কী ভয়ংকর মায়া তোর
পার্ট_২০
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌
রাত বাজে ২ টা রোদের ঘুমই আসছে না। এপাশ ওপাশ করতে করতে হঠাৎ কী মনে করে লাফিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে।তারপর বিচানা থেকে নেমে সোজা দরজার দিকে হাঁটা দিলো।রুমে বাইরে এসে দেখে পুরো বাড়ি নিরব আর নিস্তব্ধ হয়ে আছে। হবে না বা কেন?রাত তো কম হয়নি সবাই গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। আর এতরাতে রোদের মাথায় আসলো দুষ্ট বুদ্ধি। সোজা হাঁটা দিলো সাইফের রুমে দিকে।দরজার সামনে এসে দেখে দরজা ভিতর থেকে লাগানো।এতে করে রোদের মনটা খারাপ হয়ে যায়।আবার নিজের রুমে দিকে হাঁটা দিতে নিলে চোখ যায়।রৌদ্রের দরজার দিকে।দরজা বেড়ানো আছে।রোদ এবার রৌদ্রের দরজার সামনে এসে।হালকা খুলে উঁকি দিলো।
রৌদ্র ঘুমে তলিয়ে আছে। রোদ শব্দহীন ভাবে ঘরে ডুকে ভাইয়ের মাথা কাছে এসে বসে।কিছুক্ষণ ভাইয়ের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।ইস তার ভাইটা কত কিউট ঘুমালে আরো বেশি সুন্দর লাগে।রোদের তো মাঝে মধ্যে মনে হয় ওর থেকে ওর ভাই বেশি সুন্দর।তার এতো সুন্দর ভাইটা এমন নিরামিষ কেন রোদ আজও বুঝলো না।এখনকার যুগে এমন নিরামিষ ছেলে আদৌ আছে?আছে তো এই যে তার একমাত্র ভাই রাদিফ খান রৌদ্র যার পিছে মেয়েরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। আর সে কিনা মেয়েদের থেকে একশ হাত দূরে থাকে।এটা মানা যায়?যে যুগে ছেলেরা একসাথে দুই-তিনটার সাথে প্রেম করে আবার সারাক্ষণ মেয়েদের পিছে ঘুরে আর সেখানে রোদের ভাই কে দেখো এসব নিয়ে তার কোনো চিন্তাই নেই। একটা ছেলে যদি দুই তিনটা করে মেয়ে নিয়ে যায় তাহলে তার ভাইয়ের কী হবে?তার ভাই কী সারাজীবন সিঙ্গেলই থেকে যাবে?না রোদ থাকতে এটা কখনোই হতে দিবে না।আর একে দেখো কেমন শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে।তবে আজ আর রোদের রৌদ্রের এমন শান্তিময় ঘুম সহ্য হলো না।বেডসাইড টেবিলে গ্লাস ভর্তি পানি দেখে রোদে মাথায় দারুন একটা বুদ্ধি আসলো। চুপিসারে গ্লাসটা হাতে নিয়ে গ্লাস থেকে কয়েক পোটা পানি নিয়ে চোখের মধ্যে ডুকিয়ে দিলো।তার পর গ্লাসটা আগের মতো সুন্দর করে রেখে দিয়ে। নিচে বসে কান্না করতে লাগলো শব্দ করে।
এইদিকে ঘুমের মধ্যে বোনের কান্নার আওয়াজ পেয়ে রৌদ্রের বুক মোছড় দিয়ে উঠল।কিশের আর ঘুম ধরপড়িয়ে উঠে বসলে রৌদ্র। পাশ ফিরে দেখে রোদ মাটিতে বসে কান্না করছে হেঁচকি উঠে গেছে।এই দৃশ্য দেখেই রৌদ্রের বুকের বা পাশে ব্যথা করতে লাগলো তার আদরের বোনের কী হয়েছে।আর এই দিকে ভাই’কে উঠতে দেখে শয়তানি হাসি দিয়ে রোদ মনে মনে বলল
—(আমি জানতাম আমার কান্না আওয়াজে তুমি ঠিকি উঠবে।এছাড়া আমার কাছে আর কোনো উপায় নেই।তাড়াতাড়ি প্লান সাকসেস করতে হবে।উফ নিজে নিজে হেঁচকি তুলতে কী কষ্ট বাবা গো বাবা🥲)
রৌদ্র দ্রুত বিচানা থেকে নেমে বোনের সামনে বসে বোনের মুখটা দু’হাতের তালুতে তুলে অস্থির কন্ঠ জিজ্ঞেস করলো
—কী হয়েছে বনু কান্না করছিস কেন?ব্যথা পেয়েছিস? বল ভাইয়াকে, কেউ কিছু বলেছে?
প্রতিবারই রোদ মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো এগুলার কিছুই না। রৌদ্র এবার আগের থেকেও বেশি,অস্থির হয়ে উঠলো
—তাহলে এত রাতে এভাবে কান্না করছিস কেন?খারাপ স্বপ্ন দেখেছিস?
এবার রোদ উপর নিচ মাথা নাড়ালো।মানে সে খারাপ স্বপ্ন দেখেছে।
—কী দেখেছিস বল ভাইকে!
—আ”আমি দেখেছি
—হ্যাঁ বল কী দেখেছিস?
—আমি স্বপ্নে দেখেছি একটা ছেলে তিন-চারটা করে মেয়ে বিয়ে করে নিয়ে যাচ্ছে। মানুষ জন বলা বলি করছে যে দেরিতে করবে সে নাকি মেয়ে পাবে না।
এইটুকু বলে রোদ থামে কানা চোখে ভাইয়ের দিকে তাকায়।এই দিকে বোনের আজগুবি স্বপ্নের কথা শুনে রৌদ্র হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না।হাসলে পাপ না হলেও এখন হবে কারণ। তার বোন কান্না করছে এখন সে হাসলে একটা যুদ্ধ হয়ে যাবে।রৌদ্র অনেক কষ্টে হাসি আটকে বলল
—পাগলি এর জন্য কান্না করা লাগে?এসব ফালতু স্বপ্ন আর এখানে তো মেয়েরা তিন-চারটা করে ছেলে নিচ্ছে না যে তোর ভাগে ছেলে পড়বে না দেরি হলে এজন্য তুই কান্না করছিস!তুই বরং নিশ্চিন্তে থাক তোর জন্য ছেলে রেডি আছে তুই শুধু হ্যাঁ বলবি সে সঙ্গে সঙ্গে এসে তোকে নিয়ে জাবে।নো টেনশন ওকে?
রোদ কান্না থামিয়ে বিরক্ত হয়ে বলল
—উফ আমি আমার জন্য চিন্তা করছি না। তোমার জন্য চিন্তা হচ্ছে সব মেয়ে নিয়ে গেলে তোমার কী হবে।তুমি মেয়ে না ফেলে আমি ভাবি পাবো না তাড়াতাড়ি ভাবি আনো।
রৌদ্র এবার বোনের চালাকী দরতে পারলো।বোনকে বুঝানোর জন্য বলল
—আচ্ছা নিয়ে আসবো পরে।এখন তো ভাইয়ার অনেক কাজ এখনো এসব নিয়ে ভাবিনি।
—তুমি এক সপ্তাহের মধ্যে ভাবি আনবে না হলে আমার সাথে একদম কথা বলবে না।
এই বলে রোদ চলে গেলো।রৌদ্র পিছন থেকে অনেকবার ডাকলো শুনলো না।রৌদ্র কিছুক্ষণ ঘরময় পায়চারি করলো।তার পর কল লাগালো আদ্রের নাম্বারে।আদ্র মাএই সব কাজ শেষ করে ঘুমাতে যাচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ এতো রাতে রৌদ্রের কল পেয়ে বুক মোচড় দিয়ে উঠলো।তার বার্বিডলের কিছু হয়নি তো আবার?আদ্র দ্রুত কল রিসিভ করে কিছু বলবে তার আগেই রৌদ্র বলে উঠে
—দোস্ত ভাবি কোন গাছে ধরে বল না প্লিজ।না হলে কোন পেইজে পাওয়া যায় একটা ভাবি অর্ডার করে দে না তোর বউটা ভাবি ভাবি বলে আমার মাথা খেতে ফেলছে।হয় একটা ভাবি অর্ডার করে দে না হলে এইডা নিয়ে যা।
—কেন আমার বউ আবার কী করেছে? সময় হলে নিয়ে আসবো তোর বলা লাগবে না।
রৌদ্র এবার সব খুলে বলল।এই দিকে এসব শুনে হাসতে হাসতে শেষ আদ্র।
—তুই হাসছিস আদ্র?
—কই না তো তুই চিন্তা করিস না।আমার বউকে গিয়ে বল নিশ্চিন্তে থাকতে। আমি ওর জন্য ভাবি খুঁজে আনবো খুব তাড়াতাড়ি।
—মানে?
—মানে খুবই ইজি তোর জন্য মেয়ে দেখবো তুই বিয়ে করবি আর আমার বউ ভাবি পাবে।
—এই না আমি এখন বিয়ে করবো না প্লিজ
—এতকথা জানি না আমার বউয়ের আবদার আমি অপূর্ণ রাখতে পারবো না। তুই বিয়ের জন্য রেডি থাক।
এই বলেই আদ্র কল কেটে দিলো। আর এইদিকে বোতা মুখে ফোনের দিকে চেয়ে আছে রৌদ্র।
ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে আদ্র রেডি হয়ে। কলেজে এসেছে শুধু মাএ তার বার্বিডলকে দেখার জন্য। অথচ তার বার্বিডলের আসার খবরই নাই। এইদিকে ক্লাসের সময় হয়ে যাচ্ছে। আদ্র আর না পেরে রৌদ্র নাম্বারে কল লাগালো।প্রথম কলটা বাজতে বাজতে কাটা যায়।আদ্র আবারও কল লাগালো।
এইদিকে ফোন হাতে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে রৌদ্র। বেচারা ভুলেই গেছে আজকে যে ফাহিদ আর ওর পরিবার এই বাড়িতে আসবে।এখন আদ্রকে কী জবাব দিবে ভেবেই পাচ্ছে না।এইদিকে একের পর এক আদ্র কল দিয়েই যাচ্ছে। এবার রৌদ্র রিসিভ করলো।
—আমার বউ কই?এখনো আসছে না কেন?
আদ্রের কথায় রৌদ্র আমতা আমতা করতে করতে বলল
—ইয়ে আদ্র বনু তো আজকে কলেজে জাবে না।
—কলেজে আসবে না মানে কিন্তু কেন?কী হয়েছে আমার বার্বিডলের?
—বনুর কিছু হয়নি। আজকে ফাহিদরা আসবে এজন্য।
ফাহিদ নামটা শুনতেই আদ্রের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।হাত মুষ্টি বদ্ধ করে ফেললো।শক্ত কন্ঠে বলল
—ওই ছেলে আসবে এজন্য তুই আমার বার্বিডলকে বাড়িতে রেখেছিস?
—তুই ভুল বুঝছিস আদ্র।
—আমি ঠিক ভুল জানি না আমি এক্ষুনি আসছি তোদের বাড়িতে।
এই বলে আদ্র কল কেটে দেয়।আর এইদিকে রৌদ্র ভয়ে শেষ আদ্রের যে পরিমান রাগ কী থেকে কী করে ফেলে।
রাইসা বেগমরা দুই জা মিলে রান্না করছে।এর মধ্যে রৌদ্র এসে জানায় আদ্র আসছে।রাইসা বেগম তো এবার খুশিতে বাকি রান্না রেখে আদ্রের জন্য বিভিন্ন নাস্তা বানাতে শুরু করলো।সায়ান খানও আজকে বাড়িতেই আছে।আদ্র আসবে শুনে একটু অস্তিত্ববোধ হচ্ছে কারণ আদ্রের সাথে উনারা যা করেছে।মনে মনে আবার খুশিও ছোট বেলা থেকেই আদ্রকে উনারা অনেক পছন্দ।
খান বাড়ির সামনে গাড়ি থামিয়ে গাড়ি থেকে নামলো আদ্র।কালো ফার্মাল গেটাআপেই আসছে।আদ্র দ্রুত পায়ে হেঁটে বাড়ির ভিতরে গেলো।কলিং বেল চাপতেই দরজা খুলে দিলো রৌদ্র যেন সে আদ্রের অপেক্ষাতেই ছিলো।
—আমার বউ কই?
—আছে তুই আগে অন্তত ভিতরে আয়।
আদ্র ভিতরে গেলো। সোফাতে বসে সায়ান খান পেপার পড়ছিলো।আদ্র উনার সামনে গিয়ে বলল
—কেমন আছেন আংকেল?
সায়ান খান কারো কণ্ঠ পেয়ে পেপার থেকে চোখ তুলে তাকতেই উনি অবাক।রৌদ্রের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো
—এটা কী আমার আদ্র রৌদ্র?
রৌদ্র মাথা নাড়াতেই সায়ান খান উঠে আদ্রকে জড়িয়ে ধরে বলল
— আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুমি কেমন আছো?
আদ্রও হেঁসে বলল
—আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
— মাশাল্লাহ আমার আদ্র তো একবারে দেখতে নায়কের মতো হয়েছে রৌদ্র।
সায়ান খানের কথা আদ্র হাসলো। আর রৌদ্র ভাব নিয়ে বলল
—দেখতে হবে না কার বোনের জামাই।
রৌদ্র কথায় সায়ান খান দ্বিগুণ ভাব নিয়ে বলল
—বোন পরে আগে বল দেখতে হবে না কার মেয়ের জামাই।
সায়ান খানে কথায় আদ্র কিছুটা লজ্জা ফেলো।তিনজন সোফায় বসলো।
—মামুনি কোথায়?
আদ্রের কথা রৌদ্র রাইসা বেগম কে ডাকলো।রাইসা বেগম তো আদ্রকে দেখে মাশাল্লাহ বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে। আদ্র উনাকেও জড়িয়ে দরে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করলো।ফারহানা বেগম মানে রৌদ্র ছোট আম্মুও এসে দেখা করে গেলো।উনার তো আদ্রকে বেশ মনে ধরেছে।দুইজা দেখা করে ছুটলো নাস্তা আনতে।সায়ান খানের কল আসায় এক সাইডে চলে গেলো।এখন এখানে রৌদ্র আর আদ্র ছাড়া কেউ ই নেই।
—আমার বউকে ডাক আর পারছি না অপেক্ষা করতে।
—উম ডং দেখলে বাঁচিনা।
এই বলে রৌদ্র রোদ কে ডাক দিলো।রোদ চুল বাঁধছিলো ভাইয়ের ডাক পেয়ে খোলা চুলেই রুম থেকে দৌড়ে বের হয়ে আসলো। সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে আদ্রকে দেখে।আর এই দিকে আদ্র আগে থেকেই তাকিয়ে ছিলো তবে আজ তার দৃষ্টি রোদের চুলের দিকে একবারে হাঁটু নিচে চুল লম্বা সিল্ক,ঘন কালো চুল। খোলা চুলে রোদকে মারাত্মক লাগছে।তার উপর আদ্র ভাবেও নি তার বার্বিডলের এত লম্বা চুল হবে। সে আসার সময় ছোট ছোট হেয়ার ক্লিপ সহ অনেক কিছু নিয়ে এসেছে।আদ্র হঠাৎই রৌদ্র গায়ের উপর ডলে পড়ে।রৌদ্র ভয় পেয়ে গেলো।সায়ান খানও মাএই এসে সোফায় বসলো।এইদিকে রাইসা বেগমরাও নাস্তা নিয়ে এসে দাঁড়ালেন। রৌদ্র আদ্র আগলে নিয়েছে।রাইসা বেগমরা আর সায়ান খান সবাই রৌদ্র কে ঘিরে ধরে জিজ্ঞেস করছে আদ্রের কী হয়েছে হঠাৎ? এইদিকে রোদও চিন্তিত মুখে চেয়ে আছে।
—রৌদ্র বাবা ডাক্তাকে কল দে আদ্রের কী হয়েছে হঠাৎ।
রাইস বেগমের কথায় সায়ান খান বলল
—ডাক্তার পরে আগে পানি দাও আদ্র অজ্ঞান হয়ে গেছে।
রৌদ্র নিজেও দেখছে আদ্র সেন্সলেস হয়ে গেছে।কিন্তু হঠাৎ এমন সেন্সলেস হয়ে কেন গেলো রৌদ্র বুঝতে পারছে না।
(অনেক বড় পার্ট দিয়েছি ভালো মতো রেসপন্স করো।রেসপন্স না করে গল্প চাইবে না)
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৫
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১০
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৩
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৯