কীভয়ংকরমায়া_তোর
পার্ট_২৭
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ🚫❌
পরপর পেরিয়ে গেছে দুইদিন এই দুইদিনে রোদের মনের অবস্থা বেহাল।মনে হাজারো চিন্তা ভাবনা করতে করতে উধাসহীন ভাবে হেঁটে চলছে রাস্তার পাশ দিয়ে।সেদিন যে সবাই মিলে ঘুরতে গেলো। তার পর কেটে গেলো দুইদিন এই দুইদিনে রোদ আদ্রের ছায়াও দেখেনি। আদ্রের ভয়েজ টাও একটা বার শুনতে পারছে না।আদ্রকে দেখতে আর শুনতে না পারায় রোদের অবস্থা প্রায় পাগল পারায়।এই দু’দিন কলেজে এসেও আদ্রকে পায়নি।হুট কে লোকটা গেলো কোথায়?রৌদ্রকেও জিজ্ঞেস করতে পারছে না কি না কী ভাববে এই ভেবে।
রোদ এতোটাই ভাবনায় বিভোর ছিলো যে কখন সে রাস্তার মাঝখানে চলে আসলো বুঝতেই পারে নি।হঠাৎ সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো একটা বড় ট্রাক তার অতি কাছে চলে এসেছে। রোদ চোখ বন্ধ করতেই আদ্রের মায়াবী মুখটা ভেসে উঠলো চোখের পাতায়।আহ এই জীবনে বুঝি আর লোকটাকে পাওয়া হলো না?আবার চোখ খুলার আগেই কেউ একজন তাকে জোরেশোরে ধাক্কা মারে।রোদের চিকন গড়নের পাতলা শরীর টা একটা গাছে সাথে লেগে মাথা গাছের সঙ্গে ভাড়ি খায়। সঙ্গে সঙ্গে মাথা চেপে ধরে পিটপিট করে তাকাতেই রোদের পৃথিবী থমকে যায়। রাস্তায় বাইক ট্রাক পড়ে আছে আর সেগুলো থেকে একটু দূরে পড়ে আছে আদ্রের নিথর দেহ। দেহের আশেপাশে রক্তে বন্যা বয়ে গেছে।
রোদের শরীর ঢলে পড়ে ঘাসের উপর। মুখ দিয়ে চেয়েও কথা বের করতে পারছে না।আদ্রের নিথর দেহ টার দিকে চেয়ে রোদ ঠোঁট লাড়িয়ে বলল
—ধোকাবাজ লোক!
রোদের কথাটা আশেপাশে মাছি মশারাও শুনেনি।ধীরে ধীরে রোদের চোখের পাতাও বন্ধ হয়ে যায়।কোনো শব্দ আর কানে পৌছায় না। মেঘলা আকাশ কিছুটা ভারি হয়ে উঠলো!
অসিফে নিজের কেভিনে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে রৌদ্র।আজকে তার কী যে হয়েছে বুঝতেই পারছে না।কিছুতেই কাজে মন বসছেই না।রোদের জন্য মনটা খচখচ করছে।সাইফাটা ও কলেজে যায়নি বাড়িতে ফারাহ্ একা এজন্য যায়নি।রৌদ্র রোদকেও বলেছে না যেতে কিন্তু জেদ্দি বোনটা তার কথা শুনেনি।আরো জেদ ধরে আজকে একা একা কলেজে গেছে।রৌদ্র হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিয়ে ল্যাপটপ টা বন্ধ করে। পাশ থেকে মোবাইল হাতে তুলে নিলো উদ্দেশ্য বোনকে ফোন করে জিজ্ঞেস করবে ঠিকঠাক ভাবে গেছে কিনা এতক্ষণে পৌঁছে যাওয়ার কথা।মোবাইলের লক খুলতেই মোবাইলটা বেজে উঠলো।রৌদ্র নাম দেখে কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে চেয়ে থাকলো।নাম্বার আরো আগেই সেভ করে রেখে দিয়েছিলো। কিন্তু কখনো কল দাওয়া হয়নি।কিন্তু এই নাম্বার থেকে যে কখনো কল আসতে পারে রৌদ্র স্বপ্নেও ভাবে নি।রৌদ্রের ভাবনার মাঝেই কলটা কেটে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আবারও”উষ্ঠা খাওয়াইলি”নামে সেভ করা নাম্বার থেকে কল আসলো।রৌদ্র এবার দেরি না করে কল রিসিভ করে কিছু বলতে নিবে।কিন্তু ওইপাশে মেয়েলি কন্ঠের কান্নারত স্বরে বলা কথা গুলো শুনা মাএই রৌদ্রের দুনিয়া ঘুরে উঠে।মোবাইল অনেক আগেই হাত থেকে পড়ে দু’ভাগ হয়ে গেছে।
মাথা শূন্য শূন্য লাগছে বুক উঠা নামা করছে।এসির মধ্যে শররীর ঘেমে-নেয়ে একাকার হাত পা অনবরত কাঁপছে।কিছুক্ষন স্থির হয়ে বসে থেকে আদ্র আর রোদের কথা মাথায় আসতেই দ্রুত পায়ে কেভিন ছেড়ে বের হয়ে ছুটলো।
হসপিটালের করিডরে পায়চারি করছে ইয়ানার চার ফ্রেন্ড।সূচি, তানিসা,শান্ত, আর ইমতিয়াজ।ইয়ানা বেঞ্চে বসে কান্না করেই যাচ্ছে। সূচি আর তানিসা ওকে সামলাচ্ছে। ওরা পাঁচজন ভার্সিটি ফাঁকি দিয়ে ঘুরতে যাচ্ছিলো। যাওয়ার পথে হঠাৎ রাস্তায় মানুষের ভিড় আর এক্সিডেনের কথা শুনে শান্ত আর ইমতিয়াজ দেখতে যায়।ওরা আগে থেকেই আদ্রকে চিনে ইয়ানার ভাই।আদ্রকে এই অবস্থায় দেখা মাএই ইয়ানাকে বলে।ইয়ানা এসে ভাই আর রোদের অবস্থা দেখে সেখানেই ভেঙ্গে পড়ে।শান্ত আর ইমতিয়াজ সহ কিছু লোক আদ্র রোদকে হসপিটালে আনে।দুজনেরই ট্রিটমেন্ট চলছে।আদ্রের অবস্থা গুরুতর।ইমারজেন্সি ওটিতে নাওয়া হয়েছে।ইয়ানা কাকে বলবে ভাবতে ভবতে রৌদ্রের কথা মনে পড়ে।তাই রৌদ্রকেই আগে জানায়।বাড়িতে বললে সবাই ভেঙ্গে পড়বে।
১০ মিনিট পরেই রৌদ্রকে এলোমেলো অবস্থায় দৌড়ে আসতে দেখা গেলো।রৌদ্রের অফিস থেকে এখানে আসতে।কম পক্ষে আধাঘণ্টা লাগে।সেখানে রৌদ্র এত দ্রুত কীভাবে আসলো ইয়ানা বুঝলো না।রৌদ্র এসে ইয়ানা সামনে দাঁড়িয়ে ঘন ঘন শ্বাস নিতে নিতে জিজ্ঞেস করলো
—আমার ভাই আর বনু কোথায়? কী অবস্থা ওদের.?
ইয়ানা রৌদ্রের দিকে ভালো করে তাকালো এমন এলোমেলো রৌদ্র কে সে কখনো দেখেনি।চোখ দুইটা রক্তজবার নেয় লাল।গায়ের শার্ট ঘামে ভিজে জুবুথুবু হয়ে শরীরের সাথে লেপ্টে আসছে।সবসময় পরিপাটি থাকা সিল্ক চুল গুলা আজ অবহেলায় কপালে পড়ে আছে।ইয়ানাকে চুপ থাকতে দেখে রৌদ্র আবার কিছু বলতে নিবে সেই মূহুর্তে ওটির দরজা খুলে একজন নার্স বের হয়ে এসে বলল
—মিস্টার আদ্রের ইমারজেন্সি O+ দুই ব্যাগ রক্ত লাগবে।উনার অনেক ব্লাড বের হয়ে গেছে।আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।রক্তের জন্য অপারেশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আধাঘন্টার মধ্যে অপারেশন সাকসেস না হলে পেশেন্টকে বাঁচানো যাবে না।
নার্সের কথা শুনে রৌদ্র ধুপ করে ইয়ানার পাশে বসে পড়লো।
তার কানে বাজছে শুধু নার্সের বলা শেষ লাইনটা “পেশেন্টকে বাঁচানো জাবে না” একটু পর রৌদ্র অনুভব করলো কেউ একজন তার কাঁধে হাত রেখেছে।রৌদ্র মাথা তুলে চাইল।শান্ত ওর কাঁধে হাত রেখেছে।
—এভাবে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না ভাইয়া। আমাদের হাতে সময় খুব কম আমার রক্তের গ্রুপ O+ আমি এক ব্যাগ দিবো। আর আমার বড় ভাইয়েরও সেম রক্তের গ্রুপ আমি ভাইয়াকে কল করছি এক্ষুনি চলে আসবে।
শান্তর কথা রৌদ্র আটকে রাখা শ্বাস টা ছাড়লো।মাথা নাড়িয়ে হুম বুঝালো। তার পর একজন নার্সকে জিজ্ঞেস করলো রোদের কী অবস্থা। নার্সটি জানালো রোদের তেমন কিছুই হয়নি শুধু মাথায় আঘাত পেয়েছে। ঔষধ লাগিয়ে দাওয়া হয়ছে কেভিনে আছে চাইলে দেখা করতে পারবে। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান ফিরবে।
নাসর্টি চলে যেতেই নার্সের দেখিয়ে দাওয়া কেভিনের দিকে হাঁটা দিলো রৌদ্র। তার পিছন পিছন ইয়ানাও ধীরপায়ে উঠে গেলো।শান্তকে রক্ত নাওয়ার জন্য নিয়ে গেলো।
কেভিনের দরজা ঠেলে ভিতরে ডুকে রৌদ্র। ধীর পায়ে হেঁটে বোনের মাথার কাছে দাঁড়ালো তাকালো বোনের ফ্যাকাশে মুখটার দিকে। মাথায় ব্যান্ডেজ পেঁছানো।রৌদ্র মাথায় ধীরে দীরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।ইয়ানা একপাশে দাঁড়িয়ে দুই ভাই-বোনকে দেখছে।
—বনু! এই পিচ্চি বুড়ি তাকা ভাইয়ার দিকে।
রৌদ্রের ডাকে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায় রোদ।রোদকে তাকাতে রৌদ্র নরম কন্ঠে আবার বলল
—কোথায় ব্যথা ইচ্ছে বল ভাইয়া’কে।
রৌদ্রের কথায় কোনো প্রতিরুপ না করেই হঠাৎ রোদ মাথা চেপে ধরে চেঁচিয়ে বলে উঠলো
—আদলো কোথায় তুমি?
রোদের এমন কথায় রৌদ্র ইয়ানা দুজনেই অবাক হয়।ইয়ানা দৌড়ে এসে রোদকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বলল
—ছোট্ট পরী তোর সব মনে পড়েছে?আমার কথা মনে আছে তোর.?
—ইনা আপুই?
রোদের কথায় ইয়ানা রোদকে ছেড়ে বসে উপর নিচ মাথা ঝাঁকাল।ছোট বেলায় আহি ইয়ানাকে ইনা আপুই বলে ডাকতো।ইয়ানা বলতেই পারতো না।আর আদ্রকে আদলো ডাকতো।ফাইজকে ফাজ বলে ডাকতো।ইয়ানা রৌদ্রের দিকে তাকালো ইয়ানাকে অনুসরণ করে রোদও তাকলো।রৌদ্র স্ট্যাচু হয়ে দাড়িয়ে আছে।রোদ হয়তো ভাইয়ের মনের অবস্থা বুঝলো।মুচকি হেঁসে ডাকলো
—ভাইয়া!
সঙ্গে রৌদ্র আঁকড়ে ধরল বোনকে।সে ভয়ে ছিলো যদি তার বোন আগে স্মৃতি গুলা ভুলে যায়?তাকে যদি আর না চিনে?রৌদ্র তো মরেই যেতো।কিন্তু তার ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে দিলো রোদ।রৌদ্র কাঁপা কাঁপা গলায় বলল
—আমার কথা তোর মনে আছে বনু?
—থাকবে না কেন আমি কী আমার ভাই”কে ভুলে যেতে পারি? আমি তোর তোমারই বোন তোমার রক্তই তো আমার শরীরে আছে।আমাদের রক্ত তো একই।
বোনের কথায় রৌদ্র এবার শব্দ করে কেঁদে দিলো।সে কত ভয়ে ছিলো আল্লাহর কাছে কতশত প্রার্থনা করলো।আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেছে।রোদও কম কিসে ভাইয়ের সাথে সেও তাল মিলিয়ে কাঁদছে। ইয়ানা বসে বসে দুই ভাই বোনকে দেখছে এমন সময় ইয়ানার ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠে।রৌদ্র আর রোদ তাকায় ইয়ানার দিকে ইয়ানা নাম্বার দেখে কল রিসিভ করে।ওপাশ থেকে বলে শুনা যায় না।
—আমার ছোট্ট পরীর স্মৃতি ফিরেছে ভাইয়া। ও আমাকে চিনতে পারছে।
ওপাশের জন্য কিছু বলেই কল কেটে দেয়।রোদ ইয়ানাকে প্রশ্ন করল।
—কে ছিলো আপুই?
ইয়ানা মুচকি হেঁসে উওর দিলো।
—তোর আরেক পাগলাটে ভাই।যেই শুনেছে তোর স্মৃতি এসেছে অমনিই সাহেব দেশে চলে আসছে।
—ফাইজ ভাইয়া?
—হুম যখন তোকে পাওয়া যায় তখনি আসার জন্য পাগল হয়ে গেছিলো।কিন্তু ভাইয়া আসতে দেয়নি।বলেছে তোর স্মৃতি নেই আসলেও চিনবি না।
ইয়ানার মুখে ভাইয়া শুনে রোদে ভিতর নড়ে উঠে।মনে পড়ে আদ্রের নিথর দেহটা।
—উনি কোথায়?
রোদের কথায় রৌদ্র বলল
—ও ঠিক আছে ঘন্টা দুয়েক পর দেখতে পাবি এখন রেস্ট। নে।
— সত্যি উনি ঠিক আছে তো ভাইয়া?
—হুম তোকে দেখলে পাগল টা কত খুশি হবে জানিস।তুই রেস্ট নে ভাইয়া আসছি।
তার পর ইয়ানার দিকে চেয়ে বলল
—তুমি বনুর কাছে থাকো আমি ওদিকাটা দেখছি।
ইয়ানা মাথা নাড়িয়ে শায় দিলো।রৌদ্র বের হয়ে চলে গেলো।
ওটির সামনে পায়চারি করছে রৌদ্র। ভিতরে অপারেশন চলছে।টানা ৪০ মিনিট পর ডাক্তারা বের হলো।রৌদ্র কে দেখেই ডা:সোহেল হেঁসে বলল
__চিন্তার কারণ নেই বিপদ মুক্ত অপারেশন সাকসেসফুল। একটু পর কেভিনে সিফট করবে।ঘন্টা খানেকের মধ্যে সেন্স ফিরে আসবে।
রৌদ্র ধন্যবাদ দিয়ে হাত মিলালো।
ঘন্টা খানেক পর একজন নার্স এসে জানালো আদ্রের জ্ঞান ফিরেছে।রৌদ্র আর ইয়ানা না গিয়ে সবার আগে অস্থির রোদ’কে ভিতরে পাঠালো।
দরজা ঠেলে ভিতরে ডুকে দেখল আদ্র পিটপিট করে চোখ মেলছে।পুরা মাথায় ব্যান্ডেজ হাতে পায়েও ব্যান্ডেজ করা। বুকের ক্ষত গুলা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে খালি গায়ে হওয়ায়।এমন আদ্রকে দেখে রোদ আর নিজেকে সামলাতে পারলো না।দৌড়ে গিয়ে হামলে পড়ল আদ্রের বুকে।আদ্র প্রথমে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে ক্ষত জায়গায় ব্যথা লাগলেও। যখন বুঝল তার বুকে তার বার্বিডল অনেকটাই অবাক হয়। ব্যথা ভুলে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল বুকের দিকে।
—ধোকাবাজ লোক আমাকে ঘুমে রেখে পালিয়ে গেছে।এখন আবার পালাতে চাচ্ছেন?আর পালাতে দিবো না।
কান্না করতে করতে কথা গুলা বলে রোদ। হেঁচকি উঠে গেছে।রোদের কথা শুনে আদ্রের বুক কেঁপে উঠল।কাঁপা কাঁপা গলায় বলল
—তোমার সব মনে পড়েছে ছোট্ট ফুল.?
রোদ উপর নিচ মাথা ঝাঁকাল। সঙ্গে সঙ্গে একহাতে রোদকে নিজের বুকের সাথে চেপে দরে আদ্র যেন ছাড়লে তার পাখি উড়াল দিবে। নিয়মিত ঔষধ খাওয়ায় আঘাত প্রাপ্ত জায়গায় আবার আঘাত পাওয়ার কারণে রোদের স্মৃতি দ্রুত চলে আসে।
আদ্র রোদের কপালে চুমু দিয়ে অতি আবেগময় কন্ঠে বলল
—বউজান কান্না থামাও কান্না করো তুমি অথচ ব্যথা লাগে আমার বুকে প্লিজ পাখি কান্না থামাও আমার বুকে পেইন হচ্ছে।
[যাও অপেক্ষা আর করালাম না আহির স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছি।রেসপন্স করো বেশি বেশি কেমন হয়েছে জানায়ও ]
চলবে,,,
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১০
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৫
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২০
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৩
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৫