Golpo romantic golpo কি আবেশে

কি আবেশে পর্ব ৩৯


কি_আবেশে (৩৯)

জেরিন_আক্তার

মেরাবের প্রচন্ড জ্বর এসেছে। তাই উঠছে না। চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। মেরাব হালকা কাপছেও। স্নেহা একটা রুমাল বের করে ভিজিয়ে এনে মেরাবের কপালে পট্টি দিয়ে দেয়। এরপরে মেরাবকে আস্তে আস্তে ডাক দিতে শুরু করে। মেরাব চোখ মেলে তাকালো। চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে। স্নেহা বলল,
“আপনার শরীরে তো অনেক জ্বর একবার আমায় ডাকবেন না! জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে।”

মেরাব কিছু বলল না। চোখ আবারও বন্ধ করে নিলো। স্নেহাকে নিচে থেকে ফাহমিদা খান ডেকে উঠেন। স্নেহা চলে যায়। নিচে এসে ফাহমিদা খানকে মেরাবের জ্বরের কথা বললে তিনি তখনই উপরে চলে আসেন। স্নেহা কিচেনে গিয়ে একটা পাত্র নিয়ে আসে। এটায় পানি রেখে রুমাল ভিজিয়ে পট্টি দিবে। সাইদাও আসে। মাহিন বাড়িতে নেই। মারুফুল খানের সাথে কোথায় যেনো গিয়েছে।

স্নেহা রুমে এসে পড়ে। ফাহমিদা খান রুমালটা আবার ওয়াশরুম থেকে ভিজিয়ে নিয়ে এলেন। সেটা স্নেহার হাতে দিয়ে বললেন,
“তু্ই ওকে দেখ আমি আসছি!”

স্নেহা ভেজা রুমালটা মেরাবের কপালে দিলো। আর ওয়াশরুম থেকে পাত্রে করে পানি নিয়ে এলো।

ইফতারের আর মাত্র বিশ মিনিটের মতো আছে।

এদিকে ফাহমিদা খান নিচে এসে মারুফুল খানকে কল দিলেন। মারুফুল খান বাড়ির প্রায় সামনে এসে পড়েছেন। তাই এখন আর ফাহমিদা খানের কল ধরলেন না। তিনি বাড়িতে ঢুকলেন। ফাহমিদা খান বললেন,
“এসে গিয়েছো, আমি তোমাকেই কল দিচ্ছিলাম।”

“বলো কি হয়েছে?”

“মেরাবের জ্বর এসেছে।”

মারুফুল খান কপাল কুচকালেন। বললেন,
“হঠাৎ করে জ্বর কেনো এলো?”

ফাহমিদা খান খানিকটা রেগে গিয়ে বললেন,
“কেমন প্রশ্ন করছো তুমি হ্যা? জ্বর কেনো এলো কেমন প্রশ্ন? আল্লাহ যখন যা চাইবে তাইই তো হবে।”

“মেরাবকে দেখে আসছি!”

ফাহমিদা খান বললেন,

“এখন আর কি দেখতে যাবে? ইফতারের সময় হয়েছে। ইফতার করে তাড়াতাড়ি ডাক্তারকে কল দাও!”

ইফতারের পরে মারুফুল খান তাঁদের পরিচিত কাছের একজন ডাক্তারকে কল দিয়ে আসতে বললেন। ডাক্তার বিশ-পঁচিশ মিনিট পরে এলো। মেরাবকে দেখে ওষুধ লিখে দিয়ে চলে গেলেন। মাহিন ওষুধ কিনতে বাহিরে গেলো। সাথে সাদাফকেউ নিয়ে গিয়েছে।

স্নেহা, ফাহমিদা খান দুজনে মেরাবের পাশে বসে আছে। মেরাব কোনো রকম খেজুর আর শরবত খেয়ে ইফতার করে শুয়ে আছে। দুজনকে পাশে বসে থাকতে দেখে উঠে বসলো। এরপরে বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেলো। শরীরটা চিনচিনে ব্যাথা করছে সাথে শীতও লাগছে। মেরাব ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো। সারাদিন রোজা ছিলো তার উপরে আবার জ্বর, শরীর ব্যাথা সব মিলিয়ে মেরাবের মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এর মিনিট দুই পরে মেরাব দুজনকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“সামান্য জ্বরই তো এসেছে। তোমরা এতো উতলা হয়ে গিয়েছো কেনো? আবার ডাক্তারও ডেকেছো। এমনেই সেরে যেতো।”

ফাহমিদা খান উঠে দাড়িয়ে বললেন,
“চুপচাপ শুয়ে থাকবে। কোনো কথা বলা যাবে না।”

বলে তিনি চলে গেলেন। স্নেহা রুমালটা ভিজিয়ে মেরাবের কপালে দিলো। মেরাব রুমালটা সরিয়ে ফেলে দিয়ে বলল,
“কি ছাতার মাথা দিয়েছো চোখের উপরে?”

“কি ছাতার মাথা মানে?”

“ছাতার মাথাই তো! উফ আর দিও না তো বিরক্ত লাগছে চোখের মধ্যে।”

স্নেহা জবাবে বলল,
“তাহলে জ্বর কমবে কি করে?”

জ্বরের ঘোরে মেরাবের মেজাজ বিগড়ে যায়। এর মধ্যে আবার কপালের উপরে লাইট জ্বলে আছে। মেরাব মুখের উপরে চাদর দিয়ে বলল,
“এই সাত বছরে যেমন করে কমেছে ঠিক তেমন করেই কমবে। এতো উড়াতাড়া করার প্রয়োজন নেই। লাইট নিভাও, বিরক্তি লাগছে।”

এর মাঝে ফাহমিদা খান খাবার নিয়ে এলেন মেরাবের জন্য। মেরাবকে ডেকে বললেন,
“মেরাব উঠো তো বাবা!”

মেরাব চাদর সরালো না। ঐভাবেই শুয়ে রইলো। ফাহমিদা খান স্নেহার হাতে খাবারের প্লেটটা দিয়ে মেরাবের মুখের উপরে থেকে চাদরটা সরিয়ে দিয়ে বললেন,
“উঠো কিছু খেয়ে নাও!”

“খাবো না। ভালো লাগছে না।”

“ভালো না লাগলেও খেতে হবে। উঠো!”

মেরাব উঠে বসলো। স্নেহার হাত থেকে প্লেট নিতে চাইলো। স্নেহা প্লেটটা খানিকটা নিজের দিকে এনে বলল,
“আমি খাইয়ে দেই?”

মেরাব উত্তরে বলল,
“ঠিক আছে।”

ফাহমিদা খান আর দুজনের মাঝে রইলেন না। রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। স্নেহা পরম যত্নে মেরাবকে খাইয়ে দিলো। এই প্রথম খাইয়ে দিচ্ছে। কখনও লজ্জাই বলতে পারেনি। আজ আর এই সুযোগ হারাতে চায়নি। মেরাব অর্ধেকের কম খাবার খাওয়ার পরে, পানি খেয়ে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলল,
“আর খাবো না।”

বলেই শুয়ে পড়লো। স্নেহা বলল,
“খাবারটা শেষ করুন!”

“আর খাবো না। তুমি হাত ধুয়ে খেয়ে এসো।”

মাহিন এলো ওষুধ নিয়ে। স্নেহা হাত ধুয়ে এসে মেরাবকে ওষুধ দিলো। মেরাব ওষুধ খেয়ে আবারও শুয়ে পড়লো। সাইদা মেরাবের পাশে রইলো আর স্নেহাকে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য নিচে পাঠালো।

মেরাব সাইদাকে বলল লাইট নিভিয়ে দিতে। সাইদা রুমের মেইন লাইট নিভিয়ে, ডিম লাইট জ্বালিয়ে পাশে বসে রইলো। মেরাব স্বাভাবিক ভাবেই সাইদাকে বলল,
“সারাদিন রোজা ছিলি যা গিয়ে রেস্ট নে!”

“সমস্যা নেই। এখানে ঠিক আছি।”

ওষুধ খাওয়ার পরে মেরাবের জ্বরের প্রকোপ বেড়েই চলছে। যেকোনো সময় জ্বর নেমে যাবে। তাই সাইদা পাশে রয়েছে। এর কিছুক্ষন পরে স্নেহা খাবার খেয়ে চলে আসে। এরপরে সাইদাও চলে যায়। মেরাব স্নেহাকে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়তে বলল। এতে স্নেহা বলল,
“এখনই দরজা বন্ধ করা যাবে না। বড় মামা, মামনি কি মনে করবে!”

মেরাব কিছু বলল না। স্নেহা মেরাবের মাথার কাছে বসে চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। ভেজা রুমালও তো দিতে দিবে না। মেরাবের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মেরাব একসময় ঘুমিয়ে পড়লো। ফাহমিদা খান রুমে এলেন। মেরাব ঘুমিয়ে আছে দেখে কোনো শব্দ না করে রুমের বাহিরে গিয়ে দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।

রাত তখন দশটা,,, মেরাব ঘুমের মাঝে দুস্বপ্ন দেখে। দেখতে পায় এই বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে তার নিজের মা নামছে। ঠিক পেছনে থেকে তাকে কেউ ধাক্কা দেয়। সে গড়িয়ে পড়তে পড়তে মেরাবের পায়ের কাছে এসে পড়ে। মেরাবের দিকে হাত বাড়িয়ে মেরাব মেরাব বলে ডাকছে। মেরাব ধরতে গিয়েও ধরতে পারছে না।

মেরাব ধরফড়িয়ে উঠে বসলো। আশেপাশে অন্ধকার দেখে বড়বড় শ্বাস ছাড়তে শুরু করলো।স্নেহা পাশেই বসা ছিলো। সাথে সাথে বিছানায় থেকে নেমে ডিম লাইট টা অফ করে, মেইন লাইট জ্বালালো। মেরাবকে ধরে বসলো। এরপরে পানিও এগিয়ে দিলো।

মেরাব পানি খেয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হলো। তবে পুরো শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছে। মূলত জ্বর নেমে গিয়েছে। স্নেহা গ্লাসটা রেখে মেরাবকে বলল,
“এখন ঠিক লাগছে কি?”

মেরাব ছোট্ট করে বলল,
“হুমম।”

মেরাব নিজের দিকে খেয়াল করে দেখে ঘেমে একাকার। সাথে সাথে শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করলো। শার্ট খুলে বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেলো। স্নেহা ভাবলো নিশ্চই গোসল করবে এখন। একদম ঘাম সহ্য করতে পারে না।

মেরাব শাওয়ার নিয়ে এসে জামাকাপড় পড়ে শুয়ে পড়লো। স্নেহা বিছানায় থেকে নেমে ঘাম জড়ানো শার্টটা বাস্কেটে রেখে লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়লো।

পরদিন,,,
তারিখ-১৩-৩-২০২৬- শুক্রবার। আজ মেরাবের জন্মদিন। সকাল সাড়ে দশটা,,, মেরাব সেহেরি খেয়ে ঘুমিয়েছে আর উঠেনি। জ্বরের মধ্যেও রোজা রেখেছে। স্নেহা মাত্র রুম থেকে বেরিয়ে মাহিন আর সাইদার সাথে কথা বলছে। ওরা কোনো প্ল্যানই করতে পারলো না মেরাবের জ্বরের জন্য। যাই হোক, মেরাব যেনো সুস্থ হয় এটাই চায় সবাই।

এদিকে মেরাব ঘুম থেকে উঠে দেখলো পাশে ফাহমিদা খান বসে আছেন। আজ আবার মেরাবের জন্মদিন। রাতে এটা নিয়েই ফাহমিদা খান আর মারুফুল খান কথা বলছিলেন। তাদের ছেলে কতবছর পরে এই দিনে বাড়িতে। ভাবতেই খুশি লাগছে তাদের আবার মন খারাপ, মেরাবের জ্বর বলে। মেরাব জেগে গিয়েও ঘুমের ভান করে শুয়ে রইলো। ফাহমিদা খান মেরাবের দিকে তাকিয়ে কান্নাজড়িত গলায় বললেন,
“হ্যাপি বার্থডে বাবা! সাতটা বছর ধরে এই দিনটায় তোমাকে বাড়িতে পাই না। বলতেও পারিনি যে ফিরে এসো। তবে এবার রয়েছো অনেক অনেক খুশি।”

বলে মেরাবের কপালে ছোট্ট করে চুমু খেলেন। মেরাব জেগে যাওয়ার ভয়ে সাথে সাথে চোখ মুছে সামনের দিকে ঘুরলেন। মেরাব চোখ পিটপিট করে তাকালো। পাশে থেকে ফোনটা নিয়ে দেখলো এগারোটা বাজে। পরক্ষনে মনে পড়লো চ্যালেঞ্জ এর সময়ও শেষ। মেরাব ফোনটা রেখে ভাবতে লাগলো মা বলে ডাক দিবে কি, দেবে না। অতশত ভাবাভাবির পরে মেরাব ইতস্তত গলায় ডাক দিলো,
“মা..!”

চলবে….

__ আজ কে ১২ তারিখ শেষ। কালকে গল্প দিতে দিতে রাত হবে তাই জন্মদিনের কথাটা আজকেই লিখে দিলাম

পরবর্তী পর্ব কালকে রাত ১০ টায় দিবো। ইনশাআল্লাহ। যারা যারা পড়বে অবশ্যই রিএক্ট দিবে।

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply