Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩


কী ভয়ংকর মায়া তোর

লেখিকা:আরিফা তাসনিম তামু

পার্ট:০৩

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌]

বর্তমান

আগের কথা গুলা ভেবে আদ্রের মুখে হাসি ফুটে তবে তা বেশিক্ষণ স্থীর থাকতে পারলো না। যখনি মনে পড়ে তার ছোট আহি হারিয়ে গেছে তখনি তার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, নিজেকে পাগল পাগল লাগে।


খান বাড়ি

সকাল ৯:৩০ বাজে রান্না ঘর থেকে রাইসা বেগল ঘড়ির দিকে একপলক চেয়ে খুন্তি হাতে ছুটলেন দোতালার দিকে।দোতালা থেকে মোবাইল টিপতে টিপতে নেমে আসছে রোদ্র মাকে খুন্তি হাতে উপরের দিকে ছুটে আসতে দেখে বুঝে গেলো আজ কার উপর ঘূর্ণিঝড় বয়ে যেতে পারে রোদ্র বিরবির করে বলে উঠলো”রোদরে আজ তুই শেষ”

এই বলে বোনের রুমের দিকে ছুটলো মায়ের আগে পৌঁছাতে হবে রুমে পা রাখতেই রোদ্রের মুখ হা হয়ে গেলো একি দেখেছে সে খাটের উপর পা গুলা কম্বল দিয়ে ডাকা আর মাথা খাটের বাইরে নিচে জুলে চিত হয়ে ঘুমিয়ে আছে রোদ
আর তার সামনে ফ্লোরে বেড সাইড টেবিলের ছোট ঘড়ি ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো হয়ে আছে তবে ঘড়ির ব্যপারটা রোদ্রের কাছে নতুন মনে হয়নি এ আর নতুন কী প্রতিদিনই ঘড়ি আওয়াজে রোদ বিরক্ত হয়ে ঘুমের ঘোরেই ওটাকে আছাড় মারে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে রোদ্র হঠাৎ রোদের দিক তাকায় মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি আসতেই মুচকি হেসে পা টিপে টিপ রোদের পাশে গিয়ে নিচে বসে রোদের কানের কাছে মুখ নিয়ে হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠলো

—রোদ বনু তাড়াতাড়ি উঠ আম্মু খুন্তি নিয়ে তোর পাশে দাঁড়িয়ে আছে এ বুঝি পোরলো বাডি তোর পিঠে।

এ কথা কানে যাওয়া মাএই কিশের আবার ঘুম রোদের লাথি
মেরে কম্বলটা গায়ে থেকে ফেলে এক লাফে উঠে কোনো দিকে না তাকিয়ে ওয়াশরুমে দিকে যেতে যেতে রোদ্রের চেয়ে দ্বিগুণ চেঁচিয়ে বলে উঠলো

—আম্মু আর জীবনেও ঘুমাবো না গো এবারের মাপ করে দাও এক্ষুনি ফ্রেশ হয়ে নিচে আসছি ভাইয়া তোমার হিটলার মাকে দরো।

এ বলে ওয়াশরুমের দরজা লাগিয়ে দিলো, পিছনে রোদ্র হো হো করে হেঁসে উঠলো হাসতে হাসতে বেচারা নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে ওদিকে ওয়াশরুম থেকে মায়ের কোনো শব্দ না পেয়ে ভাইয়ের এমন হাসির শব্দ শুনে দরজাটা হালক খুলে মাথাটা বের করে বাইরে চাইলো না মা নেই এবার বুঝলো তার ভাই তার সাথে মজা করছে রোদ চিৎকার করে বলে উঠল

—ভাইয়য়য়য়য়য়য়য়য়য়য়া

রোদের চিৎকারে পুরো খান বাড়ি কেঁপে উঠলো। নিচে গড়াগড়ি খেয়ে হাসতে থাকা রোদ্র কেঁপে উঠলো তার হাসি উধাও হয়ে গেলো, ছেলেটা বুকে থু থু দিয়ে বড় বড় শ্বাস নিতে শুরু করলো।

অন্যদিকে রাইসা বেগম মাএই এসে দরজার সামনে দাড়ালো মাঝপথে স্বামীর সাথে দেখায় হওয়ায় নিচে গিয়ে উনাকে চা দিয়ে আবার উপরে আসলো তাই একটু দেরি হয়ে গেছে।

রোদের হঠাৎ চোখ যায় দরজার সামনে মায়ের দিকে আবারও ওয়াশরুমের দিকে ছুটতে ছুটতে বলল

—পিছে তো দেখো ভাইয়া তোমার হিটলার মা খুন্তি হাতে দাড়িয়ে আছে।

বোনের কথা রোদ্র পিছন ফিরে সত্যি সত্যি মাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বোনের উদ্দেশ্য বলল

—এখন কোনো পালাচ্ছিস আমার কথা বিশ্বাস হয়নি সেজন্য পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে চেঁচাচ্ছিস।

তার পর মায়ের উদ্দেশ্যে বলল—আম্মু তোমার মেয়ে আর একটু হলে আমার মিনি হার্টঅ্যাটাক করিয়ে দিতো।

রাইসা বেগম উল্টো ফিরে নিচে যেতে যেতে বলল—তোর বোনকে বল তাড়াতাড়ি নিচে আসতে কলেজে কখন জাবে ১০ টা বেজে যার তোদের বাপ ছেলের জন্য তো ওকে কিছুই বলা বা করা যায় না আদর দিয়ে দিয়ে মাথায় উঠিয়ে পেলেছিস। তোদের নিয়ে আমি আর পারি না বাপু।

রোদ্র বোনের উদ্দেশ্যে বলল—তাড়াতাড়ি নিচে আয় তা না হলে খুন্তির বাডি একটাও মাটিতে পড়বে না সব তোর পিঠে পড়বে।

এই বলে রোদ্র বের হয়ে গেছে রোদ ওয়াশরুম থেকে ভেংছি কাটলো ভাইয়ের কথায়।


গাড়ির সিটে মাথা এলিয়ে চোখ বুঝে আছে আদ্র মুখটা কেমন শুকিয়ে আছে,চেহারায় ক্লান্তির চাপ,চুলগুলা এলোমেলো হয়ে কপালে পড়ে আছে,গায়ের কালো শার্টটার বুকের কাছে দুটা বোতাম খোলা, গাড়ির জানালার কাচ নামানো সেটা দিয়ে মৃদু বাতাস ভেসে আসছে।

বেশ কিছুক্ষন এভাবে থাকার পর আদ্র চোখ মেলে তাকায়,গাড়িটা রাস্তার পাশে দাঁড় কারানো, আদ্র জানালা দিয়ে বাইরে তাকায় আর দেখতে পায় ইস্কুল,কলেজ,ভার্সিটির ছেলেমেয়েরা যাচ্ছে। আদ্র হাত ঘড়ির দিকে একপলক চাইলো দুপুর ১:৩০বাজে আদ্র আবার বাইরের দিকে সে সব ছেলেমেয়ের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলল

—আজ আমার ছোট ফুলটাও কলেজে পড়তো। আমার খুব ইচ্ছে ছিলো আমার বার্বিডলটা কে কলেজ ড্রেসে দেখবো বাড়িতে এসে। তখন তো আমার বার্বিডলকে একটু বড় বড় লাগবে। কিন্তু আমার ভাগ্যে যে তা ছিলো না আমার ভাগ্য আমার ইচ্ছে কে ভুল প্রামণ করেই দিলো,।আসলে চাইলে কী
সব পাওয়ায় যায় যদি তা ভাগ্যে না থাকে।

আদ্র থেমে আবারও তাকায় রাস্তার দিকে এখনো ছাএছাএীরা যাচ্ছে। আদ্র গাড়ির দরজা টা খুলে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাড়ালো হাত দুটা বুকে আড়াআড়ি ভাবে গুঁজে রাখা। আদ্রের বার বার মনে হচ্ছে সে যদি সেদিন বাড়ি ছেড়ে না যেতো তাহলে হয়তো তার ছোট ফুলটা এভাবে হারিয়ে যেতো না। বার বার নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে আদ্রের।
চোখ বুঝে বিরবির করে বলে উঠলো

—কোথায় হারিয়ে গেলি বার্বিডল ফিরে আয় আমি তোকে ছেড়ে আর কোথাও যাবো না, আই প্রমিস কোথাও না।একদম আমার বউ বানিয়ে আমার রুমে সাজিয়ে রাখবো প্লিজ ফিরে আয় আমার ছোট ফুল।🌸

ঠিক তখনি বাতাসে উড়ে এসে একটা ওরনা আদ্রের মুখের উপর পোরলো।চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় আদ্রের নাকে লাগলো অতি চেনা একটা স্মেইল, হ্যা ঠিক তার আহির গায়ের স্মেইলটার মতো,এই স্মেইলটা সে কীভাবে ভুলবে? গত পনেরো বছর যাবত এই স্মেইল নিয়ে সে দিন পার করতো, সারাদিন পর যখন ক্লান্ত হয়ে অফিস থেকে বাসায় আসতো।বাড়ি ছাড়ার সময় আহির যে ওরনাটা নিয়ে গিয়ে ছিলো সাথে করে সেটার স্মেইল নিয়ে তার ছোট বার্বিডলটাকে অনুভব করে ক্লান্তি দূর করতো।স্মেইলটা নিলেই তার মনে হতো তার ছোট ফুল তার অতি কাছে আর স্মেইল টাও ম্যাজিকের মতো কাজ করতো নাকে নিলেই সব ক্লান্তি হওয়া হয়ে সেখানে শান্তি শান্তি ফিল এনে দিতো।

আদ্র মুখের উপর থেকে ওরনা সরিয়ে চোখ মেলে হাতের ওরনাটার দিকে তাকায়। একটা লাল পাতলা ওরনা আদ্র চোখ গুরিয়ে দেখতে থাকে আশেপাশে কোথায় থেকে আসলো ওরনাটা কার এটা?তবে আশেপাশে অনেক মানুষ কার সেটা বুঝলো না, আদ্র আবারও সিউর হওয়ার জন্য স্মেইলটা নেয়।হ্যা একদম আহির গায়ের স্মেইলের মতো,আদ্র পাগলের মতো এদিক ওদিক খুজতে শুরু করলো তবে ফেলো না। অনেক অপেক্ষা করলো যদি কেউ ওরনা টা নিতে আসে কিন্তু না কেউ আসে নি। আদ্র গাড়িতে উঠে দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিলো।


বাড়িতে এসে আদ্র কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা উপরে নিজের রুমের দিকে ছুটলো, সে জানে তখন নিচে রেখে যাওয়া লাগেজ গুলা তার রুমেই পাবে। তার ভাবনাই সত্যি তার রুমেই লাগেজ গুলা আছে। এমন কী তার রুমটাও আগের মতো আছে কিছু পরিবর্তন হয়নি। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ভিতরে সব দেখছে এই রুমে তার আর আহির কত যে স্মৃতি জুড়ে আছে।এখনো চোখের সামনে ভাসছে সে ঘুমের অভিনয় করে শুয়ে আছে তার কিছুক্ষণ পর দরজা ঠেলে একটা ছোট মানুষের ছায়া ছোট ছোট পায়ে পা টিপে টিপে হেঁটে তার দিকে এগিয়ে আসছে। আদ্র ভালো করে জানে এটা কে আর এখানে এসে কী করবে তাই তো সে সব সময় ঘুমের অভিনয় করে এই সময় চোখ বন্ধ করে রাখে। আহি আদ্রের মাথার কাছে এসে ভালো করে আদ্রের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে নেয় ঘুমাচ্ছে নাকি তাকিয়ে আছে। যখন দেখছে চোখ বন্ধ আস্তে করে। বালিশের নিচ থেকে চকলেট গুলা হাতে তুলে নেয়। তারপর আদ্রের গালে চুমু দিয়ে আধো আধো কন্ঠে বলতো

—আমার ভাও আদ্দ ভাইয়া। টুমি শুতু আমার জন্য চককিট আমবা আর কারো জন্য আমনা না কালণ টুমি শুতু আহির ভাইয়া আর কাও না।
(আমার ভালো আদ্র ভাইয়া, তুমি শুধু আমার জন্য চকলেট আনবা আর কারো জন্য আনবা না কারণ তুমি শুধু আহির ভাইয়া আর কারো না)

এ বলে আহি চলে যেতো আর আদ্র কী করতো? চোখ খুলে আহির যাওয়ার পথে চেয়ে চুমু দাওয়া স্থানে হাত রেখে মুচকি হাসতো। সে জানতো আহি তার রুমে এটা জন্য আসবে তাই তো সে প্রতিদিন চকলেট এনে রাখতো আর ফ্রীতে একটা করে চুমু খেতো।

পুরোনো স্মৃতি গুলার কথা ভেবে আদ্রের বুক ভারী হয়ে আসে, তার পর ধীর পায়ে রুমে ডুকে দরজা লাগিয়ে দেয়, একটা লাগেজ খাটের উপর রেখে খুলে বের করলো সেই ছোট আহির লাল ওরনাটা, অদ্ভুত ব্যাপার হলো আজকের ওরনাটাও লাল আদ্র দুইটা ওরনার স্মেইল নিলো হ্যাঁ দুইটারই সেম স্মেইল। দুইটাকে বুকে জড়িয়ে আদ্র বিরবির করে বলে উঠলো

—আমি সিউর ওটা তুই ছিলি আর এটা তোরই ওরনা, আমি তোকে ঠিকি খুঁজে বের করবো আই প্রমিস সেটা খুব তাড়াতাড়ি।

(গল্প লিখায় মন বসছে না তার কারণ আমার টিকটক আইডিতে ওয়ার্নিং চলে এসেছে যেকোনো সময় চলে যেতে পারে,আমার খুব শখের আইডি ওটা দিয়েই আমার গল্প লেখা শুরু তার পর এখানে আসা সব ওটার জন্য আইডিটা চলে গেলে আমি সব জায়গা থেকে অপলাইন হয়ে জাবো।তোমাদের কাছে একটাই রিকুয়েষ্ট আমার আমার আইডিতে গিয়ে কিছু কপি লিংক আর রিপোস্ট করে আসো আমি জানি এখানে অর্ধেক মানুষই আমার টিকটক ফ্রেন্ড)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply