সদ্য দেশে ফিরে এসে নিজের বাবার কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়ে একটা মেয়েকে দেখার পর থেকে সেই মেয়েকে খুঁজতে কলেজের সব স্টুডেন্টদের সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রেখেছে প্রফেসর মারুফুল খানের একমাত্র ছেলে মেরাব খান। আজই দেশে ফিরেছে। এয়ারপোর্টে থেকে বাড়িতে না গিয়ে তার বাবার কলেজে একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলো। আর সেখানে একটা মেয়ের সাথে ভুলবসত ধাক্কা খাওয়ার পর একদফা ঝগড়া হয়। এরপরে থেকে মেয়েটাকে খুঁজে যাচ্ছে। বলতে গেলে এক নজর দেখায় মেয়েটিকে ভালোও লেগে যায়। অনুষ্ঠান টা প্রায় শেষের দিকে। সাথে সাথে মেরাব তার বাবাকে অনুষ্ঠান থেকে আলাদা করে ডেকে বলে উঠে,
‘ বাবা আর এক ঘন্টার জন্য অনুষ্ঠানটা কন্টিনিউ রাখো!’
মারুফুল খান ছেলের কথা শুনে বলে উঠেন,
‘ অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে এনাউন্স করা হয়ে গিয়েছে এখন এটা কন্টিনিউ রাখবো কি করে? আর তুমি অনুষ্ঠান টা কন্টিনিউ করতে বলছো কেনো? ’
মেরাব শান্ত চোখে তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,
‘বাবা আমি একটা মেয়েকে খুঁজছি। মেয়েটাকে না পাওয়া পর্যন্ত তুমি অনুষ্ঠানটা কন্টিনিউ করে যাও! ’
মারুফুল খান সাথে সাথে বলেন,
—‘ হোয়াট! আর ইউ ক্রেজি! কি বলছো মেরাব! ’
—‘ বাবা আমি ঠিকই বলেছি। আর ওই মেয়েকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তুমি অনুষ্ঠানটা কন্টিনিউ করো। আর লোক লাগাও আমি এক ঘন্টার মধ্যে ওই মেয়েকে আমার সামনে দেখতে চাই। ’
মারুফুল খান ছেলের দিকে তাকিয়ে অস্থির কণ্ঠে বলে উঠেন,
‘ মেয়েটাকি তোমাকে কিছু বলেছে? ’
মেরাব শক্ত কণ্ঠে বললো,
‘ না! ’
‘ তাহলে খুঁজতে চাইছো কেনো? ’
‘ বাবা আমি এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। ’
মারুফুল খান তৎক্ষণাৎ কাউকে কল দিলেন,
‘ হ্যালো রেজাউল অনুষ্ঠানটা আরও কিছুক্ষণ চলবে তুমি এইটা এমার্জেন্সি এনাউন্স করে দাও!’
‘ ঠিক আছে স্যার আমি বলছি! ’
মেরাব ঠান্ডা মেজাজে একটা চেয়ার টেনে বসে তার বাবাকে বলে,
‘ থ্যাংক ইউ বাবা। এখন কিছু লোক লাগাও! ’
মারুফুল খানও মেরাবের সামনে একটা চেয়ার টেনে বসে গম্ভীর কণ্ঠে বলেন,
‘ মেয়েটার নাম কি? নাম বলো আমি লোক লাগাচ্ছি! ’
মেরাব বলে,
‘ বাবা আমি মেয়েটার নাম জানি না! ’
‘তাহলে লোক লাগাবো কি করে? ওরা কাকে না কাকে ধরে নিয়ে আসবে! ’
এই বলে মারুফুল খান ভাবুক গলায় বলেন,
‘ মেয়েটা দেখতে কেমন? ’
মেরাব চোখ বন্ধ করে বলে,
‘ বাবা মেয়েটার লম্বা চুল আছে। ’
মারুফ খান কপাল কুঁচকে উঠে বলেন,
‘ কিহ, লম্বা চুল! ’
‘ হুম বাবা লম্বা চুল! হাটু ছাড়িয়ে। মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর। শাড়ি পড়েছে।’
‘ এমন লম্বা চুল তো আরও অনেক মেয়েরই আছে আমি না চিনে কাকে ধরে আনতে বলবো? ’
‘ বাবা প্রয়োজন পড়লে যার যার হাটু ছাড়িয়ে চুল আছে সবাইকে আমার সামনে আনো! ’
ছেলের কথা শুনে মারুফুল খান এখন রাগ করবেন নাকি লোক পাঠাবেন এই নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেলেন। এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়েছেন কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে উঠেন,
‘ মেরাব আজ অনুষ্ঠান ছিলো। অনেক মেয়ের মাঝে ওই মেয়েকে কি করে খুঁজে আনবে? ’
মেরাব হিতাহিত রেগে গিয়ে তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,
‘ বাবা আমার চাই মানে চাই! আর তুমি যদি না খুঁজে দিতে না পারো তাহলে আমি যাচ্ছি ওই মেয়েটাকে খুঁজতে। ’
মারুফুল খান ভাবুক হয়ে বলেন,
‘ না না তোমার যেতে হবে না। আমি দেখছি! আর মেয়েটা কি রঙের শাড়ি পড়েছে বলতে পারবে? ’
‘ মেয়েটা নীল রঙের শাড়ি পড়েছে। ’
এই শুনে মারুফুল খান কিছু বলবেন ঠিক তখনই তার ফোনে কল আসে। তিনি রিসিভ করতে করতে মেরাবকে বলেন,
‘ মেরাব তোমার ফুপ্পি কল দিয়েছে! ’
মেরাব একটু বিরক্তি নিয়ে বলে উঠে,
‘ বাবা ফুপ্পির সাথে পরে কথা বলো এখন মেয়েটাকে খোঁজার ব্যবস্থা করো! ’
মারুফুল খান ছেলের কথায় কান না দিয়ে কল রিসিভ করলেন। ওপাশে থেকে তার বোন নাফিসা বেগম বলেন,
‘ হ্যালো ভাইজান! ’
‘ হ্যা বল! ’
‘ভাইজান আজ তো স্নেহা কলেজে গিয়েছে। ওকে তো এখন ফোনে পাচ্ছি না। আর এখনও আসলো না কলেজ কি ছুটি হয়নি? ’
‘ না কলেজ ছুটি হয়নি। আর কিছুক্ষণ পরই ছুটি হবে। ’
‘ ওহ! ভাইজান তুমি স্নেহাকে খুঁজে ওকে পাঠিয়ে দাও! ’
‘ ঠিক আছে দিচ্ছি! আর সন্ধ্যার দিকে স্নেহাকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে চলে আসিস মেরাব এসেছে! ’
মেরাব এসেছে শুনে নাফিসা বেগম খুশি হয়ে বলেন,
‘ কিহ! মেরাব এসেছে! কবে এসেছে? ’
‘ আজই এসেছে! কলেজে একটা অনুষ্ঠান ছিলো তাই এয়ারপোর্টে থেকে সোজা কলেজে আসতে বলেছি। ’
‘ ওহ। ভাইজান ও কি সজ্ঞানে এসেছে! না মানে ও তো আমাদের উপরে জেদ করে আসতেই চায়নি এখন ফিরে এসেছে রাগ-টাগ করে আছে কি এখনও?’
মারুফুল খান গলা খাকারি দিয়ে বলেন,
‘ নাফিসা তাহলে তু্ই আজই চলে আয়! ’
‘ ভাইজান আজ যাবো না কালকে সকালে স্নেহাকে সাথে নিয়ে যাবো। ’
‘ ঠিক আছে। ’
‘ তাহলে ভাইজান রাখছি! তুমি একটু স্নেহাকে পাঠিয়ে দিও! ’
‘ ঠিক আছে! ’
মারুফুল খান কল কেটে দিয়ে মেরাবের দিকে তাকিয়ে বলে উঠেন,
‘ তোমার ফুফাতো বোন স্নেহা এই কলেজে পড়ে ওর সাথে দেখা করবে? ’
মেরাব সোজা গলায় বলে,
‘ আমি এখন কারো সাথে দেখা করতে চাই না! ’
মারুফুল খান সাথে সাথে দুজনে লোক ডেকে আনলেন মেরাবের সামনে। এর পরে তিনি দুজন লোককে বললেন নীল শাড়ি পড়া, লম্বা চুল আছে এমন মেয়েকে এখানে ডেকে আনতে। লোক দুটো তৎক্ষণাৎ চলে গেলো।
মারুফুল খান নিজের কেবিনে ছেলেকে বসিয়ে চলে গেলেন তার বোনের মেয়ে স্নেহাকে খুঁজতে। অতঃপর তিনি স্নেহাকে ক্যাম্পাসের একটা জায়গায় দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলেন। এবং স্নেহার সামনে গিয়ে তার চক্ষু চড়ক গাছ। স্নেহা নীল শাড়ি পড়ে আছে আর স্নেহার চুলও হাটু ছাড়িয়ে। তিনি স্নেহাকে দেখে মনে মনে বলেন,
‘ তাহলে কি মেরাব স্নেহার কথাই বলছিলো। ’
এরপরে মারুফুল খান স্নেহার সাথে কথা বলে ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে আসার সময়, লোক দুটো এখনও সেই মেয়েটিকে খুঁজে পায়নি যার কারণে মেরাব কলেজও ছুটি হতে দেয়নি। মেয়েটাকে খুঁজে না পেয়ে মেরাব রাগে হিরহির করছে।
মেরাব যেই দেখলো সন্ধ্যা হয়ে আসছে ঠিক তখনই তার বাবা বলে,
‘ বাবা কলেজ ছুটি দিয়ে দাও! লাগবে না ওই মেয়েকে! ’
চলবে….
গল্প #কি_আবেশে
সূচনা_পর্ব
কলমে #জেরিন_আক্তার
গল্পটা অনেক আগে লিখে রেখেছিলাম তাই হয়তো অগোছালো লাগতে পারে। ভেবেছিলাম পোস্ট করবো না তবুও পোস্ট করলাম। বাজে মন্তব্য করবেন না। ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর সূচনা পর্ব ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন। পরবর্তী পর্ব কালকে দুপুর বারোটায় আসবে।
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, জেরিন আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কি আবেশে পর্ব ৩
-
কি আবেশে গল্পের লিংক
-
চোরাবালির পিছুটানে গল্পের লিংক
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ১
-
কি আবেশে পর্ব ৮
-
কি আবেশে পর্ব ৬
-
কি আবেশে পর্ব ৭
-
কি আবেশে পর্ব ৫
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ২
-
কি আবেশে পর্ব ৪