Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৮


কীভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট_১৮

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌🚫]

রোদ কলেজ গেট দিয়ে ডুকছে অন্যমনস্ক হয়ে। গভীর ভাবনায় ডুবে আছে সে।তার সকল ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে আদ্র কালকে থেকে এই লোককে চাইলেও রোদ মাথা থেকে বের করতে পারছে না।এতোদিন পর্যন্ত প্রতিরাতে যে মানুষ কে নিয়ে কল্পনা না করলে রোদের ঘুমই আসতো না।আর কালকে সারারাত কিনা তাকে নিয়ে কল্পনা করতে গেলেই আদ্রের মুখ ভেসে উঠে। বারবার আদ্রের করা পাগলামি গুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।হাত আপনাআপনি আদ্রের চুমু দাওয়া স্থানে চলে যাচ্ছে। এসব কী হচ্ছে সে বুঝতেই পারছে না।তার উপর আজকে সাইফা আসেনি রৌদ্র আজকে তাড়াতাড়িই রোদকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে গেছে।এসব ভাবতে ভাবতে রোদ হেঁটে ক্লাসের দিকে যাচ্ছিলো।হঠাৎ ওর হাতে টান পড়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই কেউ তাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে।ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়।কোমড়ে বলিষ্ঠ হাতের বাঁধন অনুভব করতেই রোদ দ্রুত চোখ খুলে।চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।ভয়ে রোদ যখনি চিৎকার করতে নিবে তখনি কানে আসে আবেগময় মিষ্টি এক নাম

—পাখি

ডাকটা রোদের কাছে এতোটাই ভালো লাগলো যে চোখ বুঝে নিলো সঙ্গে সঙ্গে।আদ্র রোদকে আরেকটু নিজের দিকে টেনে নিলো।কোমড়ে থাকা হাতের বাঁধন আরেকটু শক্ত করলো।মুখটা রোদের কানে কাছে নিয়ে আস্তে করে আবারও ডাকলো—

—পাখি!

—হুম”

চোখ বন্ধ রেখেই রোদ “হুম” বলে জবাব দিলো।সঙ্গে সঙ্গে আদ্রের মুখে এক চিলতি হাসি ফুটে। আদ্র এবার আরেকটু আদুরে মাখা আর ভালোবাসা মেশানো গলায় বলল

—ভালোবাসি!

এই বলে আদ্র রোদের গলায় মুখ গুঁজে লম্বা শ্বাস নিলো।এবার রোদের হুস ফিরে।হাত পা আপনাআপনি কাঁপতে শুরু করে। সে বুঝতে পারছে না এটা কে?তার এতো কাছে কেন আসছে?মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। গলায় যেন কিছু আটকে আছে।

— একটু ছুঁতেই এমন কাঁপা-কাঁপি করছো যখন পুরোপুরি অধিকার নিয়ে ছুঁবো তখন কী করবে বউ?

“বউ” ডাকটা কানে যেতেই রোদের বুক কেঁপে উঠলো।আবারও চোখ বন্ধ করে নিলো।আদ্র রোদকে হালকা ধাক্কা দিয়ে একটু দূরে সরিয়ে দ্রুত পায়ে বের হয়ে গেলো।রোদ তাড়াতাড়ি চোখ খুলে আশেপাশে চাইল না কেউ নেই!কে ছিলো এটা আর কি সব বলে গেলো?রোদ ভয়ে ঘামাতে শুরু করে!


আজকের প্রথম ক্লাসটাই আদ্র নিবে তার জরুরি কাজ আছে এজন্য ক্লাস শেষ করে আগে আগেই বের হয়ে যাবে।আদ্র ক্লাসে ডুকা মাএই চারদিকে সোরগোল শুরু হয়ে গেছে।কেউ মুগ্ধ নয়নে আদ্রকে দেখছে। কেউ আবার ফিসফিস করে কিছু বলছে।আজকে রোদও বাদ পড়েনি তাকিয়ে থাকা থেকে।আজকে আদ্র কফি রঙ্গের শার্ট আর সাদা জিন্স পেড়েছে।হাতে ঘড়ি চোখে পাওয়ারি চশমা।রোদ আজকে একটা জিনিস বেশ ভালো করেই খেয়াল করলো।আদ্রের ঠোঁট গুলা পিংক কালার সাথে ঠোঁটে কোণে বাদামি তিলটা উফ পুরাই জোস। ছেলেদের ঠোঁট ও এতো সুন্দর হয় রোদের আগে জানা ছিলো না রোদ মেয়ে হয়েও মনে হয় না আদ্রের থেকে ওর ঠোঁট বেশি সুন্দর হবে।

—স্যারটা একটু বেশিই হ্যান্ডসাম তাই না?

পাশ থেকে শ্রেয়া কথাটা বলল।রোদ অন্যমনস্ক হয়ে জবাব দিলো

—হুম আর আজকে তো পুরাই চকলেট বয় লাগছে।

রোদ এতোটাই ঘোরে চলে গেছে যে আদ্র তার পাশে এসে যে দাঁড়িছে বুঝতেই পারেনি।এই দিকে রোদের কথাটা কানে যেতেই আদ্র হালকা ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসে।তবে কেউ দেখার আগেই স্বাভাবিক হয়ে যায় কিন্তু রোদকে কিছুই বলেনি সেখান থেকে সরে যায়।


গত একটা যাবত নিজের কেবিনে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে আদ্র।অফিসে এসেছে দু’ঘন্টার মতো হবে এসে একটা মিটিং এ জয়েন করেছে।পাশ থেকে ফোন টা হাতে তুলে নিয়ে কল লাগালো রৌদ্রর নাম্বারে।রৌদ্র মাএই একটা রেস্টুরেন্টে ডুকে বসলো।মোবাইল হাতেই ছিলো আদ্র কল দাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ করে বললো

—হ্যাঁ বল

—তুই কোথায় আছিস?

—এই তো একটা রেস্টুরেন্টে আছি।

—কলেজ থেকে সোজা আমার বউকে আমার অফিসে এনে দিবি একসঙ্গে “লাঞ্চ” করবো।

—পারবো না

—প্লিজ ভাই এনে দে না।তুই তো জানিস আমি তোকে কতটা ভালোবাসি।

আদ্রের কথা রৌদ্র মুখ বেঁকিয়ে বলল

—থাক ভাই তোর আর আমাকে ভালোবাসতে হবে না। তোর এতো ভালুপাসা পেতে পেতে আজ আমি গর্ববতী।

ইয়ানা মাএই খাবার মুখে নিচ্ছিলো পিছন থেকে এমন বাক্য কানে আসতেই যক্ষা রোগীর মতো কাঁশতে শুরু করলো।পিছন থেকে এমন কাঁশির শব্দে রৌদ্র বিরক্ত হয়ে আদ্রকে বলল

—বনু যাবে কিনা জানি না গেলে নিবো আমি দুপুরে তোর অফিসে আসবো।

এই বলে রৌদ্র ফোন কেটে দিয়ে পিছন ফিরে বলল

—এই মেয়ে তোমার কী যক্ষা রোগ আছে?থাকলে ডাক্তার কাছে যাও চিকিৎসা করো এভাবে শব্দ দূষণ করছো কেন?

ইয়ানা রৌদ্রের গলা পেয়ে পিছন ফিরে চাইল।রৌদ্রকে দেখে অবাক হয়ে বলল

—রৌদ্র ভাইয়া আপনি গর্ববতী কিন্তু কেমনে কী?

প্রথমত রৌদ্র ইয়ানাকে এখানে একদমই আশা করেনি দ্বিতীয়ত ইয়ানার এমন প্রশ্নে রৌদ্র থতমত খেয়ে যায়।পাশে ইয়ানার ফ্রেন্ডরা মুখ টিপে হাসছে।

—এই যে উষ্ঠা খাওয়ালি মানুষের কথায় কান না দিয়ে মন দিয়ে খাও যেন মাথায় একটু বুদ্ধি হয় মাথায় তো গবর ছাড়া কিছুই নেই ইডিয়েট একটা

এই বলে রৌদ্র একটা ওয়েটার কে ডেকে ইয়ানাদের জন্য অনেক রকমের আইটেম অর্ডার করে বিল মিটিয়ে চলে গেলো।ইয়ানা তো ইডিয়েট আর উষ্ঠা খাওয়ালি এই দুটা শুনে চুপসে গেলো আর কিছুই বলল না।ইয়ানার এক বান্ধবী তো ইয়ানাকে পাগল করে দিলো।এই হ্যান্ডসাম ছেলেটাকে।ওর সাথে একটু সেটিং করিয়ে দিতে।বিরক্ত হয়ে ইয়ানা বলল

—কচুর হ্যান্ডসাম ওই ছেলের ৪টা বাচ্চা আছে বউ আছে এখন আরেকটা পেটে আছে বাচ্চা।

—আল্লাহ কী বলিস দেখলে তো বুঝা যায় না।কিন্তু তুই কীভাবে এতো কিছু জানিস?

অবাক হয়ে ইয়ানার এক বান্ধবী বলল।বান্ধবীর কথা ইয়ানা শয়তানি হেঁসে বলল

—আমি জানবো না তো কে জানবে এটা আমার ভাইয়ের বন্ধু। এখন কথা না বলে চুপচাপ খাওয়ায় মন দে।


আদ্র বসে বসে ফাইল চেক করছিলো।রৌদ্র চুপিচুপি দরজা ঠেলে ডুকে আদ্রের চোখে চেপে ধরলো।আদ্র জানে এটা রৌদ্র আর এটাও জানে এই বাঁদর তার বউ কে নিয়ে আসেনি একাই এসেছে। বিরক্ত হয়ে বলল

— দূরে থাক সারাক্ষণ মেয়েদের মতো আমার সঙ্গে এমন গোসাগোসি করছ কেন?

রৌদ্র চোখ ছেড়ে আদ্রের গা গেঁষে বসতে বসতে গেঁয়ে উঠলো

—তোর সঙ্গ না ফেলে—

সারাদিন কেমন

“”” আনচান আনচান করে মন “”

আমার আনচান আনচান করে

মন গো

(বেশি বেশি রেসপন্স আর শেয়ার করো। আর ভালো খারাপ কমেন্ট বক্সে মন্তব্য করো)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply