কীভয়ংকরমায়া_তোর
পার্ট_২১
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌__
রৌদ্র আদ্রের মুখের পানি ছিটিয়ে ডাকছে বারবার।বেশ কিছুক্ষণ পর আস্তে আস্তে আদ্র চোখ খুলে তাকালো।দেখলো সবাই তাকে ঘিরে দাড়িয়ে আছে।সবার মধ্যে তার বার্বিডলকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আদ্রের চোখ আবার রোদের চুলের দিকে যায়।সঙ্গে সঙ্গে বুকে হাত দিয়ে বড় বড় করে শ্বাস নিতে লাগলো।
—কী হয়েছে বাবা তোমার হঠাৎ জ্ঞান হারালে কেন?
—শরীর খারাপ নাকি?
—সকালে কিছু খাওনি নাকি?
সবাই একে একে এটা ওটা আদ্রেকে প্রশ্ন করছে।শুধু রৌদ্র ভ্রু কুঁচকে আদ্রের হাবভাব বুঝার চেষ্টা করছে।সে জহুরি নজরে আদ্রকে দেখছে।আর রোদ এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে।এইদিকে সকলের এত এত প্রশ্নের উওর কী দিবে আদ্র?সে কী বলে দিবে আপনাদের মেয়ের এতবড় কেশ দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি!না এটা বলা যাবে না বললে সবাই হেঁসে মজা নিবে।আদ্র কিছু একটা ভেবে বলল
—আসলে কালকে রাতে কাজের চাপে খাবার খাওয়া হয়নি সকালে না খেয়ে বের হয়ে গেছি।খালি পেট যে এই কারণে মাথা ঘুরে উঠলো।
রাইসা বেগম আর সায়ান খান আদ্রেকে কিছুক্ষণ বুঝিয়েছে ঠিকমত খাওয়া জন্য। এরকম হলে শরীর খারাপ করবে আরো।রাইসা বেগম বিভিন্ন খাবার এনে আদ্রের সামনে রাখতে লাগলেন।এইদিকে আদ্রের ডাহা মিথ্যা কথা শুনে আদ্রের কানে দাঁতে দাঁত পিষে ফিসফিস করে বলল
—আমার একমাত্র বোনের জামাইটা যে কালকে রাত থেকে না খেয়ে আছে এটা শুনে আমি খুবই শোকাহত এখন আমার কী করা উচিত মেয়েদের মত নাকের পানি চোখের পানি এক করে কাদঁবো?অবশ্য কান্না আমার আসছেও না কারণ সকালে তাকে ফোন দিয়েছি আর তার বোন ধরে বলেছে যে তার ভাই খাবার গিলছে নিচে মোবাইল ঘরে রেখে গেছে।
রৌদ্রের কথায় আদ্র ফিসফিস করে বলল
—মাইনকার চিপায় পড়লে মিথ্যাকেও সত্যি বলে চালিয়ে দিতে হয়!
—তা আপনি আবার কোন মাইনকার চিপায় আটকে গেছেন আর কেনই বা অজ্ঞান হয়ে গেলেন যদি এই অধমকে বলতেন।
—তোর বোনের এত বড় চুল দেখে নিজেকে সামলাতে পারিনি হঠাৎই মাথা ঘুরে উঠল আর
আদ্রের কথার মাঝেই রৌদ্র বিষ্ময় কন্ঠে বলল
-মানে তুই আমার বোনের লম্বা চুল দেখে সেন্সলেস হয়ে গেছিস?
আদ্র উপর নিচ মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ বুঝাতেই রৌদ্র হাতের তালি দিতে দিতে বলল
—ও মায়ামা গো কী ভালোবাসা।বউয়ের চুল দেখে একবারে সবার সামনে সেন্সলেস হয়ে গেছিস? তুই তো ইতিহাস গড়ে পেলেছিস!সাব্বাশ ব্যাটা!
এইদিকে বাকিরা ওদের কথা না শুনলেও রৌদ্রকে হাতের তালি দিতে দেখে ভ্রু কুঁচকে ওদের দিকে চেয়ে আছে।রাইসা বেগম ছেলের এমন কাজে বিরক্ত হয়ে বলল।
—পাগলের মতো তালি দিচ্ছিস কেন?দেখছিস না কাল থেকে
ছেলেটা না খেয়ে অসুস্থ হয়ে গেছে কেথায় তাড়াতাড়ি ছেলেটাকে খাওয়াবি তা না করে হাতের তালি দিচ্ছিস?
মায়ের কথা রৌদ্র এবার নাটকীয় ভঙ্গিতে আদ্রকে বলল
—আসলেই তো আসো বাবা আসো খেতে আসো। না হলে আবার অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবে।
শেষে কথাটা একটু টেনে বলল।আদ্র দাঁত কিড়মিড় করে রৌদ্রের দিকে চেয়ে আছে।আর রৌদ্র দাঁত কেলিয়ে হাসছে।এর মধ্যে রাইসা বেগম আবার তাড়া দিলেন খাবার খাওয়ার জন্য। আদ্র পড়েছে মহা বিপদে সে বাড়ি থেকে খেয়েই এসেছে এখন তার খাওয়ার বিন্দু পরিমাণও ইচ্ছে নেই।তখন মাথায় যা আসছে বলে দিয়েছে।এখন কী করব?অসহায় চোখের রৌদ্র দিকে তাকালো।তা দেখে রৌদ্র চোখ মেরে ঠোঁট টিপে হাসলো।সে জানে দুনিয়া এদিক ওদিক হয়ে গেলেও আজ তার মা আদ্র না খাইয়ে ছাড়বে না।এটা তিনি ছোটবেলা থেকেই করে আসে আদ্রের সঙ্গে। আদ্রেরও তা জানা আছে।রাইসা বেগম ছোটবেলায় আদ্র যখন এই বাড়িতে আসতো তখন থেকেই এমন করে।আর এখনতো মেয়ের জামাই হবে আবার কত গুলা বছর পর এসেছে।এখন তো আরোও ছাড়বে না।
সত্যি রাইসা বেগম আদ্রকে ছাড়েনি অনেক বার মানা করেও আটকে পারেনি। বেচারা বার বার রৌদ্রের দিকে তাকাচ্ছিলো।আর রৌদ্র সে তো বসে বসে মজা নিচ্ছে। রোদও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আদ্রের অবস্থা দেখে ঠোঁট টিপে হাসছিলো।শেষে সায়ান খান বলল
—হয়েছে রাইসা এবার ছেলেটাকে ছাড়ো বেচারা আর পারছে না।
স্বামীর কথায় রাইসা বেগম আদ্রকে ছাড়ে।আদ্র বড় একটা নিঃশ্বাস পেললো।।
বর্তমানে রৌদ্র রুমে আদ্র আর রৌদ্র বসে আছে। রৌদ্র আদ্র পাশে বসে কিছুক্ষণ পর পর খোঁচাচ্ছে আদ্রকে।আদ্র বিরক্ত মুখে চেয়ে আছে।রৌদ্র কিছুক্ষণ পর পর হাসছে।
—যা তোর বোনকে বল রেডি হয়ে আসতে।
আদ্রের কথা রৌদ্র ভ্রু কুঁচকে বলল
—কেন?
—আমার বউ নিয়ে আমি ঘুরতে জাবো।ওই ছেলের সামনে কিছুতেই যেতে দিবো না।
কথাটা আদ্রে কিছুটা রাগ প্রকাশ করে বলল।রৌদ্র বুঝল আদ্র অনেক রেগে আছে আবার না কিছু করে বসে।
—কিন্তু বনু কী তোর সাথে যেতে রাজি হবে?
—এত কথা জানি না তুই রাজি করাবি।
—শালার আমার হয়েছে যত জ্বালা।
—সমন্দী নট শালা!
আদ্রের কথা রৌদ্র মুখ বেঁকিয়ে রোদকে রেডি হতে বলতে গেলো।
[বেশি করে করে রেসপন্স করলে নেক্সট পার্ট তাড়াতাড়ি পাবে।আর কেউ ছোট হয়েছে বলবে না কারন তোমাদের রেসপন্স অনুযায়ী গল্প আসবে।]
চলবে,,,,,
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর গল্পের লিংক
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৯
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২০
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১০