কি_আবেশে (০৮)
জেরিন_আক্তার
মেরাব খাবার খেয়ে উপরে চলে গেলো। ফাহমিদা খান স্নেহাকেও খেয়ে নিতে বলেন। স্নেহা খাবার খেয়ে রুমে চলে আসে। মেরাব তখন আয়নার সামনে একহাতে পাঞ্জাবী আর আরেক হাতে শার্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। দেখছিলো কোনটা পড়ে যাওয়া যায়। স্নেহা মেরাবকে দেখতে দেখতে বিছানায় বসে, মেরাবের উদ্দেশ্যে বলে,
‘ আপনি নাটকও জানেন। বিয়ের আগে বললেন আমার সাথে সারাজীবন থাকতে পারবে তো? আর বিয়ের রাতে থাপ্পড় মারলেন আবার এখন শশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য জামাকাপড় ট্রায়াল দিচ্ছেন। ’
মেরাব পেছনে ফিরে ভ্রু কুঁচকে বলে,
‘ কে বলেছে আমি শশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য জামাকাপড় ট্রায়াল দিচ্ছি। আমি তো আমার শত্রুর বাড়ি যাওয়ার জন্য তোড়জোড় করছি। ’
স্নেহা রাগী চোখে তাকিয়ে বলে,
‘ কি বললেন? শত্রু বললেন কেনো? সেই শুরু থেকে শত্রু শত্রু করছেন। সেদিন প্রথমে আমাকে বলেছেন। এরপরে আবার এখন আমাদের বাড়িকে বলছেন? ’
মেরাব গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,
‘ হুম যা সত্যি তাই বলেছি। শত্রুতা করেই তো তোমার মতো শত্রু পেয়েছি। ’
স্নেহা নাক-মুখ কুঁচকে নেয়। মেরাব শার্ট আর পাঞ্জাবী বিছানায় রেখে বলে,
‘ দুপুরের পরে রেডি হয়ে থাকো। আমি কিন্তু এসে দেরি করবো না। ’
স্নেহা মুখ ঘুরিয়ে বলে,
‘ যাবো না আমি আপনার সাথে! ’
মেরাব তাচ্ছিল্যের ন্যায় হেসে বলে,
‘ না গেলে আমারই ভালো। তাহলে আমি রাতের মতো আবারও লং ড্রাইভে চলে যাবো। ’
স্নেহা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
‘ কালকে রাতে লং ড্রাইভে গিয়েছিলেন? ’
‘ হুম। ’
‘ সাথে কে ছিলো? নিশ্চই লং ড্রাইভে একা যাননি? ’
‘ হুম। ’
‘ কি হুম হুম করছেন? কে ছিলো সাথে? ’
মেরাব বাঁকা হেসে বলে,
‘ লং ড্রাইভে মানুষ কাকে নিয়ে যায়? নিশ্চই প্ৰিয় মানুষ নিয়েই? ’
স্নেহা হতভম্ব মেরাবের কথা শুনে। প্রচন্ড জেলাস হচ্ছে। ইচ্ছা করছে মেরাবের মাথাটা ঠাস করে ফাটিয়ে দিতে। ভাবতে ভাবতে মেরাবের দিকে তেড়ে গিয়ে বলে,
‘ আপনার সাহস হলো কি করে বাড়িতে বউ রেখে অন্য মেয়ে নিয়ে লং ড্রাইভে যেতে। লজ্জা করলো না। ইচ্ছে করছে আপনার মাথাটা ফাটিয়ে দেই! ’
স্নেহা কথাগুলো বলতে বলতে মেরাবের একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। মেরাব পিছালো না বরং আকস্মিকভাবে স্নেহার কোমরে হাত রেখে স্নেহাকে বুকের কাছে আনলো। স্নেহা কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেলো। মেরাব হাত আর শক্ত করলো। মেরাবের স্পর্শে স্নেহার পায়ের পাতা শির শির করে উঠলো। বুকের ভিতরে ধুকবুক করতে লাগলো।
মেরাব তার একহাত দিয়ে স্নেহার গালে লেপ্টে থাকা চুলগুলো আলতো স্পর্শে সরিয়ে দিলো। স্নেহার বুকের ভিতরের ধুকবুকানি বেড়েই চললো। স্নেহা নড়েচড়ে উঠে বলে,
‘ ছাড়ুন কি করছেন? দরজা খোলা। ’
মেরাব ধপ করে ছেড়ে দেয়। স্নেহা সাথে সাথে সরে গিয়ে বিছানায় বসে। মেরাব ড্রেসিং টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
‘ সকালে শাওয়ার নিয়েছিলে? ’
স্নেহা কপাল কুঁচকে বলে,
‘ শাওয়ার নিবো কেনো? ’
মেরাব কিছু বলে না। স্নেহার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে চলে যায়। স্নেহা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। স্নেহা মেরাবকে ডেকে উঠে,
‘ এইযে শুনুন একটু? ’
মেরাব আবারও রুমে ফিরে আসে। স্নেহা সাথে সাথে বলে,
‘ আপনার নাম্বারটা দিন তো! ’
‘ ঠিক আছে। তোমার ফোনে উঠাও! ’
স্নেহা বিছানায় থেকে নিজের ফোন হাতে নিয়ে বলে,
‘ হ্যা, বলুন! ’
স্নেহা মেরাবের নাম্বার তুলে নিয়ে সেই নাম্বারে কল দিলো। ফোনে টাকা না থাকার কারণে মিসকল চলে গেলো। মেরাব তা দেখে মুখ বেকিয়ে বলে,
‘ ছিহ, তুমি মিসকল করার জন্য নাম্বার নিলে? ’
স্নেহা মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলে,
‘ না, আসলে আর কি, ফোনে কালকেই টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। রিচার্জ করবো মনে নেই। ’
‘ হুম বুঝেছি, কি করে টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। ’
‘ আ আসলে..! ’
‘ হুম, বলতে হবে না। থাকো, আসছি। ’
মেরাব চলে গেলো। স্নেহা নিজের কথাটাও পুরোপুরি বলতেও পারলোনা।
দুপুর আড়াইটার দিকে মেরাব বাড়ি ফিরে আসে। এসে দেখে স্নেহা বসে মোবাইল দেখছে। রেডি হয়নি এখনও।মানে কি? মেরাব বলে গিয়েছিলো ওকে রেডি হয়ে থাকতে কিন্তু তার কোনো হেলদোলই নেই? মেরাব কথাগুলো ভাবতে ভাবতে স্নেহা দিকে তাকিয়ে রইলো।
স্নেহা ফোন রেখে মেরাবের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ ওভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো? আমি যে সুন্দর এটা ভালো করে তাকিয়ে দেখলেই তো হয়। ’
মেরাব ধমক দিয়ে বলে,
‘ চুপ! তোমাকে কি বলে গিয়েছিলাম? ’
‘ কি বলে গিয়েছিলেন? ’
‘ বলিনি রেডি হয়ে থাকতে। রেডি হওনি কেনো? ’
‘ ভেবেছিলাম আপনি আসলেই রেডি হবো। ’
‘ যাও তাড়াতাড়ি রেডি হও। ’
এই বলে মেরাব জামাকাপড় বের করে ওয়াশরুমে চলে যায়। স্নেহা বিছানা ছেড়ে কাভার্ড খুলে শাড়ি বের করে দাড়িয়ে থাকে। মেরাব বের হতেই সে ঢুকে পড়ে।
মেরাব ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায়। মেরুন রঙের শার্ট আর কালো প্যান্ট পড়েছে। চুলগুলো ব্রাশ দিয়ে ঠিক করে পারফিউম লাগালো। রেডি হওয়া শেষ তার। তাই ফোন হাতে নিয়ে বিছানায় বসলো। এর একটু পরেই স্নেহা বের হয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে মেরাবের সামনে দাড়ালো। মেরাব মাথা তুলে তাকালো। স্নেহা খানিকটা নিচু গলায় বলে উঠে,
‘ একটু শাড়ির কুচিটা ধরবেন আমি একা পড়তে পারছি না। ’
মেরাব ফোন রেখে উঠে দাঁড়ায়। এরপরে স্নেহার হাতে থেকে শাড়ির কুচিটা নিয়ে ভালো করে কুচি তুললো। এরপরে সেটা স্নেহার হাতে দিয়ে ধরতে বলে নিজে নিচে বসে কুচি ঠিক করে। স্নেহা মেরাবকে যত দেখছে তত যেনো অবাক হচ্ছে। মেরাব উঠে দাঁড়ায়। স্নেহা তখনও মেরাবকে দেখার ধ্যানে। মেরাব এরপরে স্নেহার হাতে থেকে কুচিটা নিয়ে নিজেই গুঁজতে গেলো। স্নেহা হকচকিয়ে গিয়ে বলে উঠে,
‘ একি কি করছেন? আমার কাছে দিন! ’
মেরাব শাড়ির কুচি স্নেহার হাতে দিয়ে বলে,
‘ আমার মধ্যে কি এমন দেখতে পাও যার জন্য তোমার অন্য কিছুতে তাল থাকে না। তুমি তো মনে হয় আমাকে দেখতে দেখতেই শেষ করে দিবে! এতো তাকিয়ে থাকবে না। নজর লেগে গেলে তখন কি করবো। ’
স্নেহা ভেঙচি দিয়ে বলে,
‘ তাকিয়ে থাকি বলে নিজেকে অযথা সুন্দর মনে করবেন না। ’
মেরাব স্নেহাদের বাড়িতে এসে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বসে আছে। মেরাব এখানে আসার পরে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছে, হাসি-খুশি দেখাচ্ছে কিন্তু ভিতরে ভিতরে এগুলোর প্রতি কোনো ইন্টারেস্টই জাগছে না।
মেরাবের ফোন বেজে উঠে। স্নেহা নিজের রুমে ছিলো। মেরাবের ফোনের দিকে তাকিয়ে রুম থেকেই, মেরাবের উদ্দেশ্যে বলে,
‘ আপনার ফোনে কল এসেছে! ’
‘ কে দিয়েছে? ’
‘ আরিফ নাম উঠে আছে! ’
মেরাব আফনান মির্জার সাথে কথা বলছিলো টুকটাক। স্নেহার ডাকে তার দিকে তাকিয়ে চলে আসে রুমে। স্নেহার হাতে থেকে ফোনটা নিয়ে ব্যালকনি খোলা পেয়ে সেখানে চলে যায়। ফোনও ততক্ষনে কেটে গিয়ে আবার কল এসে বাজতে থাকে। মেরাব রিসিভ করে বলে,
‘ হ্যা, বল! ’
‘ কোথায় তু্ই? ’
‘ আছি এখানেই কেনো? ’
‘ তু্ই যে উকিলের কথা বলেছিলি উনার সাথে কথা বলে দেখলাম। এরপরে উনি তোর সাথে আর আমার সাথে পার্সোনালি দেখা করতে চাইছে। ’
‘ ঠিক আছে। রাতে যাবো! ’
‘ রাতে কেনো? ’
‘ এখন শশুরবাড়ি এসেছি। ’
আসিফ কুটিল হেসে বলে,
‘ তু্ই আর শশুরবাড়ি! সত্যি গিয়েছিস? ’
‘ হুম। ’
আসিফ হেসে হেসে বলে,
‘ তো তোর শশুর-শাশুড়ি কেমন জামাই আদর করছে রে? না মানে খাওয়াচ্ছে তো? ভাই তু্ই কিন্তু ওদের একমাত্র মেয়ের জামাই। আদর বেশি বেশি পাবি। ’
মেরাব আসিফের মশকরায় বিরক্তি প্রকাশ করে বলে,
‘ কিসের জামাই, কিসের আদর। আমার ইচ্ছে করে সবকটাকে গুলি করে মেরে ফেলি। ’
আসিফ তখনও মশকরা করে বলে,
‘ অমন করে বলছিস কেনো? শশুর, শাশুড়ি হয়তো! ’
মেরাব রেগে গিয়ে বলে,
‘ ভাই, ফোন রাখতো। পরে কথা বলবো। ’
‘ কেনো বউ ডাকে নাকি? ’
মেরাব নিজেই কল কেটে দেয়। লম্বা একটা শ্বাস ছেড়ে পেছন ঘুরে দেখে তার পেছনে স্নেহা দাড়িয়ে আছে। মেরাব অবাক হলো বৈকি। তবুও একবিন্দু প্রকাশ করলো না। মুখে একচিলতে হাসি ফুটিয়ে বলে,
‘ রুমে চলো! কথা বলা শেষ। ’
স্নেহা বুকে হাত গুজে বলে,
‘ আপনি কাকে গুলি করে মারবেন বললেন। ’
মেরাব হেসে বলে,
‘ তোমাকে, তোমার বাবাকে, তোমার মাকে। ’
‘ কেনো মারবেন? ’
মেরাব রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলে,
‘ এখানে এসেছি থেকে চুপচাপ বসে থাকতে হচ্ছে। একজন শালা-শালী থাকলে সময় কাটতো। কিন্তু আমার তো নেই। সেই জন্য তোমাদের গুলি করে মারতে চাইছি। আর তুমিও তো কেমন লোক যে তুমি তোমার পুরো বাড়ি ঘুরেও দেখাচ্ছো না। ’
স্নেহা মেরাবের কথা শুনে রুমে এসে বলে,
‘ আপনার এখানে একদিন এসেই বোরিং হচ্ছেন আর আমি সেই ছোট থেকে একা একা থাকছি। যদি একটা ভাই-বোন থাকতো। ’
মেরাব গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
‘ আছে তো! ’
‘ কিহ? ’
মেরাব স্নেহার কাছে এসে বলে,
‘ হুম, আছে। ’
স্নেহার কান দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে মেরাবের কথা শুনে। সে তো একাই। তার ভাই-কোথায় থেকে আসবে। স্নেহা রাগী কণ্ঠে বলে,
‘ আপনি পাগল হয়ে গিয়েছেন। কি সব বলছেন? আমার ভাই-বোন আসবে কোথায় থেকে? ’
‘ আসলেই দেখতে পাবে। ’
‘ কি বলছেন আমায় খুলে বলুন তো! ’
মেরাব নাক-মুখ কুঁচকে বলে,
‘ কিছু খুলতে-টুলতে পারবো না। এখন চলো তোমাদের ছাদে নিয়ে যাও আমাকে! ’
স্নেহা ভাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। মেরাব স্নেহার সাথে ছাদে এলো। স্নেহা নিজের হাতে লাগানো ফুল গাছগুলো দেখতে লাগলো। মেরাব কিছুক্ষন স্নেহার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে উঠে,
‘ স্নেহা, যদি শোনো তোমার কাছের কেউ একজন তোমাদের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করেছে তখন কি করবে? ’
স্নেহা মেরাবের কাছাকাছি এসে দাড়ালো। মেরাবকে তার সহজ মনে হয়না। বারবার মনে হয় এই লোক কিছু একটা জানে। স্নেহা নরম গলায় বলে,
‘ কি বলতে চাইছেন আমায় ক্লিয়ার করে বলুন না। ’
মেরাব পকেটে হাত গুঁজে নিচের দিকে তাকিয়ে তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে,
‘ তোমার বাবা আরও একটা বিয়ে করেছে। ’
স্নেহার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। গলা দিয়ে কোনো কথা বের হতে চাইছে না। প্রথমে বিশ্বাস করতে চাইলো না। তাই বলে উঠলো,
‘ দেখুন, আমার বাবাকে নিয়ে আর যাই বলুন মিথ্যে কথা বলবেন না।
মেরাব স্নেহার কাঁধে হাত রেখে দোলনার দিকে যেতে যেতে বলে,
‘ মিথ্যে বলছি না। বসো এখানে। ’
মেরাব স্নেহার সাথে বসলো। স্নেহা থমথমে মুখে বলে উঠে,
‘ আপনি প্লিজ আমাকে বলুন! ’
মেরাব স্নেহার হাত ধরে বলে,
‘ দেখো, তোমার মনে হচ্ছে আমি মিথ্যে বলছি কিন্তু আমি মিথ্যে বলছি না সত্যিই বলছি। তোমার বাবা বিয়ে করেছে। সেই ঘরে একটা মেয়েও আছে। ’
স্নেহা নিশ্চুপ হয়ে গেলো। মেরাব নিজের ফোন বের করে কয়েকটা ছবি দেখালো। সেখানে স্নেহা দেখলো, তার বাবা আরেকটা মহিলা, সাথে একটা মেয়ে। ছবিগুলো দেখে স্নেহার চোখ বেয়ে টুপটুপ্ করে পানি পড়তে লাগলো। চোখের সামনে এগুলো দেখার পরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো মেরাবকে ধরে।
চলবে….
দেরি করে দেওয়ার জন্য দুঃখিত। পরবর্তী পর্ব কালকে দুপুর ২ টায় আসবে, ইনশাআল্লাহ। এর আগে এই গল্পের কোনো পর্ব আসবে না।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, জেরিন আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
চোরাবালির পিছুটানে গল্পের লিংক
-
কি আবেশে পর্ব ৩
-
কি আবেশে পর্ব ৭
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ১
-
কি আবেশে পর্ব ৫
-
কি আবেশে গল্পের লিংক
-
কি আবেশে পর্ব ৪
-
কি আবেশে পর্ব ১
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ২
-
চোরাবালির পিছুটানে ৩