Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৩


কীভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট_২৩

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ🚫❌_

আদ্র একমনে গাড়ির চালাচ্ছে চোখে সানগ্লাস তার।আর পাশে বসা রোদ বার বার আড়চোখে আদ্র’কে দেখছে।ছেলেরাও এত সুন্দর হয়?রোদ নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলো।ভিতর থেকে উওর আসলো হ্যাঁ হয়তো এই যে তার পাশে বসা লোকটা এককথায় সুদর্শন ছাড়িয়ে অতি সুদর্শন।লোকটার ছোট ছোট চাপদাড়ি গুলার মধ্যে গোলাপি অধর আর থুতনিতে তিলটা বেশ আকর্ষণীয়। এজন্যই হয়তো মেয়েরা লোকটা চারপাশে মৌমাছির মতো বনবন করে।এই যে এখন গাড়ি চালাচ্ছে আবার মাঝে মধ্যে উপরের ঠোঁট দ্বারা নিচের ঠোঁট চেপে ধরছে।এতেও আলাদা সুন্দর লাগছে।

— ওভাবে কী দেখছো?আমি জানি আমি হ্যান্ডসাম অনেক সুন্দর। তাই বলে এভাবে চোখ দিয়ে গিলে খাবে?

সামনে তাকিয়েই আদ্র কথাটা বলে।রোদ চমকে উঠে।লোকটা কীভাবে বুঝলো ও যে তাকে দেখছে?সামনের দিকেই তো তাকিয়ে আছে।রোদ একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেলো।দৃষ্টি ঘুরিয়ে এদিক ওদিক চাইল।

—কী হলো চুপ করে আছো যে?এই প্রেমে টেমে পড়লে নাকি? সাবধান আমি কিন্তু অন্য কারো মালিকানায় বন্দী।ভুলেও প্রেমে পড়বে না। আমার পিচ্চি বউ আছে।

গাড়ির ব্রেক কষে চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে রোদের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলে আদ্র।রোদ এতক্ষণের অস্বস্তি ভুলে আদ্র দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল

—আপনি বিবাহিত স্যার?

—হুম পুতুলের মতো দেখতে একটা বউ আছে আমার।

মুচকি হেঁসে কথা বলে আদ্র।রোদের মনটা হঠাৎ করেই কেন যেন খারাপ হয়ে গেলো।তবুও মুখে জোরপূর্বক হাঁসি টেনে
ছোট করে বলে”ওহ ভালো তো।আদ্র সবই দেখলো মনে মনে হাসলো যাক তার মানে তার বার্বিডলের মনে সে আস্তে আস্তে জায়গা পাচ্ছে। মনটা উল্লাসিত হলো।বিড়বিড় করে বলল

—পাগলি একটা।


আদ্র রোদ অনেকক্ষণ ঘুরার পর এবার একটা ফুলের বাগানে এসেছে চারদিকে বিভিন্ন ধরনের শারি শারি ফুল।বিকাল হওয়ার কারণে ফুলগুলার সৌন্দর্য আরো ফুটে উঠেছে।আদ্র জানে তার বার্বিডল ছোট থেকেই ফুল পাগলী এর জন্য সে একটা নামও দিয়েছিলো ছোট ফুল।তাই সে এই ফুলের রাজ্যে তার ফুলকে নিয়ে আসলো।এতক্ষণ মন মরা হয়ে হাঁটতে থাকা রোদের ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসির দেখা মিলে। ফুল দেখে তার চোখ মুখে খুশির রেস স্পষ্ট দেখাচ্ছে।রোদ ফুল দেখতে ব্যস্ত আর আদ্র তার ফুলকে দেখতে ব্যস্ত।সে মুচকি হেঁসে বিড়বিড় করে বলে

—শত শত ফুলের মাঝে আমার একান্ত ফুলকে একটু বেশিই সুন্দর লাগছে।

রোদের মুখে আধাঁর নেমে আসে হঠাৎ। মুখ গোমড়া করে রেখেছে।একটু দূরে দাড়িয়ে থাকা আদ্রের কপালে বাজ পড়ে। কী হলো হঠাৎ মেয়েটার।এতক্ষণ তো বেশ খুশি মনেই সব দেখছিলো এখন আবার চুপসে গেলো কেন?হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই আদ্রের চিন্তিত মুখ শীতল হয়ে যায়।একটা লোককে কিছু ইশারা করতেই।লোকটা একগুচ্ছ গোলাপ এনে আদ্রের হাতে দিলো।আদ্র সেটা নিয়ে রোদের হাতে দিয়ে বলল

—ছবি তুলতে ইচ্ছে করছে বললেই হতো।মনে মনে আমাকে গালি দাওয়ার কী আছে?

শেষের কথাটা আদ্র একটু দুষ্টমির ছলে বলে।রোদ ফুলগুলো পেয়ে অনেক খুশি হয়। সেই সাথে কিছুটা অবাক হয় লোকটা কীভাবে বুঝলো তার ছবি তুলতে ইচ্ছে করছে?সত্যি বলতে রোদের ছবি তুলার জন্যই মন খারাপ করছিলো।এত সুন্দর একটা জায়গায় কারই না ছবি তুলতে ইচ্ছে করবে? একবার ভেবেছিলো লোকটাকে বলবে কিন্তু অস্বস্তিতে বলতে পারছে না।তাই মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে ছিলো।মনে মনে ভাবছে ভাইটা আসলে ভালোই হতো।

—আপনাকে কেন গালি দিতে জাবো?আর আপনি কীভাবে বুঝলেন আমার ছবি তুলতে ইচ্ছে করছে?

মিনমিন করে প্রশ্ন করে রোদ।আদ্র মুচকি হেঁসে উওর না দিয়ে বলে

—দাড়াও ছবি তুলে দিচ্ছি সন্ধ্যা নামলে ভালো আসবে না ছবি।

রোদ কথা না বাড়িয়ে নিজের ফোনটা আদ্রের দিকে বাড়িয়ে দিলো।আদ্র বলল

—আমার মোবাইলের ক্যামরা অনেক ভালো আমারটা দিয়ে তুলে দিচ্ছি।

রোদ কিছুই না বলে পোস দিতে লাগলো।আর আদ্র সে তার পার্সোনাল মডেলের ছবি তুলতে ব্যস্ত।অনেকগুলা ছবি তুলার পর রোদ বলে

—আমি আর তুলবো না। এই দিকে দেন আপনাকে তুলে দেই।

—তার দরকার নেই।আমি তুলবো না।তবে কেউ চাইলে তার সাথে তুলতে পারি।

গম্ভীর কন্ঠে কথাটা বলে আদ্র আড়চোখে রোদের দিকে চাইল।রোদ বুঝলো তাকে মিন করে কথাটা বলেছে লোকটা।রোদ পড়লো মহা বিপদে তার এমনিতেই বুক ধুপধুপ করছে লোকটার সামনে।

—থাক কারো যদি এত সমস্যা হয় তুলতে হবে না।

রোদ কিছু না বলে আদ্রের পাশে দাঁড়ালো। আদ্র মনে মনে হেঁসে অনেক গুলা সেলফি তুলল। একটা ছেলেকে বলল ওদের কয়েকটা ছবি তুলে দিতে।ছেলেটা সম্মতি দিয়ে পোস দিতে বলে

—আপু ভাইয়ার আরেকটু কাছে গিয়ে দাঁড়ান।আর ভাইয়া আপনি আপুর কোমড়ে হাত দিয়ে আপুর চোখের দিকে তাকান।আপুও তাকান।

ছেলেটার কথায় রোদের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।বলে কী এই ছেলে? এমনিতেই তার লোকটার এতো কাছে থাকায় কেমন কেমন লাগছে।আর এই দিকে আদ্র শান্ত চোখে চেয়ে আছে রোদের দিকেে।

—কী হলো আপু?আরে লজ্জা পাওয়ার কিছুই নেই।আপনাদের দুজনকে বেশ মানিয়েছে।এভাবে ছবি তুললে ছবি টাও ভালো আসবে।

রোদ যা ভেবেছে ছেলেটা ওদের কাপল ভেবে বসে আছে। রোদ আদ্রের দিকে চাইল।রোদ তাকাতেই আদ্র এক ঝটকায় রোদের কোমড় পেছিয়ে কাছে টেনে নেয়।রোদ ঘাবড় গিয়ে আদ্রে বুকের কাছটায় খামচে ধরে।অবাক চোখে আদ্রে দিকে চায়।ছেলেটা সেই সুযোগে পটাপট অনেক গুলা ছবি তুলে নেয়।

—হয়ে গেছে আপু এবার ছেড়ে দিন।প্রথমে তো কাছেই দাঁড়াতে চাইলেন না পরে একবারে বুকের কাছটায় চেপে ধরে দাঁড়ালেন। যাই হোক আপনার জন্য ছবিটা অনেক সুন্দর এসেছে।

মুচকি হেঁসে কথা গুলো বলে ছেলেটা।রোদ লজ্জা পেলো বেশ।আদ্র ছেড়ে দাঁড়ালো।


সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আদ্রের গাড়ি খান বাড়ির গেটে দিয়ে ডুকলো।গাড়ি থামিয়ে আদ্র নেমে রোদের পাশের দরজা খুলে দেয়।

—তুমি ভিতরে যাও আমি পরে আসছি।

রোদ সামনে হাঁটা ধরে পিছে থাকা আদ্র রোদের যাওয়ার প্রাণে চেয়ে আনমনে বলে উঠলো

—শুনছো গো নীল আকাশের নিচে মুক্ত পাখির মতো উড়তে থাকা আমার একান্ত পাখি!খুব তাড়াতাড়ি তুমি এই আদ্রের খাঁচায় বন্দী হতে চলেছো।এই আদ্র তোমায় তার বুকের বা পাশের খাঁচায় বন্দী করে নিবে সারাজীবনের জন্য।

কথা শেষে করেই আদ্র বড় বড় পা ফেলে রোদের পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করলো।রোদ আড়চোখে পাশে উপস্থিতি আদ্রকে এক নজর দেখে নিলো।খান বাড়ির গেট থেকে বাড়ির দরজা পর্যন্ত অনেক লম্বা রাস্তা।রৌদ্র মাএই গেট দিয়ে ডুকলো ডুকতেই দেখতে পায় আদ্র আর রোদ এক সাথে হেঁটে যাচ্ছে।
রৌদ্র মুখ থেকে আপনাআপনি বের এলো কয়েকটি গানের লাইন—

—বন্ধু যখন বউ লইয়া আমার চোখের সামনে দিয়া

—”রঙ্গ কইরা হাইট্টা যায়”—

—পাইট্টা যায় বুকটা পাইট্টা যায় —

“”” পাইট্টা যায়”””

এইটুকু গেয়ে রৌদ্র নিজের মুখ চেয়ে ধরে।আশেপাশে নজর বুলায়।না কেউ নেই রৌদ্র মুখ থেকে হাত সরিয়ে স্বস্তির শ্বাস
ফেলে।যাক কেউ শুনে নি শুনলে মানইজ্জত সব শেষ হয়ে যেতো। সে বউয়ের বড় ভাই হয়ে কীভাবে এইসব গান গাইতে পারে?”আস্তাগফিরুল্লাহ “! সব ওই উষ্ঠা খাওয়ালির সাইড এফেক্ট।সে নিজের দোষ দেয় না মোটেও সেও উষ্ঠা খাওয়ালির মতো আবেগে পড়ে গেয়ে ফেলেছে অতশত ভাবেনি।


রৌদ্র নিজের ঘরে ডুকে দেখে আদ্র তার বিচানায় বিরক্তিকর মুখে বসে আছে।চোখমুখ কেমন লাল হয়ে আছে।হয়েছে কী এর আবার?রৌদ্র দরজা চাপিয়ে আদ্র পাশে বসে।আদ্র রৌদ্রের উপস্থিতি টের পেয়েও চুপ করে থাকে। রৌদ্র ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে

—কী হয়েছে আমার বোনের জামাই দুলাভাইয়ের?

—আমার মতো এমন সুন্দর হ্যান্ডসাম জামাই থাকতে।আমার বউ কিনা ওই ডাব্বাওয়ালার প্রেমে পড়লো ছ্যাহ!এখন আমি দুঃখে মইরা যাই আমি লজ্জায় মইরা যাই।

নাটকীয় ভঙ্গিতে নাক ছিঁটকে আদ্র বলে।রৌদ্র বড় বড় চোখে বন্ধু কম ভাই বেশি ছেলেটাকে দেখছে।আদ্র যে এমন করে কথা বলতে পারে তার আগে জানা ছিলো না।এর ভিতর এতো রসকষ এলো কোথায় থেকে হঠাৎ? এতো বছরে আদ্রকে কখনো এমন করে কথা বলতে দেখেনি রৌদ্র। সব সময় গম্ভীর মুখের সবার সাথে কথা বলে কিন্তু সে আর আহির সামনে অন্য রকম তবে এভাবেও কখনো বলে নাই।আজ একবারে গানের সুর টেনে কথা বলল?ডাব্বাওয়ালা বলতে কাকে বুঝিয়েছে রৌদ্র তা বেশ বুঝলো।ফাহিদ মোটেও ডাব্বাওয়ালা না যথেষ্ট সুদর্শন তবে সেটা এই মানবের সামনে বলা যাবে না।পরে দেখা যাবে দুনিয়া এদিক ওদিক করে ফেলবে

—এই তোর ভিতর এতো রসকষ এলো কোথায় থেকে হঠাৎ?

আদ্র চোখ ছোট ছোট করে রৌদ্রের দিকে চেয়ে বলে

—সব তোর সাইড এফেক্ট!

আদ্রের কথা রৌদ্র বিড়বিড় করে বলে

—বোনের সাইড এফেক্ট আমার উপর পড়েছে।আর ভাইয়ের উপর নাকি আমার সাইড এফেক্ট পড়েছে বাহ্ বিষয়টা বেশ ইন্টারেস্টিং তো!

[কেমন হয়েছে বলে যাও আর বেশি বেশি রেসপন্স করো]

চলবে,,৷

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply