Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৭


কীভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট_১৭

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌]

লম্বা একটা নিরবতা চললে আদ্র মাথা নিচু করে কিছু হয়তো ভাবছে আর রৌদ্র আদ্রের দিকে চেয়ে আছে।হঠাৎ রৌদ্রের ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠে সে শব্দে নিরবতা ভাঙ্গে।রৌদ্র ফোন বের করে নাম দেখে আদ্রের দিকে তাকালো আদ্র আগের মতোই বসে আছে।রৌদ্র ফোন রিসিভ করে কিছু বলতে নিবে তার আগেই অপাশ থেকে রোদের কড়া কন্ঠ ভেসে এলো

—কোথায় তুমি ভাইয়া কয়টা বাজে দেখেছো এখনো আসছো না কেন?

—কিছুক্ষণের মধ্যে আসছি ভাইয়াকে আধা ঘণ্টা সময় দে তার মধ্যেই চলে আসছি।

নরম আর আদুরে মাখা কন্ঠে কথাগুলো বলল রৌদ্র না হলে দেখা গেলো বোন তার গাল ফুলিয়ে বসে থাকবে।ভাইয়ের আদুরে কন্ঠে রোদ তাড়াতাড়ি আসো বলে কল কেটে দেয়।

—কোন জানোয়ার আমার জিনিসে নজর দিয়েছে নাম বল ওর কলিজা কত বড় হয়েছে আমিও মেপে দেখবো!

শক্ত কন্ঠে কথা গুলা বলতে বলতে সোজা হয়ে দাঁড়ালো আদ্র।আর এইদিকে রৌদ্র মাএই মোবাইলটা পকেটে ডাকাচ্ছিলো হঠাৎ আদ্রের এমন কথায় বেচারা ফোন ডুকাতেই ভুলে গেছে ড্যাপড্যাপ করে চেয়ে আছে।তার বিশ্বাস হচ্ছে কথাগুলো আদ্র বলেছে ভ্রু কুঁচকে রৌদ্র বলল

—লে হালুয়া তুই গালিও দিতে পারিস?শালা এতক্ষণ মেয়েদের মতো ন্যাকা কান্না করে আমার কিডনি ব্লক করে দিয়েছিস।তুই শালা আসলেই একটা নাটক বাজ।

আদ্র ভাবলেশহীন জবাব দেয়

—শালা না সমন্দী!তোর আবার কিডনিও আছে?আগে জানতাম না তো আচ্ছা তোর কিডনি কী রঙ্গের?না মানে ব্লক খুলে দিতাম!

আদ্রের কথায় রৌদ্র উওর না দিয়ে আদ্রের কপাল গলা চেক করতে করতে বলল

—ভাই তুই ঠিক আছিস তো?না মানে তোর জ্বর টর আসেনি তো আবার?

আদ্র বিরক্ত হয়ে রৌদ্র হাত সরিয়ে বলল

—সর আমি ঠিক আছি

—হঠাৎ এতো পরিবর্তন এই না কান্না করছিলি?

—সেটা সময় হলেই বুঝবি এখন চল আমার বউটাকে দেখতে ইচ্ছে করছে খুব।

তার পর নিজের দিকে তাকালো শরীরের যে অবস্থা এই অবস্থা আহির সামনে গেলে প্রেমে পড়া তো দূর পাগল ভেবে ভয় পাবে।হাটতে হাটতে রৌদ্রের দিকে চেয়ে বলল

—নাহ্ এই অবস্থায় জাবো না।তুই যা গিয়ে আমার বউটাকে সুন্দর মতো খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিস।ও আবার নিজের হাতে খেতে পারে না।কালকে সুন্দর মতো তাড়াতাড়ি কলেজে পাঠিয়ে দিবি।বউ দেখার অপেক্ষায় থাকবো।

আদ্রের কথা রৌদ্র মুখ বেঁকিয়ে বলল

—উম আসছে আমাকে শিখাতে কীভাবে যত্নে রাখতে হয় আপনার বউটাকে এত বছর ধরে যত্ন করে বড় করলো টা কে শুনি?

—উমম তার বিনিময়ে যা চাইবি তাই দিবো বল কী চাস?

রৌদ্র হেঁসে বলল

—আমার বোনটাকে ভালো রাখিস এইটুকুই চাই।আমি জানি তুই ও’কে কতটা ভালোবাসিস ও তোর কাছে ভালো থাকবে।জীবন সঙ্গী হিসেবে তুই পারফেক্ট একজন।প্রতিটা মেয়ে স্বামী হিসেবে তোর মতো একজন যত্নশীল পুরুষ চায়।তবে সবার ভাগ্যে তা থাকে না আমার বনুটা খুব ভাগ্যবতী তোর মতো একজনের ভালোবাসার মানুষ হতে পেরে।তারপরও ভালো রাখার কথা বলার কারণ হচ্ছে বোনটাকে বড্ড ভালোবাসি রে নিজের থেকেও বেশি ওর খুশির জন্য হাসি মুখে জীবনটাও দিয়ে দিতে পারি।”ও” কষ্ট ফেলে ব্যাথা ওর আগে আমার বুকে লাগে।

আদ্র মুচকি হেঁসে বলল

—আমার বার্বিডলটা সত্যিই ভাগ্যবতী তোর মতো একটা ভাই পেয়েছে।একবার তোর বোনটাকে দলিল করে নিতে দে তার পর দেখবি কেমন যত্ন আর ভালোবাসায় মুড়িয়ে রাখি।

রৌদ্র হেঁসে আদ্রকে জড়িয়ে ধরে বলল

_তোর প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। সব সময় তোর পাশে আছি।


আদ্র শুয়ে আছে মায়ের কোলে আতিয়া নেওয়াজ ছেলের মাথায় হাত ভুলিয়ে দিচ্ছে আর আদ্র চোখ বন্ধ করে আছে।চেহারায় তার প্রশান্তির চাপ স্পট।পাশে বসে ইয়ানা মা”কে আহির কথা সব বলছে আতিয়া নেওয়াজ তা শুনছে।মনে মনে শুকরিয়া আদায় করছে আল্লাহর কাছে।

—জানো আম্মু আমার ছোট্ট পরীটা দেখতে কতটা কিউট হয়েছে মাশাল্লাহ মনে হয় যেন আস্ত একটা পুতুল।

ইয়ানার কথায় আতিয়া নেওয়াজ হেঁসে বলল

—একটা ছবি তুলে আনতি আমিও একটু দেখতাম মেয়েটাকে কতগুলো বছর দেখি না।

ইয়ানা কিছু একটা ভেবে উল্লাসিত কন্ঠে বলল

—ছবি লাগবে না আম্মু তুমি চাইলে সামনাসামনিও দেখতে পারো রৌদ্র ভাইয়া তো ভাইয়ার বন্ধু।ওদেরকে যদি ভাইয়া বাড়িতে আসার দাওয়াত দেয় তাহলেই তো হবে।

—হ্যাঁ এটা তো ভালো কথা রৌদ্র টাকেও কতগুলো বছর দেখি না কেমন হয়েছে দেখতে ছেলেটা!সেদিন তো দেখাও হলো না।

আদ্র এতক্ষণ সব চুপচাপ শুনছিলো এবার চোখ মেলে বলল

—না এখন বাড়িতে আনা জাবে না ও’কে আমি চাইনা আহিকে পাওয়া গেছে এটা বাড়ির সবাই জানুক।আগে ওর স্মৃতি আনতে হবে এখানে আসলে সবাই ও’কে ঘিরে ধরবে কান্না কাটি করবে এতে ও অস্থির হয়ে মাথায় চাপ ফেলবে।

ইয়ানা আর আতিয়া নেওয়াজ ও বিষয় টা ভেবে দেখলো।আদ্র মায়ের রুম থেকে চলে আসলো।
তবে আদ্রের মনে চললে অন্য কিছু সে রৌদ্রকে মেসেজ দিয়ে বলে কালকে বিকালে দেখা করতে জরুরি কথা আছে।রৌদ্র মেসেজ সিন করে সাথে সাথে কল দেয়। আদ্র রিসিভ করার সাথে সাথে ওপাশ থেকে রৌদ্রের কন্ঠ ভেসে আসে

—কিরে কিশের জরুরি কথা আবার কিছু হয়েছে নাকি?

__কালকে আসলেই জানতে পারবি। এখন বল আমার বউটা কী করে?

—তোর বউ এতক্ষণ আমাকে নাচিয়ে এখন শান্তিতে ঘুমাচ্ছে।

আদ্র ঠাট্টার স্বরে বলল

—এটা তো ভালো কথা! তা কী গানে নাচিয়ে তোকে?

—তুই মজা নিচ্ছিস?তোর জন্য দেরি করে বাড়িতে আসায় রেগে বোম হয়ে বসে ছিলো কেন এত দেরি করছি। কোথায় ছিলাম।আরও কত কী আর আমাকে এতো এতো মিথ্যা বলে রাগ ভাঙ্গাতে হয়েছে।তার পরও তার আবদার তাকে ভাবি এনে দিতে হবে এখন কী করবো না পারতে বলেছি এনে দিবো।কিন্তু এখন কথা হচ্ছে ভাবি তো গাছে ধরে না। কী করবো বল।

__আমি কী বলবো তুই কী করবি তুই জানিস তবে আমার বউয়ের আবদার যেন অপূর্ণ না থাকে।যদি থাকে তাহলে তোর খবর আছে।

এই বলে আদ্র কল কেটে দেয়।কল কেটে হাসতে থাকে সে অন্য দিকে রৌদ্র বোতা মুখ করে মোবাইলের স্কিনের দিকে চেয়ে আছে।

(বেশি বেশি শেয়ার করো রেসপন্স করো নেক্সট পার্ট তাহলে তাড়াতাড়ি দিবো)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply