Golpo romantic golpo কি আবেশে

কি আবেশে পর্ব ২২


কি_আবেশে (২২)

জেরিন_আক্তার

স্নেহা ভাবতে লাগলো মেরাব কি পড়া ছাড়া আর কথা পায় না। সবসময় পড়তে বসো, পড়তে বসো বলতে হবে কেনো? স্নেহা এই মুহূর্তে মেরাবের কথায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। সোজা বিছানায় উঠে মেরাবের পাশে বসলো। মেরাব আবারও বলল,

“কি হলো পড়তে বসে উঠে পড়লে যে?”

স্নেহা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,

“খুব ঘুম পাচ্ছে। বসে থাকতে পারলাম না।”

মেরাব হা হয়ে তাকিয়ে রইলো। মাত্রই তো আসিফ কেনো কল দিয়েছে সেটা শুনতে উঠে এলো। ভালোই ছিলো এখন নাকি ঘুমে চোখে দেখছে না। সিরিয়াসলি!

মেরাব কথা গুলো ভেবে স্নেহাকে আর জোর করতে চাইছে না। তাই শুয়ে পড়তে পড়তে বলল,

“ঠিক আছে। তাহলে ঘুমাও!”

স্নেহাও খুশি হয়ে শুয়ে পড়লো। উপরের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলতে লাগলো,,, ইশ কত ভালো হয়ে গিয়েছে জামাইটা। আর আমার এখন না পড়লেও হবে। বড় মামা বলতে আমার শশুরআব্বা তো ওই কলেজের প্রিন্সিপাল। আর আমার উনি ইংলিশ টিচার। সবাই জানতে পারলে আমার এক্সট্রা কেয়ারই করবে। প্রিন্সিপালের পুত্রবধূ আমি। আবার এই হ্যান্ডসম স্যারের বউ।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ফোনটা বের করে একটা মুভি অন করলো। এরপরে মেরাবকে ঘেঁষে বলল,

“এই যে শুনুন!”

“কি হয়েছে? এখন ঘুমাচ্ছো না কেনো? ফোন বের করলে কেনো?”

“এইযে এই ফোনটা একটু ধরুন তো!”

মেরাব ফোনটা নিলো। স্নেহা মেরাবের বুকে মাথা রেখে বলল,

“এবার ঠিক আছে।”

“ঠিক আছে মানে? কি করতে চাইছো? আমি কি এখন মুভি দেখবো?”

“না। দুজনে একসাথে দেখবো!”

“মাত্র না বললে ঘুম পাচ্ছে।”

“ওসব ছাড়ুন তো! আপনার সাথে মুভি দেখার ফায়দা খুজছিলাম।”

“তো এইটা কি মুভি?”

“একটা রোমান্টিক মুভি!”

মেরাব মুখ বেকিয়ে বলল,

“এহ, সারাদিনে একটু রোমান্টিক কিছু করতে গেলেই ছাড়ুন ছাড়ুন করে বেড়াও আর এখন নিজে একসাথে রোমান্টিক মুভি দেখতে চাইছো।”

“হুম, দেখতে চাইছি। আর ওভাবে ঠেস মেরে বললেন কেনো?”

“তাহলে কিভাবে বলবো?”

“একটু ভালো করেও তো বলতে পারতেন। ব্যবহারই মানুষের আসলে পরিচয়, বুঝেছেন!”

এই শুনে মেরাব রাগী মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,
“ওহ, জান তাই নাকি? আগে বলবে না মুভি দেখবে। আমি তোমাকে নাহয় সিনেমা হলেই নিয়ে যেতাম।”

স্নেহা ভ্রু উঠিয়ে বলল,

“আপনি না ঠেস মেরে কথা বলা ছাড়বেন না, তাইনা!”

“না, যতদিন বেচে রবো ততদিনই বলে যাবো।”

“হয়েছে। যা বলার পরে বলবেন। এখন মুভির দিকে ফোকাস দিন।”

মেরাব বাকা হেসে বলল,

“শোনো না, রোমান্টিক মুভি দেখার সময় কিছু ফিল হলে, যদি কিছু করে বসি, তাহলে কিন্তু আমার দোষ নেই।”

স্নেহা শুকনো ঢোক গিলে বলল,

“ক কি করে বসবেন। ফালতু কথা ছাড়া আপনার মুখে আর কোনো কথা আসে না তাই না।”

“না, একটুও অন্য কথা আসে না।”


আসিফ রুমে এসে শুয়ে পড়লো। ফোনটা নিয়ে মৌয়ের নাম্বারে কল দিলো। কয়েকবার দিলো কিন্তু মৌ ধরলো না। মৌ অচেনা নাম্বার দেখেই ফোনটা ধরছে না। কে না কে ফোন দিয়েছে কেনোই বা ধরবে! কিন্তু বারবার ফোন দেওয়াতে রিসিভ করে বলল,

“হ্যালো কে বলছেন?”

আসিফ হেসে বলল,

“মৌ আমি আসিফ বলছি।”

“কোন আসিফ? ও চিনতে পেরেছি, আমার ভাইয়ার বন্ধু আসিফ না!”

“হুম।”

“আসলে ভাইয়া আমি চিনতে পারিনি প্রথমে। সরি!”

“সরি বলতে হবে না। তো কেমন আছো?”

“ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?”

“ভালো।”

“ভাইয়া কিছু বলবেন?”

“হুম। বলার জন্যই তো কল দিয়েছি। আসলে ওইদিন তোমার সাথে ঝগড়া করা মোটেও ঠিক হয়নি। এটা বলতেই কলটা করা।”

মৌ হেসে বলল,

“ওহ। আসলে ওইদিন আমারও উচিত হয়নি আপনাকে ওইরকম করে বলা। এর জন্য সরি ভাইয়া।”

“সরি বলার দরকার নেই। আমরা আমরাই তো। তো তোমরা গ্রামে থেকে কবে ফিরছো?”

“কালকে সকালে রওনা হবো।”

“ওহ। বাড়িতে এসে আমাকে জানিও, তোমার সাথে একটু দেখা করতে চাই!”

মৌ কপাল কুঁচকে বলল,

“আমার সাথে দেখা করতে চান! কিন্তু কেনো?”

“একটু কথা বলবো। ইম্পরট্যান্ট!”

“ওহ, এখন বলুন!”

“না। ফোনে সব কথা বলা উচি ত নয়। কিছু কথা সামনাসামনি বলতে হয়।”

“আপনি তো দেখি চিন্তায় ফেলে দিলেন।”

আসিফ ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল,

“হুম, চিন্তা করারই কথা। তাই তোমাকে কিছু বলছি না। তুমি তাড়াতাড়ি এসে আমাকে নক দিও। কথাটা তাড়াতাড়ি বলে ফেলাই ভালো।”

“ঠিক আছে। তবে ভাইয়া, এখন বলে দিন না। আমার সারারাত ঘুম হবে না।”

আসিফ বলল,

“কথাটা শুনলে তোমার আরও ঘুম হবে না। তাই ফিরে আসলেই বলবো।”

“ঠিক আছে। আর মেরাব ভাইয়া ঠিক আছে তো?”

“হুম। ঠিক তো আছে। বউ নিয়ে ওরই এখন দিন ভালো যায়।”

“ওহ আচ্ছা।”

“মৌ, তোমার হোয়াটস্যাপ বা ফেসবুক আইডি কিছু একটা দাও তো!”

“ফেসবুক তো নেই ভাইয়া। হোয়াটস্যাপ আছে।”

“তাই দাও! আর শোনো, বিষয়টা কাউকে জানিও না। না জানালে আমি খুব খুশি হবো।”

“ঠিক আছে। আমি কাউকে জানাবো না।”

“মনে থাকে যেনো। মেরাবকেও না।”

“ঠিক আছে।”

আসিফ কল কেটে দিয়ে বাকা হেসে বলল,
“তোমাকে পটানোর ফার্স্ট স্টেপ ডান।”

এদিকে স্নেহা মুভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছে। মেরাব ফোনটা বন্ধ করে পাশে রেখে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলো। মনে মনে বলতে লাগলো,,, মুভি দেখার ধৈর্য কোনোদিন ছিলো না। আর না হবে। এই মেয়ের জন্য কত কি সহ্য করতে হচ্ছে। এইটা হলো ভালোবাসার ফল। এতগুলো বছর দূর থেকে ভালোবেসে গিয়েছি। আর এখন কাছে এসে এইটা-সেইটা সহ্য করতে হচ্ছে। আল্লাহ তুমি আমার ধৈর্য বাড়িয়ে দিও।

এদিকে মৌয়ের চোখে ঘুম নেই। বারবার আসিফের কথাগুলো মনে হচ্ছে। কি এমন ইম্পরট্যান্ট কথা যার কারণে দেখা করতে হবে। মৌ এই-সেই ভাবতে ভাবতে আসিফকে মেসেজ দিলো—-ভাইয়া জেগে আছেন কি?

মিনিট দুই পরেই আসিফ মেসেজ রিপ্লাই দেয়
—-হুম। কিছু বলবে?

—-ভাইয়া কি কথা বলতে চান এখনই বলে দেন না। আমার কালকে পর্যন্ত সবর আসবে না।

আসিফ একটু রাগ নিয়েই মেসেজ লিখলো—-সবসময় ভাইয়া ভাইয়া করবে না তো!

—-তাহলে কি বলবো! ভাইয়াই তো লাগেন। মেরাব ভাইয়ার মতো তো আমিও আপনাকে আমার আরেকটা ভাই মনে করি।

আসিফ দাঁত চেপে লিখলো—-আমি মেরাবের মতো কি তোমার রক্তের ভাই?

—-না।

—-তাহলে ভাইয়া কেনো বলো! এই কল দাও তো, মেসেজ লিখার ধৈর্য নেই আমার।

মৌ কল দিলো। ওপাশে থেকে আসিফ বলল,

“কি যেনো বলছিলে?”

“ভাইয়া বলেছিলাম।”

আসিফ রাগ কন্ট্রোল করে নরম গলায় বলল,

“শোনো সবসময় ভাইয়া ভাইয়া বলবে না। এই একবার কি দুইবার তাই এনাফ।”

“ঠিক আছে।”

“আর এতো রাতে কি করো? ঘুমাওনি কেনো? প্রেম করো নাকি?”

মৌ মাথা নাড়িয়ে বলল,

“ছি ছি, প্রেম করিনা।”

“মিথ্যে কেনো বলছো?”

“সত্যিই প্রেম করিনা।”

আসিফ হেসে বলল,

“আরে আমরা আমরাই তো বলো না প্রেম করো কিনা?”

“সত্যি বলতে প্রেম করিনা।”

“কেনো করোনা?”

“আসলে প্রেম-টেম করে বাবা-মাকে কষ্ট দিতে চাইনা। তাঁদের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।”

আসিফ মনে মনে খুশিই হলো। যাই হোক সেটা প্রকাশ না করে বলল,

“তোমার চিন্তা-ভাবনা ভালো। তবে কথা কিন্তু একটাই তুমি এসেই কিন্তু আমাকে নক দিবে।”

“হুম, ভাইয়া। আমি বাসায় গিয়েই আপনাকে জানাবো।”

“ঠিক আছে। আর শোনো, তোমার আমার ভালোর জন্য বলছি তুমি কিন্তু এই বিষয়ে মেরাবকে জানাবে না।”

“আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনি চিন্তা করবেন না। জানাবো না।”

“ওকে। তাহলে ঘুমাও! রাখছি এখন!”

“হুম। গুড নাইট!”

“গুড নাইট।”

সকালবেলা,,,
স্নেহা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই ড্রইং রুমে আসে। সোফায় থেকে শুরু করে সব কিছু ঝেড়ে গুছিয়ে রাখলো। কিচেনে এসে সব জিনিস গুছিয়ে নিলো। মেরাব নিচে নেমে স্নেহাকে কাজ করতে দেখে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো। টুকিটাকি কাজ করছে কি যে স্নিগ্ধ লাগছে, এর সাথে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেখা যাচ্ছে স্নেহার কোমর ছাড়িয়ে চুলের বিনুনিটা। দেখতে খুব ভালো লাগছে। মেরাব তৎক্ষণাৎ নিজের ফোন বের করে কয়েকটা ছবি তুলে ফোন রেখে দিলো। এরপরে স্নেহার কাছে গিয়ে বলল,

“কিছু করতে হবে আমার?”

“কি করবেন হয়ে গিয়েছে আমার। বসুন কফি বানিয়ে দিচ্ছি।”

“ঠিক আছে।”

মেরাব হেলান দিয়ে দাড়িয়ে স্নেহার দিকে তাকিয়ে রইলো। স্নেহা গোল গোল চোখে তাকিয়ে বলল,

“কি হলো, যান বসুন!”

মেরাব সোফায় গিয়ে বসলো। স্নেহার দিকে তাকিয়ে রইলো। স্নেহা কফি বানিয়ে দিয়ে গেলো মেরাবকে। কিচেনে গিয়ে নিজের জন্য চা বানাচ্ছে আর মেরাবকে দেখে মিটিমিটি হাসছে। মেরাব সেদিকে তাকিয়ে মৃদু শব্দে গান গাইলো—-

         “উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
             আসে ফিরে চলে যায়..!”
         “উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
              ডাকে যেনো ইশারায়..!”

         “উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
             আসে ফিরে চলে যায়..!”
         “উড়ু উড়ু স্বপ্নে এক রাজকন্যে,
              ডাকে যেনো ইশারায়..!”

         “কি আবেশে.. তারে বারে বারে দেখি
                  তবু যেনো মেটে না তৃষা....!
         সে যে পথ চলে, বুকে ঝড় তুলে..
               জেগে উঠে ঘুমোনো আশা।”

চলবে….

পরবর্তী পর্ব কালকে ইফতারের পরেই দিবো ইনশাআল্লাহ। যারা যারা পড়বে অবশ্যই রিএক্ট দিবে।

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply