে নিয়ে শুয়ে পড়ে আহি ঘুমের ঘোরে আদ্রকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে।এতে আদ্রের এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। আহির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল

—প্রথম দেখায় তোকে বউয়ের নজরে দেখেছি।তোকে দেখার পরপরই মনে মনে বউ বলে ডেকেছি। আমি তোকে হালাল ভাবেই চাই কারণ তুই যে পবিত্র এক ফুল।এভাবেও ছুঁবো না খুব তাড়াতাড়ি হালাল করে নিবো তোকে হালাল ভাবেই স্পর্শ করবো।

বর্তমান

আগের কথা গুলো ভেবে আদ্র ওড়না টাকে ভালো করে বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বিরবির করে বলল

—প্রথম যেদিন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে ছিলিস আমার বুকে সেদিনের সেই অনুভূতি আমি আজও ভুলতে পারিনি সেই দিনের পর বুকটা তোর শূন্যতায় শূন্য ছিলো তাই তো প্রতিদিন এভাবে তোর ওড়না জড়িয়ে এতো গুলা বছর পার করে এসেছি।একটা আশায় থাকতাম অপেক্ষার ফল নাকি মিষ্টি হয় আমিও সেই মিষ্টির জন্য অপেক্ষা করছিলাম শত শত অপেক্ষার ফল হিসেবে তোকে হালাল ভাবে সারাজীবনের জন্য আমার বুকে পাওয়া।কিন্তু তুই তো আমাকে ধোঁকা দিয়ে পালিয়ে গেলি।


আজকেও অনেক যুদ্ধের পর রোদকে ঘুম থেকে উঠিয়ে রেডি করিয়েছে রাইসা বেগম।নাস্তা শেষে রৌদ্র ওদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ওদেরকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে নিজের অফিসে জাবে।গাড়ির ভিতর রোদ আর সাইফার বকবকানি শুনতে শুনতে রৌদ্রের মাথা ব্যাথা উঠে যায় তবুও কিছু বলেনি হাসি মুখে ওদের ফাউ কথাগুলা শুনেছে।রোদ্র বরাবরই বোনেদের বেলায় ধৈর্যশীল বিশেষ করে রোদের ব্যাপারে রোদ অনেক বেশি দুষ্টামি করে নিজের খেয়াল একদমিই রাখতে জানে না।আর রৌদ্র তার কাছে তো মনে হয় তার বোন সাধ্য জন্ম নাওয়া বাচ্চা নিজের হাতে খেতে পারবে না তাই রৌদ্র সব সময় নিজ হাতে বোনকে খাইয়ে দেয় এমনকি দুপুর বেলা অফিসের সব কাজ পেলে ছুঁটে আসে বোনকে দুপুরের খাবার খাওয়াতে। রোদও রৌদ্র খাইয়ে না দাওয়া উপদি খায় না।কথায় আছে না নারী অতি যত্নে বাচ্চা হয়ে যায় বাচ্চাদের মতো বাচ্চামি করে নারী তার সামনেই বাচ্চামি করে যে নারীর বাচ্চামি সহ্য করে।রোদের ক্ষেএেও তাই হয়েছে ভাইয়ের অতি আদরে দিন দিন বাচ্চা হয়ে যাচ্ছে তবে তার সকল বাচ্চামি শুধু তার ভাইয়ের সামনেই। ওইযে তার ভাই’ই একমাএ মানুষ যে তার সফল বাচ্চামি হাসি মুখে সহ্য করে নেয়।রোদ হচ্ছে রৌদ্রের প্রাণ বোনকে রাতে এক নজর না দেখে ঘুমালে তার ঘুমই আসে না প্রতি রাতে রোদ ঘুমিয়ে যাওয়ার পর রৌদ্র বোনের রুমে এসে বোনকে ঠিক করে কাঁথা গায়ে দিয়ে শুইয়ে দিয়ে যায়।একটা দিনের জন্যও রৌদ্র রোদকে কোথাও বেড়াতে যেতে দেয় না।

রোদ আর সাইফাকে গেটের সামনে নামিয়ে দিয়ে রৌদ্র চলে যায়।যাওয়ার আগে বোনদের বারবার বলে যায় সাবধানে থাকতে গেটের বাইরে না জেতে।ওরাও বাধ্য মেয়ের মতো শায় জানায়।গেট দিয়ে ডুকতেই দুজনের ভ্রু কুঁচকে আসে। গেটের পাশের অনেক গুলা মেয়ে লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে কেউ কেউ আবার ফিসফিস করে একে অন্যের কানে কী যেন বলছে।

—এখানে কী হচ্ছে রে রোদু

সাইফার কথায় রোদ উওর না দিয়ে বলল

—সাইফুরে আমরা মনে হয় কিছু মিস করে ফেলেছি তাড়াতাড়ি ভিতরে চল শ্রেয়াদের খুঁজে বের করে জিজ্ঞেস করি

দুজনে দ্রুত পা চালিয় ভিতরে গেলো কিছুটা দূরেই শ্রেয়ারা দাঁড়িয়ে আছে।শ্রেয়ার সাথে বাকি সবারও বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে অল্প সময়ে। মেয়েটা অনেক মিশুক এতো অল্প সময়ে সবার কতটা প্রিয় হয়ে গেছে।রোদ ওদের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বলল

—তোরা এখানে কী করছিস?আর ওইখানে সবাই এমন ভীড় করে লাইনে ধরে দাড়িয়ে কী করছে?কিছু কী হচ্ছে?

রোদের কথায় ওরা তিনজন ইশারা দিয়ে দেখালাে গেটের দিকে রোদ আর সাইফাও তাকালো।গেট দিয়ে আদ্র ডুকছে আর বাকি সব মেয়ে তাকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে।আদ্রকে আজকে অন্য রকম সুন্দর লাগছে আজকে ফর্মাল ড্রেসআপ ছেড়ে নরমাল ড্রেসআপে এসেছে।কপি কালারে শার্ট,সাদা প্যান্ট,শার্টের উপরে দুইটা বোতাম খোলা গলার চিকন চেইনটা রোদে ঝকঝক করছে,হাতা কনুই পর্যন্ত গুটনো চোখে রোদ চশমা,হাতে কপি রঙ্গা ছামড়ার ঘড়ি।সব মিলিয়ে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।এক কথায় মেয়েদের পাগল করার মতো সুন্দর।

রোদ মনে মনে বলল

— উফ পুরাই চকলেট বয়

পরপরই নিজেই থতমত খেয়ে যায় কিসব বলছে সে। ওর ভাবনার মাঝেই তিহা বলে উঠলো

—স্যার কিন্তু মারাত্মক সুন্দর উফ আমি তো ক্রাস খেয়ে গেছি ইয়ার আমাকে তোরা ধর।

তিহার সাথে শ্রেয়া আর সাইফাও তাল মিলিয়ে বলল

—সেম আমিও
—আমিও রে বইন

ওদের কথায় রোদ মুখ ভেঙিয়ে বলল

—জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা বাদ দে বইন বেডার গার্লফ্রেন্ড আছে।

রোদের কথায় শ্রেয়া বলল

— ফালতু কথা বলবি না, স্যার যে গম্ভীর মানুষ তোর মনে হয় কেউ উনার সাথে প্রেম করবে?

শ্রেয়ার কথায় রোদ আগের নেয় বলল

—বলদের দল তোদের কী মনে হয় এতো সুন্দর একটা ছেলের গার্লফ্রেন্ড থাকবে না এটা হতে পারে?এই যুগে সিঙ্গেল ছেলে আছে?আর কী বলেছিস গম্ভীর দেখে কেউ প্রেমে করবে না তাহলে গেটের সামনে এগুলা কী মাছির মতো উনার পিছে বনবন করছে?

রোদের কথা ফেলে দাওয়ার মতো না তিনজনেরই একটু মন খারাপ হয়ে যায়।

(এতো এতো ব্যস্ততায় গল্প দিতে পারিনি। অনেকদিন পর লেখেছি কেমন হয়েছে বলিও আর রিচেক করেনি,হঠাৎ ভালোবাসা গল্পটা শেষ হলে এই গল্পটা রেগুলার দাওয়ার চেষ্টা করবো।তোমাদের কাছে এই গল্পটা অনেক ভালো লেগেছে আমি জানি তোমরা অনেকে এই গল্পের বিডিও টিকটকে ছাড়ছো আমি দেখেছি তোমাদের রেসপন্স আমার লেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় 🌸সবাই আমার টিকটক আইডি Megmala তে ফলো দিও)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply