কি_আবেশে (৩৭)
জেরিন_আক্তার
মেরাবের কথায় সবাই মাহিনের দিকে তাকালো। মাহিন কেশে উঠলো। সাইদাও অবাক দৃষ্টিতে তাকালো মাহিনের দিকে। ফাহমিদা খান জিজ্ঞাসু সুরে বললেন,
“মাহিন বাবা, কি হয়েছিলো? আর সাইদা তু্ই ওকে মেরেছিস কেনো?”
মাহিন বলেই ফেলল,
“বড় আম্মু, তোমাকে সব ভেঙেই বলি, সব কিছুই ঠিকঠাক ছিলো, সাইদা হুট্ করে বলল আমি নাকি পরকীয়া করি। কেমন লাগে বলুন বড় আম্মু?”
মাহিনের কথা শুনে উপস্থিত সবাই হেসে উঠলো। আবার হাসি থামিয়ে মুখটিপে হাসলো। মেরাব স্নেহার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে হাসতে না করলো। আর আসিফ টেবিলের নিচে দিয়ে মৌয়ের হাত ধরে ফিসফিস করে বলল,
“হেসো না সিরিয়াস কথা চলছে।”
মৌ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। মাহিন মাথা নাড়িয়ে ফাহমিদা খানকে বলে উঠলো,
“বড় আম্মু, আপনার কি মনে হয় আমি পরকীয়া করার মতো ছেলে?”
সাহারা খান ঘুমের দোহাই দিয়ে চলে গেলেন। যতই হোক শাশুড়ি তো। মজা ওরাই নাহয় করুক। উনি এর মধ্যে নেই। আর এখানে ফাহমিদা খান হতাশ কণ্ঠে মাহিনকে বললেন,
“না বাবা, তোমাকে তো এমন মনে হয়না। এই সাইদা তোকে সাবধান করে দিলাম। এরপরে থেকে যদি মাহিনের সাথে এমন করিস তাহলে এই বাড়িতে আসা বন্ধ তোর।”
সাইদা মাহিনকে টেনে ফিসফিস করে বলল,
“যা হওয়ার হয়েছে। তোমাকে আবার সবার সামনে বলতে হবে কেনো?”
মাহিন সাইদার কথা শুনেও না শোনার ভান করে আবারও ফাহমিদা খানকে বলে উঠলো,
“জানেন, এই কথাগুলো যে বলেছে সেই দেখবেন একদিন পরকীয়া করবে। আর ওর বউও ওকে উত্তম-মাধ্যম দিবে।”
কথাটা সবাই শুনে মজার ছলেই উড়িয়ে দিলো কিন্তু এর মাঝে স্নেহা চোখ পাকিয়ে মেরাবের দিকে তাকালো। মেরাব সুন্দর একটা হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো। ওদিকে মৌয়ের কেমন জেলাস হচ্ছে। মনে মনে ভাবছে যদি আসিফ বলে, তাহলে কি ভবিষ্যতে পরকীয়া করবে? মৌয়ের কথাগুলো মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করলো। রুমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবে মাহিন ভাইকে এসবে ফাঁসিয়ে দিয়েছে কিনা।
আর সাদাফ বেচারা সবার কথা শুনে শুধু মজা নিচ্ছে। ভাগ্গিস বিয়ে করেনি নাহয় ওকেও এই ঝামেলায় জড়াতে হতো।
সাদাফের খাওয়া শেষের দিকে, দুই-এক লোকমা খাবার আছে প্লেটে। মাহিন বাকা হেসে ওকে বলে উঠলো,
“ভাই, তোমার কোনো পছন্দ-টছন্দ আছে নাকি বলে দাও। পরিবার না মানলে কট খাইয়ে বিয়ে দিয়ে দিবোনি।”
সাদাফ খাওয়া শেষ করে উঠে দাড়িয়ে বলল,
“তোমাদের দুই-একজন বাচ্চা-কাচ্চা হোক এরপরে আমি বিয়ে করবো। এখনই বিয়ে করতে চাইনা। নাহলে তোমাদের জ্বালায় শেষ হয়ে যাবো!”
মাহিন হেসে বলল,
“তা ঠিক বলেছো, তবে কোনো চিন্তা করো না। যদি কোনো মেয়ের সাথে তোমার কানেক্ট দেখি ওমনেই কট খাইয়ে দিবো।”
সবার খাওয়াই প্রায় শেষের দিকে। আসিফ উঠে দাড়িয়ে ফাহমিদা খানকে বলে উঠলো,
“আন্টি, কালকে চলে যাবো। ওদিকে রেস্টুরেন্টেও চাপ। আর আম্মুও বারবার কল দিচ্ছে।”
“তাই কালকেই চলে যাবে?”
“হুম। মৌকেও সাথে নিয়ে যেতে চাই।”
“ঠিক আছে। তবে আরও কয়েকটা দিন থেকে গেলে খুশি হতাম।”
আসিফ হেসে বলল,
“আন্টি আবার আসবো। কালকে যেতেই হবে।”
“ঠিক আছে। এখন গিয়ে রেস্ট নাও। এই মৌ আসিফকে নিয়ে রুমে যা।”
মৌ উত্তরে বলল,
“যাচ্ছি।”
স্নেহা আগে রুমে চলে আসে। ওদিকে মেরাব সাইদা আর মাহিনের সাথে কথা বলে দুজনের ঝামেলা মিটিয়ে দিয়ে রুমে আসে। স্নেহা বিছানায় বসে বলল,
“এইযে শুনুন?”
মেরাব পেছনে তাকায় না। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে। স্নেহা মনে করে মেরাব মনে হয় ওর ডাক শোনেনি। তাই আবার বলে উঠলো,
“এইযে শুনুন না!”
মেরাব শুনেও না শোনার ভান করে দাড়িয়ে থাকে। স্নেহা ভাবতে থাকে লোকটা কি বয়রা হলো নাকি? বিছানায় থেকে নামলো স্নেহা। মেরাব ড্রেসিং টেবিলের সামনে থাকার টুলে বসলো। স্নেহা মেরাবের পেছনে দাড়িয়ে বলল,
“আপনাকে ডাকলাম তো!”
মেরাব গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“কাকে?”
“আপনাকে?”
মেরাব পেছনে ফিরে স্নেহার দিকে হয়ে বসে বলল,
“কি বলে ডেকেছো?”
“কেনো, বললামই তো শুনুন!”
“তো আমার নাম কি শুনুন?”
“মানে?”
“কি মানে? বললাম আমার নাম কি শুনুন নাকি? আমাকে ডাকার মতো নাম আছে তো?”
“কি নামে ডাকবো?”
“কেনো মেরাব বলে!”
“আপনার নাম ধরে ডাকতে পারবো না।”
এই শুনে মেরাবও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,
“তাহলে আমিও শুনবো না।”
স্নেহা বিছানার দিকে যেতে যেতে বলল,
“এই না, আমি পারবো না। নাম ধরে ডাকতে। কেমন শোনা যায় হ্যা। আমার গলা দিয়ে বের হবে না আপনার নাম।”
মেরাব মুচকি হাসলো। এরপরে আর জোর করলো না। ও যা খুশি বলে ডাকুক ওর ইচ্ছা। একটু পরেই ফজরের আজান হয়। মেরাব ওযু করে এসে রুমেই নামাজ পড়ে নেয়।
সকাল নয়টা,,,
মারুফুল খান প্রতিদিনের মতো আজও কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলেন। আজকে মেরাবকেও যেতে হবে। মারুফুল খানের একদম মনে ছিলো না মেরাবকে বলতে যে কালকে কলেজে যেতে। তিনি রেডি হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। মেরাবের রুমের সামনে এসে দেখলেন ওরা কেউ এখনও বেরই হয়নি। মারুফুল খান দরজায় হালকা চাপর মেরে ডাকলেন,
“মেরাব! মেরাব! স্নেহা! স্নেহা! মেরাব!”
মারুফুল খানের এই ডাকে স্নেহার ঘুম ভেঙে যায়। মেরাবের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে বসলো। শাড়ি ঠিক করতে করতে বিছানায় থেকে নেমে দরজা খুলে দিলো।
“বড় মামা কিছু বলবে?”
“মেরাব উঠেনি?”
“না, ঘুমাচ্ছে!”
“ওকে ডেকে তুলো। কলেজে যেতে হবে।”
“ঠিক আছে। ডেকে তুলছি!”
“একটু তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বাহিরে আসতে বলো! আমি বাহিরে ওয়েট করছি।”
“আচ্ছা।”
মারুফুল খান চলে যেতেই স্নেহা মেরাবের কাছে এসে আস্তে আস্তে ডাক দিতে লাগলো। ঘুমের মানুষকে জোরে জোরে ডাক দেওয়া ঠিক নয়। মেরাব সজাগ হয়ে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল,
“কি হয়েছে, ডাকছো কেনো?”
“বড় মামা এসেছিলো। আপনাকে নাকি কলেজে যেতে হবে।”
“কখন?”
“এখনই। বড় মামা রেডি হয়ে নিচে দাড়িয়ে আছে।”
মেরাবের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও উঠে বসলো। কি যেনো বিড়বিড় করে বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেলো। স্নেহা চট করে বিছানাটাও গুছিয়ে নিলো। মেরাব ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ফরমাল ড্রেস পরে রেডি হয়ে নিলো।
এমন সময় স্নেহার ফোনে মারুফুল খান কল দিলেন। স্নেহা কল রিসিভ করে বলল,
“বড় মামা, উনার হয়ে গিয়েছে। বের হচ্ছে।”
“মেরাবকে আমার রুমে থেকে আমার ওয়ালেটটা নিয়ে আসতে বলো তো!”
“শুধু ওয়ালেট?”
“হুম।”
“ঠিক আছে। বলছি!”
স্নেহা ফোন রেখে মেরাবকে বলল,
“বড় মামা আপনাকে তার রুমে থেকে ওয়ালেট নিয়ে যেতে বলেছে।”
“তুমি যাও একটু নিয়ে এসো!”
“আপনি যান!”
“পারবো না। তুমি গিয়ে তোমার শাশুড়ির থেকে নিয়ে এসো।”
“কিসের শাশুড়ি, মা বলতে কি হয় আপনার?”
“উফ, এতো কথা বলো কেনো? যাও নিয়ে এসো তাড়াতাড়ি!”
“যাবো না। আপনি যান!”
মেরাব নরম হয়ে বলল,
“আরে বোঝো না যে, তুমি জানোই তো উনাকে ডাকি না। রুমে গিয়ে কি বলবো! এর থেকে তুমি তাড়াতাড়ি গিয়ে নিয়ে আসো!”
স্নেহা জেদ ধরে বলল,
“আমি যাবো না। আপনি গিয়ে তাকে মা বলে নিয়ে আসুন!”
মেরাব রেগে গিয়েও রাগ দেখালো না। এতো বছর পরে মা ডাকতেও তো কেমন লাগে। সেটা এখন এই স্নেহাকে কেমন করে বোঝাবে। শুধু পারে তেড়ামি করতেই।ভালো কথা বোঝে না এই মেয়ে। মেরাব গভীর শ্বাস ছেড়ে বোঝানোর সুরে বলল,
“তুমি বুঝতে পারছো না আমি কি বলছি! উনাকে এখন ডাকতে আমার কেমন ইতস্তত লাগে। তাই তুমি যাও!”
স্নেহা মুখের উপরে বড় উঠলো,
“আমি যাবো না।”
“যাবে না।”
“না।”
“ঠিক আছে। না গেলে। তবুও আমিও যাবো না।”
স্নেহা জোর গলায় বলল,
“আপনার যে কত্ত ইগো। সব ভেঙে দিবো। আপনাকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মামনিকে মা ডাকতে বাধ্য করবো দেইখেন!”
মেরাব অবাক হয়ে বলল,
“তুমি বলবে আর তাই হবে? এতো সোজা!”
“হুম, আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি!”
“বেশ, তবে তাই হোক! যদি চ্যালেঞ্জ এ জিতে যাই তাহলে কি দিবে?”
স্নেহা বুকে হাত গুজে বলল,
“যা চাইবেন তাই!”
“আর যদি হেরে যাও!”
“তাহলেও আপনি যা চাইবেন তাই!”
মেরাব বাকা হেসে বলল,
“তাহলে চ্যালেঞ্জ একসেপ্টেড। দেখি চব্বিশ ঘন্টা কি হয়।”
চলবে….
পরবর্তী পর্ব কালকে রাত ৯ টায় দিবো। ইনশাআল্লাহ। যারা যারা পড়বে অবশ্যই রিএক্ট দিবে।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, জেরিন আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কি আবেশে পর্ব ৬
-
কি আবেশে পর্ব ৩৮
-
কি আবেশে পর্ব ৪
-
কি আবেশে পর্ব ২০
-
কি আবেশে পর্ব ২৬
-
কি আবেশে পর্ব ১৮
-
কি আবেশে পর্ব ২৫
-
কি আবেশে পর্ব ৩০
-
কি আবেশে পর্ব ২৮
-
কি আবেশে পর্ব ২৩