কীভয়ংকরমায়া_তোর
পার্ট_২৫
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
_কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌
আজকে সারাদিন অনেক গরম পড়েছে তার উপর ঘুরাঘুরি শরীর কেমন টলছে আদ্রের। সাওয়ার নিলে একটু ভালো লাগবে না হলে রাতে ঘুম হবে না।যেই ভাবা সেই কাজ টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে ডুকে লম্বা একটা সাওয়ার নিয়ে বের হলো আদ্র।পোরনে শুধু একটা সাদা টাওয়াল যা হাঁটুর একটু নিচ পর্যন্ত।চুলের পানি পিঠ চুঁইয়ে পড়ছে।শরীরে বিন্দু বিন্দু পানি চিকচক করছে।পায়ের কালো কুচকুচে লোমগুলো বিজে লেপ্টে আছে।খোলামেলা শরীরে জীম করা বডিটা বেশ আকর্ষণীয় লাগছে।আদ্র আরেকটা টাওয়াল নিয়ে চুল মুছতে মুছতে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। হঠাৎ বেড়ানো দরজা টা খট করে পুরো টা খুলে গেলো।আদ্র পিছন ফিরে চাইতেই নজরে আসে চোখ বড় বড় করে হা করে তার তাকিয়ে থাকা রোদকে।
এইদিকে রোদ দিন দুনিয়া সব ভুলে আদ্র’কে দেখছে।এই সুদর্শণ পুরুষ’কে সাধ্য গোসল করে আসার পর আরো সুদর্শণ লাগছে।ফর্সা শরীরে বিন্দু বিন্দু পানি মুক্তোর মতো চিকচিক করছে।তার উপর বেজা চুলগুলা কপালে লেপ্টে আছে।মুখেও পানির কোণা চিকচিক করছে।হঠাৎ রোদে মনে ভিতর কেউ যেন ডোল পিটিয়ে গাইছে—
“প্রেমে পাগল হয়ে গেলাম “
~প্রেমে পাগল হয়ে গেলাম~
আদ্র এতক্ষণ যাবত রোদকে পর্যবেক্ষণ করছে।আজ এই মেয়ের হলো কী?এমনিতেই আদ্রের সামনে আসলে পালায় পালায় করে।চোখ তুলে তাকানো তো দূরে থাক ওর সামনে সব সময় মাথা নিচু করে রাখে।আর আজ কিনা তাকে চোখ বড় বড় করে দেখছে?তাকে কী এই অবস্থায় বেশি সুন্দর লাগছে?যদি তার বার্বিডলের চোখে তাকে এই অবস্থা সুন্দর লাগে তাহলে সে সারাক্ষণ এই টাওয়াল পড়ে ওর সামনে ঘুরঘুর করবে!
—ওভাবে কী দেখছো আমাক বুঝি লজ্জা করে না?ছেলে হয়েছি তো কী হয়েছ আমার ওতো মানইজ্জত বলতে কিছু আছে!
একটু মজার ছলে কথাটা বলে আদ্র।আদ্রের কথায় রোদের হুশ ফিরে।ছি্ ছি্ ছি্ এতক্ষণ সে কীভাবে লোকটাকে গিলে খাচ্ছিলো?লজ্জায় তার তো মাটির নিচে ডুকে যেতে ইচ্ছে করছে।ইয়া আল্লাহ এক্ষুনি মাটি পাক করে দাও আমি যেন সেখানে ডুকে যেতে পারি।লজ্জায় কান গরম হয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে যেন।গালটা লাল হয়ে গেছে।কিছু না বলেই উল্টো ঘুরে দিলো দৌড়।তার দৌঁড়ানো দেখে আদ্র শব্দ করে হেঁসে দিলো।
যেতে যেতে আদ্রের হাঁসির শব্দ শুনে রোদের লজ্জা আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেলো।নিজেকে ইচ্ছে মতো গালি দিচ্ছে।কেন যে মায়ের কথা শুনে ভাই আর লোকটাকে খেতে ডাকতে গেলো?আর লোকটা’কে এখনই এই অবস্থায় থাকতে হবে?রোদ নিজের রুমে এসে আয়নার সামনে নিজেকে দেখতে লাগলো ইস গাল দুটো পাকা টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে।তার এত লজ্জা লাগছে কেন?আচ্ছা সে কী ওই সুদর্শন লোকটার প্রেমে পড়েছে?
এই দিকে আদ্রের হাসিই থামছে না।বেচারা হাসতে হাসতে পেট চেপে ধরে আছে।আর রৌদ্র সে আদ্রের দিকে বিরক্তকর চাহনিতে চেয়ে আছে।সে এসেছে মিনিট পাঁচেক হবে।এসেই দেখা আদ্র একা একা হাসছে। উঁহু হাসছে বললে ভুল হবে এক প্রকার সে নিজের সাথে যুদ্ধ করছে।রৌদ্র প্রথমে একটু অবাকই হয়েছে।কারণ এতবছরে আদ্র’কে এমন প্রাণ খুলে হাসতে সে দেখেনি।মনে মনে খুশিও হলেও উপরে খুবই বিরক্ত আসার পর থেকে বার বার জিজ্ঞেস করছে কী হয়েছে এভাবে হাসছে কেন?কিন্তু আদ্র “তোর বোন এইটুকু বলেই হাসতে শুরু করে বাকিটা আর বলে না।
—আরে ভাই কী হয়েছে সেটা তো বলবি নাকি?এভাবে আর কিছুক্ষণ হাসলে তুই দম আটকে মারা যাবি।
কিছুটা জোরে কথা বলে রৌদ্র। আদ্র এবার হাসি থামিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলে।
—কারণ টা যদি তোর বোন হয় তাহলে এমন দম আটকা হাসি আমি হাজার বার হাসতে রাজি।
—হয়েছে এবার খেতে চল আম্মু সে কখন থেকে ডাকছে।
দুজন রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
সিঁড়ি বেয়ে নামছে রৌদ্র আর আদ্র।সবাই খাবার টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে।রোদ’কে এখানে দেখা যাচ্ছে না।ওরা দু’জন এসে এক পাশে বসলো।সাইফ,সাইফা,ফারাহ্ আর ফাহিদ বসে খাবার খাচ্ছে। রাইসা বেগম আর সাইফের মা খাবার পরিবেশন করছে।ফাহিদ আড়চোখে আদ্র’কে দেখছে।তার কাছে আদ্রকে কেমন জানি লাগে সবার সাথে কত ভালো করে কথা বলে অথচ তখন ওর সাথে কেমন গম্ভীর কন্ঠে কথা বললো।আদ্র রোদকে না দেখে রৌদ্র কে ইশারা করলো।
—বনুকে দেখছি না যে ও কোথায়?এই সাইফা যাতো ও’কে ডেকে নিয়ে আয়।
রৌদ্রের কথায় সাইফা উঠে রোদকে ডাকতে গেলো।রাইসা বেগম একের পর এক আদ্রের পাতে উঠিয়ে দিচ্ছে। আদ্র মানা করলেও শুনছে না।
—হয়েছে মামুণি আর দিও না এতো খেতে পাবো না।
আদ্রের কথায় রাইসা বেগম থেমে নেই।তিনি নিজের কাজ চালাতে চালাতে বলল
—এতো কথা জানি না কতগুলো বছর পর এলি। মামুণির হাতের রান্নার স্বাদ মনে আছে তোর?
—কেনো থাকবে না অমৃত কী ভুলা যায়?
আদ্রের কথা রাইসা বেগম হাসলেন।ফাহিদের কেন যেন হিংসা হচ্ছে সে কিছুদিন পর এবাড়ির জামাই হবে কোথায় তাকে বেশি বেশি আদর সোহাগ করবে তা না এই ছেলেকে নিয়ে পড়ে আছে সবাই।এরি মধ্যে রোদ আসলো।দুইটা চেয়ার খালি আছে একটা আদ্রের পাশে আরেকটা ফাহিদের পাশে।ফাহিদ ভাব নিয়ে বসে আছে যেন সে শিউর রোদ তার পাশেই বসবে।আদ্রও শান্ত চোখে চেয়ে আছে।তবে রোদ ভুলেও মাথা তুলছে না।নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।
—তাড়াতাড়ি বস তোর জন্য তোর ভাই আর আদ্র অপেক্ষা করছে।
রাইসা বেগমের কথায় রোদ মাথা তুলে আদ্রের দিকে তাকালো।দুজনের চোখাচোখি হলো।রোদ আদ্রের প্লেটের দিকে তাকালো প্লেট ভর্তি খাবার লোকটা এখনো চুইয়েও দেখে নাই।লোকটা কী সত্যিই ওর জন্য অপেক্ষা করছিলো?রোদের মনটা কেন যেন নেচে উঠলো।ফাহিদের ভাবনা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে রোদ আর কিছু না ভেবে আদ্রের পাশে বসে পড়লো।আদ্রের ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটে উঠে। আর ফাহিদের মনটা খারাপ হয়ে যায়।
সবাই খাওয়া শুরু করলো।খাওয়ার মাঝে রোদ একটা জিনিস খেয়াল করলো।ফারাহ্ বার-বার আদ্রের দিকে তাকাচ্ছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।রোদের মনটা কেন যেন খারাপ হয়ে গেলো।সে মাথা নিচু করে অল্প অল্প করে খাচ্ছে। তবে তার মন খারাপি সব উঠে যায় আদ্রের কান্ডে।আদ্র নিজের প্লেট থেকে কাটা বাঁচা মাছ রোদের পাতে তুলে দিলো।রোদ অবাক হলেও মুখে হাসি ফুটে।সে মাছের কাটা বাঁচতে পারে না।এজন্য মাছ নেয় নি অথচ লোকটা কীভাবে সেটা বুঝেও গেলো।আদ্রের এই কাজ রৌদ্র আর ফাহিদ বাদে আর কেউ দেখে নি।রৌদ্র মিটিমিটি হাসে।আর ফাহিদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রোদ আর আদ্রকে দেখছে খাওয়া বাদ দিয়ে।
—কী হয়েছে কথা বলছো না কেন?আমাকে ইগনোর করার কারণ কী?আমি কী কোনো ভুল করেছি.?
কিছুটা জোরে কথাগুলো বলে ফাহিদ।রোদ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে।খাওয়া দাওয়া শেষে রোদ ঘুমাতে জাবে এমন সময় মাঝপথে ফাহিদ তার পথ আটকে ধরে।রোদকে চুপ থাকতে দেখে ফাহিদ অস্থির কন্ঠে বলে
—কী হলো রোদপাখি কিছু তো বলো।কল দিলে কল দরো না। মেসেজের রিপ্লাই দাও না। আসার পর থেকে দূরে দূরে থাকছো।এসবের মানে কী?
এবারও রোদ নিশ্চুপ। তার ঘুম পাচ্ছে অনেক।সব বিরক্ত লাগছে।
—কী হচ্ছে এখানে?
হঠাৎ আদ্রের কন্ঠে পেয়ে দুজন পিছ ফিরে চাইল। দেখলো আদ্র তাদের থেকে কিছুটা দূরে পকেটে হাত গুঁজে দাড়িয়ে আছে।এই মূহুর্ত আদ্রের উপস্থিতি ফাহিদের বিক্তর লাগলো।বিরক্তি কর কন্ঠে বলল।
—দেখছেন না কথা বলছি আবার জিজ্ঞেস করেন কেন?
আদ্র ফাহিদের কথায় পাওা না দিয়ে।রোদ দিকে চেয়ে শান্ত কন্ঠে বলল
—অনেক রাত হয়েছে যাও ঘুমিয়ে পড়ো।
রোদ যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে। আদ্রের বলার সাথে সাথে কোনো দিকে না তাকিয়ে হাঁটা দিলো নিজের রুমের দিকে।রোদ যেতেই আদ্র ফাহিদের উদ্দেশ্য বলল
—শুধু শুধু মরিচীকার পিছনে ছুটে সময় নষ্ট করছো।সে যার তার মালিকানায় আরো ১৩ বছর আগেই বন্দী হয়ে গেছে।তাই নিজের চরকায় তেল দাও আমার জিনিসে অন্য কারো নজর কিন্তু আমি সহ্য করবো না।
চলবে””””
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর গল্পের লিংক
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২০
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১০
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৯
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৮