Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১১


কীভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট_১১

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌🚫]

রাত ১০:২৫মিনিট রৌদ্র চোরের মতো বাড়িতে ডুকছে। ডুবলি কেট চাবি দ্বারা দরজা খুলেছে।দুহাত ভর্তি অনেকগুলা ব্যাগ।চোরের মতো ডুকার কারণ হচ্ছে তার বোন।সে জানে তার বোন অভিমান করে বসে আছে।দুপুরে মলের জামেলার জন্য দেরি হয়ে গিয়েছিলো তাই ওদের নিতে যেতে পারেনি তার পর একটু দূরে একটা মিটিং থাকায় সেখানে গিয়েছিলো সেখান থেকে আসতে এতোটা দেরি হয়েছে।দুপুরে বাড়িতে ফোন করে খবর নিয়েছে রোদ আর সাইফা বাড়িতে এসেছে কিনা।রাইসা বেগম জানায় এসেছে তবে তার বোন রেগেমেগে ফায়ার হয়ে আছে দুপুরে খাবারও খায় নায় রুমে ঘেউ ধরে বসে আছে।একে একে সবাই ডেকেছে সাইফ আর সাইফাও অনেক চেষ্টা করছে তাতেও কোনো লাভ হয়নি।রৌদ্রেরও গলা দিয়ে খাবার নামবে না সে জানে আদরের বোন না খেয়ে আছে এটা জেনেও তার গলা দিয়ে কী আদৌ খাবার নামতো?উহুম কখনোও নামবে না এতো বছরেও নামেনি আজ কীভাবে নামতো?তাই সেও আর খায়নি।

ছোট বেলা থেকেই রোদ অল্পতেই অভিমান করে বসে থাকে রাগ বেশি তবে সে রাগ অভিমান সব নিজের মানুষগুলার সাথেই করে। বেশিরভাগই বাবা আর ভাইয়ের সাথে।ছোট বেলা থেকেই রোদের সামান্য একটু জ্বর হলেও নিতিয়ে জেতো মেয়েটা খুবই নাজুক স্বভাবের আর রৌদ্র সে তো বোনের আশেপাশেও কাউকে আসতে দিতো না।নিজেই সেবা যত্ন করে সুস্থ করে তুলতো।সে বার রোদের ভীষণ জ্বর উঠে জ্বরের কারণে বমি উপর বমি করে দূর্ভল হয়ে আর চোখ মেলেছে না কথাও বলতে পারছে না।বোনের অবস্থা দেখে ২৪ বছরের রৌদ্র বোনকে জড়িয়ে ধরে সে কী কান্না পাগলামি।সেদিন বাড়ির সবাই দেখেছে বাইরে শক্তপোক্ত থাকা ছেলেটাকে এভাবে ভেঙ্গে পড়তে।

চুপিচুপি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে রৌদ্র।নিজের রুমে যাওয়ার আগে বোনের রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো
দরজা বেড়ানো সামান্য পাক আছে।রৌদ্র সেই পাক দিয়ে উঁকি দিলো দেখলো রোদ বিচানায় মন খারাপ করে বসে আছে আর বার বার দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখছে।বোনের এসব দেখে রৌদ্রের ঠোঁটে মুচকি হাসি দেখা গেলো সে ভালো করেই জানে তার বোন তার অপেক্ষায় বসে আছে।রৌদ্র শব্দহীন ভাবে রুমে ডুকে রোদের মাথার পিছনে টোকা দিলো।টোকা দাওয়ার পরও রোদ পিছনে তাকালো না উল্টো মুখ ফুলিয়ে বসে থাকলো।হঠাৎ রোদের মাথার উপর থেকে একের পর এক বিভিন্ন চকলেট পড়ছে। সহসাই রোদের মুখে হাসি ফুটে উঠে।রৌদ্র চকলেট ফেলতে ফেলতে বোনের দিকে তাকালো বোনের হাসি দেখে সেও হাসলো।

—আমার বনুটা কী এখনো ভাইয়ের উপর রাগ করে আছে?

রৌদ্রের কথায় রোদ মিচেমিচি রাগ দেখিয়ে গাল ফুলিয়ে বলল

—আমি কারো বনু না আর আমার কোনো ভাইও নেই থাকলে আমাকে ভুলে যেতে পারতো না

রৌদ্র বোনের সামনে বসে বোনকে জড়িয়ে ধরে আদুরে কন্ঠে বলল

—আমি কে তাহলে?আর তুই করো বনু না তুই তো আমার পৃথিবী আমার প্রাণ আমি কী আমার প্রাণকে ভুলতে পারি?
আমার সবটা জুড়েই তো তোর অবস্থান আমার একমাএ বনু পাখি।ভাইয়া সত্যি কাজে আটকে গেছিলাম।সারাদিন অনেক ব্যস্ত ছিলাম। প্রমিস করছি আর এমন হবে না সরি এবারের মত মাপ করে দে ভাইয়াকে প্লিজ।

ভাইয়ের আদরে রোদ ভাইকে জড়িয়ে ধরে আহ্লাদী হয়ে বলল

—বুঝেছি আর যেন এমন না হয় যাও মাপ করে দিলাম।আমি জানি না খেয়ে আছো যাও ফ্রেশ হয়ে আসো একসাথে খাবো।

রৌদ্র মুচকি হেঁসে বোনের মাথায় চুমু দিয়ে বলল

—ওকে মহারানী আমি ৫ মিনিটে আসছি ভীষণ খুদা লেগেছে পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে।

তার পর খাটের উপর রাখা সব ব্যাগ বোনের হাতে দিলো।ইশারা দিয়ে বুঝালো খুলে দেখতে।রোদ যত খুলছে তত অবাক হচ্ছে সব গুলা ব্যাগ খুলে রোদের মাথায় হাত ৫০ রকমের ৫০ বক্স চকলেট।রোদ অবাক কন্ঠে বলল

—এগুলা কী ভাইয়া?এতগুলা চকলেট কার জন্য?

—কার আবার আমার বনুর জন্য আমার বনু রাগ করেছে ভাই হয়ে আমার তো এটা কর্তব্য তার রাগ ভাঙ্গানো।

—তাই বলে এতোগুলো?

বোনের কথায় রৌদ্র মুচকি হেঁসে বলল

—এটা তো সামান্য , ১০ টা না ৫টা না একটা মাএ বোন আমার তার জন্য সব করতে পারি আমি

রোদের চোখে পানি টলমল করে সে ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠে।বোনকে ফুঁপাতে দেখে রৌদ্র ব্যস্ত হয়ে বলে

—কি হয়েছে বনু কাঁদছিস কেন?কেউ কিছু বলেছে?কোথাও ব্যথা পেয়েছিস?বল না ভাইকে

রোদ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁন্নারত কন্ঠে বলল

—আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ভাইয়া

কথাটা কানে যাওয়া মাএই রৌদ্রদের মনটা প্রশান্তিতে ভয়ে উঠে ঠোঁটেও হাসি ফুটে উঠে।রোদের চোখ মুছে দিয়ে বলল

—ভাইয়াও তোকে অনেক ভালোবাসি

—হুম হয়েছে হয়েছে এবার দুজন খেতে আয় সারাদিন দুই ভাই বোন না খেয়ে আছিস তোদের নিয়ে আর পারিনা দুইটাই আমাকে জ্বালিয়ে মারিস

মায়ের কন্ঠ পেয়ে দুই-ভাই বোন পিছন ফিরে তাকালো রাইসা বেগম ঘরে আসতে আসতে কথাটা বলেছে।এতক্ষণ দুই ভাই বোনের দুষ্ট মিষ্টি মুহূর্ত গুলো দরজার আড়াল থেকে দেখেছে।মনে মনে ওদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করল।যেন সারাজীবন এভাবে থাকে ওরা।


রাত বাজে ১ টা আদ্র নিজের রুমের কর্বাডটা ঘুছিয়ে রাখছে এটাতে সব আদ্রের বিদেশ যাওয়ার আগের জিনিসপএ জামা কাপড়।এতো এতো ব্যস্ততায় আসার পর এটা খুলে দেখা হয়নি তাই ভাবলো দরকারী জিনিসগুলা রেখে বাকি গুলা ফেলে দিবে যেভাবা সেই কাজ সব বের করতে শুরু করলো কর্বাড থেকে।হঠাৎ একটা কাগজ নিচে আদ্রের পায়ের সামনে এসে পড়ে আদ্র ভ্রু কুচকে চেয়ে থেকে সেটা হাতে নিয়ে খুলতেই তার ভ্রু শীতল হয়ে যায়।ছোট ছোট কাঁচা হাতে দুইটা পুতুল আঁকা বড় টাতে লেখা এটা আমার আদ্র ভাই আর পাশের পিচ্চি টাতে লেখা এটা আমি ছোট ফুল।কাগজ টা দেখে আদ্রের মুখে হাসি ফুটে উঠে।এটা যে তার বার্বিডলের কাজ এটা বুঝতে বাকি নেই।মেয়েটা সে চলে যাওয়ার পর তাকে এতোটা মিস করবে ভাবতে পারেনি।আচ্ছা মেয়েটার কী এখন তার কথা মনে পড়ে?এখনো মিস করে তার আদ্র ভাইকে?নাকি ভুলে গেছে?তাকে কী মেয়েটা একটুও ভালোবাসেনি?অবশ্যই বাসেনি যদি বাসতো এভাবে হারিয়ে যেতো না তাকে একা করে।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাগজটা আদ্র সুন্দর করে গুছিয়ে রেখে দেয়।আদ্রের আবার চোখ যায় কর্বাডে একজোড়া ছোট নুপুর পড়ে আছে।আদ্র সেটা হাতে নিলো।এই নুপুর চিনতে সে কখনো ভুল করতে পারে না।এগুলো তার বার্বিডলের সে নিজে টাকা জমিয়ে কিনে এনে দিয়েছিলো তার ছোট্ট পুতুল টাকে। স্কুল থেকে এসে আদ্র আহিকে পেতো না মেয়েটা এতো দুষ্ট ছিলো যে সারাবাড়ি দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াতো।আহিকে স্কুল থেকে এসে না দেখলে আদ্রের রাগ লাগতো তাই সে নুপুর জোড়া এনে আহির পায়ে পড়িয়ে দিয়ে বলেছিলো এগুলা যেন না খুলে ছোট আহিও মাথা নেড়ে শায় জানায়।তার পর আদ্রের আহিকে খুঁজতে অসুবিধা হয়নি।আহি দৌড়াতো আর সেই দৌড়ানির ঝুমুরঝুমুর আওয়াজ অনুসরণ করে সে খুজে নিতো।কিন্তু মেয়েটার অভিমান যে এতো বেশি হবে সেটা আদ্র কখনো ভাবতেও পারেনি।নুপুর গুলা পর্যন্ত রেখে চলে গেলো?

(মানুষের সুবিধা অসুবিধা সবার জীবনে আছে একটা গল্প পড়া যতটা সহজ লেখা ঠিক ততটাই কঠিন যারা লেখে তারাই জানে। যাদের অপেক্ষা করতে সমস্যা হয় তারা প্লিজ আমার গল্প পড়িও না আমি পড়তে জোর করছি না। আমি বিবাহিত তোমরা অনেকে হয়তো বিশ্বাস করবে না ভাববে ১৬ বছর বয়সে কীভাবে বিয়ে হয়তো মিথ্যা।তাদের বলছি বিয়ে পবিএ বন্ধন এটা নিয়ে মিথ্যা বলে লাভ নেই।বিবাহিত জীবনে অনেক সমস্যা থাকতে পারে সব সময় মন মানসিকতা এক থাকে না এটা যারা বিবাহিত তারা জানে।যাই হোক কেমন হয়েছে জানিও রেসপন্স করো)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply