Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১০


কীভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট_১০

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌]

পরপর তিনটা ক্লাস শেষে এবার ইংরেজি ক্লাস মানে এখন আদ্রের ক্লাস।পুরো ক্লাসে যেন পার্লার বসেছে। কেউ লিপস্টিক দিচ্ছে তো কেউ আয়নায় নিজেকে দেখে ঠিকঠাক করছে কেউ বা আবার আটা ময়দা মাখতে ব্যাস্ত।আটা ময়দা এটা রোদের ভাষায় মেকাপ কে বলে।
[এটা আসলে তোমাদের লেখিকা আপার ভাষায় বলে আমি মেকাপ পছন্দ করি না এমন কী মেয়ে হয়েও মেকাপের নাম জানি না তাই আটা ময়দা বলছি কেউ কিছু মনে করিও না🙂]

মেয়ে গুলার এসব দেখে রোদের হাসি পায় এমনি কী সে মুখ টিপে টিপে হাসছেও।রোদকে এভাবে হাসতে দেখে শ্রেয়া জিজ্ঞেস করলো

—পাগলের মতো হাসছিস কেন?

—হাসছি তার কারণ হচ্ছে মেয়ে গুলার অবস্থা দেখেছিস যেন পার্লার খুলে বসেছে।যার জন্য এতো আয়োজন সে তো ফিরেও চায় না নিজের মত বকবক করে তার পর চলে যায়।

রোদের কথায় এবার শ্রেয়াসহ বাকিরাও হেঁসে উঠলো।ওদের হাসিঠাট্টার মধ্যেই আদ্র ক্লাসে ডুকলো। সবাই সালাম দিলো আদ্র কারো দিকে না তাকিয়েই সালাম নিয়ে সবাইকে বসতে বলে।তারপর নিজের মতো করে লেকচার দিতে শুরু করে।লেকচার দিতে দিতে এক পর্যায় সামনে তাকাতেই রোদের সাথে চোখাচোখি হয়।রোদ আগে থেকেই আদ্রকে দেখছিলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মেয়েরা এমন পাগল এই ছেলের জন্য কী আছে সেও দেখছিলো তবে আদ্র যে হঠাৎ তাকাবে সেটা বুঝতে পারেনি।আর এইদিকে আদ্রের হার্টবিট ফাস্ট চলতে শুরু করে দিয়েছে এমনটা আদ্রের তখনি হতো যখন সে তার বার্বিডলের কাছে থাকতো বা তার চোখের দিকে তাকাতো।কিন্তু আদ্র একটা জিনিস বুঝে পায় না এ মেয়ের চোখের দিকে তাকালেও তার এমন হয় কেন?

🌸

রৌদ্র ফোনে কথা বলতে বলতে শপিংমলের ভিতর ডুকছে।এমন সময় পিছন থেকে কেউ একজন তার উপর এসে ধাক্কা খায় এতে করে রৌদ্র পড়তে পড়তে মলের গ্লাসের দরজাটা ধরে নিজেকে বাঁচায় তবে ফোনটাকে পড়া থেকে বাঁচাতে পারলো না।ফোনটা কিছুটা দূুরে ছিটকে গিয়ে পড়ে।

—সরি সরি আমি আসলে ইচ্ছে করে আপনার উপর ধাক্কা খেয়ে পড়িনি

পিছন থেকে মেয়েলি মিষ্টি কন্ঠের বাক্য টা শুনে রৌদ্র পিছন ফিরে তাকায়।কলেজ বা ভার্সিটির ড্রেস পড়ুয়া একটা মেয়ে যে এই মুহুর্তে অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে
রৌদ্র মেয়েটাকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে গম্ভীর কন্ঠে বলল

—আমার তো মনে হয় ইচ্ছে করে দিয়েছো

—না না সত্যি আমি ইচ্ছে ক”বলতে বলতে ইয়ানা মাথা তুলে সামনে দাড়িয়ে থাকা সুদর্শন পুরুষের দিকে তাকাতেই কথা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়।আর এই দিকে রৌদ্র ইয়ানাকে এভাবে হেবলার তাকিয়ে থাকতে দেখে বিরক্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল

—থেমে গেলে কেন?আর এভাবে কী দেখছো?জীবনে ছেলে দেখো নাই নাকি?

ইয়ানা থতমত খেয়ে যায় একটু অপমানবোধও করল।একটু চেয়ে এতো থেকেছে এতে কী এমন হয়ে গেলো যে এভাবে বলতে হবে?ছেলেরা তো মেয়ে দেখলে গায়ে পড়ে পড়ে কথা বলে আর এই লোক তো দেখি বিরক্ত হচ্ছে।সে কী ইচ্ছে করে এসে এই লোকের উপর পড়েছে?কিশের সাথে জানি উষ্ঠা খেয়ে এতো পড়েছে।

—সত্যি আমি ইচ্ছে করে এসে পড়িনি কিশের সাথে জানি উষ্ঠা খেয়েছি তাই ভুলবশত আপনার উপর এসে পড়েছি।

—পড়ার জন্য আর মানুষ পাওনি আমার উপরই এসে পড়তে হবে তোমাকে?

রৌদ্রের কথায় ইয়ানার এবার বিরক্ত লাগা শুরু করলো সে তো ইচ্ছে করে পড়েনি বলেছে ভুলে হয়ে গেছে।আর তার গায়ে কী ময়লা আবর্জনা লেগে আছে?এই লোক এমন করছে কেন?মাথা নিচু করে মিনমিন স্বরে বলল

—আপনি সামনে ছিলেন তো এজন্য আপনার উপরই

রৌদ্র শুধু বিরক্ত স্বরে বলল: ডিজগাস্টিং
এই বলে সে সামনে হেঁটে গিয়ে মোবাইল টা তুলে নিলো।মোবাইলে গ্লাসের অবস্থা খুবই খারাপ ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো হয়ে গেছে। ইয়ানার খারাপ লাগলো সে কিছু বলতে নিবে তার আগেই রৌদ্র বড় বড় পা ফেলে সেখান থেকে চলে যায়।


প্রায় ৪০ মিনিটের উপরে রোদ আর সাইফা কলেজের গেটের সামনে দাড়িয়ে রৌদ্রের জন্য অপেক্ষা করছে কিন্তু রৌদ্রের আসার নামগন্ধও নেই বিরক্ত হয়ে রোদ একটা রিকশা ডেকে উঠে গেলো সাইফাও চুপচাপ উঠে বসলো তার নিজেরও বিরক্ত লাগছে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে। এই দিকে রোদ রাগে গজগজ করছে বাড়িতে তার মা তো ভাববে সে ইচ্ছে করে দেরি করছে আসলে যে তার গুনোধর ছেলেই আসতে লেট করছে সেটা দেখবে না সব দোষ তার উপরই পড়বে। এরই মধ্যে এসে পড়লো আরেক ঝামেলা জ্যাম।রোদের বিরক্তি আরো বাড়লো। বিরক্তি নিয়ে চুপচাপ বসে থাকলো ১০ মিনিট যাওয়ার পরও যখন একটু লড়চড় হচ্ছে না। রাগে হিতি জ্ঞান হারিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলো

—এই মামা ঠেলেঠুলে তাড়াতাড়ি যান।আবার ভাববেন না বাড়িতে আমার জামাই আছে।বাড়িতে আমার হিটলার মা খুন্তি হাতে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে তাড়াতাড়ি চলুন।

আশেপাশে জ্যামে আটকে থাকা সবাই রোদের দিকে তাকিয়ে আছে।পাশ থেকে সাইফা চিমটি দিলো রোদের হাতে রোদ বিরক্ত নিয়ে কিছু বলতে জাবে তার আগে দেখে আশপাশের মানুষ জন কেমন করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।এবার রোদের হুঁশ আসে সাথে বুঝেও গেছে তার কথাটা সবাই শুনে নিয়েছে সে একটু লজ্জা ফেলো এতে।
এই দিকে রোদের অবস্থা দেখে সাইফা আর রিকশা ওয়ালা মামা মুখ টিপে হাসছে


নিজের রুমে বসে একমনে ল্যাপটপে কাজ করছে আদ্র টানা ৫ ঘন্টা এক জায়গায় বসে কাজ করে চলছে।আগামীকাল আদ্রে নিজস্ব অফিস আহিরা ইন্ডাস্ট্রি উদ্বোধন হবে।বেশ বড় করেই হবে। নতুন কোম্পানি অনেক কাজ সামলাতে হিমশিম খেলেও আদ্র বেশ ঠান্ডা মাথায় সব সামলে নিচ্ছে। আদ্র নিজের কোম্পানি তার ছোট্ট ফুলটার নাম দিয়েই খুলেছে।এতে অনেকে খুশি হয়েছে আবার অনেকে হয়নি এতে আদ্রের কোনো মাথা ব্যাথা নেই।আরো কিছুক্ষণ কাজ করে ল্যাপটপের শাটার বন্ধ করে বড় করে একটা নিশ্বাস ফেললো।শত কাজে ব্যস্ত থাকলেও আদ্র তার বার্বিডলের কথা ভাবতে ভুলে না।দেওয়ালে ঝুলানো ছোট্ট আহির ছবিটার দিকে চেয়ে বলে উঠলো

—আমার অভিমানী পাখির অভিমান এতোটাই তীব্র যে আমার অসীম ভালোবাসাও সেই অভিমানের কাছে হেরে গেলো।সে অভিমান করে হারিয়ে গেলো আমার কথাটা একবারও ভাবলো না।

কথাটা বলা শেষে আদ্রের চোখ টলমল করে উঠে কন্ঠ ধরে আসে হঠাৎ সে ধরে আশা কন্ঠে গেয়ে উঠলো—

“আমার আগুনেরই ছাই জমে জমে
কতো পাহাড় হয়ে যায়
আমার ফাগুনেরা দিন গুনে গুনে
আর উধাও হয়ে যায়
যত পথের বাঁধা
সবই তো কালো সাদা
কবে ঠিকানা পেয়ে হবে রঙিন”’

(রেসপন্স না করে গল্প চেয়ে লজ্জা দিবে না প্লিজ আমার কষ্টের ফল না দিলে আমি কীভাবে গল্প দিবো বল? তোমরা নিজেরাই একটা কথা ভাবো গল্প লিখতে কী কষ্ট হয় না?প্রতিটা লেখিকারই ইমোশন হচ্ছে নিজের লেখা গল্পটা সে তো তার পাঠিকাদের থেকে ভালো রেসপন্স আর একটু ভালো মন্দের মন্তব্য শুনতে চায়)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply