কীভয়ংকরমায়া_তোর
পার্ট_১৫
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌🚫)
১৫ বছর আগে
দিনটি ছিলো সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা রৌদ্র তার নানার বাড়ি থেকে ফিরছিলো।ডাইভার গাড়ি চালাচ্ছে পিছনে রৌদ্র বসা হঠাৎ গাড়ি ব্রেক কষে থেমে গেলো প্রচন্ড গরম এই গরমে অতিষ্ঠ রৌদ্র কখন বাড়ি যাবে তা নিয়ে চিন্তা করছে ঢাকা শহরে একের পর এক জ্যাম তো আছেই হঠাৎ গাড়ি থামায় রৌদ্রের বিরক্তির মাএা বাড়ে বিরক্তি হয়ে ডাইভার কে জিজ্ঞেস করলো
—গাড়ি থামিয়েছেন কেন আংকেল?
—সামনে তাকিয়ে দেখো অনেক ভীর দেখা যাচ্ছে মনে হয় কিছু হয়েছে!
রৌদ্র এতক্ষণ মোবাইল ডুবে থাকায় খেয়াল করেনি।সামনে তাকিয়ে দেখলো আসলেই অনেক ভীড়।রৌদ্র বের হলো সাথে ডাইভার।ভীড় ঠেলে ভিতরে ডুকতেই রৌদ্র চমকে যায় একটা ৩_৪ বছরের পুতুলের মতো দেখতে বাচ্চা মেয়ে পড়ে আছে রাস্তায় মাথা থেকে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।কী নিষ্পাপ কী মায়াবী চেহারা তার। যেন এক জীবন্ত পুতুল।রৌদ্র একটা লোককে জিজ্ঞেস করলো
—এই পুতুলের মতো মেয়েটা এখানে কেন কী হয়েছে ওর?
—একটা গাড়ি থেকে বাচ্চাকে রক্তাক্ত অবস্থায় এখানে ফেলে দাওয়া হয়েছে আমরা দূর থেকে দেখেছি কিন্তু গাড়ির ভিতরে থাকা লোক গুলাকে দেখিনি।
লোকটার কথায় রৌদ্র বাচ্চার দিকে তাকালো ঠোঁট নড়ছে মনে হচ্ছে কিছু বলছে।রৌদ্র বাচ্চা মেয়েটার মাথার কাছে বসে কানটা এগিয়ে শুনতে চেষ্টা করলো মেয়েটা কী বলছে।
—ভাইয়া বেতা পাতচি
ভাইয়া ডাকটা কানে আসতেই রৌদ্রের পৃথিবী কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে যায়।ওর মনে হচ্ছে ওকেই বলেছে।রৌদ্র কানে শুধু বাজতে লাগলো আধো আধো কন্ঠের ডাকটা কী মিষ্টি ডাক এই ডাক রৌদ্রের কলিজা কাঁপিয়ে দিলো শরীর বেয়ে ঠান্ডা হওয়া বয়ে গেলো।হঠাৎ রৌদ্রের কি হলো কে জানে সে ঝুকে আস্তে করে বলল
—বনু ব্যথা পেয়েছিস কষ্ট হচ্ছে তোর ভাইয়াকে বল!
রৌদ্রের কথাটা কেউ শুনতে না ফেলেও বাচ্চাটার কানে গেছে সাথে সাথে ব্যথাতুর কন্ঠের বানী রৌদ্রের কানে এলো
—হুম কত্ত হত্তে অনেক
সাথে সাথে রৌদ্র বাচ্চা মেয়েটাকে কোলে তুলে নিলো।কারো দিকে না তাকিয়ে গাড়ির দিকে যেতে ডাইভারের উদ্দেশ্য বলল
—আংকেল তাড়াতাড়ি গাড়ি স্টার্ট দেন ওর কষ্ট হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব ওকে হসপিটালে নিতে হবে।
পিছনের সিটে বসা রৌদ্র তার কোলে বাচ্চা মেয়েটি বাচ্চাটার মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে অনেক রৌদ্র নিজের গায়ের শার্ট খুলে বাচ্চাটার মাথায় বেঁধে দিলো।তাতেও লাভ হচ্ছে না রৌদ্রের গায়ে থাকা সাদা টি-শার্টও লাল হয়ে গেছে।রৌদ্রের ভয় লাগছে হঠাৎ সে বাচ্চা মেয়েটার কানে ফিসফিস করে বলে উঠলো
—এই পিচ্চি একদম আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাববি না।তোর কিছু হতে দিবো না আমি!জানিস তোর মতো করে আমাকে কেউ এত মায়া নিয়ে ভাইয়া ডাকে নি আমার না বোন নেই তুই হবি আমার বোন?
বাচ্চা মেয়েটার কোনো সাড়াশব্দ নেই সে নিশ্চুপ হয়ে পড়ে আছে রৌদ্রের বুকে।তার নিশ্চুপতা রৌদ্রের পছন্দ হয়নি একটুও।তবে কী এই পিচ্চি তার বোন হবে না?কথাটা ভাবতে ভাবতে হসপিটালে চলে আসে।ডাক্তার দেখার পর জানায় ইমারজেন্সি রক্ত লাগবে অপারেশন করাতে হবে কিন্তু রক্ত খুঁজতে হয়নি ভাগ্যক্রমে রৌদ্রের রক্তের গ্রুপ মিলে যায়।সবে ১৫ বছরের পা রাখা রৌদ্র জেদ ধরে সে রক্ত দিবে কিন্তু ডাক্তারেরা এতে রাজি হয়নি বাচ্চা একটা ছেলে কিসের আবার রক্ত দিবে?কিন্তু রৌদ্র এই কথা মানতে নারাজ সে রক্ত দিবেই দিবে ১৫ বছরের ছেলেও রক্ত দিতে পারে তবে কিছু শর্ত আছে
- ওজন কমপক্ষে ৪৫ কেজি হতে হবে
- হিমোগ্লোবিন লাভ কমপক্ষে ১২.৫ গ্রাম/ডিএল হতে হবে
- স্বাস্থ্য ভালো থাকতে হবে
আর বয়সের তুলনায় রৌদ্রের স্বাস্থ্য অনেক ভালো ছিলো।৪৯কেজি লম্বা ছড়া কেউই বিশ্বাস করবে না ১৫ বছরের ছেলে এমন । সব শেষে ডাক্তাররা রৌদ্রের থেকে রক্ত নেয় রক্ত দিতে গিয়ে রৌদ্র নিষ্পলক চোখে শুধু বাচ্চা মেয়ে টার দিকেই চেয়ে ছিলো পুরোটা সময়।ডাক্তাররা এমনি এমনি অপারেশন করায়নি বাচ্চাটার পরিবার খুঁজেছে তার বাড়ির লোক ছাড়া কিছুই করবে না বলে দিয়েছে।রৌদ্র বলেছে ওর বোন কিন্তু ডাক্তারেরা শুনেনি উপায় না পেয়ে রৌদ্র তার বাবা সায়ান খানকে ফোন করে জানায় উনি এসে নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দেয় তবেই ডাক্তাররা চিকিৎসা করায়।
অপারেশন শেষে ডাক্তার জানায়া মাথায় আঘাত খাওয়ার কারণে বাচ্চাটা হয়তো কাউকে চিনতে পারবে না তবে নিয়মিত ঔষধ খাওয়ালে ৬মাস কিংবা ১ বছরের মধ্যে সবাইকে আবার চিনতে পারবে।
হসপিটাল থেকে বাচ্চা টাকে নিয়ে খান বাড়িতে আসে রৌদ্র সবার খুশির শেষ নেই রাইসা বেগম তো খুশিতে কান্না করে দিছে একটা মেয়ের জন্য কত টাকা উড়িয়েছে হিসেব নেই। সায়ান খান আর রৌদ্রের উদ্দেশ্য ছিলো বাচ্চাটার পরিবার খোঁজ করলে উনাদের হাতে তুলে দিবে ততদিন পর্যন্ত এ বাড়িতে থাকবে।রৌদ্র বাচ্চাটার নাম নিজের সাথে মিলিয়ে রোদ রাখে রোদও এই বাড়ির সবাইকে আপন করে নেয় রোদের জ্ঞান আসার পর কাউকে চিনতে পারছে না দেখে রৌদ্র শিখিয়ে দেয় কাকে কী বলে ডাকবে রোদ এখানে এসে কী যে খুশি সাইফাকে পেয়ে সমবয়সী খেলার সাথী।সেই সাথে রৌদ্র আর সাইফ তোর আছেই ওদের খেলায় সঙ্গ দাওয়ার জন্য। এই পুতুলের মতো বাচ্চাকে পেয়ে খান বাড়িতে খুশির শেষ নেই।রোদকে বাড়িতে আনার পর রৌদ্র নিজ সব করেছে একবারে নিজের বোনের মতো সারাক্ষণ কোলে নিয়ে নিয়ে ঘুরতো,খাইয়ে দিতো বাইরে থেকে আসার সময় রোদের জন্য চিপস্,চকলেট নিয়ে আসতো।রোদের সামান্য ব্যথায় রোদের আগে রৌদ্র কেদেঁ কেটে অস্থির হয়ে যেতো। এভাবে তিন মাস কেটে যায় রৌদ্রের লোভ লেগে যায় সারাক্ষণ ভয়ে থাকে এই বুঝি তার বনুটাকে কেউ এসে তার থেকে আলাদা করে নিলো।সে ভয়ে রৌদ্র রোদকে বাড়ি থেকে বের হতে দিতো না।এমনকী রোদের সবকিছু মনে পড়লে ও’কে ছেড়ে পরিবারের কাছে যেতে চাইবে এই ভয়ে রৌদ্র রোদকে আর ঔষধ খাওয়াতো না সব ঔষধ ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসে।রোদকে নিয়ে গ্রামে চলে যায় সায়ান খান রাইসা বেগম আর রৌদ্র।সেখানকার স্কুলে রোদকে ক্লাস 5 পর্যন্ত পড়িয়ে আবার ঢাকা শহরে নিয়ে আসে তবে রৌদ্র সব সময় রোদকে আড়ালে রাখে রোদও সব সময় ভাইয়ের কথা মত চলে।রোদ হয়ে উঠে পুরো খান বাড়ির প্রাণ বিশেষ করে #রাদিফখানরৌদ্রের প্রাণ ভোমরা।রোদের চোখের রৌদ্র হচ্ছে বেস্ট ভাই।তার ভাইয়ের মত ভাই নাকি আর নেই এই কথ সবাইকে বলিয়ে বেড়ায়।
রৌদ্রের একটাই জেদ রোদের শরীরে তার রক্ত আছে তাঁরা একি রক্তের রোদ তার নিজের বোন।আর এই বোনের জন্য রৌদ্র নিজের জীবনটাও বিনা বাক্য দিয়ে দিতে পারে।
এভাবে কেটে যায় এতো গুলো বছর কিন্তু হঠাৎ করে এত বছর পর পুরো শহরে রোদের ছোট বেলার ছবি সহ মিসিং পোস্টার দেখে রৌদ্র আর সায়ান খান রাতারাতি সব সরিয়ে ফেলে। প্রয়োজনে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্বার্থ্যপর বাবা আর ভাই রৌদ্র আর সায়ান খান হবে তবুও রোদকে হারাতে দিবে না।
বর্তমান
(তোমাদের বিবেকে কী বলে রৌদ্র কী আসলেই শ্রেষ্ঠ ভাই?সে কী কাজটা ভালো করেছে নাকী খারাপ তোমরা বলো)
“তোমাদের একটা স্টারই আমাকে পরের গল্প বানাতে অনুপ্রাণিত করে ⭐”)
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর গল্পের লিংক
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৯
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৬