কীভয়ংকরমায়া_তোর
পার্ট_২২
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌
রোদ গুনগুন করে গান গাইছে আর রেডি হচ্ছে। রৌদ্র বলেছে ঘুরতে জাবে এজন্য। তার মন কেন জানি বাড়িতে থাকতে ইচ্ছে করছে না।সকাল থেকে অনেক উশখুশ করেছে কলেজে যাওয়ার জন্য কিন্তু কেউ যেতে দেয়নি।তার কেন জানি ফাহিদের সামনে যেতে ইচ্ছে করছে না।আগের মতো ফাহিদের প্রতি ভালো লাগা কাজ করে না।কেন এমন হচ্ছে রোদ বুঝতে পারছে না।এসব ভাবতে ভাবতে ভাবতে রোদ রেডি হয়ে নিলো।হোয়াইট কালারের একটা গাউন পড়েছে।মাথায় কালো খয়েরী রঙের হিজাব।ঠোঁটে খয়েরী রঙের হালকা করে লিপস্টিক চোখে কাজল আর আইলেনা ব্যাস এতেই রোদকে নজরকাঁড়া সুন্দর লাগছে।আজকাল মাক্স ইউজ করে না।আগে ভাইয়ের জন্য করতো এখন রৌদ্র বলেছে মন চাইলে মাক্স ইউজ করতে আর না চাইলে করতে না।তাই রোদ এখন মাক্স দিয়ে মুখ ডাকে না।নিচ থেকে ভাইয়ের ডাক শুনে রোদ তড়িঘড়ি করে বের হলো।
আদ্র আর রৌদ্র সোফায় বসে রোদের জন্য অপেক্ষা করছে।আদ্র মোবাইলে কী জানি দেখছে আর রৌদ্র পিছন ফিরে যেই না বোনকে আবার ডাকতে যাবে। দেখলো বোন তা সাদা পরী সেজে নামছে।রৌদ্র মাশাল্লাহ বলে। কী মনে করে তড়িঘড়ি করে আদ্রের দিকে চাইল দেখলো আদ্র এখনো মোবাইলের দিকে চেয়ে আছে।রৌদ্র এক হাতে সামনের টি-টেবিল থেকে পানির গ্লাস তুলে নিয়ে আরেক হাতে আদ্রের হাত থেকে চো মেরে মোবাইল নিয়ে পাশে রেখে দিলো।গ্লাস থেকে পানি নিয়ে আদ্রের মুখে পানির ছিঁটা দিতে শুরু করে।এই দিকে আদ্র রৌদ্রের এসব দেখে পানির গ্লাসটা টেনে নিয়ে বিরক্ত হয়ে বলল
— পাগল হয়েছিস এমন করছিস কেন.?
—তোর আবার অজ্ঞান হওয়ার সময় এসেছে।তোর উপর বিশ্বাস নাই ভাই।এবার অজ্ঞান হলে মানসম্মান কিছুই থাকবে না।তুই ব্যাটা বড়সড় ইতিহাস গড়ে পেলতে পারিস।তাই অজ্ঞান হওয়ার আগেই পানির ছিঁটা দিচ্ছি যেন অজ্ঞান না হতে পারিস।
রৌদ্রের কথায় আগামাথা কিছুই বুঝেনি আদ্র।ভ্রু কুঁচকে বলল
—মানে.?
—মানে পিছে তাকা বোনের জামাই দুলাভাই।
আদ্র পিছে তাকাতেই থমকে যায়।একটা সাদাপরী গাউন দুহাতে দরে হালকা উচুঁ করে ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছে । আদ্র অপলক চেয়ে আছে।চোখের পাতাও নড়ছেনা। আদ্রের মনে হচ্ছে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বুকে তখনকার মতো পিনপিনে ব্যথা করছে।আদ্র ঘোর লাগা কন্ঠে বিড়বিড় করে বলল
— হোয়াইট পরী!
পাশে বসা রৌদ্র এতক্ষণ ধরে আদ্রের মতিগতি পর্যবেক্ষণ করছে।আদ্রের হাত থেকে গ্লাস নিয়ে আবারও তৈরি হয়েছে আছে আদ্রের অজ্ঞান হওয়ার অপেক্ষায় । কিন্তু আদ্র’কে এখনো জ্ঞান হারাতে না দেখে আবার বিড়বিড় করতে দেখে বলল
—কিরে কী বিড়বিড় করছি.?
—আমাকে ধর বউয়ের বড় ভাই সমন্দী!
—ধরাধরি পরে আগে অজ্ঞান হ না সোনা!এই দেখ গ্লাস হাতে নিয়ে থাকতে থাকতে হাত ব্যাথা হয়ে গেছে।
ওদের এসব উদগ্র বাসনার মধ্যে রোদ এসে হাজির হলো।ওরা দু’জনই কথা বন্ধ করে দিয়ে রোদের দিকে চাইল।রোদ আদ্রের সামনে একটু অস্বস্তিবোধ করছে।রোদের অস্বস্তি হচ্ছে বুঝতে পেরে আদ্র মনে মনে হাসে একটু।যে মেয়ে ছোট বেলায় তার পিছুই ছাড়তো না স্কুলে যাওয়ার সময় তাকে চোরের মতো লুকিয়ে যেতে হতো।আজ যে মেয়ে কিনা তার সামনে আসতে অস্বস্তিবোধ করছে?আদ্রের আজও মনে আছে সে দিনের কথা—
অতীত
আহি বাড়িতে আসার ২-৩ পরই তার আদ্রের সাথে বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে।অবশ্য এটার কারণও আছে আহি তখন ছোট ছিল তেমন কিছু বুঝতো না। ছোট বাচ্চাদের তো চকলেট চিপস এগুলা যে এনে দিবে কোলে নিবে আদর করবে।তার জন্যই পাগল থাকবে। বাড়ির সবার থেকে একটু বেশি আদ্র আহির যত্ন নিতো আদর করতো চিপস চকলেট এনে দিতো খেয়াল রাখতো। আর ছোট আহিও তার জন্য পাগল হয়ে যায়।আদ্র ছাড়া তার এক সেকেন্ড ও চলতো না।আহির জন্য আদ্র খেলতেও যেতে পারতো না তার পিছু ছুটতো।আদ্র চোরের মতো লুকিয়ে বাইরে যেতো।
দিন টি ছিলো সোম বার আদ্রের পরীক্ষা চলছে।আদ্র দ্রুত রেডি হয়ে কোনো মতে নাস্তা করে সবার থেকে বিদায় নিয়ে যেই না বাড়ি থেকে বের হবে।পিছন থেকে কেউ তার শার্ট টেনে ধরে।আদ্রের ঘাম ছুটে যায় সে জানে শার্ট ধরা ব্যক্তিটাকে।মনে মনে বলে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়।সকাল সকাল উঠেছে আহি ঘুমে থাকতে থাকতে সে চলে যাবে।এসে না হয় রাগ ভাঙ্গাবে।কিন্তু এখন কী হবে?
—আমাকে লেখে কুথায় যাও তুমি?
(আমাকে রেখে কোথায় যাও তুমি?)
আহির কথা আদ্র পিছন ফিরে মুখে হাসি টেনে আহির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে গালে চুমু দিয়ে আদুরী কন্ঠে বলল
—পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি পাখি।
—আমিও তাবো তোমার সাতে।
(আমিও যাবো তোমার সাথে)
—না পাখি আমার আসতে দেরি হবে তুমি কান্না করবে।তুমি বাড়িতে থাকো আসার সময় তোমার জন্য অনেকগুলা চকলেট চিপস নিয়ে আসবো।
আহি মানে না।সে যাবেই যাবে এরকম করতে করতে আদ্রের পরীক্ষা সময় হয়ে যায়। কিন্তু আহিকেই মানাতে পারে না।আদ্রকে জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদছে। তার কান্না দেখে আদ্র রেখে যেতে পারছে না আবার নিয়েও যেতে পারবে না।বাড়ির কেউই তাকে আদ্রর থেকে ছাড়াতে পারে না।শেষমেষ সবাই মিলে টেনে আলাদা করে।আদ্র বাড়ির গেট ফেরিয়েও গেলেও আহির কান্নার আওয়াজ তার কানে আসে।সেদিন কোনো মতে পরীক্ষা দিয়েই আদ্র বাড়ি ছুটে আসে দ্রুত।এসে দেখা তার পাখি তার জন্য কান্না করতে করতে চোখ মুখ লাল করে গাল ফুলিয়ে বসে আছে।এমন কী সকাল থেকে না খেয়ে আছে।পরে আদ্র এটা ওটা বলে খাওয়ায়।তার পর বাইরে থেকে ঘুরিয়ে আনে তবেই তার পাখির মুখে হাসি ফুটে।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে আদ্র রোদ আর রৌদ্র বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠে।ডাইভিং সিটে আদ্র বসে পাশে রৌদ্র পিছনে রোদ।গাড়ি চলছে সবাই নিশ্চুপ।রৌদ্র ফোনে খুব মনেযোগ সহকারে কিছু দেখছে। হঠাৎ কেউ তার পায়ে খোঁচা মারালো।রৌদ্র ভ্রু কুঁচকে সে দিকে তাকাতে দেখে আদ্র তাকে পা দিয়ে খোচাঁচ্ছে।রৌদ্র আদ্রের দিকে চাইতেই আদ্র তাকে চোখ দিয়ে কিছু একটা ইশারায় বলে।রৌদ্র পিছন ফিরে রোদের দিকে চায়।রোদ আপন মনে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।রৌদ্রের মাথায় এবার দুষ্ট বুদ্ধি আসে সে আদ্রের ইশারা বুঝেছে।কিন্তু না বুঝার বান ধরে আদ্রের মতো সেম ভাবে ইশারা করলো।আদ্র তাকে আবারও ইশারা করলো।রৌদ্র ও আবার তাকে সেম কপি করে ইশারা করলো।রৌদ্র মনে মনে ভেংচি কেটে বলে
—উম জাবো না আমি ইশারা করতে করতে মরে যা শালা তবুও আমি জাবো না। কতবড় স্বার্থপর আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে এখন।কাজ শেষ যা ভাগ। এইভাবে ছুঁড়ে ফেলতে চায়ছে শালা বোনের জামাই দুলাভাই।
আবারও আদ্রের দিকে তাকিয়ে ইশারা করে।আদ্র বেশ ভালো করেই বুঝলো শয়তানটা মজা নিচ্ছে সেও মনে মনে বলল
—আরে যা না বউয়ের বড় ভাই সমন্দী বউটাকে নিয়ে একটু একা সময় কাটায়।
আদ্র এবার ইশারায় অনুরোধ করলো যাওয়ার জন্য।রৌদ্র মেনে নিলো।ফোন বের করে কানে নিয়ে জোরে জোরে মিছামিছি বলতে শুরু করলো
—কী হয়েছে? অফিসে ইম্পর্টেন্ট কাজ পড়েছে?আমাকে এক্ষুনি যেতে হবে?ও আচ্ছা রাখো আমি এক্ষুনি আসছি।
এই বলে কান থেকে ফোন নামিয়ে আদ্র দিকে চেয়ে বলল
—গাড়ি থামা জরুরি কাজ পড়েছে আমাকে যেতে হবে।
আদ্র সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে দেয়।রৌদ্রের অভিনয়ে সে হাসে।রৌদ্র বোনের দিকে চাইল। রোদ ওর দিকেই চেয়ে আছে চিন্তিত মুখে।
—ইয়ে বনু তুই আদ্রের সাথে ঘুরে আয় ভাইয়ার জরুরি কাজ পড়েছে এক্ষুনি অসিফ যেতে হবে।প্লিজ রাগ করছিস না আমি এখন ঘুরতে যেতে পারবো না।
—তাহলে অন্যদিন জাবো আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসো।আমিও যাবো না।
রোদের মিনমিনে কন্ঠে বলল।রৌদ্র আদ্র দুজনই জানতো রোদ এটা বলবে যে। রৌদ্র বোনকে বুঝিবাঝিয়ে রেখে বিদায় নিয়ে চলে যায়।আদ্র রোদের উদ্দেশ্য বলল
—আমি কোনো কারো ডাইভার না সো সামনে এসে বসো।
—ইয়ে মানে ভা”
—ইয়ে মানে টানে পরে সামনে এসে বসতে বলেছি।
গম্ভীর কন্ঠে বলে আদ্র।আদ্রের গম্ভীর কন্ঠ শুনে রোদ আর কিছু না বলে চুপচাপ বের হয়ে সামনে এসে বসে।
অন্যদিকে
রৌদ্র সেদিনের মতো আজকেও রেস্টুরেন্টে এসে ডুকতেই ইয়ানা আর ওর ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা।ইয়ানার সেই ফ্রেন্ডটি যে রৌদ্র কে দেখে সেদিন ফিদা হয়েছিলো। সে আজকে আবার রৌদ্রকে দেখেই হাসি মুখে বলে
—ভালো আছেন ভাইয়া?আমার বাচ্চারা আর বউ ভালো আছে?
মেয়েটার কথায় রৌদ্র যেন আকাশ থেকে পড়লো।সে ভেবেছে অন্য কাউকে হয়তো বলেছে সে আশেপাশে চায় না কেউই নেই।তার মানে তাকেই বলেছে।কিন্তু তার বউ বাচ্চা এলো কোথায় থেকে সে কিছু বলতে যাবে দেখে।ইয়ানা মেয়েটা ইশারায় চুপ করতে বলছে।রৌদ্র সেটা দেখে সন্দেহ চোখ তাকিয়ে মেয়েটাকে বলে
—বাচ্চারা আর বউ মানে বুঝলাম না কাকে বলছো?
—আপনার বউ বাচ্চার কথা বলছি!আরে লজ্জা পাবেন না আমরা আমরাই তো আপনার যে চার টা বাচ্চা আছে বউ আছে আবার একটা পেটে সেটাও আমরা শুনেছি।ইয়ানা আমাদের সব বলেছে।তবে ভাইয়া আপনাকে দেখলে মনে হয় না আপনি এতগুলা বাচ্চার বাপ।
মেয়েটার প্রথম কথায় রৌদ্রের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।কিন্তু শেষে ইয়ানার নাম বলতেই।সেই ইয়ানার দিকে চায় দেখে ইনায়া নিচের দিকে তাকিয়ে কিছু বিড়বিড় করছে।রৌদ্রের আর বুঝতে বাকি নাই যে এই মেয়ে সত্যিই এসব বলেছে।সে শয়তানি হাসি দিয়ে ইয়ানার ফ্রেন্ডের উদ্দেশ্য বলল
—আসলে তুমি না বললে আমি জানতামই না আমার একটা বউ আছে চারটা বাচ্চা আছে আবার আরোও একটা পেটে।তোমাকে যে এসব ফালতু কথা বলেছে।তাকে জিজ্ঞেস করিও আমার বাচ্চা গুলো কী সে ডাউনলোড দিছে নাকি।আর তাকে্ মনে হয় আমি যে মাসে শুক্রবার নাই সে মাসে বিয়ে করেছি।আমার মনে পড়ছে না ঠিক কোন মাসে শুক্রবার ছিলো না তোমরা জানলে বলিও।
—মানে এগুলো সব মিথ্যা.?
—সেটা তোমাদের ফ্রেন্ডকেই জিজ্ঞেস করো!
রৌদ্রের কথা সূচি মানে ইয়ানার বান্ধবী ইয়ানাকে জিজ্ঞেস করলো।
—কিরে এসব কী সত্যি নাকি মিথ্যা.?
— মিথ্যা
মাথা নিচু করে মিনমিনে কন্ঠে উওর দিলো ইয়ানা।তা দেখে রৌদ্র গম্ভীর কন্ঠে বলল
—এই মেয়ে তুমি এটা কেন করলে.?
রৌদ্র কথায় ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে তার পর বোকা হেসে বলল—
—বিশ্বাস করেন ভাইয়া আমি এটা ইচ্ছে করে করিনি।তখন আমার আবেগ কাজ করে ছিলো বিবেকে কাজ করে নি। বিবেকে কাজ করলে কী আমি এমনটা করতে পারতাম আপনিই বলেন.?
[রেসপন্স করো বেশি বেশি।আর কেমন হয়েছে বলিও]
চলবে,,,,
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৯
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৩
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১০
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১১